Home ঈদ সংখ্যা ২০১৭ রক্তচাপজনিত > দীর্ঘকবিতা >> তানিয়া চক্রবর্তী

রক্তচাপজনিত > দীর্ঘকবিতা >> তানিয়া চক্রবর্তী

প্রকাশঃ June 24, 2017

রক্তচাপজনিত > দীর্ঘকবিতা >> তানিয়া চক্রবর্তী
0
0

রক্তচাপজনিত 

রক্তচাপজনিত ১ : শরীরগাছ

এই পাপের শরীর, এই পুণ্যের শরীর

বন্ধনী বাড়িয়ে দিই, কেটেকুটে রাখি শরীর

শরীরে গাছ লাগাই

সুন্দরী গাছ, বিপরীতে শ্বাসমূল

এ হেন শরীর সাধনা করে শক্তির

শক্তি শাস্ত্র ধরে পবিত্র হতে বলে

জন্ম যদি উৎস মুখ্য হয়

তবে মনকে বলি গঙ্গা, গঙ্গা

#

আমার কু-চিন্তার শরীর

আমার যৌনকাঙ্ক্ষার শরীর

আমার প্রতিশোধের শরীর

সব কেটেকুটে তুমি গাছ নাও শক্তি, শরীরগাছ

শরীরগাছে জল দাও, বাষ্পমোচনে ধরো তাকে

শক্তিমাত্রায় সে ফুটে ফুটে ওঠে, জলে উথলে ওঠে-

আমি ময়লা পায়ে,অশ্লীল মনে, কামনার আগমনী গেয়ে

তোমায় ডাকতে পারি ঈশ্বর

পরীক্ষা এক প্রক্রিয়ার নির্ধারক

উপসংহারে তুমি দু’গালে জল দেখবে

অথচ শরীরময় তখনও শ্লেষ্মা

অথচ শরীরময় তখণও ঘোর

বৈভব থেকে ভাবে উত্তীর্ণ ইন্দ্রিয়

#

ঈশ্বর তুমি দেখো

রক্তচাপজনিত, আঘাতপ্রাপ্ত

এ কামনার উদাল শরীরে

শুধু পৃথিবীর ঝরনা, অশ্রুদের ভজন

“মন” এ ব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বড় একক

আমি তাকে শরীরমাফিক ছাপাতে দিই নি

এই দেখো, তাই এত অশ্রু, পাহাড় ফাটিয়ে দেয়ালা

-নদীর উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত- অবগাহন

 

রক্তচাপজনিত ২ : পুনর্জন্ম

প্রাচীন নাভিশ্বাসকে ধামসা-মাদলের সুর শেখাচ্ছি

আসলে বলয়ে বলয়ে অতিরিক্ত চেনার খেলা

চিহ্নিত হওয়ার আগে টালমাটাল

টালমাটাল হওয়ার আগে চিহ্নিত

#

পূর্বরাগ ও পূর্বরাগ

তুমি বাকল চেনো গাছের

পাহাড়ে পাহাড়ে বাকল দেখেছ

দেখেছ, পাহাড়ের ফাটল ও বাকলের বন্ধুতা

এই গল্পে অপলক শিশু

স্তন অভিমুখে পান শিখছে

এক হাতে পায়ের বুড়ো আঙুল

কচি, বিশুদ্ধ চোখ বাতাসকে প্রশ্ন করে

শোষণ, শোষণ কী?

ও গালা ভরা বালা আর কানপাশা

মুদ্রামাফিক স্থূল হচ্ছ কেন?

হালকা সোনা ধোয়া রঙে তুমি বলয়ের মতো

হে কমলালেবুর কোয়া,

তোমার আবেষ্টনে পৃথিবীর গোলক খিদে ভুলেছি

তাই অক্ষরেখা আমায় ঠেলে ফেল দিল গর্ভে

এখন গর্ভে আমি নির্ধারিত হচ্ছি

মায়ের পেটে কান দিয়ে শুনতে পাচ্ছি

বাইরের পৃথিবীতে নারীবৃক্ষের গল্প

আমার ভয় করছে, জন্মের ভয়

একটু পরেই আমার জন্ম হবে

ভয় বলতে ক্রমশ লালচে আপেল পর্বে

-ধুকপুক, ধুকপুক

আমার লালিত দিন লালনের উপযোগী হবে

আমাকে কে যেন ঠেলে বার করে দেবে

এ গালা ভরা সোনার উঠোনে

সুবর্ণরেখার শুকিয়ে যাওয়ার পর

আমার জন্ম হবে

কি কান্না, কি উলু, কি আনন্দ!

আঃ কোনো আনন্দ নয়

হ্যাঁ, আনন্দ তো বটেই

এখানে টান ও টানচোর

আমায় জ্যান্ত বার করে দিল ভূত্বকে

আমি, আমি, আমি গর্ভজাত, রক্তজাত

নাভিকুর্ণিশ গর্ভশিশু, গায়ে বড় কান্নার দাগ

অন্ধগুহার থেকে আলো লালিমায়

এত চোখ ব্যথা করে

যে রাত্রিকালীন এ পূর্ণযুবতী দেহ

মাতৃগর্ভের দশমাস বিরতি চায়- ভ্রূণবিরতি

অসময়ের বৃষ্টির মতো

গাঢ়, গ্রাহ্য প্রাণ নারকীয় ঘরানার

নিক্কণ ভুলে ঘুম চায়

দৈত্যঘুম, নেশাঘুম, ভ্রূণঘুম

ঘুম স্থানীয় ওম থেকে জন্মসন্ধির

ত্রাতার হাতে আমার হাত

হাতের শেকড়ে আয়ুগল্প

তাকে বিঁধিয়ে বিঁধিয়ে লাল করি

এ ভ্রূণপর্ব সবচেয়ে শ্লীল ও সুখী

এখানে রক্তচাপ জন্মকালীন

প্রবাহ করে নিজস্ব আহ্লাদে

এ দেহ থেকে খুলে যাচ্ছে জবালিকারসের রাগ

দেহ থেকে খুলে খুলে পড়ছে

তন্ত্র, অঙ্গ, কলা, কোষ

কী হালকা এ ঝুমির শরীর!

ক্রমশ জরায়ুফুলে লেপটে লেপটে যাচ্ছি

গাত্রে কত গুচ্ছমূল, রসে ভরিয়ে দিচ্ছে

আঃ এ মাটিগর্ভ, অন্তস্থ মা

বিচ্যুত স্মৃতি খসে গেল

ভ্রূণজদেহে শুধু জন্মের ডাক

শুধু জন্মের ডাক

-কী আশ্চর্য ঘুম

কী আশ্চর্য ঘুম!

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close