Home অনূদিত কবিতা রুপি কাউর > কবিতাগুচ্ছ >> বেস্ট সেলার গ্রন্থ ‘মিল্ক অ্যান্ড হানি’ থেকে রাজিয়া সুলতানা কর্তৃক অনূদিত

রুপি কাউর > কবিতাগুচ্ছ >> বেস্ট সেলার গ্রন্থ ‘মিল্ক অ্যান্ড হানি’ থেকে রাজিয়া সুলতানা কর্তৃক অনূদিত

প্রকাশঃ May 1, 2018

রুপি কাউর > কবিতাগুচ্ছ >> বেস্ট সেলার গ্রন্থ ‘মিল্ক অ্যান্ড হানি’ থেকে রাজিয়া সুলতানা কর্তৃক অনূদিত
0
0

রুপি কাউর > কবিতাগুচ্ছ >> বেস্ট সেলার গ্রন্থ ‘মিল্ক অ্যান্ড হানি’ থেকে রাজিয়া সুলতানা কর্তৃক অনূদিত

 

[সম্পাদকীয় নোট : ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয় রুপি কাউর একাধারে কবি, লেখক, চিত্রশিল্পী ও অভিনেত্রী। জন্ম ১৯৯২ সালের ৫ই অক্টোবর। ‘মিল্ক অ্যান্ড হানি’ তাঁর প্রথম কবিতা ও গদ্য-সংকলন। প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে। মাত্র বাইশ বছর বয়সে নিউইয়র্ক টাইমস-এর বেস্ট সেলার লেখক আর চিত্রশিল্পী হিসেবে আখ্যা পান তিনি। ফেসবুকে প্রেম, বিচ্ছেদ, আঘাত আর উপশম নিয়ে ছোট ছোট স্ট্যাটাস দিতেন রুপি। মূলত সেই লেখাগুলোরই সংকলন এই গ্রন্থটি, বিশ্বব্যাপী দ্রুত যার বিক্রি এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ কপি ছাড়িয়ে যায়। রাজিয়া সুলতানার অনুবাদে রুপি কা্রউরের কিছু কবিতা পড়ুন তীরন্দাজে। লেখাগুলির কোনো শিরোনাম দেননি রুপি কাউর, সংখ্যা দিয়ে আমরা কবিতাগুলি প্রকাশ করছি।]

 
কবিতা-১

আমার মা যখন দ্বিতীয়বারের মত সন্তান-সম্ভবা
আমার বয়স তখন চার –
মা’র ফুলেওঠা পেট দেখে সংশয় হয়েছিল আমার।
এত অল্প সময়ে মা কেমন করে এত মোটা হয়ে গেলেন- জিজ্ঞেস করেছিলাম।
বাবা তার গাছের মত শরীর দিয়ে আমাকে উপরে তুলে নিয়ে বলেছিলেন
পৃথিবীতে ঈশ্বরের সবচে’ কাছের জন হচ্ছে মেয়েমানুষের শরীর
যেখানে জীবন জন্মে
একজন বয়স্কমানুষের মুখে ছোট্ট বয়সে সেই মহৎ কথা শুনে আমি
অন্যরকম মানুষ হতে শিখি-
দেখি মায়ের পায়ের কাছে এসে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড লুটিয়ে পড়ছে…

 

কবিতা-২

যখন তুমি আমাকে চুম্বন দাও-
মিথ্যে বলা হবে যদি বলি তখন আমি নির্বাক হয়ে যাই
আসলে তুমি আমার জিভকে এতটাই দুর্বল করে দাও যে
সে ভুলে যায় কোন ভাষায় কথা বলবে।

 

কবিতা-৩

না ছুঁয়েও ছুঁয়েছ আমায়।

 

কবিতা-৪

এরকম দিন এলে তোমাকে আমার প্রয়োজন
আঙুলে তোমার চুলে বিলি কেটে দাও আমার
আর নরমসুরে কথা বলো না গো।

 
কবিতা-৫

আমি তোমাকে চুমু খাইনি-
ভুল বুঝো না।
আমার মনের মধ্যে ছিল সে-
তোমাকে শুধু হাতের কাছে পেয়ে গিয়েছিলাম।

 

কবিতা-৬

ছেড়ে গিয়ে কোনো অন্যায় করোনি
অন্যায় করেছ ফিরে এসে
তুমি ভেবেছ
তোমার সুবিধামতো আমার কাছে আসবে
আবার যখন অসুবিধা তখন ছেড়েও চলে যাবে।

 

কবিতা-৭

দুজনের কেউই সুখি নই আমরা
কিন্তু কেউ কাউকে ছেড়ে যাচ্ছিনে
চলো এভাবেই একে অন্যকে ভেঙে চূর্ণ করতে থাকি
আর এর নাম দিই প্রেম।

 

কবিতা-৮

যে-রাতে তুমি যখন আমাকে ছেড়ে চলে গেলে
ভগ্নহৃদয় নিয়ে যখন আমার ঘুম ভাঙলো
সেই টুকরোগুলো যে রেখে দেবো

জায়গা ছিলো একটাই
আমার চোখের থলে।

 

কবিতা-৯

প্রথম যে ছেলেটা আমাকে চুমু খেয়েছিল
সে বাইসাইকেলের হাতলের মতো আমার দু’ঘাড় চেপে ধরেছিল
সেটাই ছিল তার প্রথম সাইকেল আর তখন আমার বয়স ছিল পাঁচ।
তার ঠোঁটে ছিল ভয়াল-ক্ষুধা
সেই গন্ধটা সে তার বাবার কাছে শিখেছিল।
ভোর চারটায় ওর বাবা ওর মাকে খেতো।

সেই ছেলেটাই প্রথম আমাকে শরীর শিখিয়েছিল
বলেছিল কেউ চাইলে দিতে হয় তবেই না পূর্ণ জীবন।
হায় ঈশ্বর!
আমি কি ওর মায়ের মতো
ভোর চারটা পঁচিশে অনুভবে নিঃশেষ হয়ে যাই নি?

 

কবিতা-১০

রাতে খেতে বসে মা যখন কথা বলার জন্য মুখ খোলে
বাবা তখন চুপ শব্দটা তার মুখের মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেয়
আর বলে মুখভর্তি খাবার নিয়ে আর যেন কক্ষনো কথা না বলে
এভাবেই আমাদের পরিবারের মেয়েরা মুখ বন্ধ করে বাঁচতে শিখেছে।

 

কবিতা-১১

তুমি ছেড়ে চলে যাও
কিন্তু থাকতে পারো না
কেন তবে যাও?
যা রেখে দিতে চাও
তাই কেন ছেড়ে চলে যাও?
থাকতে না চাইলে দেরিই বা করো কেন?
একই সঙ্গে যাওয়া আসা কেমন কথা বলো তো?

 

কবিতা-১২

এই সংগ্রাম এতো কঠিন
আমি বুঝতে চেষ্টা করছি –
কী করে একজন তার সমস্ত আত্মা-শরীর-রক্ত শক্তি নিঃশেষ করে দেয়
অথচ বিনিময়ে কিছুই আশা করে না।
বুঝেছি, মা হওয়া পর্যন্ত আমাকে অপেক্ষা করতে হবে।

 
কবিতা-১৩

না, প্রথম দর্শনে প্রেম নয়
তা হবে স্মৃতিচারণ।
কারণ, তুমি কী ধরণের মানুষ তা আমার মায়ের চোখ দিয়ে দেখে নিয়েছি।
মা তো চেয়েছেন তোমার মতোই কাউকে বিয়ে করি
তুমি সেইরকম পুরুষ যার আদর্শে আমার ছেলেকে গড়ে তুলবো।

 

কবিতা-১৪

লবনকে চিনি ভেবে ভুল কোরো না
শোনো, সে তোমাকে চাইলে তোমার
কাছে তাকে আসতেই হবে –
এই সহজ কথাটা বুঝতে পারছ না?

 

কবিতা-১৫

এত যে ব্যথা, বিয়োগ
হৃদয়ের ভাঙন, নির্মম
আজও আমি শুধু তোমার
হ্যাঁ, শুধু তোমারই শরীরের নিচে
নগ্ন হতে চাই।

 

কবিতা-১৬

আমি জানি সময় কত কঠিন
বিশ্বাস করো
আমি জানি এই অনুভূতি
আগামীকাল অনিশ্চিত
আজকের দিনটা পার করাটাই সবচে’ কঠিন
কিন্তু শপথ করে বলছি এরকম থাকবে না
এই কষ্ট থাকবে না
থাকতে পারে না
শুধু সময়টা চলে যেতে দাও
ধরে রেখো না
যাক চলে
ধীরে
ধীরে
না রাখা শপথের মতো
যাক চলে যাক।

 
কবিতা-১৭

মানবিক অভিজ্ঞতাই হচ্ছে ব্যথা পাওয়া।
ভয় কি?
গ্রহণ করার সাহস নিয়ে সামনে দাঁড়াও।

 

কবিতা-১৮

ভালো কিছু আমি পেতেই পারি।
কারণ, যে পাপের কথা আমার মনেও নেই
সেজন্য ইতোমধ্যে প্রায়শ্চিত্ত করে ফেলেছি।

 

কবিতা-১৯

সবচে’ দুঃখের বিষয় হচ্ছে
যারা কারও অপেক্ষায় বেঁচে থাকে
অথচ তার অস্তিত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু জানে না।

 

কবিতা-২০

ভালো করেই জানি
সেলাই করে মুজে দিতে কী কষ্টটাই না হবে আমার!
তবু কেন যে অন্যের কাছে হৃদয়টা খুলে ধরি!

 

কবিতা-২১
তুমি ওদের সঙ্গে এমন আচরণ করো
যেন ওরাও তোমার মতো হৃদয়বান

কেমন করে আশা করো সবাই তোমার মতো কোমল-নরম?
ওরা যেমন তেমনটি দেখতে পাও না তুমি
ওদের মধ্যে সম্ভাবনা দেখো।
নিজেকে ঢেলে দিতে থাকো।
ওরা তোমার সবটুকু নিয়ে
তোমাকে নিঃশেষ করে ছেড়ে দেয়!

 

কবিতা-২২

তুমি কি ভেবেছিলে উইকেন্ডে পালিয়ে বাঁচার জন্য
আমি একটা বড় শহর?
অথবা শহরটা ঘিরে এক ছোট্ট নগর যার নামটাও কখনো শোনোনি
কিন্তু পার হয়ে গেছো?
যেখানে নিয়নবাতি নেই, আকাশ চুম্বন করে অট্টালিকা নেই কোনো
অথবা কোনো ভাস্কর্য?
শুধু বজ্রপাতে ব্রিজগুলোকে কাঁপাই আমি।
রাস্তায় বেচা মাংস ভেবেছো আমাকে? আমি বাসায় বানানো চাটনি
গাঢ় সুস্বাদু আনন্দ তোমার ঠোঁটের স্পর্শেই মিষ্টি।

আমি পুলিশের সাইরেন নই,
নই উনানের চড়চড়।
আমি তোমাকে পোড়াবো অথচ
আমার থেকে চোখ সরিয়ে নিতে পারবে না তুমি
এতো সুন্দর করে পোড়াবো
তুমি আরক্তিম হয়ে উঠবে
হোটেল রুম নই, আমি বাড়ি।

নেশার হুইস্কি নই, তৃষ্ণার জল হলে আছি।
প্রত্যাশা রেখো না কোনো
তোমার অবকাশ তো নই।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close