Home কবিতা মেহরাব হাসান > ‘আপেল গড়ানো রাত’ এভাবে মৌনঋতু যায় >> বইমেলার বই

মেহরাব হাসান > ‘আপেল গড়ানো রাত’ এভাবে মৌনঋতু যায় >> বইমেলার বই

প্রকাশঃ February 16, 2018

মেহরাব হাসান > ‘আপেল গড়ানো রাত’ এভাবে মৌনঋতু যায় >> বইমেলার বই
0
0

মেহরাব হাসান > ‘আপেল গড়ানো রাত’ এভাবে মৌনঋতু যায় >> বইমেলার বই

 

তীব্র রোদ্দুরে দূরবর্তী কোনো মেঘের মতো তাঁর কবিতাগুলি পৌঁছয় আমার কাছে। আমি পড়ি নিঃশব্দে, নিরবে। ছায়াঘন শব্দের ভেতরে ঢুকে পড়ি। ভাবনার মধ্যে ঢুকে পড়ি। আপেল গড়ানো রাতে নিজের কবিতার দিকে টেনে নেন এই কবি- পরিতোষ হালদার। আগেই পড়েছিলাম নৈঃশব্দ্যের জলতৃষ্ণা আর তীব্র নৈঋত। এবার হাতে পেলাম ‘আপেল গড়ানো রাত’। মনে পড়ছে পরিতোষের বেশকিছু পঙক্তি : ‘হাতের আঙুলে মেঘ জমলে চুপচাপ বৃষ্টি হয়।’ ‘আমি ঘরহীন ছায়া। অমরাবতীর ধারে বাস করেও শেষ হল না জীবনের সাধ।’ অথবা ‘শিকারি পাখিরা জানে পৃথিবীর কোনপাশ চাপা। কোনদিকে ফুটে আছে চাঁপাফুল, মশলা ও উষ্ণতার মায়া।’ খুব মৃদুস্বরে কথা বলেন পরিতোষ। মৃদু অথচ মনোময়। এখন অনেকেরই কবিতায় দেখি একধরনের কর্কশ, অমসৃণ উপস্থিতি। গলায় জোর এনে কবিতা লেখেন। কিন্তু পরিতোষের কবিতা কত যে শান্ত আর অন্তর্মুখী। পাঠককে নিজের মধ্যে টেনে নেন পরিতোষ। মনে হয় যেন খুব কাছে বসে গল্প বলছেন। কথাগুলি সহজ, কিন্তু ভাবনার গহনতা বিস্ময়কর। একধরনের দার্শনিকতা জড়ানো থাকে পরিতোষের লেখায়। নৈঃশব্দ্য, নির্জনতা, মৃত্যু, একাকীত্ব পরিতোষকে ভাবায়। এসব তার কবিতায় খুব নিঃশব্দে উঠে আসে। আপেল গড়ানো রাতে-র কবিতাগুলি ঠিক এরকমই। তবে যেটা ভালো লাগলো সেটা হলো, খুব অচেনা কর্কশ শব্দ দিয়ে কবিতা রচনায় রুচি নেই পরিতোষের। আবার মৃদুভাষীও বলা যাবে না তাকে, বরং বলা যাবে ঋজুভাষী, মগ্ন কবি পরিতোষ। এই ব্যাপারটাই একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে ভালো লেগেছে আমার। পরিতোষের আপেল গড়ানো রাতের কয়েকটা কবিতা নিচে তুলে দিয়েছি। পাঠক কবিতাগুলি পড়লেই বুঝতে পারবেন কতটা ধীর শান্ত মনোবাস্তবতার কবি পরিতোষ।
শেষ কথাটা বলি, পরিতোষ একজন জেনুইন কবি, হয়ে ওঠা কবি নন। কবিতা রচনার জন্য তাঁর আত্মক্ষরণ হয়তো আছে, কিন্তু বেশ শক্তিশালী কবি পরিতোষ।
যারা কবিতা ভালোবাসেন তাদের পরিতোষের কবিতা পড়া উচিত। আপেল গড়ানো রাতও এরকমই একটা দারুণ কবিতার বই।

 

পরিতোষ হালদার > কবিতাগুচ্ছ

 

কবি

কবি নিজের ভেতর থেকে বের করে আনে একটি বাগান,
যাকে যে নির্জনতা দেয়।
জন্মসূত্রে নির্জনও পেয়ে যায় অন্ধকার ও একগুচ্ছ জোনাকিপোকা।

কবির সংসার বেশ চলতে থাকে, খাতা ভরে যায় কবিতায়।

একদিন জোনাকিদের ডেকে নিয়ে যায় আগুন,
সুর্য়ের প্রেমে অন্ধকারও হারিয়ে যায়।

কবি উদ্ভ্রান্ত হয় এবং যেখানে যাকে পায় খুন করতে চায়।

এভাবে বাগানটি বিধ্বস্ত হয়, যার চারদিকে পড়ে থাকে-
আহত জোনাকি,
অন্ধকার
আর রক্তান্ত নির্জন।
ছায়া : দুই

শিল্পী প্রতিদিন ছায়া এঁকে পালিয়ে যায় রঙের বাড়ি।

একজন শিকারি সূর্য়ের বিপরীতে ছবিগুলি টাঙিয়ে দিয়ে খুব হাসে,
মৃগয়ায় ডেকে আনে ছায়ার ক্লাসিক।
দুজনার খোলা পথ, যে কোনো পথে ঢুকে যায় রোদ।

এসব ঋতুর উড়াল, অন্ধকার শেষ হলে পড়ে থাকে চাঁদ।
তারপর কোলাহলের দিকে হেঁটে যায় ব্যাধ।

অথচ- শিল্পী তার আঁকা সাতটি ছায়ার মতো আজও একা।

 

পাথর

সমতলে ফিরে দেখে প্রেমিক মেয়েটি নেই।

সে নদী, গাছ ও ঝর্ণার কাছে জানতে চায়;
কেউ কিছু জানাতে পারে না।
শেষে এক দোয়েল তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়।

ছেলেটির মনে টুকটুকে আশা, মেয়েটিকে পেলে সে ঘুমঘুম জীবন দেবে।

তারা একটি রক্তাক্ত পাথরের কাছে আসে, পাথরটি যেন এইমাত্র পাথর।
যার গায়ে ব্যক্তিগত অক্ষরে লেখা মেয়েটি নাম।
ছেলেটি তাকে বুকে চেপে চিৎকার দেয়-
মেয়েগো…

সেই থেকে কোনো কোনো পাথর আজও লাল হয়ে ফোটে।

 

কমলালেবু

কমলালেবুর বনে চাঁদ আসে, পাখি আসে।

পাখিরা বনের ভেতর উড়ে বেড়ায়, জ্যোৎস্নায় ওড়ে না। তাই জ্যোৎস্না ডেকে
আনে একজন বেহালাবাদক, যিনি পুরাণের সব সুর বাজাতে পারে।

পুরাণে কমলালেবুর অবস্থানও বেশ ভালো।

বেহালার সুরে চাঁদ-জ্যোৎস্না-পাখি সবাই উদাস হয়। কিন্তু সারা রাত বেহাগ
শুনেও পাকতে থাকা কমলালেবু তার রঙ পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকে না।

কারণ কমলালেবুরা ভীষণ গোল পরিবাহী।

 

বইটি যেখানে পাওয়া যাচ্ছে :
আপেল গড়ানো রাত / পরিতোষ হালদার
বেহুলা বাংলা, বইমেলার স্টল নম্বর ১৭৩-১৭৪
মূল্য ১৫০ টাকা।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close