Home কবিতা প্রত্নপ্রতিম মেহদী >> নতুন কবিতাগুচ্ছ / পাঠ-প্রতিক্রিয়া >> মাসুদুজ্জামান
0

প্রত্নপ্রতিম মেহদী >> নতুন কবিতাগুচ্ছ / পাঠ-প্রতিক্রিয়া >> মাসুদুজ্জামান

প্রকাশঃ October 29, 2017

প্রত্নপ্রতিম মেহদী >> নতুন কবিতাগুচ্ছ / পাঠ-প্রতিক্রিয়া >> মাসুদুজ্জামান
0
0

প্রত্নপ্রতিম মেহদী >> নতুন কবিতাগুচ্ছ / পাঠ-প্রতিক্রিয়া >> মাসুদুজ্জামান
অতর্কিত আলেখ্য
ধুলির ধূসরতার আস্ফালনে তাল মিলিয়ে
তুমিও নেচে ওঠো ধূলার শহর!
তোমার চোখে ঘুম নেমে এলে পরে
আমিও উল্লাসে ফেটে পড়বো তোমার শরীরে
উন্মাদ-অ্যাবসার্ড সড়কের হিম-জরায়ুতে
সাইকেডেলিক নৃত্যের পর
তৃষ্ণায় লুটিয়ে পড়বে টহলপুলিশের টর্চ।
আজ আমার অবচেতনের ক্যানভাস জুড়ে
থাকবে তোমার প্রথম রতির খুন!

নিমরাজি আদালত
এইসব হিম রজনীতে ঘুমিয়ে থেকেছে যারা
তারা সকলেই নিমরাজি আদালত।
রাতের যৌবন যত গাঢ় হয়, শহরের মনস্তত্ত্ব
ততোই হয়ে ওঠে অজানা ভূগোলের ন্যায়।
আমরা শূন্যতার অমরত্ব সম্পর্কে ধারণা লভেছি রাতেই,
এমনকি খোদ শহিদবেদিতেই ভূমিষ্ঠ হতে দেখেছি
অপরাধের অনিন্দ্য সন্তান!

অবসর
অলীক লেখনীর নিব থেকে বেরিয়ে এসেছে
একটা হলুদ পূর্বজন্মের স্মৃতি।
– সেও কি পরিচিতার ঝরনাস্নানের কল্পনা থেকে কিছুটা মুক্ত?
এতটুকু চিন্তনের সুযোগ মিলেছে এই নির্জনতায়-
চতুর্দিক এমনি বসতিবিহীন দেখে
খৈ-ভাজাতে ঢেকে গেল হৃদয়-পুষ্করিণী!
তবু মনোযোগ বাধাগ্রস্ত হলে নিসর্গের অপ্রস্তুত আলিঙ্গনকে
দায়ী করা যেতে পারে কিছুটা।
যেহেতু অলীক লেখনীর চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল
ওই ঝরনাস্নানের ভাষা এবং বুদ্ধিদীপ্ত তাবৎ সমীরণ।

ঘটনাপ্রাচীর ভেঙে চলেছ কোথাও
(বন্ধু সায়েম রুম্মানকে)
মনে ও মননে নিয়ে সহস্রাব্দের ক্ষত
চুরুটের জাত তুলে করে চলে খিস্তি।
হাড়ের গভীরে হিম প্রণয় হয়েছে গলে,
গসপেল গায়ে মেখে চলে গেল চিশতী!

খামবন্দি সুদূরতা
রজার ওয়াটাস, ময়ূর বাজছে কোথাও?
ধরাতল ঝনঝন করে- তেড়ে আসে সশস্ত্র সিনান্থ্রপাস।
এখানে কোথাও কোথাও মেসোপটেমিয়ান মিথ আর
মোহেনজোদারোর প্রিয়তম রাত মিশে গোপনে মিরাকল বানায়।

পৃথিবী প্রাচীন এজেন্ডা- প্রত্যহ উর্দিপরা ভোর-
এভাবেই প্রতিদিন বোমারু পাখির উড্ডয়নকলা আামকে ডোবায়।
কী এমন শ্বাপদজীবন- পেছনে বহুমুখী ভয় অমিত প্রযুজ্যমান?
ভূমিহীন সুরের প্রবাহ হাওয়ায় হাওয়ায় এমন ভাবিত হয়।

“ছাই হবো ছাই” বলে নড়েচড়ে বসো হাওয়াই টিশার্ট,
দ্যাখো, দিগন্তে মিলায় ধীরে পৃথিবীর সমস্ত দোতলা- সৃজনসন্ধ্যাবাতি।

মাসুদুজ্জামান > পাঠ-প্রতিক্রিয়া
চমকে উঠেছি ওর কবিতা পড়ে। আগে সেইভাবে পড়িনি, কিন্তু এই কবিতাগুলি পড়ে মনে হয়েছে বেশ পরিণত কবিতা। সমকালীন বাংলা কবিতাপাঠের অভিজ্ঞতা ওর আছে। সেইসঙ্গে নিজের বলা কথাকে নিজের মতো করেই প্রকাশ করতে পারে। ভাবচিত্রের বিন্যাস এতটাই সুষম আর লক্ষভেদী যে পাঠকের অনুভব, স্মৃতি, ভবিষ্যত সবকিছুকে উস্কে দেয়। ভাবায়। খুব বেশি বয়স হয়নি প্রত্নর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ে। কবিতাও যে বেশিদিন লিখছে তাও মনে হয় না, যদিও দ্বিতীয় দশকের কবিতার একটা সংকলনে ওর কবিতা সংকলিত হয়েছে। প্রত্নর বলা কথার ভঙ্গিটাই অভিনব। এলিয়টই বোধ হয় বলেছিলেন এরকম একটা কথা, সেটাই নতুন কবিতা যে-কবিতার ভাষা অভিনব, অভূতপূর্ব। প্রত্নর কবিতা পড়ে মনে হয়েছে এই সময়ের ভাষাকেই সে শুধু আয়ত্ত করেনি, সেই ভাষাভঙ্গিটা নিজের মতো করে নিতে পারছে। নিজের হয়ে উঠছে। এখানে সংকলিত কবিতাগুলি পড়লেই পাঠক বুঝতে পারবেন, কতটা আলাদা কিন্তু উল্লেখযোগ্য তার কবিতা। আমি প্রত্নর সম্ভাবনা ও শক্তি দেখে সত্যি আনন্দিত। ও যদি কবিতা লিখে যায়, তাহলে আগামী দিনের কবিতাপাঠকেরা ওর কবিতাচর্চার ধারাটা লক্ষ না করে পারবেন না। উপেক্ষা তো করা যাবেই না। শুভকামনা প্রত্নর জন্য।
প্রত্নপ্রতিম মেহদী >> জন্ম ১৪০৪ সনের ১ বৈশাখে, ময়মনসিংহ শহরে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close