Home অনুবাদ লিওনার্ড কোহেন / একগুচ্ছ কবিতা রাজিয়া সুলতানা অনূদিত

লিওনার্ড কোহেন / একগুচ্ছ কবিতা রাজিয়া সুলতানা অনূদিত

প্রকাশঃ November 14, 2016

লিওনার্ড কোহেন / একগুচ্ছ কবিতা রাজিয়া সুলতানা অনূদিত
0
11

Poetry is just the evidence of life. If your life is burning well, poetry is just the ash. – কথাগুলো বলেছিলেন লিওনার্ড কোহেন। জীবনকে তিনি এরকমই ভাবতেন – জীবন বুঝি জ্বলছে আর ভস্ম হয়ে তা উড়ছে বা প্রতিফলিত হচ্ছে কবিতায়। `Dance me to the end of love’ অথবা `A thousand kisses deep’ – এই ধরনের তীব্র বিষাদাক্রান্ত প্রেমের গান লিখে ও গেয়ে গত প্রায় চারদশক ধরে স্রোতাদের বিমুগ্ধ করে রেখেছিলেন লিওনার্ড কোহেন। কোহেনের জন্ম ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ সালে কানাডায়। জনপ্রিয় গীতিকার ও গায়ক হলেও ঔপন্যাসিক হিসেবেও তিনি খ্যাতিমান। অত্যন্ত উঁচু মানের কবি হিসেবেও তিনি পাঠকদের কাছে সমাদৃত। তার কবিতায় লক্ষ করা যাবে ইয়েটস, হুইটম্যান, লোরকার প্রভাব। Let Us Compare Mythologies (1956), The Spice-Box of Earth (1961), Flowers of Hitler (1964) Book of Mercy (1984), Book of Longing (2006) তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। গত ৭ নভেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এখানে তীরন্দাজ-এর পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো তার একগুচ্ছ কবিতা। পাঠকেরা পড়লেই বুঝতে পারবেন কতটা অন্তরঙ্গ বিষাদ আর মগ্নগভীর এই কোহেনের কবিতা। শুধু গীতিকার ও গায়ক বলে তাকে অগ্রাহ্য করার উপায় নেই। আর তীরন্দাজেই প্রথম বাংলা ভাষায় লিওনার্ড কোহেনের কবিতা অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হলো। – সম্পাদক

co3co

উপহার

 

তুমিই বলো, কবিতার চেয়ে নৈঃশব্দ্যই

শান্তির অনেক কাছাকাছি থাকে

তো আমি যদি উপহার হিসেবে

তোমার কাছে নৈঃশব্দ্যকে এনে দিই

(আমি শুধু নৈঃশব্দ্যকেই জানি প্রিয়)

তুমি হয়তো বলে উঠবে

এ তো নৈঃশব্দ্য নয়

এ তো দেখছি আরেকটি কবিতা

আর এভাবেই তুমি ওই কবিতাটা হয়তো

আমাকেই ফিরিয়ে দেবে।

 

এখন পড়ন্ত বিকেল

 

এখন পড়ন্ত বিকেল

আমি বিঠোভেনের ধ্রুপদী সংগীত শুনছি।

এই যে বিপুল গম্ভীর আকাশ –

একে ব্যথায় ভরিয়ে তোলা বোকামি,

কিন্তু আমি তাই করেছি। যে চাঁদ উকি দিচ্ছে –

আমি বরং তার কাছেই নিঃসঙ্গতাকে রেখে আসবো।

রাত এখনও কুমারী।

দূরে আলোকিত শহরে ক্লান্তিকর শিকার সন্ধানের কাজটা শুরু হলো।

লজ্জার অবশ্য কোনো কারণই নেই –

আমি আশ্বস্ত হতে পারছি।

আসলে আমি লজ্জিত নইও।

আমি আরও জোরে গান বাজাচ্ছি।

আমার ঘরের জানালায় চাঁদ।

বুড়ো আঙুলে চাঁদটাকে জড়িয়ে রেখে নিয়ে উল্টে দিতে চাইলাম।

কিন্তু ওল্টানো গেল না।

তবু আমার আঙুলটা ভাঙেনি।

জানালাটা খুলে দিলাম।

মৃদু নরম গান বাজালাম। চলে গেলাম মুর পাহাড়ে।

চাঁদের কোনো কিংবদন্তির প্রয়োজন নেই।

সময় হলেই সে তার নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা বলে, অব্যবহিত রাতেই।

ভাবলাম, চাঁদটা একাই থাকুক।

আমার ঘরের গানগুলো একটার পর একটা বেজেই চলেছে

আর আমি অপেক্ষা করছি একজন বন্ধুর।

co2co4

 

কুয়াশা তেমন কোনো ক্ষতচিহ্ন রেখে যায় না

 

গাঢ় সবুজ পাহাড়ে

কুয়াশা তেমন কোনো ক্ষত রেখে যায় না

আমার শরীরও তেমনি

ক্ষতের কোনো চিহ্ন রেখে যাবে না তোমার শরীরে

কক্ষনো না।

বাতাস আর বাজপাখি মুখোমুখি হলে যুদ্ধে

কিছু থাকে আর?

সেরকমই তুমি আর আমি প্রতিপক্ষ যেন –

শত্রুর মতো মুখোমুখি হই

শেষে পাশ ফিরে ঘুমিয়েও পড়ি

 

রাত গভীর হলে যেমন

চাঁদ আর তারা ছাড়াই রাত্রি টিকে থাকে

আমরাও তেমনি করে বেঁচে থাকবো –

যদিও তখন একজনের কাছ থেকে অন্যজন থাকবো অনেক দূরে।

 

কিছু লোক এমনই

 

কিছু লোক আছে যারা পাহাড়ের মতো

সময়ের নামগুলি তাদেরই বহন করা উচিত

কবর খুঁড়ছে যারা তারা খুব উঁচুতে থাকে না

সবুজও নয়

আর তাদের পুত্ররা পিতাদের হাতে বাঁধা শৃঙ্খল

খুলে দিচ্ছে বলে মনে হয়।

 

আমার এক বন্ধু ছিলো :

সে ছিলো ভীষণ একা

চরম নৈঃশব্দ্যের মধ্যে একা একা জীবন কাটিয়ে দিয়ে

স্বগৌরবে মৃত্যুবরণ করেছে

তার জন্য শোক করবে এমন কোনো বই, পুত্র অথবা

প্রেমিকা ছিল না।

 

এ কোনো শোকগান নয়

আমি শুধু এই পাহাড়টার নামকরণ করছি

কুয়াশার তলে

যে পাহাড়টাতে আমি হেঁটে বেড়াই

এটা গন্ধময়, গাঢ়, নম্র শাদা একটা পাহাড় –

আমি আমার নামেই পাহাড়টার নামকরণ করেছি।

 

নৃশংস প্রকৃতিকে খুঁজছি

 

আমার প্রস্রাবে একটা পতঙ্গ ডুবে মরলো

ধুলোর মতো তার বিচূর্ণ শরীর অবশেষে পানিতে ভেসে গেল।

আমার চোখ পোর্সেলিনের মধ্যে দ্যুতি ছড়াচ্ছে

লাশের ছাই হয়ে যাওয়া উড়ন্ত ভস্মকণার মতো

মর্গের ভেতরে নাচছে।

 

ইতিহাস আমার পক্ষেই কথা বলবে – আমি মিনতি করছি

এদিকে ড্রেনের পানি তার পাখাগুলোকে ঘিরে বৃত্তাকারে ঘুরছে।

(সে যদি এরই মাঝে প্রস্রাবের পানিতে গোসল করে না ফেলে

আমি তাকে বাতাসে শুকিয়ে উদ্ধার করবো।)

 

নিউ ইয়র্ক শহরে আমি কন্ঠস্বর হারিয়েছি 

 

নিউ ইয়র্ক শহরে আমি আমার কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছি

সাতষট্টি সালের পর থেকে সেই স্বর কখনো শুনিনি

এখন আমি তোমার মত কথা বলছি

এখন আমি তোমার মতো গান গাইছি

সিগারেট আর কফি আমাকে অসুস্থ করে ফেলেছে

কিছু কিছু দম্পতি আমাকে ভাবিয়ে তুলছে

এখন আমি আমার উকিলের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি

খুলতে যাচ্ছি আমার যত মেইল আর চিঠি

নিউইয়র্ক শহরে আমি আমার কন্ঠস্বর হারিয়েছি

এসব কথা তুমি আগে থেকেই জানতে।

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(11)

  1. ভাল লাগলো কোহেনের কবিতা।পাঠকের মনে নতুন নতুন চমক তৈরীর জন্য তীরন্দাজকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  2. খুব ভাল অনুবাদ। রাজিয়া আপাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করছি না।

    1. অনুবাদ ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো, আশরাফ । শুভেচ্ছা।

  3. তীরন্দাজকে অনেক ধন্যবাদ। স্বাগত জানাই তার উদ্যোগকে…

  4. যারা পড়েছেন এবং কমেন্ট করেছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close