Home কবিতা প্রেমভাবনা ও প্রেমের কবিতা >> মুজিব ইরম / নৈরিৎ ইমু / নাহিদ ধ্রুব / রাজিয়া সুলতানা
0

প্রেমভাবনা ও প্রেমের কবিতা >> মুজিব ইরম / নৈরিৎ ইমু / নাহিদ ধ্রুব / রাজিয়া সুলতানা

প্রকাশঃ September 25, 2018

প্রেমভাবনা ও প্রেমের কবিতা >> মুজিব ইরম / নৈরিৎ ইমু / নাহিদ ধ্রুব / রাজিয়া সুলতানা
0
0

প্রেমের কবিতা >> সেদিন দুজনে

মানুষকে মানুষ করে তুলেছে প্রেম।প্রতি অঙ্গের জন্য প্রতি অঙ্গের আর্তি আদি পাপ তো নয়ই, বরং মানবিক অনুভব বলে জানি আমরা। নিষ্পাপ, সুস্থির, বিশুদ্ধ আবেগ মানুষের রক্তে বহমান গুহাযুগ থেকে অযুত বর্ষ অবধি। কিন্তু প্রেম? কোন প্রভাতে সে আমাদের ধমনীতে ঢুকলো সংগীত, কলা ও কবিতার আসন পেতে? তবে যেদিন ঢুকলো, সেই দিনটিই মনুষ্যত্বের জন্মদিন। কবিতায় এই প্রেমের যাপন ও অনুভব কীভাবে ঘটছে তীরন্দাজের এই কবিতাগুলোতে পাওয়া যাবে তারই কিছুটা পরিচয়, বাংলাদেশের কবিদের কবিতায়।

 

মুজিব ইরম >> প্রেমভাবনা ও প্রেমের কবিতা

প্রেমভাবনা >>

‘আমারে নি ফাউরি লাইছো তুমি!’ মনটা বড়ো আকুলি-বিকুলি করে! কে যে কারে ভুলে যায়, ফাউরি লায়, পাসরিয়া আন বাড়ি যায়, আহা! এই একটি সিলেটি শব্দ, ফাউরি লাওয়া, বড়ো উন্মাতাল করে দিচ্ছে! যা লিখছি, হয়ে যাচ্ছে প্রেম। আমি তো দেশ ছাড়া, খেশ ছাড়া লোক। হারানো মানুষ। যা লেখি তাই প্রেম। যা লেখি তাই মায়া। কোথাও যেন কী ছিলো, কেউ ছিলো। কোথাও না কোথাও যেন কী আছে, কেউ আছে। আর আমি মিনতি করি, আর আমি কান্নাকাটি করি: ‘আমারে তুমি ফাউরি লাইও না। আমারে তুমি লগ ছাড়িও না।’

প্রেমের কবিতা >>

নিন্দামন্দ

বৈদেশী ডাকিও না আর বুকে বড়ো বিঁধে!

টিটকারি দেবে যারা
তারা দিক
নিন্দামন্দ
তামাশা করুক
দূরে চলে যাক
তুমি শুধু সেই নামে ডাকো
যেন আমি ডাক শুনে পার হতে পারি
ভাঙ্গা মন
ভাঙ্গা সাঁকু
দূরের হাকম…

কাকুতি মিনতি রাখো
লগ ছাড়িও না আর বুকে বড়ো বিঁধে
বৈদেশী ডাকিও না আর বুকে বড়ো বিঁধে!

 
আবারও নিন্দামন্দ

তুমি লগ ছাড়িও না, ফাউড়ি লাইও না!

কান্দা-কাছাত থাকিও তুমি
তুমি গেলে কে আর রাখিবে মনে
অধমের নাম
নামের সুনাম

নাম নাম করে আমি
তোমারেই ডাকি
নাম নাম করে আমি
তোমারেই আঁকি

নিন্দামন্দে ডুবে আছি
তুমি আর শরমিন্দা করিও না, লগ ছাড়িও না।

 
নৈরিৎ ইমু >> প্রেমভাবনা ও প্রেমের কবিতা

প্রেমভাবনা >>

প্রেম নিরবতা। প্রেম রূহ কবজের হাসি। প্রেম ধর্ম, অধর্ম। প্রেম মাগফেরাত। আজন্ম পার হতে থাকা পুলসিরাত। প্রেম মীর সাহেবের পাগলপনা। প্রেম রুমির আত্মধূলিসাৎ সেই গল্প। তুমি আমি সাড়াহীন প্রবেশ। প্রেম শিংঙার ফুঁৎকার। খোদার আদম সূরত, গন্ধম, শয়তান। প্রেম ক্রুশবিদ্ধ যীশুর শেষ রক্তফোঁটা। আর কিছুই আমার বলার থাকে না। শুধু কবর যাপনের দীর্ঘ দীর্ঘ অপেক্ষা ছাড়া।

 

প্রেমের কবিতা >>

প্রেমোত্তাল

রাত্রিদিন ফানা করে বসে আছি আমি
তুমি ফরিয়াদ তসবিহ নফসের
কলবে যতন করে তেলোয়াত রেখে
আল্লা-দুর্গা একাকার নামায নিয়তে

খোদার কসম কালি দিব্যি জান্নাতের
দেখিতো আল্লাহু নাম দেবীর ত্রিশূলে
আমি গুনাগার পায়ে পড়েছি লুটিয়ে
মাটির আদম তুমি সিঁদুরে রাঙালে

আযান উলুতে প্রেম মুখর বাতাসে
প্রেমিক পাগল হলো তোমার তালাশে!

 
গজল

ও আমার মাওলা, আমি তারে কই পাবো? যারে দেখি নাই কোনদিন, চিনবো কেমন করে? শুধু মনে হয় মিনার পুরুষ হলে, নারী তো গম্বুজ’ই হবে। অথচ, বদখেয়াল— মনে ফোড়া হয়ে ওঠে। তার পুঁজ, মদ যেনো! আমি তো জেনেছি প্রেমিক, ফানার পরেও বহু ফানা পড়ে আছে। হাশর না পেরিয়ে তারে ছোঁয়া যাবে না! বেহুঁশ হবো না রূপমোহে! জান্নাত না পেলে, তারেও পাবো না! ও আমার মোহাব্বত, আমায় একটি গজল বানিও তুমি— হুর মধুরাতে!

 

নাহিদ ধ্রুব >> প্রেমভাবনা ও প্রেমের কবিতা

প্রেমভাবনা >>

শাঁখের করাতের টানে দুইভাগ হয়ে গেছে মন, এক ভাগে গলিত অনুতাপ কিছুটা আপন। আর পর ছিল যা তার আজ কোন অস্তিত্ব নাই। আছে শুধু আলেয়ার আলো আর বেদনার ছাই।

 
প্রেমের কবিতা >>

প্রিয়জন

আমি তার পাঁজরের ভেতর পা ডুবায়ে বসে থাকি
গীত গাই ভরা যৌবনবতী গাঙ্গে —
শ্রাবণভাদ্র মাসে যে নদী পায় কুঞ্জলাল আবাস
সে তেমন ক্রমসঞ্চয়ী হয়ে ওঠে ছলাৎছলাৎ ভ্রমে

তারে বলি, তার আওড়ানির মাঝে একটি নোঙর
জাহাজ ফেলিয়া আসে।
কূলকিনারা নাই — এমন ম্রিয়মাণ হাওয়াতে —
আমি তার হাল ছাড়িয়া দেই,
একটা পাখি কেবলই উড়ে যায় নতুন পাল তুলে।

 
ক্ষত

অশোকলিপিতে বিঁধিয়া আছে তার ক্ষত
ফিরায়ে দিয়াছি আলগা মেঘের মতন —
অবেদনীয় ভেলাগাছে ভাসতেছে এক পাতা
অনেককালের পরে তারে ভুলি নাই অন্তত

চোখেরবালিতে ডুবায়েছি আমাদের তরী
এপারওপার ছাড়ায়ে, তুমি সুখী দেশান্তরী
খসিয়া পড়া তীরদেশে আমি আছি —
পাতাছেঁড়া গাছেদের মতন নিরবধি অক্ষত

তুমিও ক্লান্তিকর — বিষণ্ণ স্মৃতিদহ ভিড়ে —
এইখানে আলোছায়ারাগ ঘিরে আছে ব্রত,
শূন্যগর্ভ থিকা আমদানি করিতেছি যে প্রেম
অশোকলিপিতে বিঁধিয়া আছে তার ক্ষত।

 
রাজিয়া সুলতানা >> প্রেমভাবনা ও প্রেমের কবিতা

প্রেমভাবনা >>

প্রেম হচ্ছে ঈশ্বরের তাড়না। একই সঙ্গে স্বর্গীয় ও শারীরিক। পবিত্র এক অনুভূতি থেকে যার জন্ম এবং পরিণতি দেহ অথবা দেহের আকাঙ্ক্ষায়। স্রষ্টা নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবু তাঁর সৃষ্টির প্রয়োজন হলো। সৃষ্টির কাছে প্রেম চাইলেন। তাই তাঁরই অনন্তধারায় আমরা ভেসে এলাম প্রেমে। প্রেম-পুণ্যে। ফুল-কণ্টকে, রাত্রি-দিনে, বর্ষা-গ্রীষ্ম-শীত-বসন্তে, মিলন-বিরহে আত্মিক-দৈহিক মিলনের পারে প্রেমের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় আমরা বেঁচে থাকি। প্রেমের অপার মহিমা ক্ষমা আর সমর্পণে। প্রেম ছলনা জানে না। তবে আকাঙ্ক্ষার পূর্ণস্নানে প্রায়ই বৈচিত্র্যের পিপাসী।

প্রেমের কবিতা >>

রাত্রি এসে জ্বালিয়ে গেছে অন্ধকার

‘তোমার শরীর তাই নিয়ে এসেছিলে একবার’-তারপর
আসো নাই আর
বহুদিন।
শিখা হয়ে উঠেছিল জ্বলে প্রায়ান্ধ শরীর
নৈবেদ্যে –
তারপর উবে গেছে
নিভে গেছে উত্তুরে হাওয়ায়।
এখন
কখন জোনাকির ডানা ভেঙে
রাত্রি এসে জ্বালিয়ে গেছে অন্ধকার
চিবুকের কোণে চোখ ফেলেছে ছায়া, হরিদ্রাভ-
চুপকথা বালিয়াড়ি জুড়ে থেমে আছে জল ও জলধি।

আবার তোমার জন্য

হাওয়ার রাতে খুলে যাচ্ছে আকাশ
শীত ছুঁয়ে দিচ্ছে হেমন্ত-নাভিমূল, স্তন,
কর্নফিল্ড, ডগউড, লাইলাক।
সবুজের নিচে যে পাতাটি হলুদ ছিল কাল-
আজ সে বাদামি, মেরুন আর লাল।
এরপর শুধু ধূ ধূ পাঁচমাস।
লালঝুঁটি রাগ-রাগ চোখ কার্ডিনাল-
সেই পাখি হাইবারনেশনে খুঁজে নেবে পাহাড়ের কোটর কোথাও।

ইলেক্ট্রিক ব্ল্যাংকেটে পার করে দিতে পারি শীতরাত
অনন্ত, শুধু যে কোনো ঋতুর মত তোমাকে পার হতে পারি নে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close