Home অনুবাদ বব ডিলান > ‘আত্মপরিচয়ের গান’ আর ‘টারান্টুলা’ থেকে >> ভাষান্তর : মাসুদুজ্জামান

বব ডিলান > ‘আত্মপরিচয়ের গান’ আর ‘টারান্টুলা’ থেকে >> ভাষান্তর : মাসুদুজ্জামান

প্রকাশঃ May 24, 2018

বব ডিলান > ‘আত্মপরিচয়ের গান’ আর ‘টারান্টুলা’ থেকে >> ভাষান্তর : মাসুদুজ্জামান
0
0

বব ডিলান > ‘আত্মপরিচয়ের গান’ আর ‘টারান্টুলা’ থেকে >> ভাষান্তর : মাসুদুজ্জামান

 

[সম্পাদকীয় নোট : আজ ২৪ মে বব ডিলানের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী। এই দিনটিকে স্মরণ করে প্রকাশিত হলো ডিলানের টুকরো দুটি লেখা।]

 

আত্মপরিচয়ের গান

 

নিউ ইয়র্কে ডিলানের দুঃসময়

 

সাহেব-বিবিরা আসেন, আমার গান শুনে যান। ঠিকঠাকই গাইবো, তবু হয়তো খটকা লাগতে পারে। আপনাদের সকলের যেসব কথা জানা, তারই কিছুটা শোনাবো। নিউ ইয়র্ক শহরে বাঁচা আর সেই বেঁচে থাকার দুঃসময়ের কথা। পুরনাে শহরটা দারুণ। ঠিক চোখের মতাে। ওয়াশিংটন হাইটস থেকে হার্লেম অব্দি। মানবসমাজ চারদিকে গিজগিজ করছে। উঠতে চাইলে লাথি মারবে আর নিচে পড়ে থাকলে মারবে ধাক্কা। নিউ ইয়র্ক শহরে এভাবেই বেঁচে থাকা আর সেই বেঁচে থাকার দুঃসময়।
গােল্ডেন গেট থেকে রকেফেলার চত্বর কিংবা এম্পায়ার স্টেটটি অনেক দূরের পথ। মিস্টার রকেফেলার উড়তে থাকেন প্রায় পাখির মতােই, আকাশে। আর বৃদ্ধ এম্পায়ার তাে বাদ সাধেন না। নিউ ইয়র্ক শহরে এভাবেই বাঁচা আর সেই বেঁচে থাকার দুঃসময়।
ভােরে উঠে কাজ খুঁজতে বের হও, ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পায়ে ব্যথা হবে। অঢেল পয়সা থাকলে আহ্লাদে আটখানা, না হলে পকেটে যদি একটাই ঠনঠনে নিকেল, তবে স্টেটন দ্বীপের ফেরি ধরাে। নিউ ইয়র্কে এভাবেই বাঁচা আর বেঁচে থাকার দুঃসময়। জনাব হাডসন বইছে তরতর করে আর মিস্টার মেনুই দিয়েছে তার স্বপ্নের দাম। তিনি যেমন করে এই শহরটা কিনেছিলেন, আমি তেমনি করে এটাকে বেচে দেব বলে ভাবছি। নিউ ইয়র্ক শহরে এভাবেই বেঁচে থাকার দুঃসময়।
ক্যালিফর্নিয়ার ধোঁয়াশা ঢের ভালাে, সেই সঙ্গে রকি মাউন্টেন ওকলাহােমার ধুলো। খবরটা ছড়িয়ে দেন, আমার গান-গল্প শুনে যান। যা ইচ্ছে করতে পারেন, ইচ্ছে হলে কাদা ছিটান, মারধরাও চলতে পারে। নিউ ইয়র্ক ছাড়লে আমি কিন্তু নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবো।

 

এক ভবঘুরে পথিক সে : ডিলানের এটাই পরিচয়

 

একদিন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখি, এক কোণে দরজার সামনে এক বুড়ো শুয়ে আছে- ভবঘুরে উদ্বাস্তু। ঠাণ্ডা ফুটপাথে মুখ গুঁজে পড়ে আছে, মনে হয় সারাটা রাতই তার এভাবে কেটেছে। কেবল এক ভবঘুরে, আরেক জন যে চলে গেল।
কিন্তু এমন কাউকে সে রেখে গেল না, যে তার করুণ গানগুলো গাইবে, বাড়ি অব্দি পৌঁছে দেবে। খবরের কাগজে মাথা ঢাকা। উঁচু ধারটা বালিশ আর রাস্তাটাই তার বিছানা।
মুখে ভেসে ওঠে দীর্ঘ পথের ছবি। মুঠোভর্তি পয়সা, কোত্থেকে হাতিয়েছে বুঝি। কেবল এক উদ্বাস্তু ভবঘুরে, আরেক জন যে চলে গেল।
মানুষ কী সহ্য করতে পারে, যার পুরাে জীবনটাই ধসে পড়েছে? মাটির ফাঁক-ফোকর আর ফুটো দিয়ে জগৎটাকে দেখা? খঞ্জ একটি ঘােড়ার মতাে ভবিষ্যত? নর্দমায় টলতে টলতে মরা? কেবল এক ভবঘুরে, আরেক জন যে গেল।

 

আমি যা সত্যিই চাই ডিলানও তাই চায়

 

তােমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই না আমি, ছলনা মারামারি বা দুর্ব্যবহারও নয়। সরল-সােজা বানাতে চাই না, খােপে ফেলতেও না। অস্বীকার নয়, বিরােধ নয়, শহিদ বানাতেও চাই না তােমাকে। আমি সত্যিই যা চাই তা হলো বন্ধুতা।
না, ঝগড়া করতে চাই না, চাই না ভয় দেখাতে, শুকিয়ে ফেলতে, টেনে নামাতে বা শেকলে বাঁধতে। তােমার রাস্তা বন্ধ করতে চাই না, ধাক্কা দিতে বা আটকে রাখতেও না। বিশ্লেষণ নয়, সিল মারা নয়, সবই নির্দিষ্ট করা কিংবা তােমার বিজ্ঞাপনও নয়। আমি যা সত্যিই চাই তা হল বন্ধুতা।
তোমাকে সাজিয়েটাজিয়ে ছিমছাম বানাতে চাই না। একসঙ্গে দৌডাতে, তাড়া করতে, হন্যে হয়ে খুঁজে বের করতে, অপমান করতে, ব্যাখ্যা করতে বা বাস্তুচ্যুত করতে চাই না। আমি যা সত্যি-সত্যিই চাই তা হলো বন্ধুতা।
তােমার কোনো আত্মীয়র সঙ্গে পরিচিত হতে চাই না। অযথা ঘোরাতেও চাই না বনবন করে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে নয়, পরীক্ষা করতে নয়, বাতিল করতেও নয়। যা আমি সত্যি-সত্যিই চাই তা হল বন্ধুতা।
তােমাকে মিথ্যে বানাতে চাই না, কুক্ষিগত করে ছুঁড়ে ফেলতেও চাই না। আমার মতােই তোমাকে অনুভব করাতে, গড়ে তুলতে বা আমার চোখেই জগৎ দেখাতে চাই না। আমি যা সত্যি-সত্যিই চাই তা হল বন্ধুত্ব।

 

টারান্টুলা থেকে দুই টুকরা

 

 


এইখানে বব ডিলাম শুয়ে আছে
পেছন থেকে
নিহত
শিহরিত দেহ তাকে মেরেছে,
লাজারাস তাকে বাতিল করার পরে
নৈঃশব্দ্যের জন্য ততক্ষণে তার ওপর সে
এক রাস্তাযান,
এই হলো শেষ আসল বব ডিলান

প্রকৃতপক্ষে সে এখন
দেবীর বিউটি পার্লারে
শুয়ে আছে।
ঈশ্বর তার রূঢ়তা
আর আত্মাকে শান্তি দিন

দুই ভাই আর এক উলঙ্গ মাতৃভক্ত
যাকে দেখতে প্রায় যিশু খ্রিস্টের মতাে লাগছে
এখন তার অসুস্থতা আর ফোন নম্বরের
অবশিষ্ট যা কিছু পড়ে আছে
ভাগাভাগি করে নিতে পারে

দেওয়ার মতাে
তেমন কিছুই নেই-
যে-কেউ এখন তা
ফিরিয়ে নিতে পারে

বব ডিলান এখানেই শুয়ে আছে
ভিয়েনার বিনয় ভাবালুতা তাকে শেষ করে দিয়েছে—
এখন তাই তাকে খুঁজে এনেছে বলে
দাবি করছে,
ঠাণ্ডা লােকজন এখন
তাকে নিয়ে শোক-সংগীত লিখতে পারে
আর নাদান লাফাতে পারে তার কেরােসিন-দীপে-
বব ডিলান প্রত্যাখ্যাত ইডিপাসকে
খুন করেছে,
যে একটা ভূতকে খুঁজতে গিয়ে দ্যাখে
ভূতটা লােকের চেয়েও বেশি বেশি

 

খুব গিলেছিলাম কাল রাতে, খুব
মাতাল হয়েছিলাম, সকালে উঠে দেখি
মন ঢুকে আছে মুক্তির ভেতরে আর মাথা যেন
শুকনাে ফলের ভেতরের শাঁস… ভাবলাম
পুলিশের পাশবিকতা নিয়ে আজ একটা
বক্তৃতা দেব। যদি আসতে পারো, এসাে।
এলে দেখা হবে। কখন আসবে লিখে জানিও
তােমার বন্ধু,
হােমার সেই প্রগল্‌ভা

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close