Home কবিতা প্রথম দশকের কবিতাগুচ্ছ [দুই] > মেঘ অদিতি / তারিক টুকু / সজল সমুদ্র

প্রথম দশকের কবিতাগুচ্ছ [দুই] > মেঘ অদিতি / তারিক টুকু / সজল সমুদ্র

প্রকাশঃ March 21, 2017

প্রথম দশকের কবিতাগুচ্ছ [দুই] > মেঘ অদিতি / তারিক টুকু / সজল সমুদ্র
0
0

মে ঘ অ দি তি / কবিতাগুচ্ছ

পাখি সিম্ফনি ও ক্যালাইডস্কোপ

আর কিছু না-

তোমার চোখেও আছে সম্পূর্ণ দুপুর

এপ্রিল নামের সন্ধ্যা

 

অথচ ঈশ্বর জানেন

আকাশ থেকে বিরহ নামলে

কোন অন্ধতায় আমি এখনো

খুঁজে বেড়াই চাবি

 

মৃদু হাসি আড়াল করে রেখে গেলে আলো

বসন্ত এলে তোমার জানার বাইরে রইল

ফুল বিক্রেতার চোখ

 

বন্ধ দরজার ভেতর ভেতর ছড়ালো আলোর ফাঁদ

আমাকে দিলে তুমি বাহারি ক্যালাইডোস্কোপ

শিখেছো তুমিও কম ছল!

 

এবার আমাকে গিলে নিক রঙিন কাচ

মধ্যরাতের বসন্ত উৎসব।

 

কাঠপেন্সিলের গায়ে রেণু রেণু সকাল

পাখি নামে- এসব সকালের ইজেলে

একটু ডানা কাঁপা, একটু ঝাপটে ওঠা

আর ধোঁয়া থেকে ঝিকিয়ে ওঠা কফি

 

দেয়ালে রোদ মেখে তুমি হেসে ফেললে

দূরভাষে ভেসে আসে মন্টোভানির অর্কেস্ট্রা-

সাম ডে উই উই’ল মিট আগেইন…

 

তোমার মুখে পুরো ধুলোর আস্তর; ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট

বেজে চলেছে অর্কেস্ট্রা… সাম ডে উই উইল…

 

 

কে যেন ভেতর থেকে ডাকে

বাইরে গরাদহীন জানলা

আমি আছি, এইটুকু জেনে শূন্যে ভেসে থাকে ‘না’

 

যতিচিহ্নে গভীরতা, তোমাকে চিনেছে স্তব্ধতা

আমি জানি গ্রহন, বর্জন আর নিরাসক্তি, ক্ষমা…

সব আজ যোগীর ধ্যানের মতো

স্বরূপের বহু আগে

রোপিত হয়েছিল তোমার দু’চোখ

 

কে তবু বাইরে থেকে ডাকে!

যতদূর দেখা যায়- দিগন্তরেখায়

ঘুমের চিঠিরা যায় উড়ে…

 

কখনো ইচ্ছে করে চুম্বনের আগুন জ্বেলে পাখি উড়িয়ে দিই পৃথিবীর আনাচকানাচ।  অবিরাম ধর্ষণের গায়ে এই যে কয়েদ হয়ে আছি; অথচ সেফ জোনে আছি ভেবে তুমি-আমি বোকার মতো সঙ্গম করে চলেছি, এই কি জীবন?

এ্যাসাইলামে পাগলা ঘন্টি বাজছে। যে ভাষায় তোমাকে গুছিয়ে রাখতে যাচ্ছি, সেখানেই মৃতদেহ, আগুনে ড্রাগন। আমি কি আছি? লালের মাঝে, ডুবতে বসেছি। উঁহু ,শুধু রঙ ভেবো না। অত সারল্য নিয়ে পৃথিবী চলে না। দেখো আমাদের প্রতিটি অঙ্গ থেকে কীভাবে ঝরে পড়ছে লাল।

আর ওই এক ক্যালাইডোস্কোপ আমার হাতে ধরিয়ে তুমি ইঙ্গিত রেখেছো জানলায়।

জানলা খুললে কী দেখতে পাব? হাড়গোড়, টুকরো কাচ, বিপন্নতা? আমাদের অর্কেস্ট্রায় কখনো বাজবে না জয়গান, সরলতম মিলনের সুর? ফুলগুলো এখনো তো ফোটে!

বরং স্থির হই, তোমার নাম নিই গভীর প্রশান্তিতে। বন্ধ দরজা যত খুলে দিই। হৃৎপিণ্ডের লাবডুবে এবার তো পরাগায়ন হোক। শূন্যস্থান জুড়ে দিক পাখিদের ডানা।

অপহৃত সময়, আকাশের বিউগলে জেগে বলো, আছি…

(সিরিজ : পাখি সিম্ফনি ও ক্যালাইডোস্কোপ)

 

প্রেম

একবার জ্বর লিখি। একবার ঘুম।

বাঁশি বাজে। সম্বোধনের ঘরমুখো  বিকেল খুঁজি। টুকটাক অসুখ খুঁজি। বিষম রাতের দরজা টেনে খুলে দিই তীর্যক যত ভাঁজ। চাঁদ আসে। চাঁদ ডাকে। বাঁশিতে জমে আড়াল, ঔদ্ধত্য বড়  ডাকে।

এই জীবন রে সাঁই যদি দিলা…

স্পর্শে কেন দূরে রাখলা তারে…

 

পুতুল 

ঘোরের ভেতর ঝরছে সবুজ নির্যাস। ক্লোরোফিল। বুড়িগঙ্গা সরু অথবা স্ফীত এসব ইঙ্গিত আসলে ভেঁপু বাজাবার সতর্কতা। তারপর তুমিও সেই বাইফোকাল। ফ্যাকাসে আলোর অপেরা।

সাঁতারু মাছদের বলি দ্যাখো-

আমার চোখের তারায়

কেমন উত্তরের হাওয়া

শ্বাসযন্ত্র খুলে ফেলে সুনিপুণ হেসে ওঠে মোমের পুতুল…

 

পুরুষ

আমি কি জানি বোধের আয়না বলে কাকে!

জীবন সামান্য ভেবে সরে আসি গেরস্থালীর কাছে

ভেতর ভেতর গাছ পুড়ে যায়

 

মুখগুলো পরপর

তুলে রাখে তুলির বিষণ্ণতা

বৃষ্টিতে সাঁতরে চলে একা গোল্ডফিশ

দূর থেকে হাসি বিনিময়ে দূরত্ব বাড়ায় শঙ্খচিল

 

হাওয়াদের চিরকুট পাঠাই

বলি, আমাকে উপহার দাও উড়োযান

পৃথিবীকে সাথে নিয়ে একবার

যেতে চাই প্রকৃত পুরুষের কাছে

 

পাখি এল ঘরে

যদি বলি

ঠিক তোমাকে নয়, আসলে একটা বাঁশি

হ্যাঁ বাঁশিই আচ্ছন্ন করেছিল ভাসান

তুমি কি শিখে নেবে পর্ণমোচী গাছেদের গান?

 

গুজবে ভরে যাচ্ছে আকাশ

দীর্ঘ অসম্মতির দিনে পাখি এল ঘরে

আমি হাতের পিঠে লুকিয়ে রাখছি দিন

আমার আকাশ যাচ্ছে ভেঙে…

 

ঘুমের দিনে কে ভাসাচ্ছে ডিঙা…

উঁহু! জানি না…

 

হাসপাতাল

আলো নেভে। নেভে কি?

জানলার দূরত্বে বাড়ে ছায়া

সিরিঞ্জে বিন্দু বিন্দু জীবন

কীভাবে টপকে যাবো ওই পথ

যে জ্বর ফিরিয়ে দিচ্ছে ভালবাসা

তাকে আমি সারিয়ে তুলতে চাই

 

ক্রমশ ঘোরের মধ্যে তুমি নাম ধরে ডাকো

মৃত নগরীতে হাওয়া বয়ে যায়

যেন শীতকাল

যেন একই স্বপ্নের ভেতর

ঘটে যায় আমাদের সঙ্গম

 

হয়ত এভাবেই আমাদের ভেতর আমরা

বুনে দিচ্ছি আগামী শীতের পুলওভার

 

তা রি ক টু কু / কবিতাগুচ্ছ

 

লাইটহাউস

 

নীল ময়ূরটিই এখানকার লাইটহাউস।

নৌপথে লক্ষ রাখা শৈলচোখ-

যাকে এড়িয়ে দুর্গের দ্বারে এসে পৌঁছলাম

দেখি তারও জ্বলজ্বলে চোখ আছে, দমকা নিঃশ্বাস আছে।

আয়ু আছে। আয়ুর ভেতরে দপদপ করছে সূর্যমুখী ফুল।

 

কেননা, প্রেমের চেয়ে প্রেমের গানের নাকি অধিক সুন্দর।

 

কুঁজ

দিকচক্রবাল ছিল উটচালকের প্রয়োজন-

আর বিশ্বাস করো, কারও নয়।

সমুদ্রে মীমাংসার মতো কখনো কি দেখো উপকূল

অথবা শরীরের সীমা-পরিসীমা!

 

কেননা, সে ভাষাহীন

গম্বুজ, জলের ভেতর থেকে ফুলে ওঠা সহস্র গম্বুজ।

 

ব্যাধ

কত কিছুই না হারিয়ে ফেলি। এই ধর সবুজ বল্লম, বাইনাকুলার আর শ্বেতাগ্নি

টর্চ। রাতে তাই বেরুতে পারি না। যদি কেউ চেপে ধরে, মরীচিকা ডাকে!

 

কেউ বলে- ঐ তো তোমার বল্লম, রাত্রিভর হরিণের পিছু পিছু উড়েছে।

শুনি- ঐ টর্চই তো প্রভাস্বও, কুয়াশায় জেগে উঠে পৃথিবী দেখায়।

 

কিন্তু এসব জেনে আমি কী করবো। এরা কি কখনো পশু শিকারের কাজে

লাগতে পারে। এরা কি বসন্তে হারিয়ে যেতে শিখেছে, হিম থেকে জন্ম নিতে

কিংবা রাত্রি হলে স্মৃতিবিস্মৃতির চক্রে পশুরক্ত কীভাবে একেকটি গাছে

জবাফুল হয়ে জমে ওঠে- পেরেছে কি সেই কথা বুঝে উঠতে!

 

স্মৃতি

যাদের বুঝিনি কখনও, তারা শুধু স্বপ্নে আসে রোজ। যেমন কৈশোরের বন্ধুটির

চশমা, নুরু মাস্তান, পাড়ার কালো বিড়ালটি আর দূও থেকে দেখা জবার

রক্তিমাভা।

 

সেই উদগ্রতায় আমি অতলান্ত লালরঙের মধ্যে বাস করি। অথচ আমার জন্ম

ক্ষুরের অস্পষ্ট গমক থেকে, ছিলাম আযৌবন ডুমুরে সুপ্ত আর এখন দেখ,

বাস্তববোধ জানি না বলে স্বপ্নে আসে এমন মরুর দেশ, যার বুকে খাড়া হয়ে

আছে কোনও করতল।

 

সেই করতল-ছায়া থেকে, অভিশাপ থেকে ঊরুখণ্ড, কারাগার, খাতার মূর্ছিত

পৃষ্ঠা, অনিদ্রিত চোখ, বিহ্বল খরগোশ শুধু কাঠবাস্তবের দিকে বারবার ফিরে

যেতে চায়।

 

মারীবীজ

বৃশ্চিকের গানে আমার বাহুমূলে

শেকড় বৃক্ষের; গরম নাভি ফুঁড়ে

প্রত্নপ্রতিমারা ছিটকে বের হয়;

বাগানে নিচু স্বরে, মন্দ্র ভৈরবে

গাইছে গান আর তামাটে ছাই-বুকে

কামিন মেঘমালা নৃত্যে পরবশ।

 

নৃত্যে জেগে ওঠে সবুজ সাপলতা

যেনবা শিকারের যেনবা শিকারির

প্রশ্নবোধসহ সাপের ছায়াটির

ফণার উত্থানে জিরাফ জন্মেছে।

 

পুনর্মন্মানো এ হাড় ভারবহ।

সাপেরা ব্যাক্সময়, উড়ছে লুডু-ঘর

আলোকলতা ঘিরে দুলছে সাপিনীরা

ফুঁসছে দাঁত-ওঠা তাদের সংশয়।

 

আতাফল

মিছে কেন নিরুত্তর থাকো?- হেসে বলি আতাফলটিকে, রোজ রোজ তোমার

কুসুমঘ্রাণে আমাকে পোহাতে হয় কত যে মাংসের ভাপ, দূর থেকে চোরের মুখোশে

আমাকেও যেতে হয় ঐ ফলের বাগানে। যদিও তোমার বিহনে সেখানে আনাগোনা

করে বাস্তুসাপ- যে মূলত এতদিন এই রতি, মর্ষকাম পাহারায় রেখেছিলো।

পাহারায় ছিল আরও নগ্ন পুতুলের জনপদ। সেই দেশ থেকে সব কাম উৎসারিত

হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে শুধু সড়কে, ঝর্ণায়। তাই তো ভুলে যেতে চাওয়া পথে উঠে

আসে বিছানায় বিস্রস্ত রোহিণীর ছায়া। ছায়া না-কি কোমল অঙ্গার-বাতাসের এই

প্রশ্নে আজ খুলে যায় নষ্টপ্রায় পৃথিবীর যত তালা

 

আর মৃত্যু পর্যন্ত আমরা খুলে যেতে চাই মানুষের সমস্ত আভরণ। ভুল হয় না-কি?

না-কি ঠিকই হয়, তাকে শুধু আরেকটু বিস্তৃত করে খুলে নেয়া যেতো ঐ গূঢ়

আতাফল। পশু ও পুরুষ থেকে, নারীর ভেতর থেকে আতাফল খুলে খুলে জেনে

নেয়া যেতো- ঘ্রাণই মূলত ভ্রান্তিময়, যার প্ররোচনায় যেভাবে মাঝে মাঝে নষ্ট তালা

খুলে যায় যে কোনও চাবিতে

 

স জ ল  স মু দ্র / কবিতাগুচ্ছ

 

যাত্রী

বাগানের অভিপ্রায়ে এসেছি ধাতব ফুলের দেশে;

 

এতটা বন্ধুর, বিসর্পিল ছিল পথ- এতসব বাঁক ও ব্যঞ্জনা

তবু কোনো সাপের কৌশল রপ্ত হলো না;

 

সেইসব বার্তা আরো দূরে, ছুটে গেছে গভীর দূরত্বের দিকে-

যারা ছিলো সুবাসিত, উপমান, ঘ্রাণ, করুণায়…

 

নিয়তি

হাতছানি ছিল পাহাড়ের; সবুজের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পড়ার

 

চোখের সামনে কতজন আজ তাই অচিন কাঠের গাছ!

ভেবেছি শিমুল যাকে- সে হয়েছে তুলাবিশারদ,

তারই নামে পরিচিত গ্রামে, আমাদের চলে যাবে দিন

 

ভেসে উঠছে সেইসব নীল জলাভূমি, যাকে বলেছিলে মৃত,

অমীমাংসিত আর লীন

 

হস্তরেখা

এত প্রান্ত বদল করি, এত ভঙ্গি ভাঙি রাতজুড়ে-

তবু হয় না নদীর মত শুয়ে-পড়া!

যে দরজা বন্ধ রাখি সে শুধু খুলে যেতে চায়।

প্রাচীন গল্পের বেগে হাওয়া হয়তো বয়ে যায়,

ধূলিবালি ওড়ে কিছু; সরে যায় দৃষ্টিপাত, প্রখর একাগ্রতা;

 

হাতজুড়ে একটি মাত্র রেখা, সে ছুটছে তোমার দিকে;

চিরদিন মূর্খ ও বোবা…

 

জীবনী

সম্পূর্ণ সরিষার ক্ষেতে একা যে বাদামগাছ, তারই কথা ভাবি।

তোমাদের কোনো গ্রন্থেই যার জীবনী কোনদিন স্থান পাবে না।

বনভোজনের নামে যত ছবি, উন্মাদনা- তার সব সরিষাফুলের।

তোমাদের আফসোস, তোমাদের স্মৃতি-বিস্মৃতি জুড়ে তার কোনো চিহ্ন থাকবে না।

তবু উপলক্ষ্যহীন, শুশ্রুষাহীন সে দাঁড়িয়ে থাকলো, নির্ভার।

অপমৃত্যু যতদিন না-খোলে তার দ্বার…

 

অনর্থ সমস্ত গল্পের একদিন জীবনী বেরুবে…

 

অপরাপর

ঐদিকে পড়ে আছে লোকালয়-খেকো বন; তারা রপ্ত করেছে অতিবিবাহিতদের খুনসুটি;

সবুজ পত্রালির ফাঁকে আর কোনো নৈঃশব্দ্য দেখি না।

 

এখানে শেষরাত্রির সাথে আবছায়া নিয়ে অনর্গল কথা বলা যায়;

প্ল্যানোটোরিয়াম ঘুরে এসে মনে হয়- শীত এক পরিম্লান ঋতু,

যার অনড় কুয়াশা আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে অনির্দিষ্টকাল;

আর নির্দ্বিধায় জড়িয়ে ধরতে পারছি না, পরস্পর…

 

কালো পিঁপড়েদের মতো এখানেও, ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ছে অপরাপর…

 

সংকেত

সাবান ফুরিয়ে গেলে স্নানে অতি আগ্রহ জন্মায়। বহু বিশ্রী গন্ধ উড়ে আসে;

চুলের ওজন বাড়ে। স্বপ্নেআমারই গানের গলা খেয়ে নেয় হাঙরেরা।

শতাব্দীর সমান প্রাচীন মনে হয় এ শরীর। মনে হয়জগতের সবচেয়ে নাজুক,

এক অনাবিষ্কৃত গুহা এ জীবন।

 

চিত্রকর যেমন, তেমনই দূর থেকে অসংখ্য তারার রেখা টানা দেখি।

যারা এদিকেই ছুড়ে মারছে অজস্র গূঢ় সংকেত…

 

গুঞ্জরণ

দেখেছি জলের সমান, ঢেউ হও, ধাক্কা দাও, বয়ে যাও দূর মাইল-মাইল;

তা-ই ভেবে আসা এতদূর। যে তীর ছত্রভঙ্গ- তার গুঞ্জরণ থেকে উঠে আসে

বাতিল মাস্তুল কিছু, আর বালিয়াড়ি; যাদের নিশ্চিহ্ন ভেবেছো…

 

বিউগল হাতে যাকে মৃত ভেবে যাও,

লোকে তারই ডাকে আজও যুদ্ধে যায়, জাহাজ ভাসায়।

 

গরিমা

বর্ম নাই, মন্ত্র নাই- একটা জীবন গেল গোখরা সাপের পিছে ছুটে।

নানান ফুলের ছদ্মবেশে, বহু বৃক্ষের আগ্রহে দাঁড়িয়ে পড়ার

কত যে ইশারা ছিল, উৎসাহ ছিল!

বুঝি নি আধপোড়া মোম গন্ধই ছড়ায় বেশি আলো ও উজ্জ্বলতার চেয়ে;

দুপুরের বৃষ্টি রাতের মত অতটা উপভোগ্য নয়, স্মৃতিকাতর নয়…

 

মাছরাঙা হলে নিশ্চিত এতদিনে ভেঙে যেত ঠোঁটের গরিমা…

 

 

স্বপ্নে

দু’ছত্র লেখার পরে ট্রেন এসে হুইসেল বাজায়;

 

আমার কাটা পড়বার দৃশ্য, ছিটকে পড়া হাতের আঙুল, যা তুমি কুড়িয়ে নিয়েছো-

অথবা নাও নি যা কিছু; ভেস্তে যাওয়া সেইসব কথার কারিকা, হাড়, কররেখা-

খণ্ড খণ্ড মনে পড়ে যায়…

 

রেললাইন এত দূরে- তবু, স্বপ্নের ভেতরে আর লিখতে পারি না।

 

আকাশী রঙের বৃষ্টি

ডানা ও চাবি হারানোর বাইরে যেসব গল্প জানি, তার কিছু ভাঙা বোতামের।

শতাব্দীর শেষ ডিসেম্বরে যাদের কুড়িয়ে পেয়েছি, ধুরন্ধর শীতে।

একটি টিকেটের কথা এখনও গোপন, যা ছিল মিস করা ট্রেনের।

ভস্ম কিছু চিঠির সারাংশ, হারানো দিনের গানে স্যানিটোরিয়ামের স্তব্ধতা,

সাপের আত্মহত্যা ও অনর্গল বৃষ্টির ভয়- তারা সব অনুচ্চারিত থাক;

কিছু শার্ট আস্তিন গুটিয়ে রাখলে আরো উজ্জ্বল, মনোহর দেখায়…

 

এত ছোট ডায়েরির ভেতর- আকাশী রঙের বৃষ্টি, শীত-গ্রীষ্ম কিছুতে ধরে না…

 

ল্যামপোস্ট

পৃথিবীকে, তোমার দিকে হেলে পড়া আশ্চর্য কোনো ল্যামপোস্ট মনে হয়।

এই এখন যেমন; ভোর-ভোর, তোমাকে ডেকে তুলছে কানাডার সকাল!

আর, মাথাভর্তি মুখরতা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছি, এদিকে।

 

শান্ত, চুপচাপ একটা লাটিম শুধু দুটো বালিশের মাঝখানে ঘুরছে…

 

 

শীত

এসেছে অনাস্থার শীত, নিজের ছায়াকেও আজ গোপনে কুয়াশার মনে হয়;

ছদ্মবেশী তারাদল লুকিয়ে পড়েছে; তোমার শরীর জুড়ে ফুটে উঠছে সপ্তর্ষি-ম-ল।

তাকালে হাওয়া এত দমকা লাগে, অবিশ্বস্ত মনে হয়- এই শার্ট, শার্টের আস্তিন।

 

ঐদিকে, আকাশে রূপার গল্পে উড়ে যায় কাঁসার শালিক…

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close