Home অনুবাদ রবার্ট জোসেফ শ > পুনরুত্থান >> ফ্ল্যাশ ফিকশন >>> রনক জামান অনূদিত

রবার্ট জোসেফ শ > পুনরুত্থান >> ফ্ল্যাশ ফিকশন >>> রনক জামান অনূদিত

প্রকাশঃ December 16, 2017

রবার্ট জোসেফ শ > পুনরুত্থান >> ফ্ল্যাশ ফিকশন >>> রনক জামান অনূদিত
0
0

রবার্ট জোসেফ শ > পুনরুত্থান >> ফ্ল্যাশ ফিকশন >>> রনক জামান অনূদিত

 

[সম্পাদকীয় নোট : তীরন্দাজের নিয়মিত লেখক রনক জামান। রনক প্রধানত কবি, তবে তাঁর দুর্মর আগ্রহ অনুবাদে। ইসমাইল কাদারের অনূদিত কবিতা নিয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ বেরিয়েছে। মার্কিন গদ্যকবিতা অনুবাদ করে ইতিমধ্যে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে সম্পর্কেও এই তরুণ কবি-অনুবাদকের কৌতূহল অনিঃশেষ। তাঁর অনূদিত হেমিংওয়ের কুড়িটি গল্পের অনূবাদের একটি সংকলন আসন্ন বইমেলাতে প্রকাশিত হবে। আজ এই তরুণের জন্মদিন। তীরন্দাজ টিমের পক্ষ থেকে রনককে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা। এই উপলক্ষেই পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো রনক অনূদিত সম্পূর্ণ নতুন স্বাদের লেখা- একটা ফ্ল্যাশ ফিকশন।]

 

রবার্ট জোসেফ শ > পুনরুত্থান

 

‘বেশ ইন্টারেস্টিং তো আপনি,’ মেয়েটি বললো, ‘এরকম কারো সাথে আগে সাক্ষাৎ হয়নি আমার। আপনার গল্পটা আমি আরেকবার শুনতে চাই।’

মানুষটি দেখতে ছোটখাটো, গাঁট্টাগোট্টা আকৃতির, এশিয়ান চেহারার, নাকের নিচে লম্বা আঁশের মতো কয়েকটি গোঁফ। ‘একদম শুরু থেকে বলবো?’ জিজ্ঞেস করলেন, ‘পুরোটা বলতে গেলে সারাজীবন লেগে যাবে।’ বলে আবার জানালার বাইরে আকাশের দিকে তাকালেন তিনি। সেখানে হলুদ ও লাল রঙের দু’টো সূর্য স্থির ঝুলে আছে। দু’টো সূর্যের ব্যাপারটি দেখে এখনো অভ্যস্ত হতে পারেননি তিনি। এখানকার অন্যান্য ব্যাপারগুলোর তুলনায় এটি অবশ্য মামুলিই বটে। এখানকার অনেক জিনিসের সাথে অভ্যস্ত হতে তাঁর বেগ পেতে হচ্ছে।

একটি রোবট ওয়েটার দাঁড়িয়ে আছে সামান্য দূরেই, তার ধাতব টিউবযুক্ত হাতগুলো পায়ের তুলনায় দীর্ঘ ও পাতলা। রোবটটি মেঝে থেকে খানিকটা উপরে উড়ন্ত অবস্থায় স্থির আছে। তিনি রোবটটিকে প্রথমে দৈত্য বা জিন ভেবে নিয়েছিলেন। তাই ‘এটাকে শায়েস্তা করা দরকার’- ভেবে, ইতোমধ্যেই একচোট ঝামেলা ও মীমাংসা হয়ে গেছে তাদের মধ্যে।
‘এগুলো আমার সাথে ঝামেলা করছিল,’ বললেন তিনি।
‘বুঝতে পেরেছি,’ মেয়েটি বললো, ‘তারপর বলুন, তারা আপনাকে কী কী শিখিয়েছিল?’
‘কঠিন সব জিনিস। প্রথমে চিকিৎসা-বিজ্ঞান সম্পর্কে পুরো ইতিহাস জানায়। শুনতে শুনতে আমার মনে পড়তে থাকে আগে আমি বিশাল এক নীল আকাশের কাছাকাছি, এই পৃথিবীর কোথাও ছিলাম।’ বলে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে শুকনো একটা হাসি দিলেন। যেখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি, সেখান থেকে অসংখ্য আলোকবর্ষ দূরের এই গ্রহটিতে সম্প্রতি চাকুরিতে নিযুক্ত করা হয়েছে তাঁকে। সেই সঙ্গে থাকার জন্য দেয়া হয়েছে সুন্দর একটা বাসভবন। এবং এই মেয়েটিই প্রথম, যার সাথে এতগুলো কথা বলতে পারছেন।

‘আপনি কখন সবকিছু বুঝতে পারলেন?’

‘ওরা সম্পূর্ণ ইতিহাস শোনায় আমাকে, এমনকি আমার ইতিহাস-সহ। তাদের কথা শুনতে শুনতে হঠাৎ আমার স্মৃতির ছবিগুলো ভেসে ওঠে। কী বলবো, হাস্যকর! সব মনে পড়ার পর আমি নিজেই তাদেরকে গড়গড় করে বাকি ইতিহাস শুনিয়ে দিলাম।’
‘আমি বাজি ধরে বলতে পারি আপনি এ বিষয়ে প্রচুর জানেন।’
‘তা জানি বৈকি,’ এশীয় চেহারার ভদ্রলোক নম্রভাবে বললেন, ‘শেষমেশ ওরা আমাকে এই দ্বাবিংশ শতকের ব্যাপারে জানালো। এখনকার ক্যালেন্ডার বুঝিয়ে দিলো। অবশ্য আমার সময়ে ভিন্নরকম ক্যালেন্ডারের প্রচলন ছিল। এরপর ওরা আমাকে শেখালো কী করে পঙ্গু স্থানে- হারানো হাত-পায়ের জায়গায় নতুন হাত-পা গজানো যায়।’

‘এটা আসলে প্রাথমিক ধাপ,’ জানায় মেয়েটি।

‘দ্বিতীয় ধাপে আসতে তারা প্রচুর সময় নিয়েছে,’ বললেন তিনি, ‘দেখলাম, ওরা মানুষের প্রাণ উজ্জীবিত করতে শিখেছে, সম্পূর্ণ মৃত মানুষকে আবার জাগিয়ে জীবন্ত করে তুলছে।’

‘মানে? পরের অংশটি আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না,’ মেয়েটি বললো।

‘বেশ,’ ভদ্রলোক বললেন, ‘আমি যতটুকু বুঝেছি, বলছি, একজন মানুষের যে-কোনো অঙ্গ,  সামান্যতম অংশেরও যদি জৈবিক স্মৃতি অবশিষ্ট থাকে, তাহলে সেটাকে পরিপূর্ণ শরীরে তৈরি করা সম্ভব। এবং ওরা তাই করছে। কোনো মৃত ব্যক্তির সামান্যতম অবশিষ্টাংশ থেকে সম্পূর্ণ সেই ব্যক্তিকে পুনর্গঠন করে ফেলছে। এটা শরীরের কোনো অংশের আয়ুষ্কালকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে সম্পূর্ণ কাঠামোতে বানিয়ে তোলা বা ফিরিয়ে নেবার এক জটিল পদ্ধতি। এইটুকু শেখাতে সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাষা আমাকে শিখিয়ে নিয়েছে ওরা।’

মেয়েটি বলল, ‘ব্যাপারটা চমৎকার, তাই না? আন্তঃছায়াপথ ভ্রমণ ও যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা নিজেদের প্রসারিত করতে পারছি! এর মানে দাঁড়াচ্ছে, মানব ইতিহাসের যে কোনো মানুষ- যারা কখনো না কখনো বেঁচে ছিল, তাদের সবাইকে জীবিত করা সম্ভব হচ্ছে? এরপর দেখা যাবে তারা অনন্তকাল বেঁচে থাকবে?’

‘হ্যাঁ, তবে এটা একধরনের সমস্যা করছে আমার ও আমার লোকদের জন্য,’ লোকটি বললেন, ‘আমার সময়েও স্থানের স্বল্পতা ছিল। আমি যেভাবে এর সমাধান করেছিলাম, এখন তার চাইতে ভালোভাবে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে, কিন্তু তাদের উচিত ছিল আমাকে পুরো বিষয়টার সাথে মানসিকভাবে অভ্যস্ত হয়ে উঠবার সুযোগ দেয়া।’

‘আমাকে আপনার অতীত জীবন সম্পর্কে বলুন,’ মেয়েটি আগ্রহভরা চোখ নিয়ে লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলো।

‘বেশ। সেও প্রায় ছয় হাজার বছর আগেকার কথা। আমি জন্মগ্রহণ করেছিলাম পৃথিবী নামক গ্রহটিতে। জায়গাটির নাম ছিল গোবি, গোবি মরুভূমি।’ মদের গ্লাসে একটা চুমুক বসাতে বসাতে বললেন চেঙ্গিস খান।

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close