Home অনুবাদ রোজা লুক্সেমবার্গ নির্বাচিত রচনা সংকলন [পর্ব ৮] > অদিতি ফাল্গুনী অনূদিত

রোজা লুক্সেমবার্গ নির্বাচিত রচনা সংকলন [পর্ব ৮] > অদিতি ফাল্গুনী অনূদিত

প্রকাশঃ October 15, 2017

রোজা লুক্সেমবার্গ নির্বাচিত রচনা সংকলন [পর্ব ৮] > অদিতি ফাল্গুনী অনূদিত
0
0

রোজা লুক্সেমবার্গ নির্বাচিত রচনা সংকলন [পর্ব ৮] > অদিতি ফাল্গুনী অনূদিত

র্বোপরি, উদ্বৃত্ত মূল্যের তত্ত্বে, মার্কস সঞ্চয় বিষয়ে তাঁর সাধারণ পূর্বানুমান নিচে উদ্ধৃত ভাষায় বর্ণনা করেন :

এখানে আমাদের শুধুমাত্র সেই আঙ্গিকগুলো বিবেচনা করতে হবে যার ভেতর দিয়ে পুঁজি তার বিকাশের নানা স্তর পার করে। এভাবে আমরা উৎপাদনের বাস্তব প্রক্রিয়ার প্রকৃত শর্তগুলো ঘোষণা করিনা, তবে সর্বদাই অনুমান করে নিই যে পণ্য তার যথার্থ মূল্যেই বিক্রি হয়। পুঁজিবাদীদের প্রতিযোগিতাকে আমরা গুরুত্ব দিই না, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করি ঋণব্যবস্থাকে; আমরা সমাজের প্রকৃত সংগঠনকেও হিসাবে নেই না যা শুধুই শিল্পপতি পুঁজিপতি ও শ্রমিকদের দ্বারা গঠিত নয়, এবং যেখানে উৎপাদক ও ভোক্তা শ্রেণির ভেতরে বাস্তবিক কোন কঠোর বিভাজন নেই। প্রথম শ্রেণিটি (ভোক্তাদের প্রথম শ্রেণি যাদের রাজস্ব আংশিক ভাবে মাধ্যমিক স্তরের, আদিম স্বভাবের নয়, মুনাফা এবং মজুরি শ্রম থেকে উদ্ভূত) দ্বিতীয় শ্রেণির (উৎপাদক) থেকে অনেক বেশি বিস্তৃত। সুতরাং যে উপায়ে এটি (উদ্বৃত্ত মূল্য) তার আয় এবং এমন আয়ের ব্যাপ্তিকে খরচ করে, তা প্রতিটি অর্থনৈতিক পরিবারকে এবং বিশেষত, পুঁজির পুনরুৎপাদন ও সঞ্চালনকে প্রভাবিত করে।

সমাজের ‘প্রকৃত সংগঠন’-এর কথা বলে, মার্কস এখানে উদ্বৃত্ত মূল্য আর মজুরি শ্রমের যৌথ ও পরগাছা-ভোগীদের কথাও বিবেচনা করেছেন। অর্থাৎ বিবেচনা করেছেন পুঁজিবাদী উৎপাদনের তোষামুদেদের প্রধান শ্রেণিটিকেও।

সুতরাং, এবিষয়ে কোন সন্দেহই থাকতে পারে না যে মার্কস ধনসঞ্চয়ের প্রক্রিয়াটি প্রদর্শন করতে চেয়েছেন এমন এক সমাজে যা শুধুই শ্রমিক ও পুঁজিপতিদের সমন্বয়ে গঠিত, যে সমাজ কিনা পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতির শাশ্বত ও নিরঙ্কুশ আধিপত্যের আওতাধীন। যাই হোক, তাঁর বৃত্ত, এই অনুমানের উপর ভিত্তি করে ‘উৎপাদনের তরে উৎপাদনে’র চেয়ে অন্য কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের অনুমতি দেয় না।

সম্প্রসারিত পুনরুৎপাদন বিষয়ে মার্কসের বৃত্তের দ্বিতীয় উদাহরণটি আমাদের স্মরণ করতে দিন :

প্রথম বছর

১.   ৫,০০০c+১,০০০v+১,০০০s=৭,০০০ উৎপাদনের উপায়

২.   ১,৪৩০c+২৮৫v+২৮৫s=২,০০০ উৎপাদনের উপায় } – ৯,০০০

দ্বিতীয় বছর   

১.   ৫,১৪৭ c +১,০৮৩ v+১,০৮৩ s  = ৭,৩৮৩ উৎপাদনের উপায়

২.   ১,৫৮৩c + ৩১৬ v +৩১৬ s = ২,২১৫ টিঁকে থাকার উপায় }- ৯,৭৯৮।

তৃতীয় বছর

১.   ৫,৮৬৯ c+১,৭১৩ v+১,৭৩ s=৮,২১৫ উৎপাদনের উপায়

২.       ১,৭১৫ c+৩৪২v+৩৪২s=২,৩৯৯ টিঁকে থাকার উপায়} ১০,৬১৪।

৪র্থ বছর

১.   ৬,৩৫৮ c+১,২৭১v+১,২৭১s=৮,৯০০ উৎপাদনের উপায়

২.   ১,৮৫৮ c + ৩৭১ v +৩৭১ s  = ২,৬০০ টিঁকে থাকার উপায়}-১১,৫০০এ।

* (এখানে c=constant capital, v=variable capital, s=surplus value)।

পুঁজির সঞ্চয় এখানে বছরের পর বছর কোন বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই চলতে থাকে, পুঁজিপতিরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই অর্জিত উদ্বৃত্ত মূল্যের অর্ধেক ভোগ করে ফ্যালে এবং বাকি অর্ধেককে মুনাফায় লাগায়। মুনাফাকরণের প্রক্রিয়ায় একই প্রযুক্তিগত ভিত্তি, সোজা কথায় বললে, একই জৈব সংগঠন অথবা ধ্রুব/স্থির পুঁজি ও পরিবর্তনশীল পুঁজির বিভাজন ও শোষণের একই হার (সবসময়ই যা ১০০ শতাংশ পুরোটাই হয়ে থাকে) ধারাবাহিকভাবে অতিরিক্ত পুঁজির জন্য রক্ষিত হয়ে থাকে যেমনটা মূল পুঁজির জন্যও হয়েছিল। ‘পুঁজি’-র প্রথম খণ্ডে মার্কসের অনুমানের সাথে সঙ্গতি রেখেই, উদ্বৃত্ত মূল্যের মুনাফাকৃত অংশ উৎপাদনের অতিরিক্ত উপায় হিসেবে প্রথমে আসে এবং তারপর তা’ শ্রমিকদের টিঁকে থাকার উপায় হিসেবে আসে- উভয়ই দুই বিভাগে চির প্রসরমান এক উৎপাদনের উদ্দেশ্য পূরণ করার কাজে নিরত থাকে। মার্কস বৃত্তের অনুমান থেকে এটা আবিষ্কার করা অবশ্য সম্ভব নয় যে কার জন্য উৎপাদন প্রগতিশীল ভাবে প্রসারিত হচ্ছে বা হয়। একথা স্বীকার করতেই হয় যে একটি সমাজে উৎপাদন ও ভোগ যুগপৎ পাশাপাশি চলে। পুঁজিপতির ভোগ বাড়ে (মূল্যের হিসেবে, প্রথম বছর এটা বেড়ে হয় ৫০০+১৪২, দ্বিতীয় বছরে এটা বেড়ে হয় ৫৪২+১৫৮, তৃতীয় বছরে এটা বেড়ে হয় ৫৮৬+১৭১, এবং চতুর্থ বছরে বেড়ে হয় ৬৩৫+১৮৫) : শ্রমিকদের ভোগ যেমন বাড়ে তেমনি বছরের পর বছর পরিবর্তনশীল পুঁজি উপরোক্ত দুই বিভাগেই বাড়ে যা মূল্যের নিরিখে এই বৃদ্ধিকে পরিমিতভাবে নির্দেশ করে। এবং তবুও পুঁজিপতিদের বর্দ্ধনশীল ভোগকে অবশ্যই পুঁজি সঞ্চয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য বলা যাবেনা; বরং উল্টো দিক থেকে দেখলে, ভোগের ঘটনা যত ঘটে বা বাড়ে, ততটা সঞ্চয় কিন্ত হয়না; পুঁজিপতিদের ব্যক্তিগত ভোগকে সাধারণ পুনরুৎপাদন হিসেবে দেখতে হবে। বরং, প্রশ্নটি হলো : যদি, এবং যতটা সম্ভব ততটাই যদি, পুঁজিপতিরা নিজেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য ভোগ না করে বা সোজা কথায় ভোগ পরিহার করে এবং সঞ্চয় করে, তবে কার জন্য তারা উৎপাদন করে? আরো কম করে বললে, বাড়তে থাকা পুঁজির ক্রমাগত সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য কি আয়তনে ক্রমাগত বাড়তে থাকা এক শ্রমিক বাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ হতে পারে? পুঁজিপতির দৃষ্টি থেকে দেখলে, শ্রমিকদের ভোগ হলো সঞ্চয়ের একটি ফলাফল। যতদিন না পুঁজিবাদী উৎপাদনের নীতিমালা (ভিত্তি) ভেতর থেকে উল্টে যায়, ততদিন শ্রমিকদের ভোগ কখনোই সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য বা শর্ত হতে পারেনা। এবং যে কোন ক্ষেত্রে, শ্রমিকেরা শুধুমাত্র কোন উৎপাদিত পণ্যের সেই অংশটুকু ভোগ করতে পারে যা পরিবর্তনশীল পুঁজির সাথে মিলে যায় এবং তার এক বিন্দুও বেশি নয়। এরপর কে স্থায়ীভাবে বাড়তে থাকা উদ্বৃত্ত মূল্যকে বুঝতে পারে বা পারবে? বৃত্তটিই উত্তর দেয়: পুঁজিপতিরা নিজেরাই পারে বা পারবে এবং একমাত্র তারাই এটা বুঝতে পারে। – এবং এই বাড়তে থাকা উদ্বৃত্তমূল্য নিয়ে তারা কি করবে? বৃত্ত জবাব দেয় : তারা (পুঁজিপতিরা) তাদের উৎপাদনের আরো সম্প্রসারণের জন্য এটি ব্যবহার করে। এভাবেই এই পুঁজিপতিরা উৎপাদনের তরে উৎপাদনের উন্মাদ সমর্থক। তারা এতে দেখতে পায় যে ইমারত গড়ার জন্য আরো বেশি যন্ত্রপাতির প্রয়োজন- পুঁজিপতিদের আনুকূল্যে- আরো নতুন নতুন যন্ত্রপাতি কেনাটা সত্যি দরকার হয়। তবু এসব কিছুরই ফলাফল পুঁজির সঞ্চয় নয় বরং উৎপাদক দ্রব্যসামগ্রীর ক্রমবর্ধমান উৎপাদন যে উৎপাদনের মূলত: কোন উদ্দেশ্য নেই। প্রকৃতপক্ষে, একজনকে তুগান-বারানোভস্কির মত বেপরোয়া হতে হবে, তাকে আনন্দ পেতে হবে আপাত বৈপরীত্যমূলক সব বিবৃতি থেকে, অনুমান করে নিতে হবে যে হাল্কা বাতাসে এই অক্লান্ত নাগরদোলা চাপা পুঁজিবাদী বাস্তবতায় একটি বিশ্বস্ত প্রতিফলন হতে পারে, হতে পারে মার্ক্সের নীতির এক সত্যিকারের অবরোহণ।

পুঁজির দ্বিতীয় খণ্ডে বর্ধিত পুনরুৎপাদনের বিশ্লেষণের একটি খসড়া ছবি আঁকার পাশাপাশি এই দ্বিতীয় অধ্যায় মার্কসের সমগ্র কাজের সারাৎসারকে ধারণ করে। বিশেষত: দ্বিতীয় অধ্যায়টি পুঁজিবাদী সঞ্চয়ের গতানুগতিক পথটি সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্তৃত ও প্রাঞ্জল উদ্ভাসকেও বহন করে। একবার যদি আমরা এই গোটা ব্যখ্যাটি পুরোপুরি বুঝতে সক্ষম হই, তবে দ্বিতীয় অধ্যায়ের শেষে এই বৃত্তের ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যক্ষ বা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মার্কসের তত্ত্বের আলোকে আমরা যদি বর্ধিত পুনরুৎপাদনের বৃত্তটি সমালোচনামূলক ভাবে পরীক্ষা করি, তবে আমরা এ দু’য়ের মাঝে নানা স্ববিরোধ দেখতে পাব।

শুরু করা যায় এই বলে যে এই বৃত্তটি শ্রমের বর্ধমান উৎপাদনশীলতাকে হ্রাস করে। কারণ এটা অনুমান করে নেয় যে পুঁজির গঠন প্রতি বছরই এক থাকে। অর্থাৎ, সহজ করে বলতে গেলে, উৎপাদনশীল প্রক্রিয়ার প্রযুক্তিগত ভিত্তি সঞ্চয় দ্বারা প্রভাবিত হয় না। এই বিশ্লেষণকে সহজ করার জন্য এই প্রক্রিয়াটি নিজেই নিজেকে দেবে অনুমোদনযোগ্যতা, কিন্ত আমরা যখন সমন্বিত উৎপাদনের ব্যবহার এবং তার পুনরুৎপাদনের জন্য কঠোর শর্তগুলো পরীক্ষা করতে আসব, তখন আমাদের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলো ন্যূনতম মাত্রায় হলেও হিসেবে নিতে হবে এবং এই পরিবর্তনগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। যেহেতু এই পরিবর্তনগুলো পুঁজি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।  তবু আমরা যদি শ্রমের উন্নততর উৎপাদনশীলতাকে অনুমোদন দিই, তবে সামাজিক উৎপাদনের উপাদানগত ঐক্য (উৎপাদক দ্রব্য ও ভোগ্য পণ্য সহ)- ফলাফলস্বরূপ আয়তনগত এক অনেক বেশি দ্রুততর বৃদ্ধি দেখাবে যা এই বৃত্তে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও, ব্যবহার-মূল্যের এই বৃদ্ধি, মূল্য সম্পর্কে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত করে। যেমনটা মার্কস খুব চমৎকার যুক্তি প্রয়োগের সাথে দেখান আর তাঁর গোটা তত্ত্বকে এই স্বতঃসিদ্ধ সত্যের উপর দাঁড় করান যে শ্রম উৎপাদনশীলতার প্রগতিশীল বিকাশ সঞ্চায়ক পুঁজির সংগঠন ও উদ্বৃত্ত মূল্যের হারের উপর নির্ভর করে তার প্রতিক্রিয়া জানায় যেন তারা (সঞ্চায়ক পুঁজির সংগঠন ও উদ্বৃত্ত মূল্যের হার) পুঁজির ক্রমবর্দ্ধমান সঞ্চয়ের শর্তাবলীর আওতায় ধ্রুব বা স্থির থাকতে পারেনা। এমনটাই এই বৃত্ত দ্বারা অনুমান করা হয়েছে। বরং, সঞ্চয় যদি ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকে, তবে উভয় বিভাগের (সঞ্চায়ক পুঁজির সংগঠন ও উদ্বৃত্ত মূল্যের হার) ধ্রুব বা স্থির পুঁজি অথবা সম্পূর্ণ নতুন মূল্য (শ্রম উৎপাদনশীলতার সামাজিক দিক); একই সময়ে, ধ্রুব/স্থির পুঁজি এবং একইভাবে উদ্বৃত্ত মূল্যকে অবশ্যই পরিবর্তনশীল পুঁজির তুলনায় বাড়তে হবে- সংক্ষেপে বললে, উদ্বৃত্ত মূল্যের হার অর্থাৎ উদ্বৃত্ত মূল্য এবং পরিবর্তনশীল পুঁজির মধ্যকার অনুপাতকেও অবশ্যই একইভাবে বাড়তে হবে (শ্রম উৎপাদনশীলতার পুঁজিবাদী দিক)। এই পরিবর্তনগুলোর অবশ্য বার্ষিক ভিত্তিতে বা প্রতিবছরই ঘটার দরকার নেই যেমনটা মার্ক্সের বৃত্তে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বছরে দেখানো হয়েছে। বৃত্তে প্রদর্শিত প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় বছর কোন ক্যালেন্ডার বর্ষকে বোঝায় না বরং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাকেই বোঝায়। সবশেষে, আমরা এটা অনুমান করে নিতে পারি যে পুঁজির সংগঠনে এবং উদ্বৃত্ত মূল্যের হারে এই পরিবর্তন বা বদলগুলো ঘটে থাকে প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম বা সপ্তম বছরে অথবা দ্বিতীয়, ষষ্ঠ কিংবা নবম বছরে। একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে তারা (সঞ্চায়ক পুঁজির সংগঠন ও উদ্বৃত্ত মূল্যের হার) অন্য কোন স্থানে এবং পর্যাবৃত্ত ঘটনা হিসেবে অনুমোদন পেয়ে থাকে। যদি এই বৃত্তটি তদনুসারে সংশোধিত হয়ে থাকে, তবে সঞ্চয়ের এই পদ্ধতির ফলাফল উৎপাদক দ্রব্যের দামে ভোক্তার জন্য একটি বর্ধমান বার্ষিক উদ্বৃত্ত হিসেবে দেখা দেবে।

একথা সত্য যে তুগান-বারানোভস্কি কাগজে-কলমে সব সমস্যা জয় করে ফেলেন : তিনি খুব সহজে একটি বৃত্ত আঁকেন যাতে দেয়া থাকে পুঁজির নানা অনুপাত এবং বছরকে বছর পরিবর্তনশীল  ২৫ শতাংশ হারে কমছে, এমনটি দেখানো হয়। এবং যে-সময় থেকে এই গাণিতিক অনুশীলন কাগজে-কলমে অন্তত সফল দেখায়, তুগান সহর্ষে দাবি করেছেন যে ঘড়ির কাঁটার মতই সঞ্চয়ও মসৃণ পথে চলে বলে তিনি ‘প্রমাণ’ করতে পেরেছেন যদিও এমনকি ভোগের পরম আয়তন কমে আসে বা হ্রাস পায়। যাই হোক. এমনকি অন্তিমে গিয়ে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে পরিবর্তনশীল পুঁজির এমন চূড়ান্ত অবনমন বাস্তবতার প্রতি একধরণের তীব্র বৈপরীত্যমূলক বিরোধ। সত্যি বলতে পরিবর্তনশীল পুঁজি পৃথিবীর সব পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে আজ পরিমাণে বাড়ছে; শুধুমাত্র ধ্রুব বা স্থির পুঁজি যদি আরো বেশি হারে বাড়ে, তখন তার তুলনায় পরিবর্তনশীল পুঁজি বৃদ্ধির হারকে কম বলা যায়। যা বাস্তবে ঘটছে, তার ভিত্তিতে কিংবা সহজ করে বললে, পরিবর্তনশীল পুঁজির বিপরীতে স্থির পুঁজির পরিমাণ যদি বার্ষিকভাবে অনেকটাই বৃদ্ধি পায় এবং সেই সাথে যদি উদ্বৃত্ত মূল্যর হারও বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে সামাজিক পণ্য ও পুঁজির সংগঠনের মূল্যগত পার্থক্য দেখা দেবে।

[চলবে]

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close