Home কবিতা পাবলো শাহি >> ‘বৃষ্টিভেজা জামরুল গাছ’ সিরিজের ১০টি কবিতা

পাবলো শাহি >> ‘বৃষ্টিভেজা জামরুল গাছ’ সিরিজের ১০টি কবিতা

প্রকাশঃ April 28, 2018

পাবলো শাহি >> ‘বৃষ্টিভেজা জামরুল গাছ’  সিরিজের ১০টি কবিতা
0
0

পাবলো শাহি >> ‘বৃষ্টিভেজা জামরুল গাছ’  সিরিজের ১০টি কবিতা

 

ছায়াপথ

 

তোমার প্রতিটি ছায়াপথে থাকে একটা বাকরুদ্ধ রংধনু, থাকে জলভ্রম আর আমার কবিতানামক খড়কুটো। তুমি জানো নীল চৌকির উপর বসে থাকা মানে স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা। আজ সারাদিন আধখাওয়া পেয়ারার মতো পড়ে আছি। চন্দ্রভুক। তবু তোমার পা থেকে আপাতত বিস্ময়ের কোলবালিশ আজো মুছে যায় নি। সব মন্বন্তর, সব ভূমিকম্পের মনের রাস্তা, মণিপদ্মে এসে জমে। নীরব অক্ষরে পংক্তিশূন্য পাখি বসে কাঁদে। তুমি এসে সন্ন্যাস যুগের সাথে, মনখারাপের সাথে কি অভিরূপে পড়ে থাকো। আমি জানি নদীতীরে সারাদিন তুমি বসে থাকো ধুতুরা ফুলের মধ্যে। নদীতীরে চামেলী বকুল কাঁদে, ঠিক যেন নুনজলে পড়ে থাকা টেবিলের চারখানি পা। তোমার প্রতিটি রেডিওতে অনেক কিছু বলা হয়ে যায়, অনেক কিছু মানে মনখারাপ। বিষাদবিপন্ন মনখারাপের মধ্যে তুমি ছয়রকম মাতৃগর্ভের ভেতর- আশ্চর্য অন্ধকার হাতড়ে আমাকে গৃহস্থের চাঁদ আর পড়ে থাকা বক্ষহারা একখানা বনবীথি দিয়ে গেলে…।

 

দ্বিতীয় বিকেল

বাড়ি ঘরের নামে মহাব্যোমের ভেতর তুমি আমাকে রেখে যাও। আমাকে রেখে যাও নেংটা নারীদের উপর। তুমি নেই তবু, তোমার কাটা হাত আছে; তুমি নেই তবু তোমার অতৃপ্ত বয়ঃসন্ধির শীতকাল পড়ে আছে। ধরো, গত শতাব্দীর শস্যক্ষেত থেকে তুমি কুড়িয়ে আনো মুখাগ্নি। আমি অবন্তীনগর দেখি, তোমার ধড় মুণ্ডু মরমীউদ্ভিদ দেখি; স্পষ্ট যৌন কাটাতার দেখি। তবু তুমি পড়ে থাকো গঙ্গাফড়িংয়ের যোনিগর্ভের মতো- নির্মোহ, দ্বিতীয় বিকেলে। বাড়ি ঘরের ভেতর আমাকে রেখে তুমি যাও স্মৃতিপুঞ্জ পূর্বকালে। উৎকীর্ণ থাকে মেয়েদের ভূঁইচাপা স্বীকারোক্তি। আর একটার পর একটা টগরগাছের নিঃশব্দ ভোর আমি উল্টেপাল্টে দেখি। একটার পর একটা চাঁদের ছিদ্রপথে ক্রৌঞ্চদ্বীপ নির্মাণ করি। তুমি বাড়ি ঘরের নামে মহাব্যোমের ভেতর অঙ্কুরিত কৌতুহলের মধ্যে আমাকে রেখে যাও। আমি হাঁড়িভর্তি বৃষ্টি নিয়ে বসে থাকি পৌরাণিক পাখিওয়ালার ডিম্বাণু ও শুক্রাণু র মধ্যে…।

 

ছোট সারাদিন

দুটি মেরুপথ দূরত্ব, তোমার কাছে যাবার। তুমি জানো, এত বুকভর্তি চন্দন নিয়ে আমি অপেক্ষা করি কয়েকটা ছোট সারাদিন। আমাদের সংসার, প্রজন্ম- হলুদ বসন্তে মুখ ফেরানো। তুমি একদিন আসবে, সূঁচের পরিবর্তে ষড়রিপুর শিকল খুলে। জলপাই গাছেদের ভেতর কয়েকটা ছোট জগজ্জননী রোপণ করতে করতে। দুটি ঘুমভাঙা রাত্রি দূরত্ব, তোমার কাছে যাবার। তুমি জানো, একগাল রৌদ্র নিয়ে, ভৈরবীর আঠারো হাতে আমি দাঁড়িয়ে থাকি কয়েকটা ছোট সারাদিন। আমাদের মনখারাপ, কুঁড়েঘরের পিছনে গানওলা নৌকা। আবছা অন্ধকারে কৃষিমুকুলিকা বীজ, দুজনের চুম্বনে নগ্ন হয়ে পড়ে আছে। দুটি মহাবিশ্বের মাঝখানে এই একা ধানক্ষেত, ব্যর্থ বীণার তারে বাধা দূরত্ব, তোমাকে কাছে পাবার। চাঁদ ভেতরে পড়ে আছে, চম্পা ভেতরে পড়ে আছে, শতাব্দীর বর্ষা ভেতরে পড়ে আছে, অনবগুণ্ঠন ষড়চক্র ভেতরে পড়ে আছে…। দুটি মেরুপথ দূরত্ব, তোমার চমকিত চন্দ্রদাগ এখনো বহুদূরগামী, এখনো সঙ্গমকাতর শান্ত শস্যক্ষেত…।

 

অনর্থক

যেমন কথা থাকে মানুষের পূর্বজন্মে, আশ্চর্য ও বাস্তবিকতার মাঝখানে। তেম্নি তোমার গর্ভকোষের নদীর ভেতর পড়ে থাকি আমি ভাঙা চাঁদ হাতে নিয়ে। তুমি মানে হাওয়াকল, জীবনের শঙ্খলাগা অর্ধেক পৃথিবী। এই নীল বিশ্বে একসঙ্গে খুলে যাওয়া, শ্রীকৃষ্ণের মূলাধারচক্র। মহাকাল একঝাঁপি ভাঙা আর্তনাদ কাঁধে নিয়ে যায়। মহাকাল এই বাংলায়, কবুতর নিয়ে সারারাত বৃষ্টিতে ভেজে। হিংসা করে মানুষের পূর্বজন্মে, সবুজ তারাপুঞ্জের প্রতি- ভৈরবীর আঠারোটি হাতের প্রতি। মহাকাল হিংসা করে টগরগাছে বসা লাল পিঁপড়েদের প্রতি। এইসব নিয়ে আমরা, অতিপ্রিয় গোধূলির সাথে কথা বলি- ধানক্ষেতে একা একা। তবু জানিনা, কেন সন্ন্যাসিনীর বুকে জ্বলে থাকে ছাইচাপা মনের আগুন। কেন আমার অনর্থক মৃত্যুর পর তোমার পদ্মফুল নিয়ে ছায়াক্লান্ত হবে মহাজগত। একদিন, এইসব কথা শুনে শান্ত প্রবেলিকা মৃত জলঢোঁড়া নিয়ে ছয়রিপুর দেশে ঘুরতে বেরোয়। আর তুমি উইলাগা হাতের বুড়ি আঙুলকে হারমোনিয়াম বানিয়ে নিরোর মতো বাঁশির সুর আনো। অথচ তখনও অলৌকিক এই অতীন্দ্রিয়ের ভেতর নাড়িচক্র কাঁদে, দুখিনী- গন্ধরাজ গাছটির নিচে…।

 

কোনো একদিন

কোনো একদিন, না হয় দুইদিন মাথা নত কাঠবিড়ালির কাছে তোমার বিশ্বরূপ থেমে যায়। আমরা কামড়াই, আঁচড়াই- আমাদের কোনো একদিন ছিল নৌকাভর্তি মতিভ্রম। আমরা দিকশূন্য সন্ধ্যাতারা- আমাদের মুঠোভর্তি পোড়া স্মৃতিপুঞ্জ। কোনো একদিন, না হয় ছয়দিন বীজক্ষেতে লাল বৃষ্টি পড়ে। রক্তের মতো বৃষ্টি পড়ে। আমরা জলভরা কাঁটাঝোপে বসে থাকি। আমরা জটিল বাঁশিওয়ালার সঙ্গে গান গাই। বলি, তুমি এসেছো পাগল জোনাকি- জিভের ভেতর রক্তমাখা বহুদূরাগামী পথ। বলি, তুমি এসেছো ব্রহ্মাণ্ডের ভূতত্ত্ব- নাভিপথে অতিমুগ্ধ জারুলের গাছ। সন্ধ্যাকাল, জলভরা যোনিগর্ভ। আমরা কামড়াই, আঁচড়াই। দুই স্তনের মাঝখানে বসিয়ে রাখি লক্ষীপ্যাঁচা- যেন সে দ্বিধাহীন, বোটাশূন্য চিনাপুতুল। কোনো একদিন, ছয়বার না হয় দশবার মাটি থেকে ধুতুরা ফসিলের গন্ধ পাই। কোনো একদিন, দশবার না হয় ছয়বার আমরা দিগ্বিদিক- পাঁচজন উদভ্রান্ত নৈরাত্মার সাথে কথা বলি। ছয়জন জবাফুল, ছয়জন বীজক্ষেত- একফোঁটা দুইফোঁটা লাল বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে, লীলাচূর্ণ চন্দ্রভাষে জীবনের মাধুরী মোচন করে…।

 

গাছজীবন

তোমার আদিপ্রশ্ন থেকে, একফালি সংসার থেকে, দুইফোঁটা ঢেউজল থেকে, জামপাতার রজঃস্বলা থেকে যে স্তব্ধ ব্যালেরিনা পৃথিবীর পথে পথে সন্ধ্যাসংগীতে; চারিপাশে শূন্যে শূন্যে পড়ে থাকে। আমি তার কথা কাউকে বলিনি। আমি জানি আদি প্রশ্ন নিয়ে তুমি এলে- আকস্মিক ঋতুবতী হয় রক্তিমগোধূলি। আমি জানি তোমার একফালি সংসার সেতো গাছতলা থেকে কুড়ানো ভোরসকালের শিউলিফুলের মালা। আমি জানি তোমার দুইফোঁটা ঢেউজল- বোকা অন্ধকারে চাপ চাপ রক্তের মধ্যে পড়ে থাকে বিকেলের পদ্মপাতা। তবু যজ্ঞডুমুরের রজঃস্বলা হয়। তবু তোমার বুকের আঁচল সরাইলেই আমি অভিশপ্ত বকুল ফুলের গন্ধ পাই। তবু তোমার শান্ত দুই স্তন খুলতেই টুপটাপ বৃষ্টি ঝরে পড়ে। আমি জানি তোমার আদিপ্রশ্ন মানে- হিংস্রভাবে অস্ত্রোপচার হওয়া আমাদের গাছজীবনের ইতিবৃত্ত…।

 

বৃষ্টি

তোমার বুকের ভেতর বিচলিত আঁধার নিযে বহু বৃষ্টি ও বাদলের দিন কেটেছে আমাদের। আজ সেরকম একটা দিন। আমি মানুষ তাই টিফিন কৌটাভর্তি সব পাগলামি জমা রাখি। তোমার বুকে কাঁকড়া থাকে, থাকে হলুদ রংয়ের ফড়িং। আমি একসঙ্গে নুলোভিখারি আর সূর্যডোবা ইস্টিশনে হারিয়ে যাওয়া প্রেমিক। আজ ঘুঘু ডাকা দুপুর থেকে তোমার জন্য কুড়িয়ে আনি দ্বিপদ প্রাণী। তোমার বুকের ভেতরে দর্পচূর্ণ বাঁশপাতা। ভেতরে আছে স্ত্রীলোক- বোবা ধানক্ষেত অপকর্ম। আমি একসঙ্গে সরীসৃপ ও ঈশ্বরের পেঁপেগাছ। তবু বৃষ্টির মতো বাদলবেলায় তোমার মুখ না দেখে থাকতে পারিনা। একদিন মৃত এক পিঁপড়ের অশ্রু ও দার্শনিকতা দেখে আমাদের ভেতরে অতীন্দ্রিয় নিরুদ্দেশ জাগে। তবু তোমার তিন মাসের সংসারে পিঁপরেদের মৃত্যুদিন আজ। তবু তোমার ছয় মাসের সংসারে অভিশপ্ত যজ্ঞডুমুরের নাস্তিবাদের দিন আজ। আমি একসঙ্গে স্ত্রীলোকের দেহেবীজে লুকিয়ে  রাখি অর্ধেক চন্দ্র ও নীলকণ্ঠ পাখিদের পরাগরেণু। তোমার বুকের ভেতর বিচলিত আঁধার নিয়ে আজ বৃষ্টি…। আজ বৃষ্টি তবু, বড় মন খারাপের দিন…।

 

দেহতলা

ক্রৌঞ্চপৃথিবীর বুকে তাঁত বুনে বুনে যে অতীন্দ্রিয় তুমি জেগে থাকো বাল্মীকি যুগে, তার জন্য তোমার স্ত্রীগর্ভের ভেতর লাল জবাফুল আমপাতার ভাষা তৈরি করে। আজ সে অগ্নি ও ছাইয়ের ঋতুস্রাব ভেঙে সান্ধ্য পূরবীর চুমু হয়ে আছে। তুমিও সেখানে থাকো। তুমি নিঃশব্দ, নীরব পড়ে থাকো। তবু রৌদ্র, তবু আলো, তবু জ্যোৎস্না, তবু রাজহংস- তবু আমি বিরহ চেপে তোমার তমসা রচনা করি। তবু আমি তোমার তাজাগাছের ভেতর পুতে রাখি চাঁদের যৌনফুটো। আলোকবর্ষে, তুমি নেংটা হয়ে পড়ে থেকো লোকালয়ে…। আলোকবর্ষে, তুমি লাল পিঁপড়ে হয়ে পড়ে থেকো আঁধাররক্তিমে…। ক্রৌঞ্চপৃথিবী জানে, শবর বালকের বুকে জ্বলে বিরহের তারাপুঞ্জ। থাকে চোখে তমসীত পাপপুণ্যপালক। পৃথিবীর সকল ক্ষুধা ও পিপাসার মাঝখানে শুয়ে থাকে চৌষট্টি কলা। তারা জানে, নুন ভরা নৌকার উপর কারা যেন রেখে গেছে তোমার বুক থেকে খুলে- একশ একটা লাল রঙের দেহতলা…।

 

তুমি

চমকিত নুনচন্দ্রকলা তোমার বীণার পাশে পড়ে আছে ভবযন্ত্রের হাহাকার। তুমি আজ তারাপুঞ্জ, তুমি আজ স্থলপদ্ম, তুমি আজ পৃথিবীর কুলকুণ্ডলিনী জুড়ে বসে থাকা ভস্ম ও আলোকবর্ষ। তুমি আজ অজস্র পথে পথে ছড়ানো দিকচক্রবাল। তোমাকে বহুযুগের ওপার থেকে ইশারায় ডাকি, চুলের বেণী খুলে দেখি যোগিনীর গৃহ- তারপরও অফুরন্ত ছেঁড়া ছেঁড়া আস্বাদগুলি জলে ডুব দেয়। আমি জানি যে নশ্বর বাঁশিওয়ালা পৃথিবীর নাভিতে জবাফুল গুঁজে দেয়- তার পথ গত শতাব্দীর ব্যর্থ প্রেমিকের মতো। আর চমকিত দেবদারুগাছ তোমার ডালেবসা নিরক্ষর প্রজাপ্রতিগুলো আজ শ্যামাশূন্য গোধূলি, আজ মোমবাতির পোড়াগাছ, আজ শবরের পিছু পিছু হাঁটা প্রত্মপ্রবেশিকা। আজ তোমাকে বলবো সেই লালরঙের স্মৃতিপুঞ্জের কথা; আমি তোমাকে বলবো গমবর্ণের শব্দগুঞ্জনমালার কথা, আমি তোমাকে আরো বলবো, যে মুকুলিত শসাক্ষেত তোমাকে দেহ দেয়, যে সন্ধ্যাকাল তোমাকে কিছু বলে না তার হাহাকার নিয়ে…। তুমি আজ পৃথিবীর কুলকুণ্ডলিনী জুড়ে স্ত্রীরঙের ভাঙা গীটার…। তুমি আজ অজস্র পথে পথে ছড়ানো- অতিমুগ্ধ মাধবীর গাছ…।

 

জলমগ্ন

যতবার জলমগ্ন হও তুমি, মঞ্জরিত বনুভূমি নিয়ে ততবার ম্লান পড়ে থাকে চাঁদ। চর্যাপদে সান্ধ্যভাষা ততবার গলে পড়ে। আমরা থাকি তমসিত মহাকালে, অন্ধকারে রহস্যময় অবগুণ্ঠন সংগ্রহ করি। কলাপাতা রঙের পাঞ্জাবি পরে দাঁড়িয়ে থাকে আমাদের ছেলেবেলাকার উদাসীন রূপকথা। যতবার তুমি এই সব কথামালায় জলমগ্ন হও, ততবার হিজল বনে গর্ভবতী চাঁদ ফুটো করে জেগে ওঠে পরাপৃথিবীর মণিপদ্ম। ততবার বিজনবীক্ষণে আমি হাঁটি, আমি হস্তচ্যুত অলৌকিক ঋতুগুলো নিয়ে- তোমার চল্লিশ বছরের দেহ, যোনিগর্ভ নিয়ে উদভ্রান্ত চাঁপা ফুল হই। তুমি কি নেবে জলমগ্ন হয়ে? তুমি কি নেবে- চুমু আর কীর্তিনীয়ায়? তোমার বুকভর্তি জাগরিত যোগিনীরবন। তোমার খাঁচাভর্তি ধানক্ষেতে ম্লান পড়ে থাকে চাঁদ। তোমার ষড়রিপু ধরে গলে পড়ে থাকে চাঁদ। তুমি জলমগ্ন হলে- আমি থাকি শ্যামপোকাদের মতো; তোমার কলাতত্ত্বে, তোমার বীজতত্ত্বে, দিগ্বিদিক…।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close