Home কবিতা নুসরাত নুসিন >> কবিতাগুচ্ছ

নুসরাত নুসিন >> কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশঃ August 8, 2018

নুসরাত নুসিন >> কবিতাগুচ্ছ
0
0

নুসরাত নুসিন >> কবিতাগুচ্ছ

 

অগস্ত্যযাত্রার শঙ্খধ্বনি
(উৎসর্গ : অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী)

কাছের তারাটি খুন হয়ে গেল। কৃষ্ণগহ্বরের পথে নতুন আলো জ্বালিয়ে একটা অমিলিত অপেক্ষা ছিল। কাছের তারা সে তো অনর্গল ছাইজ্বলা আলোদানি, মোহনমনে কৃষ্ণবিরহযোগ অনুধ্যান। আমি তার গোপন ভাষা বুঝতে চেয়েছি সবচেয়ে নিকট দূরত্বে। বেদনার লাভা লুকিয়ে যে কিনা নূরের স্বচ্ছ ফোয়ারা তার অমিলিত চোখের কাছে পৃথিবীর দেনা থাকে, আমারও পাওনা কিছু ছিল।

এ উপত্যকা নিশ্চয়ই প্রেমের নিরাপদ দেশ নয়- স্বাভাবিক নিয়তিহীন-নিরুতিশয় অশ্রুপাত কালো কালো বাঁকে। পথে ও পায়ে জটায়ু যাপন, বহুদূর আমাদের গুচ্ছগ্রাম- শান্তিনগর। এসব নির্মমতা তারাটির কাছেই শোনা। বিপরীতে দুঃস্বপ্নের উচাটন ভার নিয়ে পর-সকালে দেখি, অন্ধকারের করাতকলে কেটে গেছে আমাদের সুধা, স্রোতস্বিনী নদী।

ভাষাহীন জলের চত্বরে অমৃত নীল মায়াছবি।

মৃত্যুবিভ্রমে
হলুদ কাফনের ডঙ্কা নিয়ে শেষপ্রহরে সংকেত আসে। আজকাল ঘুম একটা নিঃসঙ্গ পাথর। একবার বুজে এলে ভারবাহী বরফপ্রবাহের মতো থেমে যেতে পারে আয়ুর অগাধ। যেমন আজ একটি চলন্ত স্বপ্নের অববাহিকায় অহেতুক এক অনাচারী রক্তবোমা ফেটে গেল আর অজস্র ছুটন্ত চিৎকার সারি সারি রক্তের উল্লম্ফন শুষে নিল। হিরন্ময় মিছিলের অনতিপূর্বেও বেজেছে প্রিয়তম মানবিক গিটার, আনন্দসমুদ্র আর আগ্নেয়গিরির সহস্র উদগীরণ। আর তার ঠিক পরেই বিকৃত শব্দের তাণ্ডবে পৃথিবীব্যাপী থেমে গেলাম।

শুধু আমি লাল স্রোতের গভীরে খুঁজে ফিরলাম বিপ্লবী গিটারের জীয়ন্ত আঙুল, উজ্জীবনী তারের অলঙ্ঘনীয় সুর। গগনশিরিষ পথে একবার উফ করে উঠলাম, আমি হারিয়ে ফেলেছি প্রিয়তম বিপ্লব। এ নেশাচোখে শুধু একবারই দেখেছি তা।

এ সমস্ত চলন্ত স্বপ্নের খাদে আটকে পড়া সচল বিভ্রম। আজ ঘুম একটা বিপদজনক বিশ্বাসের নাম।
খুনশেষে
মেয়ে তুমি কি জানো, একটি গোলাপসুন্দর রাতে আমি কিভাবে খুন হয়ে যাই?
ধানপাতার প্রান্তরে প্রতিফলিত রূপ হয়ে ফিরে এসেছি।

কষ্ণপক্ষের অধিক সে রাতে মন্দ্রমুহূর্তে শিকার হলাম। প্রেম অনিবার্য- এই উচ্চারণ শেষে বিশ্বস্ত চাপাতির রূপালি ফলায় কিভাবে অতর্কিত হামলা চললো আর আমি আসন্ন মৃত্যুর আশঙ্কায়
রাধাচূড়া আঙুলে এক অন্ধমগ্ন নম্বরে ফোনকল ঢুকালাম, যে কোনোদিন কোনো ফিরতি প্রতিশ্রুতি আমাকে ব্যক্ত করে নাই।

ভক্ত ঘাতকের হাতে খুন হতে হতে জেনে যাই, আমাদের হাতে আর চোখে কোনো রূপালি ধার নেই।
জঙ্গিবিধুর

মরণ তরবারি ধরে আছে কেউ।
ধীরে ধীরে রেড কার্পেটে
উৎসর্গ নদী হয়ে যাচ্ছি।
অথবা রক্তপাতার নির্লিপ্ত সারি সারি বৃক্ষ।
আমাদের হাত বাঁধা
অথচ প্রত্যেহ আমাদের চোখ খুলে রেখেছে কেউ।

রাষ্ট্রপ্রিয়,
রক্তরাগের জঙ্গিবিধুর
এ কুহেলিকা
এ চোখ
আমরা চাই না কেউ।

কেউ না।
বিরুদ্ধচোখ

বিবিধ চোখের বিরুদ্ধে আমাদের সহজাত খেলা
হয়ত বন্ধ হবে এক্ষুনি।
দুই চোখ এখন দুইদিকে-

আমি জমাতে চেয়েছি তিন কালের লুকানো মহিমা
আর বাড়াতে চেয়েছি লাল আকরে মোড়ানো প্রত্ন গহ্বরে প্রেম।
তুমি সাদা পাহাড়ের পিঠে বায়ুমণ্ডলীয় চোখে দেখছ,
চোখ থেকে পৃথিবী কতটা দূরবিন্দু!
বস্তু, পৃথিবী এবং একইভাবে নিয়তি।
আমি তিন কালের লুকানো মহিমা-
দেখছি কিভাবে চোখ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জ্যোতি
বিবিধ চোখের বিপরীতে
কিভাবে বাড়ছে
আমাদের অন্ধ অন্ধ খেলা।
রেড অ্যালার্ট বাই স্টেট

অবশেষে নাম পাওয়া গেল। দুঃস্বপ্নের।
রেড অ্যালার্ট বাই স্টেট।

এই দিবাস্বপ্নের ভেতরে
আমি আমার পরিচয় খুইয়ে ফেলেছি।
প্রিয় চোখে
চোখ রাখার
সবুজ চঞ্চলতা খুইয়েছি।

এখন যে-কোনো মুহূর্তে আমাদের শরীরে উঠতে পারে
নতুন পোশাক। যেকোনো অভিধায়।

ফলে সেকেণ্ডের কাঁটার মতো
আমরা আমাদের পায়ের ধাপগুলো,
শ্বাসগুলো
গুনতে গুনতে হাঁটতে থাকি।
যেহেতু আমাদের গোপনে
পরখ করছে সিসি। সাবলীল।

ফলে আজকাল
আমরা সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করে
ঢুকে পড়ি স্বপ্নের ভেতরে,
আর সেখানেও বাম-ডান
ছন্দের তালে
ঊর্ধ্বতন রেড অ্যালার্ট বেজে ওঠে

আশ্চর্যজনকভাবে।
রক্তবান

কোনো রক্তযান তবু থামছে না
কবি-পরিচিতি

নুসরাত নুসিন : জন্ম ২১ নভেম্বর, ১৯৯০, পার্বতীপুর, দিনাজপুর। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : দীর্ঘ স্বরের অনুপ্রাস (২০১৮), কাগজ প্রকাশন।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close