Home শ্রদ্ধাঞ্জলি লাকী আখন্দ স্মরণে দুটি প্রবন্ধ / লিখেছেন খালেদ হামিদী এবং শাহনাজ পারভীন

লাকী আখন্দ স্মরণে দুটি প্রবন্ধ / লিখেছেন খালেদ হামিদী এবং শাহনাজ পারভীন

প্রকাশঃ April 24, 2017

লাকী আখন্দ স্মরণে দুটি প্রবন্ধ / লিখেছেন খালেদ হামিদী এবং শাহনাজ পারভীন
0
0

খালেদ হামিদী

লাকী আখন্দ : পূর্ব-পশ্চিমের সমন্বিত সাংগীতিক প্রতিকৃতি

স্বাধীনতার পরে, সত্তরের দশকের দ্বিতীয়ার্ধ্বে, আমাদের গানের ভুবনে পাশ্চাত্য-প্রভাবিত সাঙ্গীতিক দল ‘জিংগা’গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে। নাজমা জামানের গাওয়া ‘দূরালাপনী দ্বারা হলো না গো পরিচয়’ গানটি কিশোর-তরুণদের মুখে মুখে ফিরতে থাকে, তৎকালীন জনপ্রিয় সিনেমার গানের মর্মছোঁয়া সুরসম্ভারের সমান্তরালে, এর আবেগের প্রশ্রয়হীন নতুনতর বাণী ও সুরবিন্যসের কারণে। মনে পড়ে, ১৯৭৭-৭৮ সালের দিকে, শহুরে মধ্যবিত্তের ঘরে, শাদা-কালো টিভিতে প্রচারিত এই গানের তালে তালে নাজমার পশ্চিমা ঢঙের কিঞ্চিৎ নাচ অনুসৃত হয় কিশোরী-তরুণীসমাজেও, বাড়ির ভেতরে বা কোনো পারিবারিক মজলিশে অথবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায়। তখন পোশাকেও পরিবর্তন আসে। মেয়েদের চোঙা পাজামা আর যুবকদের বেশ চওড়া (হাঁটু বা এর ঠিক নিচ থেকে) প্যান্টে সয়লাব থাকে শিক্ষিত-শিক্ষানবিশ নাগরিক মধ্যবিত্ত সমাজ। যেন নব্য-স্বাধীন দেশের এই শ্রেণি বহির্বিশ্বের সঙ্গে নতুন পরিচয়ের এক অননুভূতপূর্ব ঘোরের মধ্যে প্রবহমাণ থাকে। এমন অবস্থার, যতোটুকু মনে পড়ে, এক পর্যায়ে, বিটিভিতে, আফজাল-সুবর্ণা অভিনীত ‘জীবন এক উদ্দাম নদী’ শিরোনামের এক নাটকে পরিবেশিত হয় লাকী আখন্দের সুরে ‘এই নীল মণিহার, এই স্বর্ণালি দিনে’ গানটি। এই গান তখন দর্শক-শ্রোতার হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে। তাছাড়া বিটিভির সেই সময়কার সুস্থ ও উন্নত মানের নাটকগুলোয় পাশ্চাত্য নয়, প্রাচ্য তথা স্বদেশী সমাজ ও সংস্কৃতির দিকে অভিনিবেশের এক সূক্ষ্ম আমন্ত্রণ ও  আহ্বান শিল্পিত বাঙ্মময়তা লাভ করে। লাকীর এই গান পরবর্তীতে, আশির দশকের প্রথমার্ধে অ্যালবামভুক্ত হলেও, সত্তরের দশকের শেষের দিক থেকে শুরু করে পুরো আশির দশক জুড়ে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসেও তারুণ্যের অন্তর্গত বেদনার্ত প্রেমানুভূতি এবং এ-সংক্রান্ত আর্তি ও সমর্পণকে ভাষা দেয়।

নাজমার পরে বা কাছাকাছি সময়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ, যাঁর গাওয়া ‘মামনিয়া’ এবং ‘আগে যদি জানতাম’ গান দুটোয় সুরারোপ করেন লাকী আখন্দ্, মাতিয়ে রাখেন আমাদের। পাশাপাশি ফিরোজ সাঁই বাংলার বাউল বা লোকগানের ঐতিহ্যের সঙ্গে ওই নতুনতর ‘আধুনিক’গানের সংশ্লেষণ ঘটানোর প্রয়াস পান। ফকির আলমগীর কণ্ঠে তুলে নেন গণমানুষের বঞ্চনাভিজ্ঞতা ও প্রাপ্য বিষয়ক অনুভূতির সুর। লাকী এঁদের বিষয়ে কম-বেশি সচেতন ছিলেন কেবল নয়, আরো পরবর্তী কালের একাধিক ‘ব্যান্ড’ গায়কের গানের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট থেকেছেন। পশ্চিমা সঙ্গীত-প্রভাবিত চর্চার মধ্যে তিনি বইয়ে দেন স্বদেশী সুরের মিষ্টতা।

গায়ক, সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার ও সুরকার লাকী আখান্দ (১৯৫৫-২০১৭) ১৯৮৪ সালে ‘সারগাম’-এর ব্যানারে প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন। ওই অ্যালবামভুক্ত ‘এই নীল মণিহার’, ‘আমায় ডেকো না’ ও ‘রীতিনীতি জানি না’ শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। ১৯৮৭ সালে অনুজ হ্যাপী আখন্দের মৃত্যুতে ভীষণ শোকাহত তিনি স্বেচ্ছানির্বাসন গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৮-এ ‘পরিচয় কবে হবে’ ও ‘বিতৃষ্ণা জীবনে আমার’ শীর্ষক অ্যালবাম দুটিযোগে সঙ্গীতাঙ্গনে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৫৫ সালে পুরান ঢাকায় জন্ম নেয়া বিস্ময়কর সাঙ্গীতিক প্রতিভার অধিকারী লাকী মাত্র ১৪ বছর বয়সে এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করেন। ১৯৭১-এ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন। ছোট ভাই হ্যাপীর সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দীও অনেক বিখ্যাত গানের জন্যে স্মরণীয় হয়ে থাকে।

কোথায় পেলেন তিনি এই সুর? এ-প্রশ্নের চেয়েও জরুরি, কোন অঙ্গীকারে তিনি সঙ্গীতে সক্রিয় থাকেন আজীবন? পাশ্চাত্য-প্রভাবিত রকে নবতর মাত্রা সংযোজনকারী লাকী আখন্দ, দেশের কিছুটা হার্মোনিক্যাল ও উল্লম্ফনধর্মী উচ্চকিত ব্যান্ড সঙ্গীতকে, বিস্মৃত হতে দেননি প্রাচ্যের মূল সুর কিংবা মেলোডি। কেননা সেই ছোটবেলায় তিনি ভারতবর্ষীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেন তৎকালের প্রখ্যাত ওস্তাদ গোমেজের (তাঁর পুরো নাম জানা যায়নি) কাছে। লাকী একোস্টিক বা ওরিয়েন্টাল বাজনার পরিবর্তে পাশ্চাত্যের ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করেন ঠিকই, কিন্তু, লক্ষণীয়, তিনি হাতে তুলে নেন বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অ্যামপ্লিফায়ারশূন্য স্প্যানিশ গিটার। যেমন, হারমোনিয়ামে যে কোনো সুর তোলার ক্ষেত্রে অসামান্য দক্ষতা থাকায় তিনি পিয়ানো এবং ইলেকট্রনিক কীবোর্ডে খুবই সচ্ছন্দ ও পারঙ্গম থাকেন। কিন্তু খ্যাতিমান শিল্পীদের দিয়ে তাঁর রচিত কিংবা সুরারোপিত গান গাওয়ানোর সময় লাকী একোস্টিক যন্ত্রসঙ্গীত সংযুক্ত করেন। অর্থাৎ তিনি আত্মবিস্মৃত ‘আধুনিক’ হওয়ার বদলে প্রতীচ্যের সাঙ্গীতিক সংযোগে প্রাচ্যের একাংশের আত্মপরিচয়ে দীপ্যমান শিল্পী হিসেবে সর্বদা সক্রিয় থাকাকেই অগ্রগণ্য জ্ঞান করেন।  জীবনব্যাপী এই সমন্বয়ই থাকে তাঁর অন্বিষ্ট। ‘বব মার্লি স্টাইল অফ রিদম’ তাঁকে খুব অনুপ্রাণিত করে। কেবল তাই নয়, এর অভিঘাতে তিনি নিজে নতুন কিছু তালও সৃষ্টি করেন। এ জন্যেই তরুণ সংগীত পরিচালক ইমন সাহাও বিস্ময় মানেন এই বলে : ‘‘সম্প্রতি আমি তার ‘ঘুড্ডি’ সিনেমার ‘ঘুম ঘুম ঘুম’ গানটি শুনি। গানটি গেয়েছিলেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। আমি এর আগে কখনো এই গানটি শুনি নি। গানটি শোনার পরে আমি খুবই অবাক হয়ে যাই। কারণ সেই সময়ে এত আধুনিক কম্পোজিশন, কর্ড স্ট্রাকচার ও মেলোডিকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ সমসামায়িক সুরে ভাবাই যায় না। গানটি শুনলে মনে হবে না এই গানটি দুই যুগেরও বেশি আগের।’’ (সূত্র : বিডিনিউজ২৪.কম) সুরকার কাজী হাবলু জানান, লাকী পছন্দ করতেন লাতিন গান। অ্যাকোর্ডিয়ান, বঙ্গো ও কীবোর্ড এই তিন বাদ্যযন্ত্রই তাঁর প্রিয়। তিনি ফিল্মের জন্যে গান করেননি বটে, কিন্তু ফিল্মের গানের চেয়েও জনপ্রিয় তাঁর গানগুলো (প্রাগুক্ত)। কণ্ঠশিল্পী নকীব খান বলেন : ‘‘আধুনিক বাংলা গানে এক ভিন্ন ধারার জন্ম দেন লাকী আখন্দ। আমি তাঁর গান প্রথম শুনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে। তাঁর ‘জন্মভূমি বাংলা মাগো’ গানটি আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করে। চলচ্চিত্র অঙ্গনের বাইরে এত জনপ্রিয় গান আর কেউ আমাদের উপহার দিতে পারেননি।’’ (প্রাগুক্ত)

তাঁর তিন দশকের বন্ধু কবি-অনুবাদক-গীতিকার খুরশীদ আনোয়ারের লেখা অনেক গানে লাকী সুরারোপ করেন। সেগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অ্যালবামের ‘বলেছিলে কাল তুমি আসবে’ ছাড়াও ‘হৃদয় জ্বালাইয়া’ খুব শ্রোতাপ্রিয় হয়। প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা শেষ অ্যালবামের ‘হৃদয় শুধু তারই নেয়া যায়’ গানটির রচয়িতাও খুরশীদ। লাকীর কর্কট রোগাক্রান্ত হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে এই গানের রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়। এতে কণ্ঠ দেন গীতিকার-তনয়া তাহমিনা আফরীন।

গীতিকারের শব্দ লাকীর সুরের দ্বারা যথার্থরূপে সচকিত ও তাঁর সাঙ্গীতিক সৃজনশীলতা তথা নিজের সৃষ্ট জাদুকরী সুরের মাধুর্য শব্দের মধ্যে অপূর্ব ব্যঞ্জনায় প্রবাহিত হয়। এভাবে তিনি গানের নিজস্ব একটি ধারা সৃজনে সক্ষম হন যা অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত শ্রোতাকেও বিমুগ্ধ ও উদ্বেলিত করে। সুস্থ মানুষ চিরপ্রেমী ও একই সঙ্গে চিরবিরহী বলেও হয়তো। লাকীর মতো একই সঙ্গে এমন শ্রোতাপ্রিয় ও শিল্পোত্তীর্ণ হয়ে উঠতে পারার অর্জন ও সৃজন সব শিল্পীর থাকে না। তাঁর জনপ্রিয় ১০টি গান এ মুহূর্তে কানে ও মনে বেজে উঠছে। এ গানগুলো মরণশীল নয় বলে আমাদের শ্রবণ, মন ও মনন এবং তুচ্ছতাকীর্ণ দিনরাত্রিকে সমৃদ্ধ, সমৃদ্ধতর করে চলেছে :

*আগে যদি জানতাম; *এই নীল মণিহার; *আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে; *আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না; *যেখানে সীমান্ত তোমার; *আবার এল যে সন্ধ্যা; *কে বাঁশি বাজায় রে; *মামনিয়া; *কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে এবং *লিখতে পারি না কোনো গান আজ তুমি ছাড়া।

 

শাহনাজ পারভীন

আমার স্মৃতি ও অনুভবে তাঁর গান

প্রিয় লাকী আখন্দকে আমি প্রথম দেখি ১৯৯০ সালের এপ্রিল মাসের কোন এক কৃষ্ণচূড়া আর জারুল ফোটা সন্ধ্যায়। সে বছর এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্রদের জন্য বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছিল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ। সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সেসব অনুষ্ঠানের এক সন্ধ্যায় ছিল লাকী আখন্দের লাইভ কনসার্ট। তাঁর সাথে ছিলেন সংগীত শিল্পী আবিদা সুলতানার বোন চিত্রা সুলতানা। আমাদের ক্যাম্পাসকে একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনে হতো তখন। পুরনো ঢাকার তেপ্পান্ন গলি আর সেন্ট্রাল জেলের রাস্তার যানজট পেরুলেই বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে আমাদের লাল রঙের কলেজ বিল্ডিং। সেখানে একবার পৌঁছুতে পারলেই তা হয়ে যেত একেবারে নিজস্ব জগৎ। সেখানকার রূপ, রস, গন্ধ সবই ভিন্ন রকমের। নদীর গন্ধ মেশা ভেজা বাতাস আর মাঝে মাঝে লঞ্চের বাঁশী আমাদেরকে অস্থির, চঞ্চল নতুন ঢাকাকে ভুলিয়ে দিত। এমনই এক আবহে আমি লাকী আখন্দকে পাই। ব্ল্যাক টি শার্ট আর হ্যাট পরিহিত শিল্পী। তিনি খুব বেশি গান করেননি। চার পাঁচটির কথাই মনে পড়ছে। তিনি যখন গাইলেন- ‘দীপ জ্বালা রাত জানি আসবে আবার, কেটে যাবে জীবনের সকল আঁধার।’ আমার মনে হয়েছিল জীবনের হতাশা যেন নিমেষেই দূর, বিষাদের মেঘ কেটে গিয়ে রঙধনু রঙে রাঙা হলো হৃদয়াকাশ। সেই সাথে আনন্দে টুপটাপ ঝরে পড়েছিল কলেজ প্রাঙ্গনের কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া আর ফুলকড়ইয়ের পাঁপড়িগুলো। আর নীলিমার দুটি চোখ ভাসিয়ে দেবার সেই উদাত্ত সুর বুড়িগঙ্গার রাতের বাতাসে ভেসে বেড়িয়েছিল দীর্ঘক্ষণ, দীর্ঘদিন। এক অপার্থিব অনুভূতি নিয়ে শেষ হয়েছিল সেদিনের সংগীত-সন্ধ্যা। সেই থেকে শুরু আমার আর আমার বন্ধুদের লাকী আখন্দের গানে ডুবে যাওয়া, মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনি ক্যাসেট প্লেয়ারে। আমাদের সব বনভোজন বা শিক্ষাসফরে বাইরে যাওয়া হলেই সঙ্গী হতো ‘চলোনা ঘুরে আসি অজানাতে, যেখানে নদী এসে থেমে গেছে।’
আমার বেড়ে ওঠা ছিল মফঃস্বল শহরে। শৈশব কৈশোর জুড়ে ছিল- এই রাত তোমার আমার, এ শুধু গানের দিন, আমার একদিকে শুধু তুমি পৃথিবী অন্যদিকে, তুমি আজ কতদূরে কিংবা আবার হবে তো দেখা। প্রাণকাড়া সুর আর মন ছুঁয়ে যাওয়া কথামালায় সাজানো গান ভাবলেই ইন্ডিয়ান আধুনিক গানকে আশ্রয় করতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছিলাম যেন। যাদের গান শুনে বাংলাদেশের আধুনিক গানে ফেরা, তাঁদের অন্যতম লাকী আখন্দ।

কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে শুনে আমরা কবিতা আর রাতের সাথে মিতালী করেছি, পূর্ণেন্দু পত্রী আর জয় গোস্বামীকে ভালবেসেছি। প্রতিনিয়ত প্রেমে পড়ার সেই দিনগুলোতে আমাদের মুখে মুখে ফিরতো- ‘এই জ্বালা আর প্রাণে সহে না কিংবা ভালবাসা হৃদয়ে নিয়ে আমি বারে বার আসি ফিরে।’

তারপর কখন যেন পলাতক সময়ের হাত ধরে পালিয়ে যায় আমাদের ছাত্রজীবনের সেসব উন্মাতাল দিন, বছর। কিন্তু পেশাগত জীবনের ব্যস্ততার ফাঁকেও নীল মণিহার কণ্ঠে জড়িয়ে রাখি। কোন এক ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানে টেলিভিশনে লাইভ প্রোগ্রামে দেখি লাকী আখন্দকে তাঁর মেয়ের সাথে। আপ্লুত হই। দিন যায়। একসময় চমকে উঠে শুনি, চিরন্তন ভালবাসার শুকসারি যে বুকে গান করে, সেখানেই জবরদখল ঢুকে পড়েছে ভয়ংকর ক্যান্সার। বিবাগী মন নিয়ে জন্মেছিলেন সুরের বরপুত্র, তাঁকে আমরা ফেরাতে পারিনি। কিন্তু হাসিমুখে বিদায় দেবার যে কঠিন মিনতি তিনি করেছেন তা-ই বা রাখি কী করে? তাই বুঝি প্রকৃতির এই অঝোর ধারা? বুড়িগঙ্গার বাতাসে এমন কান্নাভেজা হাহাকার? কৃষ্ণচূড়াও ঝরে গেল বুঝি রঙ লুকোতে?

আজ মন যে মানে না, কিছুই ভাল লাগে না।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close