Home শ্রদ্ধাঞ্জলি স্টিফেন হকিং > সাক্ষাৎকার >> ১০টি প্রশ্ন >>> মাসুদুজ্জামান অনূদিত

স্টিফেন হকিং > সাক্ষাৎকার >> ১০টি প্রশ্ন >>> মাসুদুজ্জামান অনূদিত

প্রকাশঃ March 14, 2018

স্টিফেন হকিং > সাক্ষাৎকার >> ১০টি প্রশ্ন >>> মাসুদুজ্জামান অনূদিত
0
0

স্টিফেন হকিং > সাক্ষাৎকার >> ১০টি প্রশ্ন >>> মাসুদুজ্জামান অনূদিত

 

“জীবনের সব সমস্যার সমাধানের উত্তর আমার জানা নেই। মহাবিশ্বের সূচনা কীভাবে হয়েছিল পদার্থবিজ্ঞান আর গণিত সেটা বলতে পারে। কিন্তু মানুষের আচরণ কেমন হবে সেটা অনুমান করার ব্যাপারে এদের ব্যবহার তেমন কাজে আসে না।”

[সম্পাদকীয় নোট : স্টিফেন হকিংকে (১৯৪২-২০১৮) মনে করা হয় গতশতকের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিখ্যাত বিজ্ঞানী। প্রতিবন্ধিতার তীব্র সমস্যা সত্ত্বেও তিনি যে থিওরি অব এভরিথিং-এর তত্ত্বটি দিয়েছেন তা যুগান্তকারী এক তত্ত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। মহাবিশ্ব সম্পর্কিত এই তত্ত্বটি হকিংকে দিয়েছে সমকালের শ্রেষ্ঠ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীর শিরোপা। এই সাক্ষাৎকারের উৎস : টাইম পত্রিকা, ১৫ নভেম্বর ২০১০ সাল। এখানে ১০টি বাছাই করা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন হকিং।]

 

ঈশ্বরের অস্তিত্ত্ব যদি নাই থাকে, তাহলে এই ঈশ্বরের ধারণা বিশ্বব্যাপী এতটা সর্বজনীন হয়ে উঠলো কেন?

আমি কখনও বলিনি যে ঈশ্বরের অস্তিত্ত্ব নেই। মানুষ যে যুক্তির ওপর ভর করে এই পৃথিবীতে এসেছি বলে, তার জন্যেই একটা নামের দরকার ছিল, আর সেটা হচ্ছে ঈশ্বর। ঈশ্বরের অস্তিত্ত্ব এটাই। কিন্তু আমি মনে করি যুক্তি হচ্ছে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলসূত্র। কেউ যদি অন্য কিছুর সঙ্গে ব্যক্তিক সম্পর্ক অনুভব করে, তার সঙ্গে এই সূত্রগুলিকে মিলিয়ে দেখা যাবে না। ঈশ্বর নৈর্ব্যক্তিক।

মহাবিশ্বের কী সমাপ্তি ঘটে গেছে? যদি তা ঘটেই থাকে, তাহলে এরপর কী আছে?

পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা যাচ্ছে, মহাবিশ্বের আকার দ্রতগতিতে বাড়ছে। এই বৃদ্ধির কাজটি সবসময় চলতে থাকবে। ক্রমশ তা শূন্য আর অন্ধকার হয়ে বাড়তে থাকবে। যদিও মহাবিশ্বের কোনো শেষ নেই, বিগ ব্যাঙের মাধ্যমে এটা শুরু হয়েছিল। কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারে, এর আগে কী ছিল, উত্তরটা হলো বিগ ব্যাঙের আগে কিছুই ছিল না। যেমন কিনা দক্ষিণ মেরুর কোনো দক্ষিণ নেই।

মহাকাশকে গভীরভাবে অনুসন্ধান করা পর্যন্ত আপনি কী মনে করেন আমাদের সভ্যতা টিকে থাকবে?

আমি মনে করি সোলার সিস্টেমকে করায়ত্ব করার কারণে আমাদের অস্তিত্ব বহুকাল টিকে থাকবে। বলা দরকার, পৃথিবীর মতো অন্য কোথাও সোলার সিস্টেম এতটা কার্যকর নয়। তবে পৃথিবীকে যদি বসবাসের অনুপযুক্ত করে ফেলা হয় তাহলে কী ঘটবে বিষয়টা আমার কাছে পরিস্কার নয়। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের টিকে থাকার বিষয়টাকে নিশ্চিত করার স্বার্থে আমাদের গ্রহ-নক্ষত্রের কাছে পৌঁছুতে হবে। ব্যাপারটা সময় সাপেক্ষ। তবু আশা করি, সেই সময় পর্যন্ত আমরা টিকে থাকবো।

আইনাস্টাইন সম্পর্কে যদি জিজ্ঞেস করি, কী বলবেন?

আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম, কেন তিনি ব্ল্যাক হোল যে আছে, বিশ্বাস করতে পারেননি। তাঁর আপেক্ষিকতার যে সূত্র সেটা বুঝিয়ে দেয়, অনেক বড় একটা নক্ষত্র বা গ্যাসীয় মেঘ নিজে নিজেই ভেঙে পড়বে অথবা গঠন করবে কোনো ব্ল্যাক হোল। আইনাস্টাইন এ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, কিন্তু যেভাবেই হোক তিনি নিজেকে নিশ্চিত করেছিলেন যে বিস্ফোরণের মতো কোনো একটা কিছু সবসময় ঘটছে যা বস্তুপুঞ্জকে (mass) ব্লাক হোল গঠন করা থেকে বাধাগ্রস্ত করে। কিন্তু কথা হলো, সেটা যদি না ঘটে তাহলে?

আপনার জীবদ্দশায় কোন আবিষ্কার বা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিটা দেখে যেতে চান?

নিউক্লিয়ার ফিউশনের ব্যাপারে আমি আগ্রহী যা শক্তির প্রকৃত উৎস হয়ে উঠবে। এটা দুষণ আর বৈশ্বিক উষ্ণতা সৃষ্টির পরিবর্তে আমাদের অনিঃশেষ শক্তি সরবরাহ করবে।

মৃত্যুর পর আমাদের সচেতন (conscious) স্তরে কী ঘটে বলে আপনি বিশ্বাস করেন?

আমি মনে করি মস্তিষ্ক অনিবার্যভাবেই একটা কম্পিউটার আর সচেতনতা হচ্ছে কম্পিউটার প্রোগ্রামের মতো একটা কিছু। কম্পিউটার বন্ধ করে দিলে এটা চলবে না। তাত্ত্বিকভাবে স্নায়বিক নেটওয়ার্কের মধ্যে এটি পুনরায় সৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু সেটা হওয়া ভীষণ কঠিন। কারণ সেটা হতে গেলে প্রয়োজন হবে স্মৃতির।

একজন অসাধারণ পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে কোন সাধারণ বিষয়ের প্রতি আপনার আগ্রহ আছে যা জানলে মানুষ অবাক হতে পারে?

আমি সবধরনের সংগীত পছন্দ করি- পপ, ক্লাসিক্যাল এবং অপেরা। আমার ছেলে টিমের সঙ্গে ফর্মুলা ওয়ান রেস নিয়েও কথা বলি, আগ্রহ দেখাই।

আপনি কি মনে করেন আপনার শারীরিক প্রতিবন্ধিতা আপনার পঠনপাঠনকে বাধাগ্রস্ত করেছে অথবা সহায়তা?

আমার দুর্ভাগ্য যে আমি স্নায়ু সঞ্চালন (motor neuron) সংক্রান্ত রোগে ভুগছি, এছাড়া প্রায় সবকিছুতেই আমি সুবিধা পাচ্ছি। আমি সৌভাগ্যবান যে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করি, এটা এমন একটা ক্ষেত্র যেখানে কাজ করতে গেলে প্রতিবন্ধিতা বড় কোনো বাধা হয়ে ওঠে না। আমার জনপ্রিয় বইগুলি দিয়েও আমি বাজিমাৎ করতে পেরেছি।

মানুষ সবসময় আশা করে, জীবনরহস্য সম্পর্কিত সব প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা- বিপুল এই প্রত্যাশা কী আপনার ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করে?

জীবনের সব সমস্যার সমাধানের উত্তর আমার জানা নেই। মহাবিশ্বের সূচনা কীভাবে হয়েছিল পদার্থবিজ্ঞান আর গণিত সেটা বলতে পারে। কিন্তু মানুষের আচরণ কেমন হবে সেটা অনুমান করার ব্যাপারে এদের ব্যবহার তেমন কাজে আসে না। কারণ, সেটা করার জন্য আরও অনেক সূত্রের সমাধান করা দরকার। মানুষ কিসে কখন কি কারণে কোন ধরনের আচরণ করবে, সেটা আমি খুব ভালো বুঝতে পারি না, বিশেষ করে নারী হলে।

মানবজীবনে এমন সময় কী আসবে যখন সবাই পদার্থবিজ্ঞান কি বুঝে ফেলবে?

আমি আশা করি তেমন সময় আসবে না। তাহলে আমি আমার কাজটা হারাবো।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close