Home অনুবাদ লাতিন আমেরিকা ও স্পেনের তিনটি ছোট ছোট লোকগল্প >> মূল স্প্যানিশ থেকে ভাষান্তর : শুক্তি রায় ও জয় নাগ

লাতিন আমেরিকা ও স্পেনের তিনটি ছোট ছোট লোকগল্প >> মূল স্প্যানিশ থেকে ভাষান্তর : শুক্তি রায় ও জয় নাগ

প্রকাশঃ June 8, 2018

লাতিন আমেরিকা ও স্পেনের তিনটি ছোট ছোট লোকগল্প >> মূল স্প্যানিশ থেকে ভাষান্তর : শুক্তি রায় ও জয় নাগ
0
0

লাতিন আমেরিকা ও স্পেনের তিনটি ছোট ছোট লোকগল্প >> মূল স্প্যানিশ থেকে ভাষান্তর : শুক্তি রায় ও জয় নাগ

 
[সম্পাদকীয় নোট : মেয়েদের গা থেকে ঠিকরে বেরোয় আলো। এই মেয়েটাই আকাশের চাঁদ হয়ে গেছে। মেঘও কী বিক্রি হয়? মেঘের সঙ্গে মানুষের সখ্যটা কোথায়! বাঘ হয়ে নিরীহ মানুষকে বোকা বানিয়ে ক্ষতি করার চেষ্টা করা যায় হয়তো। কিন্তু সফল হওয়া যায় না। একটা গল্পের মধ্যে এভাবেই লুকিয়ে থাকে নানান গল্প। এক আমি থেকে নানা আমির আর আমাদের জীবনের গল্প। এখানে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা বা মুখে মুখে প্রচলিত এরকমই তিনটি গল্প প্রকাশ করা হলো। গল্পগুলি নানা উৎস থেকে অনুবাদকেরা সংগ্রহ করে মূল স্প্যানিশ থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন। লাতিন আমেরিকার গল্প, আমরা জানি কয়েকজন লেখকের কারণে আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এখানে সংকলিত গল্পগুলি লোকজীবনে ছড়িয়ে থাকা গল্প। নির্দিষ্ট কোনো লেখকের লেখা নয়। পাঠক লক্ষ করলেই বুঝতে পারবেন, সংকলিত গল্প তিনটি অতিপ্রাকৃত গল্প। বাংলা ভাষাভাষি পাঠকদের অন্য রকম আস্বাদ দেবে নিঃসন্দেহে। পরবর্তী কালে এরকম আরও কিছু গল্প তীরন্দাজে প্রকাশিত হবে।]

 

সূর্য চাঁদের মা >> ভাষান্তর : শুক্তি রায়

অনেক অনেক দিন আগে এক যে ছিল মেয়ে। তার গােটা শরীর থেকে ঠিকরে বেরােত আলাে। সে কারণে সাধারণ মানুষজন খুব ভয় পেত তাকে। তাকে নানাভাবে বিরক্ত করত তারা; যে কোনােভাবে দূরে তাড়াতে চাইত, মারতে চাইত। একদিন সমাজের গণ্যমান্যরা ডেকে পাঠাল মেয়েটিকে। বলল, “এই নাও এক টুকরাে তুলাে। কাল এটা দিয়ে এমন কাপড় বুনে আনবে যাতে আকাশ ঢাকা পড়ে।”
– “ঠিক আছে, মেয়েটি বলে, তারপর খুব মন খারাপ নিয়ে বাড়ি ফেরে। বাড়ি এসে সে তার বােনেদের জানায় ওই আদেশের কথা। “কেমন করে তৈরি করব অমন কাপড় এইটুকু তুলাে দিয়ে?” সে বলে। “কোনাে চিন্তা নেই,” ওর এক বােন ওকে আশ্বাস দেয়, “আমি তােকে সাহায্য করব।” ওরা একসঙ্গে বসল। বােনটি তুলাের টুকরােটা গিলে ফেলল। মেয়েটি ভয়ে বলে উঠল, “এ কী করলি? এবার কেমন করে কাপড় তৈরি হবে?”
বােনটি কোনাে উত্তর দিল না। সে নিজেকে একটা মাকড়সায় পরিণত করে জাল বুনতে থাকল। পরের দিন আলােয় গড়া মেয়ে হাজির হল সেই বিশাল জাল নিয়ে। গণ্যমান্যদের সবাই তাে অবাক!
দু’তিন সপ্তাহ পরে আবার ডাক পড়ল তার। “এই যে দেখছো হামিং বার্ডের মতো ছোট্ট কোলিব্রি পাখি, এটাকে নিয়ে যাও। কাল গােটা গ্রামের লােককে রান্না করে খাওয়াতে হবে তােমায়।” “ঠিক আছে, মেয়েটি উত্তর দেয়। সে আবার দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বাড়ি ফেরে আর বােনদের কাছে সমস্ত কিছু খুলে বলে। রাতের বেলা ওর আরেক বােন শেয়ালের রূপ ধারণ করে গ্রামের সব মুরগি চুরি করে আনে। পরের দিন দুপুরে সাত কড়াই মুরগির ঝােল তৈরি হয়ে যায়। আলােয় গড়া মেয়েটা গােটা গ্রামকে তা খাওয়ায়।
কিন্তু তা সত্বেও গ্রামের তথাকথিত মুরুব্বিরা ওকে শান্তিতে থাকতে দিল না। এক সন্ধের সময় ওকে সবাই নিয়ে গেল নদীর ধারে আর ঝুলন্ত সেতুর উপর দিয়ে নদী পেরােতে বলল। যখন ও সেই সেতুর মাঝখানে, ওরা দড়িটা কেটে দিল আর মেয়েটি পড়ে গেল জলের মধ্যে। কিন্তু জলের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আগে ও জন্ম দিল দুটি বাচ্চার, যার একটি ছেলে আর অন্যটি মেয়ে। জন্মের পর ব্যাঙ ওদের লালন-পালন করল আর পরে ওদের দায়িত্ব নিল তেপেসকুইন্ত নামক একধরনের ইঁদুর।
ওই বাচ্চাগুলাে যখন বড় হল এবং বুঝতে পারল যে ওই তেপেসকুইন্তল মােটেই ওদের আসল মা নয়, তখন রাগ করে ওরা সেখান থেকে চলে গেল। হাঁটতে হাঁটতে ওরা পৃথিবীর ঠিক মাঝখানটায় এসে পৌঁছলো। সেখানে অনেক মানুষ এবং জীবজন্তু ওদের অপেক্ষায় ছিল। আলােয় গড়া মেয়েটির সন্তানেরা এবার উঠতে লাগল আকাশের দিকে। ছেলেটি হয়ে গেল সূর্য আর মেয়েটি চাঁদ। আর যেসব মানুষজন এবং জীবজন্তুরা ওদের সঙ্গে আকাশে আশ্রয় নিয়েছিল, তারা সব নক্ষত্র হয়ে গেল।

 
মেঘ পসারিয়া >> ভাষান্তর শুক্তি রায়

পথচারীদের রুমালের মধ্যে রাখা খুচরাে পেসাে, কারাে কারাে মুঠোর মধ্যে ধরে রাখা খুচরাে পয়সাগুলি ঘামে ভিজে যায়। পেসাে বড় যত্নে রাখতে হয় যে … কারণ টমেটো যেন বলে, “দেখাে আমায় কিন্তু ছুঁয়াে না যেন আর রােমানিতা নামের কচি লেটুসপাতা তাে যেন চোখের মণি”।
সেঁকা ভুট্টা, পেঁয়াজ, ধনে পাতা, নানারকম পাহাড়ি মশলা দিয়ে বানানাে ফ্রিতাঙ্গা। কী তার সুঘ্রাণ! পসারীরা কমলালেবু বিক্রি করে খুচরাে দিচ্ছে, বেচছে ফালি করে কাটা তরমুজ, গ্রাম থেকে সদ্য নিয়ে আসা, চুড় দিয়ে রাখা ঝকঝকে সবুজ লংকা, কুমড়াে বীজের ছােট ছােট ঢিবি।

ভরা বাজারের এই বিকিকিনির মধ্যে একটা ছােট্ট দোকান যেখানে কোনাে জিনিস নেই বিক্রি করার জন্য। ছাউনির নিচে গােলাপি চাদর গায়ে বসে আছে একটা ছােট মেয়ে, ভঙ্গী তার বিক্রেতার মতােই :
– কী রে মেয়ে, তুই কি বেচছিস?

– আমি … এই তাে মেঘ বেচছি।

– কোন মেঘটা ?

– ওই ওপরে যেটা রয়েছে।

– কোথায় রে? – ওই তাে উপরে, দেখতে পাচ্ছেন না ?
ভদ্রলােক তাকিয়ে দেখতে পেলেন একটু দূরে আকাশের গায়ে এক টুকরাে মেঘ রয়েছে বটে।
– ওরে মেয়ে, মেঘ তাে বিক্রি হয় না।

– কী আর করা, আমাকে তাে বেচতেই হয়। আমরা তাে খুব গরীব।
– আমি পেশায় উকিল, বুঝলি? আমি তােকে জোরের সঙ্গে বলতে পারি যে মেঘ কারুর সম্পত্তি নয়, কাজেই কেউ তাকে বেচতে পারে না।
– কিন্তু এই মেঘটা তাে আমার; এ তাে সব জায়গায় আমার সঙ্গে সঙ্গে যায়।
–  আগে বল, তুই একে নিজের জিনিস করলি কেমন করে?
– এক রাত্তিরে ওকে স্বপ্নে দেখলাম আর ভাের হতেই ওকে দেখলাম আমার দরজার সামনে।
– কী যুক্তি! স্বপ্নও যেন ফিরি হয়। এখনকার ছেলে মেয়েগুলাে কী যে বলে!
উকিলবাবু গজগজ করতে করতে হাঁটা দিলেন। তারপর এলেন এক মহিলা। গলার চওড়া হারটা যেন তাকে ঢেকেই ফেলেছে; উজ্জ্বল চোখ দুটিতে বিষন্নতা।
– দেখি কী দিয়ে গড়া তােমার মেঘ?

— জল দিয়ে সেনিওরা।

– বাইরে থেকে আনা ?

– না সেনিওরা, এখানকারই। নাকটা একটু কুঁচকোলেন মহিলা।
– আপনার বাগানে ও জল দিতে পারবে, সেনিওরা, মেয়েটি জোর দিয়ে বলে, আপনার ঘরের জানালাটার গায়ে ও আটকে থাকবে।
– একটু রং লেগে আছে মনে হচ্ছে না? হে ভগবান! এতাে অনেক দিনের পুরােনাে। তােমার মেঘের কিন্তু সত্যি বলতে কোনাে বিশেষ ব্যাপার নেই। মেয়েটি মেঘকে উজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে মেঘের দিকে চেয়ে হাসল একটু। কী রে, ঘাবড়াচ্ছিস যে! – মেয়েটি মেঘকে বলে। তখনাে সে মাথা উঁচু করেই আছে। সুট-বুট পরা এক রাজনৈতিক নেতা চিন্তামগ্ন ভঙ্গিতে ওর কাছে এসে দাঁড়ালেন।
– এই মেয়ে তাের মেঘ আমার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কাজে আসতে পারে। ও কি আকাশের গায়ে লেখা ফোটাতে পারে? নির্বাচনী প্রার্থীর নামটা। শহরের সবাই আকাশের গায়ে দেখতে পাবে। তুই কি তাহলে শহরের মাঝখানটায় পার্টি অফিসে আসবি …
– ওঃ না, সেনিওর আমি শহরের মধ্যেও ঢুকব না, পার্টি অফিসে তাে যাবই না। কী ঘন কালাে কালো ধোঁয়া ওখানে। আমার মেঘ কালাে হয়ে যাবে।
– ভাল দাম দেব কিন্তু …

– না সেনিওর, হবে না। নেতামশাই পাক মেরে চলে গেলেন।
মেয়েটি আরাে দেড় ঘন্টা বসে রইল তার দোকানে, যদিও কেউ এল না ওর কাছে। মাঝে মাঝে কাগজ বিক্রেতাদের মতাে সে ডাক দেয়, মেঘ চাই … মেঘ! কে কিনবে মেঘ? ঝকঝকে পরিষ্কার মেঘ, কোনাে ধোঁয়া-কালি নেই! মাঝে মাঝে সে ডাকতে ডাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তারপর আবার চেঁচিয়ে বলে, উঃ! কী খিদে! মেঘের টুকরাে তাে আর খাওয়া যায় না! তাই শুনে এগিয়ে আসে এক সৈনিক। ওকে থামিয়ে দিয়ে বলে

– তখন থেকে একা একা কী বকবক করছ?

– আমার মেঘটার সঙ্গে কথা বলছিলাম, ক্যাপ্টেন। এই মেঘটা তােমায় বিক্রি করি? সত্যিকারের মেঘ …।
হুমম … মেঘ… এই কথাটা তাে মাথায় আসেনি। মেঘের মধ্যে আমাদের যুদ্ধবিমানগুলাে লুকিয়ে ফেলা যাবে। মেঘকে তাে কেউ সন্দেহই করতে পারবে না। তা … তােমার মেঘ আদেশ পালন করতে পারবে তাে?
– আমার মেঘ যুদ্ধ করার জন্য নয়। আমি ওকে বেচতে চাই না। পরে দেখা হবে তাহলে!
এবার এল এক ভবঘুরে। কাঁধে তার তাপ্পি মারা, রংচটা ব্যাগ, টুপিটা ছেঁড়া  ছেঁড়া। এতক্ষণ ধরে মেয়েটির কথা শুনছিল সে। এবার একটু হেসে বসে,

– ওই মেঘটা তােমার ?
– হ্যাঁ সেনিওর, কী করে বুঝলেন?
– কেন, ওই দড়িটা দেখে, যেটা দিয়ে তুমি ওকে বেঁধে রেখেছ। ছেলেবেলায় আমারও একটা মেঘ ছিল। বেলুনের মতাে ওকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতাম আমি। তারপর একদিন হারিয়ে গেল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমন অনেক কিছুই তাে হারিয়ে যায়।
সুতির পােশাক পরা এক ছাত্র এসে যােগ দিল ওদের কথাবার্তায় :
– খুকি, যদি তাের কাছ থেকে আমি মেঘটা কিনি, তারপর ওকে নিয়ে যাব কেমন করে?
– আমি তখন দড়িটা খুলে দেব আর আপনি ওকে বেঁধে নিয়ে যাবেন।

— রাখব কোথায় ওকে? বাড়িতে তাে আঁটবে না।

– কেন আঁটবে না? নিশ্চয়ই আঁটবে।
— আমরা সাতজন একটা মাত্র ঘরে থাকি। তাহলে, রাতের বেলা ওকে আমি একটা বােতলের মধ্যে রেখে দেব যাতে ভাসতে ভাসতে অন্য কোথাও না চলে যায়, অন্য কোনাে দরজার কাছে না পৌঁছয়। পড়শিদের কাছে গিয়ে ’তাকো’ (মেক্সিকোর বিখ্যাত খাবার) না চাইতে পারে। আচ্ছা, ও কী খায়?
– একটুখানি হাওয়া, কিন্তুতা পরিষ্কার হওয়া চাই।
কিন্তু সকালে ক্লাসে যাওয়ার সময় ওকে নিয়ে কী করব?
– কিচ্ছু না, বােতলটার মুখ আটকে দিলেই হবে। ও ঘুরে বেড়ায়, হাই তােলে, আড়মােড়া ভাঙে, স্কার্ট ঠিক করে, নিজেকে ফোলায়, ফাঁপায়; আপনি ওকে উঠোনে ছেড়ে দিতে পারেন, যাতে ও আবার আকাশে উঠে যেতে পারে।
– কত নেবে?
– দু’শাে পঁচাত্তর। তবে ঝড়ের সময় ওকে সামলে রাখবেন। খুব অস্থির হয়ে পড়ে ও। রাগে ওর চেহারা কালাে হয়ে যায় কারণ ওর ইচ্ছে করে একা একা পড়ে না থেকে অন্য সঙ্গীদের সঙ্গে উড়ে যেতে।
পড়ুয়া ছেলেটা দড়ি সমেত পুতুলটা হাতে নেয় আর পসারিয়া মেয়েটি দড়িটায় একটা ঝটকা টান দিয়ে বলে, যা, যা-রে মেঘ!
ভবঘুরে আর মেঘ পসারিয়া দু-জনের মুখেই দুঃখের ছায়া।

– কেন যে এসব অমূল্য জিনিস বিক্রি করাে! বড় কষ্ট হয় যে!

– এবার দোকানের ঝাঁপ ফেলে যাব খাবার কিনতে।
মেয়েটি আর ভবঘুরে দু’জনে মিলে দোকানের ত্রিপল গােটাতে থাকে; এমন সময় ফিরে আসে ওই ছাত্র।
– এই মেঘটা প্রতি মুহূর্তে আমায় জ্বালাচ্ছে, ভারি পাজি তাে! ওর জ্বালায় আমার হাতটা প্রায় ভাঙছিল। যেই বাজার থেকে বেরােলাম, ওর খেল শুরু, এখন তাে আমার হাতেই ও নেই। দু মুখাে শয়তান কোথাকার। দাও, আমায় দু শাে পঁচাত্তর পেসাে ফেরৎ দাও দেখি! সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি মেঘটাকে এগিয়ে দেয় ছাত্রটার দিকে। আমার পেসাে? ছাত্রটা বিরক্ত হয়ে বলে।
– এই তাে এখানে, এই তাে এখানে … আসলে মেঘটার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না তাে, আমিই ওকে জোর করে পাঠালাম; মেঘেদের উপর জোর জবরদস্তি করা তাে ঠিক নয়।
মেঘটা নেমে এল মেয়েটির পায়ের কাছে; ভবঘুরে লােকটা খুশি হয়ে বলে, আকাশে উঠে পড়, চটপট।
– আমরা কী করব? মেয়েটি বলে।
আমরা যাব সারা দুনিয়া ঘুরে দেখতে। আমরা কি দুনিয়ার ভবঘুরে দলের মধ্যে পড়ি না? আমাদের স্বপ্ন আর সফর এক হয়ে যাবে। মেঘেরা খুব বুঝদার। যখন আমাদের খিদে পাবে ও আমাদের মাটিতে নামিয়ে দেবে আর আমরা কচি কচি ভুট্টা কেটে নেব খাওয়ার জন্য। ওঠো মেঘ, ওঠো। উঠে পড়াে …
মেঘটা চমৎকার ভঙ্গিতে উঠে পড়ল মাটি ছেড়ে। ওর দু’হাতের বাঁধনে বাঁধা পড়লো মেয়েটি আর ভবঘুরে লােকটা। বাজারের পথচলতি লােকেদের আর দরদাম করতে থাকা মহিলাদের সামনে দিয়ে ওরা অদৃশ্য হয়ে গেল দিগন্তে।

 
দুই জাদুকর >> ভাষান্তর : জয় নাগ

 

দুই জাদুকর ব্যবসায়ী নগরে নগরে ঘুরে নিজেদের বিদ্যা প্রদর্শন করে উপার্জন করত। তাদের মধ্যে একজন নিজেকে ইঁদুরে রূপান্তরিত করতে পারত আর অন্যজন নিজেকে বিদ্যুৎশিখাতে রূপান্তরিত করতে পারত।
একসময় তারা এক নগরে এল ও এক বাড়িতে আশ্রয় নিল। কিন্তু মাঝরাতে তারা অনুভব করল যেন কিছু জানােয়ার তাদের শরীরের উপর দিয়ে চড়ে বেড়াচ্ছে। তারা ভয়চকিত হয়ে উঠে পড়ল এবং সেইসব জানােয়ারকে বের করে দেবার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠল। কিন্তু তাতে গৃহকর্তারা তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হল।
“আপনারা এই মুহূর্তে বেরিয়ে যান, তারা ওই দুই জাদুকরকে বলল। সেটা শুনে ওরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।
ইতিমধ্যে গৃহকর্তারা নিজেদের বাঘে রূপান্তরিত করে বাড়ির বাইরে ওদের জন্য অপেক্ষা করছিল। আসলে, এসব ছিল একটা ফাঁদ, ওই দুই জাদুকরকে মেরে ফেলার।
কিন্তু বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওরা দু জন রাস্তায় এসে থমকে দাঁড়াল। “আমরা এখন কী করি? অন্ধকারে পথ চলা বিপজ্জনক।”
তখন যে জাদুকর নিজেকে ইঁদুরে পরিণত করতে পারত, তাকে অন্যজন বলল, “তুমি একটা ইঁদুর হয়ে যাও, আর দেখে এস, সামনে কোনাে বিপদ আছে কিনা?”
সেই জাদুকর তখন ইদুঁর হয়ে গিয়ে সামনে কোনাে বিপদ আছে কিনা সেই সন্ধান করতে বেরােল। কিছুদূর গিয়ে সে দেখল যে দুটো বাঘ রাস্তায় অপেক্ষারত। সে ফিরে গেল তার বন্ধুকে সতর্ক করে দেবার জন্য। অন্য বন্ধুটি তখন একটি সিগার ধরালো। তা থেকে ধীরে ধীরে যে ধোঁয়ার সৃষ্টি হল, তাতে একটি মেঘ তৈরি হল। ওই জাদুকর নিজেকে মেঘে আবৃত করল আর সেই মেঘটি চলে গেল পাহাড়ের দিকে।

যখন মেঘটি সেই জায়গায় এল যেখানে সেই বাঘরূপী মানুষেরা অপেক্ষা করছিল, তাদের ওপর বজ্রপাত হল আর তাদের মৃত্যু হল। তারপর ওই জাদুকর ফিরে গেল তার বন্ধুর কাছে। এবার তাদের বিপদমুক্ত যাত্রা শুরু হল।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close