Home আত্মজীবনী ফরিদ কবির / আমার গল্প : পর্ব ১

ফরিদ কবির / আমার গল্প : পর্ব ১

প্রকাশঃ December 5, 2016

ফরিদ কবির / আমার গল্প : পর্ব ১
0
6

সম্পাদকীয় নোট : কবি ফরিদ কবিরের ফেসবুকে অনেকেই তার আত্মজীবনী ‘আমার গল্প’-এর টুকরো কিছু অংশ পড়েছেন। ব্যাপক সাড়া তুলেছে ফরিদের আত্মজীবনীর সেই খণ্ড অংশগুলো। কিন্তু সেসব আক্ষরিক অর্থেই ফরিদের আত্মজীবনীর খণ্ডাংশ মাত্র। এবার পর্বে পর্বে তীরন্দাজে প্রকাশিত হবে তার পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী – ‘আমার গল্প’। আজ প্রকাশিত হলো এর প্রথম পর্ব।

ফরিদ কবির / আমার গল্প : পর্ব

রেল স্টেশনে আগে কখনো আসেনি সাদুল্লাহ। তার মনে পড়ে, যতোবার চরপাড়ায় নানাবাড়ি গেছে, ততোবার সে বাসে আর পায়ে হেঁটেই গেছে। বেশিরভাগ সময়ই সে গেছে বাবা-মায়ের সঙ্গেই। শুধু একবার এখলাস মামার সঙ্গে। এখলাস তার বড়মামা।

তার মনে পড়ে, বাড়ি থেকে অনেকটা পথ পায়ে হেঁটে যাবার পর তারা বাসে উঠেছিলো। তাকে নিয়ে বাসের সামনের সিটে বসেছিলেন এখলাস মামা। বাসের সামনে দুটোই সিট। আরেকটা সিট ড্রাইভারের। সাদুল্লাহ জানালার পাশের সিটে বসতে চেয়েছিলো। কিন্তু মামা তাকে বসতে দেয়নি। তাকে বসিয়েছিলো মাঝখানে। বলেছিলো, ‘তরে সাইটে বআন যাইতো ন। হরি গেলে তর বাপে আঁরে আস্ত রাইখতো ন।’

রমিজুদ্দি তাকে নানার বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। আপাতত নাকি সে সেখানেই থাকবে। আবদুল্লাহ থাকবে ছোট চাচা কফিলুদ্দির কাছে। আর ফাতেমা রমিজুদ্দির কাছেই। সেরকমই সে শুনেছে। সে থাকবে নানার বাড়িতে, এখলাস মামার সাথে।

ট্রেনের একটা কামরায় বসে আছে সাদুল্লাহ। রমিজুদ্দি চাচা তাকে বসিয়ে রেখে কলা আর বিস্কুট আনতে গেছে। সাদুল্লাহ মন খারাপ করে বসে আছে। তার কেন জানি মনে হচ্ছে, এমন একটা কিছু ঘটতে চলেছে যেটা তার জন্য ভালো নয়। কিন্তু কিছুই সে অনুমান করতে পারছে না। ১১ বছর বয়সে কিছু অনুমান করা হয়তো কঠিনই। লোকে বলছে, তার বাবাকে নাকি তার চাচারা মেরে ফেলেছে! কথাটা সত্য, নাকি মিথ্যে সে জানে না। একথা সে রমিজুদ্দি চাচাকে জিজ্ঞেসও করতে পারছে না। জিজ্ঞেস করতে তার ভয় হচ্ছে।

রমিজুদ্দি চাচা কি তাকেও কোথাও নিয়ে মেরে ফেলবে? তারপর বাড়িতে গিয়ে বলবে, সে মারা গেছে! কেন জানি আজ রমিজুদ্দি চাচাকে তার ভয় করছে। এমনিতে রমিজুদ্দি চাচা সারাক্ষণ বকবক করা মানুষ। কিন্তু আজ বাড়ি থেকে বের হবার পর একটিও কথা বলেনি। স্টেশনে এসে এই ট্রেনের কামরায় প্রথমে সাদুল্লাহকে বসিয়েছে। তারপর নিজেও তার পাশে বসেছে। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকার পর হঠাৎই উঠে দাঁড়িয়েছে। সাদুল্লাহকে বলেছে, ‘তুই বয়, আঁই তর লাই বিস্কুট আর কলা লই আইত্যাছি।’

সাদুল্লাহর কিছুই খেতে ইচ্ছে করছিলো না। কিন্তু রমিজুদ্দি চাচা তার কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করেনি। সে বেরিয়ে গেছে কামরা থেকে।

ট্রেনের কামরাটা এরই মধ্যে প্রায় ভরে গেছে। সাদুল্লাহর পাশে যেখানে রমিজুদ্দি চাচা বসেছিলো সেখানে একজন বৃদ্ধ এসে বসলেন। সাদুল্লাহর বলা উচিত ছিলো, এখানে তার চাচা বসেছে। কিন্তু সে কিছুই বললো না।

রমিজুদ্দি চাচা গেছে অনেকক্ষণ হয়েছে। কতোক্ষণ – সে সম্পর্কে সাদুল্লাহর কোনো ধারণা নেই। আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা হতে পারে। রমিজুদ্দি চাচার কোনো খবর নেই। ট্রেনের যে কামরাটায় সে বসেছে তার জানালা দিয়েই কয়েকটা দোকান দেখা যাচ্ছে। সেখানে কলা ঝুলছে। সারি করে রাখা নানা ধরনের বিস্কুটের বৈয়ামও ট্রেনের জানালার পাশে বসে সাদুল্লাহ দেখতে পাচ্ছে। সেখানে দাঁড়িয়ে দু-একজন কলা-বিস্কুট-চা – এসব খাচ্ছে। তবে সেখানে রমিজুদ্দি চাচাকে দেখা যাচ্ছে না। কোথায় গেলো রমিজ চাচা!

হুইসেলের আওয়াজ কানে এলো সাদুল্লাহর। সে এবার কিছুটা ভীত হয়ে পড়লো। সে দেখলো, হুইসেলের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে লোকজন হুড়মুড় করে ট্রেনে উঠছে! সাদুল্লাহ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেন ছুটতে শুরু করলো। সাদুল্লাহ উঠে দাঁড়িয়ে প্রথমে জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো রমিজ চাচাকে, দেখা যায় কিনা। না দেখতে পেয়ে সে সিট ছেড়েই দরজার কাছে ছুটে গেলো। কিন্তু রমিজ চাচাকে কোথাও দেখা গেলো না। ট্রেন তখন চলতে শুরু করেছে। একবার তার মনে হলো, ঝাঁপ দিয়ে নেমে যাবে। কিন্তু নামার মুহূর্তেই এক যাত্রী তাকে ধাক্কা দিয়ে ট্রেনে উঠে পড়ায় সাদুল্লাহর নামা হলো না। ততোক্ষণে দ্রুত ছুটতে আরম্ভ করেছে ট্রেন। সাদুল্লাহ ট্রেনের দরোজার কাছে কিছুটা ভয় আর কিছুটা হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো।

এবার তার ভয়ানক কান্না পেলো। তবে, ঠিক কেন তার কান্না পাচ্ছে সে বুঝে উঠতে পারলো না। তার বাবার হঠাৎ মৃত্যু? নাকি এই মুহূর্তে রমিজুদ্দি চাচাকে না পাওয়ার কারণে?

স্টেশনটা পেরিয়ে যেতেই সাদুল্লাহর চোখ পানিতে ভরে গেলো। এগারো বছর বয়সেই এখন সে বুঝতে পারছে, তার চাচা তাকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছে যাতে আর সে বাড়িতে ফিরতে না পারে। এই ঝকঝকে সকালে, বাইরে যখন তীব্র রোদ, সাদুল্লাহর দু’ চোখে গভীর অন্ধকার নেমে এলো। এই ট্রেন তাকে কোথায় নিয়ে যাবে সে জানে না। সেখানে সে কী করবে, কোথায় থাকবে তাও জানে না। ট্রেনের কামরায় যে আসনটিতে সে বসেছিলো এরই মধ্যে তা দখল হয়ে গেছে। সে দেখতে পেলো, কোনো আসনই খালি নেই। এই মুহূর্তে সে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, কামরার দরোজার কাছে, সেখানটায় বসে থাকা আরও কয়েকজন নারী-পুরুষের পাশেই সে বসে পড়লো।

ট্রেন ছুটে চলেছে।

এই মুহূর্তে মায়ের মুখটাই চোখের সামনে ভেসে উঠলো সাদুল্লাহর। সাদুল্লাহ শুধু জানতে পারলো না, তার ছোট বোন আর ভাইটাকেও আরো দুটি পৃথক ট্রেনে তুলে দেয়া হয়েছে।

 

গনি মিয়ার কথা

আমার নিজের কাহিনি শুরু করার আগে আমার দাদা গনি মিয়ার কাহিনিটা আমরা একটু জেনে নেবো। একই সূত্রে আমরা তার ছেলে সাদুল্লাহ ওরফে সহিদ মিয়ার গল্পটাও জেনে নেবো। এ দুজনের জীবনের সঙ্গে গেঁথে আছে আমার নিজের জীবনের গল্পও। সে গল্প আমরা জানবো আরও পরে।

‘গনি মিয়া একজন কৃষক’- এ রকম একটা গল্প আমরা পড়েছিলাম ছেলেবেলায়। সেই গল্পে গনি মিয়া নামে একজন কৃষক ছিলেন। তার নিজের জমি ছিলো না। অন্যের জমি তিনি চাষ করতেন। কিন্তু এই গল্পের গনি মিয়া একজন সম্পন্ন কৃষক! তার নিজের বিশাল জমিজমা ছিলো। জমিজমা তার একটু বেশিই ছিলো। আর, এটাই তার জন্য কাল হয়েছিলো!

বাবার কাছ থেকে তিনি যা পেয়েছিলেন, নিজে অর্জন করেছিলেন তার চাইতে বহুগুণ বেশি। সুখেই ছিলেন তিনি। ফুটফুটে দুই ছেলে এক মেয়ে। আর আছে চার চারটি ভাই। যদিও ছোট ছেলে আবদুল্লাহ হবার সময় তার স্ত্রী মারা যান। গনি মিয়া আর বিয়ে করেননি। দুই ছেলে আর এক মেয়ের তিনিই বাবা, তিনিই মা।

 

গ্রামের নাম দোয়ালিয়া। তবে, এখানকার মানুষ দোয়ালিয়া বলে না, অথবা বলতে পারে না। বলে- দোয়াইল্লা। দোয়াইল্লা গ্রামের যে বাড়িটাতে গনি মিয়ারা থাকেন সেটার নাম ‘লোহার বাড়ি’! বাড়ির নাম কেন লোহার বাড়ি হয়েছিলো সে সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। গনি মিয়ার বাবা রহিমুদ্দী মিয়া বেঁচে থাকলে হয়তো তিনি বলতে পারতেন। লোহার বাড়িতে লোহার কোনো অস্তিত্ব নেই। ১৯ একর জায়গার প্রায় পুরোটা জুড়েই নারকেল আর সুপারির বাগান। ফাঁকে ফাঁকে আম-জাম-কাঠালসহ নানা গাছের সারি। বাড়ি আর এই বাগান মিলিয়ে লোহার বাড়িটা এতোই বিশাল যে সেটাকেই একটা ছোটখাট গ্রাম বলা যায়!

বাড়ির মাঝখানে মস্ত পুকুর! তাতে সারাক্ষণ খলবল করে নানা জাতের মাছ! গনি মিয়া আর তার চার ভাই শুধু নয়, তাদের পূর্বপুরুষরাও কখনো মাছ কিনে খাননি। প্রতিদিন এই পুকুর থেকেই মিয়াদের মাছের সংস্থান হয়। এটা শরিকি পুকুর নয়। তা সত্ত্বেও সব ভাইয়েরই এই পুকুরে মাছ ধরার অধিকার আছে।

গনি মিয়ার তাতে আপত্তিও নেই। তার ভাইয়েরা কেউ তার মতো হয়নি, এটাই তার আফসোস। ভাইদের জমি-জমাগুলি ফিবছর অনাবাদি পড়ে থাকছে। চাষ করার কেউ নেই। ভাইয়েরা সারাক্ষণ তাস খেলে। চাষবাস করার সময় তাদের কোথায়! ‘বাইগুলান জনমের আইলশা! বসি বসি খাইলে ত রাজার ভা-ও হুরাই যায়! ছুডু বাইগুলানও ব্যাক জমি বেচি খাইছে! ববিষ্যতে কী হইরব আল্লাহ ন জানে।’

অলস ভাইদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গনি মিয়ার চিন্তার শেষ নেই।

যদিও গনি মিয়া একবার ভাইদেরকে বলেছিলেন, ‘আঁর আঁতদ জমিগুলান ছাড়ি দে। আঁই চাষবাদ গরি দি।’

ভাইরা তাতে কান দেয় না। ফি বছর এক কানি, দু কানি করে জমি বেচে, আর খায়। এখন অবস্থা এমন যে বেচার মতো জমিও আর অবশিষ্ট নেই। কিন্তু গনি মিয়ার ভাইদের দেখে মনে হয় না তারা এটা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত। তারা সর্বক্ষণ আড্ডা দেয়, তাস খেলে আর পড়ে পড়ে ঘুমোয়।

গনি মিয়া ভেবে পান না তার ভাইগুলি এমন কীভাবে হলো। তার বাবা রহিমুদ্দী ছিলেন খুবই পরিশ্রমী। নিজের চেষ্টায় তিনি দোয়ালিয়ায় এতো জমিজিরেত করেছেন। লোহার বাড়ির চারপাশে করেছেন সুপারি আর নারকেল বাগান। শোনা যায়, তিনি ছেলেদের নারকেল আর সুপারি গাছ গুনতে বলতেন। ছেলেরা ক্লান্ত হয়ে ফিরে এসে বলতো, ‘বাজান, গুনি শেষ হরতাম হারি ন। মেলা গাছ!’

গনি মিয়া বড় হয়ে একবার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু উনিশ একর জমিজুড়ে লাগানো কয়েক হাজার গাছ গুনে শেষ করা তার পক্ষেও মুশকিল। গনি মিয়ার খুব ইচ্ছে, তিনি একদিন গাছগুলি গুনবেন। জানবেন, তার বাপ কতোগুলো সুপারি আর নারকেল গাছ লাগিয়েছিলেন।

ফাঁকে ফাঁকে আম গাছের পরিমাণও কম না। সেগুলোও তো কখনো ঠিকভাবে গোনা হয়নি! গনি মিয়া সুপারি আর নারকেল গাছের সেই বাগানে অবসর পেলেই হাঁটেন। গাছের আর পাতার ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখার চেষ্টা করেন। কখনো কখনো সাথে নেন তার বড় ছেলে সাদুল্লাহকেও। রহিমুদ্দী যেভাবে তার ছেলেদের বলতেন, গনি মিয়াও তেমনি সাদুল্লাহকে বলেন, ‘একদিন তুই আর আঁই মিলি ব্যায়াক গাছ গুনি হালামু। তুই হারবি ন?’

‘বাজান, আঁই হারমু।’ সাদুল্লাহর চোখ দেখে গনি মিয়ার বিশ্বাস হয়, এই ছেলে পারবে।

কিন্তু নিয়তি তাদের জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিলো। নিয়তি চায়নি, আমার দাদা গনি মিয়া, আর আমার বাবা সাদুল্লাহ বাগানের সুপারি আর নারকেল গাছগুলি কখনো গুনে শেষ করুক!

গনি মিয়া একদিন আকস্মিকভাবেই জ্বরে পড়লেন। শরীর কাঁপিয়ে জ্বর এলো তার। তিনি এও খেয়াল করলেন, তার হাত-পা ফুলে গেছে। কোমরে তীব্র ব্যথা। তিনি বিছানা নিলেন।

সাদুল্লাহ বললো, ‘বাজান, আন্নে হাসপাতাল যান না কিল্লাই?’

গনি মিয়া বললেন, ‘যাইউম, বাজান। কাইল হজরের নমাজখান হরিই যাইউম।’

কিন্তু সেদিনই সন্ধ্যার পর গনি মিয়ার জ্বর আরও বেড়ে গেলো। সাদুল্লাহ তার বাবা গনি মিয়ার কপালে হাত রেখে দেখলো, কপাল পুড়ে যাচ্ছে গরমে। কোমরের তীব্র ব্যথায় কোঁকাচ্ছিলেন তিনি। ছোট বোন ফাতেমা আর আবদুল¬াহ বাবার পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে শুরু করলো। পাশের ঘরেই থাকে রমিজুদ্দি। সাদুল্লাহর মেজো চাচা। সাদুল্লাহ প্রথমে তাকেই খবরটা দিলো।

রমিজ চাচা বললো, ‘তুই যা, আঁই তর ছোট চাচারে লই আইতাছি।’

কিছুক্ষণ পর ছোট চাচা করিমুদ্দিকে নিয়ে ফিরলো রমিজুদ্দি। গনি মিয়াকে ধরাধরি করে নৌকায় তোলা হলো। রমিজ চাচা বললেন, তরা কান্দছ কিল্লাই? চিন্তা করিছ ন। হাসপাতাল লই যাইতেছি। সব ঠিক অই যাইবো। তরা ব্যাক আল্লা আল্লা কর।

গনি মিয়াকে নিয়ে দুই চাচা রওনা দিলেন।

সাদুল্লাহর গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছিলো ফাতেমা। সাদুল্লাহ দেখলো, ফাতেমা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ফাতেমার কাঁধে হাত রাখলো সাদুল্লাহ।

নৌকা চলতে শুরু করেছে তখন। সাদুল্লাহ আর ফাতেমার চোখের সামনেই ঘন অন্ধকারে নৌকাটা হারিয়ে গেলো একসময়।

সাদুল্লাহর বুকটা হুহু করে উঠলো। তার কেন জানি মনে হলো, খারাপ কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে!

এর ঠিক ঘন্টাখানেক পরই প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলো। সঙ্গে শিলাবৃষ্টি। সাদুল্লাহ অনুমান করতে পারলো না এতোক্ষণে তার বাবাকে নিয়ে চাচারা হাসপাতালে পৌঁছতে পারলো কিনা। তার বুক দুরুদুরু করতে লাগলো।

পরের দিন দোয়াইল্লা গ্রামে চাউর হয়ে গেলো, হাসপাতালে মারা গেছেন গনি মিয়া! সবাই কথাটা বিশ্বাসও করলো। একজন ছাড়া। সে দোয়াইল্লা গ্রামেরই রফিক মোল্লা। সে নাকি গতরাতেই নিজের চোখে গনি মিয়াকে একটা নৌকায় পড়ে থাকতে দেখেছে। নদীর মাঝখানেই ভাসছিলো নৌকাটা।

বৃষ্টির মধ্যেই মাছ ধরতে গিয়েছিলো রফিক মোল্লা। এরকম ঝুম বৃষ্টির মধ্যে নৌকায় কাউকে শুয়ে থাকতে দেখে সে কাছে গিয়ে দেখে, চিৎ হয়ে পড়ে আছে নিথর গনি মিয়া!

সকালে বাড়িতে গনি মিয়ার লাশ দেখে আবদুল্লাহ আর ফাতেমা চিৎকার করে কাঁদছিলো। কিন্তু সাদুল্লাহ কাঁদতে পারছিলো না। তার চোখে কোনো পানিও আসছিলো না। লাশের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়েছিলো সে। কী ভাবছিলো- সেটা অবশ্য সাদুল্লাহ অনেকদিন কাউকে বলেনি।

[চলবে]

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(6)

  1. এক নিঃশ্বাসে পড়া শেষ! এখন তো বিরাট দুশ্চিন্তা নিয়ে বসে রইলাম সাদুল্লাহ যে কি করছে ট্রেনে একা একা।আশা করি তীরন্দাজ ঝটপট পরের পর্ব দেবে।অনেক শ্রদ্ধা ফরিদ কবিরকে।

  2. প্রারম্ভেই মন কেড়েছে, আর ও পড়বার অপেক্ষায় !

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close