Home কবিতা রুহুল মাহফুজ জয় > স্বনির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ >> জন্মদিন

রুহুল মাহফুজ জয় > স্বনির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ >> জন্মদিন

প্রকাশঃ March 30, 2018

রুহুল মাহফুজ জয় > স্বনির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ >> জন্মদিন
0
0

রুহুল মাহফুজ জয় > স্বনির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ >> জন্মদিন

 

[সম্পাদকীয় নোট : আজ কবি রুহুল মাহফুজ জয়ের জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে জয়ের পাঁচটি কবিতা প্রকাশিত হলো। উল্লেখ্য, জয় টেলিভিশন সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য ওয়েবজিন ‘শিরিশের ডালপালা’ সম্পাদনা করছেন। জন্মদিনে জয়কে তীরন্দাজের শুভেচ্ছা।]

 

মেঘৈতিহাসিক

 
পত্রীদা’র দেয়া বিয়েটা টেকেনি। বজ্রকে উকিল নোটিশ দিয়ে মেঘ ফের পাহাড়ের কাছে। পাহাড় ততদিনে আর্তেমিসের কুমারীত্ব জিতে ‘নদী’ ও ‘ঝর্ণা’ নামের দুই কন্যার জনক। ‘মেঘ চিরকালই ভাসমান পতিতা’— বায়ুমণ্ডলে এমন লিফলেট বিলি করার দায়ে বজ্রকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে কেয়সের বউ। বোকা মেঘ জানে না, পাহাড় প্রকৃতির রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নতুন কবিতা শুনতে সারারাত তার পায়ের কাছে পড়ে থাকে শিশির। সেসব কবিতার স্বাদ জুমধান, আদিবাসী বিষাদ। নীলগিরির রাত্রিতে পাহাড় ঘুমালে মেঘ বেবিটা উতলা হয়, পরিব্রাজক হাওয়াধ্বনির নিকট নিজেকে সঁপে দিতে দিতে শরমে মুখ লুকায়। মেঘেরা জন্ম থেকেই বাঙালি মেয়ে— সব পাহাড়ই জানে তা।

 

 

নির্বাণ

 
মৃত্যুর মতো হঠাৎ না বলে চলে আসব একদিন— একটা অপ্রস্তুত খরগোশ তোমার অধিস্থান থেকে মুখ তুলে তাকাবে; চোখের বয়সকে বলবে আগের সব দেখা ভুলে যাও, শেষ দৃশ্যে তুলে রাখো দীর্ঘ চুম্বন— আমি ঠিক মৃত্যুর মোহ নিয়ে তোমার ঠোঁটের কাছে এসে দাঁড়াব, বাতাসের গায়ে কম্পন তুলে তুলে চলে যাবে একটা ট্রেন— যেখানে কেউ কোনদিন যায়নি।

 

 

ঈশ্বরের পুর্নজন্ম

 
যদি
ঘুম ভেঙে দ্যাখো সকাল বলে আর কিছু নেই
অশেষ অন্ধকার মেখে বাড়ি ফিরে গেছে র্সূয—
চ্যাল হারানোর শোকে কাতর বালকের অশ্রু থেকে
বিন্দু বিন্দু আলোর উৎস খুঁজছে পৃথিবী
আর চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে
পাউরুটি চিবুচ্ছেন ঈশ্বরের পেয়াদারা—
ধরো
মাতার চোখে মেসোপটেমিয়ার অন্ধকার রেখে
পিতা নিরুদ্দেশ; আমরা সকলেই ঠিকানাহীন
হারানোর বেদনায় সময় বলে আর কিছু নেই
সবাই ভুলে গেছে নিজের নাম—
প্রিয়তম মানুষের অবয়ব মনে নেই কারো—
তখন
যে শিশুর জন্ম হবে, তার নাম হতে পারে
জীবনানন্দ দাশ!

 

 
ভূগোল

 
পৃথিবী ভ্রমণের ইচ্ছা হলে আমি আম্মার মুখের দিকে তাকাই

দরিদ্র বেদনা সব কপালে জমে হয়েছে আফ্রিকা-এশিয়া
মুখের নিচের দিকে থুতনিতে দৃশ্যমান লাতিন আমেরিকা
দুই গালে হাসির ভিতর লেপ্টে আছে ইউরোপ
আমেরিকা আর অস্ট্রেলিয়া

স্নো-ফল প্রসঙ্গে মা’র চোখে শীতকাল এঁকে গেছেন বাবা
ইচ্ছেই তখন সুবিপুল সাইবেরিয়া

পৃথিবী ভ্রমণের ইচ্ছা হলেই আম্মার মুখের দিকে তাকাই আমি

দেখি—
সমস্ত কাঁটাতার একেকটা বাবা
বাবার ফেলে যাওয়া মহাদেশ—
অবজ্ঞা

 

 
পিংক উইসেলের পৃথিবী

 

 

শ্বাসের অধিক কাছে মরে গেছি, জান
ঘ্রাণ তার পায় সহি ভোরের আজান

হরিণীর চোখে দেখা সুপ্রাচীন ভয়
নড়েচড়ে অসুখের দিনে অতিশয়
ট্যাটুৎসবে জ্বলে নাভি, স্নায়ুতে প্রলয়
খুড়ধ্বনি বেঁকে যেন এ ধুলাসংশয়!
আত্মারে শেখাই ডুব— পালাতে সুদূর,
আল্লার খেয়ালে হঠাৎ ছলকে ওঠে সুর।
যাই ফিরে নিষাদহিম পাতাঝরা বনে
কুড়াই ফুরানো আয়ু পল অনুক্ষণে।

ফজরালো— পূর্বামুখে ফোটা এবাদত
পূব থেকে করি দোয়া পশ্চিমে বসত;
অন্তরাত্মায় কম্পিত সুবহে সাদিকাভা
চ্যাটার্জির আঙিনায় তুলেছে হৃদকাবা।
শনৈঃ শনৈঃ বাড়ে উচাটন টান
তামাচোখে ঘুমভাঙার পরের নির্বাণ।

কিরিচের ধ্বনি রক্তে রুয়ে কৃষিগান
পেরিয়ে এসেছে গত সূর্যের আজান!

মেমোরির মধ্যে বৃষ্টি, ছায়ার নৈঃশব্দ্য
কবেকার রিফিউজি ক্যাম্পে কম্পমান
দেশের মুখোশ, মুখ ঝরে যায় ভেজা—
ফুল খোঁপা মিছামিছি শেখে অভিমান।
কথা বলো সহটান, কথা কও রক্ত
এহেন লালের ভারে তুমিও আরক্ত
শিখেছিলে পলায়ন; ছায়ারা পালায়
যেভাবে সূর্যের ভয়ে, তাঁবুর সাড়ায়?

জমা রাখা ঋতুগন্ধে দর্পছায়া হতে
তিতির পাখিরা খোলে শীতের জানালা।
বিহ্বল লালে চেপে অতিকথা-মমি
চিনে রাখে আততায়ী বঙ্গভঙ্গ জমি—
সাময়িক ঘুঘু ডাকা রবীন্দ্রদুপুরে
রাধাবক্ষে নাচে সখা, কে হস্তিনাপুরে?

এতটা মুখরে বাজে না ভাষা, বা’জান
উলুশিসে মেশে যত মাগরিব আজান!

ইমন কল্যাণে ডাকে সাঁঝবাতির সুর
ট্রেন এঁকে উঠে পড়ি, যাই শ্রীরামপুর।
হাওয়ারা থামে কই? দেশের ধারণা
ছাড়া ছুটে চলে ছায়া, সূর্যের তাড়না।
খুদাতালা ভবে টানে নাই সীমারেখা—
হাতভর্তি মানচিত্র শত শত কররেখা
বেঁচে আছে যুদ্ধহীন—নাই কাঁটাতার;
দেশ মানে বুঝি তুমি, তোমার সাঁতার!
নদীপাড়ে গান ফেলে স্বরের তাতার,
তুমি এক কথাবাজি জলের গিটার।
মনেরে জড়ায়ে হাতে ধানেরে যেবায়
চাষার আদর করে পুতেরা— ও’বায়
স্কুল খুলে যে-ই এসে বসাক প্রহরী,
সমূহ কিতাব তুমি, তোমাকেই পড়ি।

চিনি না চিনি না বাড়ি— ফারাগ হাওয়া
তারি জন্যে ছাড়ি ঘর, নাওয়া-খাওয়া

বেভুল এ দোল খুদা, প্রেমের মাস্তানি
মনে মানে শরীরের মানা, ছটফটানি?
আউল-বাউল লোক মন্দেয় ভালোয়
বাসি ভালো হাউকাউ পূর্ণ যৌনালোয়।
আত্মায় শরীরে আর্তি ততা ততা ঘাম,
কিরাম কিরাম ভেল্কি জান্নাতি মোকাম—
দেহভরা নুন নিয়া মিঠা জিভ শ্বাস
পিরিতের খুন মিয়া হই বারোমাস!

খিদা খিদা এত খিদা শরীরভর্তি চোখ
দৃষ্টিজিভে চেটেচুটে করো ছোক্-ছোক্
নুন খোঁজ মাটি খোঁজ রাত বাড়ে হাড়ে
রক্তের দেমাগ হারে রাক্ষুসে আহারে;
ছলাৎ ছলাৎ জলপার জ্যোৎস্নার পাহাড়ে
মেলছে পাখালি বুনি আহা রে আহা রে!
রাত্রি যায় এশা পড়ে চাঁদ গেলে বাড়ি
বাড়ি ধরে ঘরে ফেরে শেয়ানা তরবারি।

আঙুলের দিকে সখি বাড়ালে আঙুল
ওখানেই পুল পায় সিরাতের বেগ—
মনে হয় মানুষের সাথে পথ ক’টা
ঠিকানার দিকে হেঁটে গেছে নিরুদ্বেগ।
তুমিও চলেছ আমা হতে অনির্বাণে
চলাচলি যায় থেমে সময় নির্মাণে—
আমিও চলেছি তোমা হতে কেয়ামতে
অসময়ে যেতে পারি মিলে, মহব্বতে।

কথাহীন শব্দহীন কথা-শব্দ-ঝড়
পাশাপাশি থেকে গেলে পায় প্ররোচনা—
দুজনা মানুষ গড়ে নিতে পারে ঘর
দুজনা মানুষ পারে তো হতে তিনজনা।
যে ইচ্ছেতে থাকো, থেকো অনঙ্গের সেলে
জন্মাক পৃথিবী ফের পিংক উইসেলে।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close