Home পঠন-পাঠন রাদ আহমদ > তৌবা ফুল : প্রকাশের আগে-পরে >> আমার বই আমার কথা

রাদ আহমদ > তৌবা ফুল : প্রকাশের আগে-পরে >> আমার বই আমার কথা

প্রকাশঃ February 23, 2018

রাদ আহমদ > তৌবা ফুল : প্রকাশের আগে-পরে >> আমার বই আমার কথা
0
0

রাদ আহমদ > তৌবা ফুল : প্রকাশের আগে-পরে >> আমার বই আমার কথা

বইটি শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে হাতে আসার একটু আগে একটা বিষয় খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, তা হলো, ‘তৌবা’ শব্দটা অনেকেই খুব সহজে বুঝতে পারছে না। হাতে প্রুফ নিয়ে এরকম প্রশ্নের মুখোমুখি হলাম, “তৌবা ফুল” মানে কি? এটা কি কোনো ফুলের নাম, নাকি কোনো নারীর নাম ‘তৌবা’ – এই প্রশ্ন শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। আমার কাছে যা খুব সহজ একটা শব্দ – সম্ভবত ছোটকাল থেকে শুনে আসার কারণেই- তার যে নানা রকম প্রকাশ বা ভিন্ন ভিন্ন উচ্চারণ আছে – আর – অন্য উচ্চারণগুলা যে অনেকের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে – এটা একেবারেই মাথায় আসেনি।
একটু শুদ্ধ করে লিখতে গেলে হয়ত ‘তওবা’ লিখতাম অথবা ‘তাওবাহ্‌’ বললে অনেকে সহজে বুঝতে পারত – কিন্তু সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে আর বদলালাম না। মনে হলো যেভাবে এসেছে – সেই আন্তরিকতা টা সহই এটা জারি থাক।
কবিতার বই বিপণনে যে দুর্দিন চলছে – এরকম সময় কবিতার বই বের করলাম কেন? এই প্রশ্ন সরাসরি অন্যেরা না করলেও , নিজের কাছে প্রশ্নটা চলেই আসে। বই বের হলে খুব বেশি ডিস্ট্রিবিউশন হবার সম্ভাবনা নেই – এটা জানার পরেও কেন বই বের করলাম?

যাঁরা চিত্রশিল্পী কিংবা আলোকচিত্রী – তাঁদের কাছে যেমন একটা শো কিংবা একটা একজিবিশন তার শিল্পী জীবনে মাইলস্টোন হিসাবে কাজ করে,আমার মনে হয় একটা কবিতার বইও একইভাবে একজন কবির জীবনে একটা মাইলস্টোন। সুতরাং নিজের লেখক সত্ত্বার প্রতি সৎ থাকার জন্য হলেও – অগ্রগতির জন্য – একটা বই প্রকাশ করাটা দরকার পড়ে।
দ্বিতীয়ে আসে প্রফেশনালিজমের ব্যাপারটা। একজন লেখক যদি তার লেখালেখি নিয়ে সিরিয়াস হন,তাহলে তাঁর কর্মকাণ্ডে এই প্রফেশনালিজমের ছাপ থাকতে হবে। আমার নিজ হাতে, অস্পষ্ট হাতের লেখায়, কাগজে কলমে লেখা একটা কবিতা-তো দশ জনকে পড়তে দেয়া যায় না। সেটা পরিচ্ছন্ন দেখায় না। সেই হিসাবে – একটা বইয়ের মধ্যে শুদ্ধ ভাবে মুদ্রিত কবিতা যদি অন্যজনের কাছে উপস্থাপন করতে পারি – তাহলে সেটা হবে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য আর সহনীয় একটা কায়দা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটা বই প্রকাশের পর -একজন কবি বা লিখিয়ে তার ওই পর্যন্ত সমস্ত লেখাগুলো একসাথে চোখের সামনে দেখতে পান, ফলে নিজের লেখার একটা বিচার করার সুযোগ তিনি পান। এই সুযোগের ফলে – পরবর্তীতে তাঁর লেখালেখিতে বাঁক বদল করাটা সুবিধাজনক হয়। একজন সৃজনশীল মানুষের পক্ষে খুব জরুরী এই বাঁক বদলের বিষয়টা। এই চেইঞ্জ টা না আনতে পারলে ক্রিয়েটিভিটি টিকিয়ে রাখা বেশ কঠিন বলে মানি। নিজের স্টাইল, নিজের পর্যায় নিয়ে প্রশ্ন করা, বিচার করা, এচিভমেন্ট সম্বন্ধে সচেতন থাকা – এরকম লিখলাম – এবার এখানে এখানে চেঞ্জ করব – এই ভাবনাটা জরুরি।
এসব কারণেই কবিতার বইয়ের দুর্দিনেও বই প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া।
আমার তো মাঝে মাঝে ইদানীং মনে হয় যে কবিরা অনেকখানি যেন সেই বৌদ্ধ ধর্ম প্রকাশ আর প্রচারের যুগের তপস্যাকারী, সাধনাকারী তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে চিন্তা করা সাধক দের মত হয়ে যাচ্ছেন। একটা জ্ঞানের ধারা কে আরও একটু এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যাদের অশেষ চেষ্টা। ঐ সাধকেরা যেমন তাত্ত্বিক আলোচনার জন্য মালয় চলে যেতেন, তিব্বত, কিংবা ভারতের নানা প্রান্তে – কবিদেরও সেরকম করার সময় চলছে। সাধারণ মানুষের দিন যাপন একরকমের – এদিকে কবিরা ব্যস্ত তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে আর অগ্রগতিতে। এরকম একটা চিন্তা – রসিকতা  ছলে হলেও মাঝে মাঝে হানা দেয়।
তো মাঝে মাঝে অন্যের সাথে এরকম তাত্ত্বিক আদান প্রদানের জন্যে হলেও তো নিজের বইটা প্রস্তুত রাখা দরকার!
যাই হোক। এতসব ভেবে চিন্তে শেষ পর্যন্ত বই করলাম, আবার করলাম একেবারে নিজের প্রকাশনা থেকেই। বলা যেতে পারে, বইটা প্রকাশ করার জন্য প্রকাশনা সংস্থা খুলে বসলাম একেবারে। বইয়ের বিপণন নিয়ে , বিশেষ করে কবিতার বইয়ের প্রকাশনা আর বিপণন নিয়ে আমার পর্যবেক্ষণ আর অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো কথা বলে না। কবিতার বই খুব সহজ একটা ব্যবসার আইটেম না। এক সময় হয়ত কবিতার বইয়ের সম্ভাবনা ছিল – কিন্তু এখনকার আমলে সে সম্ভাবনা আরও আরও আরও কমে যাচ্ছে। আর এটাই স্বাভাবিক।
প্রকাশককে খরচ দিয়ে, অথবা, আরেকটু সুন্দর ভাবে বললে – নিজের বই দুইশ কপি অগ্রিম কিনে নিয়ে বই বের করার চাইতে ভাবলাম, এই ডি. টি. পি.-র যুগে যেহেতু প্রকাশনা তুলনামূলক-ভাবে অনেক সহজ, আর যেহেতু আমারও কম বেশি জানা আছে প্রক্রিয়াগুলা, তাই নিজের বইটা নিজেই প্রকাশ করি – আর এর বিপণনের ভারটাও নিজেই নেই। কোনো প্রকাশককে দিলে তিনি নাহয় প্রকাশ করে দিলেন, কিন্তু তিনি যে এর বিপণনের ভারটাও নিবেন (বিশেষ করে কবিতার বই হলে) – আমি এ পর্যন্ত এরকম দেখিনাই এখানে। সুতরাং শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা আমার কাছেই থেকে যায়।
বই ছাপা হওয়ার কায়দাগুলো ভালো লাগে। প্রেস এলাকার বাতাসের ঘ্রাণ, কর্মতৎপরতা, রিমে রিমে কাগজ আসা, তারপর, নানা উপাদান নিয়ে মিলে ঝিলে, নানা রকম শ্রমের মিশেলে যখন একটা বই শেষপর্যন্ত বের হয়ে আসে – তখন তার আনন্দটাই আলাদা।

বইয়ের কন্টেন্ট নিয়ে আমার ভাবনা

পাতলা বইগুলো বিবেচনায় না রাখলে এটা আমার চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ বই । এতদিন অনেক বেশি নির্ভর করেছি “ইন্সপায়ারেশন”-র উপরে। অর্থাৎ – তাৎক্ষণিক ভাবে, এক বসায় লেখা কবিতাগুলোই ওখানে বেশি। একটা ঘোরের মধ্যে কবিতাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ করে তোলা – এটা ছিল আমার আগের পর্যায়ের লেখাগুলি রচনার কায়দা। এবারেও তা কাজ করেছে – তবে এবার কিছু প্রতিষ্ঠিত ফর্ম আরোপ করার চেষ্টা করেছি। যদিও কনটেন্ট, বা মূল উপাদান অর্থাৎ শব্দ গুলোতে নিজের মত রেখেছি। একটা চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করার চেষ্টা ছিল আগাগোড়া।
বাংলা ভাষায় কিছু শব্দ বা এক্সপ্রেশন আছে – যেগুলো ব্যবহার করলে খুব সহজেই একটা কাব্যিক আবহ তৈরি হয়ে যায়। এটা খুব সহজ আর ক্লিশে একটা কায়দা। এ ধরণের শব্দ বা এক্সপ্রেশন ব্যবহার আমি বরাবরই এড়িয়ে চলি। আবার ঠিক একইভাবে অন্যের কবিতায় খুঁজি এ ধরণের প্রবণতাটা। প্রচলিত (বিশেষ করে প্রকৃতি-নির্ভর এক্সপ্রেশনগুলা) কতখানি কবি এড়িয়ে গিয়ে নিজের মত করে একটা কাব্য-ভাষা নির্মাণ করতে পেরেছেন -সেটা খুঁজি।
ফর্ম বা চ্যানেল ব্যবহার করব প্রচলিত – কিন্তু শব্দ, ভাবনা, কথা হবে নিজের মতন আর অন্যরকম – এটা এইবারে  ছিল মূল প্রচেষ্টা। এই চেষ্টার ফলাফলটা কিরকম হয় শেষ পর্যন্ত – অর্থাৎ কবিতাটা লেখার পরে তার চেহারা কিরকম হয় – সেটা দেখার জন্যে নিজের আগ্রহটাও ছিল প্রবল।
তবে প্রকাশিত হবার পরে বইটা হাতে পেয়ে আমি বরং কিছুটা হতাশ। যে তীব্র উৎসাহ নিয়ে কাজগুলো করছিলাম – সাদা চোখে দেখলাম যে – আমার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সেরকম হয় নি। তবে ভিন্ন ধরণের কিছু হয়ত হয়েছে। সে বিচারটাও যাঁরা পড়বেন – তাঁদের উপরেই। ভালো লাগা মন্দ লাগা, নিজের মত করে ইন্টারপ্রেট করে নেয়া – অনুভব করা – এর পুরাটা অবশ্যই পাঠক পাঠিকার উপরে । একটা কবিতা একবার প্রকাশিত হয়ে গেলে –সেটা নিয়ে কবির নিজেরও বলার কিছু থাকেনা।

কোথায় পাওয়া যাবে বইটি

কালধারা, বহেরা তলা লিটিল ম্যাগ চত্বর, ১৯ নম্বর স্টল।
বইটা আরও পাওয়া যাচ্ছে নিচের ওয়েব ঠিকানায় :
http://toulot.com/shop/সেইরকমবই/তৌবা-ফুল/
যে কেউ নিজের ঠিকানা প্রবেশ করে অর্ডার প্লেস করলেই আর কোনো চিন্তা নেই। বই পৌঁছে যাবে ক্রেতার হাতের নাগালে। শুধুমাত্র হাতে পাবার সময় কুরিয়ারের কাছে ক্যাশ পেমেন্ট করে দিলেই চলবে।

তথ্য
প্রকাশক : তুলট। মূল্য ১২০ টাকা (অনলাইন অর্ডারের ক্ষেত্রে ডেলিভারি চার্জসহ ১৫০)। ‘

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close