Home অনূদিত কবিতা সংবাদ মাইনুল ইসলাম মানিক ও মেহরাব হাসান >> সাহিত্য সংবাদ
0

মাইনুল ইসলাম মানিক ও মেহরাব হাসান >> সাহিত্য সংবাদ

প্রকাশঃ October 16, 2017

মাইনুল ইসলাম মানিক ও মেহরাব হাসান >> সাহিত্য সংবাদ
0
0

মাইনুল ইসলাম মানিক ও মেহরাব হাসান >> সাহিত্য সংবাদ

ফ্রাঙ্কফোর্ট বইমেলা ও বাংলাদেশ

ফ্রাঙ্কফোর্ট বইমেলা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বইমেলা। গতকাল ১১ অক্টোবর শুরু হওয়া বইমেলাটি শেষ হলো গতকাল ১৫ অক্টোবর। এটি ছিল এই মেলার ৬৯তম আয়োজন। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমুনিয়েল ম্যাক্রন মেলাটি উদ্বোধন করেন। এ বছর ১০২টি দেশের সাত হাজার তিনশো প্রকাশক আর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। পাঁচ দিন ব্যাপী এই মেলায় বিভিন্ন দেশের সাহিত্য সংস্কৃতি আর বই বাণিজ্যের নানা সমস্যা আর তার সমাধান নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় চার হাজারেরও বেশি সেমিনার। বোঝাই যাচ্ছে, একই সঙ্গে অনেকগুলি সেমিনার অনুষ্ঠিত হতো- প্রতিদিন গড়ে প্রায় একহাজারের মতো!

ফ্রাঙ্কফোর্ট বইমেলায় বাংলাদেশও অংশগ্রহণ করেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বাংলাদেশ ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর এই মেলায় অংশগ্রহণ করছে। এর ফলে পৃথিবীর অন্যান্য প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপিত হতে পারছে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের বইয়ের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি সুযোগ ঘটেছে বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার। এ ক্ষেত্রে ফ্রাঙ্কফোর্ট বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে বলা যায়। মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই খাতে যুক্ত সবাই লাভবান হবে বলে মনে করে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের প্রকাশকেরা। বাংলাদেশের প্রকাশকদের একটি প্রতিনিধি দল এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন।

এই বইমেলায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে সমিতির নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক, পরিচালক নজরুল ইসলাম বাহার ও পরিচালক আহমেদ মাহমুদুল হক, অঙ্কুর প্রকাশনীর কর্ণধার মেসবাহ্‌ উদ্দীন আহমেদ, জার্নিম্যান বুকসের কর্ণধার তারিক সুজাত ও পরিচালক নাজনীন হক মুন্নি এবং পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্সের পরিচালক মৌসুমি আক্তার আলো। এছাড়া অমিকন পাবলিশিং চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মেহেদী মোঃ হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল আলম, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর দোলা হাসান, জেনারেল ম্যানেজার (ব্রান্ড) এহসান মাহবুব; বাংলাদেশ পাবলিশসারস এন্ড বুক সেলারস এসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফ হোসাইন ছোটনের নেতৃত্বে সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী শাহ আলম, ডিরেক্টর আমিরুল ইসলাম প্রমুখ। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফ্রাঙ্কফোর্ট বইমেলায় বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন লেখক অংশগ্রহণ করেছেন। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলাকে ঘিরে জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যেও উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছিল।

কতটা লাভবান হলো বাংলাদেশ > এই মেলায় অংশগ্রহণের কারণে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা জগতে বাংলাদেশের পরিচিতি আরও বেড়েছে। এর মধ্যে একটি অর্জন হচ্ছে, বাংলাদেশ এবার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশার্স এসোসিয়েশনের স্থায়ী সদস্য হতে পেরেছে। কিন্তু একটা ব্যাপারে সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। সেটা হলো ফ্রাঙ্কফোর্ট কিন্তু বই বিকিকিনির মেলা নয়। অর্থাৎ এখানে কোনো বই বিক্রি হয় না। কোনো ক্রেতা এখান থেকে বই কিনতে পারেন না, যেমনটা হয় আমাদের একুশের বইমেলায়। এখানে প্রকাশকরা আসেন তাদের প্রকাশিত বই বিশ্ববাজারে বিপণনের উদ্দেশ্যে। ব্যাপার এমন, ধরা যাক বাংলাদেশে পেঙ্গুইন প্রকাশনার কিছু বইয়ের চাহিদা আছে। এখন বাংলাদেশেরই কোনো ক্রেতা (পাবলিশার বা অন্য কেউ) সেই বই  হয়তো অর্ডার দিলে পেঙ্গুইন সেই বই বৈধপথে বাংলাদেশী ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেবে। তারপর বাংলাদেশের সেই ক্রেতা প্রাপ্ত বই এখানে বিক্রির ব্যবস্থা করবেন। অর্থাৎ এই বইমেলায় শুধু বই ক্রয়ের অর্ডার প্লেস করা যায়, কেউ ব্যক্তিগতভাবে কিনতে পারেন না। এই মেলাটা হলো প্রকাশকের সঙ্গে বড় বড় লটে যারা বই কেনেন তাদের মধ্যে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়ার মেলা। আমাদের দেশের কেউ এই মেলাতে এভাবে বইয়ের অর্ডার দেওয়ার জন্য অংশগ্রহণ করেন না। আবার আমাদের দেশে ইংরেজি বা পৃথিবীর অন্য প্রধান কোনো ভাষার (যেমন ফরাসি, এস্পানোল) বইও প্রকাশিত হয় না। কাজেই আমাদের প্রকাশকদের বই বিপণনের কোনো ব্যাপার নেই।

অনূদিত বই নেই, ফলে বিপণনও হয় না > আক্ষেপটা এখানেই। আমাদের এখানে ইংরেজিতে আমাদের লেখাও অনুদিত সেভাবে হয় না যে অনূদিত বইগুলি আমরা বিশ্ববাজারে বিপণন করতে পারি। সেই জন্য দরকার ব্যাপক অনুবাদ। কিন্তু আমাদের অনুবাদের অবস্থা এতটাই দুর্বল যে, এভাবে চললে বইয়ের বিশ্ববাজারে কোনো দিনই আমাদের ঠাঁই হবে না। কবে যে এই বন্ধ্যাত্ব কাটবে, বলা মুশকিল। তবে, প্রকাশকরা যদি উদ্যোগী হতেন তাহলে সমস্যা কিছুটা হলেও ঘুঁচতো। তাঁরা বইমেলায় যেন বাংলাদেশের বই বিপণন করতে যান, সেটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা। তবে তার আগে যে অনূদিত বই প্রকাশ করতে হবে, সেটাও যেন করেন তারা। তাহলে বিশ্ব বইয়ের বাজারে আমাদের প্রবেশাধিকার সহজ হবে। সৃষ্টিশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি হিসেবে তাহলে বিশ্বে আরও উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের মুখ। কবে আসবে সেরকম দিন?

ঐহিক বাংলাদেশের প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান

বেশ জমজমাট ছিল সাহিত্য-আড্ডাটা। দীপনপুরে, গত শুক্রবার। এই সময়ের লেখকদের অনেকেই জড়ো হয়েছিলেন। রাসেল রায়হান, মিসবাহ্ উদ্দিন, আশরাফ জুয়েল, জব্বার আল নাঈম, আরিফ শামসুল, গিরীশ গৈরিক, হাসনাত শোয়েব, অঞ্জন আচার্য়, স্বরলিপি, নাহিদ ধ্রুব, সুমী সিকানদারসহ আরো কেউ কেউ। সবাই কবিতা পড়লো। দীপনপুরে সবাই যেন বাণীর দীপ জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন সেই সন্ধ্যায়। খুবই নিবিড় একটা অনুষ্ঠান ছিল সেটি। খুব কাছে, মঞ্চের কোল ঘেঁষে চেয়ারে বসেছিলেন কবিরা। তাই কবিতার নৈকট্য আর উষ্ণতাও অনুভব করতে পারছিলেন উপস্থিত সবাই। দীপনপুরের পরিবেশটাও দারুণ ছিল। চারপাশে বই, তার ভেতরেই পাশের মঞ্চে কবিতাপাঠ চলছে। একসময় চলে এলো গরম গরম সিঙ্গারা, চা। বেশ ঘরোয়া অন্তরঙ্গ পরিবেশ।

প্রথমেই অনুষ্ঠানের সূচনা হয় নুরেন দুর্দানীর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। মিষ্টি কণ্ঠের আহবান কবিতা পড়বার আর শোনার। এরপর মঞ্চে ওঠেন ঐহিকের সভাপতি গল্পকার সম্পাদক তমাল রায়। তমাল চমৎকারভাবে ঐহিকের ইতিহাস তুলে ধরলেন। জানালেন, ঐহিক বাংলা সাহিত্যের সীমানাহীন চর্চায় বিশ্বাস করে। ঐহিক বাংলাদেশের লেখকদের বই বাংলাদেশ আর কলকাতা থেকে প্রকাশ করবে। দুদিকের পাঠকেরা কিনতে পারবেন সেই বই। ‘তপতী চ্যাটার্জী স্মৃতি সাহিত্য’ নামের একটা সাহিত্য পুরস্কার দিচ্ছে তারা, যা বাংলাভাষী লেখকদের জন্য উন্মুক্ত। এরপর ঐহিক বাংলাদেশের লক্ষ্য ও কাজ সম্পর্কে বক্তব্য রাখলেন কবি-কথাকার মেঘ অদিতি। একই কথা পুনর্ব্যক্ত হলো তার কণ্ঠে। এবারই ঐহিক বাংলাদেশে পথচলা শুরু হলো। একুশের বইমেলায় তারা বেশ কিছু প্রকাশনা নিয়ে উপস্থিত হবে। মঞ্চে এরপর বক্তব্য রাখলেন কবি ও প্রাবন্ধিক মাসুদুজ্জামান। ঐহিক বাংলাদেশকে স্বাগত জানিয়ে তিনিও সীমানাহীন সাহিত্যচর্চার প্রয়োজনীতা সম্পর্কে কথা বললেন। সাহিত্যের কোনো দেশকাল থাকে না, আর বাংলাভাষার লেখকদের মধ্যে কেন এটা থাকবে? বাংলা সাহিত্য তো সমস্ত বাঙালির। বাংলা সাহিত্যের তাই সীমারেখা নেই, থাকেও না। এরপর একে একে কবিতা পড়লেন উল্লিখিত কবিরা। শুধু সুমী সিকানদারকে মঞ্চে ওঠানো গেল না। হাসনাত শোয়েবকে পাশে নিয়ে তাঁর কবিতা পড়লেন তমাল রায়। ঘড়ির কাঁটা যখন সাড়ে আটটার ঘর ছুঁই ছুঁই করছে তখন শেষ হলো অনুষ্ঠান।

টরন্টোতে বাঙালি লেখক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

গত ১৪ অক্টোবর টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাঙালি লেখক সম্মেলন ২০১৭। গতবারের মতো এবারও সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বিপুল সংখ্যক কবি-সাহিত্যিক। বাঙালি লেখকদের সাথে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কানাডীয় কবি-সাহিত্যিকও বেঙ্গলি লিটারারি রিসোর্স সেন্টার (বিএলআরসি) আয়োজিত এবছরের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে সম্মেলন চলেছে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত।

শহরের ৯ ডজ রোডের কানাডিয়ান লিজিয়ন হলে অনুষ্ঠিত এই লেখক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন কানাডীয় সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব টরন্টো পোয়েট লরিয়েট অ্যান মাইকেলস, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক আসাদ চৌধুরী, কবি ইকবাল হাসান, লেখক ড. দিলীপ চক্রবর্তী, রাইটার্স ইউনিয়ন অব কানাডার নির্বাহী পরিচালক ঔপন্যাসিক, কবি ও কলামিস্ট জন ডেগেন এবং কানাডার সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রাইটারস ট্রাস্ট অব কানাডার নির্বাহী পরিচালক মেরি অসবর্ন। উদ্বোধনী পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিচেস-ইস্টইয়র্ক এলাকার এমপিপি আর্থার পটস।

সম্মেলনে কানাডার কবিতার বাংলা অনুবাদ নিয়ে ছিল একটি আড্ডা-পর্ব। এ পর্বে যে দুজন কানাডীয় কবি অংশ নেন তাঁরা হলেন রোনা ব্লুম এবং আনা ইয়িন। বাঙালি যে দুজন কবি ও অনুবাদক এ পর্বে অংশ নেন তাঁরা হলেন ঢাকা থেকে পারভেজ চৌধুরী এবং ভ্যাঙ্কুভার থেকে শাহানা আকতার মহুয়া।

উল্লেখ করা যেতে পারে, এবার সম্মেলনে বিএলআরসি সাহিত্য পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। নতুন এই সংখ্যাটিতে কানাডার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত ৭২জন বাঙালি লেখকের রচনা প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে সংখ্যাটিতে কানাডার কেন্দ্রীয় হেরিটেজ মন্ত্রী মেলানি জলির শুভেচ্ছাবার্তা প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক গবেষক সুজিত কুসুম পাল সম্পাদকমণ্ডলীর অন্য সদস্যদের নিয়ে সংখ্যাটির পাঠ উন্মোচন করেন।

বিভিন্ন পর্বে কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধসাহিত্য নিয়ে আলোচনা ও পাঠে অংশ নেন বাঙালি-অবাঙালি তরুণ ও প্রবীন কবি ও লেখক।

কথাসাহিত্য পর্বে আলোচনায় অংশ নেন সৈয়দ ইকবাল, ফরিদা রহমান, সালমা বাণী, মামুনুর রশীদ, অটোয়া থেকে শাহিনুর ইসলাম এবং কুইবেকের লংগেইল শহর থেকে আব্দুল হাসিব।

প্রবন্ধসাহিত্য পর্বে যে লেখকেরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন হাসান মাহমুদ, রিসমন্ড হিল থেকে সুধীর, সৈকত রুশদী এবং নজরুল মিন্টো।

কবিতা পর্বে পাঠ এবং আলোচনায় ছিলেন অশোক চক্রবর্তী, রূমানা চৌধুরী, শওকত সাদী, অটোয়া থেকে সুলতানা শিরিন সাজি, মৌ মধুবন্তী, শিউলী জাহান এবং মানজু মান আরা।

লেখক সম্মেলনে টরন্টোর কয়েকজন বাঙালি সাহিত্যিক কথা বলেছেন যারা প্রধানত ইংরেজিতে লিখে থাকেন। ইংরেজিভাষী বাঙালি লেখকেরা হলেন : আয়েশা চ্যাটার্জী, শুক্লা দত্ত, দয়ালী ইসলাম, সঞ্চারী সূর এবং রেজা সাত্তার।

এছাড়ারও যে বাঙালি তরুণরা লেখক সম্মেলনে একটি পর্বে লেখালেখির অভিজ্ঞতার নিয়ে কথা বলেন তাঁরা হলেন অর্ক ভট্টাচার্য, সূচনা দাস বাঁধন, ব্রতী দাসদত্ত এবং মেরিলিন সামান্থা পাণ্ডে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সকল অতিথি দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে কানাডার বাঙালি কমিউনিটির প্রয়াত লেখক ড. মীজান রহমান, মোল্লা বাহাউদ্দিন, ড. জহিরুল ইসলাম, মাহফুজুল বারী এবং প্রশান্ত সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

কবি ও লেখকদের পরস্পরের বই সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং তাঁদের গ্রন্থ সম্পর্কে পাঠকদের ধারণা বৃদ্ধির জন্যে গতবারের মতো এবারও সম্মেলনে বিনা খরচে লেখকদের বই প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা ছিল। সম্মেলনে বিভিন্ন পর্ব পরিচালনায় ছিলেন আকবর হোসেন, চয়ন দাস, দেলওয়ার এলাহী, তাসমিনা খান, সারিয়া তানজিম সুমনা, অর্ক ভট্টাচার্য এবং অদিতি কাজী।

সংগঠনের সচিব ফায়েজুল করিম সবাইকে ধন্যবাদ দেন।

ড্যান ব্রাউনের নতুন বই অরিজিন

বিখ্যাত আমেরিকান থ্রিলার লেখক ড্যান ব্রাউনের নতুন বই অরিজিন বাজারে এসেছে। এর আগে তাঁর সর্বশেষ বই ইনফার্নো প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৩ সালে। বইটি বাজারে আসার পর প্রথম দিন থেকেই এ পর্যন্ত টানা দুই সপ্তাহ নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপ অনুযায়ী বেস্ট সেলিংয়ের তালিকায় সেরা পাঁচে রয়েছে। বইটিতে মূল চরিত্র হিসেবে রাখা হয়েছে প্রফেসর ল্যাংডনকে। বইটির কাহিনি অগ্রসর হয় মানব অস্তিত্ব নিয়ে অনুদঘাটিত দুটি বিতর্কিত প্রশ্নের মধ্য দিয়ে। ল্যাংডনের দুই দশকের ছাত্র কির্ক মানুষের অস্তিত্বের দুটি অনুদঘাটিত প্রশ্নের সমাধান পায়। ল্যাংডন বুঝতে পারে এই বিষয়টি যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। ব্যাপারটি প্রকাশ হলে হিস্পানি যাজকদের গোপন সংস্থার চক্রান্তের মুখে পড়ে ল্যাংডন ও তার সহকারী ভিডাল। এভাবেই এগিয়ে যেতে যেতে এক সময় মানব অস্তিত্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান দেন ডন ব্রাউন। এই বইটি প্রকাশের আগে ড্যান ব্রাউনের ডিজিটাল ফোট্রেস, দ্য ভিঞ্চি কোড, লস্ট সিম্বল, অ্যাঞ্জেল অ্যান্ড ডিমনস, ডিসেপশন পয়েন্ট থ্রিলারসমূহ প্রকাশিত হয় এবং প্রায় প্রতিটি থ্রিলারই অসম্ভব রকমের পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে।

 

ড্যান্ডি লিটারারি ফেস্টিভ্যালের শুরু ১৮ অক্টোবর

১৮ অক্টোবর হতে শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী ড্যান্ডি লিটারারি ফেস্টিভ্যাল। ড্যান্ডি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর এই উৎসবটি আয়োজন করে থাকে। এবারের উৎসবটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোনার হলে অনুষ্ঠিত হবে। এ বছরের উৎসবের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘গ্রোথ অ্যান্ড ফর্ম। সমকালীন কবিতা, গল্প, গদ্য ও প্রবন্ধকে তুলে ধরাই এ উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। উৎসবের প্রথম দিনে নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া ও স্কটল্যান্ডের ট্রান্স-জেন্ডার ও বাইনারি লোকজনের জীবনধারাও তুলে ধরা হবে। উৎসবের দ্বিতীয় দিন আর্থার ক্রিস উপস্থাপন করবেন সাহিত্যের শৈলী বিষয়ক প্রবন্ধ। থাকছে ব্রায়ান জনসন ও অ্যান পিয়ার লেখালেখি বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠান। তৃতীয় দিনে থাকছে দ্য স্পিরিটি অব স্টোরি নিয়ে আলোচনা। চতুর্থ দিনে থাকছে লেখকদের প্রথম লেখা নিয়ে আলোচনা। শেষ দিনে দ্য আর্ট অব সায়েন্স বিষয়ে আলোচনা থাকবে। প্রতিদিনের আলোচনায় পৃথিবীর খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও সমালোচকগণ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

 

শহীদুল জহিরকে নিয়ে গাঁথার অনুষ্ঠান

১৪ অক্টোবর, শনিবার ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাহিত্য সংগঠন ‘গাঁথা’র নিয়মিত সাহিত্য সভা। আলোচনার বিষয় ছিল ‘শহীদুল জহিরের গল্প : বাস্তবের জাদু কিংবা জাদুর বাস্তব।’ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক, গল্পকার এবং অনুবাদক মোজাফফর হোসেন এবং কথা সাহিত্যিক, গবেষক হামীম কামরুল হক। তাঁরা শহীদুল জহিরের চারটি গল্পসহ তাঁর সাহিত্যকর্মের ওপর সামগ্রিক আলোচনা করেছেন।

শহীদুল জহিরের গল্পে জনশ্রুতি, মিথ, জাদুবাস্তবতা, পরাবাস্তবতা ও কিউবিক ফর্মের ব্যবহার এবং ভাষা ও নির্মাণশৈলী নিয়ে কথা বলেন মোজাফফর হোসেন। মোজাফফর হোসেন মনে করেন শহীদুল জহির অধিকাংশ সময় ঘটে যাওয়া গল্প লেখেন। সেই গল্পটা আবার তিনি নির্মাণ করেন সমষ্টির বয়ানে। অর্থাৎ মহল্লা বা ডাউনটাউনের লোকজন সেই গল্পের কথক। তিনি তাদের মুখে গল্পটা তুলে দিয়ে নিজে কিছুটা দূরে সরে যান। এতে ঐতিহ্যগত নির্মাণশৈলীটা ভেঙে পড়ে। এজন্য তাঁকে উত্তরকাঠামোবাদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হামীম কামরুল হক চিত্রশিল্পে জাদু বাস্তবতার উদ্ভব এবং পরবর্তীতে জাদু বাস্তবতার সাহিত্যিক প্রবণতা হয়ে ওঠার কথা উল্লেখ করেন। উনি মনে করেন শহীদুল জহির ঠিক জাদুবাস্তব লেখক নন। তাঁর গল্পে উপন্যাসে নানান ফ্যান্টাসী, রহস্যময় আবিষ্টতা, উদ্ভটতা আছে। তিনি মার্কেজ এবং শহীদুল জহিরের তুলনামূলক আলোচনা করেন। শহীদুল জহিরের নতুন বয়ানভঙ্গীকে তিনি ‘শহীদুল জহিরীয়’ বলে আখ্যায়িত করেন। গাঁথার আলোচনা সভায় অগ্রজ এবং অনুজ গল্পকারদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সালেহা চৌধুরী, পাপড়ি রহমান, নাসরীন জাহান, আফরোজা পারভীন, দিলারা মেজবাহ, জ্যাকী কবির, স্বকৃত নোমান, আশরাফ জুয়েল, সাদিয়া মাহ্‌জাবীন ইমাম, ইশরাত তানিয়া, সুমী সিকান্দার, সাইফ বরকতুল্লাহ্‌, মালেকা ফেরদৌস, তাবিয়া তাসমিয়া তুষা, মাসরুফা আয়েশা নুসরাত, সুলতানা ফিরদৌসী, শামসুন নাহার খান, নাসরীন কবীর, সালমা তালুকদার, লায়লা মুন্নী, শামীমা সুলতানা, নাহিদ কায়সার এবং আফরোজা আখতার টিনাসহ আরো অনেকে।

শহীদুল জহিরের গল্প থেকে আংশিক পাঠ করেছেন নাহিদ কায়সার এবং আফরোজা আখতার টিনা। আলোচনার পর ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রশ্নোত্তর পর্ব গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন ও মতামত রাখেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সালেহা চৌধুরী, আফরোজা পারভীন এবং আশরাফ জুয়েল।

এবারের আলোচনা সভার পরিকল্পনা এবং সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন গল্পকার ইশরাত তানিয়া।

বাংলাদেশে বাংলা মাধ্যম এবং ইংরেজি মাধ্যমে লিখছেন এমন নারী লেখক এবং কবিদের একমাত্র সংগঠন ‘গাঁথা’। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান গাঁথার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জ্যাকী কবির দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close