Home গদ্যসমগ্র প্রবন্ধ রাসেল রায়হান > বাংলা কবিতার এই সময়ের প্রবণতা : তুমুল বোধের বিস্ফোরণ >> প্রবন্ধ

রাসেল রায়হান > বাংলা কবিতার এই সময়ের প্রবণতা : তুমুল বোধের বিস্ফোরণ >> প্রবন্ধ

প্রকাশঃ February 10, 2018

রাসেল রায়হান > বাংলা কবিতার এই সময়ের প্রবণতা : তুমুল বোধের বিস্ফোরণ >> প্রবন্ধ
0
0

রাসেল রায়হান > বাংলা কবিতার এই সময়ের প্রবণতা : তুমুল বোধের বিস্ফোরণ >> প্রবন্ধ

 

বাংলা কবিতার সাম্প্রতিক সময়ে আসার আগে সামান্যক্ষণ পেছন থেকে ঘুরে আসব। হাজার বছর আগের বৌদ্ধ দোহা সংকলন চর্যাপদ থেকে শুরু করা যায়, যার সঙ্গে পরবর্তীতে মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাগান সংযুক্ত করে গ্রন্থ সম্পাদনা করেন : ‘হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোহা।’ খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে লেখা এগুলো। তারপর দেড়শ বছর বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ। পঞ্চদশ-ষোড়শ শতকে বৈষ্ণব সাহিত্যের বিকাশ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, বিদ্যাপতি পদাবলী ইত্যাদি ইত্যাদি। দীর্ঘ লাফ দিয়ে যদি বাংলা কবিতার আধুনিক সময়ে আসি, তাহলে শুরুতেই আসবে মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম। মাইকেল যেটা করেছিলেন, যেহেতু তিনি ইংরেজিটা জানতেন (জানতেন না বলে আত্মস্থ করতে পেরেছিলেন বলা যায়, যেটা সাহিত্যের যেকোনো শাখায় কাজ করার জন্য জরুরি), ফলে পাশ্চাত্য সাহিত্যের গলিঘুপচি তার হাতের বাইরে ছিল বলার উপায় নেই, এবং তিনি বাংলা কবিতাকে এক ধাক্কায় নিয়ে আসলেন অনন্ত আলোর সামনে। এক মাইকেলই বাংলা কবিতাকে শিশু-অবস্থা থেকে যৌবনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসেন। এই আধুনিকতাকে ঠিক পাশ্চাত্যের শেখানো আধুনিকতা বলব না, এটা বাংলা কবিতার প্রেক্ষিতেই চরম আধুনিক ছিল। এক্ষেত্রে মেঘনাদবধ কাব্যকে সামনে একারণে আনব যে এই কাব্যে মাইকেল শিখিয়েছিলেন, কীভাবে দেখা যায়, কীভাবে দেখতে হয় একজন কবিকে। একই প্রেক্ষাপটেও যে অর্ধেক শূন্য গ্লাসের বিপরীতে অর্ধেক ভরা গ্লাসও দেখা যায়, এবং সেটাই সাহিত্যকে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে, মেঘনাদবধ কাব্যের চেয়ে ভালো উদাহরণ খুব কমই আছে। এরপরে দীর্ঘ মহীরুহ রবীন্দ্রনাথ। তার সম্পর্কে এবং নজরুল সম্পর্কে আলাদা বলাটা এখানে সময়-নষ্টের শামিল হবে। একটা উদাহরণে নজরুলকে আনা যায় বরং, সেটা আনছি।
বাংলা কবিতা সত্যিকারের আধুনিক এবং যৌবনপ্রাপ্ত হয় তিরিশে। পঞ্চপাণ্ডবের উদাহরণ না টেনে শুধু জীবনানন্দকে টানব। বাংলা কবিতার এই সময়ের রূপটা যতই আলাদা হোক সেটি জীবনানন্দবাহিত। একই সময়ে জন্ম, মোটামুটি কাছাকাছি প্রেক্ষাপট, পরিবেশে বড় হয়েও নজরুল হয়ে উঠেছিলেন তখনকার তারকা, আর জীবনানন্দ ছিলেন উজ্জ্বল এক দীপশিখার মতো, যার সামনে ছিল হাজার দেয়াল; সৌভাগ্যক্রমে দেখার চোখসম্পন্ন, এবং একই সাথে সামনে দেয়াল ছিল না বুদ্ধদেব বসুর। ফলে জীবনানন্দ অন্তত লুকায়িত থাকেননি। মজার ব্যাপার হলো আজ জীবনবাবুও উজ্জ্বল জ্যেতিষ্ক। এবং তার প্রভাব সুদীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের কাছে কাজী নজরুল ইসলামের থেকে সহস্রগুণ উজ্জ্বল এই মুহূর্তে জীবনানন্দ দাশ।
এরপর চল্লিশে সাম্যবাদী দর্শনের প্রভাব, সাতচল্লিশে দেশভাগের প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব, পঞ্চাশেও যার ঢেউ ছিল উঁচু এবং বহমান, সেই সাথে বাংলাদেশের কবিতায় ইসলামী জীবনাচারের প্রভাবে ইসলামী অনুষঙ্গ এবং শব্দ ব্যবহার; নগরায়নের প্রভাব তো আছেই…
এখান থেকে পুরোপুরি বাংলাদেশের কবিতায় চলে আসতে পারি। ষাটের দশকে এসে লিটলম্যাগ আন্দোলন, প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা, বুর্জোয়া শোষকগোষ্ঠীর ফুলে-ফেঁপে ওঠা, সেই সাথে তাদের প্রতি কবিদের সরাসরি বিরুদ্ধচারণ, একই সঙ্গে তুমুল প্রেম ও শেকড় অন্বেষণ। এরপর নতুন বাংলাদেশ, নতুন ভূমি, স্বাধীনতা, রাজনীতিতে প্রবল উত্থানপতন- সবকিছুর প্রভাব একসাথে পড়তে শুরু করল সত্তরে। ফলে ভালো কবিতা হলেও এবং সেগুলি জনমানুষকে স্পর্শ ও সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হলেও অস্থিরতা ছিল। প্রবল অস্থিরতা ছিল। কত কত শক্তিশালী কবি থাকার পরেও সত্তর এক অর্থে কুয়াশাচ্ছন্ন সময়। এরপর আশি। একটি দল আগের কবিতাকে অনাধুনিক মেনে ছুটতে শুরু করল আধুনিকতার লক্ষ্যে। কবিতার জন্য জীবন দেওয়ার শপথ নিয়েই যেন নামল। এর আগ পর্যন্ত কবিতায় কখনো ছন্দকে গৌণ মনে করা হয়নি। আশি থেকেই শুরু হলো ছন্দকে অস্বীকার করার একটা প্রবণতা। সম্ভবত এটিই অন্যতম কারণ, সেই সাথে নিরীক্ষা আর নিরীক্ষার কাটাকুটি কবিতাকে এনে দিল নতুন এক রূপ। কিন্তু কবিতা সরে গেল গণমানুষ থেকে। কবিরা সর্বত্রই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বলতে শুরু করল, পাঠক কেউ না। নিজের জন্য লেখাই আসল। তাদের সেই কথার সাথে পাঠকও যেন সুর মেলাল। তারাও সরে গেল কবিতা থেকে।
একদিকে কবিতায় চলতে থাকল নিরীক্ষা, অন্যদিকে পাঠক সরতে থাকল কবিতা থেকে যোজন যোজন দূরে। এরপর নব্বইয়ের কবিরা। অনেক উজ্জ্বল এবং শক্তিশালী কবি আছে, যারা স্রেফ আশির ধারাবাহিকতা বাহিত, কিন্তু নিজেদের খুব বেশি আলাদা করতে পারেননি নব্বইয়ের অধিকাংশ কবিই। এর বড় একটা কারণ হয়তো ছিল মুখ ফিরিয়ে নেওয়া পাঠক দেখে হতাশা। একই সাথে তারা নিরীক্ষার লোভও সামলাতে পারেননি, পাঠকের দূরে যাওয়াও সহ্য করতে পারেননি। সৌভাগ্যের বিষয়, এরপরেও ২-৩ জন প্রভাবশালী কবি পাওয়া যায় এই দশকে।
এরপর শূন্য, কিংবা দশকের প্রথম ভাগ। নতুন এক শতাব্দী, বৃহদার্থে সহস্রাব্দ। নতুন পৃথিবী। ইন্টারনেটের তুমুল ব্যবহার। সারা পৃথিবী মুহূর্তের মধ্যে হাতের মুঠোয়। সম্ভবত এর ফলেই এ দশকে এসে তুমুল ভর করে পরাবাস্তবতার ভূত। ছন্দ এর মধ্যে মোটামুটি লোপ পেয়ে গেছে। যা সামান্য পাওয়া যায়, সেটা ছন্দের ফসিল। বেশিরভাগ কবিই ভুলভাল ছন্দ ব্যবহার করে। পরাবাস্তবতাও এতটাই পরাবাস্তব যে বাস্তবের কাছাকাছি কিংবা বাস্তবের সঙ্গে কোনোরূপ সংশ্লিষ্ট তো নয়ই, রূপকথাকেও হার মানাতে শুরু করল সব। রূপকথাকে হার মানানো সমস্যা নয়, সত্যিকার অর্থে কবিতার জন্য কোনো বাঁধা-ধরা নিয়ম আছে বলে মনেই করি না আমি, তবু কিছু পরোক্ষ এবং কোমল নিয়ম থাকেও। শূন্যের সমস্যা হলো তাদের কবিতার বেশিরভাগই পাঠক বুঝতে পারে না। তারচেয়েও বড় সমস্যা, কবি নিজেই বুঝতে পারে না। স্বাধীনতার স্রেফ অপব্যবহার। দুয়েকটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে মোটামুটি চিত্রটি এমনই। অবশ্য হুট করে এক নতুন পৃথিবী সামনে এসে দাঁড়ালে কিছুটা ভজকট লাগা অস্বাভাবিকও নয়।
সেখান থেকে নতুন দশক। দ্বিতীয় দশক। এই দশকে নতুন প্রজন্ম এসেছে। নতুন পৃথিবীতে তারা অভ্যস্ত। এটা হয়ে গেল নতুন একটা প্লাস পয়েন্ট। পরাবাস্তবতা গলায় লাগাম পরাতে সক্ষম হলো তারা। অন্তত লাগামটি লাগানোর এবং টেনে ধরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। ছন্দ প্রয়োজন কি প্রয়োজনীয় নয় সেই নিয়ে নতুন করে শুরু হলো তর্ক। এই তর্কই বলে দেয়, তারা আবার ছন্দের প্রয়োজনীয়তা টের পাচ্ছে। অন্তত সরাসরি অস্বীকার করবে কি না, সেই সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হচ্ছে। একই সাথে স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত আর অক্ষরবৃত্তের দিকে ঝুঁকে আসছে তরুণরা। আবার গলা ফাটাচ্ছে, ছন্দের কোনো প্রয়োজনীয়তাই নেই। চমৎকার সব কবিতাও লিখে চলছে ছন্দে। দেখা গেল, শুধু এই কটি ছন্দই নয়, তারা খেলা করছে সংস্কৃতের জটিল জটিল সব ছন্দ নিয়ে।
এতসবের মধ্যে যে বিষয়টি সামনে চলে আসলো, সেটি হলো, তারা কবিতায় বোধ নিয়ে ভাবতে আরম্ভ করল। একটি বিশাল শ্রেণির কবিতায় ভাষার ব্যবহার, শব্দের ব্যবহারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল কবিতার বোধ। এটিই আলাদা একটি জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেবার সম্ভাবনার সামনে দাঁড় করিয়ে দিল তাদের।
এই সময়ে এসে এখনো বই আসেনি, এমন একটি মেয়ে লিখছে, ‘কেবলমাত্র গর্ভবতীরাই জগতে সবচাইতে উদার।/ যেহেতু তাদের দুটি হৃদয়- / বুকে আর তলপেটে।’
মাত্র বছর দশেক আগেও যে ভাষা আর শব্দের ব্যবহার নিয়ে মাতামাতি ছিল, সেখানে এই সময়ের বড় একটা অংশ ভাবছে : ভাষা সাবলীল বিষয়, নিজের জায়গা নিজেই দখল করবে। শব্দও নিজেকে নিয়ে ভাবতে পারে। নতুন কোনো স্বাদ, নতুন ভারমুক্তি যদি কেউ দিতে পারে, সেটা নতুন নতুন বোধ, চিন্তা-ভাবনা।
এই দশকে মানুষ বেশ কিছু ট্যাবু দিয়েও বের হতে পারছে। আমাদের বড় একটি অংশে যে ধর্ম বিষয়টি এক ধরনের ভয়ের ব্যাপার হয়ে ছিল, সেটিকেও তারা ব্যবহার করতে লাগল বুদ্ধিমত্তার সাথে। কোনো আক্রমণ নয়, আঁকড়ে ধরাও নয়, স্রেফ ব্যবহার। ইসরাফিলকে ইঙ্গিত করে একজন লিখছে, ‘…দূরে এক কোণে,ভাঙা চেয়ারে,/ ছাইরঙা জামা পরে সতর্ক হয়ে বসে আছে/ একজন অন্ধ মানুষ,/ ডান হাতে শিঙা;- / ব্যাকুলতার অধিক অহম তার থেকে আর কার থাকতে পারে!’
রাজনীতি তাদের ভাবায়, তারা সেটা বলে আড়াল করে। ক্ষুধা তাদের কষ্ট দেয়, তারা সেটা বলে আড়াল করে। প্রেম তাদের সংক্রামিত করে, তারা সেটা বলে আড়াল করে। বেদনা তাদের পোড়ায়, তারা সেটাও বলে আড়াল করে। কিন্তু এই আড়ালের মাঝখানে তারা কোনো পুরু দেয়াল রাখে না। রাখে পর্দা। ফলে একটু গভীরভাবে তাকালেই টের পাওয়া যায় ভেতরের শরীর। ঠিক টের পাওয়াই না, আবিষ্কার করা যায়। অনেকের কবিতা পাঠ করেই পাঠক পাবে আবিষ্কারের আনন্দ। হয় পঙক্তি মনে রাখতে বাধ্য হবে, নয় আইডিয়াটি।
পাঠক বহুদিন কবিতা থেকে সরে ছিল, কিন্তু কবিদের যেহেতু ধারাবাহিকতায় ব্যত্যয় ঘটেনি, পরিশ্রমে, প্যাশনে ব্যত্যয় ঘটেনি, ফলে তারা সোজা হয়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। এটা দীর্ঘ ধারাবাহিকতারই ফসল। কিন্তু যেহেতু পাঠক এতদিন দূরে সরে ছিল, ফলে এই আবিষ্কারে তাদের বেশিরভাগই সক্ষম হচ্ছে না। তবু কেউ কেউ বুঝতে শুরু করেছে। সেটা বাড়বে। কেউ যখন পুরো কবিতায় কোথাও বঙ্গবন্ধু শব্দ ব্যবহার না করেও লেখে, ‘আমরা সযত্নে রেখেছি গুছিয়ে আপনার তর্জনীর দাপট!’ বুঝতে সমস্যা হয় না যে এটা বঙ্গবন্ধুকেই বলা।
আরও দুটি উদাহরণ টানতে পারি।‘মৃত মানুষের হাতেও ছড়িয়ে আছে আয়ুরেখা। তুমি সেই পথ ধরে ফিরে এসো।’ কিংবা ‘আমি শত শত পথ দূরে থেকেও …শুনতে পাই, মা আমাকে কখন কী বলছেন।/ যেমন করে শত শব্দের ভিড়েও বাসের ড্রাইভার-/ হেলপারের কথা শুনতে পায়।’
অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে। অনেক!
সেদিন এক বন্ধুর একটি লাইটার নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলাম, ব্লু লাইটার। দশ টাকা দাম। সিগারেট ধরাতে গেলে দেখা যায় দশমিক শূন্য শূন্য তিন টাকার গ্যাস পোড়াচ্ছে। সবটাই স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক হয়ে ধরা দিল, আগুন জ্বলার প্রক্রিয়াটি। এটি সহজ নয়। একই সাথে পাথরে ঘসা খেতে হবে, সেই মুহূর্তেই বের হয়ে আসতে হবে গ্যাস, এবং কিছুক্ষণ চেপে ধরে রাখতে হবে পেছনের কালো সুইচটা। এতকিছু একসাথে ঘটালেই সিগারেট ধরানো যাবে। আবার প্রতি ঘসায় পাথর ক্ষয় হতে থাকে। তবু যাতে ঠিকমতো ঘসা খায়, এজন্য পাথরের নিচে থাকে একটি স্প্রিং, যেটি অনবরত পাথরটিকে উপরের দিকে ঠেলে রাখে। এই জটিল আইডিয়াটিই কবিতা। এর মূল্য দশ টাকা নয়, সঠিক বোদ্ধার কাছে দশ লক্ষ টাকা।
এই সময়ের কবিতায় এমন একেকটি নতুন নতুন লাইটার মেলে। মজার বিষয় হলো, একেক লাইটার থেকে একেক রঙের আগুন বের হয়।
কেন এই সময়েই এমনটা ঘটছে? আমিও এই সময়ে লিখছি বলেই কি এই সময়টিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে উপস্থাপন করছি? মোটেই তা নয়। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, এই সময়ে এসে আজ যা লেখা হচ্ছে, সেটা পূর্ববর্তী কবিদেরই ধারাবাহিকতা। পূর্ববর্তী কবিগণ যদি বাংলা সাহিত্যকে ৩১ ধাপ এগিয়ে এনে থাকেন, সমকালীন কবিগণ সেটাকে ৩২তম ধাপে উন্নীত করেছেন।
সত্যি কথা হলো, এই সময়ে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের শিল্প আমাদের নখদর্পনে, সাহিত্য নখদর্পনে। ফলে জীবনানন্দ ‘টু হেলেন’ থেকে ‘বনলতা সেন’ লিখে বেঁচে গেলেও এই সময়ের কবিদের বাঁচার উপায় নেই। শুধু বানানো কবিতা লিখেও এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কারণ পাঠকের সামনে বৈচিত্র্যময় এক জগত, ব্যাপক-বিশাল এক সম্ভার এবং সেটা সহজলভ্যও। চাইলেই যে কাউকে ছুঁড়ে ফেলতে পারবেন, চাইলেই বুকে নিতে পারবেন। বিস্তর জগত মুহূর্তের মধ্যেই সামনে। ফলে টিকে থাকার স্বার্থেই কবিদের অনেকটা অভিযোজিত হতে হয়েছে। বিভিন্নভাবে আলাদা হওয়ার চেষ্টা করতে হয়েছে। আর এই আলাদাত্বটুকু কোনো অভিজ্ঞতার প্রয়োগ যতটা না দিতে পারবে, তারচেয়ে বেশি পারবে কল্পনার প্রয়োগ। নতুন কল্পনার প্রয়োগ। কবিতা আর ম্যাজিক নেই যে হাত ও কব্জির খেলা দেখিয়ে বেঁচে যাওয়া যাবে। কবিতা এখন, এই সময়ে মন্ত্রের খেলা। নতুন নতুন মন্ত্রে নতুন নতুন দৃশ্য, নতুন বস্তু, নতুন আনন্দ, নতুন স্বপ্ন। নতুন জীবনও।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close