Home পঠন-পাঠন ফজলুল কবিরী >> ‘ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া গল্প’ : কী করে লেখা হলো >> পাঠসূত্র

ফজলুল কবিরী >> ‘ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া গল্প’ : কী করে লেখা হলো >> পাঠসূত্র

প্রকাশঃ January 7, 2018

ফজলুল কবিরী >> ‘ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া গল্প’ : কী করে লেখা হলো >> পাঠসূত্র
0
0

ফজলুল কবিরী >> ‘ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া গল্প’ : কী করে লেখা হলো

 

[সম্পাদকীয় নোট : ফজলুল কবিরী। এই সময়ের উল্লেখযোগ্য একজন কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্যাশন মূলত গল্পে। লিখছেনও দারুণ। এখন অব্দি একটা গল্পগ্রন্থ আর একটা উপন্যাস বেরিয়েছে। আসন্ন বইমেলায় প্রকাশিত হবে তাঁর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘ফু দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া গল্প’। এই লেখাটি প্রকাশিতব্য গল্পগ্রন্থের নেপথ্যে ঘটে যাওয়া ভেতরকার ঘটনা আর গল্পকারের আবেগ-অনুভূতি নিয়েই। লেখাটি যেন গল্পের গল্প। আমরা বইটির বহুল প্রচার কামনা করি আর কবিরীকে অভিনন্দন বইটির প্রকাশ উপলক্ষে।]

কৈশোরে একবার, মৌসুমের প্রথম বর্ষার জল ও বজ্রপাতগ্রস্ত সন্ধ্যায়, আমার চরিত্রের অন্য এক রূপ আবিষ্কার করি। দেখা যায় বজ্রপাতের তীব্র হুঙ্কার ও বিদ্যুৎচমকানির মুখে ছাই ছিটিয়ে যখন পেছনের পুকুরে সতীর্থদের সাথে ছোটার কথা, কান বেয়ে কূলে উঠতে থাকা কৈ মাছের পিচ্ছিল দেহটা কাপড় দিয়ে শক্ত করে ধরে ধরার কথা, তখন তা না করে অন্য এক মোহের ভেতর ঢুকে পড়ি। দেখি সারি সারি কৈ মাছ আমার কলমের আগা বেয়ে নামতে থাকে অক্ষরের পর অক্ষরে। বাক্যের পর বাক্যে। সেই যে ছুটে চলা, তারপর দীর্ঘ দেড় যুগের এক যাত্রায় গল্পের বহুমাত্রিক পাঠ ও প্রকরণকে ধারণ করার চেষ্টা এখনো চলমান।
প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘বারুদের মুখোশ’ প্রকাশিত হয় একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫-তে। মূলত রাষ্ট্রীয় সংকট ও সামাজিক নিপীড়নকে মোকাবেলা করে কীভাবে গল্পের চরিত্রগুলো টিকে থাকার চেষ্টা করে, তার নির্মেদ বয়ানই ছিল আরাধ্য। তারপর দীর্ঘ তিন বছরের বিরতির পর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া গল্প’ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮-তে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছে প্রকাশনা সংস্থা ‘জেব্রাক্রসিং’। গত বছর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় আমার প্র্রথম উপন্যাস ‘ঔরসমঙ্গল’। প্রকাশ করেছিল প্রকাশনা সংস্থা ‘বেহুলাবাংলা’।
এ যাবৎ প্রকাশিত গল্পের সংখ্যা চল্লিশটির মতো। বিষয়গত ঐক্য ও বিন্যাসের নিক্তিতে প্রথম গল্পগ্রন্থে স্থান পেয়েছিল নয়টি গল্প। প্রকাশিতব্য গ্রন্থে স্থান পেয়েছে বারোটি গল্প। লেখক হিশেবে নিজের মৌলিক তাড়না থেকে সম্পূর্ণ সরে আসতে না পারলেও নতুন গ্রন্থের গল্পগুলোতে বিষয়, ভাষা ও দর্শনে প্রথম গ্রন্থ থেকে সঙ্গত কারণেই খানিকটা আলাদা স্বর আনয়নের প্রচেষ্টা আছে। সময়ের বিবেচনায় গ্রন্থের গল্পগুলোর রচনাকালে দীর্ঘ এক যুগের ব্যবধান আছ। ‘জোছনা ও আত্মজা’গল্পটি প্রথম লেখা হয় ২০০৫-এর শুরুতে। পরবর্তীকালে নানাভাবে পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের ভেতর দিয়ে গ্রন্থভূক্ত গল্পের সম্পাদিত রূপটি দাঁড়িয়েছে। যৌবনের তীব্র সাতাশ পর্যন্ত গ্রামেই কাটানোর সুবাদে এই গল্পের চরিত্রগুলো চেনাজানা পরিবেশ থেকেই গ্রহণ করা হয়েছে। গল্পটি অধুনালুপ্ত দৈনিক আজকের কাগজের ‘সুবর্ণরেখায়’ প্রকাশিত হয়েছিল।
লেখা ও প্রকাশকাল বিবেচনায় গ্রন্থের নবীনতর গল্প ‘বাঘের চোখ’। অগ্রজ কথাশিল্পী মোহিত কামাল সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘শব্দঘর’- এর ‘তরুণদের ২৫ গল্প : বড়দের তরুণবেলার ২৫ গল্প বিষয়ক অক্টোবর ২০১৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। সুন্দরবনের কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে নিজের লেখকসত্তা যে মানসকি যাতনা বয়ে বেড়াচ্ছে, এক ঘোরগ্রস্ত সময়ে গল্প তা থেকে খানিকটা মুক্তি পেতেই গল্পটি লেখা। বিষয় ও প্রকরণে গল্পটি ঠিক প্রথাগত নয়। যেভাবে আখ্যানের নির্মিতি, তাতে চরিত্রগুলোকে সরাসরি ধরা যায় না। কথকের দ্বন্ধ ও সংশয়ের সাথে পাঠককে শেষপর্যন্ত হাঁটতে হয় পুরো বিষয়টার সুরাহা করতে।
প্রচলিত গল্পের ধরন ও আখ্যানধর্মীতা থেকে বেরিয়ে এসে লেখা হয় একটি গল্প ‘গিলাপ ফকিরের খিলাফত’। দখলদারিত্বকেন্দ্রিক যে পীরবাদ আমাদের সমাজে গেঁড়ে বসেছে এবং রাষ্ট্র ও নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠী যেভাবে এর পৃষ্ঠপোষকতা করে, সে-বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে অতি সাংকেতিকতায়। গল্পের মূল রস ও রসায়নকে লেখকের এক্তিয়ার থেকে অর্ধেকটা পাঠকের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিপ্রায় ছিল এই গল্পের নির্মাণে।
মূলত গড়পড়তা ভাষা ও একগেঁয়ে বিষয়বস্তুকেন্দ্রিক গল্পের আধিপত্য থেকে এখনও আমাদের গল্প সেই অর্থে বের হয়ে আসতে পারেনি। মোপাসাঁ, চেখভ, রবীন্দ্রনাথের পরও সারাবিশ্বে অসংখ্য নমস্য ছোটগল্পকার এসেছেন। সেসব লেখকের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে নতুন গল্প লেখা হয়তো খুবই কঠিন। তারপরও বাংলাদেশের ছোটগল্পের নানান কালপর্বে যেসব অনন্য গল্প সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আধুনিক পৃথিবীর ছায়া ক্ষেত্রবিশেষে অনুপস্থিত থেকেছে। ভাবতে অবাক লাগে প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘তেলেনপোতা আবিষ্কার’ গল্পটি এখনও পর্যন্ত একটা ব্যতিক্রম হিশেবেই দশকের পর দশক টিকে আছে। ছোটগল্পের চেহারায় আমূল পরিবর্তনে গল্পকাররা অনাগ্রহী থেকেছেন। কেন?
আমার ধারণা ছোটগল্পের যে জগৎ ও পরিসর গল্পকারদের হাতে উঠে আসে, তাতে সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ছাপ খুবই স্পষ্ট প্রভাব ফেলে। ফলে কাফকার হাতে যেভাবে গ্রেগর সামসার মতো একটি কালজয়ী চরিত্র নির্মিত হয়, অধমের সীমিত পাঠে বাংলাদেশের ছোটগল্পে ঠিক একইভাবে অন্যকোনও চরিত্র তৈরি হতে দেখিনি। মানসিক সংকটের এমন অভিনব ক্রাফটিং লেখকের হাতে হতে পারে আমাদের যেন কল্পনাতেও স্থান পায় না। তুলনায় আবু ইসহাকের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম ‘জোঁক’-এ একটা সফল প্রতিকী বাস্তবতা আমরা দেখি। সুচরিত চৌধুরীর হাতে পাই ‘আকাশে অনেক ঘুড়ি’-এর মতো আধুনিক নির্মামশৈলীর অনুপম দৃষ্টান্ত।
‘মানুষজন্মের বেড়ি’ প্রকাশিতব্য গ্রন্থের প্রথম গল্প। কেবল বয়ানের সারল্য ও বিষয়ের অভিনবত্বকে লেখক হিশেবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি না। আমার ধারণা কথকের মুখে ‘ছায়া’ চরিত্রটির যে বিমূর্ত ও সংবেদনশীল নির্মাণ, তার সাথে পাঠকের খুব বেশি পরিচয় নেই। নিজের ছায়ার সাথে কথকের আলাপচারিতা থেকে সরে সরে আসতে আসতে একসময় পাঠক আবিষ্কার করে অন্য কোনো ছায়ার অস্তিত্ব। কিন্তু এটাই গল্পের ফোকাল পয়েন্ট নয় শেষ অবধি। অভিজিৎ ও দীপনের মৃত্যুতাড়িত বাস্তবতার হাত ধরে এই গল্পে তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে একটা বিশেষ কালখণ্ডের নৈরাজ্য ও মৌলবাদের উত্থানকে। গল্পটি বিষয় বিবেচনা ও অভিনবত্বে পাঠকের চিন্তার পরিসরকে উন্মুক্ত করবে এই প্রত্যাশা আছে। গল্পটি এই সময়ের ৩০ তরুণের গল্প এবং গল্পের আলোচনার নিয়ে সাহিত্য পত্রিকা ‘জলধি’-এর বিশেষ সংখ্যায় থাকছে। ‘সময়ের গল্পস্বর’ শিরোনামে সংখ্যাটি একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮-তে গ্রন্থভূক্ত হবে।
‘ঊরু ও অস্থি-ও আখ্যান’ গল্পটি প্রায় এক দশক আগে লেখা। মানুষের অবদমন, যৌনতা ও আপত্যস্নেহতাড়িত জীবনের বিবিধ সংকটকে তুলে আনার নিরীক্ষা এই গল্প। ‘ঊরু ও অস্থি-ও আখ্যান’ বিষয়গত বিবেচনায় ‘জোছনা ও আত্মজা’-এর কাছাকাছি। দুটো গল্পেই যৌনতাকে ছাড়িয়ে মানুষের মনোজাগতিক পীড়নকে ভিন্ন ভিন্ন পারসপেক্টিভ থেকে পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
‘অজাতপুরুষ’, ‘প্রাচীন রক্তের সুবাস’ এবং ‘আগন্তুক, কুকুর ও কোলাহল’- এই তিনটি গল্পের রচনাকালে আছে একদশক সময়ের ব্যবধান। কিন্তু বিষয়গত বিবেচনায় কিছুটা ঐক্য আছে। ‘প্রাচীন রক্তের সুবাস’ গল্পে রাজাকার মুর্দার বয়ানে দেখানো হয় মৃত্যু পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা ও সময়ের বাস্তবতায় কীভাবে চার দশক পরও একজন রাজাকার জীবিত থাকে। গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল লিটল ম্যাগাজিন ‘চারবাক’-এ। পরবর্তীতে চারবাকের নির্বাচিত একটি সংকলনে গ্রন্থভূক্ত হয়।
বাকি দুই গল্প ‘অজাতপুরুষ’ এবং ‘আগন্তুক, কুকুর ও কোলাহল’-এ সংখ্যালঘু চরিত্রের নির্মিতিতে উঠে আসে কূপণ্ডূকতা ও সাম্প্রদায়িকতার শেকড় কতটা গভীর ও অভেদ্য। দেশের দুটি জাতীয় দৈনিকের সাহিত্য পাতায় গল্পদুটো প্রকাশিত হয়। যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশের নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে যে নতুন জাগরণ ও সময়ের সাক্ষী হতে পেরেছে একটা প্রজন্ম, তাকে কেন্দ্র করে একাধিক গল্প লেখার প্রেরণা পেয়েছি আমি। ‘মানুষজন্মের বেড়ি’-তে যেভাবে চিন্তুায় অগ্রসর ও সচেতন তারুণ্যকেও সংশয় ও শঙ্কার আবর্তে ঘুরপাক খেতে দেখা যায় যুদ্ধাপরাধী ও সাম্প্রদায়িক শ্বাপদদের ভয়াল থাবার ভেতরে, ঠিক তার বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে ‘অজাতপুরুষ’ গল্পের সংখ্যালঘু চরিত্রটি তুলে ধরে গ্রাম বাংলার সহজ জীবনের মধ্যে গেঁড়ে বসা একাত্তরের পরাজিত অংশের হুঙ্কার।
একটা অভিন্ন মানচিত্রের ভেতর দিয়ে যেসব গল্প ফুল হয়ে ফুটেছে বাংলা ছোটগল্পের বিশাল বাগানে, তাতে এত বেশি অভিনব বিষয় ও ভাষায় লেখা গল্প আমরা পেয়েছি যে, সেই প্রশস্ত বাগানে দাঁড়িয়ে নতুন কিছু লেখার তাগিদ অনুভব করাও দুঃসাহসের ব্যাপার মনে হতে পারে কখনও কখনও।
বাংলাদেশের ছোটগল্প আড়মোড়া ভেঙে দাঁড়াতে শুরু করেছিল চল্লিশের দশক থেকেই। যদিও পশ্চিম বাংলার লেখককূলের ভাষা ও আঙ্গিক থেকে এদেশের লেকখকূলকে ফারাক করার মতো দৃশ্যমাণ অগ্রগতি চোখে পড়েছে কমই। তারপও অবাক করার মতো ব্যাপার স্বাতন্ত্র্য ও অভিনবত্বে যখন পশ্চিম বাংলায় নতুন ধরার ছোটগল্প লিখতে এগিয়ে এসেছিলেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়সহ আরও অনেকেই, তখনও বাংলাদেশের লেখকরা মনোযোগী ছিলেন প্রচলিত গল্পের ফর্ম ও আঙ্গিকে। তবে পঞ্চাশের বটবৃক্ষ সৈয়ক শামসুল হক সম্ভবত আমাদের সাহিত্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। পরবর্তীতে যার হাত ধরে বাংলাদেশের ছোটগল্পেও একটা নীরব বিপ্লব ঘটে যায় আমার মতে।
‘স্যাটেলার’ ও ‘অজগরের খোলস’ গল্প দুটি লেখা হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের পটভূমিতে। ‘স্যাটেলার’ গল্পটি লেখার তাগিদ অনুভব করেছি অনেক বছর ধরে। বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে যাওয়ার সুবাদে সেখানকার জীবনবৈচিত্রের প্রতি যে মুগ্ধতা কাজ করে, তার বিনাশ ও সমূহ পতন দেখে প্রতিবারই বিষণ্নতা নিয়ে ফেরা হতো।
ষাটের দশকে পার্বত্য অঞ্চলের মাটি যেভাবে অন্যের দখলদারিত্ব ও নিপীড়নের শিকার হয়, তা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ হওয়ার পরও বেরিয়ে আসতে পারেনি। পাকিস্তান সরকারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর হাজার হাজার পাহাড়ি জমি তলিয়ে গিয়েছিল সেই সময়। উদ্বাস্তু হয়েছিল হাজার হাজার আদিবাসি। উপরন্তু অনেক পাহাড়ি পরিবারকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল পুনর্বাসনের নামে। যে বিদ্যুতের জন্য তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেই বিদ্যুতের ভাগ তারা পায় নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাও আদিবাসীদের স্বাধীনতা দেয়নি। গুচ্ছগ্রাম বানিয়ে পাহাড়ে অন্যায়ভাবে পুনর্বাসন করা হয় হাজার হাজার বাঙালিকে। গল্পটি লেখা হয় সেইসব বাস্তবাতকে সাক্ষী রেখে। গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল পশ্চিম বাংলা থেকে প্রকাশিত সাহিত্যবিষয়ক ওয়েবজিন ‘ঐহিক’-এর একটি বিশেষ সংখ্যায়।
গ্রন্থের অন্য গল্প ‘অজগরের খোলস’ প্রকাশিত হয়েছিল আশির দশকের গল্পকার দেবাশিস ভট্টাচার্য সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন ‘উত্তরফাল্গুনী’-তে। এ দুটি গল্প ছাড়াও ইতোপূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসি জনগোষ্ঠীর জীবন ও রাজনৈতিক সংকটকে উপজীব্য করে লিখেছিলাম ‘মড়কের মৌসুম’ সহ একাধিক গল্প। সমতলের আদিবাসী মনিপুরিদের জীবনযাপন ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছিল ‘মঙ্গলহস্তীর ডানা’। দুটো গল্পই প্রথম গল্পগ্রন্থে স্থান পেয়েছিল।
গ্রন্থের শেষ গল্প ‘টিকটিকির খাঁচা’। কাফকার অমর কীর্তি ‘রূপান্তর’ নয়, ভিন্ন এক ডাইমেনশান থেকে অন্যরকম বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে এ-গল্পটি লেখার তাগিদ অনুভব করেছি। প্রকাশিত হয়েছিল ‘ঐহিক’-এর বিশেষ সংখ্যায়।
নানাবিধ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ছোটগল্পের যে পরম্পরা তরুণদের হাত ধরে তৈরি হচ্ছে, সেই দীর্ঘ পরম্পরায় গল্পগুলো একটা দাগ কাটুক, এমন প্রত্যাশা নিয়েই গল্প লেখার প্রেরণা পাই। গল্পের নিরন্তর প্রবাহকে ধরে রাখতে পারার ক্ষমতা সব লেখকের থাকে না। এটা শেষপর্যন্ত একটা সংগ্রামই। ফলে কোনও লেখক যখন বছরের পর বছর কাজটি করে যান, তাকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। লেখক হিশেবে প্রত্যাশা থাকবে সেই টিকে থাকার সংগ্রামে সতত লড়াই করে যাওয়ার। ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া গল্পগুলো শেষপর্যন্ত মুক্ত চিন্তার বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া মৌলিক চিন্তা। পাঠকের মুখোমুখি হতে হতে চরিত্রগুলো আবিষ্কার করবে এই গ্রহের বিবিধ বাস্তবতা।
নতুন প্রকাশনা সংস্থা ‘জেব্রাক্রসিং’-এর কর্ণধার দন্তন্য ইসলামকে ধন্যবাদ জানাই, বইটি প্রাকাশে এগিয়ে আসার জন্য।

লেখক পরিচিতি
জন্ম: অক্টোবর ০৯, ১৯৮১। লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে। সাহিত্যকর্মসমূহ কথা, উলুখাগড়া, উত্তরাধিকার, পুষ্পকরথ, সূনৃত, ছান্দস, চারবাক, সমুজ্জল সুবাতাস, ঘুড়ি ইত্যাদি ছোটকাগজসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজপোর্টালে প্রকাশিত। গল্পগ্রন্থ : বারুদের মুখোশ, প্রকাশকাল : একুশে গ্রন্থমেলা, ২০১৫, প্রকাশক: বাঙলায়ন, উপন্যাস : ঔরসমঙ্গল, প্রকাশকাল : একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭, প্রকাশক : বেহুলাবাংলা। প্রকাশিতব্য গল্পগ্রন্থ : ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া গল্প, প্রকাশক : জেব্রাক্রসিং, সম্ভাব্য প্রকাশকাল : একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close