Home ঈদ সংখ্যা ২০১৭ ভাষাবৃক্ষ ও বিবিধ চন্দ্রবিন্দু > দীর্ঘকবিতা >> মাজুল হাসান

ভাষাবৃক্ষ ও বিবিধ চন্দ্রবিন্দু > দীর্ঘকবিতা >> মাজুল হাসান

প্রকাশঃ June 24, 2017

ভাষাবৃক্ষ ও বিবিধ চন্দ্রবিন্দু > দীর্ঘকবিতা >> মাজুল হাসান
0
0

ভাষাবৃক্ষ ও বিবিধ চন্দ্রবিন্দু 

ফলবান—নিদেনপক্ষে ছায়াবৃক্ষ ভেবে কাউকে শ্রদ্ধা করা যায় না
এমন মিনিয়েচার বাগানে সফেদার মিষ্টতা নিয়ে কথা বলছি অনর্গল
রোববার থেকে বেরুচ্ছে বিবিধ রোববার

১.
ভাষাবৃক্ষ কবে পাকে ফলফলাদি তোমার?

পরসমাচার: নিধি ওর মা’কেও বাবা বলে ডাকে
ওর জন্য তাই তুলে রাখছি ফলকাটার ছুরি
পিতৃহত্যার মধ্য দিয়ে বালেক হয় মানুষ
যেমন অগ্রজকে চিড়েফেড়ে বেড়ে ওঠে নতুন কবি
রক্তিম ও কবিতাকে তাই নিধি বলে ডাকি

ভাষাবৃক্ষ কবে ফোটে চিরপুষ্প তোমার?

২.
মাংসের ভেতর গেঁথে দিচ্ছি হাড়, বাড়ছে পাতাবাহার
পাতাবাহারের ডাল থেকে গজিয়ে ওঠে পাতাবাহার
আমার এক হাত করাত হয়ে কেটে ফ্যালে অন্য হাত
বর্জিত পঙক্তিরা কাঁদে; একটা ফলা; একটা ঊর্ধ্বকমা
অসহ্য জঙ্গলে ফিরেঘুরে একটা পানপাতা-মুখ মনে পড়ে
উপরে নিটোল, ভেতরে রক্তাক্ত—তুখোড় যুদ্ধবাজ
অতএব কাম-ই কামরাঙা। লজ্জাস্থানে ক্ষয়িষ্ণু লাল
হাড়-সদৃশ পিষে ছিটিয়ে দিচ্ছি ত্রস্ত সাদা

ছাড়িয়ে যাও ছায়বৃক্ষ। পাখি তুমি চন্দ্রবিন্দুর মতো ওড়ো

৩.
এখন একটানা মানুষের মুখের দিকে তাকাতে পারি না
এতো ঝঞ্ঝা, বালির আস্তর আর মণিতে নিভন্ত দাবানল
আমি কি কখনো দেখেছি পালক ও নীরব ভূর্জপত্র?
সবার মুখ আগুনে পোড়া বন, মাথায় শুষ্ক তৃণভূম, মৃত্যু
আঁকিবুকি করে সৈকত ছেড়ে পালিয়েছে কাঁকড়ার দল
হে জড় মানচিত্র, সৌম্য পড়োবাড়ি—আমাকে দাও স্থৈর্য

৩.
প্রিয় দেবদারু—ভেতরে অন্তর্লীন নির্জনতা নিয়ে কত যে বলো কথা
সবুজ-অন্ধকার থেকে উবে যায় আরো সবুজ-অন্ধকার ধোয়া
রাগী বর্ণমালা আর সি শার্প কান্নাকে থাকতে দাও পাড়-মাতাল
শেখাও গলধিকরণ। বিস্ফোরণের আগে চিৎকারকেও হতে হয়
পাতালকুঠির জমাট
প্রিয় কবি, ভুল প্রকাশে শব্দের নেশা কেটে যায়, আক্রোশ থেকে
খসে পড়ে বিষাধার

পাথর—আক্রোশ বাঁচাও, তবেই শিখবে আগুন জ্বালার কৌশল

৪.
জল কি কখনো জানে ওর ভেতর-বাহির করে মানুষ; উভচর, পতঙ্গ-কীট?
জলে মাছেদের কলোনি; যুনিপোকার প্লাবতা শিক্ষন। শুধু কলসি ডুবে যায়
মাছেরা সেইসব আত্মহনন ও ব্যবহৃত মাকড়ির কথা জানে, টুকে রাখে সব
হল্লা এসে দাঁড়ায় উপকণ্ঠে; আনন্দিত-মদ্যপ হল্লা, দূরে বিলীয়মান দশভূজা
লিঙ্গ ধুয়ে ডাঙায় উঠে আসে পুরুষ। জল কি কখনো জানে ওর বাহির-ভেতর?

৫.
আমাকে দ্যাখো পাঁচিলে হেঁটে বেড়ানো বেড়াল। ঠোঁটে দুগ্ধঘ্রাণ

অক্ষত আজও। এবং নারী। হে দীর্ঘ ঈ-কার তুমি আবক্ষ জলপিপে

নারী আমাকে দ্যাখো। দীর্ঘ ঈ-কার আমাকে মহাপ্রাণ দণ্ড দাও

দ্যাখো দীর্ঘ পয়ারের মতো গাছে গাছে উড়ছে পালকের সেমিজ

যেমন—কাকেরা আছে বলে ছেলেপুলেরা চিনতে শিখলো পাখি

তোমাকে দেখলেই চতূর্থ লোকালয়, বুঝি শহর এখনও নির্মাণাধীন

শহরে সবারই থাকে ধুম করে পোষা বেড়াল মরে যাওয়ার স্মৃতি

৬.
পেপারওয়েট—হে সহনীয় শীতল স্তন, তোমার ভেতরে
আড়াই মাত্রিক সবুজ দেখেছিলাম একদিন
রঙ বদলাতে পারদর্শী একটা অলকানন্দাও
তোমার ডিসপেন্সারিতেই প্রথম কঙ্কাল দেখা
ফরমালিনে ডোবানো গুইসাপ, কী নিদারুণ!
তোমার ওখান থেকে ফিরে ২য়বার মৃত্যু হয়েছিল আমার

৭.
কথার মাঝেও ছুরি থাকে, যেমন হাসির মাঝে লুকানো থাকে বিষদাঁত
বুধবার জুড়ে বেগানা সময় আসে, কেটে ফ্যালে আমরুদ—নিদয় করাত

শরীর ছাপিয়ে তাই আজ কথা হোক শীতল রক্ত, উহার সর্পিল চলাচল
যেখানেই যাই—নারী, সন্তান, মদের হুল্লোড়- দেখি এসে গেছে নতুন বৃত্ত
কাটা হয় ফল, নুয়ে পড়ে কুঁড়ি, মিসাইল ওড়ে—সবেতেই আমি সম্পৃক্ত
তবু কোথাও নেই, না মধুতে, না চাকে, দৃশ্যের কণ্ঠনালী চেপে ধরে সবল

পায়ের খোঁজে লেঠেল আসে হররোজ, চোখের মণি জুড়ে উল্কার প্রপাত
বুধবার জুড়ে বেগানা সময় আসে, কেটে ফ্যালে আমরুদ—নিদয় করাত

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close