Home যুক্তি তক্ক গপ্প পাঁচ কবির আড্ডা [পর্ব ৩] / ‘এরা অনেকগুলো শব্দ একটা বক্সে ফেলে একসাথে ঝাঁকি দিয়ে সাজাতে চায়’

পাঁচ কবির আড্ডা [পর্ব ৩] / ‘এরা অনেকগুলো শব্দ একটা বক্সে ফেলে একসাথে ঝাঁকি দিয়ে সাজাতে চায়’

প্রকাশঃ January 31, 2017

পাঁচ কবির আড্ডা [পর্ব ৩]  / ‘এরা অনেকগুলো শব্দ একটা বক্সে ফেলে একসাথে ঝাঁকি দিয়ে সাজাতে চায়’
0
0

“এরা অনেকগুলো শব্দ একটা বক্সে ফেলে একসাথে ঝাঁকি দিয়ে সাজাতে চায়, বাগাড়ম্বর ছাড়া কিছুই নাই “ – জাহিদ হায়দার

“এখন নতুন কোনো কবি যদি নতুন কিছু লেখে তাতে আমার লেখা যদি বদলায়, তাহলে তো বদলাতেই পারে। এতে আমি সিকদার আমিনুল হককেও ছোট করছি না, রবীন্দ্রনাথকেও না।” – ফরিদ কবির

“আমাদের পঞ্চাশের কবিরা ওখানকার পঞ্চাশের কবিদের অনুকরণ করেছে। ষাটের কবিরা অনুকরণ করেছে হাংরিদের আর আমাদের আশির কবিরা অনুকরণ করেছে ওখানকার সত্তর দশকের কবিদের কবিতা। এখনও এমনটাই ঘটছে।” – মাসুদুজ্জামান

“আবদুল মান্নান সৈয়দ কাউন্টার পয়েন্ট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।…আবদুল মান্নান সৈয়দের কল্পনাশক্তি সেক্ষেত্রে উৎপলের চেয়েও বেশি।” – সাখাওয়াত টিপু

১১untitled

[সম্পাদকীয় নোট : আড্ডা। বাঙালির চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতাকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছে। ‘এইসময়ের সাহিত্যচর্চা’ নিয়ে কথা বলার জন্যে কিছু দিন আগে এরকমই একটা আড্ডায় কবি জাহিদ হায়দারকে ঘিরে মেতে উঠেছিলেন কবি মাসুদুজ্জামান, ফরিদ কবির, সাখা্ওয়াত টিপু অরবিন্দ চক্রবর্তী। সেই আড্ডায় উপস্থিত কবিদের আলাপচারিতায় উঠে এসেছিল সমকালীন সাহিত্যচর্চার নানান প্রসঙ্গ। তুমুল তর্ক-বিতর্কে মেতে উঠেছিলেন তারা। আজ প্রকাশিত হলো ওই আড্ডার তৃতীয় পর্ব। উল্লেখ্য, আড্ডাবাজ কবিরা ওই আড্ডায় যা বলেছেন তা তাদের নিজস্ব মত, তীরন্দাজের নয়।]

জাহিদ হায়দার : আমি এখন টিপু প্রসঙ্গে আসি। যেমন ধরুন, আমি একজন কবিকে লিখলাম যে, আপনার কবিতায় কিন্তু শব্দের পর শব্দে ধ্বনিতাত্বিক প্রবহমানতার ব্যাপারটি থাকতে হবে। একজন কবিকে এটা বুঝতেই হবে। আমি পরামর্শ দিয়েছি আমার জ্ঞান এবং মাত্রা অনুযায়ী। প্রতিদিন একজন বাংলা ভাষার কবিকে গীতবিতান পাঠ করা উচিত। এখন গীতবিতান কেন পাঠ করা উচিত, এর ব্যাখ্যা অনেকরকম হতে পারে। ‘হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনি, তোমায় দেখতে আমি পাইনি’…

মাসুদুজ্জামান : তুই কবিতার দিক থেকে বলেছিস যে ভালো লেগেছে, খারাপ লেগেছে। কিন্তু এসেন্সের দিকটা কী বলেছিস? কোন কবিতাগুলোকে তুই পছন্দ করিস? কেন করিস?

জাহিদ হায়দার : আমি আর্টিস্টিক দিকটা আগে বলি। তাদের কবিতা বলবার যে স্টাইল এটা আমার কাছে ভালো লেগেছে।

মাসুদুজ্জামান : আমি কি একটু ব্যাখ্যা দাবী করতে পারি, বলবার স্টাইল বলতে তুই কী বোঝাচ্ছিস?

জাহিদ হায়দার : ফ্লাটলি… ফ্লাটলি… ইউরোপে যখন নিকাননোর পাররা, মিরোস্লাভ হোলুবরা স্ট্রেইট পোয়েট্রি আন্দোলন করেছিল – যেমন সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতায় – তারপর যেতে যেতে এক নদীর সঙ্গে দেখা… এই কবিতার শেষের দিকে আছে- সেই রাক্ষুসীই আমাকে খেলো। এরকম ব্যাপার আছে। অথবা রবীন্দ্রনাথ যেমন বলছেন- কাঁঠালের ভুঁতি, মাছের কানকা, মরা বেড়ালের ছানা ইত্যাদি… এতসব সত্ত্বেও এর মধ্যে পোয়েট্রিটা কিন্তু আছে। কিন্তু এখন সবাই যেটা করছে, শুধু বলে-যাওয়াটাকে পোয়েট্রি মনে করছে। আমার যতটুকু পাঠ-সেন্স, আমিতো যে করেই হোক রসের কাছে পৌঁছাতে চাব।

মাসুদুজ্জামান : তার মানে কি তুই এখনকার কবিদের মধ্যে রসের অভাব দেখছিস?

জাহিদ হায়দার : অবশ্যই অভাব আছে। প্রথম আলো আয়োজিত একটি সেমিনারে ফরিদ একটা কথা বলেছিল, আমরা একটা সুক্ষ্ম ইঙ্গিতের মধ্য দিয়ে আমাদের বিস্তার ঘটাতে চাই। এটা তার একটা স্টাইল ছিল। কিন্তু সেখানেও একটা গল্প রয়েছে।

মাসুদুজ্জামান : আমি আরেকটি প্রশ্ন করি। এখনকার কবিতার ধরন তোর কীরকম মনে হয়?

জাহিদ হায়দার : এরা অনেকগুলো শব্দ একটা বক্সে ফেলে একসাথে ঝাঁকি দিয়ে সাজাতে চায়, বাগাড়ম্বর ছাড়া কিছুই নাই। ‘গাণ্ডীব’ কবিতা নিয়ে যে কাজটি শুরু করেছিল, তা হলো- কবিতার কাছে ফিরে আসতেই হবে এইরকম আর কি। এর একটা দিক ভালো ছিল, আরেকটা দিক খারাপ। খারাপটি হলো, কবিতা এমন একটি জায়গা খুঁজতে চেয়েছে যেখানে, কবিতার স্বর-বাক্য ইত্যাদি সুনির্দিষ্ট বা তাদের মতো চিন্তাপ্রসূত হওয়া উচিত। আমরা যে-কোনো উৎস থেকে শব্দ নিয়ে ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু কবিতার কাছে ফিরে আসার ব্যাপারটি কয় জন মেধাবী তরুণ করতে পেরেছে? যাদের জন্য করতে চেয়েছে, তারা কিন্তু তা ধারণ করতে পারেনি। একেক দশকে বা পনের-বিশ বছরে একজন দুইজন উঠে আসে।

মাসুদুজ্জামান : কিন্তু গাণ্ডীবকেন্দ্রিক আশির দশকের যে চর্চা, তা কিন্তু সম্মিলিত চর্চাও ছিল। সম্মিলিতভাবে একটা বাঁক নেয়ার প্রচেষ্টা ছিল। আমি মনে করি, আশির দশকে, নব্বইয়ের দশকে বা পরবর্তী প্রথম দশকে হয়ত অনেকেই উল্লেখযোগ্য কবি হয়ে উঠেছে। গাণ্ডীবকে কেন্দ্র করে সবাই মিলে কবিতার একটা পরিবর্তন আসুক এটাই প্রত্যাশা করেছে। অনেকে বলেন আশির দশকে কবিরা শুধু চিৎকার করেছেন। আসলে তখন প্রতিবাদ, বিক্ষোভ বা উন্মাদনার একটা সময় ছিল। এজন্য তখনকার কবিতার ভঙ্গি ছিল ওই রকম। কবিতার ইতিহাসে দেখা গেছে, প্রতি ৫০ বছর পর পর বাঁক পরিবর্তন করে। আশির দশক শুরু হওয়ার পরে আমার মনে হচ্ছিল বাংলা কবিতা কি আরেকটা বাঁক নিতে যাচ্ছে!

সাখাওয়াত টিপু : ধরেন ’৪৭-এর দেশবিভাজনের পর আমরা যে পঞ্চাশের কবিতা দেখলাম, যেমন শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ বা শহীদ কাদরীর প্রথম বই। যেখানেও তো রাষ্ট্রের একটা চিৎকার থাকার কথা ছিল, যে অর্থে আমরা কবিতাকে চিৎকার বলি, সেসবও কিন্তু তাদের মধ্যে ছিল। তাদের মধ্যে নন্দনতাত্ত্বিক বিষয় ছিল, দার্শনিক বোধ ছিল, তাদের ভিতর একটা চৈতন্য সৃষ্টি হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের ফলে যে একটি নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টি হবে তা কিন্তু তারা বুঝতে পেরেছিলেন। পঞ্চাশের দশকে শহীদ কাদরীর লেখার মধ্যে আপনি রাষ্ট্রচিন্তা পাবেন। যেমন- ‘রাষ্ট্র মানেই লেফট রাইট’। তখন কবিতার মধ্যে যে চিৎকার ছিল তা নান্দনিকভাবে কবিতা হয়ে উঠেছে। কিন্তু সত্তরের দশকে কবিতা ছিল ঢিলেঢালা। তার মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা বা স্লোগান থাকলেও সেগুলো কবিতা হয়ে ওঠার জায়গায় অতটা দৃঢ় ছিল না।

মাসুদুজ্জামান : এখানে একটু পার্থক্য রয়েছে। ‘৪৭-এর পরেই কিন্তু ’৫২-এর আন্দোলন আসছে। তখন কিন্তু আমরা চিৎকারসর্বস্ব কবিতা পেয়েছি। তখন আলাউদ্দিন আল আজাদ, মাহবুবুল হক চৌধুরী কিংবা আবদুল গাফফার চৌধুরী – এঁরা চিৎকারসর্বস্ব কবিতা লিখেছেন। ঠিক এরকমটাই ঘটেছে স্বাধীনতার পর। যেমন শহীদ কাদরীর ‘রাষ্ট্র মানেই লেফট রাইট’ স্বাধীনতার আগের লেখা না, পরের লেখা। শামসুর রাহমানের বা আল মাহমুদেরও তা-ই। যেমন শামসুর রাহমানের কবিতায়ও তখন অবিরল কথা বলে যাওয়ার বিষয় এসেছে। আসাদের শার্ট যেমন। তারপরে ষাটের দশকেও কিন্তু অবিরল কথা বলে যাওয়ার চর্চা আছে। রাজনৈতিক চিৎকারসর্বস্ব কবিতা সবসময় লেখা হয়েছে। আসলে সত্তর দশক নিয়ে তেমন গবেষণাই হয়নি, এই সময়ের কবিতা নিয়েও নয়।

জাহিদ হায়দার : টিপুর ঐ কথার একটা উত্তর আমার মনে এসেছে। শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, শহীদ কাদরী, আহসান হাবীব এঁরা যখন এখানে এসে কবিতা লেখা শুরু করলেন, তাদের সামনে কিন্তু কবিতাগোষ্ঠীর অথবা বুদ্ধদেব বসুরা ছিলেন।

মাসুদুজ্জামান : আমাদের পঞ্চাশের কবিরা ওখানকার পঞ্চাশের কবিদের অনুকরণ করেছে। ষাটের কবিরা অনুকরণ করেছে হাংরিদের আর আমাদের আশির কবিরা অনুকরণ করেছে ওখানকার সত্তর দশকের কবিদের কবিতা। এখনও এমনটাই ঘটছে। এখন মনে হচ্ছে সবাই একই ধরনের কবিতা লিখছে। তো অনুকরণ কবিতার ক্ষেত্রে ঘটবেই, সেটা দোষের নয়, কিন্তু স্বতন্ত্র স্বর নিয়ে আবির্ভুত না হলে কবিতা হয়ে উঠবে না। অনেকের মধ্যেই অবশ্য এই প্রতিশ্রুতি দেখা যাচ্ছে। এই ধারাটা যদি বজায় থাকে তাহলে আগামী দিনের কবিতা অন্যরকম ভালো কবিতা হয়ে উঠবে বলেই আমার মনে হয়।

সাখাওয়াত টিপু : পুরী সিরিজ বের হওয়ার তিন বছর পরে পরাবাস্তব কবিতা…আপনি দেখেন আবদুল মান্নান সৈয়দ কাউন্টার পয়েন্ট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর যে চিত্রকল্প, দৃশ্য দেখা বা বলার স্টাইল তা কিন্তু উৎপলের মতো না। হয়ত উৎপলরা ভেবেছেন ইমাজিনেশনটা পুরী সিরিজের মতো হতে পারে। আবদুল মান্নান সৈয়দের কল্পনাশক্তি সেক্ষেত্রে উৎপলের চেয়েও বেশি।

জাহিদ হায়দার : ’৭০-এ এসে যত রাজনৈতিক উত্থানপতন দেখলাম, ৫০-এর কবিরা এতটা দেখেননি- তারা দেশভাগ দেখেছেন। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে যে বিবর্তনগুলি ‘৬৫-এর পরে (৬দফা আন্দোলনের পরে) এই ভূখণ্ডে ঘটে গেছে সেসব কবিমানসে এসে গেছে। হ্যাঁ, মান্নান সৈয়দে এই ব্যাপারটা আছে, বাংলা কবিতায়ও এই ব্যাপারটা আছে। দুঃখের সঙ্গে এবং আনন্দের সঙ্গে বলতে হয়- এইধরনের কবিতা ফরাসি কবিতার আদলে লেখা হয়েছে। বাংলা আধুনিক কবিতার ইতিহাস লিখতে গেলে ইউরোপ থেকে কথাবার্তা টেনে আনতে হয়। কিন্তু আমার মাটিতে যা যা ঘটেছে, কবিতার শিকড়টা এইখানে থাকতে হবে। বাংলা কবিতায় আপনি খুঁজে দেখেন ‘রক্ত’ শব্দটি কতবার লেখা হয়েছে আর শুধু ৭০-এ কতবার লেখা হয়েছে, কতবার ‘বেয়োনেট’ এসেছে। কবিতার দুটো মান আছে- একটা হচ্ছে ভালো কবিতা আরেকটা খারাপ কবিতা। কিন্তু স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ বলেছেন- ভালো কবিতা বা মন্দ কবিতা বলতে কিছু নেই; বুঝতে হবে, সেখানে রস আছে কিনা। সিকদার আমিনুল হকের সতত ডানার মানুষ বইটির আমি আলোচনা লিখেছিলাম- বলেছিলাম এ হচ্ছে টোটাল পোয়েট্রি।

ফরিদ কবির : সিকদার আমিনুল হককে ষাটের কবি ধরা হয়, অথচ তিনি কিন্তু যে কবিতা লিখেছেন তা ৮০-র দশকের কবিদের অনুকরণ করে লেখা।

মাসুদুজ্জামান : কিছুদিন আগে অনলাইন একটা পত্রিকায় সিকদার আমিনুল হকের উপর ৫/৬টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে সিকদার আমিনুল হককে ফরাসি কবিদের মতো কবিতা লেখেন আর তিনি নাগরিক কবি বলে তার কবিতাকে ডিসকার্ড করা হয়। কিন্তু আমি এই বলার মধ্যে কোনো যুক্তি খুঁজে পেলাম না। কারণ, তাবৎ আধুনিক কবিতাই তো নাগরিক – কী মননে, কী প্রকাশভঙ্গিতে! আরে, এখন যারা নতুন ধরনের কবিতা লিখছে বলছে, তারাও তো এই ধরনের নাগরিক কবিতাই লিখছে। তাহলে সিকদারকে ডিসকার্ড করার তো কোনো মানে হয় না।

ফরিদ কবির : তার কবিতায় ফরাসি কবিতার প্রভাব থাকতে পারে- আছেও, তার কবিতা পড়ে সেরকমই মনে হয়। কিন্তু তাঁর পারাবত এই প্রাচীরের শেষ কবিতা কিংবা সুলতা জানের পরে কিংবা আরো যে বইগুলি আছে, সেগুলো সতত ডানার মানুষ-এর আগে বেরিয়েছে। সেই বইগুলো এবং এই বইগুলোর মধ্যে অনেক ভাষাগত পার্থক্য আছে। হতে পারে তিনি ফরাসি কবিতার মতন করে নিজেকে বদলাতে চেয়েছেন। কিন্তু আমরা তো জানি, কবিতাকে বদলাতে হবে। সিকদার আমিনুল হকের বদলানোটা ওই আশির দশক দ্বারা প্রভাবিত ছিল বলে আমার মনে হয়।

জাহিদ হায়দার : আমি এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। ধরা যাক, একজন কবি কবিতা লিখতে লিখতে আশির দশক আসলো কিংবা নব্বইয়ের দশক আসলো, ধরা যাক উনার সত্তর বছর বয়স। তারও আগে হয়তো পঞ্চাশের বা চল্লিশের একজন কবি মনে করলেন আমার আশির মতন কবিতা লিখা উচিত- এটা বাচালতা ছাড়া আর কিছুই না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন শেষের কবিতা লিখছেন, তখন তাই নিয়ে বুদ্ধদেব বসু কী বললেন, বললেন – আমাদের উনি বোঝালেন যে- কীভাবে একজন কবি বা লেখক নিজেই বদলে যান। এখন যদি বলেন- আমাদের প্রভাবান্বিত হয়ে…এখন আধুনিককাল এসেছে, কেটি মির্জা এসেছে, অমিট রে এসেছে, তাইতো? বদলটাতে রবীন্দ্রনাথ নিজেই করেছেন। সেইভাবে যদি বলেন সিকদার আমিনুল হকের মাথায় আশির কবিরা নতুন কবিতা ঢুকিয়েছে, এটা ঠিক নয়।

ফরিদ কবির : রবীন্দ্রনাথ যদি তিরিশের কবিতা পড়ে থাকেন এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকেন, সেটা কিন্তু খুবই স্বাভাবিক ছিল। এখন নতুন কোনো কবি যদি নতুন কিছু লেখে তাতে আমার লেখা যদি বদলায়, তাহলে তো বদলাতেই পারে। এতে আমি সিকদার আমিনুল হককেও ছোট করছি না, রবীন্দ্রনাথকেও না। সেই কবিই জীবন্ত যে নিজেকে সবসময় নবায়ন করতে পারে।

মাসুদুজ্জামান : ফরিদের সঙ্গে আমি একটা বিষয়ে একমত। তুইও (জাহিদ হায়দারকে লক্ষ করে) খেয়াল করবি, তুই প্রথম দিকে (সত্তরের শুরুতে) যে কবিতা লিখতি, এখন কিন্তু সেরকম লিখছিস না। আমার নিজের বেলাতেও একই, আমি যেরকম লেখা শুরু করেছিলাম, এখন কিন্তু সেরকম লিখছি না। তার কারণটা কি এই, আমি রাতারাতি বদলে গেছি? তা নয় কিন্তু। দেখা যায় যে, একইসময়ে একধরনের কবিতা সবাই লিখছে, কিন্তু তার মধ্যে আবার কেউ কেউ একটু অন্যরকমভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠছে, আবার কেউ কেউ হয়ত পারছে না। কিন্তু একটা একক সময়ের অভিঘাত কিন্তু থাকেই।

[চলবে]

অনুলিখন : আরিফ শামসুল

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close