Home কবিতা ফারহান ইশরাক > স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা
0

ফারহান ইশরাক > স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশঃ September 15, 2017

ফারহান ইশরাক > স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা
0
0

ফারহান ইশরাক > স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা

ফারহান ইশরাক। এই সময়ের একজন উল্লেখযোগ্য কবি। কীভাবে অসাধারণ বাকপ্রতিমা আর ভাবচ্ছবি নির্মাণ করে কবিতা লিখতে হয়, ফারহান তা বেশ ভালই জানেন। পড়ুন এই কবির কবিতা তীরন্দাজে।

মা

সেল ফোন ফেলে দাও মা, শুনতে পাচ্ছি…

নাভি থেকে কেটে ফেলা কর্ড…মৃদুশিহরিত

মেজেন্টা আঁধার ধরা বিশ্বগহ্বর

কানে গুঁজে একাগ্র হয়ে আছি, বলো…

আঁচলে জড়িয়ে নিয়ে যেভাবে বলতে

ধ্বনিপ্রবাহের বৈদ্যুতিন লীলা

তার চেয়ে শব্দগ্রাহী হতে পারে নাকি?

হেডফোন ফেলে ক্লিনিকের নাম কেটে

চলে যাবো, পথ্য আসারও আগে!

ফ্ল্যাশ ব্যাক হাসপাতাল দূরে দেখা যায়

কপালে জলপট্টি হলদে বা কিছুটা ধূসর

জ্বরে কাঁপা দেহ চিনচিন

বিস্কুট ভেজানো কাপে ভাগ্যরেখার ঢেউ

দুই হাত নক্ষত্রে তোলা, উড়ে যাচ্ছো বুঝি!

মমতার শাখা নদী কোন দিকে গেছে?

আন্তঃমহাদেশ ফেনা করা

স্রোতের উৎসব

ইস্পাত ভেঙে ছুটে যায়

মাটির রসে মুখ বুঁজে পড়ে থাকা বীজ

এবার দেখো পাতার উড়ালে কেমন

একাগ্র হয়ে আছে!

আভাসের ভাষা কত আন্তরিক হতে পারে

এক পায়ে দাঁড়ানো সারস

আমারে কি বলে নাই দাঘ্রিমা চেনার দিনে?

ঝরে পড়া বাঁশপাতার স্বর, খেলাঘর

আতাফলঘন রাত, শিশিরে উৎসব

সেল ফোন ফেলে দাও মা, শুনতে পাচ্ছি…

ইলিশ 

গভীর রাতে ইলিশ মাছকে আপনি করে বলি

পেটিতে জোছনা ফলিত এই বিস্ময়!

একটু দূরত্ব রাখি, ভালোবাসা থেকে সম্মান

যতটা, তার চেয়ে বেশি বা কম নয়।

আঁশটের ঘ্রাণে আমার অনার্য মন পাগলপারা

ক্যালসিয়ামের প্রতিটা বৃত্ত বড়ই দরদি

আমিষের ভোগ যত্ন করে রাখে ভাঁজে ভাঁজে

শ্রেণিসমাজের কথা মনে হলে

গুহা থেকে একটু সরে ভোর আসে পৃথিবীতে

পেটের দাহিকা তাতেও নেভে না

মাছের জন্য কয়লাগুলো লাল হয়ে ওঠে

নৌকার গলুই জানে জলে কেন আগুন জ্বলছে।
পেটিতে জোছনা ফলিত ইলিশ জানে না কি

খাদ্য হিসেবে তাকে দেখি নাই?

তুমি করে বলার জন্য আর কত

মোড় ঘুরতে হবে এই প্রশ্নে

নদীর মেনোপজ!
জেলেসম্প্রদায় সন্দেহ করছে বোঝা যায়

জালের ফাঁস চিকন করেছি বলে

তারা আমায় ছাড় দেবে মনেই হচ্ছে না
ধরা পড়ার ভয়ে লাফিয়ে ওঠা ইলিশকে

সালাম জানাই। জবাব না দিয়ে তিনি

মারা যান অক্সিজেন সংকটে

পেটিতে জোছনা ফলিত ইলিশ!

গভীর রাতে আমি তারে আপনি করে বলি!

মাইগ্রেশন
রুটি কেনার পয়সা হবে না ভেবে

মার্কিন (কানাডিয়ান হতেও বাধা নাই)

হোটেলের সামনে, আকস্মিক, থামে

কবিতার ব্যাগ…তাজা আর রক্তে ভেজা

…এবং একটা চাঁদ ছাড়া,

সম্ভবত কেউ তা দেখতে পায়নি।

পেঁচার ডাকের নিচে কিছু লোক

তর্ক করে নাক মুছতে মুছতে

সর্দি ঝেড়ে ফেলার পরে

কেন-ই-বা বাসতে হবে বুকের উপর

শুয়ে, দূর থেকে কেন নয়?

দাগের বাইরে থেকে মানচিত্রের

চেনা পটভূমি চাষাবাদ করাই বা

মন্দ কি!

আচ্ছা চলো যাই, দাঁড়িয়াবান্ধা মাঠ

পিছে ফেলে, আর পিতার লাশ ওখানে

ঠোকরাক কাকে

বাসবো দূর থেকে, ভেতরে থাকলে

হাগুমুতু করতে হয় বাসার জিনিসে

রুটি লাল হলে তার স্বাদ ভিন্নতর হবে

সেঁকা না দিয়ে আপাতত আর কিছু

না-ই বা বললাম অগ্রিম।

শিপমেন্ট
আদার মজুদ শেষ হলে বন্দরে চাঁদ ওঠে একা

খুচরা দামের টলটলে ঘাম, এমন বৃত্ত আঁকে

ভাঙা কপালের ছবি দেখা যায়

অবেলা সন্ধ্যায়!

আকাশের নিচে পথ, পটরেখা, বটের ঝুরিকা

ক্ষুধার চেয়ে ঢের বড় নীলে ফোটা বেদনার বেড়

তিন জাহাজ আলো সেই ঘাটে এসে ভেড়ে

খালি পেটে রান্নাঘর তেঁতে ওঠে মশলার ঘ্রাণে।

নিজের কবর দেখে বায়ে ঘুরে অন্য পথ ধরি

সরলরেখা একটু মচকালে শিরাপথে রক্তের ঘাই

এমন ধাক্কা মারে উল্টে যায় নখের কিনার

খালাসির আগেই বুঝি পরমায়ু ভিন্ন দিকে মোড়

বন্দরে মাল নয়, সারে সারে সর্বনাশ

হঠাৎ চমকায়।

মরণোত্তর

কাচের ঘরে বাস করে যারা, মূলত মানুষ মাত্রই…
তাদেরও কি শোভা পায় কারো দিকে ঢিল ছুঁড়ে
মারা? তাছাড়া এইসব বসতের ঘের-প্রাচীরগুলো
প্লাসেন্টার মতো এতই পাতলা, ভেতরের বেত্তান্ত
সবই দেখা যায়, সম্ভবত কেউ-না-কেউ দেখে।

একশো বছর বেঁচে থেকে ঘুমকে কেবল স্বপ্নেই
করেছি তর্জমা। জেগে উঠে একবারও দেখি নাই
শান্তির স্তনকুঞ্জ খুলে, সেখনে যে দুধের ফ্যাক্টরি
করে রাখা ছিল। গ্লুকোজ ভরতি কাঁচা ফসলের
রেণুধারা একটুও টিপে দেখা হয় নাই জীবদ্দশায়
পত্রকাচুলি খুলে মুখে নিয়ে দেখি নাই জীবনের
প্রকৃত সঙ্গম।

কুয়াশা বা একপ্রস্ত আশার ‘ছলনে’ ঘন জোছনায়,
কেটে গেছে বসন্ত মদিরা এবং চুমুকের বিভ্রান্ত স্বর
সরল ছিলাম বটে, কুসুমের বোঁটা ছেড়া কষ?
ঝরনাধারা ঘাস মাটি পাখি তৃষ্ণার্ত চোখ আর
বিস্ময়ের ঝিলিকে বেচেছি এক চুমুক অন্ধকারে!

মরার পরে প্রথম বুঝলাম কাচের ঘরেই ছিলাম
যেসব জিনিস সবল ভেবে করেছি আশ্রয়,
ছিল সবই বড়ই ভঙ্গুর। জীবিতদের দীর্ঘশ্বাসগুলো
কবরে বেছানো, এটুকু টের পাই। কবিতার ঘাণে
পচা মাংসের শাপ অভিশাপ দূর হয়ে গেছে বুঝি!

স্বাদ

পাখি এসে ফলের স্বাদ জিজ্ঞাসা করে

মুখ খুললে মহাযুদ্ধ শুরু হতে পারে

ফলত আমি চুপ থাকি, গাছ হয়ে যাই

গাছের শেকড়ে দেখি আকাশ গজিয়েছে!

কেউ এসে বলে, এই আয়না কার?

কাণ্ডের ভেতর দিয়ে আমি তখন

প্রকাণ্ড সাপের মতো প্রবাহিত, মজ্জায়।

আমি মারা যাই, আর পরদিন ভোরে

আমার কবরের পিঠে একটা ফল পড়ে থাকে

আমি বরাবরই চুপ থাকতে ভালোবাসি।

শিরোপা

শিরোপা নিয়ে সিঁড়িতে এভাবে গড়িয়ে পড়া

কেমন দেখায়! এইসব লাল স্বীকৃতি আসে

প্রাতিষ্ঠানিক বলাৎকার থেকে, জালপাতা

মাকড়ের শীৎকার থেকে। এসব ছেড়ে, আয়

পাতালগামী পাইপের মাথায় বসানো ফিল্টার

থেকে রক্ত তুলে আনি। আায় কবিতা লিখি-
আগুনের পিক ফেলতে ফেলতে যাবো

রাস্তার শেষ মাথা ঘুরে স্নিগ্ধ জটিলতায়

চেক লুঙ্গি দেখে তারা ভাববে, পান খাচ্ছি

ছাই উড়িয়ে কেউ বলবে অচেনা লোকটা

এইভাবে স্বীকৃতিহীন হেঁটে যাচ্ছে!

আয়, ওদের বলবো পেরেকের প্রবল চূড়ায়

পা রেখে হাঁটার অর্থ কতটা জীবন-অভিমুখী।

খাওয়া
শেষনিঃশ্বাসের মতো পাকা ধানে মাঠ ভরে
আছে। হঠাৎ-বর্ষণে কাস্তে ডুবেছে জলে
সামান্য শস্যের শোকে তবে কি এতটা কেঁদেছি?
গোলাঘরে মৃত নক্ষত্রের খোসা, চাঁদ ডুবে
যেতে যেতে
আলুর চামড়া নিজেকেই তুলতে হবে
এটুকু বুঝেছি!
সরষের তেলে গলা কাটা দাম অবিরাম গন্ধসুরভি
ধোঁয়াবাষ্প শুভেচ্ছা জানায়।
লাশ যত অপরূপ হোক দরোজা খোলার কাজ
আমাকে দিও না। আমি কবি, স্বপ্নের পচা মাংস
খেয়ে গোরস্তানে সুইচ টিপে দিতে পারি
এর বেশি কিচ্ছু চেয়ো না!
সাত মেট্টিকটন রুটির পাশে রক্তাক্ত এক মাছি
পেটে হাত দিয়ে দেখো, ক্ষিধে নাই, সিধে হয়ে শুয়ে
আছি। এখান থেকে আকাশ দেখা যায়
ফ্ল্যাট ব্যবসা মন্দা হলে কবিতার কী-ই বা
এসে যায়?

দপ্তর আমাকে বিক্রি করে দিক
কৃতদাস প্রথা আছে, ডোরাকাটা পিঠ কেবল ঢেকেছে লজ্জায়

চাবুকের ক্ষত ঢাকা এই ভদ্রতাকে জামা ভেবে সুখ পাওয়া

যায়? কিছু লোক শান্তি পেলে হাতের মুঠোয় পৃথিবী বদলাবে!

বাজার বদলে গেছে; মানুষ বিক্রি তা বলে অতটা মন্দা নয়

চামড়া উল্টে নিলেই আমার অন্য চেহারা দেখা যেতে পারে

এবং দর কষার কায়দা জানি না বলে এ দায়িত্ব দপ্তর

নিতে পারে, সম্ভবত আমি পারবো না। বেসাতির ধর্ম এই: দু পয়সা

বেশি পেলে কাঁচা মালের ব্যাগে আস্ত চাঁদ মাংসের অভিধাও

পেতে পারে।

বেড়ালের চামড়ায় মুড়ে রাখা বাঘ যে চেনে না সে বরং তাকে

বিক্রিই করে দিক। কত দামে ঝুড়িতে উঠবো তাই ভেবে

এ বেলার অন্ধকার ভোর হয়ে আসে। জোছনা নয় প্রচণ্ড আলোতে

মরবো–দপ্তর খোলা এই দিনে অপলক অন্ধকারে মরণডানার নিচে

একা, ঝাপখোলা ঘরে।

ছোপরক্তের তারা

শুকাতে দেওয়া পশুর চামড়ায় রফতানি বাজার

চনমন করে ওঠে। অথচ একটু আগেই

হৃৎপিণ্ডময় জীবিত মহাদেশ এরই মধ্যে

মুখরিত হয়ে ছিলো!

 

ছোপরক্তের তারাগুলো এখন আর জ্বলবে না

পায়ের জুতা বহু পথ অতিক্রম করে যাবে

ভ্যানিটিব্যাগে জাবরকাটা জমবে কিছুটা।

 

সুন্দরের সঙ্গে আলাপের সময় দশ বাক্যের

নয়টা অগোচরে থেকে যায়। গোপনতায় চুমুক

দিয়ে এত বিষ কে আনতে পারে?

অপ্রকাশের আড়াল থেকে একটা পশু

শিল্পকলার সারাশহর তছনছ করে যায়!

আলপিনেগাঁথা মুহূর্তগুলো
কফিনে ছিলাম শুয়ে মৃদু আলো মৃদু অন্ধকারে

অর্ধেক ছিলাম জেগে অর্ধেক ঘুমে, যদ্দুর মনে পড়ে

দূরে প্রান্তর, মাথার ’পরে কাটা হৃৎপিণ্ডের মতো চাঁদ

ছাটা ঘাসের গলা থেকে গোঙানির শব্দ আসছিলো

ফসলের গ্রীবা থেকে ছোট্ট এক পতঙ্গ এসে বলে-

লিখে যাও, একদিন শেরোপা পাবে সোনার আলপিন

এমন মেধাবী চারু পদার্থের নাম শুনে বেদম ঘাবড়াই

তাছাড়া এই ধাতব বস্তু ঘিরে মানুষের লোভ কাজ করে

বললাম, আলপিনের চূড়া বুঝি ডুবে আছে

মধুর ভাণ্ডারে? সূক্ষ্মতা নয় মোটে বেদনাসঞ্চারী?

দেখলাম, মাটির রন্ধ্রকোষ থেকে উঠে আসা পোকা

মাঝারি শিখার মতো উড়ে গিয়ে নক্ষত্রে ঠেকলো

ভাবলাম, কফিনের বরফ থেকে উঠে

গরম কফির কাপে হরফ ভিজিয়ে নতুন কিছু লিখেই

ফেলবো। হঠাৎ কাঠের বাকশো দেবে যেতে থাকে

সোনার আলপিনে গেঁথে রাখা মুহূর্তগুলো কার হাতে

রেখে যাবো?

যাওয়া

হাঁসের গলার কাছে জল ভাগের সমস্ত দলিল, খুশি মনে

জমা দিয়ে চলে যাবো। আন্তরিক মেঘের আগুনে

ডানা লেপটিয়ে বলবো, চললাম! লেজের দিকে মুখ

ফেরাবো না—এক টানা উড়ে হঠাৎ-ই একদিন

একটা সরষে ক্ষেতে পড়বো খসে—এক চিলতে ভাঙা

এরোপ্লেন। শিশুরা তার ব্যঞ্জনা পুরোটা বুঝবে না।

এতটা নরোম ছিলাম পাথরের খোলে! বুক-মহাদেশে

পলিকাদা নীরবে বলতো: প্রতিটা পায়ের চিহ্ন লিপিবদ্ধ করে

রাখো। পাঁজরে কাটুক দাগ প্রতি জোড়া কঠোর পাদুকা।

শেষবার চলে যাওয়ার আগে মরণ এসে বার বার দেখা

করে যায়। আবেগী সখার মতো তার হাতে ফলমূল

কতকিছু থাকে! গোড়ালি ঘুরিয়ে বলে: না-ই রেখো মনে–

পায়ের ছলনাগুলো পাঁজরের ঘরে পুষে রেখো।

ইস্পাতে ডুব দিয়ে কতবার পাতাল ছুঁয়েছি। সেখানে দেখেছি

হাঁস। হেসে হেসে করেছে হেঁয়ালি: এতটা গুটিয়ে ছিলে,

এবার দাও না খুলে শামুকের শীতল দরোজা। একটু লেহন

করি, চলে যেয়ো ফেনার বিষাদে।

বলে হাঁস, করুণার চিকন আওয়াজে: গলার কাছে দস্তাবেজ

লিখে রেখে উড়ে যাও, যার আশায় প্রহর গুনেছো।

অন্ধকার ট্রেন
লাঙলের ফালে শহরের ছবি দেখে ডুকরে কেঁদেছি

তখন কৈশোর। মাটির ঘষায় ইস্পাতে আয়না রচিত

হলো

অথচ নিজের মুখ দেখা যাচ্ছে না! অচেনা একজন

ঘাসের পৃষ্ঠা ভুলে সেমিনারে থিসিসের পাতা

উল্টায়!

শিশিরের ফোঁটায় তখন আগুন জ্বলছে। সন্ধ্যার মেঘ

প্রবল চুমুকে লটকায় বালকের মন। জবাই করা

পশুর মতো অজস্র আকাশ কাতরায় বিভিন্ন দ্রাঘিমায়

অভিশাপও একটা রাস্তা হতে পারে! হঠাৎ এসে

তুলে নিতে পারে অন্ধকার ট্রেনে। প্রতি কামরায়

লাশের মাংস এবড়ো-খেবরো, মুহূর্ত ছুটছে অস্তগামী

ভবিষ্যতের দিকে।

শেকড়ের নুন টানা মুলতবি হয়ে গেলে ভূগর্ভের রক্ত

উঠে আসে। প্রাত্যহিক অজাচার থেকে পৃথিবীর

যোনিদেশ জাহান্নাম হয়ে ওঠে!

বিলের কর্দম এড়িয়ে এসে অডিকোলনের ঘাম

চুষে সুশীলের কাতারে উঠেছি। জংশন বা স্টেশন

ফেলে এসে আত্মঅহংকারের সোনাদানা

কোথায় লুকাবো? ধানের চারা দুলে ওঠা বাতাস থেকে

আদর এনছি কি? পকেটে কি নাড়িকাটা রুমাল আছে

ঠিকঠাক? উদয় অস্তের খনি ভরা সিঁদুর দেখেছি

কেউটের ভয়ে খুলবো না প্রাচীন কৌটা!

গন্ধের একটা স্তর প্লাবিত হয়ে আরেক সৌরভ

পেট্টল ভরা পিস্টনে একেকটা ফুল আর্তরব করে ওঠে

কাদাপানি এত ঘোলা, দেখেতে পাই নি মাইলস্টোন

কুণ্ডবাড়ির দোয়াব থেকে এসে গেছি অশ্রুর ফার্নেসে।

Top of Form

Bottom of Form

কানকোকাটা কইমাছের পিছে পিছে

ঘন জোছনায় কানকোকাটা কইমাছের পেছনে ছুটছি

আঁশটের শেঁওলা উঠে গেছে, ঝুরঝুরে ছাই

পিচ্ছিলতার পুরোটা দিয়েছে মুছে। বেগ কমছে না

জলের নিরীহ কীট ডাঙায় উঠে এত দৌড়াবে

কে ভাবতে পারে! পাকা শস্যের মাঠ ঝনঝন করে

ওঠে। তা বলে কি থামানো যায় শোচনার এই

অ্যাম্বুলেন্স? অস্ত্রের পেছনে কেউ প্রতিহিংসা জমা

রাখে

বটিশালার বউ একা এই সর্বনাশ ঘটাতে পারে কি?
পাথর, মাটি, ধূলি ও জঞ্জাল পেরিয়ে কানকোকাটা

মাছের পেছেনে ছুটি। এ থেকে পরিত্রাণ নাই, পথে

যতই কাঁটার ফিনকি বিচ্ছিরি আলপনা এঁকে যাক

যাবো, জটিল সাপের মতো বোধ কাজ করে

কী করে বা উপেক্ষা করা যায় এইসব অসহ্য প্রহার!

ছুটি একা একা, কাচের পাত্র ভরা পানি উল্টে পড়ে…

নেত্রনালির বিভিন্ন স্তর থেকে জমা করা এই ঔষধি

হায়, তবে কি বাঁচানো যাবে না তাকে, সে আমার

বাল্য সখা ছিলো!

তার সঙ্গে সাঁতরেছি পানাবিলে, ঘোলা বর্ষায়।
রক্তে সাঁতার কাটা ছিলো কি তার সখ? মিঠা পানির

জলাশয়ে আমিষপোকারা অপরাধী হতে পারে?

প্রশ্ন গুটিয়ে রাস্তাই বরং প্রসারিত করা যাক

বটিখানা কোথায় পড়ে আছে, কোথায় সে অর্ধসফল

হাত?

লাল বরফের দেশ থেকে গলাকাটা মাছ ছুটে আসে

জবাই সেখানে এতই মামুলি মা-মাছেরাও মুখ বুঁজে

থাকে। প্রশাসনও প্রতিচ্ছবির ভয়ে আয়না ভাঙার

অধ্যাদেশ জারি করে

গন্ধের নিরিখে ছুটি… ধরা গেলে বুকে, যথাস্থানে

গেঁথে নেবো বটি। এ বেদনা অধমের অংশভাগ হবে

লোকনিন্দায় ভাবি, এই পাগলামি কত না জরুরি।

তরল জিনিস 
তরল জিনিস সব সময় আয়নার মতো নয়

এটুকু বুঝতে সেলুনের পারদ খসে যায়

পাকা চুল দাড়ি জোড়া দিয়ে মৃত্যুর দূরত্ব

মাপা সুবুদ্ধির পরিচয়, যদিও কম লোকই

তা পছন্দ করবে

মরার আগে চোখের জ্যোতি ঝাপসা না হলে

লাশের নাভিতে চাঁদ দেখা সম্ভব হতে পারে!

পাথরও উপযুক্ত উষ্ণতা পেলে তার বুকে

সাঁতরাতে নিষেধ করবে না

ইস্পাতের ঘষা থেকে ইর্ষা জন্মালে সরল মানুষ

তাতে বিস্মিত না হয়ে পারে না

লকারে জং ধরবে, কান্না জমানো ঠিক কিনা

ভাবার বিষয়। উড়ে যাওয়া পাখির পালক

খসে পড়ে রাতের নদীতে, যা কেবল

রক্তস্রোতমুখী। জোছনার বধ্যভূমি থেকে ফিরে

ফিজ খুলে দেখি গলাকাটা মুরগি চলে গেছে

এক ড্রয়ার দীর্ঘশ্বাস নীল রঙের আইসক্রিম

হয়ে আছে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close