Home কবিতা মৃদুল দাশগুপ্তের জন্মদিন উপলক্ষে তীরন্দাজ নির্বাচিত কবির ২১টি কবিতা

মৃদুল দাশগুপ্তের জন্মদিন উপলক্ষে তীরন্দাজ নির্বাচিত কবির ২১টি কবিতা

প্রকাশঃ April 3, 2017

মৃদুল দাশগুপ্তের জন্মদিন উপলক্ষে তীরন্দাজ নির্বাচিত কবির ২১টি কবিতা
0
0

[সম্পাদকীয় নোট : সত্তর দশকের কবি মৃদুল দাশগুপ্ত। আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়বস্তু বিন্যাসের স্বাতন্ত্র্য, ভিন্ন স্বর ও শৈলীর কারণে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন এই কবি। এখনও তিনি সৃষ্টিশীল। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে তীরন্দাজে প্রকাশিত হলো ২১টি নির্বাচিত কবিতা। তীরন্দাজের পক্ষ থেকে কবিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।]

 

সূর্যোদয়

 

ভেসে আছে রাজহাঁস দ্বীপ, আর

দেবতারা লিখেছেন নীল চিঠি তোমার উদ্দেশে, আর

আমার উদ্দেশে; আর

আর, দ্যাখো মাস্তুল, পাশে

স্ফটিকের একটি গেলাস ভরা লাল মদ পাহাড় চুড়োয় রাখা

আর, অন্য পতাকার মাংস উড়ছে আকাশে

 

আমার আঙুলগুলি খেয়ে ফেলে, দেবি

আজ অনুগ্রহ করো

-বলতেই কি যে

শান্ত ধীর চুম্বনের দিকে এলে

…তুলে ধরতেই দেখি

কুঙ্কুম হয়েছে অস্থির

আর, ভ্রুপল্লব ভিজে

 

মুক্ত মানুষের পদ্য

 

অহংকার আর অভিমানের মধ্যে কাচের দেয়ালটুকু বুঝতে পারলে না।

আমাকে খাদে ঠেলে ফেলে দেবার পর, মানুষ, বড়ো মানুষ, ও বাবু গো

তুমার ই কী অবস্তা, টলিমলি পা, সুমুখে হাথ্, কাইরনিশের ধারে,

ভারসাইম্মো নাই, তুমি, পড়ি যাবা

আমার কিন্তু তিন হাজার ফিট নিচে পড়ে গিয়ে, কিম্বা

ধরো, এক হাজার মাইল দূরে সরে গিয়ে, না গো চোট নাগেনি, ঘুম

ভেঙেছে মাত্র।

আমাকে তুলে ধরেছেন স্বয়ং বাঁকুড়া জেলা, তাঁর সুন্দরীতমা

তাপসী কন্যা আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবেন বলেছেন;

রাখাল, ও বাবু গো, মু ভূশণ্ডির রাখাল, মু কালা মোষ চড়াইতুম

ইবন সিবন,

কিন্তু, আমাকে দেখেই তো রাজকন্যা হেসেছেন, এর আগে তিনি আর

হাসেননি গো,

আমি এখন অর্ধেক রাজত্বে মারি তিন লাথ, শুধু তাকে চাই,

ক্ষমা নেই বাবু তোমার, পুরুলিয়া নদীয়া এখন পালটাপালটি করে

আমাকে পাহারা দিচ্ছেন,

আমার বন্ধুরা কার্টিজ বেল্টের মতো বুকে ঝুলিয়ে রেখেছেন সতর্ক

চোখের মালা;

খবর কাগজ দিয়ে আর লুকিয়ো না মুখ ও মুখোশ, বাবুমহাশয়,

বলো, ইস্কুলে আমি কেন কোনদিনও পাইনি স্বাধীনতা দিবসের

খাবার প্যাকেট?

বলো, বলো, আমাকে শীতের মধ্যে ফেলে রেখে, কবি সম্মেলন থেকে

মোটর গাড়িতে করে শহরে ফিরেছে কেন ঝুল পদ্যকার?

বলো, বলো, আমার লেখা প্রবন্ধের ফাঁকে ফাঁকে তোমার নাম ঢুকিয়েছে কে

মুদ্রণের ভূত?

আমার ভাইকে তুমি লুকোলে কোথায়, বলো, বলো, বলো-

ফণাটনা উঁচিও না আর, ঢোঁরা সাপকে মানায় না হে, তাছাড়া

আমি বাখরগঞ্জ, গৈলাগ্রামের, আমার পূর্বপুরুষ স্বপ্নাদেশে

লিখেছিলেন মনসামঙ্গল,

গরল আমি ডরাই না হে

বিষে আমি ভয় পাই না

আমি মৃদুল দাশগুপ্ত, আমি আরব গেরিলাদের সমর্থন করি

 

একজন ভারতীয় নিগ্রোর কবিতা

 

আমার বাবা এসেছিলেন পূর্বদেশ থেকে,

(মাতৃভূমি ছেড়ে আসতে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন)

সীমান্তে আমার ঠাকুরমাকে বুটের লাথি মেরে

আমাদের থালা বাসন পর্য়ন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো

শুধু বেঁচে গিয়েছিল পেতলের কেষ্ট ঠাকুর- তার হাতে

বাঁশি ছিলো, ছিলো না বন্দুক

গোগ্রাসে খাবো মোটা ভাত, আর

তোমাকে আলতো আঁকড়ে,

দারুণ ঘুমাবো; মেলা থেকে কিনে

দেবো পেতলের মাকড়ি;

এর চেয়ে বড়ো স্বপ্নের কথা

জানি না, মানি না কিচ্ছু,

ছুরি দিয়ে সব শালা গাছে গাছে

লিখে দিই এই ইচ্ছে;

কে মুছে দেবে সেই লেখাগুলি

যা ভুল ছন্দে মাত্রায়;

আমি রেগে গেলে ভোরের আকাশে

লেপে দেবো আলকাতরা

 

ফসিল

 

সে, ভুলে যেতে বাধ্য হয়, ভুলে যায়

কোন সে জঙ্গল থেকে এসেছিলো একদিন

শুধু সেই ঝড় ও ঝাপটার কথা মনে পড়ে

তার নিজের ভেতর থেকে যেন অন্য অন্য কেউ আত্মপক্ষ সমর্থন করে

সে দেখে যায় মানুষের কঙ্কাল

সার সার কাচের কফিন

কে তার গর্জন শোনে সত্তর দশকে এই আশ্চর্য় শহরে

 

১৯৭৪

 

মানুষজন সমেত স্ট্রিট, এভিনিউ ঢুকে যাচ্ছে, রাক্ষসীর হাঁ-এর ভেতর

নতুন দম্পতি, প্রেমিক প্রেমিকা ভর্তি পিচবোর্ডের সিনেমাহল,

তটিনী রেস্তোরাঁ

তার জিভ হয়ে উঠেছে খেলার মাঠ, ঢুকে যাচ্ছে

রেফারিকে ঘুঁষি মারা লেফট আউট, অন্য একুশজন,

হুইসিল-চেবানো রেফারি ও ফুটবল

শ্বাসগ্রহণের সঙ্গে চেয়ার ছেড়ে উড়ে যাচ্ছে খ্যাপা অধ্যাপক,

যৌনবিদ, ঔপন্যাসিক

দাঁতের ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে বলতে উড়ে যাচ্ছে ক্যাবিনেট মন্ত্রী

এবার ইঁদুর-যুগ শুরু। ছোকরা কবির শর্টকাট

সুমুমারী নার্সের খোঁজে ভাঙা হাসপাতালে, সেখানে

ঠাণ্ডা মর্গের মধ্যে আনন্দে লাফিয়ে উঠছে মৃতদেহ, আর

আধমরা বেতোরোগী দৌড় জিতছে অলিম্বিকে-

না দিন না রাত, থামের আড়ালে দাঁড়িয়ে কবি ভাবছে

এখনই উঠবে চাঁদ সূর্য় বা হোক একটা কিছু

কিন্তু, কোনদিকে?

 

জিরাফ

 

একটু ভাবছি, সমাজ জুড়ে যখন ব্যস্ত বৃহন্নলা

দার্শনিকের চিলেকোঠায় যখন জিরাফ বাড়িয়ে গলা

শাকপাতা খায়, কাগজপত্র, রাত্রি এসে মাথায় চড়ে

অন্ধকারের জটিল নাভি কেন্দ্রীভূত তোমার ঘরে

 

তুমি একটু শান্ত থেকো, নইলে গভীর দুঃখ পাবো

ছদ্মবেশের ঝুঁকি অনেক, এছাড়া কোন চুলোয় যাবো

আত্মমোচন বস্তুত আজ ভরদুপুরে পুকুরচুরি

গলা বাড়ায় বোবা জিরাফ, তার পেটে যায় চাঁদের বুড়ি

 

 

বিবাহপ্রস্তাব

 

বাড়িটি থাকবে নদীর কিনারে, চৌকো,

থাকবে শ্যাওলা রাঙানো একটি নৌকো,

ফিরে এসে খুব আলতো ডাকবো, বউ কই…

রাজি?

 

তবে এসো এসো, জানাও তুমিও প্রস্তুত,

আত্মগোপন পর্বে তুমি এ দস্যুর

ক্ষতে দেবে মধু, দুব্বো চিবিয়ে, আস্তে

 

তোমাকে চেনাবো তারাগুলি, আর নৈঋত

দিক থেকে নেমে হঠাৎ আসবে দেবদূত

পুকুরে ভাসবে দুটি রাজহাঁস, চই চই…

 

লুঠে নেবো হ্রদ, টিলাগুলি, আমি জঙ্গি

দূর বনপথে ঝরে ঝরে যাবে রঙ্গন…

ছোটাবো তুফান ঘোড়াটি, যাবে না সঙ্গে

 

তোলো মুখ, এসো, ধরো হাত, চলো সঙ্গে

 

 

জলপাইকাঠের এসরাজ

 

কোনোদিন কিছুই ছিলো না, কিছুই কিছুই নেই আমাদের আজ

আমরা কি বাজাবো না জলপাইকাঠের এসরাজ?

 

ও কি ফুল? বুনো ফুল গোলাপি পাপড়িময় চাবুকের দাগ

আমরা কি চলে যাবো? কখনো দেবো না ওকে পুষ্প-পরাগ?

 

অনেক লণ্ঠন ওড়ে, হাওয়াবাতাসের রাত, কেউ এলো আজ?

বাজাবো না আমাদের, বাজাবো না জলপাইকাঠের এসরাজ?

 

 

নিচু জলে

 

যেওনা অমন নিচু জলে

ঘোড়াটিকে দিও দানাপানি

আমার টুপির রং, চেনো?

নেবে বাঁশি, কিছুর বদলে?

 

টিলার ওপর শাদা বাড়ি

ওই বাড়ি তোমাদের বুঝি?

পেয়েছো চুলের কাঁটাটিকে

কুর্চির ঝোপ থেকে খুঁজে?

 

খাবার

 

দুদিকে কামড় লাগা যে ফল, কখনও তা গড়িয়ে যাবে না

পিছনের পথে আজ মোরগের পালক ছড়ানো

বলোনি স্বামীকে তবু ওষুধ খেয়েছো, কিন্তু শোনোÑ

এতো দিন পরে কেউ এভাবে কাঁদে না

 

আত্মপরিচয়

 

শুকনো পথগুলি যেন বর্ষায় আনন্দ পায়, তাই আল্লা দে মেঘ দে পানি

নারকোল মালায় মোমবাতি গেঁথে সাপ ভেবে কোনোদিন ডিঙিয়েছো দড়ি?

ঢেউ দিয়ে জাগাতে চেয়েছি পরে, আগে ওঠো- এহাতে নিখিল

বিশ্বাসে বস্তুর ভেদ, দাদু যান কলেরায় পিতার শৈশব কবে, আজ শেষ

১৯৮১

 

আরব্য উপন্যাস

 

উড়ন্ত গালিচা। ওপরে বসছি তার। হাতে, মরুবিজেতার

পুরোনো হাসির কটু ঘ্রাণ

যত্নে ধরে রাখা।

 

তিনটি পোশাক ওড়ে, চুপ চ্যালা…মাথা বাঁচা, তৈরি করে

মানব-জমিন, মনে ধর আজ আর

তোরা নোস্ ওঝা

 

আহা পড়ে গেছে ও কে? হাত ধর, ওঠা, পিরামিড…

দিল্লির মিনার গড়ে রাজার ওষুধে আজো

কে ঝিমোয়- তাকা

চারিদিকে আলো ফেলি, ওই নীল…আমাজন…গঙ্গা…ভলগা.,.

ইয়াংসি…পাড়ে পাড়ে রোদে ভেজা-

অমৃত-খেজুর রং, সোজা।

 

নদী

 

এক নৌকো করে যাই,  যেতে গিয়ে শ্মশান দেখেছি এই রাষ্ট্র ক’রে

নিজেই নিজের ক্রুশ ব’য়ে ক্ষয়ে কানে এলো আজানের ভোর।

 

ঘটে গঙ্গাজল, হাতে উল্কি, পিঠে নীল দাগ পাঁচ নদী, ততোক্ষণে

গর্বিত পাগড়ি বলি : কাট্ মাথা, পা ছোঁবো না ওভাবে অভাবে।

 

আগুনের শত ফুলকি উড়ে পুড়ে পাথরে লিখেছে কতো দশাদেশ কোল ভিল

তাই সেই তীর বেঁধা পাখি বুকে রাজার চোখের মণি হয়েছে ভিখারি

যাতে দেশকালপাত্র বুঝে মিশে যায় জনস্রোত হয়ে…

 

নির্বাসিত গ্রন্থাগারে যতোই ফেলুক ছায়া সম্রাটের তেলছবি, তবুও

দাসের মুম্তি দূত লেখে অবিচল প্রাণের প্রবন্ধে তাই

শিল্পীদল মাল্লার স্বভাবে ছোঁয় নদীজল,

উনুন ধরায়…

 

আমার কবিতার বই

 

ভাঙা অক্ষর, হরফের খাঁজে

আঁশ।

অশুচিপত্রে নরকের ডাকছাপ।

বোবা ও বধির।

কালো ফুল মুখে ডানা মেলে দেওয়া

সাপ।

 

স্বাধীন, অসুন্দর।

 

কুবাতাস

 

কানা মহিমের হাতে বাঁশি, আমি খোঁড়া হরিদাস

তাকাই দূরবীনে-

ওদিকে মোহনবাগ, এদিকে চালকেবাটি-মরাডাঙা-সাহেবে ছয়লাপ।

যদি কু-বাতাস লাগে!- পালিয়ে জঙ্গলে যেতে, দেখি সব মুহূর্তে উধাও…

বাংলা মুলুক নেই, সোনার রুপোর পথ- পালাই- পালাই

 

কানা মহিমের হাতে বাঁশি- বাঁশিতে ফুঁ দিতে

অবাক অদ্ভুত কাণ্ড, লোহার প্রকাণ্ড হাত মাটি খুঁড়ে তেল তোলে

মানুষ, গাছের রক্ত, পচারক্ত, জল।

পালিয়ে বাঁচবো ভেবে, বাতাসে লুকোতে চাই- আলিবদ্দি নবাবের ঘোড়া!

ভূত? দানো? জীন? হুরী- খেজুর গাছের খোঁজে

উটের মিছিল যায় বন্দুক ফুটিয়ে

আসমানে শব্দ হয়? না, না, ভুল। শ্রীরামপুরের গির্জা

গম গম বাজে-

নুনের জাহাজ এসে গঙ্গার ঘাটে ভেড়ে, সাতজন দিনেমার বেঢপ পোশাকে

হঠাৎ ঠোক্কর খায় লোহায় লোহায়, তাদের জোব্বায় লাগে চুল্লির আগুন।

-সেই যে আরবে গেছে কালু শেখ গতবার হোটেলে রাঁধতে

সে এসে সেখানে ঘটঘটি জল ঢেলে নেভাতে দারুণ যুদ্ধ

তামিল ব্রাহ্মণ এসে অংবং বলে।

আমরা গরিব বলে ওসব বুঝি না। দেখি শুধু নৌকা যায়

রবি ঠাকুরের নায়ে লালন ফকির বসে গান গায় ভবসংসারের-

আমরা সমস্ত দেখি শরবনে কাদা মেখে। ভীতু চোখে শুনি গান

ভোরবেলা ফাঁসি যায় ক্ষুদিরাম হাসতে হাসতে।

আকাশে কি শব্দ হয়? না, না, ভুল। -রিষড়া্র জুটমিল

লোকে গোনে চেঁচিয়ে চিল্লিয়ে,

বিকট উল্লাস হতে যখন ঘোরাই ঘাড়, দেখি তিন ছাতামাথা বুড়ো

-অবিকল একমূর্তি, কাছে যেতে ঝরে যায় ছাই!

কু-বাতাসে বোবাজব্দ, কাপড় সামলে দেখি কুলকুল পেট্রোলের নদী-

নদীতে দারুণ দৃশ্য, লাস ভাসে রক্তারক্তি, কোন মা-র কোল খালি, আহা

স্টিমার ডুবির বুঝি? –আমরা শুধোবো কাকে? পালাতে পালাতে

ঝাঁকে ঝাঁকে তারাবৃষ্টি- সকলেই চেনামুখ- আমাদের পাড়া-প্রতিবেশী

 

বিষ

 

শ্বাস ওঠা, রাত্রির সীমায়

সেই কবি, পবিত্র, উধাও

 

ফেনা মুখ, পুরোনো শহর

তার ভাষা নিচু আগুনের

 

বোবা জেদি তৃতীয় পতাকা

সেখানে চোখের পাতা জয়ী

 

গড়িয়ে পড়েছে কষে স্বর

না বলা কথার বিষে ভেজা

 

তার দেশ বিবর্ণ, অতীত

অশ্রুর ওপরে সে সাঁকো

 

তুক

 

রুটি ফোলানোর তুক, হাতযশ- আমার রয়েছে।

আছে শরীর ভঙ্গিমা, নুন;- যাতে অন্ধও ঘ্রাণে বুঝতে পারে

আমি গোপনে হিংসার কথা বলি…

আমি কতো হত্যাদৃশ্য দেখে গেছি ময়দায়, যবের গুঁড়োর মধ্যে,

শিকে গেঁথে রুটি তুলে নিতে নিতে, ভেবেছি

ইঁদুর মরে প’ড়ে আছে, শুকনো আরশোলা।

সঙ্গীরা আমার,

আমি ছড়িয়ে পড়ছি আজ হোটেলে হোটেলে, তেলেজলে

মশলার রক্তিম সূর্য়াস্তে।

শুরু হোক উনুনের তুমুল হাঙ্গামা, ধোঁয়া ধুলো সরিয়ে সরিয়ে

দুপায়ের ফাঁক দিয়ে দেখেছি শোবার ঘর

বিছানায় উপমহাদেশ।

 

ক্ষুধা

 

এখন দর্পণে তুমি কথা বলো নিরর্থক বিদেশি ভাষায়।

তবু ক্ষুধা অগণন, হিন্দুর বিবেকে আমি

গোমাংসের ভাব এনে বর্ণোদ্ধার করি।

অজস্র কাকের হাঁ। স্বপ্নে উড়ি- একদিন আমি নিজে

খাদ্য হয়ে ইতরে ছড়াবো।

 

কী তোমার যাদুভাষ্য! –আজ প্রায় সীমান্তের বিপরীতে দেখি

ধর্মের উদর ঘেঁসে চলাচল, অনূদিত হাসি, বিবেচনা।

আমাকে রান্নার ধোঁয়া আকাশে পাঠাতে হয়, অকারণে;

তোমার কি কৌতুহল ভালো?

 

সোনার বুদ্বুদ  কাব্যগ্রন্থ থেকে

 

ধরো সে কবিতাখানি নীল তার চারপাশে সোনালি রেখার কারুকাজ

ভাবো, সে ছুটিতে আসা হাওয়া বাতাসের প্রায়, তুমি তাও

অবয়ব আশা করেছিলে ভ্রমে, যেন তুমি কথোপকথনকালে

চেয়েছিলে করতল ছুঁতে। অবাক উছলা সেও ছুটেছিলো মাঠের ওপর, যেন

সাঁকোর ওপর থেমে ডেকেছিলো, এসো

 

জলে তার ছায়া দেখেছিলে শুধু, মুখ দেখো নাই।

 

প্রকৃতি, রেলের ধোঁয়া, কাশবন পার হয়ে এরপর কত না গিয়েছো

যখন ক্রন্দনরত মন চুপে বসে থাকে, চলাচল পাওনা কি টের?

মেয়েলি চুলের ঘ্রাণ…রিনঠিন…হাওয়াবাতাসের প্রায়

ধরো, সে কবিতাখানি নীল তার চারপাশে সোনালি রেখার

কারুকাজ…

 

২১.

 

কত যে জলের টানে, ছায়া-বাতাসের ভাঁজে, রঙের আড়ালে

লুকিয়ে, কিছু বা ভিজে, মিলে-মিশে সবুজে ও নীলে

আলোর সুতোর কাজে লতাপাতা সীমানা ছাড়ালে

হাতের নাগালে এক ভাসমান সোনার বুদ্বুদ দেখে

তুমি টোকা দিলে

 

খুলে গেল নুড়ি-চাপা কবেকার সে এক ফোয়ারা

ঘটনা গড়িয়ে গেল ঘটবার আগে নেমে ধাবমান ঘাসে

কে যেন কুয়াশা, তার ছোঁয়া লেগে তুমি পেলে

এবার চেহারা

কত-না কবিতা-কণা, গুঁড়ো গুঁড়ো, তোমার মুখের আশেপাশে

 

২৭.

 

উড়ন্ত প্রস্তর এসে আমাকে আঘাত করে,

শত গ্রহ নক্ষত্রের ঢিলে

 

উড়ে আসে বুকে পিঠে, মস্তকেও লাগে

সয়ে নিতে কখনও সুদৃঢ় থাকি, কখনও শিথিল

টের পাও তুমি কিছু, কত না দণ্ডের চিহ্ন

শরীরের বিবিধ বিভাগে?

 

অদৃশ্য সূচের আত্মা রক্তে মেশে, মুঠোয় গেলাস ভাঙা কাচ

বিঁধে যায়, আমার করুণ মন দেখোনি কি তাও সাবলীল

আরেক পানের পাত্র হাতে নেয়, যখন নর্তকী তুমি

শুরু করো নাচ

তোমার শরীর থেকে ১…২…৩…৪…উড়ে আসে

সব কটি তিল

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close