Home কবিতা প্রথম দশকের কবিতাগুচ্ছ [১] / এমরান কবির, ফেরদৌস মাহমুদ ও মাজুল হাসানের গুচ্ছকবিতা
0

প্রথম দশকের কবিতাগুচ্ছ [১] / এমরান কবির, ফেরদৌস মাহমুদ ও মাজুল হাসানের গুচ্ছকবিতা

প্রকাশঃ January 12, 2017

প্রথম দশকের কবিতাগুচ্ছ [১]  / এমরান কবির, ফেরদৌস মাহমুদ ও মাজুল হাসানের গুচ্ছকবিতা
0
0

প্রথম দশকের কবিতাগুচ্ছ-১

এমরান কবির, ফেরদৌস মাহমুদ ও মাজুল হাসানের গুচ্ছকবিতা

[সম্পাদকীয় নোট : একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের বাংলা কবিতা শুরু হয়েছিল প্রথম দশকের কবিদের আবির্ভাব দিয়ে। এখন দেড় দশকের দূর মেরুতে দাঁড়িয়ে কিছুটা আঁচ করা যায়, কেমন কবিতা লিখেছিলেন তারা এবং এখনও কতটা সক্রিয় আছেন এই দশকের কবিরা। কেমন লিখছেন তারও হদিস আমরা পাচ্ছি তাদের কবিতাচর্চার সমকালীনতার সুবাদে। পাঠকরাই পড়ুন আর বিবেচনা করে দেখুন কেমন কবিতা লিখেছেন তারা। মনে রাখা প্রয়োজন, তাদের কেউ কেউ এখনও লিখছেন, কেউ কেউ ঝরেও গেছেন। যারা সক্রিয় তাদের নিয়েই সাজানো হয়েছে প্রথম দশকের কবিতাগুচ্ছ। পড়ুন এই সিরিজের প্রথম কবিগুচ্ছের তিনজন – এমরান কবির, ফেরদৌস মাহমুদ ও মাজুল হাসানের কবিতা।]

 এমরান কবির-এর গুচ্ছ কবিতা

 বনমানুষের মেঘ 

এক

পালকের ডাকঘরে লেগে আছে যেন সন্ধ্যাসব, আবছা শিমুল গোধূলি

দুপুরের ডাকে তারা  পেয়ে যায় আমন্ত্রণ, জীবন মাদুলি। পেয়ে যায় উপদেশ, সকল বিদ্যা থেকে মাতাল হওয়া ভালো। তাতে, বাঁশি কেঁপে ওঠে, কেঁপে ওঠে জগত সাইরেন। এ স্বর্ণ সংসারে থরো থরো সেজে যায় অন্ধযজ্ঞের ভূগোল

লাজুক চিত্রকলায় লেখা থাকে সন্ধ্যার সনেট। নিবিড়তম আবির মাখা সেইসব পাঠশালা, সেখানে জ্ঞান নয়, গুমের অভিজ্ঞান, চলে রক্তপাঠ। এত লাল! থরো থরো ঘাসে মেখে দাও পাখির পদচ্ছাপ। আবির ভাঙার আগেই লিখিত হবে গোধূলির পাপ

দুই

পালকের ডাকঘরে লেগে আছে যেন সন্ধ্যাসব,  কতিপয় শরীর

ঘুম থেকে উঠে, উঠে যায় কে গো সখি বিপরীতে? রোদের মায়ামুখে লেগে থাকে কার হিম হিম ছায়া? বেদনার শূন্যে নিভে গেল যে সরাইখানার নীল আলো, তার বসন্ত বেলায় সবুজ প্রচ্ছদে গেঁথে দিল কে আকাশজ্বলা চোখ?

এ শহর এ নহর এই খড়কুটো, আর বিদগ্ধ পারদ, এ শহরের মগ্ন অতিথি- পাঠ করো পানশাসিত কোলাহল। দেখো, আড়ালে আড়ালে গেঁথে যায় কত-না বেদনা নিবিড়, পালকের ডাকঘরে লেগে থাকে তবু যেন কতিপয় শরীর

তিন

পালকের ডাকঘরে লেগে থাকে যেন সন্ধ্যাসব, সকল প্রথিত আলো

 

ব্যাকুল বিরহ তবু বহুকাল ভালো। ছায়া কেঁপে কেঁপে চলে যায় সকল নকল তাপে, একটি কিশোরী তবু হাত দিয়ে ডালিমের ভূগোল মাপে।  বিকল ধুলোর সংশয়ে উড়ে উড়ে যায় পথের মনস্তাপ কিছু, সাদা সাদা অন্ধকারে, কুয়াশার ছায়া ঘিরে

বিবর্তিত দেহ থেকে, দেখো, ঝড়ে পড়ে মসৃণ গৌরব। তবে কি আঁধার? তুমি বলো ভুল চোখে। উড়ন্ত বাতাসে বাদ্য গুনে দেখো- বিষণ্ণ স্মৃতিগুলো কত-না বেসামাল

 

তবে কি দগ্ধ হবো? মোহন হবো? হবো প্রথিত আলো তোর?

ভুল পথে ফোটন যাবে? তুই বলবি এটাই তো আমার অন্ধকারের ভোর?

 

চার

সন্ধ্যার আঁধারে সন্ধ্যাসবের তুলিকা নিয়ে,  আঁকতে বসি

 

আঁকতে বসি, সবুজ উৎসবে। বিমূর্ত পল্লব মাঝে; হেসে ওঠে কে তবে? তবে কি সম্ভ্রম? গেঁথে দিলো হাইফেন কাণ্ডে ও পাতায়। শিমুল সংবহনে গোধূলি চলে যায় সন্ধ্যার খাতায়। কাকে  বাঁচাতে আমি গেঁথে দেই হাইফেন।

 

হাইফেন! আটকে রাখে সকল পল্লব, আটকে রাখে সকল সন্ধ্যাসবের বিরল চোখ, সকল বৃক্ষযোগ।

 

এই না-পালকে তখন গোপন সুর, চন্দ্রচ্যুত আকাশের মতো পলাতক আদর। বেজে যায় সেইসব সঙ্গীতের মসৃণ বেদনা। তবু কেন যেন বেজে ওঠে সুর। তবু কেন যেন নেচে ওঠে পল্লব। তবু কেন যেন গেয়ে ওঠে হাইফেন!

 

এই না গতরে তখন বেজে ওঠে আরেক গোপন সুর

আঁকতে বসি সন্ধ্যার আঁধারে, নিয়ে যায় সুর্যাস্ত সুদূর

 

পাঁচ

পালকের ডাকঘরে লেগে আছে যেন সন্ধ্যাসব, কতিপয় লিপি

সে-কি কালের সফরে নেচে ওঠে? নেচে ওঠে মৃত্তিকালগ্ন? নেচে ওঠে উত্তরাধিকার? আমার গতরে গতরে সহস্র নিযুত শব্দগুলো ফাগুনের কাঠামো হয়ে যায়। বলে সুন্দরের অন্তর্বাস ফেলে হয়েছি নগ্ন-স্তবক। বলি আমি- সত্যি তো! না-কি নিছক অনুপ্রবেশ। খুনীদের রঙ্গবিধি মেপে মেপে উঠে পড়া মগডাল। নিচে কে?

নিচে কেউ নয়, পচে যাওয়া পাতার মতো অপাঠ্য জীবন। আমার বর্ণে শুধুই পুরোহিত। আমার বর্ণে শুধুই রাজা। আমার বর্ণে শুধুই রাজার বদান্য। তোরা সেখানে কে তবে? তোরা সেখানে কী তবে?  তোরা আসলে অনাহুত দাশ। তোরা কেউ না

আধখানা চোখে সূর্য হাসে, আধখানা চোখে বৃষ্টি আসে ঝেঁপে

আধখানা মুখ বলল কথা রাজার ভয়ে কেঁপে

 

বাসর

 

চোখ ফেরি হয়ে যায়     বিগত বৃষ্টির ভাঁজে

বিস্মিত বাতাস গায়      অস্ফূট অধরা লাজে

কোন কামনার গান?

তুমিও কি ওঠো-না নিজে   আমার বৃষ্টিতে ভিজে

সিক্ত আঁচলের গায়ে            গুপ্ত আগুনের খাঁজে

কেন এত নিষিদ্ধ লোবান?

তারাভরা তারকাঁটা গানে  বেজে চলে পাগলের তার

ছিঁড়ে যায় রাতভর,      নেচে ওঠে রাতভর

কোন তাড়নার বান?

থেকে থেকে  কেঁপে ওঠে,   কেঁপে কেঁপে দুলে ওঠে

আঁধারে আলোতে তার,     বারবার বহুবার

কেন এত গোপন আহ্বান?

 

দুই

 

জলগুলো সব ঢেউ হয়ে যায়

ঢেউগুলো সব ফেনা

ফেনার ভেতর নুনের আবাস

ঝিনুক পাখির ছানা

শঙ্খ তাহার বাজছে, আহা

ডাক দিয়ে যায় নুন

নুনের ভেতর ঘামের ভেতর

পায়রা মাখা খুন

 

তিন

 

সবুজ সবুজ ঢেউয়ের মাঝে

নীল টুকটুক নীল

নীলে নীলে ঝিলের মাঝে

জোসনা-ভেজা তিল

তিলের ভেতর বিলের ভেতর

গোলাপ মাখা কুঁড়ি

কুঁড়ির বেশে সর্বনাশে

আমরা দু’জন উড়ি

 

চার

 

বরষার এই কলাময় উচ্ছল পাঠে

তুমিও কি ওঠো না ভিজে গুপ্ত মাঠে!

 

উঠি ভিজে, দেখো না আমার রস

মাতাল হাওয়ায় খাচ্ছি কেবল ধ্বস

 

ধ্বসের ভেতর এমন দারুণ ছন্দ ভরা তাল

তালে তালে তালের মাঝে উঠছে সুখের পাল

পালের মাঝে তালের মাঝে দিওনা আর ডাক

পাহাড় সাগর নদীর ডেরা সব ভসে যায় যাক

 

বলি আমি, মোমটা দেখো আগুন দেখো খুলে তোমার চোখ

চোখ না খুলে বললে তুমি ‘মিষ্টি আগুন আরো জখম হোক’

 

পাঁচ

 

সহস্র বছর আগে, এই দিনে

তুমি আমি নিলাম চিনে

আকাশে আকাশে পাতাবাহারের রঙ,

পাখি ওড়ে হাওয়ার রাতে

রাতে রাতে সজ্বল জোনাক

বহুদূর হাঁটার পর

জীবনের তুমুল অবসর

তখন

এইসব কলরব গান শোনাক

 

ফেরদৌস মাহমুদ-এর গুচ্ছ কবিতা

 

পুরান ঢাকা

 

পুরান ঢাকার দালানগুলো যেন শতবর্ষী নানা, শরীর ভরা ইতিহাস।

 

নানা আমার হাঁটতেন বৃদ্ধ রবীন্দ্রনাথের মতো কুঁজো হয়ে

মধ্যরাতে লেবুফুলের করতালিতে পড়তেন সুর করে কোরআন।

 

আকাশে উড়ত লাল-নীল বাক্স-ঘুড়ি, নানার হাতে শোভা বাড়াত

বাকরখানি;

নানাবাড়ি বহুদিন হলো হয়ে গেছে মামা বাড়ি।

মামাবাড়ি হয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে মামাতো ভাইয়ের…

 

পুরান ঢাকার অলিতে-গলিতে, বাড়ির ছাদে হাসনাহেনার ঘ্রাণে

আজ সন্ধ্যায় উঠেছে মস্ত টিনের চাঁদ।

পঙ্গু ভিখিরির গানে ওই চাঁদ যেন বাজছে ঠন্ ঠন্।

 

মনে হয়, নানার মত ওই দালানগুলোও লুটিয়ে পড়বে হঠাৎ।

 

লাল ঘুড়ির মায়ের মৃত্যুতে

 

তোমরা কেউ জানো না, তোমরা প্রত্যেকে এক-একজন

ভীতু স্বভাবের রেলগাড়ি ;

তোমাদের যিনি জন্ম দিয়েছেন

তিনি এখন ৭ম আকাশে বসবাসরত সমুদ্রে স্নান করা উদাসীনদের

শাদা-কালো বউ;

তোমারা স্মৃতিচারণ করছ মায়ের! দেখো, তোমর প্রিয় বন্ধুটি

কী করছে-

বন্ধু তার মায়ের কবওে আইসক্রিম দিয়ে এসেছে, মা

ভালোবাসতেন

বন্ধু তার মেয়ের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে ঠাকুরমার ঝুলি, মা

বলতেন

বন্ধু তার বাবার গম ক্ষেতে উড়িয়ে দিয়েছে বিষাদের পায়রা, মা

উড়াতেন

বন্ধু তার প্রিয়ার পুকুরে সাঁতরানো মাছেদের বানিয়েছে ভাইবোন, মা

নিরামিশাষী ছিলেন…

 

শবেবরাত

 

এবারের শবেবরাতে কলোনির ছেলেদের সাথে

মোল্লাপাড়ার ছেলেদের মারামারি হলো।

 

সারা রাত আমি তারাবাতি জ্বালালাম,

নিজ হাতে বানানো মরিচা বোম ফুটালাম।

ভিখিরিদের দিলাম ৫০ টাকা। নামাজ পড়লাম ১২ রাকাত।

 

আমার একটি তারাবাতি উড়ে গেল চাঁদের দেশে, তিনটা মরিচা হারাল

গোপালদের বাড়ির উঠোনে। গোপাল আর আমি পেট ভরে খেলাম

সুজি-গাজরের হালুয়া, গরুর মাংস, চালের রুটি।

 

এবারের শবেবরাতে হারিয়ে গেল আমার গোল টুপি,

পাঞ্জাবিতে লাগল মাংসের ঝোল। তবু ওই পাঞ্জাবি পরে

পরদিন কিনলাম বউবাজারের পাঙ্গাস। নিজের কণ্ঠস্বরকে

মনে হলো অন্যের কণ্ঠস্বর।

 

আগামী শবেবরাতে চাঁদে যাব খুঁজতে উড়ে যাওয়া তারাবাতি।

 

গাছ কাকা

 

সামনে এগোলে চিংড়ির পুকুর। তারপর পাকা রাস্তা।

রাস্তার কিনারে আম-জাম-শাল আর সারি সারি

নারকেল গাছ।

 

এই গাছ সব লাগিয়েছিলেন আমাদের বুড়া দাদা।

তিনি গাছেদের সঙ্গে কথা বলেন, গাছেরা নাকি তার

ছেলে-মেয়ে। গাছেরা নীরবে তাকে বাবা বলে ডাকে।

 

আমিও সুযোগ পেলে তাই এ গাছগুলোকে কাকা বলে ডাকি।

 

রেফ

 

আদিম শিকারি কালো ভালুকের পিঠে বসিয়ে যায় রেফের মতন

তীক্ষ্ণ ফলা।

 

বকের পালক খুঁজতে গিয়ে থামি পাহাড়ী চাঁপাগাছের সামনে।

 

চাঁপাগাছ যেন দুপুরের ভুঁড়িঅলা মাতাল। মৌমাছির গুঞ্জনে শোনায়

শের-শায়েরি; দূর-দুপুর থেকে ভেসে আসে ব্রেকফেল সাইকেলের ক্রিং।

 

‘ইউরেকা’ বলে চিৎকার করে লাল কিশোরী-

নামতাক্লাস থেকে পালানো ফিনিক্স চাঁপা গাছকে ভাবে মির্জা গালিব।

 

চাঁপা গাছ আর ভালুকের পিঠে রেফ দেখতে আসে ১০০ নোবেল জয়ী।

 

জন্মদিনের কেক

যে দরজায় নক করলো সে হচ্ছে আমি

যে দরজা খুললো সেও হচ্ছে আমি

যিনি কিছুই করলেন না তিনি হচ্ছেন

আমাদের লাশ

কবরে নেমে চকলেটের গন্ধ ছড়ান।

 

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী

 

বসে আছি তিন সূর্যঅলা গ্রহের খয়েরি গাছের তলায়। তিন সূর্যের আগুনে

হাসে কাঠ, পোড়ে ফুল।

 

নভোমণ্ডলের দারোয়ান ছোঁয় সাঁতার না জানা সামুদ্রিক মাছ, উড়তে না পারা

নিঃসঙ্গ সারস আর মায়াবী ময়ুর।

 

নক্ষত্র-রাস্তায় নক্ষত্র-ট্রাফিক দাঁড়ায় উড়ন্ত সসারের ছাদে। শোঁ-শোঁ শব্দে কাঁপে

নীল নভোযান।

 

হারানো বোতামের খোঁজে এক সূর্য ওঠে দুই সূর্য অস্ত যায়। এখানে কোনো রাত

নেই, সারাক্ষণ অতি অতি দিন।

 

বছরে একবার তিন সূর্য এক সাথে অস্ত যায়, আর সেদিনই চারখানা চাঁদ ওঠে।

 

চারটি চাঁদের জ্যোৎস্নায় সারা গ্রহে ঝড় ওঠে, উড়ে যায় নভোচারির পা,

উড়ে যায় মহাকাশচারীর শান্ত মাথা।

 

এ আজব গ্রহে ১ জনেরই বাস, তার কোনো জন্মদাতা নেই, জন্মদাত্রী নেই।

তিনি কবিতা লেখেন।

 

নিরক্ষর

 

তিনি নিরক্ষর, মাঝেমধ্যে তাঁকে বাংলা পত্রিকা পড়ে শোনাই।

তাঁর কাছে চিঠি এলে তাও পড়ি আমি, কখনও আবার উত্তর লিখে দিই।

তাকে প্রায়ই অক্ষর-জ্ঞান দিতে চাই কিন্তু তিনি শিখতে নারাজ।

তাঁর কাছে বাংলা অক্ষরগুলোকে দুর্বোধ্য ছবি মনে হয়। তিনি বলেন,

নবীজি নিরক্ষর ছিলেন। ফকির লালন জানতেন না পড়তে।

 

তাঁর কথায় আমি হাসি। এরমধ্যে এক জাপানি কবির সাথে পরিচয় হয়।

কবি আমার জন্য জাপানি পত্রিকা পাঠান, পত্রিকা ভরা কেবল জাপানি বর্ণমালা।

পত্রিকাটি মেলে ধরে তাকিয়ে থাকি- আমার কাছে জাপানি অক্ষরগুলোকে ছবি

মনে হয়।

 

তিনি আমার পাশে এসে দাঁড়ান। পত্রিকাটির দিকে তাকিয়ে বলেন ‘সুন্দর’।

আমিও বলি ‘সুন্দর’। অনুভব করি, এবার আমার আর তাঁর মধ্যে কোনো

পার্থক্য নেই। জাপানি বর্ণমালার সামনে আমরা দু’জনই নিরক্ষর।

 

শিশুরা জন্মায় ওহে নিরক্ষর হয়ে, মানুষ মূলত ফুল-পাখি-গাছের মত নিরক্ষর!

 

আমি মতিলাল হতে চাই

 

শুনেছো মতিলাল, ভালো লোকগুলোকে আজকাল সবাই ‘গাধা’ বলে ডাকে।

তুমি ভালো আদমি, তোমার পাশে দাঁড়িয়ে গতকাল আকাশ দেখেছি- মানে

গাধার পাশে দাঁড়িয়ে দেখেছি আকাশ ভরা তারা! তোমার পুরনো চটিজোড়া

দেখে তখন হাসছিল নিচু আকাশের কিছু শাদা মেঘ। আমি ওই মুহূর্তে ভাবছিলাম

কিছু চালাকজীবনের প্রতিপত্তির কথা।

 

মনে কি পড়ে মতিলাল, তোমাকে ঠকিয়ে যে লোক নিয়েছিল জমির দখল তাকে

দিয়েছিলে একদিন অভিশাপ; লোকটা আত্মহত্যা করতে গিয়ে গতমাসে বেঁচে গেছে,

তার পান করা ইঁদুরের বিষে ছিল ভেজাল। মতিলাল, তুমি কি বুঝে গেছ চতুর

লোকগুলিকে কোনো শাপই সাপ হয়ে মারে না ছোবল!

 

মতিলাল আমি জানি, ঠকতে ঠকতে শেষপর্যন্ত তুমিই জয়ী সুখী মানুষ।

মতিলাল, আমি তোমার মত হতে চাই…

 

নক্ষত্রের দূতাবাস

সাজানো তাসের সব শয়তানি ছিঁড়ে একাকী বেরোয়

মহান ইস্কাপনের টেক্কা। দোজখের গোপন ফাঁটল

দিয়ে ঢুকে পড়ে স্বর্গের বাতাস! সমুদ্রের গুণে

জন্ম নেয় প্রাচীন গণিত। মৃতদের ড্রয়িং খাতায়

বৃত্ত আঁকতে আঁকতে যাই ঝলমলে নতুন সি-বিচে।

পশ্চিমের দেশে ঘুরে বেড়ানো কুয়াশা ঢেকে ফেলে চুপে

আদিম সূর্যোদয়ের গল্প! হরিণীর মত অধ্যাপিকা

পাখির কূজন বন্ধ করে চালায় ভাষাতত্ত্বের ক্লাস।

পাহাড়ি পাঠশালায় নামে শিমুল ফুলের  নিরবতা

গভীর বনের ঝরনার সুরে ক্যামেরার আলো পড়ে।

ভাঙা চাঁদ হাতে নিয়ে নীল দার্শনিক হাসে। শীত পাখি

গাছের পাতায় লেখে, ‘খ্যাতি চমক সৃষ্টিতে পায় বৃদ্ধি।’

দূতাবাসে-দূতাবাসে কড়া নাড়ে তেজি লাল ঘোড়া,

বিদেশী বাঘের ভিসা নিয়ে ওড়ে আকাশে হেলিকপ্টার।

 

প্রশ্নগাছ

 

…  ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে নক্ষত্র তোমাদের দেশে আলো দেয়

তার নাম  ‘সূর্য’ রেখেছিল কে? রোদের নাম ‘রোদ’ রাখা হলো কেন

ভেবেছ কখনো? নিশ্চয় রয়েছে লুকিয়ে এসবের উত্তরে তোমাদের জন্য

ভাবনার বহু বহু উড়ন্ত বীজ।

 

একবার ভেবে দেখো তো, সূর্যের নাম যদি হতো ‘কুকুর’

তাহলে ‘কুকুর’ শব্দটা শুনলেই কি তোমাদের সামনে ভেসে উঠতো না

ঘেউ ঘেউ করা প্রাণীর বদলে ‘অগ্নি-গোলক’।

 

…নিশ্চয় ‘মৃত্যু’ শব্দটা শুনলে তোমাদের মধ্যে জেগে ওঠে বিষাদ ।

কিন্তু ১টা চমৎকার লাল-নীল গাড়ির নাম যদি দেয়া হয় ‘মৃত্যু’

কিংবা ‘শিশুপার্ক’কে  বলা হয় ‘মৃত্যুপার্ক’ এবং রাখা হয় ওখানে

আনন্দময় হাসি-গান তবে কি ‘মৃত্যু’ শব্দটাই হয়ে উঠবে না আনন্দময়!

 

একবার ভাবো, ভেবে দেখো- কোথা থেকে উৎপত্তি ভাষার

আকার-নিরাকার। তাকাও প্রকৃতির দিকে-

জানে না মাছ, মানুষ তাদের ‘মাছ’ বলে

জানে না পাখি, মানুষ তাদের ‘পাখি’  বলে

জানে না গাছ, মানুষ তাদের ‘গাছ’ বলে

জানে না সমুদ্র, মানুষ তাদের ‘সমুদ্র’ বলে

 

কেবল তোমরা জানো, মানুষ তোমাদের ‘মানব’ বলে!

আহা, মানুষ যেখানে যায় সেখানেই দৃষ্টি শব্দ হয়ে মানে ওড়ায়।

 

বিষাদ অথবা ফুর্তির কবিতা

 

যেতে যেতে দেখছিল ওরা চলন্ত এক মাইক্রোবাসের পিঠে

কয়েকটি চায়নিজ শব্দ, যেন চিত্রাল্পনা;

বিস্মিত হচ্ছিল জেনে, চীনা ভাষায় অক্ষর ৫৬ হাজার!

 

নাচছিল সমুদ্র দর্শনে লাল-নীল-বেগুনি বেলুন দেখবে বলে

 

করছিল প্রকাশ গানে ফুর্তিকে- বাংলায়, হিন্দিতে কিংবা

ইংলিশে।

হাসছিল ভেবে বঙ্গোপসাগরের ওইপারে অস্ট্রেলিয়া!

 

ওরা জানত না ঢেউ এসে ভেঙে দেবে ওদের সাঁতারের ডানা

জানত না সী-বিচে আনন্দ করতে নয়, যাচ্ছে মরতে!

 

আহা, জানলে তো মৃত্যুর আগের ফুর্তিটুকুনই হতো না।

 

কামসূত্র

 

ঘন বন-মাঝে                        বাউলের সাজে

হয়ে উঠি একাকী প্রবাসী,

মাতৃভাষা ভুলে              এলোমেলো চুলে

মহাকাশে পদ্মাসনে আসি।

হাওয়া লাগে জলে            মাছ কথা বলে

অন্ধকারে হাসে বর-কনে,

ধৈর্য্য অস্ত যায়              সূর্যটা লুকায়

দারুচিনি-দ্বিপে ঝাউবনে।

মেঘের বর্ষণে                দেহের ঘর্ষণে

কামসূত্রে কাঁপে তাজা মাটি,

তারা ঝরে টুপ               নর-নারী চুপ

ভোরে মেলে দাঁত এক পাটি।

 

আহত হেডকোয়ার্টার

 

যদিও ছেলেটি পকেটমার

তবু সে আমার ভাই

এশিয়ার আলো-ছায়ার সন্তান

 

পৃথিবীর জনবহুলদের আগাছা

 

অন্ধকার বোতলের মধ্যে সবুজ ফড়িঙ ঢুকিয়ে

নিজেকে বলে অভিবাদন মৃত্যুময় সকাল।

 

মাজুল হাসান-এর গুচ্ছ কবিতা

 

ইরাশা

 

পাগল মাত্রই উচ্চতর ভাষাবিজ্ঞানের ছাত্র। খড়িমাটি সহযোগে

ওকে রাস্তা রাঙাতে দাও। ‘ইরাশা’ ভাষায় ব্যর্থ প্রেমের

কাহিনি খুঁজলে ক্ষতি নেই। তবে তার আগে জানতে হবে

রিকশা তিন প্রকার—একাকী, রোমান্টিক এবং সুদূর নাক্ষত্রিক

 

পথ মাত্রই চলিষ্ণু অভিধান—

এই সত্য স্বীকারেই নির্ভর করছে প্রেমের গভীরতা—স্বমেহন

 

শালবন ঘন কিংবা অপস্রিয়মান হলে অভিধানের শ্রীবৃদ্ধিই ঘটে…

 

ডোরাকাটা বাবা

 

বাবাকে আমি করুণা করি। উনি ব্যর্থ মানুষ এবং প্রগলভ—সে কারণে নয়

উনার একাধারে মাস্তান ও মহর্ষি ভাব ধরে চলাফেরাতেও আমি বিব্রত নই

আমি জানি পাড়ার সবচেয়ে অথর্ব মানুষটাও তাকে বাল দিয়ে পুঁছতো না

তবু নিখিল মানবতার রক্তক্ষরণে উনি কাঁদেন এবং কাঁদতে থাকুন শান্তিতে…

ওসব শোক-টোক আমার হজম হয় না

শহরের নিভৃত বারগুলো আরেকটু রাত পর্যন্ত খোলা থাকলেই আমি খুশি

বাবার মতো কথায় কথায় বাঘ-ঘোগ মারাতেও আমার চরম অরুচি

আমি শুধু উনার পরিত্যক্ত ডোরাকাটা জামাটা পরে মহল্লায় ফিরে আসি…

 

পাখিবিশারদ মা

 

পাখি মানচিত্রের দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব রাগাভিমানগুলো এখনও সবুজ

বুঝতে হবে—ওপাশটা এখনো বনটিয়া-ধনেশদের গুপ্ত আবাস

এমনিভাবে পাখি মানচিত্র থেকে জেনে নেয়া যায় সিমা’পুর প্রতি

কিশোরবেলার যৌনফ্যান্টাসি।

 

মা আমার পাখিবিশারদ। বলেছিলেন—জীবনে এমন সময় আসে

যখন লৌহবৃক্ষেও ফুটো করে কাঠঠোকরা

 

এখন আমি মধ্যদুপুর

গুপ্ত জলমুকের মতো শরীর কুচকুচে কালো

 

আমার প্রতিটি গর্ত থেকে শহরের দিকে উড়ে যায় কলকণ্ঠ বায়স

 

প্রিয় বোনটি

 

শহর মাত্রই পেরিয়ে যায় একটার পর একটা সুউচ্চ তোরণ, নারঙ্গি বন

ওখানে একদা মেষের লোমের মতো জমকালো রোদ, ইহজগতের মদ

মাতাল ট্রাকসম মানুষ ছুটছে ঝুম-অন্ধকার থেকে আলোকিত গোলক

 

ছেলেও আছেন, পিতৃহন্তারক-বাজার থেকে এসেছে ঘাতকের আস্তাবল

শিশুর আলজিভ থেকে দুধের বোটা ছাড়িয়ে মা হয়েছেন রাত্রি রোহিণী

লুপ্ত আস্তাবলে দুলছে ঘোড়ার সাদাকালো জীয়ন-লিঙ্গ। রস ঝরছে রস

 

শুধু প্রিয় বোনটি পাজামায় ক্ষোভ আর ভোতা ব্লেড রেখে শিখে নিচ্ছে

গেরিলা প্রশিক্ষণ…

 

সৎভাই

 

বাবা চাইতেন আমি যাতে সাহস নিয়ে ওর দিকে চোখ তুলে তাকাই

এক টেবিলে বসেও শান্ত থাকি। কফি খাই।

 

বাবা ছিলেন চিরসবুজ

আমিই তার গোপন শ্বাসরোমের খবর রাখিনি

 

জানি—একদিন বাবার কথাই সত্যি হবে

বন্দুক তাক করা পোস্টারের কোলাহল থেকে

জুতো বাঁধার ভান থেকে, সড়ক ডিভাইডারের প্যারালাল আড়াল ছিঁড়ে

আমি আর সেই লোকটা এসে দাঁড়াব আগুনচূড় গাছটার নিচে

 

আমি বলব—আয়ু, আরে সৎভাই যে!

 

চলো একটা লম্বা ম্যারাথন হয়ে যাক…

 

ফ্যামিলি ট্রি

 

কৃষ্ণর কোনো কিছু কালো ছিল না, একমাত্র পোড়া বাঁশি ছাড়া

কৃষ্ণর আত্মাও ছিল বিশুদ্ধ বিষের মতো কামঔদাসীন্য—নীল

 

আশলে আর্যবর্ণ, অনার্য চোখ, ট্যাবু নয়, পুরুষ বাঁচে দৃঢ়তায়

রোদ ওকে পোড়ায়—আত্মা বলিষ্ঠ হয়ে ওঠে গাছের কাণ্ডের মতো

কিন্তু সব পুরুষের কাণ্ডজ্ঞান থাকে না। থাকাটা জরুরিও নয়।

 

কাণ্ডজ্ঞান বৃক্ষবাচক এবং পাতার বাড়ি বানানোর অরূপ বিদ্যা

 

বনটিয়ারা জানে—গাছেদের কোনো মামী বৃক্ষ, খালা গুল্ম কিংবা

দূর সম্পর্কের ফার্ন আপু থাকে না…

 

পাঠশালা

 

লোকে বলে, ওটা ঈশ্বরের বাড়ি, যিনি ঘুঙুর কি

মোটরদানা থেকে সৃষ্টি করেছিলেন আপেল-পৃথিবী

জমিনে সেঁটে দিয়েছিলেন পাহাড়, স্তনকামনা—

পিপাসা খররৌদ্রের

 

অতএব আমাকে যেতে হয়েছিল প্রমিত উপাসনালয়ে

বাঁধানো খিলানের কাছে

সেখান থেকে ফিরে এসেছিলাম কতগুলো উভলিঙ্গ হুর

আর তাম্বূল ঐশীবাণী নিয়ে

 

বস্তুতপক্ষে উপাসনালয় থেকে ফিরে এসেছিলাম

রংজ্বলা ছাতা মাথায়—বৃদ্ধ

 

অথচ জলসাঘরে আমি যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছিলাম…

 

হাইওয়ে

 

গেন্ডারি ক্ষেতে প্রেমিকাকে দলাই-মলাই করে আমি বায়ুশলাকায়

উৎপন্ন করেছিলাম ভ্রমরগুঞ্জরন। ঘুরঘুর হাওয়াকলে

ঘুরেছিল বিজলিখেলা একদিন শহর-উপকণ্ঠে।

 

এরপর নৈনিতাল। একটা মাদি ভেড়ার উলেল স্তন শুঁকে

বিনয় খুঁজে পেয়েছিল ঈশ্বরের বিশ্বাস। অথচ তার রৌদ্রজন্ম হয়েও

মনে ছিল লিঙ্গের পুনরুত্থান, জয়নিশানা উড়াব বলে

 

অন্য প্রেমিকাদেরও বারবার নিয়ে গেছি অরণ্যশৃঙ্গে

যখনই জয়নিশানা ওড়ানোর প্রয়োজন পড়েছে। ছুঁয়ে দেখেছি

চিত্ত-সবুজ এবং হরিৎ-সবুজ দু’বোনকে পাশাপাশি ফেলে

আঙুলে গেঁথে, শোষকাগজের মতো চেয়েছি চোখে জীবন ঘষে নিতে

 

অদ্য মেঘজন্ম। এখন আমার কোটরসহ মণির রঙ অগ্নিপাটল

সমস্ত চিত্ত-সবুজ ও হরিৎ-সবুজ নিয়ে

আমার প্রেমিকারা পাড়ি জমিয়েছে সুদূর হাইওয়ের দিকে…

 

মনার্ক

 

সাড়ে ৩ হাজার মাইল দূর থেকে উষ্ণ মেঘমালা এনেছিল মনার্ক প্রজাপতি

 

আমরা হিমার্দ্র প্রেমিক-প্রেমিকা—চিৎ হয়ে শুয়েছিলাম জীবন্ত রামধনু মাঠে

পৃথিবীর শেষ প্রাকৃত গানটি আমাদের ভীষণভাবে কামাতুর করেছিল

তীব্র ক্ষুধায় আমি কামড়ে দিয়েছিলাম মাই(ন)

আর প্রেমিকা গিলে খেয়েছিল সোনারঙ দুপুর

বস্তুতপক্ষে আমরা সাবাড় করেছিলাম হাত-পা-লিঙ্গ-স্তন; রাজপোশাক

 

এভাবেই পুরনো শুক্রকীট থেকে জন্ম নেয় নব-নবতর মনার্ক প্রজাপতি

এখন পূর্বজন্মের শাদাকালো বাড়িতে ফিরতে হলে

আমাদের সাঁতরাতে হবে আরেকটি রামধনু, আরেকটি প্রাকৃত গান

আর সাড়ে ৩ হাজার পবনসমুদ্র

 

অধিকাংশ মনার্ক প্রজাপতি সেটা পারে না…

 

মার্থা গঞ্জালেস

 

মাহিদা ফেরদৌস ঋণীকে প্রথম যেদিন মার্থা গঞ্জালেস বলে ডেকেছিলাম—সেদিনই কুড়িয়ে পেয়েছিলাম একটা মাউথঅর্গান। মৃদঙ্গ নয়, সমীরছিদ্র বক্রবংশী নয়, মৃদু কিংবা ত্রিকালকম্পী রাজশঙ্খও নয়। একটা একতারাও তো হতে পারতো। কিন্তু সব থুয়ে ক্যানো মাউথঅর্গান?

ভেবেছি, আর সকালটা অপেক্ষা করেছে হলুদ কার্ডিগানের, বিকেল পালিয়েছে কেতকীদের গোধূলি দালানে, আর ছুমন্তর বলে সন্ধ্যা হয়েছে আফিম-নিস্তব্ধ। ঋণীকে বলা হয়নি কোনোদিন—মার্থা গঞ্জালেস এক অনিন্দলাস্য ও ফুটোন্মুখ গোলাপের নাম। শ্বেতশুভ্র মেষ চরে বেড়ানো ককেশীয় পর্বতরাজি নয়তো ল্যাতিন অরণ্যের কোনো নিভৃত নিদ্রাটিলায় ওর জন্ম। অথবা কোথাও এই নামে কোনো ফুল নেই।

খুব করে মনে হয়—রাগ ইমন আর ঋণীদের কোনার ঘরটার একটা যোগসূত্র আছে। রোজ রাতে গানের মাস্টার আসে। কী মলিন জামা! অথচ ফেরার পথ কী হীরকদ্যুতিময়! রোজরোজ অমন ঝকঝকে ঈর্ষা দেখে অন্ধ হবার জোগাড়। সেই কবে নক্ষত্রবাগান তছনছ করে গেছে পাগলা হাতি। বিধ্বস্ত তারা ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্দিক, একান্ত গোপনে কাঠবাদামের অন্তরেও হয়েছে লহু-লুব্ধক ক্ষরণ। সেই সমুদ্দুর অবশ্য পেরিয়ে গেছি পাগলা হাতির পিঠে চেপেই। গেছি ককেশীয় পর্বতরাজিতে, নয়তো ল্যাতিন অরণ্যের নিভৃত নিদ্রাটিলায়। (অথবা যাইনি)।

রাজশঙ্খের মতো মৃদুস্বরে ডেকেছি—মার্থা গঞ্জালেস, মার্থা—ও ম্যারি! কী আশ্চর্য, মাউথঅর্গান কিংবা চার্চ মিউজিক নয়, ঠিক তখনই ভেসে এসেছে রাগ ভৈরবী।

 

শরীর

 

মাথা দিয়ে মেঘ-টার্বাইন ওড়ে, তলপেটে বিদ্যুৎ

 

৩ ফোটা বেনোজলসহ ঘুরছি ১ ফোটা আমি

দ্যাখো কিংকর্তব্যবিমূঢ় গোলাপ; মুগুরমঞ্জুরি

 

‘ফেরা’ এই ২ অক্ষরের মাঝে বেমালুম লুকিয়ে থাকে

ঘননীল পূর্বজন্ম এবং সমুদ্রযাত্রার রোমাঞ্চ; উৎকণ্ঠা…

 

সমুদ্র ১টি ডাকঘর, নক্ষত্রকে বলছি স্মৃতি-উদ্ধারক পোশাক

বন্ধু, সুখী মানুষের কনসেপ্টই জগতে সবচাইতে ক্ষতিকর

 

ফুঁ দিলাম। দুলে উঠলো অ্যালিসের ল্যাবেরিন্থ

কাম ও বার্হস্পত্য দর্শনে দুলে উঠছে রোববার

 

শরীর এখানেও একক ও স্থির…

 

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close