Home অনুবাদ বব ডিলান গীতিকা / মুম রহমান অনূদিত

বব ডিলান গীতিকা / মুম রহমান অনূদিত

প্রকাশঃ February 3, 2017

বব ডিলান গীতিকা / মুম রহমান অনূদিত
0
0

বব ডিলান গীতিকা / মুম রহমান অনূদিত

 

কেননা সময় পাল্টে যাচ্ছে

 

এসো জড়ো হও লোকজন

এদিকে ওদিকে ঘুরছো ফিরছো যে জন

এসো দেখো স্বীকার করে নাও এই জল

তোমার চারপাশের বাড়ছেই জল

আর যতো দ্রæত পারো এটা মেনে নেবে

কেননা দ্রæতই তোমার হাড় পর্যন্ত ভিজে যাবে

যদি তোমার কাছে তোমার সময়

বাঁচানোর মতো মূল্যবান মনে হয়

নইলে তুমি ডুবে যাবে পাথরের মতোই

কেননা সময়টা পাল্টে যাচ্ছেই তো।

 

এসো লেখক আর সমালোচকরাও

তোমরা যারা কলমের ধারে বাণি ছড়াও

তোমাদের চোখ প্রসারিত রাখো

এ সুযোগ আরেকবার আসবে নাকো

আর এতো দ্রæত বলো না কিছুই

কেননা চাকাটা এখনো ঘুরছেই

এবং কোথাও বলা নেই কে, সে কে

কার নাম দেবে তুমি বলো যে

জেনো আজকের পরাজিত মানুষ

পরের বার উড়াবে বিজয়ের ফানুস

কেননা সময়টা পাল্টে যাচ্ছেই তো।

 

এসো সেনেটর, এসো কংগ্রেসম্যান

দয়া করে এই ডাকে মনোযোগ দ্যান

দরজার মুখে দাঁড়িয়ে থাকবেন না

হলের প্রবেশ পথ আটকাবেন না

যেন সে আঘাত না পায়

ওই তো সে দাঁড়িয়ে আছে ঠায়

বাইরে যুদ্ধ চলছে

আর ক্রমশ সে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠছে

শীঘ্রই এটা তোমার জানালা নাড়িয়ে দেবে

তোমার দেয়ালগুলো ঝনঝন করে উঠবে

কেননা সময়টা পাল্টে যাচ্ছেই তো।

 

এসো মাতা পিতা

পেরিয়ে ভ‚মির সীমা

আর সমালোচনা করো না

যা তুমি বুঝতে পারো না

তোমার ছেলে আর মেয়েরা

তোমার আদেশের উর্দ্ধে তারা

তোমার পুরনো পথ যাচ্ছে

ক্রমশ আরো বুড়ো হয়ে যাচ্ছে

দয়া করে নতুনের জন্য বেরিয়ে আসো

যদি তোমার হাত বাড়িয়ে দিতে নাও পারো

কেননা সময়টা পাল্টে যাচ্ছেই তো।

 

রেখাটি আঁকা হয়েছে

অভিশাপ নিক্ষেপ হয়ে গেছে

এখন যে ধীর পায়ে আগাবে

পরে সেই দ্রæত হয়ে যাবে

কেননা এখনকার যা বর্তমান

তাই হয়ে যাবে অতীতের গান।

আদেশগুলো দ্রæত হায়

মিলিয়ে যাচ্ছে তাই

আর আজকের প্রথমজন

পরে হয়ে উঠবে শেষজন

কেননা সময়টা পাল্টে যাচ্ছেই তো।

 

The times they are a changing, 1964

 

বলা হয় এই গান poetic, prophetic এবং  powerful । ডিলান বলেছিলেন, ‘আমি যথার্থই জানি আমি কী বলতে চেয়েছি এবং কাকে বলতে চেয়েছি।’ এই একটি গানেই ষাটের দশকের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক বদলের ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। সিভিল রাইট মুভমেন্টের সময় অভিভাবক, রাজনীতিবিদ ও জনগনের প্রতি ইতিহাসের সঠিক পথ নির্ধারণের আহŸনা জানায় এই গান। নাগরিক অধিকারের পক্ষে এ গান সবাইকে একত্র হওয়ার ডাক দেয়। ফিল কলিন্স, বিলি জোয়েল, জন বায়েজ থেকে ব্রæস স্প্রিংস্ট্যানের মতো অনেক শিল্পীরা এ গানটি গেয়েছেন। আইরিশ ও স্কটিশ ব্যালে দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সময়ের বদলটাই তুলে ধরতে চেয়েছেন ডিলান। এই গান মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বদল আর নতুন ভাবনাকে স্বাগত জানায়। যখন প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, যখন চারিদিকে বদলের হাওয়া দেখা যায়, তখন পুরনো মানসিকতার অথবা সুবিধাবাদী মানুষগুলো নির্বিকার রয়ে যায়। এই গানে তাদেরকে আহ্বান করা হয়েছে বদলকে, নতুন দিনকে বরণ করার জন্য। রক্ষণশীল সুবিধাবাদীদের ভিত্তি নাড়িয়ে দিতে এই একটি গানই যথেষ্ট ছিলো। কংগ্রেসম্যান, সিনেটর, লেখক, সমালোচক, বাবা-মা Ñ সবাইকে সময়ের স্রোতের ধারায় মিলিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ গানে এটাও বলা হয়েছে পরিবর্তনশীল সময়ের সাথে থাকাটাই আসল।

 

তাম্বুরিন মানব

 

হে তাম্বুরিন বাদক আমার জন্য একটা গান বাজাও

আমার ঘুম আসে না আর যাওয়ার নেই কোথাও

হে তাম্বুরিন বাদক আমার জন্য একটা গান বাজাও

এই রিনিঝিনি সকালটায় তোমার পেছনে যেতে দাও।

 

হে তাম্বুরিন বাদক আমার জন্য একটা গান বাজাও

এই রিনিঝিনি সকালটায় তোমার পেছনে যেতে দাও।

যদিও আমি জানি সান্ধ্য-সাম্রাজ্য বালুতে মিশে গেছে

আমার হাত থেকে হাওয়া হয়ে গেছে

অন্ধের মতো প্রত্যাখাত দাঁড়িয়ে আছি আমি ঘুমহীন

ক্লান্তি আমাকে হতবাক করে, নিজের পায়ে আমি গতিহীন।

 

আমার আর দেখা করার মতো কেউ নেই

মৃত প্রাচীন পথ নিয়ে স্বপ্ন দেখারও কিছু নেই।

 

হে তাম্বুরিন বাদক আমার জন্য একটা গান বাজাও

আমার ঘুম আসে না আর যাওয়ার নেই কোথাও

হে তাম্বুরিন বাদক আমার জন্য একটা গান বাজাও

এই রিনিঝিনি সকালটায় তোমার পেছনে যেতে দাও।

 

 

তোমার জাদুকর ঘুরন্ত জাহাজে বেড়াতে নিয়ে যাও

ছেঁড়াখোঁড়া অনুভব আর আমার হাতের স্পর্শরাও উধাও

অসার পায়ের পাতা কেবল জুতার গোড়ালিরা অপেক্ষায়

সে যে এলোমেলো ঘুরতে চায়

আমি যেথা খুশি যেতে তৈরি, চাই মিলিয়ে যেতে

আমার একান্ত কুচকাওয়াজেতে,

তোমার নিজস্ব জাদু চালাও এ পথে

শপথ আমি হারাবো সেই পথে।

 

হে তাম্বুরিন বাদক আমার জন্য একটা গান বাজাও

আমার ঘুম আসে না আর যাওয়ার নেই কোথাও

হে তাম্বুরিন বাদক আমার জন্য একটা গান বাজাও

এই রিনিঝিনি সকালটায় তোমার পেছনে যেতে দাও।

 

যদিও তুমি শুনতে পারো হাসতে গাইতে নাচতে আমারে পাগলের মতো সূর্যের চারিধারে

তবু কারো উদ্দেশে নয়, এ কেবল দৌঁড় থেকে পালানো

এবং তবুও আকাশের কোন সীমানা বাঁধা নাই

আর তবু যদি শোনো সুর মুর্ছনার অস্পষ্ট ইঙ্গিত

তোমার তাম্বুনির বাজানোর কালে, পেছনে এক জীর্ণ ভাঁড়

হওয়তো পাত্তাই দিতাম না, সে কেবল এক ধাবমান ছায়া।

 

হে তাম্বুরিন বাদক আমার জন্য একটা গান বাজাও

আমার ঘুম আসে না আর যাওয়ার নেই কোথাও

হে তাম্বুরিন বাদক আমার জন্য একটা গান বাজাও

এই রিনিঝিনি সকালটায় তোমার পেছনে যেতে দাও।

 

তারপর আমাকে লুকাও আমারই মনের ধোঁয়ার কুণ্ডুলি হতে

কালের কুয়াশার ধ্বংসস্তুপের নিচে, দূর অতীতের হিমায়িত পাতাদের থেকে

ঝড়ো সৈকতের বাইরে ভ‚তুড়ে ভয়াতুর গাছেদের থেকে

অনেক দুরে রাখো খ্যাপাটে বেদনার মোচড় থেকে

হ্যাঁ, নেচে নিতে চাই হিরক আকাশের নিচে

বাতাসে হাওয়ায় এক হাত নেড়ে

সমুদ্র তখন ছায়া রেখা আঁকে, বৃত্তকার বালুভ‚মি গোলক এঁকে দেয়

সকল স্মৃতি আর নিয়তিদের সরাও গভীর তলদেশে

আমাকে আজকের কথা ভুলে থাকতে দাও অন্তত আগামীকাল নাগাদ।

 

হে তাম্বুরিন বাদক আমার জন্য একটা গান বাজাও

আমার ঘুম আসে না আর কোথাও যাওয়ার নেই

হে তাম্বুরিন বাদক আমার জন্য একটা গান বাজাও

এই রিনিঝিনি সকালটায় তোমার পেছনে যেতে দাও।

 

Mr. Tambourine Man, 1965

 

এই গান বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে, গাওয়া হয়েছে। একাধিক টিভি শো আর সিনেমা, এমনকি বইতেও এ গানের কথা এসেছে বিভিন্নভাবে। বাংলায় কবির সুমন গেয়েছেন ‘ও গানঅলা আমার আর কোথাও যাবার নেই কিচ্ছু করার নেই।’ আপাতত খুবই সরল এই গানের অনেক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা করা যায়। সাধারণত একজন সঙ্গীত শিল্পীর প্রতি শ্রোতা বা দর্শকের একনিষ্ঠতা এখানে লক্ষ্য করা যায়। এমনকি কোন এক ব্যখ্যা এই গানকে এলসিডি ড্রাগের নেশার প্রতি টান হিসাবেও দেখানো হয়েছে। এ গানের কোন কোন পদে স্যুরিয়ালিজমের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। কোন কোন সমালোচক এ গানে আর্তুর র‌্যাঁবোর কবিতা কিংবা ফেলিনির চলচ্চিত্রায়ণের প্রভাবও লক্ষ্য করেছেন। আমার মতে এ গানে বাংলার বাউল সঙ্গীতের পথের সুরও রয়েছে।

 

 বোন আমার

 

ও বোন আমার যখন তোমার বাহুতে শুতে আসি

আমাকে সাথে তখন অচেনার মতো আচরণ করো না

এমন করলে আমাদের বাবার ভালো লাগবে না

আর বিপদের ব্যাপারটাও তোমার বোঝা উচিত।

 

ও বোন আমার, আমি কি তোমার ভাই নই

এবং তোমার মমতার উপযুক্ত নই

এবং এই দুনিয়ায় আমাদের উদ্দেশ্য কি এক নয়

তাকে ভালবাসা এবং তার পথ অনুসরণ করা?

 

আমরা বেড়েছি একসাথে

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত

আমরা মরি এবং আবার জন্মাই

এবং বিস্ময়করভাবে রয়ে যাই।

 

ওহ বোন আমার, যখন আমি তোমার দরজায় কড়া নাড়ি

দুরে সরো নাকো, বেদনাই জন্মাবে তাতে

সময় এক সমুদ্র তবু তা তীরে এসে শেষ হয়

কাল হয়তো তুমি আমাকে দেখতে পাবে না।

Oh, Sister
ডিলানের নিজের কোন বোন নেই। কিন্তু এ গান সে বিষয়ে নয়। বরং এটা বিশ্বভ্রাতৃত্বের গান। নারীর প্রতি পুরুষের আস্থা, আশ্বাস, ভরসার গান। যুগ যুগ ধরে নারীর প্রতি সংহিসতায় পুরুষের দিকে যে সন্দেহ আর দ্বিধার দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি এটা তেমন কোন অর্থেই হতে পারে। সমালোচক টিম রিলে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ধারণা পোষণ করেন। তার মতে, বব ডিলানই প্রথম ব্যক্তি যিনি ঈশ্বরকে নারীর সঙ্গে সম্পর্কিত দেখছেন। ঈশ্বরের পুত্র থাকলে কন্যাও থাকতে পারে, আর সে হতে পারে সবার বোন। অন্য আরেক মতে, এই গান আসলে উর্বরতার কথা বলে। যে অর্থেই ভাবা হোক, এটা যে একটা যথার্থ মানবিকতার গান তাতে কোন দ্বিমত নাই।

 

ঠিক যেন গড়ানো পাথর

 

একদা এককালে তুমি দারূণ পোশাক পরলে

তোমার সেই চূড়ান্ত-কালে,

নির্বোধের পেছনে পয়সা ছুঁড়ে দিলে, দাওনি কি?

লোকে হয়তো ডেকেছিলো, বললো, ‘সাবধান পুতুল, তোমার পতন অনিবার্য।’

তুমি ভাবলাম ওরা সবাই ছেলেমানুষী করছে

তুমি ওইসব নিয়ে হাসাহাসি করতে অভ্যস্ত

সবাই তখন চারপাশে ঘোরাঘুরি করতো

এখন তো তুমি অতো চড়া গলায় কথা বলো না

এখন তো তুমি আর অতো অহংকার করো না

পরের বেলার খাবার এখন খুঁজে নিতে হয়।

 

কেমন লাগে?

এটা কেমন লাগে

যখন তোমার নেই কোন ঘর

তুমি সবার কাছে পর

ঠিক যেন গড়ানো পাথর?

 

তুমি তো সবচেয়ে ভালো স্কুলে গেছো মিস লোনলি

কিন্তু তুমি কেবল জানো এটা তোমাকে নিংড়ে ফেলা

এবং তোমাকে কখনো কেউ শেখায়নি পথে কী করে বাঁচতে হয়

আর এখন তোমাকে এটাতেই অভ্যস্ত হতে হবে

তুমি বলে ছিলে কখনোই আপোস করবে না

রহস্যময় ভবঘুরের সাথে, কিন্তু এখন অনুভব করো

সে কোন অভিযোগ ফেরি করছে না

যখন তুমি তার শূন্য চোখে তাকাও

এবং বলো তুমি একটা লেনদেন করতে চাও?

 

কেমন লাগে?

এটা কেমন লাগে

তুমি ছাড়া তোমার কেউ নেই

ঘরের কোন দীশা নেই

তুমি সবার কাছে পর

ঠিক যেন গড়ানো পাথর?

 

কখনোই তুমি ফিরে তাকাওনি বাজীকর আর ভাঁড়দের ভ্রæ কুঁচকানো দেখতে

যখন তারা এসেছে এবং তোমারই জন্য নানা কৌশল দেখিয়েছে

তুমি কখনোই বুঝোনি যে এটা ভালো নয়

তোমার উচিত হয়নি তোমার জন্য অন্যদের লাথি  খাওয়াস্তে

তুমি অভ্যস্ত ছিলে খেলোয়াড়ের সাথে সাজানো ঘোড়ায় চড়তে

তার কাঁধে থাকতো শ্যামদেশীয় বিল্লি

এটা কি কঠিন নয় যখন আবিষ্কার করলে

সে আসলে যেখানে থাকার সেখানেই ছিল না

তোমার কাছ যা কিছু নেয়ার তা চুরি করার পর।

 

কেমন লাগে?

এটা কেমন লাগে

তুমি ছাড়া তোমার কেউ নেই

ঘরের কোন দীশা নেই

তুমি সবার কাছে পর

ঠিক যেন গড়ানো পাথর?

 

রাজকুমারী চূড়ার উপরে এবং সব সুন্দর মানুষেরা

তারা সবই পান করছে, ভাবছে যে তারা এটা তৈরি পেয়েছে

দামী সব উপহার আদান-প্রদান করছে

তবে ভালো হতো তুমি যদি তোমার হিরার আংটি পেতে, তুমি সেটা বন্ধক রাখতে খুকি

এতো আমোদে থাকতে তুমি

এখন যেন নেপোলিয়ন আছে ছেঁড়া ন্যাকড়ায় এবং যে ভাষা সে কথা বলতো

যাও আজ তার কাছে, সে তোমাকে ডাকে, তুমি তাকে প্রত্যাখান করতে পারবে না

যখন তোমার কিছুই নাই, তখন হারানোরও কিছু নেই

তুমি এখন অদৃশ্য, ঢাকা দেওয়ার মতো কোন গোপনীয়তাও নেই।

 

কেমন লাগে?

এটা কেমন লাগে

তুমি ছাড়া তোমার কেউ নেই

ঘরের কোন দীশা নেই

তুমি সবার কাছে পর

ঠিক যেন গড়ানো পাথর?

 

Like a Rolling Stone,1965

 

এই গানের হাতে লেখা একটি কপি নিলামে ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। রোলিংস্টোনের ‘সর্বকালের সর্বসেরা ৫০০ গানের তালিকায়’ এটি এক নাম্বারে আছে। বলা হয়, ফোক-রক নামের গানের ধারাটির সূচনাও হয়েছে এ গান দিয়ে।

মানুষ কখনো ভালো থাকে কখনো খারাপ থাকে। কিন্তু যখন মানুষের দিন ভালো যায় তখন মাথায় রাখে না একদিন তার খারাপ সময় আসতে পারে। এ গান নিঃসন্দেহে একজন অহংকারী নারীকে ইঙ্গিত করে লেখা। গানের নারীকে মিস লোনলি বলা হয়েছে। একদা সে দামী স্কুলে পড়তো, বিলাস ব্যাসনে ছিলো, এখন তার ঘর নেই। পাহাড়ের উপর থেকে গড়িয়ে পরা পাথরের মতোই এখন কেবল তার পতন। সুন্দর মানুষেরা যারা ভেবেছিলো সব কিছু তারাই তৈরি করেছে তাদেরও পতন হয়।

এই গান নানা অর্থেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বলা হয়ে থাকে ডিলানের শ্রেষ্ঠ একটা লিরিক। রক অ্যান্ড রোলের ইতিহাসে এ গানের বাণী ও সুর সম্পূর্ণ নতুন এক ঘরাণা সৃষ্টি করেছে। ‘রোলিং স্টোন’ শব্দটি তো পরে রক অ্যাণ্ড রোলের জগতে একটা আইকনি শব্দই হয়ে ওঠে। এ গানের মধ্যে যেমন একটি বার্তা আছে তেমনি গল্পও আছে। ‘একদা এককালে’ দিযে গল্পের মতোই গানটি শুরু হয়েছে। এ গানের বহু লাইনই আলাদা করে জনপ্রিয়। ‘যখন তোমার কিছুই নাই, তখন হারানোরও কিছু নেই’ লাইনটি নিয়ে অনেক টি-শার্টের ডিজাইন হয়েছে।

 

মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

 

যখন তুমি বিষন্ন আর যখন তুমি একা

আর যখন তুমি পাও নাকো কোন বন্ধুর দেখা

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

এবং যা কিছু তুমি লুকিয়ে রাখতে চাইছো

সব কিছু পড়ে যাবে আর ঠিক হবে না ভাবছো

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

সেটা শেষ নয়, সেটা শেষ নয়

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

 

যখন তুমি চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়াবে

আর বুঝতে পারছো না কোনদিকে যাবে

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

আর তোমার সব স্বপ্নেরা উধাও হয়েছে

আর তুমি জানোও না বাঁকের শেষে কি আছে

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

সেটা শেষ নয়, সেটা শেষ নয়

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

 

যখন ঝড়ো-মেঘ তোমাকে ঘিরে ফেলেছে

আর তীব্র বৃষ্টি নেমে এসেছে

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

এবং কোথাও কেউ নেই তোমাকে আশ্বস্ত করার

সাহায্যের হাতটি বাড়িয়ে দেয়ার

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

সেটা শেষ নয়, সেটা শেষ নয়

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

 

ওহ, জীবন বৃক্ষ বাড়তেই থাকে

যেখানে আত্মারা চিরতরে থাকে

আরপরিত্রাণের উজ্বল আলো বিকাশে

অন্ধকার আর শূন্য আকাশে।

 

যখন নগরে আগুন ধরে

মানুষের পোড়া মাংসের তরে

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

সেটা শেষ নয়, সেটা শেষ নয়

কেবল মনে রেখো যে মৃত্যু কোন সমাপ্তি নয়

 

Death Is Not The End , 1983

 

ইনফিডেলস এ্যালবামের জন্যে ১৯৮৩ সালে এ গান তৈরি করা হলেও ১৯৮৮ সাল নাগাদ এর মুক্তি দেয়া হয়নি। ১৯৮৮ সালে বব ডিলান ডাউন ইন দ্য গ্রেফ অ্যালবামে এ গানের মুক্তি দেন। এ গান ভয়াবহভাবে অন্ধকার আর আশাহীন চিত্র তুলে ধরে। কিন্তু প্রতিটি দুর্দশা, বেদনার সাথে সাথেই ডিলান মনে করিয়ে দেন, ‘মৃত্যু কোন শেষ সমাধান নয়।’ কাজেই সোজা কথা এটি জীবনের দিকে ফেরার গান। বব ডিলানের অধিকাংশ জীবনবাদী গানের মতোই এ গানও শেষ পর্যন্ত সব অন্ধকার-হতাশা কাটিয়ে জীবনে ফিরে আসার কথা বলে। মৃত্যু-চিন্তা কিংবা আত্মহত্যা-ভাবনার বিপরীতে এ এক নতুন ধরনের গান।

 

বই পরিচিতি : বব ডিলান গীতিকা

নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক বব ডিলানের বিখ্যাত কিছু গানের অনুবাদ সংকলন এই বই। তবে শুধু গান নয়, গানের সঙ্গে অনুবাদক টিকা-টিপন্নী যোগ করেছে। বব ডিলানের নোবেল ভাষণটিও এই বইয়ে আছে। সেই সঙ্গে গানের সাহিত্যিক মূল্য নিয়ে আলাদা প্রবন্ধও আছে। সংক্ষিপ্ত জীবনী আছে। মোট কথা এই বইয়ে বব ডিলান ও তার গান সম্পর্কে একটা সংক্ষিপ্ত কিন্তু সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যাবে।

 

অনুবাদকের পরিচয়

দুই দশক ধরেই লিখছেন মুম রহমান। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র, নাটক, বিজ্ঞাপণ. অনুবাদ, চিত্রকলা, ফটোগ্রাফি, নন্দনতত্ব Ñ প্রায় সব বিষয়েই লেখেন তিনি। চলচ্চিত্র বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি শিক্ষক হিসাবে পাঠ দেন, বিভিন্ন কর্মশালা করান চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন ও লেখালেখি বিষয়ে। বিজ্ঞাপনী সংস্থায় পরামর্শ দেন। সাংবাদিকতা করেছেন দীর্ঘদিন। বর্তমানে মূলত লেখালেখিই করেন। বনসাই ও ফটোগ্রাফি তার শখ।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close