Home অনুবাদ ভিএস নাইপল / সোনার দাঁত মাসিমা / ফজল হাসান অনূদিত ছোটগল্প

ভিএস নাইপল / সোনার দাঁত মাসিমা / ফজল হাসান অনূদিত ছোটগল্প

প্রকাশঃ November 19, 2016

ভিএস নাইপল /  সোনার দাঁত মাসিমা / ফজল হাসান অনূদিত ছোটগল্প
0
0

তীরন্দাজে নাইপল

নোবেলজয়ী লেখক স্যার বিদ্যাধর সুরজপ্রসাদ নাইপল এখন ঢাকায়। লিট ফেস্টে আমন্ত্রিত হয়ে তিনি ঢাকা এসেছেন। এই প্রথম কোনো নোবেলজয়ী লেখক বাংলাদেশের কোনো সাহিত্য উৎসবে যোগ দিলেন। ১৭ নভেম্বর তিনি ফেস্টের উদ্বোধন করেছেন গতকাল মুখোমুখি হয়েছেন পাঠক-শ্রোতাদের। ইতিপূর্বে আমরা তার একটা ছোটগল্প, তার উপর একটা প্রবন্ধ এবং নোবেল-ভাষণটি প্রকাশ করেছি। আজ প্রকাশ করা হলো আরেকটি ছোটগল্প। এর পরে প্রকাশিত হবে তার একটি সাক্ষাৎকার। সবমিলিয়ে এই আয়োজনটি পাঠকদের কেমন লাগছে আমাদের ইমেইল করে বা ফেসবুক ফ্যানপেজে লিখে জানান। – মোজাফফর হোসেন, অতিথি সম্পাদক

ভিএস নাইপল /  সোনার দাঁত মাসিমা / ফজল হাসান অনূদিত ছোটগল্প 

আমি কখনোই তার আসল নাম জানি না। আমার মনে হয় তার কোনো নামই ছিল না। শুধু ‘সোনার দাঁত’ ছাড়া কাউকে আমি কখনোই অন্য কোনো বিশেষ নাম ধরে তাকে ডাকতে শুনিনি। বলা বাহুল্য, তার সোনার দাঁত আছে এবং ষোলটা দাঁত সোনা দিয়ে বাঁধানো। কচি বয়সে তার বিয়ে হয়েছিল এবং বিয়েটা বেশ ঘটা করেই হয়েছিল। বিয়ের অল্প কিছুদিন পরে তিনি তার সাধারণ ভালো দাঁত ফেলে দিয়ে সোনার দাঁত লাগিয়েছিলেন। তার মূল কারণ ছিল, বিশ্ববাসীকে চোখে আঙুল দিয়ে জানিয়ে দেয়া যে, তার নববিবাহিত স্বামী একজন গণ্যমান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং অঢেল ধনদৌলত ও প্রতিপত্তির মালিক।

তবে সোনার দাঁত ছাড়াও আমার মাসিমাকে আলাদা করে চেনা খুবই সহজ। গায়ে গতরে তিনি খাটো, উচ্চতায় বড় জোর পাঁচ ফুট, মেদভর্তি থলথলে অদ্ভুত শরীর এবং দেখতে অনেকটা বিশাল দৈত্যের মতো। তাকে আবছা অন্ধকারে দেখলে কিছুতেই বোঝা যায় না যে, তিনি কী মুখোমুখি তাকিয়ে আছেন, নাকি অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে আছেন।

মাসিমার দৈনিক খাদ্য-খাবারের পরিমান খুবই সামান্য, কিন্তু দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি উপাসনায় মগ্ন থাকেন। তার নিজের পরিবার হিন্দু এবং স্বামী একজন পণ্ডিত। তিনি নিজেও গোড়া হিন্দু। তবে হিন্দুধর্মের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং পবিত্র-অপবিত্রের মধ্যে পার্থক্য ছাড়া ধর্ম সম্পর্কে তিনি খুব অল্প জানেন এবং সেই অল্প জানাটুকুই তিনি মনে করেন তার জন্য পর্যাপ্ত। সোনার দাঁতের আরেকটা অর্থ হচ্ছে ঈশ্বরকে শক্তি হিসেবে বিশ্বাস করা এবং এই বিশ্বাসই বাস্তবের সমস্ত ভালো কিছু চাওয়া-পাওয়ার মূল উৎস, এমনকি নিজের মঙ্গলের জন্যও গণ্য করা হয়।

মাঝেমাঝে আমার মনের ভেতর ভয়ের বরফকুচি জমতে থাকে। আমার ধারণা যে, তিনি তার হেলানো-দোলানো শরীরের বাড়তি মেদ কমানোর জন্যই সোনার দাঁত নিয়ে উপাসনা করেন। সত্যি বলতে কি, সোনার দাঁতের কোনো বাল-বাচ্চা নেই এবং তার বয়স প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি। তার সংকুচিত মনোভাবের জন্য সন্তানহীনতাই দায়ী, অতিরিক্ত চর্বি দায়ী নয়। তবে স্থূলতার অভিশাপ থেকে আরোগ্য লাভের জন্য তিনি নিয়মিত প্রার্থনা করেন। তিনি যে-কোনো উপায়ে মেদ কমাতে চান। প্রয়োজনে তিনি যে-কোনো ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা উপাসনা করে ঐশ্বরিক শক্তিকে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত আছেন।

এবং অবশেষে মাসিমা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে খ্রিস্টানদের আচার-আচরণের প্রতি একধরনের দুর্বলতা অনুভব করা শুরু করেন।

সেই সময় মাসিমা কারুনি কাউন্টির কুনুপিয়া গ্রামে বসবাস করতেন। সেখানে তখন কানাডার একটা সংগঠন ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্থানীয় অভিবাসীদের ধর্মান্তরিত করার কাজে নিয়জিত ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে সোনার দাঁত ছিলেন অনড়। কুনুপিয়ার এক মন্ত্রী, যিনি গির্জার যাজকীয় শাসনতন্ত্রের একজন গোড়া সমর্থক, এবং স্থানীয় মিশন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, তাকে অনেক বুঝিয়েছেন। কিন্তু তাতে কোনো রফাদফা হয়নি। তিনি একবারের জন্যও ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবেনবি। তবে বিষয়টি তাকে রীতিমতো আতঙ্কিত করে তোলে। একসময় তার বাবা ছিলেন একজন নামিদামি হিন্দু পণ্ডিত। এছাড়া তার স্বামীও একজন পণ্ডিত। তিনি সংস্কৃত ভাষা লিখতে ও পড়তে পারেন। তার সুনাম এবং পান্ডিত্যের রোশনাই কুনুপিয়ার সীমানা পেরিয়ে অনেক দূরে চলে গেছে। সোনার দাঁতের মতে হিন্দুরাই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো মানুষ এবং অন্য ধর্মের তুলনায় হিন্দু ধর্মের স্থান অনেক উঁচুতে। তবে তিনি অনেক কিছুই মেনে নিতে প্রস্তুত, কিন্তু ধর্মান্তর – মোটেও না, কভি নেহী।

গির্জার যাজকীয় শাসনতন্ত্রের বিশ্বাসীদের প্ররোচনা মোকাবেলা করা গোড়া হিন্দুদের একমাত্র বাধা ছিল না। তাদের মুসলমান এবং ক্যাথলিকদেরও মোকাবেলা করতে হতো। তারা প্রচারপত্র যত্রতত্র বিলাত এবং তাদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু সোনার দাঁত চুপিচুপি কিছু প্রচারপত্র পড়েছে। এসব প্রচারপত্র খুবই সহজ ভাষায় লেখা ছিল যা পড়ে বুঝতে তার কোনো অসুবিধা হয়নি। বরং তার জানার আগ্রহ আরো বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব প্রচারপত্র পড়ে তিনি অলৌকিক এবং রহস্যময় সব ঘটনা সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা তৈরি করে নিয়েছেন।

একদিন সকালবেলা মাসিমা ট্রেনে চড়ে তিন কিলোমিটার দূরের চাগুয়ানাস শহরে যাত্রা করেন। ট্রেনে যেতে কুড়ি মিনিট সময় লাগে এবং মাঝখানে দুটো স্টেশন পড়ে। চাগুয়ানাস শহরের সেইন্ট ফিলিপ এবং সেইন্ট জেমস্ গির্জা দুটো কারুনি সাভানা সড়কের শেষপ্রান্তে অবস্থিত। চাগুয়ানাস শহর সম্পর্কে সোনার দাঁতের মোটামুটি ধারণা আছে। তিনি জানেন যে, গির্জার চূড়ায় একটা বড় ঘড়ি আছে, যা তিনি পাশের রেলস্টেশনে যাওয়ার সময় দেখেছিলেন। তবে পাশের পুলিশ ফাঁড়ির প্রতি তার কোনো কৌতূহল ছিল না।

অবশেষে সোনার দাঁত মাসিমা গির্জার উঠোনে গিয়ে পৌঁছেন। নিজের হঠকারিতার জন্য তিনি রীতিমতো আতঙ্কিত। তার মনে ভয় হচ্ছিল, তিনি স্বগোত্রভোজীদের আস্তানায় এসে উপস্থিত হয়েছেন। তবে তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন। কেননা সেই সময় গির্জায় কোনো মানুষ ছিল না। যা-ই হোক, আসার আগে তিনি মনে মনে যেটুকু ভয় পেয়েছিলেন, আসলে বাস্তবে তা নয়। আশেপাশের সাজানো-গোছানো জিনিসপত্র দেখে তার কাছে মন্দিরের মতোই লেগেছে। হঠাৎ তার দৃষ্টি এক জায়গায় আটকে যায়। ওখানে স্পষ্ট করে লেখা মোমবাতি দুই সেন্ট। তিনি আঁচলের গিঁট খোলেন। সেখানে খুচরো টাকা বেঁধে রেখেছেন। তিন সেন্ট বের করে একটা বাক্সের মধ্যে রাখেন। তারপর একটা মোমবাতি তুলে হিন্দু কায়দায় নমস্কারের ভঙ্গিতে দু’হাত তুলে তিনি প্রণাম করেন। প্রণাম শেষে তড়িঘড়ি করে তিনি গির্জা থেকে বেরিয়ে আসেন। আচমকা তার মনের আকাশে উৎকণ্ঠার কালো মেঘ এসে জমা হতে থাকে। শরীরের মেদ কমে যাওয়ার আগেই তাকে বাড়ি ফিরে যেতে হবে।

সোনার দাঁত বাসে করে বাড়ি ফিরে আসেন এবং সন্তর্পণে দেরাজের ভেতর মোমবাতি লুকিয়ে রাখেন। তার খানিকটা ভয় করছিল, স্বামী হয়তো দৈবগুণে তার চাগুয়ানাস যাত্রার কারণ জেনে যাবেন। চারদিন অতিরিক্ত উপাসনা করার পর তিনি যখন দেখলেন যে তার যাওয়া নিয়ে স্বামী কোনো প্রসঙ্গ তোলেননি। সোনার দাঁত ভাবলেন, তাহলে মোমবাতি জ্বালানো যায়। রাতের বেলা তিনি চুপিচুপি হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তির সামনে মোমবাতি জ্বালালেন এবং দ্বিগুণ সময় নিয়ে উপাসনায় মনোনিবেশ করেন।

ধর্মের প্রতি মাসিমার মন প্রতিদিন আরো বেশি নরম হতে থাকে এবং অবশেষে তিনি গলায় ‘ক্রুশ’ চিহ্ন ব্যবহার করা শুরু করেন। তার এই পরিবর্তন স্বামী এবং পাড়া-প্রতিবেশীরা জানে না। পরে তিনি দুটো ছবি কিনে আনেন – একটা ভার্জিন মেরীর এবং অন্যটা ‘ক্রশ’ চিহ্নের। এগুলো তিনি স্বামীর দৃষ্টির আড়ালে লুকিয়ে রাখেন এবং সুযোগ মতো ছবি বের করে গভীর উপাসনায় মগ্ন হন। তখন তার মন প্রশান্তি লাভ করে। এভাবেই দিনে দিনে খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি তার দুর্বলতা বাড়তে থাকে।

তারপর একদিন সোনার দাঁত মাসিমার স্বামী রামপ্রসাদ অসুস্থ হয়ে পড়ে।

হঠাৎ করে স্বামীর এই অসুস্থতা মাসিমাকে ভাবিয়ে তোলে। তিনি জানেন, এটা যেমন-তেমন অসুখ নয় এবং তিনি এ-ও বুঝতে পেরেছেন যে ধর্মের প্রতি তার এই পরিবর্তনই মূল কারণ। চাগুয়ানাস জেলার বড় ডাক্তার বলেছে, তার স্বামী ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। কিন্তু সোনার দাঁত ভালো করে জানেন, আসলে তার কি রোগ হয়েছে। যাহোক, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি স্বামীকে ইনস্যুলিন দেয়া শুরু করেন। কিন্তু চুপিচুপি তিনি দূরের এলাকার গনেশ পণ্ডিতের সঙ্গে দেখা করে ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থা করেন। বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই নিরাময় করার জন্য গনেশ পণ্ডিতের বেশ সুনাম রয়েছে।

গনেশ পণ্ডিত দূরের ফিউন্তে গ্রোভ এলাকায় বসবাস করে। সে সোনার দাঁতের স্বামীর রোগ দূর করার জন্য সেখান থেকে কুনুপিয়ায় এসেছে। তার মনে ভীষণ উৎকন্ঠা এবং ভয়ের চিহ্ন ফুটে ওঠে। কেননা সোনার দাঁতের স্বামীকে রোগমুক্ত করতে হবে। গনেশ পণ্ডিত ভালো করেই জানেন, সোনার দাঁতের স্বামী একজন গোড়া ব্রাহ্মণ এবং তুখোড় পণ্ডিত। বেদশাস্ত্রের পাঁচ খণ্ড গ্রন্থ তার নখদর্পণে। অথচ সে একজন সাধারণ নগণ্য মানুষ। তিনি বেদশাস্ত্রের মাত্র চার খণ্ড গ্রন্থ পড়েছে।

গনেশ পণ্ডিতের গায়ে ধবধবে সাদা কুর্তা, পড়নে ভাঁজ করা ধুতি এবং ঘাড়ের দু’পাশে সামনের দিকে সবুজ রুমাল ঝুলানো। তার এই পরিপাটি বেশভূষা চেহারায় একধরনের আভিজাত্য ফুটে উঠেছে। রোগীর ঘরে ঢুকে সে অসুস্থ লোকটির ফ্যাঁকাসে মুখের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকায় এবং চারপাশের গুমোট বাতাসে জোরে জোরে নিঃশ্বাস টেনে একটা কিছুর গন্ধ শোঁকে।

‘এই লোকটিকে,’ সে বললো, ‘ভূতে ধরেছে। তার উপর সাত ধরনের অশুভ শক্তি ভর করেছে।’

সোনার দাঁত আপনমনে বললো, ভালোই হয়েছে, কথাটা গনেশ পণ্ডিত বলেছে। তবে সে আগেই জানতো যে তার স্বামীর অসুস্থতার পেছনে কোনো খারাপ কিছুর প্রভাব রয়েছে। যা-হোক, এই ভেবে সে খুশি যে গনেশ পণ্ডিত অশুভ শক্তির সংখ্যাও বলে দিয়েছে।

‘কিন্তু আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না,’ গনেশ পণ্ডিত বলল। ‘আমরা চতুর্দিক থেকে পুরো বাড়িটা ঝাড়ফুঁক দিয়ে বন্ধ করে দেব। তাহলে বাইরের কোনো অশুভ শক্তি বাড়ির সীমানার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না।’

না বলার আগেই গনেশ পণ্ডিতের বসার জন্য সোনার দাঁত একটা কম্বল এনে ভাঁজ করে মেঝের উপর বিছিয়ে দেন। তারপর তিনি একটা পিতলের গ্লাসে পানি, একটা আমপাতা এবং একটা বাটিতে জ্বলন্ত কয়লা আনেন।

‘খানিকটা ঘি নিয়ে এসো,’ গনেশ পণ্ডিত বলল। সোনার দাঁত ঘি নিয়ে এলে গনেশ পণ্ডিত ঝাড়ফুঁকের কাজ শুরু করে। সে শব্দ করে তন্ত্রমন্ত্র পড়ার সময় পিতলের গ্লাসে আমপাতা ডোবায় এবং সেই পানি নিয়ে রোগীর চারপাশে ছিটিয়ে দেয়। তারপর সে জ্বলন্ত কয়লায় ঘি পোড়ায় এবং সেই সময় কয়লার আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।

গনেশ পণ্ডিত বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সোনার দাঁতকে উদ্দেশ্য করে বললো, ‘তোমার স্বামীর কপালে এই পোড়া ছাই খানিকটা মেখে দিও। তিনি যদি কোনোভাবেই রাজি না হন, তাহলে সামান্য পরিমানে ছাই খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দিও। এছাড়া এই পানি একটা বোতলে ভরে প্রতিরাতে দরজার সামনে রেখো।’

সোনার দাঁত আঁচল টেনে কপাল ঢেকে দিলেন।

খক খক করে গনেশ পণ্ডিত বার কয়েক কাশে। তারপর ঘাড়ের উপর ঝুলানো রুমাল পরিপাটি করে রাখার সময় বললো, ‘আমার কাজ শেষ। আমি এর বেশি আর কিছু করতে পারব না। বাকিটুকু ঈশ্বরের করুণা।’

গনেশ পণ্ডিত তার কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বরং রামপ্রসাদের মতো একজন গোড়া ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের সেবা করতে পেরে সে নিজেকে ধন্য মনে করে। তার এই কথা শুনে মনে মনে সোনার দাঁত ভাবে, একজন সজ্জন মানুষের স্ত্রী হতে পেরে সত্যি সে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করে।

‘বাবা,’ সংকুচিত গলায় আলতো করে সোনার দাঁত ডাকে, ‘আপনাকে কিছু বলতে চাই।’

বলেই তিনি থেমে যান। কিছুই আর বলতে পারেন না। তার এই অসহায় করুণ অবস্থা দেখে গনেশ পণ্ডিতের মন স্নেহ-মমতায় ভরে যায়।

‘তোমার কি হয়েছে, মা?’ দূরে গলায় গনেশ পণ্ডিত জিজ্ঞেস করে।

‘আমি একটা জঘন্য অপরাধ করেছি, বাবা।’

‘কি সেই অপরাধ?’ মমতায় সিক্ত ভেজা কণ্ঠ গনেশ পণ্ডিত পুনরায় জিজ্ঞেস করে। আপনমনে সে ভাবে, সোনার দাঁত কোনো অপরাধ করতে পারে না।

‘আমি খ্রিস্টানদের জিনিসপত্রের সামনে বসে উপাসনা করি।’

সোনার দাঁত মাসিমাকে সম্পূর্ণ চমকে দিয়ে গনেশ পণ্ডিত স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুখ টিপে হাসতে শুরু করে। সে বলল, ‘তুমি কি মনে করো, তাতে ঈশ্বর মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন? জানো, ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন নিয়মে তার উপাসনা করে। তুমি কিভাবে উপসনা করো, ঈশ্বরের কাছে সেটা ধর্তব্যের বিষয় নয়। তুমি আদৌ উপাসনা করো কিনা, সেটাই হলো আসল বিষয়।’

‘তাহলে আমার কৃতকর্মের জন্য আমার স্বামী অসুস্থ হয়নি?’ সোনার দাঁতের চোখেমুখে অস্বস্তির ছবি ফুটে উঠে।

‘না। তুমি নিশ্চিন্ত থাকো, মা।’ অভয় দিয়ে গনেশ পণ্ডিত বললো।

গনেশ পণ্ডিতের পরামর্শ অনুযায়ী সোনার দাঁত শুধু স্বামী রামপ্রসাদের কপালে পবিত্র ছাই মেখে দেয়নি, উপরন্তু খাবারের সঙ্গেও পর্যাপ্ত পরিমাণে মিশিয়ে দিয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় রামপ্রসাদ যেটুকু খাবার খেতো, এখন তারচেয়েও অল্প পরিমাণে খায়। ফলে দিনদিন সে শুকিয়ে আমসি হতে থাকে। রামপ্রসাদের স্বাস্থ্যহানি দেখে তার স্ত্রী রীতিমতো বিচলিত হয়।

সোনার দাঁত রামপ্রসাদের খাবারের সঙ্গে পবিত্র ছাই আরও বেশি পরিমানে মেশাতে থাকেন। কিন্তু ভগ্ন শরীরের উন্নতির পরিবর্তে রামপ্রসাদের স্বাস্থ্য আরও ভেঙে পড়ে। উপায়ান্তর না দেখে সোনার দাঁত অবশেষে হিন্দুত্বে ফিরে যায় এবং স্বামীকে নিয়ে মায়ের কাছে যান। আমাদের ঠাকুরমা, অর্থাৎ সোনার দাঁতের মা, তখন আমাদের সঙ্গে পোর্ট অফ স্পেনের উডব্রুকের বাড়িতে থাকেন।

রামপ্রসাদের শরীর ঋজু, কঙ্কালসার এবং তার চোখমুখ ফ্যাকাসে। একসময় যে কণ্ঠে সুরেলা মিষ্টি সুরে বের হতো পুরাণের পবিত্র শ্লোক, অথচ এখন সেই কণ্ঠে ফ্যাসফ্যাস ছাড়া আর কোনো শব্দই বের হয় না। যাহোক, থাকার জন্য আমরা তাকে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিই। ঘরটা নিতান্ত ছোট এবং ঘরে ঢোকার সঙ্গে-সঙ্গেই বিছানার ওপর উঠতে হয়। দেওয়ালের নিচের অর্ধেকটা পাকা এবং উপরের অর্ধেকটা খাঁজকাটা বেড়া দিয়ে ঢাকা।

আমার ঠাকুরমা ছোট ঘরে অসুস্থ রোগীর থাকা নিয়ে খুবই চিন্তিত। তার চিন্তার মূল কারণ হলো খাঁজকাটা বাঁশের বেড়া। কেননা বেড়ার ফাঁক দিয়ে আলো এবং বাতাস অনায়াসে ঢুকবে। এতে হয়তো রোগীর অসুবিধা হবে। তাই তিনি কাপড় এবং ক্যানভাস দিয়ে বেড়ার ফাঁকা জায়গা বন্ধ করে দিয়েছেন।

এক সপ্তাহের মধ্যে রামপ্রসাদের খাবারের প্রতি অনীহা কমে যায় এবং তিনি বেশি পরিমাণে খাবার খেতে শুরু করেন। রামপ্রসাদের এই পরিবর্তনের সবটুকু কৃতিত্ব ঠাকুরমা নিজেই নিতে চান। কিন্তু সোনার দাঁত জানে, পবিত্র ছাইয়ের ভূমিকা কোনোমতেই অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু পরমুহূর্তেই তার মনে পড়ে, কোথায় যেন একটা ফাঁক রয়ে গেছে। কুনুপিয়ার যে বাড়িতে তারা থাকতেন, সেই বাড়ি গনেশ পণ্ডিত ঝাড়ফুঁক দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল, যার জন্য কোনো অশুভ শক্তি সেই বাড়ির সীমানার ভেতর ঢুকতে পারেনি। কিন্তু উডব্রুকের বাড়িতে তেমন কিছু করা হয়নি। সুতরাং অশুভ শক্তি ইচ্ছে মতো যখন-তখন বাড়ির ভেতর ঢুকতে পারে। সমস্যা খুবই গভীর।

এখানে গনেশ পণ্ডিতের কথা অবান্তর। কেননা সে একবার বিনা পয়সায় কাজ করে দিয়েছে। তাই দ্বিতীয়বার তাকে ডেনে আনা অশোভনীয়। তবে হঠাৎ করে সোনার দাঁত মাসিমার মনে পড়ে গনেশ পণ্ডিতের সেই কথাগুলো : ‘তুমি কিভাবে উপসনা করো, ঈশ্বরের কাছে সেটা ধর্তব্যের বিষয় নয়। তুমি আদৌ উপাসনা করো কিনা, সেটাই হলো আসল বিষয়।’

তাহলে আবার কেন খ্রিস্টান ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা ফিরিয়ে আনা যাবে না?

এবার মাসিমা কিন্তু কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ। তিনি স্বামীকে সব খুলে বলবেন।

‘এই যে, শুনছেন?’ মাসিমা স্বামীকে আস্তে করে ডাকেন।

রামপ্রসাদ কোনো জবাব না দিয়ে মাথা নিচু করে খেতে থাকেন।

‘ম্যান,’ এবার মাসিমা ইংরেজিতে বললেন, ‘উপাসনার জন্য আমি গির্জায় যাওয়ার কথা ভাবছি। আপনি জানেন না, কোথায় কখন কি হয়? তবে সতর্ক থাকা ভালো। এছাড়া এখানে তো অশুভ শক্তির অমঙ্গল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কোনো ঝাড়ফুঁক দেওয়া হয়নি।’

‘আমি চাই না, তুমি গির্জায় গিয়ে উপাসনা করো,’ রামপ্রসাদও ইংরেজিতে ফিসফিসিয়ে বলল।

মাসিমা পরপর তিন দিন অনুনয়-বিনয় করে গির্জায় যাওয়ার জন্য স্বামীর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন। একসময় তার অশ্রুধারায় রামপ্রসাদের কঠিন মনে বরফ গলতে শুরু করে। শরীর এত বেশি কাহিল যে, কাউকে নিষেধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। যদিও তার খাবারের রুচি এবং ক্ষুধা বাড়ছিল, কিন্তু সে ভীষণ অসুস্থ। আস্তে আস্তে প্রতিদিন তার শরীর দুর্বল হতে থাকে।

অবশেষে চতুর্থ দিন রামপ্রসাদ স্ত্রীকে ডেকে বলল, ‘ঠিক আছে, তুমি যদি মনে করো তোমার মন ভালো হবে, তাহলে গির্জায় গিয়ে যিশুর সামনে প্রার্থনা করতে পারো।’

সেদিন থেকেই সোনার দাঁত তার মনকে শান্ত করেন। প্রতিদিন ভোরে তিনি নিজের মতো প্রার্থনা করার জন্য ট্রলি বাসে করে হোলি রোজারি গির্জায় যাতায়ার শুরু করেন। তারপর একদিন ‘ক্রুশ’ চিহ্ন, মেরীর ছবি এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ঘরে নিয়ে আসেন। মাসিমার এই কীর্তিকলাপ দেখে আমরা শঙ্কিত হই। তবে তার স্বামী যে একজন গোড়া ব্রাহ্মণ পণ্ডিত, সে কথা আমরা সবাই জানি। তাই হা করে দেখা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। সোনার দাঁতের উপাসনা এখন একদিকে কৃষ্ণ ও শিব এবং অন্যদিকে মেরী ও যিশু।

একদিন অপরাহ্নে গির্জার ঘণ্টি বাজানোর পরে যখন সোনার দাঁত ধর্মানুসারে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছেন তখনই আমাদের বাড়ির উপাসনালয়ের ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ ভেসে আসে। আমাকে উদ্দেশ্য করে কেউ ডাকছে, ‘জলদি এসো। তোমার মাসিমার যেন কি হয়েছে?’

উপাসনালয়ের বন্ধ ঘরের ভেতর ধূপের ধোঁয়া এবং তীব্র গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। হিন্দু মূর্তির সামনে প্রণামের ভঙ্গিতে সোনার দাঁত প্রসন্ন মুখে ময়দার ভরা বস্তার মতো অনড় হয়ে পড়ে আছেন। আমি কেবল মাসিমাকে বসা কিংবা দাঁড়ানো অবস্থায় দেখেছি। কিন্তু এমন প্রসন্ন ভঙ্গিতে আগে কখনও তাকে দেখিনি।

আমার ঠাকুরমা সব সময়ই সতর্ক। তিনি মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে মাসিমার শরীরের উপরের দিকে কান রেখে বললেন, ‘আমি তো শ্বাস-প্রশ্বাসের কোনো শব্দ শুনতে পাচ্ছি না।’

ঠাকুরমার কথা শুনে আমরা স্তম্ভিত এবং ভয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত। আমরা সোনার দাঁতকে তুলতে চেষ্টা করি। মনে হলো তার দেহটা যেন সীসার চেয়েও ভারী। হঠাৎ তার সমস্ত শরীর হালকাভাবে কাঁপতে থাকে। সেই সময় পরবর্তী ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার জন্য উপস্থিত সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। একসময় সোনার দাঁত ক্রমাগত পা ছুঁড়ে মেঝের উপর আঘাত করেন এবং একই সঙ্গে বিড়বড় করেন।

চট জলদি ঠাকুরমা পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বললেন, ‘ওর উপর অশুভশক্তি ভর করেছে।’

‘অশুভ শক্তি’ কথাটা শুনেই ছোটরা ভয়ে শিউরে উঠে চিৎকার করে। ঠাকুরমা সঙ্গে সঙ্গে ওদের গায়ে থাপ্পর দিয়ে চিৎকার বন্ধ করে দেন।

মাসিমার কণ্ঠে বিড়বড় শব্দ ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে।

‘হেইল্ মেরী, হরে রাম,’ সোনার দাঁত মাসিমা বললেন, ‘আমাকে সাপ তাড়া করছে। সব জায়গায় সাপ। সাতটা সাপ। রাম ! রাম ! দয়াময়। কুনুপিয়া থেকে চারটার ট্রেনে চড়ে সাতটা অশুভ শক্তি পোর্ট অফ স্পেনে আসছে।’

ঠাকুরমা এবং আমার মা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। গর্বে তাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বরং এই পরিস্থিতিতে আমি একধরনের লজ্জা বোধ করি এবং সোনার দাঁত মাসিমার প্রতি আমার রাগ জমতে থাকে। আমি দরজার কাছে এগিয়ে যাই।

‘বাইরে কে যাচ্ছে? কে এই বাচ্চা ডাফর, অবিশ্বাসী?’ হঠাৎ অশরীরী কণ্ঠস্বর জিজ্ঞেস করে।

‘তাড়াতাড়ি ভেতরে আয়,’ অস্ফুট গলায় ঠাকুরমা বললেন, ‘কাছে এসে তার কাছে ক্ষমা চাও।’

আমাকে যা বলা হলো, সুবোধ বালকের মতো আমি তাই করি।

‘ঠিক আছে,’ শান্ত গলায় সোনার দাঁত বললেন, ‘তুমি কিচ্ছু জানো না। তোমার বয়স কম।’

তারপর একসময় অশুভশক্তি সোনার দাঁত মাসিমাকে ছেড়ে চলে যায়। মাসিমা উঠে বসেন এবং চারপাশে বিস্মিত চোখে তাকিয়ে ভাবেন, এখানে সবাই কেন জড়ো হয়েছে। সারা বিকেল তিনি স্বাভাবিক আচার-আচরণ করেন, ভাবটা যেন কিছুই হয়নি। সবাই অস্বাভাবিক দৃষ্টি মেলে তাকে দেখছে, অথচ তিনি না দেখার ভান করেন।

‘আমি সব সময়ই বলেছি এবং এখনও বলছি,’ ঠাকুরমা বললেন, ‘এই খ্রিস্টানগুলো অত্যন্ত ধর্মপরায়ন। সে জন্যই আমি খ্রিস্টান জিনিসের সামনে প্রার্থনা করার জন্য সোনার দাঁতকে উৎসাহ দিয়েছি।’

পরদিন ভোরে রামপ্রসাদ দেহত্যাগ করে এবং আমরা রেডিওতে দুপুর একটার খবরের পরই ঘোষণা করার ব্যবস্থা করি। যদিও বিজ্ঞাপনের মাঝে একমাত্র রামপ্রসাদের মৃত্যু-সংবাদ প্রচারিত হয়, তবুও এই দুঃসংবাদ মানুষের মনে দাগ কেটেছে। যাহোক, আমরা সেদিনই বিকেলবেলা তার মরদেহ মুকুরাপো গোরস্থানে দাফন করি।

দাফন শেষ করে বাড়ি ফিরে আসার সঙ্গে-সঙ্গেই ঠাকুরমা বলতে শুরু করেন, ‘আমি আগেও বলেছি এবং এখনও আবার বলছি, আমি খ্রিস্টানদের ধর্ম-কর্ম পছন্দ করি না। রামপ্রসাদ ভালো হয়ে যেত, তুই, সোনার দাঁত, যদি আমার কথা শুনতিস এবং এইসব খ্রিস্টানদের পেছনে না ছুটতিস।’

সোনার দাঁত ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে এবং কান্নার ফাঁকে মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। যখন তিনি খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি তার কার্যকলাপ সম্পর্কে স্বীকারোক্তিমূলক বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন তার সমস্ত শরীর কাঁপছিল। আমরা গভীর মনোযোগের সঙ্গে শুনছিলাম, কিন্তু মনে মনে একধরনের লজ্জা বোধ করছিলাম। আমরা ঘুর্ণাক্ষরেও জানতাম না যে, আমাদের গোড়া হিন্দু পরিবারের একজনের এতটা অধঃপতন হয়েছে। সোনার দাঁত পাগলের মতো এলোপাথারি তার মাথার চুল টানতে থাকে এবং গর্হিত অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।

‘সব দোষ আমার,’ সোনার দাঁত মাসিমা কাঁদতে থাকেন। ‘আমি অন্যায় করেছি, মা। একসময় আমি একটা দুর্বল মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছিলাম। তখন নিজেকে সংযত করতে পারিনি।’

আস্তে আস্তে ঠাকুরমার রাগ কমে যায় এবং সেই ফাঁকা জায়গায় সমবেদনা এসে জমা হয়। ‘ঠিক আছে, সোনার দাঁত। তুই হয়তো একমাত্র মানুষ, ইচ্ছে করলে ভুল পথ থেকে যে তোকে ফিরিয়ে আনতে পারে।’

সেদিনই সোনার দাঁত মাসিমা বাড়িতে মেরীর ছবি, ‘ক্রুশ’ চিহ্ন এবং অন্যান্য যা কিছু ছিল, সবই ধ্বংস করেন।

‘তুই শুধু তোকেই দোষারোপ করতে পারিস,’ ঠাকুরমা বললেন, ‘তোর কোনো ছেলেমেয়ে নেই, যে তোকে দেখাশোনা করবে।’

গল্পসূত্র : ‘সোনার দাঁত মাসিমা’ গল্পটি ভিএস নাইপলের ইংরেজিতে ‘মাই আন্ট গোল্ড টীথ’ গল্পের অনুবাদ। গল্পটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত ‘দ্য প্যারিস রিভিউ’ (গ্রীষ্ম সংখ্যা) ম্যাগাজিন থেকে নেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close