Home কবিতা নীলাব্জ চক্রবর্তী / স্বনির্বাচিত ৪০টি কবিতা > পাঠ-প্রতিক্রিয়া মেঘ অদিতি

নীলাব্জ চক্রবর্তী / স্বনির্বাচিত ৪০টি কবিতা > পাঠ-প্রতিক্রিয়া মেঘ অদিতি

প্রকাশঃ May 1, 2017

নীলাব্জ চক্রবর্তী / স্বনির্বাচিত ৪০টি  কবিতা > পাঠ-প্রতিক্রিয়া মেঘ অদিতি
0
1

সীমানাহীন কবিতালোক

নীলাব্জ চক্রবর্তী

স্বনির্বাচিত ৪০টি  কবিতা

অভ্যাস

ঝুঁকে আসা একটা কমলা অভ্যাসের নাম মনীষা। লুপ্ত একটা তন্তুদাগ। আর আমাদের সারা বিকেল ম’ ম’। লেখার পাতায় মিশে যাওয়া গুঁড়ো গুঁড়ো চাসনালা। হ্যালো। লক্ষ করুন রোদে ভেজানো পঙক্তিগুলো অন্য পাতায় চলে যাচ্ছে কীভাবে। ক্রিয়াপদ দেখতে গিয়ে হাত ফসকে পড়ে যাওয়া জানলা। আলো কেটে কেটে একেকটা শীৎকার ফিরে আসার কথা। হাওয়াকলের ভেতর ঘাসের ভেতর কোথাও কিস্তিভাঙা অক্ষর। নতুন গুম্ফার গায়ে হাতে পায়ে সিলেবাস জড়িয়ে। সমস্ত শহর আজ এইখানে বর্ণমালা হোলো।

কথারূপ

অলীক একটা চতুর্ভুজ। টম্যাটোবাগানের ভেতর একটা রূপকথা শুয়ে। ডুবে যাওয়া ঊরুঅমনিবাস। ফুলে ওঠা সশব্দে ফেটে পড়া একটা ঋতুর নাম আবারও জেনিফার। যেকোনো জ্যামিতির গায়ে ঐ ফিকে রঙ। অথচ ঐ স্কার্ফের আলো ঐ ব্রাস প্লেট নামের ধাতুরূপ তোমার ছিলোই না কখনও। আর যা ঝরে পড়ছে তার জন্য আতস আতস জড়ানো  হোলো খুব। প্রাইমারি কী। বড় বড় ফোঁটায় ডানলপ আসছে। স্ক্রিনটাচ। রীল কেটে যাচ্ছে… রীল কেটে যাচ্ছে… হাত নাড়তে নাড়তে আয়নায় ঢুকে যাচ্ছে বিহাইন্ড দ্য সীনস। আর টম্যাটোবাগানের সবটা নিয়ে সাড়ে তিন হাত রোববার।

সঙ্কেত

সেতুর দু’পাশে অসমাপ্ত হচ্ছে হরফসভ্যতা। বোকা বোকা বাক্স আর তাদের রূপটান। অনস্তিত্বটুকুই শুধু থেকে গ্যাছে। অবস্থানহীনতাটুকু। তার আয়নায় রেশম রেশম বলে ডাকতে জেনিফার একটা রঙ হয়। এরও পর আঙুল বিনিময় করবে কেউ। ভাষায় ফিরবে কেউ। যোনিতে ফিরবে। অথচ ব্যবহারকে ভাষা করতে করতে ফসিল পুড়িয়ে এই অ্যাতোদূর। এভাবে শহর জুড়তে জুড়তে ঘর। শব্দকে বন্ধ ভাবছো। আর চিমনীর ভেতর দিয়ে নেমে যাচ্ছে গাঢ় হতে চাওয়া সঙ্কেত…

ফ্রেম

একটু একটু করছে। বড়ো হচ্ছে ঘটিবাড়ির পিছল রোদ। সুনি সুনি হচ্ছে। রক্তমাংস নিয়ে ছায়ারা কুশলী হয়ে আছে। সংখ্যায় হাত রাখতে কাঁচের গায়ে ফুলে উঠলো আর্কিওলজিকাল বক্স। অর্থাৎ ভাষা এক ওয়ান-ওয়ে সাম্যাবস্থা। এখানে একটা দরজার অনুষঙ্গ। ফ্রেমের বাইরেও ফ্রেম। আবার অ্যাতোদিন বাদে ফ্যানার অনুবাদের কথা। পাথরের কথা। যা আর লিখবো না তার কথা। অথচ মিডশটের সবটার গায়ে সেই রূপোলী গুঁড়ো। পালকের একেকটা ভঙ্গি কোথাও ধ্বনি হয়ে। ওখানে তোমাদের ছবিতে তোমরা ছিলে না…

স্পর্শ

জামা থেকে নরম রুটির দিন লাফিয়ে উঠলে বুঝতে পারি কম্যুনিকেশনের ধারণা-টারণাগুলো বদলে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। মোহের সবটাই গান-রঙের তখনও। কেউ স্পর্শ বললেই দুপুর মনে হয়। পংক্তির পর পংক্তি স্মৃতি বসিয়ে রেখে যা জানলা হয়ে গ্যাছে। সম্পর্ক হয়ে গ্যাছে। একটা ঘড়ির ভেতর রেখে দেওয়া রিভার্স ক্রনোলজিকাল অর্ডার লক্ষ করছি। এভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা আসে। পাতা ফুরিয়ে যাওয়া আয়নার কথা। বোতলের তলায় জমতে থাকা নীলচে ধ্বনিটুকুর কথা। তোমার হাতের তালুতে সময়টা ভারী হয়ে এলো আর গড়িয়ে পড়লো কাগজে কাগজে।

বিনিময়

আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে ওঠে সকালটা। রঙ এক সিদ্ধান্ত তাহলে। এক অস্তিত্ব। সমস্ত উচ্চারণই তখন যৌন। ফাম্বল করো অতয়েব। কেঁপে ওঠো আর স্প্রে করো পছন্দের হরফগুলো। যে শরীর ছিলোই না কখনো, তার সারা গায়ে চটচট করতে থাকুক অথচ শব্দটা। স্পেস। ভাত মাখতে মাখতে শীত সরে গ্যালো প্রেমিকায়। ফলতঃ, আরও অনেকটা স্পেস। সময়ের ভেতর পড়ে যাচ্ছে তার সবটা। তারপর একটা জ্বরের আদল। কথা জমতে জমতে যেভাবে দূর কেউ হয়। ঘরবাড়ি হয় খাতার ভেতর। অপরিশোধ্য এক অনিশ্চয়তার ভেতর দাঁড়িয়ে আমরা বিনিময় করতে থাকি কাঁচ ও ব্যঞ্জনবর্ণ, জানলার ছাপ ও অর্ধেক ইশারা…

সমাপতন

তারপর রোদের ফ্রেম জুড়ে জুড়ে ময়লা হয়ে আসে আমাদের নতুন নোটগুলো। দীর্ঘ বাক্যের পাশে ধীরে ঘুমিয়ে পড়তে চায় কেউ। হরফ বদল করতে করতে এক আঁকাবাঁকা সমাপতন। মেলাফেরত আঙুল থেকে পিছলে যাচ্ছে তারিখের সান্দ্রতা আর দৃশ্যহীনতা। এভাবে দেওয়াল ফুরিয়ে এলে মানুষ এক অ্যাসিমেট্রিকাল ভুবন। ফলে স্রোত বুঝতে শিখবে আর আমার আগেই বাড়ি ফিরে যাবে ভাষা। কিন্তু জার্নিকে যে এতদিন ডেস্টিনেশান বলে ভাবলাম… অক্ষরেখা বলে ভাবলাম…

হটস্পট

তাহলে সংখ্যা হোলো স্রেফ একরকম ব্যবহার। রঙ ভাঙতে ভাঙতে এসো। তোমার আয়না আমাকে অভ্যাস করবে তবে কখনো। ভাষার অনেকটা ভেতরে জিভ রাখো জিভের ফ্যান্টাসিটুকু রাখো আর ভাবো একটা আইসক্রিম পার্লারের কথা। ধ্বনি আছড়ে পড়ায় ভিজে উঠলো যে পাথরগুলো, তাদের কথা। জলের দিকে এমনিই গড়িয়ে গ্যালো পুরনো শীতকাল। অথচ চামড়া পর্যন্ত পৌঁছোতে কুঁচকে যাচ্ছে যে সময়টা, তাকে স্পর্শ বলো। সাইন ল্যাঙ্গুয়েজকে বলো বিনিময়প্রথা। স্থির হয়ে থাকা মুদ্রায় খোদাই করা আছে, অবস্থান একটি ভ্রম। সাদাকালো গলিতে ছড়িয়ে পড়ছে টুকরো টুকরো প্যানোরামা। হটস্পট। তখন, নগ্নতা, একটি পূর্বনির্ধারিত স্বচ্ছ ধারণাটুকু…

ধাঁধা

যেকোনও রঙেরই

একটা নিজস্ব ধূসর বাইনারি থাকে

লজিকের ভালো দিকটা নিয়ে আর

ব্যবহারের খারাপ দিকটা নিয়ে

বড়ো হয়

হাতের মুঠোয় ধরে থাকা রাস্তাটা

কাঁপছে

এবার এক মিনিট দাঁড়াও

থরথর করতে থাকা

এই লিঙ্গটাই কিন্তু আমি নয়

বরং ভাবো

চোখের অর্ধেক মরে যাওয়ার কথায়

স্মৃতির যে টুকরোটা তোমার কাছে

আর যে টুকরোটা আমার কাছে

ছেঁড়াখোঁড়া ধাঁধাটার

সবটা মেলেনা এভাবে

 

শব্দের বাইরে

জলের ভঙ্গিটাই জল

এভাবে

বসে থাকার কথায় নড়ে উঠল

কার্নিভ্যাল সিরিজ দুই পয়েন্ট চার

 

তখন স্ক্রিনভর্তি এক রঙ

পাঠবস্তু বলতে তো এক সাদাকালো আয়না

ফ্যান্টাসি বদলে

বোতামের পর বোতাম পেরিয়ে

উপত্যকা যাচ্ছে

এই চোখ

তার ছাদে এলে

শব্দের বাইরে পড়ে যাচ্ছে যে সময়টা…

 

বীজ

দিনের ভেতর ভেসে উঠছে একটা অন্য দিন কারো

বসে থাকার ভঙ্গি

সবুজ ফিতের কথায়

গানের ওই লাইনটা অবধি শুক্রবার

আর তারপর

লেখা আছে

কবিতা লেখা হয় না, বোনা হয়

এভাবে অপেক্ষার বাইরে গিয়ে শরীরের বাইরে গিয়ে

দাঁড়িয়ে থাকে

ছবি আঁকা বিদেশী হরফ

ওখানে কারো সাথে দেখা হয়

স্মৃতি জুড়ে জুড়ে

কতোটা সহজ হয়েছে

মাংস বানানোর প্রক্রিয়া

 

ঝুঁকি

দাঁতে দাঁত চেপে

আমি খুব সাদাকালো কবিতা কবিতা

পেরিয়ে আসছি

একটা গোল স্মৃতির ভেতর

মাংসের ভেতর দাঁড়িয়ে

ক্রমাগত দেখছি রং করা আলো

ভোরের ম্যাট্রিক্স

বাক্সভর্তি এইসব বিদায়বদ্ধতা

যা স্মৃতিকে কেবল সন্দেহ করতেই শেখায়

তার মাঝে

কোথাও

ঝুঁকি শব্দটা দুলছে

আর ভুল বানানের মতো

জড়িয়ে যাচ্ছে আঙুলে আঙুলে

ফলো করছে একটা জানলার নাম

এভাবে খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে

যা শক্ত হয়ে উঠছে

সেটাই ভাষা হোলো…

 

অংক

এভাবে সময় আর দূরত্বের অংকে

এসে যায় ভূগোল, জলবায়ু আর অনুভূতির কথা

গুণগুলো ভাগ হতে থাকে

একেকটা নোনতা দিন

অথচ তীব্রতার মানে

কিছুই জানিনা তখনো

তবু চোখের ভেতর ঢুকে গ্যালো

যতোটা সময়

লাল হোলো

সাইরেন বেজে ওঠার কথায়

উঁচু নদীবাঁধ কেঁপে ওঠার কথায়

 

তবে উচ্চতা আর দূরত্বের অংক

কিছু আলাদা

সেই সমীকরণ আর প্রতিষ্ঠা করা যাবে না

 

শুভেচ্ছা জানাবেন না, প্লিজ

 

লেখক কর্তৃক প্রকাশিত

ধ্বনি থেকে যতোদূরে আমার ভাষা

ফুটে উঠবে

অসামাজিকতার খসখসে ভাবটুকু নিয়ে

বাতিল ক্রিয়াপদ নিয়ে

রোল করবে

অথবা শব্দটি নিয়ে এক তীব্রতার দিকে

অথচ

কংক্রিট বলতে আমি তো বুঝি

লেখক কর্তৃক প্রকাশিত একেকটা বিকেল

যেভাবে কাঁচ বদলে বদলে

অন্য পোশাকের ভেতর চলে যায়…

 

দূর

সেতুর ওপর থেকে

একটা দিন বড়ো হচ্ছে

ছাড়া ছাড়া এখন

তুমি খুব ওই রাস্তাটা ফেলে গ্যাছো

কাঁচাপাকা

কে যেন শহর

বৃত্ত বদলে যাচ্ছে

আর কেউ অক্ষর ভেবে

লিখে রাখছে নিজেকেই দূর

 

ছোট ছোট দিন

অথচ                 স্মৃতি                টুকরো করতে

ছড়িয়ে পড়লো যে খুচরো

ছোট ছোট দিন

রাফ করা

পরিসর জুড়ে কার নামের রঙ

ঘষে ঘষে

এখানে               স্পেস দাও

যতোটা আঙুলের ফাঁকে আঙুল

বারবার বলে

ন্যারেটিভ ছিঁড়ে

ধ্বনিগুলো ফেলে দেওয়ার কথা

তার ছবি কিছু পরে আসবে

আর তারও পরে

ভাষার ভেতর একদিন

আমাদের দেখা হয়ে যাবে…

 

ভূগোল

জলে

ছায়ায়

মাংসে

জড়িয়ে পড়েছে সংশয়টুকু

যতটা আর লেখা যাবে না ক্লিক সম্পর্কে

তার ধোঁয়ায়

ডিলিটেড

আমার একটা তোমার ভূগোল ছিলো

ভাষা ভাঙতে ভাঙতে তারপর

সাদা টেবিলের একদিকে

কবিতা রেখে দিয়ে দেখেছি

সেন্টার অব মাস সরে যায় কি না

চিরুনির দাঁতে

যে একটা দিন

যে একটা রঙ ভিজে উঠছে না দূরের কখনো…

 

বিস্মৃতি

হলুদ দরজা ঠেলে

একটা দিন

সরে আসছে বিস্মৃতিগুলোর ঘর

এবড়োখেবড়ো

সম্পর্ক একটা কবে খুব মেরুন হোলো

সুতোর পালিশ জুড়ে জুড়ে

কার আগে পরে রিলেট করলো

একটা ভুল সময়

ফুলে ওঠা বাদামী ক্যালেণ্ডার দেখছ

স্লো মোশান

আর

চিঠির উল্টোপিঠে যতো বরফ

যতো ম্যাপের গায়ে ম্যাপ লাগছে

ছবিতে ধরা পড়লো না…

 

কাগজের মতো

নতুন বইটার কথা ভাবছি

অধিকারবোধের কথা

এভাবে হাত থেকে পড়ে যাচ্ছে

অনেকটা আয়নার গন্ধ

দু-চার ডজন নীলাব্জ চক্রবর্তীর মধ্যে

আরেকটা তোমার জীবন ছিল কাগজের মতো

তাকে এবার

এই তো আপনি বলছি কালো জামায়

এবার আমায় শান দিন ধার করুন

প্যাডল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখুন

ওখানে আলো পড়তে

লিনিয়ারিটির ধারণা-টারণাগুলো

ক্যামোন বেঁকে বেঁকে যাচ্ছে

অথচ হর্ন শুনলেই

আমরা সবাই একটা বাড়ি আঁকা ক্যালেণ্ডারের ভেতর

আর তারপর

একটা কার্ডের খুব জন্মদিন হোলো…

 

কয়েকটা ছোটবড় অক্ষর

শব্দ এক প্রবণতা

ভাষার অক্ষ বরাবর ঝুঁকে আসা পুরনো বিকেল

তাকে সমীকরণ বলো

আর বড় হয়

তোমাদের বহুদিন একঘণ্টা বাড়ির পথ

হ্যালো বলতে বলতে

খুলে রাখা কবিতার লাইন

জলের ভেতর চলে যাওয়া

সহজ

পাথরের সম্পর্কের ভেতর আরও

অথচ সুরটা কিছুতেই

আন্তরিক হচ্ছেনা একাত্ম হচ্ছেনা

তার দিকে

আমি কয়েকটা ছোটবড় অক্ষর ছুঁড়ে দিলাম…

 

যে হরফগুলো তোমার

যে হরফগুলো তোমার

আয়নার কাছে এসে

বেঁকে যাচ্ছে

একটা গোটা দিন

চিঠির বাক্সের ভেতর কীভাবে

ঠা-ঠা আঙুলের ভেতর

সেপ্টেম্বর উল্টে দিয়ে যারা চলে যাচ্ছে

হপার সিরিজ জুড়ে

সকালবেলা আমি আঙুল ভালোবাসি বিকেলবেলা

ওঠানামার পরে আর আগে

ইচ্ছা করো

ভাষার ওজন

মুঠো তো একটা খিদের নাম

চামড়ায় এসে পুড়ে যাওয়া একেকটা চিহ্ন

 

নোরিটার্ন ভাল্ভ

অথচ প্রথম শব্দটি

ক্রমশঃ বেঁকে যায় শীতকালের নীল দিকে

মেয়েটির দিকে

সরে আসে

পোস্টার বদলে বদলে

গলে যাওয়া বিশপ লেফ্রয়

 

এরপর বাড়ি ফিরবে পুরনো সন্ধ্যেগুলো

রাস্তাগুলো বাড়ি ফিরবে

মাংসের বাইরে যেটুকু আলোছায়া

ভাষা আর বিজ্ঞাপনের মাঝের বিরতিতে

টাউনশিপ খালি ক’রে

যে শব্দগুলো

চলে গ্যালো নতুন কোলিয়ারির রাস্তায়

তারা একদিন ফিরে আসবে

 

 

শরীর

 

আমাদের সেতু জুড়ে

কিছুটা বাদামী ছিল এই হরফ বিনিময়

 

আঙুলের ভেতর যেমন সকাল হয়

পুরনো সংখ্যার ভেতর

যেভাবে ভাষার পাশে ছোট ছোট স্খলন রেখেছে

স্মৃতি

 

আমাকে শরীর করে ছাতিম-পরগণা

 

 

তোমার কবিতা

 

একটা একটা পোশাকের নাম

মুহূর্ত

এভাবে দূরত্ব লিখছি

আর টুকরো টুকরো হয়ে দেখছি

আমার আঙুল নিয়ে অন্য লোকেরা দৌড়ে যাচ্ছে

অ্যাটেণ্ডডেন্স মেশিনের দিকে

দৌড়ে যাচ্ছে

অন্য অন্য সময়

লাকি অক্টোবর জুড়ে

পুরনো আঙুল

কে মিস করছে আবার

ক্রয়ক্ষমতা নামের ধ্রুবক

ঘোলাটে আয়নার পাশে

ভাষাধর্ম বুনছে

 

আস্তে আস্তে

বেলুন ফিরিয়ে দিচ্ছি আমরা…

 

 

পাথর

 

মাথার ভেতর হাঁটছি

নীল বোতামের ঠিক কতোটা পাশে

কে আদর লিখলো

এইখানে বেঁকে যাও

আর

অন্যমনস্ক লাইনগুলো

মুগ্ধ হতে গিয়ে

ভুলে গ্যালো রাত্তির হতে

 

স্পষ্টতা কি একটা পাথরের নাম তাহলে

 

দাড়ি কামাতে কামাতে

খাতার ওপর

যখন শুধু মাংসের ছবি ভেসে ওঠে

 

 

রিহার্সাল

 

মনেরও মতো হচ্ছে

আর

দীর্ঘ চিঠির থেকে

খুলে খুলে পড়ে যাচ্ছে

একেকটা আয়নার দিন

 

যেভাবে সাজ ঘর হয়

তবু

খালি বাক্সের গায়ে খালি বাক্স জমতে থাকে

 

একবার আসুন

খালি কবিতার বদলে

আমাদেরও একটা একটা পার্ট দিন কেউ

 

 

সেভেনটিন বি

 

আঙুল মেলাতে মেলাতে

ভরে যাচ্ছে

ধোঁয়া ধোঁয়া মাঠকল

অথচ পরিসর শব্দটা জুড়ে

প্রবণতা মানে গ্রাফ পেপারের গায়ে

ঝুঁকে আসা একেকটা দিন

এভাবে ফ্যালাসি দাও সেভেনটিন বি

আর বুঝিয়ে বলো

বিকেল তো আসলে একটা ফ্রস্টেড কাঁচ

পতাকায় ঋতু পড়ছে আর ভাষা সরে যাচ্ছে

ঘাসের সমস্ত কাছে

ফিরে যাওয়া রাশির ভ্রমণ নিয়ে

রিদম শব্দটা অতোটা খারাপ নয়

তাহলে

ক্যান্টিনের ভাঙা আয়না থেকে

পুরনো হিন্দী গানের সাথে যা ভেসে আসছে

সেটাই কি নয়ের দশক?

গতি দেখি

গতি থেকে নেমে যাওয়া বাদামী বোতাম দেখি…

 

 

সামার অব সিক্সটিন

 

গল্প ফুরিয়ে গেলে

এই যে সামার অব সিক্সটিন

হাতের কাছে চাঁদ বানাও

আর ভেতরে এসো

এটা তো তোমারও ফিল্ম

অথচ দু’টো বক্ররেখা

ক্রমাগত পেরিয়ে যাচ্ছে পরস্পরকে

শুধু শুধুই জুতোর উপমা ছিঁড়ে

এক হাঁটু অবধি ফর্সা রাত্তির মাখামাখি হোলো

ওহাতে রেইনকোট

 

 

সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে একটি সেমিনার

 

স্মৃতি এক দুরারোগ্য স্বাদ

আমি ওই তারিখ

খুলে রাখছি জলতেষ্টার নাম

প্লাস্টিক জড়াতে জড়াতে

হাইওয়ে

ভেঙে যাওয়া বিকেল

ক্তিন প্রত্যয় বরাবর এই যাতায়াত করতে করতে

এখন এই ফ্লোর খুলে দেওয়া হবে

কে বলছে

রাস্তাই একমাত্র রাস্তা

আর দামী জুতোর ভেতর বসে

আমি খুব জলতেষ্টার কথা ভাবছি…

 

 

ব্লু প্রিন্ট

 

আর মোড়ক খুলতে খুলতে

সারাদিন ধরে মেজাজ

আমাকে হারিয়ে ফেলছে

নরম মনরোয় রমণে মরণে

বৃষ্টির ভেতরে শুধুই বৃষ্টি

রিক্সার ভেতরে

ওলটানো লিপির কথা এভাবে এলো

ভুল বানানের কথায়

কথায় হাত পড়লো আর টান পড়লো

রাঙা বোঁটায়

রাঙা রাঙা মাছ আর মাছের স্পুফ

যে শরীর এখন ফ্ল্যাশব্যাক ব্যবহার করছে

 

তবু চাবাগানে গিয়ে লোকে পোজ দিলো

আর নীল হয়ে গেলো

ক্লিক শব্দের খিদেবোধ…

 

 

ক্ষয়

 

একটা ওপেন-এন্ডেড গল্পরেখা

এখানে নীলু নামের কেউ

কোনোদিন                      ছিলোই না কখনো

জানলার ভেতর আর জানলার বাইরে

একইরকম স্বপ্নদৃশ্য

এখানে

নীলু নামের কেউ

রোদের অনুবাদ করে না

ফেনা আঁকে না

জেব্রাঘড়ির ছায়ায় বসে বসে…

 

 

বাড়িবদল

 

একটা দীর্ঘ সার্কাস

বেরিয়ে আসছে চাদরের ভেতর থেকে

ম্যাগাজিনের দোকান থেকে

একটা কালো গাড়ি

ধোঁয়া আঁকতে আঁকতে সাদা পেন্সিল হয়ে যাচ্ছে

আর লিখে রাখছে

সাদা কাঠের বেঞ্চের ওইদিকটার নাম শালিনী

অথচ

শূন্যে ছুঁড়ে দেওয়া

শান্ত অক্ষরগুলো লুফে নিয়ে

কে দড়ি বেয়ে নেমে আসছে

বাড়ি ফুরিয়ে এলো

ছাদ ফুরিয়ে এলো

তবুও

কে ছাদে উঠে ডাকছে

অ্যালিসন অ্যালিসন বলে…

 

 

বরফ

 

একটা বরফের বই

হাত থেকে ছায়া পড়ে যাচ্ছে

নতুন বাড়িতে

পুরনো চাবি

এগিয়ে যাচ্ছে

দেওয়াল থেকে দেওয়ালে

শিস দিতে দিতে

ফুরিয়ে যাচ্ছে

বরফের অনুবাদযোগ্যতা

 

 

ফোটোজেনিক

 

একটা দ্বিভাষী জানলা

ফুটফুট করছে

ফ্রেম হয়ে পিছলে

 

বরফ কারখানার গায়ে জড়িয়ে যাওয়া

ফোটোজেনিক শব্দ

 

কথায় কথায়

মুদ্রা ঘষতে ঘষতেই

ছোট হয়ে আসছে

জন্মদিনের নীল বল

 

 

ওয়াগন টিপলার

 

স্নান করতে করতে

আমি খুব ওয়াগন টিপলার দিন দেখি

আর

ক্রমে দেওয়ালে এসে লাগে

ঢেলে যাওয়া রোলকলের গুঁড়ো অক্ষর

তার লোড আর মোমেন্ট

যেখানে দাঁড়িয়ে কাজ করছে

তবু আলাদা করা যাচ্ছেনা

সুতো হারানো সকাল

 

সে এক লিনেন হয় প্রকৃতি ফ্রকৃতি নিয়ে

ভাবি

চশমায় মুছে কীভাবে যাচ্ছে ব্যক্তিগত ব্রডস্ট্রীট

 

এভাবে রাষ্ট্র আর প্রতিষ্ঠানের কথা

এভাবে চটকল শ্রমিকের কথা

আমি খুব স্নান করতে করতে

 

 

আপেল

 

শীত খেয়ে ফেলছে

 

লোকেশনের অনেকটা নিয়ে ক্রিয়াপদ হোলো

ঝুড়ি থেকে গড়িয়ে যাওয়া সকাল

রিভার্স

কালো শহর হয়ে ফিরছে ওই ধ্বনি

 

ভাবো

শীতের মুদ্রা হোলো সিন

 

 

জন্মদিন

 

মনে হয়

যেকোনো জন্মদিনই আসলে তোমার

এখন থেকে এই টাইমলাইন খুলে দেওয়া হোলো

লেখা হোক

 

এখানে জন্মদিনের কেক ভাড়া পাওয়া যায়

 

বটের লাল ছায়া দিয়ে

গুণ করা কফিটেবিলে

পায়েসের ছোট ছোট বাটি

 

ঝুরি নেমে আসে

পা ছড়ানো মেয়েরা

ঠোঁটে শুধু গলে যাওয়া বর্ণমালার ঋতু

 

ততক্ষণ পর্যন্ত ওই সংখ্যাটা তোমার কেউ না…

 

 

বাসের ভেতর

 

বাসের ভেতর আমরা খুব বইমেলা বইমেলা

ভাবি

আর আমাদের গণিতভাবনার ভেতর

আরেকটা লম্বা বাসযাত্রা

বাসের ভেতর একটা সেতু

কিছু জোড়ে না

কোথাও আবেগ   দেখি      নেই

ন্যারেটিভ                       নেইতো

কার কালো শাড়ি আকাশে দুটো বেলুন

ফেলে যাওয়া

ম্যাজিক টেবিলের কথা আসে

অফিসের খাতায়

এখন কোন মাস সামনের দরজা দিয়ে

ফাজি লজিকের ভেতরে

বাসের আজব ভেতরে

আমরা খুব বাইনারি হয়ে বসে থাকি

 

 

মেমোরি গেম

 

গুঁড়ো গুঁড়ো প্যাসিভ সকাল

মাংস আঁকা একটা রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে

তোমার স্কুলিং

যা রিয়্যালিটির ভেতর নেমে যায়

তবু

আলোর ভেতর কাঁচ ফেলে দিলো

জিভে জড়ানো শহর

তার ধ্বনির ক্লোজআপ নিয়ে

এবার

রান করবে পে-রোল

 

ভাঙা ভাঙা সারা মাস জুড়ে

একটাই মেমোরি গেম খ্যালা হোলো…

 

 

একলাইন বরফ

 

পুরনো হিন্দী গানগুলো

ঘষে ঘষে

বাড়ির যে দেওয়াল

চকচকে হয়ে উঠলো

আর আমার হোলোনা যে প্রবাস

তার কথাও ভাবি

আর দেখি

এ দু’য়ের মাঝখানে

একলাইন বরফ

কবিতার লাইন ভাঙতে ভাঙতে

কীভাবে

ক্যামেরার সামনে এসে দাঁড়ায়…

পাঠ-প্রতিক্রিয়া / মেঘ অদিতি

নীলাব্জ চক্রবর্তীকে লেখা খোলা চিঠি

 

প্রিয় নীলাব্জ,

 

তোমার কবিতা পড়তে পড়তে দেয়াল ফুরিয়ে গেছে কখন তবু আমি মানুষ ভাবছি। কী করে এমন লেখো বল তো? এই তো এখন যেমন রঙ ভাবছি। রঙের নিজস্ব ধূসর বাইনারির কথাও ভাবছি। নিউম্যারিকাল নোটেশন কি? দুটো প্রান্তই কি দুটো সংখ্যা? সংখ্যা যদি ব্যবহার হয় তো তার অবস্থান কেন কেবল ভ্রম? ক্রমশ ঢুকে পড়ছি সংকেতের ভেতর। ভাবনার অবসরে এইসব সংকেত প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আর এই যে কবিতা, এরাই বা চলেছে কোথায়…

রূপকথা থেকে বেজে উঠছে রঙের সন্তুর। আর এভাবেই ঢুকে পড়ছি তোমার কবিতাদর্শনে।

 

একটা একটা পোশাকের নাম

মুহূর্ত

এভাবে দূরত্ব লিখছি

আর টুকরো টুকরো হয়ে দেখছি

আমার আঙুল নিয়ে অন্য লোকেরা দৌড়ে যাচ্ছে

অ্যাটেণ্ডডেন্স মেশিনের দিকে

[তোমার কবিতা]

 

দূর থেকে দাঁড়িয়ে এই যে তুমি আমাদের দেখে চলেছো, তারই অনুবাদ করছো নিজস্ব ভাষায়, তা পড়তে গিয়ে বুঝি, কবিতাগুলো পাঠের গভীরে লুকনো আছে আরও এক সুগভীর পাঠ। দেখার ধরনে কেমন দৃশ্য পালটে পালটে যায়, খানিকটা দূর থেকে অবাক আমি দেখছি, তোমার দেখাগুলো কীরকম ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিটি কবিতায়।

কবি শ্যামল সিংহ পড়তে গিয়ে দেখেছি বাক্যের রিপিটেশন আর ছড়িয়ে রাখা স্পেসের ভেতর দিয়েও কবিতা কী করে স্বকীয় হয়ে ওঠে। কী করে স্পেসগুলোতে ফুটে ওঠে ব্যঞ্জনা। তোমার কবিতা পড়তে গিয়েও মনে হয়েছে শব্দ থেকে শব্দে, পঙক্তি থেকে পঙক্তিতে কবিতাগুলো পাঠকস্নায়ুতে এভাবেই ঝড় তুলে চিন্তনের সূত্রপাত ঘটায়।

 

বড় বড় ফোঁটায় ডানলপ আসছে। স্ক্রিনটাচ। রীল কেটে যাচ্ছে… রীল কেটে যাচ্ছে… হাত নাড়তে নাড়তে আয়নায় ঢুকে যাচ্ছে বিহাইন্ড দ্য সীনস। আর টম্যাটোবাগানের সবটা নিয়ে সাড়ে তিন হাত রোববার।

[কথারূপ]

 

খণ্ড খণ্ড দৃশ্য ধারণ করে তোমার কবিতারা এগিয়ে চলে একটা কাঠামো ধরে, বড় বড় ফোঁটায় ডানলপ আসে। এরপরই স্ক্রীনটাচ। আর আমি পেরিয়ে যেতে শুরু করি সেই আয়নাটা। রীল কাটছে, নির্মাণ হচ্ছে, রীল কাটছে বিনির্মাণ হচ্ছে, আর সাড়ে তিন হাত রোববার শব্দচেতনে জুড়ে দিচ্ছে রহস্য। দৃশ্যের সঙ্গে, ভাবনার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে গিয়ে টের পাই ভাষা-নির্মাণে তোমার সচেতনতা চেতন থেকে চিন্তার দিকে বিস্তৃতি ঘটিয়ে চলে।

 

আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে ওঠে সকালটা। রঙ এক সিদ্ধান্ত তাহলে। এক অস্তিত্ব। সমস্ত উচ্চারণই তখন যৌন। ফাম্বল করো অতয়েব। কেঁপে ওঠো আর স্প্রে করো পছন্দের হরফগুলো। যে শরীর ছিলোই না কখনো, তার সারা গায়ে চটচট করতে থাকুক অথচ শব্দটা। স্পেস। [বিনিময়]

 

পঙক্তিগুলো খুলে খুলে দেখলে এবার আলতো সুর খুলতে শুরু করে। বিন্দু বিন্দু আলো এসে পড়ে আধখোলা দরজা গলে। দেখতে থাকি ছবি আর শব্দের সমন্বয়। ভাবি অ্যাবসার্ডিটি যদি দৃশ্য ও ধ্বনি, এক্সপেরিমেন্ট তাহলে অভিজ্ঞানের সম্মিলন। জীবনও অভিজ্ঞতার অনন্য ক্যালাইডোস্কোপ। এবং  তোমার পর্যবেক্ষণ এক নিরন্তর প্রক্রিয়া যা থেকে তুমি দৃশ্যে, রঙে, সুরে নির্মাণ কর কবিতা।

 

সেতুর ওপর থেকে

একটা দিন বড়ো হচ্ছে

ছাড়া ছাড়া এখন

তুমি খুব ওই রাস্তাটা ফেলে গ্যাছো

কাঁচাপাকা

কে যেন শহর

বৃত্ত বদলে যাচ্ছে

[সেতু]

 

আক্ষরিক অর্থে কবিতা বোঝার চেষ্টা যে বৃথা, সে তো পাঠকমাত্রই জানেন। তাহলে কী থাকে? অনুভব তো? অনুভবে কবিতাকে ধারণ করতে গেলে আমার ধারণা সেখানে প্রয়োজন দৃশ্য বা ছবি তৈরি করা। এই ছবি পাঠকের কাছে তৈরি হয় তখনই যখন কবি সেই কবিতার ভেতর ছবিগুলো নিপুণভাবে সাজান। ফলে একটা আলোআঁধারি তৈরি হয় আর তোমার কবিতারা এভাবেই হয়ে ওঠে স্বতন্ত্র মন্তাজ। কবিতায় সিনেমাটিক টেকনিক, ছবি আর সুর সব মিলিয়ে কখনও মনে হয়েছে তুমি কবি নও ফিল্ম মেকারও বটে। বিশাল ক্যানভাস জুড়ে তাই শব্দের নৈর্ব্যক্তিক প্রক্ষেপণে তৈরি করো দৃশ্য। আর সুরের কথা আবারও বলছি, তোমার কবিতায় সেও এক অনন্য টিউনিং যা লোয়ার স্কেলে বাঁধা।

 

নীলাব্জ, এবার তাহলে তোমার কবিতা নিয়ে শুরু হোক পাঠকের ট্রেকিং। দৃশ্য থেকে দৃশ্যে যেভাবে তুমি ছড়িয়ে রেখেছো নির্মোহ সফর, কবিতার পাতায় তারা সারা সকাল অথবা বিকেল জুড়ে ম’ ম’ করুক। কবির ভাবনা আর পাঠকের বোধ দুইয়ের দেখা হোক। বিস্তৃত হোক পাঠকের অনুভূতি নামক সুবিশাল রাজ্যপাট।

ইন বিটুইনে এই তো রইলো আমার খোলা চিঠি।

ভালো থেকো।

মেঘ

 

 

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(1)

  1. আমার পাঠ-প্রতিক্রিয়া শ্রদ্ধেয় কবি: ‘মেঘ অদিতি’-ই লিখে দিয়েছেন নীলাব্জ চক্রবর্তীকে লেখা তাঁর খোলা চিঠিটির মধ্যে! আমি অভিভূত, বিস্মিত এই দেখে যে: কবিরা পাঠকের হৃদয়ে থাকেন। পাঠকের হৃদয়ের ভাষা অক্ষরে অক্ষরে অনুবাদ করতে পারেন! অশেষ ভালোলাগা! নিরন্তর শুভ কামনা!

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close