Home কবিতা পাপিয়া জেরীন >> স্বনির্বাচিত ১১টি কবিতা ও আঁকা ছবি
0

পাপিয়া জেরীন >> স্বনির্বাচিত ১১টি কবিতা ও আঁকা ছবি

প্রকাশঃ December 25, 2017

পাপিয়া জেরীন >> স্বনির্বাচিত ১১টি কবিতা ও আঁকা ছবি
0
0

পাপিয়া জেরীন >> স্বনির্বাচিত ১১টি কবিতা ও আঁকা ছবি

 

১

এই জ্বর ঘোর-লাগা রাতে

এই জ্বর ঘোর লাগা রাতে
তোমার শরীরে গজাই
কয়েকশ একর কাগজিলেবু বন,
দুধে ভেজা রুটির মতো
শুষে নিতে থাকি অধরান্ত জিভ
আঙুল ডুবায়ে রাখি অতলান্ত গহ্বরে
অপাঙ্গ-জল, জলের আঘাত
রোমে রোমে মন্থিত শ্বেত পারিজাত!
ফের অতিক্রান্ত কালোয়
আবেস্তার পাতায় পাতায় খুঁজি-
শিফা-ই-গুল;
এই জ্বর ঘোর-লাগা রাতে
কেন আহরিমান খুলে রাখে বুক!
আমি সত্য-শিব ভুলে খুলে দিই গোপন দেরাজ,
চুষে নিতে থাকি তোমার অধরান্ত জিভ;
এই জ্বর ঘোর লাগা রাতে কুয়াশার হোমকুণ্ড ভাঙে
নামে ধুন্ধুকার পীড়ন,
জন্মান্ধ চোখ নিয়ে দেখি-
আঁধারে ঝরে আছে পারস্য গোলাপ!
বিহাইন্ড দ্য সীন (এসআইএন)
এই মুখ, সেলুলয়েড শহর
প্যানকেক মেখে ভরাট করে চলেছে
ব্ল্যাকহোল তার;
এইখানে উর্বর অন্ধকারে
মরে থাকে নায়ালিস্ট
শৌর্যের আগুন নিয়ে সংশপ্তক
ভাড়া খাটে বিছানায়,
আর ভোরের বাতাসে
কোনো এক বেশ্যার বিভক্ত পায়ে
ঝরে অর্ঘ্যের কাঠগোলাপ!
এই শহরে-
রেলপথে কাটা পড়ে আছে ট্রাম্পকার্ড
রাণীর হাতে ডিলডো,
রাজার কানের কাছে জোকারের শীৎকার;
হাইহিল-স্মোকি আই-ক্যামেল টো
শত শত ডিম্পল অব ভেনাস
আর মুখের মুখোশ হাতে রঙিন স্ট্রিপার।
এই সেলুলয়েড শহরে-
একক মেঘ কেটে ঢুকে গ্যাছে ড্রোন,
ক্র্যাচে ঝুঁকে আছে কিয়ের্কেগ
প্যানথীইস্ট-নায়ালিস্ট…নায়ালিস্ট-প্যানথীইস্ট
কেবল… ক্রসকাট! ক্রসকাট! ক্রসকাট!

 

২
নো ম্যানস ল্যান্ড

এইদিকে-
ঝোলে-ঝালে-অম্বলে মিস্ শাহনাজ
বোম্বাই মরিচে কষায় মাংস-সালুন,
চোলাইয়ের গিলাসে ভরে ধুতরা নেশা
শরীরেরগাঁটে বান্ধে লবনের আগুন;
ঐদিকে –
শরীর বন্ধের কবজ চওড়া মাজায়,
প্রেমিকা মাচায় তুলে কাকরোল ফুল
পুরান ডাইলে দেয় আলুনি বাগার
ভাতের চাক্কায় থাকে লড়াবান্দা চুল।
মেনকা-উর্বশীর মত তারা গণিকা তোমার
পাক কিতাবের মত চাও প্রেমিকাও আহা!
মাঝখানে তুমি থাকো বিটকেল ষাঁড়
মাঝরাইতে ভাঙো তুমি সীমানা খোয়াড়।

 

আমি রাত

আমি রাত!
নেমে এসেছি তোমার উপর,
বিগতশোকে, প্রত্যাখ্যাত রমণীর চুলে- জঙ্ঘার তীলে কিংবা কুঞ্চিত বৃন্তেও এতোটা আঁধার ছিলোনা।
আমি রাত!
গ্রাস করেছি শুক্রবিন্দুর মত আলো,
তোমার ঘর্মাক্ত সমুদ্রযান, উদয়ের তটরেখা ;
তোমার প্রেয়সীর ঘুমের কর্পুর
উড়ে যেতে যেতে জেনে গ্যাছে
আমি এলে—
তোমার স্বপ্নের ভিতর নেমে আসে
এক অদ্বয় অলকানন্দা রাত!
আমি না এলে–
বিফল সংঘাতে
ঘটে চলে কবিতার ধ্বজভঙ্গ।

 

চিঠি

প্রিয় রূপা,
এই আমাকে দ্যাখো
হুইস্কির বোতলের মত সবুজ,
আর, এই সেই দুর্বিনীত শেষ বোতাম
যে বোতাম বুলেটের মতো
উড়ে গিয়েছিলো তোমার আঙুল ছুঁয়ে।
আমি জানি রূপা,
গমরঙা হাঁটু ভাঁজ করে
তুমি এখনও বসে আছো–
নীচে নওহর জমা গোলাপ মার্বেল,
মুগ্ধ হয়ে দেখে যাচ্ছো—
পায়রার প্রেম;
আমি জানি, তুমি বিগতপ্রাণের মত নও
প্রেম দেখা হয়ে গেলে
তুমি এক স্নানে ধুয়ে নাও
আলতার শিশি,
স্নান শেষে ভেসে থাকো তোমারই জলে
ঠিক হিজল ফুলের মতো।

৫

ঝড়

তোমার চোখের সীমায় জল-সমুদ্র
শিকড় ছুয়ে… পালকের ভাসান,
আহ্! ডুবে যায়
একে একে ভিজে যায়
নাভি- নিতম্ব-প্রসূন;
খুলে দাও হাতকড়া-
আমি বরং খুঁজে দেখি
কোথায় উঠেছে ঝড়!
মেলানকলিয়া
তুমি সর্বময়- একথা অস্বীকার করিনি,
বস্তুত আমার এ আঙুল-নখ
তোমারই প্রতিনিধিত্ব করে;
তুমি বলেছো, ‘এতোটুকুও ক্ষতি করবোনা তোমার’
অথচ, কতোবার আমি নিজের ক্ষতি চেয়ে-
শুধু তোমাকেই বলেছি… কবে কোথায় ফুটে থাকে
আমার অনাঘ্রাত বিষফুল!
তুমি জানো, আমি নিঃসঙ্গ-
এমনকি সঙ্গমমুহূর্তেও!
তারপরও, আমি সন্তানবতী- এ কথা শুনে
চায়ের কাপে চুমুক দাও
অসাবধানে পুড়িয়ে ফেলো তোমার অনঙ্গ জিভ!
বুক
চারদিকে কোলাহল
মাঝখানে নৈঃশব্দ্যের মতো তোমার বুক;
গলিতে পিঠাউৎসব
লাউড স্পীকার, হল্লা
অথর্ব কিশোর- মাঘমেসে কুকুর-
চলৎশক্তিহীন পিতা
গোঙাচ্ছে তো গোঙাচ্ছেই…
চারপাশে তীব্র নরকবাস
চুলোয় উতরোচ্ছে দুধ
শিশুর জ্বরপ্রলাপ
মা অকথ্য গালাগাল
দিয়ে যাচ্ছে তো দিয়ে যাচ্ছেই…
চারপাশে মরুদ্বীপ
মাঝখানে চিরহরিৎ তোমার বুক
মুঠিবদ্ধ চুল চেপে ধরে আমাকে নিয়ে যাচ্ছো উজানে
পাতার মুখ ফুঁড়ে উঠে আসছে কলি
চারপাশে নৈঃশব্দ্যের মতো শীত
মাঝখানে তোমার কবোষ্ণ বুকে
শ্বাপদের কোলাহল, নিঃশ্বাস
তাড়া করে ফিরছে তো ফিরছেই!

১১

সুমন, তোমাকে…

সুমন, তোমার নীল গ্রহে
অহোরাত্র-
মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে তুমিই ঝুলে আছো,
তোমার বইগুলো কেজি দরে বিক্রি করে দিচ্ছে কেউ
খাটের তলায় খসে যাচ্ছে মলাট, ফসিল আর একজোড়া বেজোড় স্যান্ডেল;
এর আগে তুমিই তোমার লাশ বয়ে নিয়ে যেতে
এ বাড়ি ও বাড়ি,
আজ ওদের পালা
সুমন, তুমি ঝুলে আছো এই পৃথিবীর বিপরীতে
ওরা তোমাকে টেনে নামাবে
খুলে নেবে জামা প্যান্ট
পকেট হাতড়ে বের করে নেবে দুয়েকটা ছায়াপথ,
শরীর শীতল হয়ে গেলে তুলে দেবে চিতাকাষ্ঠে
অথচ, জানবেনা-
তুমি অহোরাত্র ঝুলে আছো এই পৃথিবীর বিপরীতে
আর চিতায় ভস্ম হয়ে যাচ্ছে কেবল কবিতার পাণ্ডুলিপি!

 

জন্মান্তর

অর্ধসহস্র জন্মকুণ্ডলী আর রক্তের ইতিহাস
ইথারে ঝুলে আছে সেই জাতকের বীজ,
কাল্মষ পিণ্ডি-সূতসোম-উন্মাদয়ন্তী
– এ কার নামে জ্বলে আছে সৌরবর্তিকা
বৃষহরণীয়-লতুব-বিতুর-পুষ্কর-
গন্ধবহে অনুস্বর!
স্তনিত মন্দ্রভাষ-
আমি আছি… আমি আছি… আমি নেই!
কোথায়? গুহা বিবরে! পত্রকলসে!
হংস-হস্তী-কাক-কপি-রুরু!
এই অজস্র জন্মভার, বহিঃ আকার
তুমি কার! তুমি কার!
তোমার ভিতর ‘আমি’ আমারে নিও… বোধি,
চক্রের নিদানে ঘোর তমস্ত্রস্নু,
ইথারে ঝুলে থাকা জাতক জনম ফুল
অর্ধসহস্র জন্মের পর… আমার নামে এসো!

 

৮

বিরূপাক্ষী
প্রেয়সী মরে গেলে
শরীর খুঁড়ে ঢুকে পড়ে কদর্য রোদ্দুর-
চেরীফুল ঘেমে নামে চর্বির ক্বাথ,
প্রেয়সী মরে গেলে
সতেরতম দিনে নীল নীল দংশক দাঁত;
প্রেয়সী মরে গেলে
চুম্বিত ঠোঁট বেয়ে নামে
বিগত অপাপ চুম্বনরস
মোমের মতো শরীর পোড়ায়ে
বাসা বাঁধে কীটস্য আগুন,
‘রূপ’ হয় অবান্তর রূপান্তর তার
জেগে ওঠে প্রান্তিক সুরঙ্গ আঁধার;
প্রেয়সী মরে গেলে
মীনপুচ্ছ গলে থাকে চোখে-
কেমন মৃত মরালের শোক!
ভুলে যাওয়া জল, জলের সাঁতার।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close