Home ছোটগল্প রুখসানা কাজল > হে প্রেম অন্যদেশ >> ছোটগল্প

রুখসানা কাজল > হে প্রেম অন্যদেশ >> ছোটগল্প

প্রকাশঃ November 30, 2017

রুখসানা কাজল > হে প্রেম অন্যদেশ >> ছোটগল্প
0
0

রুখসানা কাজল > হে প্রেম হে অন্যদেশ >> ছোটগল্প
এসএমএসটা পড়েই রাগ ধরে যায় রুমকির। রাগের চোটে প্রথমেই ভাবে, অসম্ভব! কিছুতেই ও যাবে না। থাক পড়ে রুপুর জন্মদিন।
অসহ্য লাগে এদের সঙ্গ।
অশুদ্ধ উচ্চারণে দুজন পুরুষের অনবরত ফিজিক্যাল ইয়ার্কি আর ছুঁকছুঁক কাঁহাতক সহ্য করা যায় ! রুপু অবশ্য খুব তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে কিন্তু রুমকির গা জ্বলে যায় ঘেন্নায়। ধ্যুত যাবে না ও। পরে স্যরি টরি বলে ভাল কিছু গিফট দিয়ে দিবে।
রাগ ফেলে কনকর্ডের উপর নীচ চষে ফেলে রুমকি। কদিন ধরেই শক্তি খুব টানছে। ঘরে একটিও শক্তি চট্টোপাধ্যয়ের বই নেই। দশম আশ্চর্যের ব্যাপার কনকর্ডের কোনো দোকানেও একটুকরো শক্তি খুঁজে পায় না ও। অথচ মগজের কূয়োর ভেতর আজ কদিন ধরেই ঘুরে বেড়াচ্ছে “হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য”।
বুকের ভেতর যখন তখন তুমুল বৃষ্টি নামাচ্ছে মন খারাপের কালো মেঘেরা। ভারী ব্যাপক কষ্টের সেই রক্তবৃষ্টি। রুমকির খুব কষ্ট হচ্ছে।
অকাল বর্ষায় কৃষকের ফসল ভেসে যাওয়ার কষ্ট, নিরন্ন ভাতের হাঁড়ির শূন্য বুকের কষ্টের মত বুক ভেঙে কান্না আসছে। কেবলই মনে পড়ে যাচ্ছে আদিত্যকে। চাপ চাপ বিস্মৃতি ঠেলে স্পষ্ট হয়ে উঠছে আদিত্যের স্পর্শ, ঝগড়া, বিচ্ছেদ, সুখের টুকরো টুকরো আলোছায়া।
পায়ে পায়ে সিঁড়ি ভাঙে রুমকি । নীচের দোকানগুলো আবার দেখবে একবার । ভেতরের কষ্ট ছড়িয়ে পড়ছে শরীরে। যেন যন্ত্রণার ঢেউ পেরুচ্ছে এভাবে তিনটে সিঁড়ি নেমে আবার উঠে আসে কাক প্রকাশনীতে। সাদা কবুতরের মত মেয়েটি হিসাব মেলাচ্ছিল। রুমকিকে দেখে হেসে ফেলে। ফিঙ্গের মত পনিটেল নেড়ে জানায়, আপু সবাই একুশ নিয়ে ব্যস্ত । শক্তি চাইলে আপনাকে কষ্ট করে আজিজে যেতে হবে।
রাগের ভোল বদলে যায় মেয়েটির চমৎকার সাজানো দাঁত দেখে । দুপাশের ড্রাকুলা দাঁতদুটি ঝকঝক করছে। আদিত্য বলত ড্রাকুলা সুন্দরি। কখনো ক্ষেপাতো কখনোবা খুব স্বাভাবিক সুরেই রুমকিকে বলত, বোতামটা লাগিয়ে দাও তো ড্রাকুলা সুন্দরি !
ভীষণ পছন্দের ছিল রুমকির গজদাঁত দুটো! ধারও ছিল অসম্ভব। অনায়াসে কুট করে কেটে ফেলতে পারত কাগজ সুতো, কাপড়, চিপ্‌স চকোলেটের প্যাকেট আদিত্যর মাখন মাখন বুকের জমিন। রেগে গেলে কি শীৎকারে এই দাঁত ছিল রুমকির মোহন অস্ত্র।
বুকের কোথাও মেঘ ভেঙে পড়ার শব্দ হয়।
অসাবধান হাতের ধাক্কায় কতগুলো লিটল ম্যাগ ঝাপটে পড়ে যায় কার্পেট বিছানো ফ্লোরে। রুমকি বিব্রত হাসে। ম্যাগগুলো গুছিয়ে তুলে লজ্জা পেয়ে বলে, স্যরি পায়রাবতী !
লিটল ম্যাগে কবিতা দেওয়ার সুতো ধরেই তো আদিত্য এসেছিল ওর জীবনে। ছন্দ বুঝতে বুঝতে কখন যেন মিলে গেছিল দুজন।
ভাবসাব দেখে রুপু অবশ্য আগেই সাবধান করেছিল, শোন রুমকি তোকে তো ভাল করেই চিনি। হ্যাংলা প্রেমে তোর খুব আগ্রহ। আদিত্যদের কিন্তু দিন আনে দিন খায় অবস্থা। টাকা নাই তো প্রেম নাই কথাটি মনে রাখিস মনা।
আহা দিন আনে দিন খায়! তারপরেও এমন লেখা ! রুমকি রুপুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, আদিত্যকে আমার চাই ই চাই। আমাকে পিছু ডাকিস না সোনা।
ভেবেছিল আমার তো আছেই সবকিছু। ব্যাংকে টাকা, সাজানো ফ্ল্যাট, এমনকি কাজের লোকের বেতন পর্যন্ত রুমকি দিয়ে দেবে। আদিত্য শুধু লিখবে। চাঁদ দেখবে। ফুল পাড়বে। কফির কাপে সিগ্রেটের বাতিল জমিয়ে রাখলেও রুমকি কিছু বলবে না।
গভীর ভালবাসায় আদিত্যকে জড়িয়ে নিয়েছিল ও। কোন অভাবই সে রাখবে না আদিত্যের । আদিত্য কেবল লিখবে আর লিখবে।
লিটল ম্যাগগুলো দেখতে দেখতে মনে মনে নিজেকে বকে রুমকি, কি কেমন লাগে এখন? জীবন অত সোজা নয় মনা! মাঝে মাঝে বিষ নাগিনী হয়ে ওঠে জীবন। তখন কেবল ছোবল।
সম্পর্ক চুকে যাওয়ার পর রাগে দুঃখে আবেগে ভাজাপোড়া হয়ে বইগুলো ফেলে দিয়েছিল রুমকি। বইগুলোতে ওদের দুজনের নাম লেখা ছিল, রুমকিকে আদিত্য , আদিত্যকে রুমকি।
আদিত্য চলে গেলে ফাঁকা ঘরে রুমকির খুব একটা খারাপ লাগেনি। সবকিছুই আছে। ঘরের কোণে মানুষ সমান ফ্রিজ, তার পাশে হামাগুঁড়ি দিয়ে বসে আছে আরো একটি সাদা ডীপ ফ্রিজ। আদিত্য অবাক হয়ে গেছিল যেদিন রুমকি এই ছোট্ট সাদা ফ্রিজটা কিনে আনে।
আমাদের তো একটা আছেই। আবার কিনলে যে ?
রুমকি শিশুর গায়ে পাউডার পাফ বুলানোর মত ফ্রিজটা মুছে নিচ্ছিল। হেসে জানায়, কত কাজে লাগবে তা জানো? রাত দুপুরে তোমার আর বরফ পেতে অসুবিধা হবেনা !
সেদিন ও ভাল করে তাকিয়ে দেখেনি আদিত্যের চোখ।
সে চোখে ছিল ব্যঙ্গ। তিরস্কার আর ঘৃণার ছিটেফোঁটা আভাস। এখন বোঝে বড় ভুল করে ফেলেছে সে। আদিত্য ঠিকই বলেছিল, বড়লোকদের উদ্বৃত্ত আনন্দে একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার খুব ভালভাবে সংসার খরচ নির্বাহ করতে পারে । কিন্তু তোমরা বড়লোকরা এটা জেনেও উদবৃত্ত সুখ আর আনন্দ খুঁজে বেড়াও। জীবনকে এত বেশি দাও যে বমি করে ফেলে জীবন।
চেঁচিয়ে ওঠেছিল রুমকি, তুমি কি টায়ার্ড আদি ? এই সামান্য ফ্রীজে তোমার বমি পাচ্ছে ? আসলে কি জানো, গরীবদের উন্নত জীবন ভালো লাগে না।
যাওয়ার সময় তেমন কিছুই নিয়ে যায়নি আদিত্য। রুমকি এটা সেটা অনেককিছুই দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সুটকেসের তালায় চাবি পরিয়ে আদিত্য বলেছিল, লাগবে না । আমি তো আমার বৃত্তেই ফিরে যাচ্ছি।
রুমকি পাগলের মতো ভেবেছিল, যাও যাও, ব্রান্ডেড জীবন তোমার মতো মানুষের ভাল লাগবে কেন? কুকুরের পেটে কি ঘি…
এখন মনে হচ্ছে বইগুলো থাকলে এমন কিছু ক্ষতি হত না ওর! আদিত্য! কয়েকটি অক্ষরেই তো কেবল নামটা লেখা ছিল!
কিন্তু বইগুলোর পাতা ওল্টালেই অক্ষরগুলো রক্ত মাংসের শরীর পেয়ে যেতো ! আর রি রি করে রাগ বেড়ে যেত রুমকির। আদিত্যকে তাই মুছে দিতে চেয়েছিল রুমকি।
স্মৃতি হিসেবে কিছুই রাখতে চায়নি ও। যতগুলো বইয়ে আদিত্যর নাম লেখা ছিল কিছু বিলিয়ে দিয়েছে বাকিটা ফেরিওয়ালা ডেকে বিক্রি করে সেই পয়সায় এস্প্রো কফি খেয়েছে। সাদা গোলাপি টিস্যু পেপারে ঠোঁট মুছতে মুছতে সে মুছে ফেলতে চেয়েছিল স্মৃতিময় সব চুমুর উষ্ণতা।
তবু কেন যে রাগে অভিমানে, ঘৃনায়, বিশ্বাস অবিশ্বাসে এখনো আদিত্য এসে দাঁড়ায়!
মাথা ঝাঁকায় রুমকি, হেট য়ু আদিত্য, দ্য ফাকার লুজার – মাই ফোট!
রুমকি এখনো মরে যায় নি। ভিসা পেলেই ও চলে যাবে এই নিরন্ন অভাবী দেশ ছেড়ে।
খুঁজে পেতে রিলকের কবিতা নিয়ে বেরুনো একটি ছোট পত্রিকা কিনে যখন বেরিয়ে আসছে নাকেমুখে নোংরা একজন বিখ্যাত কবি ইম্প্রেস করার চেষ্টা করে, শক্তি পেলেন ম্যাম ?
রুমকি মাথা নাড়ে। ইচ্ছা করে না ফিরে দেখার। গা গুলিয়ে ওঠে এদের দেখলে। বমি পায়। সাতদিন সাতরাত সাবান ঘষলেও এরা পরিষ্কার হবে না এ জন্মে। কবি কবি ভাব দেখাতে এরা কত রকমের ভাও যে ধরে! ভ্যাক! সরে আসে কিছু না বলে।
দেড় তলার ছাদে রক সর্দারের মতো এক টাকলা কবি পীর হয়ে বসে আছে। মোসাহেরা ধারা বর্ণনা করছে কনকর্ডে আগত বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকদের।। এই টাকলা কবি ক্ষণিকের আবেগে শক্তির বই দিতে চেয়ে বেমালুম ভুলে গেছে। পাশ কেটে চলে আসে ও। মোসাহেবদের পুরো কথা কানে আসে না। তবে আদিত্যের এক্স শব্দটা বুকে বাজে।
খুব ভাল লিখছে আদিত্য আজকাল। নাম ফুটছে চারদিকে।লিখতে বসে গ্রীন টিতে সদ্য ভাজা চাল ভিজিয়ে খেতে খুব ভালোবাসত আদিত্য। এখন কি খায়? নাকি সেই সরপড়া দুধ চা খেয়ে লিখতে বসে ও?
আজিজেই যাবে রুমকি। শক্তিকে তার চাই ই চাই। আজকেই। এখুনি। এই মূহূর্তেই।

আমাকে বিয়ে করতে পারবে রু আজ এখুনি? আদিত্যর চেক শার্টে চুঁইয়ে পড়ছে ধবল আমন্ত্রণ।
রুমকি হেসে লুটিয়ে পড়েছিল।
খুব হ্যাঁ। কি এমন শক্ত কাজ। বিয়েই তো মাত্র । চলুন। চলুন।
আদিত্য সিরিয়াস মুখ করে বলেছিল, গরিব হয়ে যাবে কিন্তু। এই যে রানী ফড়িঙয়ের মত রঙ্গিন উড়াল, ইচ্ছামত টাকা খরচ – পারবে না আর।
রুমকি আদিত্যর হাত ধরে বলেছিল, আমি গরিব হব আদিত্য। আমাকে গরীব করে নাও।
কনকর্ডের লাস্ট সিঁড়িতে হুমড়ি খেয়ে পড়েই যাচ্ছিল রুমকি। তিনবার জুতো খুলে গেল পা থেকে। কি যে মেঘ নামল মনে। সজল করে দিলো পথ ঘাট সমস্ত চরাচর।
এই সিঁড়িতে কেউ আছাড় খায়! আরিব্বাস! তাই তো বলি! কি হিল পরেছ মাইরি। এগুলো না পরলে চলে না? জানে ত সবাই তুমি লিমেরিক।
ব্যাগের বাড়ি মেরে মেরে আদিত্যকে নীচ পর্যন্ত ধেয়ে নিয়েছিল সেদিনের রুমকি। বিয়ের পর আদিত্য কিন্তু হাত ধরেই নামিয়েছে রুমকিকে। কখনো না পারলে দূর থেকে সাবধান করেছে, আস্তে !
আদিত্যর হাত ধরে সিঁড়ি ভাঙতে, রাস্তা পেরুতে, লম্বা পথে পা মেলাতে কী যে আনন্দ ছিল। ওর গায়ে সামান্য হেলান দিয়ে ঝালমুড়ি খেয়ে উহ আহ করা ! আজন্মের লতাগাছ রুমকি। জড়িয়ে মুড়িয়ে থাকতে ওর ভীষণ ভাল লাগে। আদিত্যের মাকে গিয়ে বলেছিল, চলুন না মা আমরা সবাই একসাথে থাকি?
সস্তা চায়ের কাপের মধ্যে একটি দামী কাপে খুব সাধারণ মানের চা ঢালতে ঢালতে আদিত্যের মা হেসে বলেছিল, নাগো মা। তোমরা ভাল থেকো। রুমকি সস্তা কাপ তুলে নিয়ে জিদ করেছিল, কেন হয় না ?
হায় হায় মাগো তুমি অই কাপ নিলে? রাখো রাখো। এটা নাও।
রুমকি ভালো কাপটা সরিয়ে দিয়ে বলেছিল, কেন আমাকে আলাদা ভাবেন মা? আমি কি আপনাদের কেউ নই?
আদিত্যের মা হেসে ফেলেছিল। সে হাসিতে সংকোচ ছিল। ছিল একরাশ দ্বিধা। রুমকি এখন বোঝে, ওরা কিছুতেই গরীবিয়ানার শিকলটা ভাঙতে চায়নি। কেনো চায়নি ? কিসের এত অহংকার অই টানাটানি দিন আনা দিনা খাওয়া সংসার জীবনে?
ও তুমি বুঝবে না—আদিত্যের কথার পিঠে রুমকি গুছিয়ে বসেছিল ডিভানে, বলেছিল, তুমি বোঝাও।
আদিত্য পারেনি বুঝাতে। ও যা বলে বোঝাতে চাইত, সেই কাগুজে কথাগুলো রুমকি জানে। কিন্তু তখনো জানত না রুমকি, আদিত্য নুয়ে যাচ্ছে, লেখা আসছে না, মাথার ভেতর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে লেখালেখির সব প্লট। এই তাবৎ স্বচ্ছলতার ভেতর আদিত্য দীনহীন হয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন!
রুমকি বুঝেছিল। অনেক পরে। দু চোখে প্রগাঢ় বেদনা নিয়ে আশ্চর্য অদ্ভুত স্বরে বলেছিল, আদিত্য তুমি চলে যাও।
হঠাৎ ?
ভুলটা আর দীর্ঘ নাইবা হল।
ক্ষতি কিন্তু তোমার হবে রু। আমি আনন্দের সাথেই চলে যেতে পারি। মেয়ে হিসেবে অনেকেই তোমাকে ছিঁড়বে।
রুমকি ভেতরে ভেতরে ক্ষেপে ওঠেছিল। ইচ্ছে করছিল বলে, তাই তোমার গলায় বেল্ট পরিয়ে রেখে দেব পাশে! কিছুই না বলে সমস্ত অপমান সহ্য করে আদিত্যের সব কিছু গুছিয়ে দিয়েছিল রুমকি, এসো আদিত্য। ভালো থেকো।
রুমকিতে আগে কাঁটা ছিল না। এখন কাঁটাযুক্ত কুঞ্জলতা রুমকি। ভালবেসে কেউ কাছে আসতে চাইলেই কাঁটাগুলো পটপটিয়ে বেরিয়ে পড়ে। আড়ালে অনেকেই বলে, মুডি। কি আছে এত মুড দেখানোর । একে তো ডিভোর্সী তায় একটি দুটি ছক্কাপাঞ্জা কবিতার বই! তার দেমাগে একেবারে কবি শামসুর রাহমান!
নীচতলায় সুন্দর করে সাজানো পরিচিত দোকানটিতে ঢুকে যায় রুমকি, শক্তি এনেছেন ? না নেই । তিনমাস ধরে বলেই যাচ্ছে ফুরিয়ে গেছে দিদি। এই ত আনব শিগগীর।
অনেকগুলো গালি দিতে দিতে বেরিয়ে আসে রুমকি। পাশ থেকে একজন লেখক প্রকাশক বন্ধু ফাজলামো করে, ও দিদি শক্তিতে কি পাবেন গো ? মদের জালা চাইলে আরো অন্নেক্কেই আছেএ এ—ন্নোতুন- পুরান্নো – হাতে গরম—চলবে?
রুমকি হেসে ফেলে – না রে আমার শক্তিই চাই।
দুষ্টুটা ত্যাদরামো করে, ওরে দিদিরে চা দে, চা দে। চেনি এট্টু বেশি ফেলিস। তিন সত্যি দিদি, এই শক্তিদাদার কসম, বড় শক্তিহীন নাগচে গো তোমারে!
রুমকি হেসে বেরিয়ে আসে। লম্বা ফাঁকা নির্জন করিডোর। ছায়া ছায়া আলো আঁধার। এই সময়ে একা হাঁটতে ওর খুব ভাল লাগে। অনেক কালের প্রিয় অভ্যাস। এরকম ঝুম নিধুয়া একাকী সময়ে নৈঃশব্দ্য গাঢ় ঘন হয়ে কাছে আসে ওর। পায়ের আঙ্গুলের নখরঞ্জনী ছুঁয়ে গোড়ালি জুড়ে শুয়ে থাকা রূপার মলে সশব্দে চুমু খায়। রুমকি চকিতে খুলে দেয় গোপন আয়না ঘরের দরোজা ।
শব্দহীন চপলতায় আয়নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে শিশু রুমকি, বালিকা রুমকি, কিশোরি রুমকি, ভুলভরা তরুণী রুমকি। মাত্র কয়েক সেকেন্ড! চোখের জলে ভিজে ওদের গলা জড়িয়ে ধরে, ভাল আছিস রুমকি ? ধুস আমার জন্যে ভাবিস না রে। এইতো চেষ্টা করছি। দেখিস সব ভুলে যাবো একদিন। সব ! সবকিছু!
ঝেঁপে নেমেছে বৃষ্টি। সন্ধ্যার অন্ধকারকে গহন গভীর করে অঝোরে কাঁদছে আকাশ। যেমন খুশি ভাড়ায় রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রুমকি। নামুক বজ্র বৃষ্টি । আকাশ ভেঙে নেমে আসুক মেঘ কিশোরীর দল। রুমকিকে ভিজিয়ে দিক। সম্বৎসরের রুক্ষতা কেটে যাক তুমুল মেঘবৃষ্টিতে। রুমকিও কাঁদুক। বুকের পাঁজর খুলে দিয়ে কেঁদে হাল্কা হোক ওর অভিমান।
রিকশার অন্ধকার গুহায় বসে অঝোরে কেঁদে যাচ্ছে রুমকি, মিস ইউ আদিত্য। মিস ইউ !

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close