Home কবিতা নৈরিৎ ইমু >> ১০টি কবিতা ও কবিতাভাবনা এবং পাঠপ্রতিক্রিয়া >> মাসুদুজ্জামান
0

নৈরিৎ ইমু >> ১০টি কবিতা ও কবিতাভাবনা এবং পাঠপ্রতিক্রিয়া >> মাসুদুজ্জামান

প্রকাশঃ December 17, 2017

নৈরিৎ ইমু >> ১০টি কবিতা ও কবিতাভাবনা এবং পাঠপ্রতিক্রিয়া >> মাসুদুজ্জামান
0
0

নৈরিৎ ইমু >> স্বনির্বাচিত ১০টি কবিতা ও কবিতাভাবনা এবং পাঠপ্রতিক্রিয়া >> মাসুদুজ্জামান

 

ঘুম ঘাতক

১.
তমসার কাছে গিয়ে ধরা দাও
অনন্ত পাথারে— বালিঘড়ি মেপে
নেমে পড়ো শ্মশানের কাছাকাছি
কোথাও ডালিম বনে, তমোহরে—
যেনো গালিবের সুরাঘন ঘুমে
হেসে ওঠে ছায়া, চাঁদ সদাগর।
উলঙ্গ রাম-দা হাতে তাড়া করে
সেকি যমদূত, নাকি পূর্বজনম?
তার কাছ থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরো
এই পলায়ন দৃশ্য স্থির চিত্র
না-পেরোয় একচুল, তবুও দৌঁড়
বেগহীন সুপ্রাচীন পা যুগল
বোবা ও বধির— রক্ষাকর্তাহীন
আর কপালের ঘাম, রাশি রাশি
সাদা সাদা তুলো— ধেয়ে আসে ক্রমে
উলঙ্গ রাম-দা হাতে জল্লাদ এক।
২.
আমিও ঘুমাই ঘাতকের পাশে গিয়ে
পাথুরে দেয়াল আমাদের ঘুম দেখে
কঙ্কালে জড়ায় আরোকিছু মাংসমতো;
আরো কিছু লাল এসে ভরে যায় হৃৎ
ঘাতক চেনে-কী শ্বেতকরবীর কাল?
ছায়া-রোদ, সমবেত নতজানু গাছ—
গাছেদের ফাঁকে ফাঁকে আঁশটে গন্ধের
যে-শরীর ঘুরে ফিরে, কারুকৃতি তার?
কেবল ঘুমের দৃশ্যে আমি ও ঘাতক
অভিজ্ঞ আরেক ঘাতকের কাছে যাই।

 

জহুরী

শিশির-মন্দির হতে কে অমন
ছড়িয়ে দিয়েছো আত্মার কুসুম

হাওয়াভূমে—
তীর‍্যক চিন্তারেখায়—
যে দোলা স্বতন্ত্র বিশ্বাসের
তারও অধিক দীপাধার হয়ে জ্বলে থেকো তুমি।

 
কফিন বানানো লোক

চলেছে কাঠমিস্ত্রী জং ধরা সাইকেল
তার, শূন্যে উড়িয়ে এক কাঠের পুতুল
ঘরে বাল্য বধু, সজলমৎস চোখ
চেয়ে আছে ঘাসঢাকা পথে— পতি ও পুতুল ধ্যানে

লাস্য হাওয়ায় ঝরে পুষ্প শাদা— ফিঙ্গে ঝাপ্টায় ডানা
উনুনে উৎরায় আতপ, গৃহের পেছন ধারে দু’টো ব্যাঙ চিল্লায়
জং ধরা সাইকেল ঘন্টা কাছে-দূরে ধাঁধার মতো
ঈদানন্দ যেনো, এক বেলা দুন্দুভি উল্লাস—

উঠোনে উলঙ্গ শিশু কচি দুইহাতে
কাদাবালি মেখে গড়ে খেলার মহল
পাশ ঘেঁষে হেঁটে যায় রাজহাঁস, রাজ ভঙ্গিমায়
পুত্র বরেণ্য হবে ক্ষত্রিয় বেশে, ভেবে—
পূনরায় সাইকেলে
ঘরে আসে কাঠের ঘোড়া

ঘোড়া দুলে, জরা বাড়ে, জ্বলে উঠে জরি মাখা মুখের স্মৃতি
আসবাব বানাতে বানাতে একদিন কফিন বানালো কাঠমিস্ত্রী
কফিন বানানো লোক বানায় না ঘোড়া বা পুতুল
শুধু দ্রুততাল খুরাঘাত কাঠের বাক্সে জমায় আত্মাকুটুম
সিনা হতে খুলে নিয়ে— কে চেরাই করাত-দাঁতে
আহা দুধডাক…।

শুধু মিস্ত্রী জানে, মনে-প্রাণে—
সাইকেল ঘন্টা ধ্বনি কী হারানোর সুরে কাঁদে।

 

আরও বিচ্ছিন্ন দিনে

চিরন্তন বেদীর দিকে ছুটে নীলইন্দ্রিয় কার—
যতো গাছ-সম্বন্ধীয় অনুমিত কথা ফেলে
আরও উদ্ধত আলোক-বেষ্টনী ছিঁড়ে
অবগত হিমবাহে, হিম— সেতো সত্যরূপ মুছে
সামান্য শ্বেতাংশ, নিজ পক্ষ নেবার।

সীমারেখার প’রে অঙ্কুরিত হতেও পারে—
ব্লুসম দিন, বন্য গোলাপ না হয়ে এই অক্ষপাত
তখনও কী কোন মাংসকাটা ছুরি ?

 
এইভাবে প্রভাত আসুক

মুছে যায় সুবেহ-তারাও। ঘুমের কেরাত চূড়ান্ত সুর হতে নেমে পড়ে ধীরে। মানুষেরা নিজেদের ছায়া থেকে দূরে— নিজেরই পবিত্র গন্ধে বিভোর। তবু স্পৃহার সবটুকু ঢেলে দিয়েও— কার বিগ্রহ ভয়? গভীর শরণার্থীর মতো মুখ, নতুন স্বরভঙ্গির মাঝে অনুকম্পা তার— প্রকৃত কূজন তালাশি। বিনম্র রশ্মির দিকে প্রিজমের মতো বাড়িয়ে ধরো হৃদয়— কী এক স্নিগ্ধ-ময়ূর, চিরস্থায়ী উদ্ভাসে ভেসে যায় পৃথিবীর জরা-স্তূপ।

 

ইন্টারভাল

বিরাম দাও হে অস্থির অনুনাদ। আশাপ্রদ স্তবমালা যেনো পরোক্ষ আলোকসম্পাত! বুঝি গো প্রিয়দর্শন, পত্রবৃন্তের দিকে ছুটে যায় প্রতিটি পতিত নিঃশ্বাস। আহা বিস্মরণ, কে দেবে রেশমে বেঁধে! যা হারালো সব রজতশুভ্র সম্ভার। সেকি উৎকর্ষ ডাক— তুরীয় টান, বিন্যস্ত কুহকের ভেতরে ঢুকে পড়ি শঙ্খিল গতিতে। আমার চোখের তারায় বহু সন্ধিচ্যুতির দাগ। তবু সুগন্ধি বায়ুপ্রবাহ মন ঢেলে অনুভব করি। নকশা আঁকি, জলের মৃৎপাত্র হাতে অপেক্ষাকারীর কাছে ফেরত আসবার।
অভিবাদন হে

অভিবাদন হে, এই শান্ত ও স্থির আবহাওয়ার ক্রমনিম্নতায়। ঘন্টাকৃতি নীলবর্ণ পাপড়িগুচ্ছের দিকে— দুলে উঠে হারমোনি। যেন হাঁটু গেড়ে বসে আছো — সম্মুখে সাঁঝতারা। তোমাকে মুগ্ধ করে শৈলপার্শ্ব তপোবন। এ ভ্রমণ একা— বালিঘড়ির পাশে ঘুমিয়ে পড়া রাত্রির মতো। ঘুমে তুমি হতে পারো উড়ন্ত ভঙ্গিমা— শূন্যদেশের বাড়ি।  অন্তর্নিগূঢ় কোন স্রোত এখনো ব্যাকুল করতে পারে তোমায়।

 
ভুল অ্যাটিউন    

বাতাস বাতাস
অ্যাটিউনড
কোথাও লরেল পাতা কাঁপছে

ঘূর্ণি জল ঘূর্ণি জল
লাফিয়ে পড়বো আমি
এই দেহ আর তুষারস্তুপ
ভাসাবে মহাসাগর

আকাশী রঙের দিকে
ক্ষীণপ্রভা ফুল
হোক মশগুল

ছানিপড়া চোখ নিয়ে
দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ফ্যালি চাঁদ
তুরপুন তুরপুন
ভুল অ্যাটিউন
চোখের ভেতর ঢুকে যায়…

 
ঝড় আসলে আসুক

এই ক্রূর বিদ্যুৎ ভঙ্গি পাশ কাটিয়ে বয়ে যাক আরও কিছু ঘনীভূত মেঘ। কোথাও সহস্র জলবিন্দুর স্পর্শ, প্রাচীন হাতের ভেজা গন্ধ, পুনর্জীবন রেখা— সজীবতায় ভরে উঠুক।

পুরোহিতের গূঢ় মন্ত্রপাঠের মতো হাওয়া-ঘূর্ণি, কাছে এসে আবার অস্পষ্টতার দিকে মেলে ধরুক সমস্ত তকলিফ। কিরণোদ্ভাসিত মানুষ, শুভ্র মানুষীর পদতলে রোপন করছে মহাবজ্র এক। পিতৃকোলে এই দৃশ্য দেখুক নবজাত শিশু। কচি-আঙুলগুলো আঁকড়ে ধরতে শিখুক, ভালোবাসতে শিখুক, অটুট বন্ধনের ভেতর থেকে ভয় ও রহস্যমিশ্রিত বাদলে প্রথম স্নানের অভিজ্ঞতা সহযোগে।

এই বিদ্যুৎ বৈতরণী পাশ কাটিয়ে বয়ে যাক পরিক্রমার কৃষ্ণমেঘ। যে মাঝি, সে গলা ছেড়ে গান ধরুক। ঝড় আসলে আসুক … আসুক …

 
উড়াও এবার

আনত চোখের কাছেই জমে উঠে মেঘ
কুঞ্চিত পাপড়ির মতো হয়ে আছো তুমি
চঞ্চল জলঘড়ি, সমুদ্র যাত্রার কথা বলে
ডাকো প্রশান্তি ভেদ করো নিভৃত মন

জাগো স্তোত্রগান, অনন্ত শুধু উর্ধ্বে ফেরাবে
নাও শ্বাস— অতলে অসীম অন্তরতম গন্ধ
যদি কান্না পায়, প্রিয় অন্ধকারে মুখ গুঁজো

তোমার ঝোঁকের কাছে খয়েরী সাজছে আকাশ
আধ-পোড়া তারাগুলো, মায়াবিনী মুখবৃত্তাকার
প্রাণ এই— দ্রুত সঞ্চারী। বলো, পাখি—
মেঘের অনেক পরে দূর্গ-অলীক, উড়াও এবার।

 

নৈরিৎ ইমু > কবিতাভাবনা

এখনো তো সিঁড়ি ভাঙছি। এ প্রস্তুতি পর্বের অধিক ভাবার কোন উপায় দেখছি না। কি ধরনের কবিতা লিখবো এমন কোন পূর্ব ও স্বচ্ছ পরিকল্পনাধীন হয়ে আসলে নির্মাণেচ্ছা জাগে না। যে নির্মাণ মূলত নিজস্ব রুচি ও শিল্পদর্শন থেকেই এবং তার আলোকেই মূল্যায়ন, সে জায়গা থেকে যাবতীয় ধ্বনি সৌন্দর্য বা নন্দন রিলেটেড বৈকী। আদতে এসব ইমোশন, ইমাজিনেশন বা থট শুধুমাত্র মিথনির্ভর করার পক্ষপাত আমার নেই। সৃষ্টির স্পন্দন অনুভূত না হলে কোন ভাবের প্রতি প্রত্যাশিত ঝোঁক সৃষ্টিরহস্যের পরিপূর্ণতা এনে দিতে পারে না। কিন্তু রহস্যই যে সর্বপ্রকার ভাষা বৈচিত্র এনে দেবে বা অভিপ্রেত ভাবনার রূপ দান করে ঠিকঠাক মুড সঞ্চারিত করবে তাও নিশ্চিত নয়। আবার জগতকে অবলোকন করার যথেচ্ছ পন্থাই চুড়ান্ত না, ব্যক্তি তার নিজস্ব চেতনার মধ্য দিয়ে যে স্তর নির্ধারণ করেন এবং তা ব্যক্তি বিশেষে ভিন্নতর হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াকে আমরা সহজাত ভেবে নিয়ে চলি। ফলে দ্বন্দ্ব, বিরোধ এমনকী বিদ্বেষ আসে। ভাষা নিয়ে কাজ করা সহজ কিছু নয়। দর্শন স্থাপন করার মধ্য দিয়ে তাতে বৈচিত্র আনা সম্ভবপর হলেও সেই চৈতন্যোদয় কতটুকু কানেক্ট করতে পারে সেই সামান্যে ভ্রুক্ষেপ করি না। হয়ত আরও সংকেতবহুল কোন সাঁকো পার হতে চাইছি অবিরত। আত্মবশ হয়ে সামগ্রিকতাকে টানা যায় কিনা ভেবে দেখা দরকার। আমি এখনো কাঠামো নির্মাণ করে চলেছি। কোনদিন বলা যাবে বিস্তারিত।

নিস্তব্ধতার এক চরম বিন্দুতে এসে আমি জমে আছি। এই শূন্যতায় আমি গন্ধ নিচ্ছি জঠরের অন্ধকার। আমি সম্বলহীন। কোন বিচ্ছুরণ আজ ধ্রুপদী সঙ্গীতের মতো। কার ফেরা, জাহাজ ডুবির পরমুহূর্তে সমুদ্রপৃষ্ঠে সৃষ্ট বুদবুদের মতো যন্ত্রণা অনুভূত হয়। তবে কী স্টয়িক আমি? বুদ্ধ হওয়ার পূর্বে সিদ্ধার্থের মনে হতো- “সুখে সুখ প্রাপ্তি হয় না, দুঃখে দুঃখপ্রাপ্তি ঘটে” শুধু এই ভেবেই তো প্রব্রজিত হয়েছিলেন তিনি। কোন বিস্ফারের জন্য অপেক্ষা করে আছি? আমি কি তবে রিপ ভ্যান ইউনকলের মতো ঘুমুচ্ছি? ঘুম ভাঙলেই আর তোমাদের কাউকে চিনতে পারবো না। মাঝে মাঝে মনে হয় সেই ভালো।

 

মাসুদুজ্জামান > পাঠ-প্রতিক্রিয়া

 

কোনো পূর্ব-নির্ধারিত সংস্কার মেনে কবিতা লেখেন না ইমু। অর্থাৎ হয়ে ওঠার অটোমেটিক রাইটিং বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিটাকেই মান্য করেন তিনি। ফলে তার কবিতায় ভাবচ্ছবি যা আসে তা একাধারে, বাস্তব-পরাবাস্তব বা অধিবাস্তবতাকে ছুঁয়ে দিতে চায় অথবা চায় না। এই পৃথিবীকে দেখার সবগুলো চোখ তিনি খোলা রাখতে চান, রাখেনও। যে-কোনো কবির দেখা তো এরকমই হবার কথা, প্রাতিস্বিকতায় আত্মজারিত। পাঠককে তাই তার কবিতাকে অনুভব করতে হবে তার চোখ দিয়ে। তাহলেই খুলে যেতে পারে অন্য এক ভুবন, যেখানে কখনও তিনি প্রবেশ করতে পারেননি। শুরুর কবিতা থেকেই উদ্ধৃতি দিচ্ছি :

“তমসার কাছে গিয়ে ধরা দাও / অনন্ত পাথারে— বালিঘড়ি মেপে / নেমে পড়ো শ্মশানের কাছাকাছি / কোথাও ডালিম বনে, তমোহরে— / যেনো গালিবের সুরাঘন ঘুমে / হেসে ওঠে ছায়া, চাঁদ সদাগর“

পাঠক, লক্ষ করুন। দ্বিবিধ মিথপ্রতিম চরিত্রের উপর ভর করলেও বলবার কথাটা শুরুতেই বলে দিয়েছেন, তমসার কাছেই নির্বাণ চাইছেন। একারণেই কবিতাভাবনাতে বলেছেন মিথনির্ভর প্রাচীন প্রজ্ঞার প্রতি পক্ষপাত নেই তার। সংকেতবহুল সাঁকো পেরুবার দিকেই ঝোঁক তার। কিন্তু পেরুবার পর কোথায় পৌঁছুবেন তিনি? নিজেই বলছেন : “সমুদ্র যাত্রার কথা বলে / ডাকো প্রশান্তি ভেদ করো নিভৃত মন।”

এই যে নিভৃতি, আত্মচরিতেরই প্রতিভাস : “ঘূর্ণি জল ঘূর্ণি জল / লাফিয়ে পড়বো আমি / এই দেহ আর তুষারস্তুপ /  ভাসাবে মহাসাগর / আকাশী রঙের দিকে /  ক্ষীণপ্রভা ফুল / হোক মশগুল…।” একারণেই তিনি অনেকটা সরলভাবে উচ্চারণ করতে পারেন, ‘এভাবেই প্রভাত আসুক।’ এই উচ্চারণে অভিনবত্ব বা অনুভূতির তীব্রতা ততটা নেই। ইমুর কবিতা তাই কখনও কখনও কিছুটা তৎসম শব্দের ক্লাসিক গাঁথুনির কারণে ক্লিশে হয়ে ওঠে। জীবননান্দই তো বলেছিলেন, অনুভূতি-দেশ থেকে যদি উৎসারিত না হয় কবির কথা, পাঠককে তা ছুঁয়ে দেবে না। ইমুর কবিতায় এই অনুভূতির চাইতে ভাষিক নির্মাণের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। গাঁথুনি যতটা আকর্ষক, গহনতা ততটা অনুভূত হয় না। ইমুর পাঠকের অনুভূতিদেশ আর হৃদয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করা জরুরি বলে মনে করি।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close