Home কবিতা বাংলাদেশের নব্বই দশকের কবিদের কবিতা [গুচ্ছ ১] > মোস্তাক আহমাদ দীন / হেনরী স্বপন / শেলী নাজ

বাংলাদেশের নব্বই দশকের কবিদের কবিতা [গুচ্ছ ১] > মোস্তাক আহমাদ দীন / হেনরী স্বপন / শেলী নাজ

প্রকাশঃ March 30, 2017

বাংলাদেশের নব্বই দশকের কবিদের কবিতা [গুচ্ছ ১] > মোস্তাক আহমাদ দীন / হেনরী স্বপন / শেলী নাজ
0
0

[সম্পাদকীয় নোট : কয়েকটি গুচ্ছে তীরন্দাজ-এ প্রকাশিত হবে বাংলাদেশের নব্বই দশকের কবিদের কবিতা। আজ এরই অংশ হিসেবে প্রকাশিত হলো মোস্তাক আহমাদ দীন, হেনরী স্বপন এবং শেলী নাজের কবিতাগুচ্ছ।]

মোস্তাক আহমাদ দীন-এর কবিতাগুচ্ছ

 আত্মজৈবনিক

না বলে ভাসিল তরী যেন জল সার

পলক ফেলিয়া হেরি, বহুদূর…পার

 

আমার সমগ্র বিস্তৃত তথা-কথনের প্রতি

যেন কিছু ভেসেছিল : অন্ধের যেমতি পথ-

মৃদুশব্দে একা গিয়েছি আরও

জলের কোঙার

যদিও নিরাই বসে, ও যাত্রা মিথ্যা মনে হবে

যে কোনো শিশুর কাছেই

আন্ধারে যেমন লোক অল্প অল্প পাঠ করে আলো

তবে, কী হয়েছে- যদি প্রশ্ন ঘুরে আসে

তার উলটো যথাবিধি তুলেছি সংশয়

অন্য ধরনে বেঁচে, অন্য জল-স্থল ঘুরে

কে কবে বুঝেছে বলো সত্যি তার

কী হয়েছিল

 

বিল

তোমাকে নিরলে পেয়ে মনে হয়

আমার সমস্ত দিকে একলগি জল

তখন তীরের দিকে পাখি উড়ে যায়

ভীষণ অনাত্মীয় মনে হয় অন্ধকার বিল

 

তখন ইতর প্রাণী অন্যভাবে তুলছে গুঞ্জন

যেন-বা শিকারি আমি

প্রেমমত্ত পাখি ও পাখিনী দেখে

বিদ্ধ করে একা একা করেছি উল্লাস

অথবা সেই দস্যি আমি

অভোলা গেরামে গিয়ে করি ডাকাইতি

আমার হৃদয় ঘিরে তাহাদের এমন নিন্দন

 

তবু তো বেঁচেছি সখি, এই দেহ জারুলের গাছ

আপন লগির গুণে চারদিকে একলগি জল মনে করে

অশেষ বিলের দিকে উড়ে চলে যায়

 

দর্শক

একটি আগুন তার দীন আকুলতা নিয়ে জানে

বিষম করুণ জলে ডুবে মরেছে যেজন, সেও

খুব নিচু বীজ-ভেদ-করে-ওঠা নীল কেয়াগাছ

 

অযথা প্রেরিত তাই তার ও ইমেল,

মান্দার বাগানে ফের ফিরে আসে কৃষ্ণভ্রমরের

লাল বর্ণমালা; এর ক্ষুদ্র দর্শক আমি দেখি-

তার প্রৌঢ় ব্যথা এক অচিন কুষ্ঠিনীর কাছে

চায় নিরাময়; চায়, অতি খলবল না-হলেও দেহ এসে

নিঃশব্দে বিদ্ধ করে যাক।

 

ঘোরগ্রস্ত দিন

তোমার রন্ধনপাত্রে আমাদের ঘোরগ্রস্ত দিন

পুড়ে যায়

 

ফল বেরোবার পর দেখি সব অঙ্ক ভুল;

গৃহ-গ্রন্থনা আর সন্দর্ভ-পত্রালিকা খুঁড়ে কেউ

কিছু পেতে পারে ঠিকই, প্রকৃত অর্থে তাও রূপময়

অধ্যাসের ফাঁদ।

 

বৃথা কড়ি গুনে তবু পৌঁছে গেছি তোমাদের বাড়ি।

অভ্যাসের দাস বলে যে কথা- দ্রোহপর্বে

আমরা তার মানিনি কণাও, আজ বুঝি

এও একলক্ষ হাত সংসারের রূপ

 

উনুনপাত্রের কাছে ভুই ও লাকড়ি হাতে তোমার আঙুল

অযথাই আমি খুঁজি পন্থময় বাঁশের করুল

 

বিষ

এত বিষ দেহকাণ্ডে, দেহে

আজ আমি সংলগ্নজনেরে বড়ো দূরে যেতে বলি

 

সকলেই একথা বোঝে আমি কভু ডুবি নাই জহরের জলে

দেহকাণ্ডে তবু এত বিষ…ভাবি তাই

প্রাণের মধ্যে কোন সর্প ঢুকে গেছে ঘুমে?

 

এ সন্দেহমুক্ত হতে বংশকাহিনী যারা পাঠ করে গেল

তারা দেখে, পিতা বা প্রপিতামহ আলস্য করেনি কেউ

মনসাপূজায়

 

তবে হই অভিশপ্ত কাহার সন্তান?

দেহকাণ্ডে যত বিষ, তার মর্মে নীল হয়ে যাবে বলে

সংলগ্নজনেরে বড়ো দূরে যেতে বলি

 

অথচ দূরবর্তী বন্ধুও বোঝে

গোপন ইচ্ছের জোরে সংলগ্নজনের মনে

কত বেশি মগ্ন হতে চাই

মুখ, শরীর

 

উনুন-সংকট ছিল, পরে জেগেছে মুখে রন্ধনের মায়া;

আমার মধ্যে পুরা অন্ধের ভান। তবে এই মুখের অঙ্কে

যদি জাগে শতদেহ, যদি আঁচে পুড়ে যায়

অন্য কারো মন, এই ভেবে তিন ইঞ্চি ঈর্ষা পান করি যাতে

পাঁচফুট প্রীতি ফুটে ওঠে

 

ওই মুখ নানা অঙ্কন নানা অনুপুঙ্খে গড়ে-ওঠা;

তাতে রন্ধন তাতে নানা ব্যঞ্জনের ছায়া; কাদা

আমার বিবিধ কর্মে ভরে উঠছে মুখ। শরীর?

 

ময়ূর

জঙ্গলে ময়ূর পুড়ছে, তুমি তা জানো না

 

তুমি ক্লান্ত আর বহু দূরাগতা,

চুপে চুপে এসে মিশে গেছ

শান্ত আতরদানে, মর্জিমহলে

 

আমি এই ওষ্ঠলাঞ্ছিত ফ্যাসাদে

লিপ্ত হতে হতে কথার প্রকারে ডুবে যাই,

তোমাকে লক্ষ্য করত যদি অনুগায়িকারা

 

যদিও জেনেছি আমি, এ-ও এক নিদ্রাবিশেষ-

অন্য ওছিলা নিয়ে,  হাটে হাটে,

কারো কারো ছুঁড়ে-দেওয়া ফাঁদে

 

জঙ্গলে পালক পুড়ছে

আমি অতি নিরিবিলি তোমার জঙ্গলে ছেড়ে এসেছি ময়ূর-

কেউ তা জানে না।

 

হেনরী স্বপন-এর কবিতাগুচ্ছ

 

শামসুর রাহমান : গোল হয়ে লিটলম্যাগে

 

চাঁদ থেকে ফিরে নভোচারী সমস্ত দেহে পরিয়ে দিলে

অন্ধকার…একগুচ্ছ কবিতার জন্য-

ঘুমোতে জানি না;

এতোগুলো তন্দ্রা ঘিরে থাকে! লিটলম্যাগে…

 

না-কী স্বপ্নগুলো ঘুমের চোয়ালে ফেলে

বাস্তবে ফিরে গেছো জলের আঘাতে

সারারাত ব্রেস্ট সেলাই করা মেয়েটিও

স্বপ্ন দেখে…

কাল সকাল হলেই কী; সব আকরিক সোনা হয়ে যাবে?

তবে ইস্পাতের পাশে পড়ে থাকা-

অ্যান্টিক ধাতুর কোনো দাম নেই!

তবে যে-কোনো পদ্ধতি ছিদ্র করে

যে অক্ষর ঢুকে যায়-

চর্বির পাশে চর্বি হয়ে বাসর শয্যায়;

 

যতোটুকু খনিঘুমের নীরবতা ভাঙলে

সেই যে রিংটোন শোনালে- মৃত সঞ্জিবনী গান

সেই যে মোটা ফ্রেম; চশমার বিপরীতে দাঁড়িয়ে ছিলে

গোল হয়ে-

সোনালি কুসুম-চাঁদ…

 

আমাদের শো-বিজে

যে খেজুরে পোকা-আক্রান্ত আরব্যরজনী কাটে

গল্প-কথার রাজুকুমারী!

কোন অশ্বের পিঠে স্বপ্নের গালিচায়

নগ্ন হলে ভার্জিনে কামড় খেয়ে-

নষ্ট ধানের ক্ষেতে কীটনাশক ছড়ালে

বিছানায় পড়ে থাকে!

উৎফুল্ল শ্বাস-অতৃপ্ত গোঙানির ডাক!

মৌন শরীর যে ইশারায়

জেগে ওঠে জুয়ারীর বাজি ধরে-

রূপের আভায় যে পণ্যের চাহিদা বেড়েছে

বাগদাদে-জেরুজালেমের সরাইখানায়-

নাচবে উঠোনে রাই নিজে…

 

বেহুলাও একদিন উঠে আসবে আমাদের শো-বিজে…

প্রদাহের ট্রাক্টরে

 

ঋতু পাল্টালে যে কোনও মুখের আভায়

আঁচ পেয়ে ফুটবে স্থলপদ্মের স্কাটে

ভোরের হালকা কুয়াশায় মোড়া

দিদিমার শাড়ির আঁচল বরফের কতটুকু

নিচে রেখে এসেছিলে?

সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম ভেঙে ওমলেট

সাজালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে

বিয়ারের ক্যান খুলে উপচে বেরয়

মনসার সাপ-

তরবারি খোলাখাপে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে

কোনও এক ক্রীতদাস…বাথানের গাই…

 

রোয়াকে ধানের চারা রুয়ে দিতে

ব্যস্ত প্রদাহ ট্রাক্টরে কর্ষিত বর্বর আসে অসমান মাটি কেড়ে নিতে…

 

 বলেশ্বর

এত উত্তাপ ভিজিয়ে দিতে পারে

নদী তীরের পাখিরা এসে।

 

এখানে দুষ্প্রাপ্য অনেক শামুক মরে গেছে

খোলস রয়েছে সেইসব বিস্মৃতির!

 

বালুপড়া এই তীরে আরও অনেক ঢেউ এসেছে

একবার ভাসমান জলে, একটি জোনাকিও যদি জ্বলে ওঠে?

 

বলেশ্বর নদীর তরঙ্গে পরমায়ু সাঁতার কাটাতে

ক্লান্তযাত্রী মেছোদের প্রতিবেশী হলে।

 

যেটুকু কুশল নিতে এলে! এই শোকের বিক্ষোভ নিয়ে

কার দণ্ডাদেশ থেকে মৃত্যুর আশ্রয় খুঁজে পেতে।

 

দেশভাগ করে নেয়া

ধানের বিকেল এখন উঠোনে হচ্ছে মাড়াই

দুধেল জোছনায় ধোঁয়া-রাতের ড্রাইভিং

পরি ওয়ে ওড়ে…

পল্লবিত পাতার শুকনো শীৎকারে সংক্রান্তির মায়া এসে লাগে-

দেয়ালের পুরনো গাঁথুনি

ক্ষয়ে ক্ষয়ে উঠে গেলে

মনে হয়- অবয়ব জুড়ে একটি ছায়াবাড়ি হয়ে আছো দেহের অভয় ঘেরা-

ছায়া ভৌতিকের

মায়ায় জড়ানো

 

এখানে কেটেছে বসন্তের দিন

এখানে রয়েছে ভাঙনের ইতিহাস

 

দেশভাগ করে-

তারপরে…

এই দেশ- ভাগ করে নেয়া

ভালোবাসা-

 

ভেজা পরিচ্ছদ যতটা ছড়াবে

বিকেলের রৌদ্র অতোটা বিপ্লবী নয়,

গাঢ়লাল জবা-পুকুরের জল…

খালের জোয়ারে বয়ে যাচ্ছে রক্তাভ হিজল

জানলার এতো কাছে!

তবু-ফুল দেখি না,

দেখি! রক্তের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে

ছটফটে স্রোতে…

 

যে ঘরের দেয়ালে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তি

টাঙিয়ে রেখেছি;

আমাদের আলিঙ্গনে ভেজা

পরিচ্ছদ কতোটা শুকাবে প্রার্থনায় জপে?

 

মনিকাঞ্চন ফুলের গন্ধ যতটা ছড়াবে

সুপারি গাছের চিরল পাতায় বিছেপোকা সুরসুরে হেঁটে যায়

ভিজে হাওয়া জানলায় এসে

উঁকি দেয়…

রূপকথা…

 

বেসিনের সিরামিকে সাদা পাণ্ডুলিপি

হেসে হেসে ট্যাপকলের জল ঝরে

বেসিনের সিরামিকে সাদা পাণ্ডুলিপি ভিজিয়ে ফেললে;

কামিজের ছিটেফোটা বিবর্ণতা-

মুছে ফেলা যায়…

 

বিমূঢ়তা আগোচরে থাকে;

দীর্ঘশ্বাসে বুকের মাছিরা গুনগুনিয়ে ডাকলে

জিয়নকাঠির ছোঁয়ায় মুচড়ে ওঠে হৃদয়ের মূর্তি

হাতেগড়া প্রতিমাও প্রার্থনায় নতমুখ

কৌতূহলে- ক্ষমার অযোগ্য পাপ বলে-

খুলে বললে সবই…

 

পদ্ম-গোক্ষুর সাপের কামড়ে

ভ্রমরের বিষ পর্যন্ত নামিয়েছিলে পুকুরের জলে…

 

শেলী নাজ-এর কবিতাগুচ্ছ

 খুনি

ফুলদানি থেকে নেমে গেল সাপ, তীব্র ছোবলের পর

তুমি তার খোঁজে তন্নতন্ন করছ শহর

 

ওঝাও ডেকেছ, মাদুলি পরেছ, নাগপাশ থেকে মুক্তি

পেয়েও পাওনি, তোমারও রক্তদোষ ছিল, তার মূক তীর

 

বিঁধেছে পল্লব, গলাভর্তি মধু নিয়ে তুমি কাঁপছিলে

তারপর ডানা ভেঙে পড়ে আছ গোল ধাতুভর্তি ঝিলে

 

খুনি সে, জানছ তবু এক সূর্যহারা সূর্যমুখির বাগান

আকাশের দিকে ছুঁড়েছিল তার হৃদয়-তলানো গান

 

ফুলদানির নমিত শির থেকে গড়িয়ে নামছে নির্বোধ সন্তাপ

গতরে টোটেম, পরাগে রাখো ঢেকে ফুলের সকল পাপ!

 

শরীর ২

রাত্রি খুলে বসে আছে তার ঢুলু ঢুলু চোখ

উড্ডীন শরীর মৃত করে রাখি, শূন্যতার তক্তপোষে

ও কেন এমন ভাসে, পরবাসী মেঘে ও চুম্বকে?

রক্তে ঘোড়সওয়ারী বন্ধ, লোকেরা জানুক

 

মূলত সে মৃত নয়, স্বচ্ছ কোষে বাঁধা ঝুমঝুমি

পুরুষ কাপ্তেন, মহান এ শয়তান, বিকট জাহাজে

ফেরি করে হৃদয়ের মিথ্যে চুনি, পান্না, নকল স্ফটিক

তার তাঁবু থেকে দূরে রাখি নিদ্রা, যেন আকস্মিক

জ্বলন্ত লতাগুল্ম গজিয়ে না ওঠে মধ্যযামিনীর ভাঁজে

 

যে প্রেম ছিল না তার মধু খুঁজে মুমূর্ষু সায়াহ্ন

ছোট ভীরু পায়ে ফিরে আসে পুরুষবলয় থেকে

রাত্রির দৃষ্টির নিচে, মরণ উপচে ওঠা শিফনের ঘেরে

এই ভালো শরীরের কান্নাভেজা বাল্ব একলা জ্বলুক

কেউ নয়, কেউ নেই, এই তোলপাড় রাত্রিই দেখুক!

 

উদ্বাস্তু

এতটা উদ্বাস্তু তুমি, যে কোনো উস্কানিতেই উড়ে যাচ্ছ

যে কোনো হাওয়া চুরি করে নিচ্ছে কোষভর্তি মণিরত্ন

যে কোনো ছিঁচকে চোর মোতি ও সবুজ পান্নায়

তুলছে খচিত করে তোমার দু’চোখে পবিত্র কান্নার ঋতু

এতটা উদ্বাস্তু তুমি, এতটা জর্জর, দীর্ণ তোমার সমস্ত সেতু

গিরিপথ, খানা-খন্দ, ভরে আছে নিষাদী বিষাদগন্ধে

যে কোনো ট্রেনের কামরায় উঠে বসে আছ

হাঙরের অচেনা হা-মুখ থেকে চলে যাচ্ছ কসাইখানায়

এতটা উজাড়, শূন্য, উদ্দেশ্যহীন কথার বর্ণে রেশম বুনছ

গুটিপোকা খুলে দিচ্ছে পেটিকোট, রক্তাভ চুরুটে পেতে দিচ্ছ ঠোঁট

তোমার সমস্ত যাত্রা, গন্তব্যহীন, এতটা উড্ডীন

রাজসিক মৃত্যুলোভে বেঁচে আছ একেকটি দিন

 

আত্মধ্বংসী তোমার পরিখা খুলে রাখে সমস্ত খিল ও নিখিল

পাখা আছে, নাই পাখাদের ওড়ার আকাশ, লাল, নীল, পরানীল!

 

ঝড়

যেমন ঝড়ের মধ্যে পড়ে হুহু কাঁদে হাওয়া

জানালা চমকে খুলে দেয় বন্ধ কপাট,

শরীর মুচড়ে বৃক্ষ না করে, তবুও ঝড় পল্লব ছিনিয়ে নেয়

ঝড় এক মৃত্যুলেখা পাঠায়, মাটিতে লুটায় ফুলদের হাড়গোড়

তেমন ঝড়ের মধ্যে পড়ে আছি, তেমন পতিত

শাড়িভর্তি না না চিৎকার, বজ্রবিদ্যুৎ শাসাচ্ছে

ক্ষমাহীন হিসহিসে ঝড়, ডাইনির নখে অস্তিত্বরহিত

গাড়িবারান্দায় খদ্দেরহীন শুয়ে আছে গণিকা

ডুবে যাচ্ছে নিয়তির জলে মৎস্যশিকারি ট্রলার

আমার ঘরটি, ছাদ ও শ্রীহীন, থরথর কাঁপছে একা

 

যেমন ঝড়ের মধ্যে পড়ে কাঁদে গৃহহারা পক্ষীশাবকেরা

তেমন ঝড়ের মধ্যে আছি, যে ঝড় ভেঙেছে গৃহ

তার বুকে আছি শুয়ে, সারা দেহে নিয়ে

ভয়াবহ এক ঝড়ের চেহারা!

 

নববর্ষ

কোনো বর্ষ নেই, নতুন বা পুরাতন, পুরাকীর্তির পৃথিবী

কীর্তিহীন তোমার অধ্যাস, ছিন্ন দিন, উদ্ভিন্নযৌবনা লাশ

অধিবর্ষ বা বর্ষ কোথাও হর্ষ নেই, হে মরুদ্যান, বুনছ নতুন বীজ?

তুমি বয়ে চলো অশ্রু, কলসের কানাভাঙা মিথ্যে প্রেম, রঙিন উচ্ছাস

 

আরও এক ক্যালেন্ডার, নতুন, ঝুলছে হৃদয়ে তোমার

মাস শেষে পাতা ঝরে, তোমার কান্নার তিমিরে তিমিরে

স্বপ্নের পারদে ভারী ভাঙা ঘুম, ভাবকণা, টুকরো আয়না,

চোখে তাম্রলিপি, কলজেকাটা কিরিচ, নিরাময়হীন আঁধারে

 

জানি, খুব গোপনেই বেড়ে যাচ্ছে আলমারি ভরা অসন্তোষ!

নববর্ষে নতুন শাড়ির নিচে তুমি বয়ে চলো পুরাতন ক্রুশ

 

 

 

 

 

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close