Home কবিতা রাদ আহমদ > স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা ও কবিতাভাবনা >> পাঠপ্রতিক্রিয়া মাসুদুজ্জামান
0

রাদ আহমদ > স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা ও কবিতাভাবনা >> পাঠপ্রতিক্রিয়া মাসুদুজ্জামান

প্রকাশঃ August 21, 2017

রাদ আহমদ > স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা ও কবিতাভাবনা >> পাঠপ্রতিক্রিয়া মাসুদুজ্জামান
0
0

রাদ আহমদ > স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা ও কবিতাভাবনা

দুপুর আড়াইটায় ভালোবাসা

অলস কাকেরা দুপুর আড়াইটায় মুখ জড়াজড়ি করে – একজন তেহারি দোকানদার

মুছে নিল তার হাতা – রঙ জ্বলে যাওয়া মেরুন শার্ট

 

সবকিছু সুন্দর – ওই দেখ অলস গৃহিণী কাজে না যাওয়া স্বামীর হাতে

রাজি হয়ে যায় – সন্তান খুলে বসে খাতা – লাইন দেখে যায় আর গরম

 

গরম পড়েছে রিকশাওয়ালার মলিন গেঞ্জিতে ঘামছে একজন মফস্বলাগত

যুবক দোকানদার মনে মনে ভাবছে এবার আচরণে অল্প-স্বল্প টাউটেপনার

আমদানি করলে খারাপ হয়না – খারাপ হয়না

 

যদি ভালোবাস

 

দুপুর আড়াইটায় কালো কাকের মত উড়ে যাব লাল বিকালের দিকে

 

এমনভাবে উচ্চারণ কর বৃষ্টি

সু মলিন ভাবে উচ্চারণ কর বৃষ্টি – এমনভাবে

যেন হারাবার কিছু নাই যেন পুরানো ঢাকার

আইজুদ্দিন এলাকার লোকটাকে তুমি গিলে ফেলেছ – হজম করতে

পারছ না আর

 

তার বোনের ছেলেরা অথবা ভায়ের পুত্র কন্যাগণ

তোমারই ভক্ত যেমন তুমি সুবিখ্যাত এক

ক্রিসমাস ক্যারলের রচয়িতা সেই দরিদ্র আনিমপ্রেসিভ

শিক্ষকের মত দিনে এনে দিনে খেয়ে বেঁচে বর্তে থাকা

 

গরীব চেহারা বডি ওয়ালা একখানা গাড়িওয়ালা তুমি

অল্প কিছু যাদুবিদ্যা ব্যতিরেকে আর কিছু শেখা নাই

 

যেন তুমি ক্লান্ত নিরীহ নিঃস্পৃহ একজন মলিন এন্টারটেইনার

 

ছাইবর্ণ এলিফ্যান্ট রোড

ছাইবর্ণ এলিফ্যান্ট রোড নিঃসঙ্গ প্রৌঢ়ের মত পিছে পিছে হাঁটে

ব্যাঙ্কের কাউন্টারে মেয়েটার কানে দুল

আকাশে কেমন মেঘ মেঘ করসিল আমার তো মনে হইতেসিল ‘পেট্রিকোর’ শব্দটার কথা

প্রথম বৃষ্টির পরে সোঁদা গন্ধটার মত ভেঙ্গে পড়া ভেঙ্গে পড়া কাজকর্মের ছলে

গার্মেন্টসে কত শ্রমিক কিংবা এই যে টাকা উত্তোলনকারী দারোয়ান

তার একা একা ডিউটি করাটাকে কোনোরকমের

যৌক্তিক ফিলসফিতে লাল জুতাটার মত তার কর্মকাণ্ডের কোনো

যৌক্তিকতা নাই – লাল জুতাটা তো লাল চামড়ার সাথে ছাই রঙা

নুড়ি আলকাতরার সঙ্গে ঘসা খাইতে খাইতে নিঃসঙ্গতার একধরণের

মূল্য জারি থাকে, ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতেসে যে টাকার যোগানদার

ঘুরতেসে একা বাটা সিগনালে,তার অব্যবহিত পিছনে আমি

টাকা গোনার ভঙ্গিমাটাকে দেখি

যেন সে একটা গাড়ি – তার গোল গোল দুই চোখ দিয়ে

কর্মীদের, শ্রমিকের রাস্তা পারানো দোকানে

পরিবেশিত যত খাবার

 

বরঞ্চ মেসিয়ারের মুখে অপমান আরও জ্বল জ্বল করে

 

শান্ত পশু

শান্ত পশু এসেছি বসে হলুদ বাসা সামনে তোমার

বসেছি হাঁটু মুড়ে – বিকাল কড়া রোদের আঁচে যখন

পুড়াচ্ছিল লম্বা গাছ – দেয়াল জুড়ে ত্রিকোণাকার কাচগুলাকে দেখি ওরা

ছড়ায়ে আছে – ওরা সিকিউরিটি

রুপালি রঙে মুহূর্তেরা চলে গিয়েছে হঠাৎ কিছু মানুষ – ওরা

চলে গেছিল নতুনতর পদ্মপাতা যেমন জলে ডুবে ও ভাসে

নাকে লাগিয়ে শিশির কণা যেন বা কোনো পারফিউমে

আতরে তার স্মরণ হলো

অনেক দেরী করে ফিরেছি- না ফিরেও তো

উপায় কোনো ছিল না তবে অপেক্ষাতে বসে থাকনি কলম কাঠে কাঠে সেগুনে

গুল্মলতা

টিপ পরনি আয়না জুড়ে ফুটে উঠনি যে অবয়ব

চলতে গিয়ে ছলকে ওঠা বালতি ভরে জিয়ল মাছ পুষে রেখেছ

কচুরিপানা দিয়ে ঢেকেছ বালতি টা

ছলাৎ ছলে পুরানা যে রাস্তাটা এই

মহাখালীকে খালি করেছ ঝিলের মাথা দু ভাগ হলে

একভাগকে পিঠা বানিয়ে অন্য ভাগে

আস্তে করে জমেছে পিঁপড়াদের খেলা

দেখেছ সেটা ? দোকানদারে হলুদ কলা

ঝুলায়ে রাখে ধুসর পার্কে

ধুসর রঙা মানুষগুলা চা খেয়ে যায় যেন ড্রাকুলা সেজেছে ওরা

রক্তচোষা

তারপরও তো

পাপ করেনি ওরা ওদের পাপ করাতে অক্ষমতা

বরং দেখি শতচ্ছিন্ন রুমালখানা দিয়ে ঢেকেছে

মহাখালীর জখম গুলা – আমি এসেছি হঠাৎ কেমন

গতিটা একা রুদ্ধ হলে আপন চালে হাঁটতে হাঁটতে

শান্ত পশু জিরিয়ে নেই লতাগুল্মময়

হলুদ বাসা তোমার তুমি

ত্রিকোণ কাচে বসেছিলে

ত্রিকোণ কাচে আবার তুমি বসনি কক্ষনো

 

কক্সোবাজার তিরিশ পাঁচে

মধ্যবিত্তের জামা পরে ইনানী সৈকতে

সূর্য তেড়ছা আলো ছড়াবে পানিতে ও বালুতে যত

গোড়ালির ছাপ গর্ত করে গভীরে গ্রথিত তত

 

স্মৃতিতে গোসল করা সহজতর মাঝেমধ্যে

ক্লিষ্টতার রঙ ছুঁয়ে ছেনে হলুদ বর্ণ

জামা থেকে সাঁতরে ওঠা কিচকিচে বালু তাকে

 

নাম দিয়েছি সিলিকা আমি তিরিশ টাকায় মৃত তারামাছ

শোভাবর্ধন বাদে যেটার অন্য কোনও

সফলতা নেই পাহাড় থেকে নেমে আসা

স্মৃতিরা ভল্লুক

 

ঐতিহাসিক ঐতিহাসিক একশো ফুটের বুদ্ধমূর্তি

চিন্তাভাবনা করেছ কি? আমার তো আর

চিন্তাভাবনা এলো না লাল কাগজের কাপে

কফি খাওয়া হলো নামকরা বিচ একটা একটা

পেরিয়ে গেল নিজেদেরকেই

 

স্মৃতিতে গোসল করা কৃষ্ণচূড়া

আমাকে শেষে আশ্রয় দিলে

অটো ভাড়া টেনে টুনে তিনশ টাকা তার মধ্যেই

পুঁজিতন্ত্র সমাজতন্ত্র সবকিছুগুলা

ভেবে নিয়ে হাস্যোজ্জ্বল তারামাছ মৃত

 

এবং গহীন রৌদ্রগুলা পাহাড়ের গায়ে আছড়ে

এবং সামলে উঠে সোমত্ত রমণী তারা

যেমন ভাবে ঠিকঠাক করে নেয় তাদের উজ্জ্বল নীল

জামাগুলা

দেখি যেখানে কালো পাহাড় ছিল এবং

গরু চড়ত বৃহৎ বৌদ্ধ মঠের থেকে একটু নিচে

 

সেখানে সব কুকুর কুকুর এমনকি পুরা

পাহাড়টারই নিরস্তিত্ব কেবল অটো

ভাড়া তাদের তিনশ কিংবা তিরিশ পাঁচে

রাস্তাঘাটের জীর্ণ পাগল বৃদ্ধা তারা শান্তিতে নাই

শুধু উজ্জ্বলতা এবং প্রাক বসন্তে

বাতাসের ঘ্রাণ জখম-আক্রান্ত হলে

 

খুব মনোযোগে হোটেল রুমে ভিডিও গেম

খেলার মতন স্মৃতিদের খুঁজি

 

তিরিশ পাঁচে আক্রান্ত যত জখমগ্রস্থ স্মৃতিরা আমার

পুনঃ তাদের ডুবিয়ে দেই হলদে জামা তুমি বরং

প্রাক ইতিহাসে চলে যাবার কালে এখানে

কফি খেয়ে যাও না একটু লালচে রঙের কাপে

 

সাগর থেকে উঠে আমরা কফি খেয়ে নিয়ে

সাগরেই ফিরে যাই?

 

রোজনামচা ১৭ মার্চ ০৮

সম্পদ যোজিত । একটা দুপুরবেলায় একটা প্রেমের ফোন

সব ওলটপালট করে দেয়

পেন্সিলের তীক্ষ্ণ টানে আঁকা কর্মজীবী মানুষ

হেঁটে যাচ্ছ তোমরা, গা বরাবর গুলশান লেক

দুপুর এগারোটায় আমার কাছে এসে বহু সম্পত্তি জমল

প্রেমের বিপরীতে ঘৃণা, তার বিপরীতে

সম্পদ যোজিত—তার বিপরীতে কাউকে আটকে রাখার মতো তার বিপরীতে

একটা ভিক্ষুকের মত হাত

আমাকে আটকে রেখেছে ।

 

গুলশান লেকে একটা পুরানো নৌকা

শ্যাওলা জমে আটকে রইল

*** *** ***

জ্বর-তপ্ত মেয়েটাকে চুম্বন

চাদরে বহু নকশা আঁকা ছিল

আমাদের কোনো ইস্যু নেই

আমাদের কোনো আন্দোলন

ছয়তলা থেকে লতানো গাছের মতো নেমে আসে না

আমি বলছি তাকে চা বানাতে এক মগ

তির্যক আলোর মত ক্রন্দন

যখন এসে লুটিয়েছে বিকালে মসজিদের মিনারের গা বেয়ে

 

‘ওয়াট উড জিসাস ডু?’

 

আমি তার ওড়না গুছিয়ে রাখি

 

বিকালের আলোয় দুজনেই ধর্মান্তরিত

*** *** ***

এখন এই যে সন্ধ্যাবেলায় এখন এই যে জন লেননের

‘এবাভ আস ওনলি স্কাই’

 

সেইরকমের গন্ধ পাচ্ছি যেন ছোটবেলাকার

আমার তরুণ পিতা আর মাতা আর জেসমিন গোজা রাত

 

‘ইম্যাজিন দেয়ার’স নো কান্ট্রি

ইসন্ট হার্ড টু ডু’

আমাকে এমন বলল রিকশাওয়ালা

 

চকিত ক্ষরণে যখন তার মুখটা আঁকা হল

 

বাতাসের মধ্যেতেই

বাতাসের মধ্যেতেই পুরে দেয়া আছে কে তোমাকে

কাছে টেনে নেবে কে করবে গোল গোল টেবিলের

 

উপরের থেকে পড়ে যাওয়া লাল ফল বা সবজীর রস ভরা

গ্লাস থেকে অকস্মাৎ চিনে নিতে পারা চেহারা বা

 

বজ্রপাতের নীলচে শীতল ধকখানা কখনো কি

ছাপচিত্র যেন – সেঁটে দেয়া হয়েছে তোমার অবয়ব জুড়ে?

 

কি প্রয়োজনে ক্রমশ মুহূর্তরা চলে যায় কখনো অলস

কখনো বা বিন্দু বিন্দু জমে ওঠা ক্লেদ ও মননে

 

কতকিছু করা হবে কত নতুন কারিগরি বিদ্যায়

অভিনব মুহূর্তেরা যেন মুক্তায় খচিত

 

ছোট ছোট অঙ্গুরীয় – তাও যদি হত তা’লে

ভূ-মধ্য সাগরে চলে যাওয়া যেত নিজের আনন্দগুলা

 

ছোট ছোট ক্যামেরায় বাক্সবন্দী ও সেগুলা

অন্যেদের দেখানো যে উঁচু উঁচু লম্বা গাছের নিচের

 

শীতলতা টের শেষে গরম খাবার খেতে পাবে

 

নানা ভঙ্গিমায় চেহারা তোমার ছাপাঙ্কিত হবে

পুনরায় অন্য কোন মৃদু শরীরে ও চেহারায়

 

বাইপোলার ডিসর্ডার

আরেকটু ঢেলে দাও মাথাটা – আরেকটু – অসমাপিকা ক্রিয়ারা ঘুরে যাক

কমলা বাচ্চাদের মত গান গাক রাস্তার দুই পার্শ্বে – তোমাকে

হাসপাতালে নিতে নিতে আরেকটু ঘুম আরেকটু চক্ষুলজ্জাকে উপহাস চল

মারিম্বা নাচি আমাদের অপ্রাপ্তির বিপরীতে

 

তার হাতে লাবণ্য-ধারায় বাঁধা পড়েছিল দুনিয়ার সব রূপ রস – তাইনা? দুনিয়ার রূপ রস মাঝে মাঝে কথা বলে ওঠে দুনিয়ার পশুপাখিরা কথা বলে ওঠে হজরত সোলায়মানের রাজপ্রাসাদে তার চেহারা ফুটে উঠেছিল – ঝকঝকে ফ্লোরের আদলে তার লাবণ্য কিরকম হয়ে যায় এলুমিনিয়াম ফ্রেম

 

আমিও বলি কথা – যেগুলা আমাদের বায়ুমণ্ডলে ঘুরে যায় ফিরে যায় নরম সু-মলিন চড়ুইয়ের মত উড়ে যায় – অন্য মানুষের কাঁধে বসেনা অন্য মানুষ বড্ড গাড়ি কিনে বসে টাকার বিচারে বিচার করে সন্ধ্যাবেলা আর কবরস্থানের সামনে দিয়ে যেতে যেতে যেতে হরেন বাজায় আমাদের হাসপাতালে নিতে নিতে

 

বৃষ্টিতে হাসছ তোমরা শিয়ালের মত

বৃষ্টিতে হাসছ তোমরা শিয়ালের মত

রাস্তারোপরে সুগন্ধযুক্ত বৃষ্টিফোটা রুমালের মত সাজে

গ্লাসের ভিতরে ভাঁজ করা ন্যাপকিন যেমন

হেঁটে নিয়ে আসে ভগ্ন-পায়ে ওয়েটার –

টাই

ঠিক করো – টাই

ঠিক করো মাটির সুনাম –

তোমার গভীরে আলোকিত পুকুরপাড়

বাইরে ধানের গন্ধ সাইকেল চালাচ্ছে –

কিরিং কিরিং বৃষ্টি পড়ছে – বৃষ্টিতে

একপাশ ভিজে যাওয়া ঘর

শিয়ালেরা প্রকৃতির সন্তান বলে

এখনো বৃষ্টিতে হাসতে আছে

 

সাদা বাড়ি

একটা সাদাবাড়ি একটা কবিতাময় রেখা

সাদাবাড়ি, তুমি কেন ধুসর জামা পরেছ ?

রোদে ধুসর জামা পরা মেয়েরা খুব

নধর সুন্দর যৌনাবেদনে খ্যাকশিয়ালিনী

শিয়ালিনী তুমি ধুসর জামা পরেছ অথচ

আকাশটা নীল আকাশে নীল তারকা দেখা যাবে

রাত পোহালে কমলা ভোর

কমলা ভোরে যৌনতা ওড়ে সুন্দর পতাকা যেন নির্মল বাতাস

একটা সাদাবাড়ি তুমি কতনা নির্মল বাতাস

হয়ে ন্যুব্জ ধুসরে দাঁড়িয়ে আছ

 

কিড স্ট্রিট এ জটিলতা সিরিজ

[এক]

কিড স্ট্রিট এ জটিলতা

আমি ট্যাক্সি থেকে নেমে দাঁড়ানো গাড়ি

গাছ থেকে নেমে দাঁড়ানো হাত

জানলায় ঝলকাচ্ছে সবুজ পাতা

যেসব জায়গায় যাবার কথা ছিল

আবার যেসব জায়গা গান গায়

সুরেলা স্বরে – তাদের কাচে ঝলকাচ্ছে

চেহারা

চেহারা

কিড স্ট্রিট এ জটিলতায় ট্রেন

ছেড়ে দিল দুপুর বারোটা বাহান্নতে
[দুই]

প্লেনের ভিতরে ঘোমটা আমি

সুটকেসে পোরা হাত

যত কথার পিছনে শুধু

অবসাদ অবসাদ। খুব ধুরন্ধর

দিগন্ত পর্যন্ত ছড়ানো রানওয়ে –
তোমরা ঘোমটা পরেছ –

তোমরা জানলার পাশে বসে আছ তোমরা

কোথায় যাবে? কোথায় যাবে?
এলভিস বসে আছে বার এ

চাইনিজ বসে আছে বার এ

সমস্ত সন্ধ্যা, গাড়ি, ট্যাক্সি

এবং ইত্যাকার ইন্দুরগুলো

গড়িয়ে যাচ্ছে গড়িয়ে যাচ্ছে

সিঁথি কাটা চুল

তোমরা কোথায় যাবে?
[তিন]

যেই ব্যক্তি ধুরন্ধর সেই ব্যক্তি ফ্রড

যেই ব্যক্তি ফ্রড সেই ব্যক্তি

রোদেলা হারমোনিয়াম

বাজাচ্ছিল কিড স্ট্রিটে

আকাশ থেকে নেমে আসা ঝোল

সরুয়া

মিলেমিশে মিলেমিশে – এই যে এ্যাংলো

ইন্ডিয়ান মহিলাটা আকাশ থেকে

নেমে আসা মাটির ভাড়েতে কাপ

তোমার বিড়ালগুলো এবং আমি

কিড স্ট্রিটে জটিলতায়

অল্প অল্প রোদ পোহাচ্ছি

এবং প্রহর
[চার]

‘তখনও ছিল অন্ধকার তখনও ছিল বেলা -‘

কিড স্ট্রিটে ‘জটিলতার চলিতেছিল খেলা’

‘ডুবিয়াছিল নদীর ধার আকাশে আধোলীন

সুষমাময়ী চন্দ্রমার – ‘

‘নয়ান’ শব্দটা আমি একটু অন্যভাবে লিখব

নয়ানে নেচেছে চাঁদ, মদ এবং

কুমিল্লা-রোডে ‘বাঙলা’ বিষয়ক জটিলতা
এবং মেঘনা-ব্রিজ –

 

‘কি কাজ তারে করিয়া পার

যাহার ভ্রুকুটিতে’ একে একে মশা এসে বসেছে

মাছি এসে বসেছে বিয়েবাড়ির বেঁচে যাওয়া

খানা-পিনায়

হলুদ ট্যাক্সি এসে বসল

‘কি কাজ তারে করিয়া পার’?

‘অতর্কিতে রুদ্ধদ্বারের’ আগে আমি

রুদ্ধ-দুয়ার আমি মেয়ে হলে আরও

ভালো করে দুয়ার রুদ্ধ করতে জানতাম

বরং আমি মৃত হরিণী

‘প্রহরা’ নেই – প্রহরাদারদের সাথে

বিড়ি খাচ্ছি ‘চারিভিতে’ এবং চুরুট এবং

হাসি খাচ্ছি এবং

‘কি কাজ তারে ডাকিয়া আর -‘

আমি মূলত গায়ে হলুদ খাচ্ছিলাম

এবং অন্ধকারগুলা
আমি খাচ্ছি কিড স্ট্রিট

কিড স্ট্রিটে জটিলতার যখন ছেলেখেলা ফুরালো

 

[কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘হৃদয়পুর’ কবিতা থেকে কিছু কিছু কাব্যাংশ এ লেখায় উদ্ধৃত হয়েছে]

 

ঢাকা তুমি

ঢাকা তুমি গমগম করনেওয়ালা হতেস কেনে

এইটা অবশ্য ভালো লাগতেসে রাতে পরীবাগ ব্রিজে

সুচতুর জামা পরা নরক নরকিনীরা নেমে আসে খিলখিলিয়ে যুবারা

গাঁট্টাগোট্টা রোবট হইতেসে বুঝতেসি এটা এই মুহূর্তের স্টাইল – ক্রমান্বয়ে শলাকার হ্যাট

তালপাতা নির্মিত ফিগার

হও ঢাকা হও

একজন ড্রাগ ডিলার যে কিনা

অনভিজ্ঞ প্রথম রাস্তায় বের হইসে তার

অন্ধকার সমাচার তুমি হ্যাট পর

বেতের চিকন কাজে ভরা কাউবয় হ্যাট – খুবেকটা

পাতলা ব্রিফকেসে পুরে নাও পরীবাগে ডাব বিক্রেতাকে যার

ভ্যানের পাটাতনের ধার দিয়া চকচকে নাট

জ্বলজ্বল করবেনা আর

 

হালকা পাতলা দম দাও পুরে নাও চামে চিকনের দুইনম্বরি যত

আনন্দময় সার্ভিস মানুষেরা নিবে – নিতে থাকবে

নিতে থাকতে থাকতে আনন্দের ধক

 

বদলাতে বদলাতে টেকের নাও থেকে

যুবতীর কটাক্ষ ভেসে আসিল সিমেন্টের

দশম তলার মাথা তুমি অন্ধকারাচ্ছন্ন

খাদ্যের গ্রীবা ধরে ভিতরে ঢুকে যাও

 

রাস্তা পাশে পলিথিনে আর ঘিঞ্জি এলাকার

দুধের খামারে

 

শোলমাছ সিরিজ

 

আমি একটা শোলমাছের ঝোলের রান্না

 

একটু আগে বললাম, তুমি যদি

একটা কাগজ আর কলম রাখতে পার

তিনবেলা রান্না করে খাওয়ানোর চাইতে

তাইলে একটু ভালোভাবে থাকতে পারি

এই কথা বলবার পরে আমার স্পৃহা গেল কমে

কী নিয়ে ভাবতেছিলাম – সেটা নিয়েও বলবার খুব বেশি কিছু নেই

আমি একটা শোল মাছের ঝোল।

তারপরেও কেন কবিতা লিখ – আমি এইটা ভাবতে ভাবতে পিককের কাছে ফিরৎ যাই

ওহে উঁচা এবং আত্ম প্রেমিকবৃন্দ

আমি কোনো ‘ক্লিশে’ কথা বলবার চাইতামনা বলে

বরিশালের ভাবনা আত্মস্থ করবার চাই

আমার সাক্ষীবৃন্দ এবং বৃন্দারা

আমি আরেকটু ঝোলের ভিতর মশলাটা

ধনিয়া পাতারা হতে চাই

এই কারণে একটু টেনে ধরা

এই কারণে আমি একটু শিশু হতে চাই

 

ভাই আপনের পাইপ

 

পাইপের ভিতরে বাতাস জমেছে তাই

পানি নামতেছেনা।

পানি আর নামবেনা তাই

আমি একটু শোল মাছের ঝোল হতে চাই।

 

ধরেনা শরীর খারাপ হয়ে যায়

 

ধরেনা শরীর খারাপ হয়ে যায়

এইসব বাতিবৃন্দ পাতিবৃন্দ

স্বরূপবৃন্দ। হ্যাঁ স্বরূপ

তৃপ্তিগুলা নানা প্রকারের।

আমি একটু বাসে যেতে যেতে

তার উন্মত্ততায়

তার স্নেহে

ধরেনা শরীর খারাপ হয়ে যায়।

এই কথা কেন বলো কেন ফুটবল মাঠের দারুণ কার্যকলাপ

লাথালাথি থেকে ফাকাফাকি আমি একটু

শোল মাছের ঝোল হতে চাই

 

আমি কিছু সময় কাটালাম আরকি

 

একটা টুটু বোরের রাইফেল ধরে তুলে ধরে তুমি

কিছু সময় কাটালাম আরকি

একটা অবলীলায় লীলাগুলাকে বৈধতা দিতে দিতে

একটা দক্ষিণ আফ্রিকীয় মেয়েকে

আমি একটু সময় কাটালাম আরকি একটা

বাংলাদেশী মেয়ে কিনা

সাউথ আফ্রিকায় অস্ট্রেলিয়ায়

পুতুল বনে যায়

আমি একটু সময় কাটালাম আরকি।

তাদের নিজস্ব গান-বই ভরে যায়।

 

ওইদিকে ফিরে থাকো তাকাবানা আমার দিকে

 

“ওইদিকে ফিরে থাকো তাকাবানা আমার দিকে”

এই কথা আমার বলতে রোমানিয়ার বন্ধু আমার

আইরিশ বন্ধু

ওইদিকে ফিরে থাকো আমার বাঙ্গালাদেশের বন্ধু

ওইদিকে ফিরে থাকো

এইটাই স্বাভাবিক।

‘আমার সোনারই অঙ্গ

আগুনে পুড়িলে যাক পুড়ে

যাক পুড়ে যাক

আমার বন্ধুয়ার লাগিয়া রে’

 

কাঁদিবনা ফাগুন গেলে

 

কাঁদিবনা ফাগুন গেলে

শচীনদেব গাহিয়া গেলেন । আমার এখানে তো ফাগুন নাই

যেইটা আছে সেইটা আসলে দু-একদিনের – তখন

 

সকালে ঘুম থেকে উঠিয়া আসবাব পত্ররে মনে হয়

আরও বেশি আপন – তারা কিরকম

নিজেদের ভাবনা নিয়া – নস্টালজিয়া নিয়া

একেলা দাঁড়ায়া থাকে আমি কাঁদিবনা ফাগুন গেলে

 

মনের মত মানুষেরে তুমি খুঁজিয়া বেড়াতে থাক

আমি কাঁদিব ক্ষণে ক্ষণে – ইন্টারমিটেন্ট ভঙ্গিতে – দুপুর পেরুলে বিকাল

বিকালের পর রাত্র দুইটা পঁয়তাল্লিশ মিনিট । তখন ঘুমায়ে যাব –

 

আমি আর কাঁদিবনা ফাগুন যখন চলিয়া যাবে ।

কাঁদিবনা ফাগুন গেলে ।

 

জেসমিন দেশে যদাচার

 

জেসমিন মানে সাড়ে তিনশ

মাতাল মানে ফুল

 

সাড়ে তিনশ লক্ষ ফোঁটা

বৃষ্টিপানি

 

রাত মানে হাঁটা

মাতাল মানে

 

‘তুমি এখনও গালে হাত দিয়ে বসে আছ ?’

 

ট্রিবল্ বাজবে ফোঁটা

বেইস্ বাড়ালে নক্ষত্র খসে পড়ল নতুন

 

ঠাণ্ডা হলো নাম

না জানা

সকালবৃন্দ

 

আঁধারে মৃদু জেসমিন গোজা রাত

 

জেসমিন দেশে যদাচার

 

কবিতা ভাবনা


কবিতা নিয়ে আমার ভাবনাগুলো শেয়ার করছি এ মুহূর্তে। আসলে আমার নিজের ভাবনা না এগুলা। প্রচলিত নানা মতামতের মধ্যে যেগুলা আমার ভালো লাগে , যেগুলা গ্রহণ করেছি আর বিশ্বাস অরি সেগুলা নিম্নরূপ:

কবিতায় একটা ‘অধরা’ ভাব থাকতে হবে। যেটাকে কেউ কেউ বলেন ‘রহস্য’, একটু বিপন্ন বোধ করানোর ক্ষমতা। কবিতার পুরাটা যেন ধরতে পারা যাচ্ছে না, অথচ ‘কী যেন একটা আছে’ – এই ভাব-টাই কবিতাকে কবিতা করে তোলে। টেকনিকালি বলতে গেলে, (এটা নিয়ে এভাবে রবীন্দ্রনাথও কিছুটা বলেছিলেন), মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য যে কথা বা ভাষা – সে ভাষা মানুষের সূক্ষ্মতম যোগাযোগের চাহিদাটা নিবৃত্ত করতে পারে না। অর্থাৎ মানুষের আরও কিছু আছে বলার, বোঝাবার, জানাবার, আরেকজনের সাথে শেয়ার করার যা কিনা আমরা মুখের ভাষায়, সাধারণ লিখিত ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না। আর সে প্রয়োজনেই আমাদের নানারকমের শিল্পকর্মের সৃষ্টি। সুতরাং  কবিতা এক ধরণের যোগাযোগের মাধ্যমও বটে। সূক্ষ্মতর যোগাযোগ।  এটা দিয়ে একজন লেখক অপ্রকাশ্য একটা অনুভূতি বা ভাবনার প্রকাশ ঘটান, আর পাঠক/পাঠিকাও তার ভিতরে খুঁজে পান সেরকম একটা অভিজ্ঞতার উপস্থিতি। তিনি বুঝে পান যে – এই ভাবনা।অনুভূতি/মানসিক অবস্থা কেবল তার একারই না। অন্য মানুষও আছে। এই অব্যক্ত ভাষা খুঁজে পাবার কারণেই একজন পাঠক আনন্দিত হয়ে ওঠেন। কবিতা মানুষের সাথে মানুষের মেলবন্ধনও ঘটায় বটে এই অর্থে।

এসব ছাড়াও সাধারণ কিছু ভাবনা-ধারা আমি ফলো করতে চাই। যেমন :
১) বহুল-চর্চিত ক্লিশে শব্দ, প্রকাশভঙ্গী অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। আমাদের অনুভূতিগুলো ঘুরে ফিরে হয়ত একটা সীমার মধ্যে থাকে, কিন্তু আমাদের ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও সময়কাল ভিন্ন। কবিকে অবশ্যই নতুন নতুন প্রকাশভঙ্গী খুঁজে বের করতে হবে। নিজের মত করে বলতে পারতে হবে। অন্য কারো মত না। ‘কবিতা অনেক রকমের’।

২) ছন্দ নিয়ে অতি আগ্রহ আমার নাই আবার বৈরাগ্য / বিদ্বেষ-ও নাই। ছন্দ কে অনেকেই স্রেফ ‘হাতিয়ার’ এর চাইতে অনেক বড় মনে করেন, তবে আমার কাছে ছন্দ একটা হাতিয়ারের মতই। মাঝে মাঝে কৌতূহল থেকে এটা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। তবে ছন্দ ছাড়া কবিতা হবে না – এটা বিশ্বাস করিনা।

৩) কবিকে কবিতার উপকরণ নিতে হবে চারপাশের পরিবেশ থেকেই। নিজের পড়াশুনা থেকে, নিজের সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে। খুব স্থূল ভাবে বলতে গেলে, নগরের কবি নগরের উপকরণ নিয়েই লিখবেন, এখন সে যদি গ্রামে না গিয়েও গ্রামের নানা উপকরণ নিয়ে লেখার চেষ্টা করেন – সেটা খুব একটা সফল কিছু হবেনা। আবার, গ্রামকে নিয়ে যদি লিখতে হয়, তাহলে গ্রামকে দেখবেন তিনি নগরের চোখেই। এই সততার দরকার আছে। ঠিক একই ভাবে একজন গ্রামাগত কবি – নগরকে দেখবেন তার নিজের বেড়ে ওঠা চোখ দিয়েই। একই সূত্রে ফেলে অপ্রচলিত পুরানো বাংলা শব্দ কবিতায় ব্যবহার করার পক্ষপাতী নই আমি। যেহেতু তার প্রচলন নেই চারপাশে।

৪) কবিতা বোঝার বিষয় নয়।। অনুভবের। কিছু মাত্রায় তা বোঝারও বটে, তবে শেষ পর্যন্ত যা বোঝা যাবে তা সাদামাটা যৌক্তিক কিছু হবে বলে মনে হয় না। কবিতা পড়ে বোঝার জন্য, অনুভব করার জন্য পাঠকেরও নানা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। একটা কবিতা একজন পাঠককে সব সময় ধরা দেবেনা। হয়ত আজ দিল না – কিন্তু দশ বছর পর কবিতাটা তার মধ্যে বিস্তৃত হয়ে ডালপালা ছড়াতে পারে। পৃথিবীর অনেক শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম-ও এরকম। হঠাৎ করে ধরা দেয় না।

৫) বাংলা ভাষার বাইরে কবিতা নিয়ে অনেক অনেক রকমের কাজ হয়েছে। মাল্টিডাইমেনশনাল। সেই তুলনায় আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় আমরা, সামগ্রিকভাবে, সম্ভবত অনেক পিছিয়ে আছি। পাঠকেরাও অভ্যস্ত নন। লিখিয়েরাও নন। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ভালো বা অন্যধরণের লেখা চারপাশে ছড়িয়ে দেবার মত প্রকাশনা / পত্রিকা মিডিয়া গড়ে উঠতে পারেনি।

এতটুকুই কিছু ভাবনা এমুহূর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।

 

রাদ আহমদের কবিতা : অপরিচিতকরণের ঘোর-লাগা বয়ান > মাসুদুজ্জামান

খুব সহজ আর পরিচিত বিষয়আশয় নিয়ে কবিতা লেখেন রাদ। কিন্তু তা-ই আবার একধরনের অপরিচয়ের রহস্য নিয়ে হাজির হয় পাঠকের সামনে। রাদের কবিতার প্রতি আমার আকর্ষণ তাই দুর্মর। আমি পড়ি আর বিস্মিত হই, কোনো ঘোরপ্যাচ নেই, অভিনব করবার চেষ্টা নেই, কিন্তু রাদ এমনভাবে কথা বলেন যেন তা মনে ও মননে গেঁথে যায়। এই ধরনের কবিতা লেখা সহজ নয়। এমন অনেক কবি আছেন, যারা কবিতা লিখতে গেলেই এমনভাবে লেখেন যেন অবধারিতভাবে কাব্যিক অলঙ্কার এসে ভর করে তার কবিতায়। রাদ তার বলবাব কথাকে এমন করে বলেন না। নির্ভার কিন্তু ঋজু আর মর্মভেদী একটা শৈলী আছে রাদের, যেন আলতো করে শব্দ আর ভাবচ্ছবিকে তিনি হালকা পালকের মতো বাতাসে ভাসিয়ে দেন। পালকগুলি ভাসতে ভাসতে একত্রিত হয়ে একটা চমৎকার পাখি হয়ে উড়তে শুরু করে। রাদ নিজেই বলেছেন, তিনি কবিতার বিষয় অলৌকিক কোনো স্বপ্নক্পনার জগৎ থেকে ধার করেন না। তার চারপাশের চো জগৎই তার কবিতা। দু-একটা দৃষ্টান্ত দিই। প্রথম কবিতার শুরুটাই দেখুন কেমন :
অলস কাকেরা দুপুর আড়াইটায় মুখ জড়াজড়ি করে – একজন তেহারি দোকানদার

মুছে নিল তার হাতা – রঙ জ্বলে যাওয়া মেরুন শার্ট

 

সবকিছু সুন্দর – ওই দেখ অলস গৃহিণী কাজে না যাওয়া স্বামীর হাতে

রাজি হয়ে যায় – সন্তান খুলে বসে খাতা – লাইন দেখে যায় আর গরম

 

গরম পড়েছে রিকশাওয়ালার মলিন গেঞ্জিতে ঘামছে একজন মফস্বলাগত

যুবক দোকানদার মনে মনে ভাবছে এবার আচরণে অল্প-স্বল্প টাউটেপনার

আমদানি করলে খারাপ হয়না – খারাপ হয়না

 

কাক, তেহারি দোকানদার, স্বামীর দিবাভিসার, সন্তানের পড়তে বসা, রিকশাওয়ালার ঘর্মাক্ত ছবি আর মফস্বলের দোকানদারের টাউট হওয়ার বাসনা- সবই কত চেনা। কিন্তু এভাবেই কবিতাটা নানান অনুষঙ্গ দিয়ে গড়ে তুলছেন রাদ। আর শেষ বাক্যটায় পাঠককে নিয়ে যাচ্ছেন কবিতার ভেতরে, মর্মে।

দ্বিতীয় কবিতার শুরুটাও েএমনি :

সু মলিন ভাবে উচ্চারণ কর বৃষ্টি – এমনভাবে

যেন হারাবার কিছু নাই যেন পুরানো ঢাকার

আইজুদ্দিন এলাকার লোকটাকে তুমি গিলে ফেলেছ – হজম করতে

পারছ না আর

এরপর একইভাবে কবিতার সমাপ্তি টানছেন রাদ।

পরের কবিতার শুরুর ছবিটার কথা ভাবুন :

ছাইবর্ণ এলিফ্যান্ট রোড নিঃসঙ্গ প্রৌঢ়ের মত পিছে পিছে হাঁটে

ব্যাঙ্কের কাউন্টারে মেয়েটার কানে দুল

খুবই চেনা ছবি, কিন্তু এই ছবি সবাই কবিতায় দেখাতে পারে কি, এমন করে? এরকম খুব অন্তরঙ্গ ছবির মধ্য দিয়ে কবিতাকে পাঠকের মনে গেঁথে দিতে পারেন রাদ :

টিপ পরনি আয়না জুড়ে ফুটে উঠনি যে অবয়ব

চলতে গিয়ে ছলকে ওঠা বালতি ভরে জিয়ল মাছ পুষে রেখেছ

কচুরিপানা দিয়ে ঢেকেছ বালতি টা

ছলাৎ ছলে পুরানা যে রাস্তাটা এই

মহাখালীকে খালি করেছ ঝিলের মাথা দু ভাগ হলে

একভাগকে পিঠা বানিয়ে অন্য ভাগে

আস্তে করে জমেছে পিঁপড়াদের খেলা

চেনা ছবি কিন্তু শেষের পঙক্তিগুলোর মাধ্যমে তিনি পাঠককে নিয়ে গেলেন অচেনা আরেক পৃথিবীতে। রাদের কবিতাগুলি পড়তে পড়তে তাই একধরনের সম্মোহন জাগে। ঘোর লাগে। পাঠক, রাদের কবিতার এই লাইনটা দেখুন :

(১) পেন্সিলের তীক্ষ্ণ টানে আঁকা কর্মজীবী মানুষ

(২) তির্যক আলোর মত ক্রন্দন

(৩) চকিত ক্ষরণে যখন তার মুখটা আঁকা হল

(৪) আরেকটু ঢেলে দাও মাথাটা – আরেকটু – অসমাপিকা ক্রিয়ারা ঘুরে যাক

কমলা বাচ্চাদের মত গান গাক রাস্তার দুই পার্শ্বে – তোমাকে

কত চেনা অনুষঙ্গ কিন্তু কী দারুণ সব শব্দগ্রন্থনা। রাদের কবিতা তাই অন্যদের চাইতে আলাদা। স্বর, দৃশ্যরূপ, ভাবচ্ছবি- অন্যরকম, নিজস্ব। রাদ তাই আমার মতে এই সময়ের একজন উল্লেখযোগ্য কবি। রাদের জন্য শুভকামনা।

ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০১৭

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close