Home গদ্যসমগ্র প্রবন্ধ লীনা দিলরুবা / জীবনই সাহিত্য, সাহিত্যই জীবন

লীনা দিলরুবা / জীবনই সাহিত্য, সাহিত্যই জীবন

প্রকাশঃ March 29, 2017

লীনা দিলরুবা / জীবনই সাহিত্য, সাহিত্যই জীবন
0
2

[এক]

পাঞ্জাবি উপন্যাসের বিকাশপর্বে যাদের অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাদের মধ্যে অমৃতা প্রিতম অন্যতম। অমৃতা অন্য সবার চেয়ে তখনই আলাদা হয়ে যান যখন তিনি মানবিক সম্পকের্র গল্পগাথাকে তাঁর লেখায় তুলে ধরেছেন। নারীর অন্তর্গত বেদনার অদৃশ্যমান কাতরতা অনুভবে এলেই তাঁর কলম জাগ্রত হতো এবং যখনই নারীর এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কিংবা বাধাগ্রস্ত হয়েছে তখনই অমৃতা প্রিতম কলম ধরেছেন। এসব বিষয়ে লিখতে গিয়ে সমাজের রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করতে তিনি পিছ-পা হননি। নিজের জীবনে অমৃতা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, সেসব, যেমন- পুরুষতান্ত্রিকতার একচক্ষুর বেড়াজালে আবদ্ধ নারীর মানবিক বিপর্যয়, নারীর ক্লান্ত, বিষণ্ন মন ও মানসিকতা, নারীর চিন্তা এবং আক্রান্ত বোধ পর্যায়ক্রমিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া, সবকিছুই নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। এ কারণেই মূলত অমৃতা সবার চেয়ে আলাদা হয়ে পড়েছিলেন। সেসময় এভাবে আর কেউ নারীর সংকট নিয়ে লেখেননি। নারী-পুরুষের সম্পর্কের নামহীনতাকে তিনি নাম দেবার উদ্যোগ নেন। সম্পর্ক কী কেবল প্রেমের, কেবল বিবাহিত জীবনের? এমন অদ্ভুত সব ঘোরলাগা প্রশ্ন তিনি নিজেই উপস্থাপন করেন, আবার নিজেই সেই ধাঁধার রহস্য উন্মোচন করেছেন। এ যেন কাটাকুটি খেলা। তুমি কী, আমি কী, তুমি আমার কে, আমি তোমার কে- এভাবে। নারী পুরুষের পরষ্পরের প্রতি সহজাত আকর্ষণকে তিনি গভীর দৃষ্টি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন। কখনো তীর্যক, কখনো মমতাভরে তার স্বরূপ তুলে ধরেছেন।

অমৃতা প্রিতমকে বলা হত শ্রুতকীর্তি কবি। ১৯১৯ সালের ৩১ আগস্ট অমৃতা প্রিতম অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালায় জন্ম নেন। তাঁর পিতার নাম কাতার সিং এবং মা রাজ বিবি। তিনি তাঁদের একমাত্র সন্তান ছিলেন। পিতা কাতার সিং ছিলেন স্কুল শিক্ষক এবং কবি। তিনি শিখ ধর্মের একজন প্রচারক ছিলেন। পিতার কারণে অমৃতা অত্যন্ত ধার্মিক একটি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। অমৃতার বয়স যখন মাত্র এগার তখন তাঁর মা মারা যান। মা যখন মারা যাচ্ছেন তখন অমৃতা সৃষ্টাকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, তিনি যেন তাঁর মা’কে রক্ষা করেন। কিন্তু সেরকম ঘটেনি দেখে এরপর থেকে তিনি আর ধর্মচর্চা করতেন না। মায়ের মৃত্যুর পর পাঞ্জাব থেকে তিনি তাঁর পিতার সঙ্গে লাহোর চলে যান এবং একপর্যায়ে একাকীত্ব ঘুচাতে লেখালেখিকে বেছে নেন।

খুব অল্প বয়সে অমৃতার বিয়ে হয়ে যায়। প্রথম জীবনে তিনি অমৃতা কোউর নামে লেখালেখি করতেন, ১৯৩৬ সালে প্রিতম সিং নামের এক ব্যবসায়ীর পুত্রকে, যিনি পত্রিকার সম্পাদক  ছিলেন, বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্বামীর নামের সঙ্গে মিলিয়ে অমৃতা কোউর অমৃতা প্রিতম নাম ধারণ করেন।

 

[দুই]

অমৃতার প্রথম উপন্যাস ডক্টর দেব। দেব এবং মমতার প্রেমের ফসল তাদের সন্তান রঞ্জু। কিন্তু অভিভাবকেরা দেব এবং মমতার অসামাজিক বিয়ে মেনে নেয় না। মমতার বিয়ে হয় জগদীশের সঙ্গে। একটি কন্যার জন্ম দেয় মমতা। দেব এবং প্রথম সন্তানের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে মেয়ের নাম রাখেন রঞ্জু। বিয়ের পর মমতা অপরাধবোধ ভুগতে থাকে এবং জগদীশকে ছেড়ে চলে যায়। এদিকে দেবের জীবনে তখন অন্য নারী রাজকুমারী আসে। কিন্তু দেব তাকে বিয়ে করে না। রাজকুমারীর বিয়ে হয় সোমনাথের সঙ্গে। আসে ১৯৪৭ সাল। বৃটিশ ভারত দুভাগ হয়ে যায়। এই রাজনৈতিক ঘটনা তখন মানুষের মানবিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে ভিন্নমাত্রা পায়। উপন্যাসের নারী চরিত্র মমতা, রাজকুমারীর সামনে চলে আসে উত্তরহীন নানা প্রশ্ন। পুরুষের সঙ্গে নারীর প্রেম এবং অপ্রেমের এবং বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক সমাজ স্বীকৃত না অস্বীকৃত এমন অসংখ্য উত্তরহীন প্রশ্ন নিয়ে উপন্যাস শেষ হয়। উত্তরহীন কিন্তু দিকনির্দেশনাহীন নয়। অমৃতা জানান আধুনিক মনোভাব এবং চেতনার সংঘর্ষে সমাজই সবচেয়ে বড় বাধা। সেখান থেকে না নারী- না পুরুষ, কারোর-ই কোনো নিষ্কৃতি নেই।

তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস পিঞ্জর-এ হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের গল্প বলেছেন অমৃতা। তাঁর লেখা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এটি। এখানে একটি হিন্দু বালিকার কথা বলা হয়েছে যে একজন মুসলিম ছেলেকে পছন্দ করে। এখানে এমন এক নারীর কণ্ঠস্বর খুঁজে পাওয়া যায়, যে দেশভাগের পর কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করে। পারো নামের সেই মেয়েটি নারীদের বিরুদ্ধে যত অত্যাচার ঘটে তার প্রতিবাদ করে। ২০০৩ সালে এই উপন্যাসের কাহিনিকে কেন্দ্র করে ভারতে একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়।

অমৃতার দুটি আত্মজীবনী মূলক উপন্যাসের নাম হরদত কা জিন্দিগীনামা এবং না রাধা না রুক্মিনী। না রাধা না রুক্সিনী মূলত তাঁর প্রেমিক সাহিরকে কেন্দ্র করে রচিত। উপন্যাসের নায়ক হরেকৃষ্ণলাল। তিনি চিত্রকর। সাহির এবং হরেকৃষ্ণ দু’জন কলেজে পড়ে।  দুটি শিখ মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন তারা। কিন্তু একপর্যায়ে তারা দুজনই  প্রেমে ব্যর্থ হয় এবং লাহোরের দুটি মেয়েকে বিয়ে করেন। হরেকৃষ্ণর প্রেমিকা ছিলেন বিব্বো আর সাহিরের অমৃতা। দু’জনের প্রেম তার গন্তব্য খুঁজে পায় বিরহে। বিরহকাতর হরেকৃষ্ণ ছবি আঁকায় মনোনিবেশ করে এবং সাহির রচনা করে গান।

[ তিন]

অমৃতা প্রিতমের লেখা আত্মজীবনীমূলক দুটি উপন্যাসের পর তাঁর স্বীকৃত আত্মজীবনী দ্য রেভিন্যু স্ট্যাম্প পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে তাঁর আত্মজীবনী নিয়ে কথা বলার আগে তাঁর নিজের জীবনের দিকে একটু ফিরে দেখা যাক।

কবিতা দিয়ে শুরু। পরে উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণ কাহিনি, আত্মজীবনী এবং সৃজনশীল গদ্য মিলিয়ে তিনি প্রায় একশটি গ্রন্থ রচনা করেন। অমৃতা, পাঞ্জাবি এবং হিন্দি উভয় ভাষায় লেখালেখি করতেন। জীবৎকালে তিনি পাকিস্তান এবং ভারত উভয় দেশেই জনপ্রিয়তা লাভ করেন। অমৃতা প্রিতম ১৯৫৬ সালে ‘সুনেহ’ কবিতা গ্রন্থের জন্য সাহিত্য একাডেমি, ১৯৮২ সালে পেপার এন্ড ক্যানভাস উপন্যাসের জন্য জ্ঞানপীঠ এবং ২০০৪ সালে ভারতীয় পদ্মবিভূষণ পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয়। প্রথম জীবনে প্রেমের কবিতা লেখার প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল কিন্তু ক্রমান্বয়ে তিনি সাহিত্যের মূলধারার উপযোগী লেখা তৈরি করতে থাকেন এবং একসময় দেশের প্রধান লেখকদের একজন হয়ে ওঠেন। ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত একটি কবিতার বই দিয়ে তাঁর অব্যাহতভাবে লেখালেখির সূচনা। এর কয়েক বছর পর ১৯৪৮ সালে পাঞ্জাবি রিফিউজি হিসেবে তাঁর পরিবার লাহোর থেকে দিল্লিতে ফিরে আসেন।

১৯৩৬ সালে তিনি যে বিবাহিত সম্পর্কে জড়ান সেটি সুখের ছিল না। তাঁর অসুখী দাম্পত্য আর সন্তানের জন্ম নিয়ে তিনি কবিতা লিখতে থাকেন। সেসব কবিতা খুবই আলোচিত হয়। তিনি ক্রমশ নারীবাদী লেখিকা হয়ে ওঠেন। ১৯৬০ সাল থেকে তাঁর লেখায় মূলত তুখোড় নারীবাদী লেখকের ছাপ পরিদৃষ্ট হতে থাকে। সেবছরই তিনি স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান। স্বামীকে ছেড়ে আসার পর তিনি বিখ্যাত কবি, গীতিকার সাহির লুধিয়ানভির সঙ্গে দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যার কথা তিনি তাঁর আত্মজীবনী দ্য রেভিন্যু স্ট্যাম্প-এ বর্ণনা করেছেন। এর পর তিনি বিখ্যাত চিত্রকর ইমরোজ এর সঙ্গে ৪০ বছরের অধিককালের একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

এবার তার আত্মজীবনীর প্রসঙ্গ। ভারতীয় লেখক সাংবাদিক খুশবন্ত সিং অমৃতার নিজের আত্মজীবনী লিখতে যাবার উদ্যোগের কথা শুনে বলেছিলেন, “তোমার আবার জীবনী কি, শুধু এক-আধটা অ্যাক্সিডেন্ট। লিখতে বসলে রেভিন্যু স্ট্যাম্পের পেছনে লিখে শেষ করা যাবে।” এ-কারণে জীবনীর নামকরণ করতে গিয়ে অমৃতা তার নামকরণ করেন রেভিন্যু স্ট্যাম্প। আমরা দেখেছি এ-গ্রন্থ কোনো ক্ষুদ্র পরিসরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর বেড়ে উঠা, তাঁর নিঃসঙ্গ জীবন, তাঁর প্রেম, তাঁর নারীত্বের ছোট ছোট করে জেগে ওঠার গল্প অমৃতা তাঁর আশ্চর্য প্রেমময় ভাষায় তুলে ধরেছেন। পুরুষ বন্ধুদের নিয়ে লেখা আমার কাছের বন্ধুরা গ্রন্থটি রেভিন্যু স্ট্যাম্পের কিছু অংশ নিয়ে নির্মিত। সেখানে তাঁর বন্ধু, মূলত পুরুষ বন্ধুদের কথাই বলা হয়েছে।

ইমরোজ সম্পর্কে তিনি তাঁর আত্মজীবনীতে লেখেন, “আমার নিঃসঙ্গতার অভিশাপ ভেঙেছিল ইমেরাজ। কিন্ত তার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পূর্বে একটা প্রিয় ঘটনা ঘটেছিল- একজন পবিত্র হৃদয়ের পুরুষের বন্ধুত্ব লাভ করেছিলাম।” কে এই পবিত্র হৃদয়ের বন্ধু? অমৃতা জানান, তিনি সাজ্জাদ হায়দার। একবার লাহোর থেকে সাজ্জাদ দিল্লিতে এসে আঠারো দিন কাটান। রাতে থাকতেন মেরিনা হোটেলে দিনে অমৃতার কাছে। সাজ্জাদ ফিরে যাবার পর অমৃতা কবিতায় লেখেন, “হে বিদেশি, কোথাও ডানা বিক্রি হলে আমায় দিও! নইলে থেকে যাও আমার কাছে।” সাজ্জাদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পত্র-বিনিময় বন্ধ হয়ে যায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে, যখন পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে পত্রযোগ বন্ধ ছিল। সে-সময় দিশেহারা হয়ে যান অমৃতা। এরপরই তাঁর জীবনে আসেন ওয়ারিস শাহ নামের এক কবি। যিনি অমৃতাকে নিয়ে কবিতা লেখেন অমৃতাও লেখেন অনেক কবিতা। এসব কবিতার জন্য তিনি তাঁর স্বজাতির দ্বারা সমালোচিত হয়েছিলেন। শিখ সম্প্রদায়ের আপত্তি ছিল কেন অমৃতা ওয়ারিস শাহকে নিয়ে কবিতা লিখছেন। তিনি তো গুরু নাননকে সম্বোধন করে কবিতা লিখতে পারেন। অমৃতা এসবের দিকে কর্ণপাত করেন নি। তিনি তাঁর কাজ করে যেতে লাগলেন।

 

[চার]

অমৃতার নিজস্ব সত্ত্বা সম্পর্কে তাঁর অনুধাবন গভীর দার্শনিক চিন্তাপ্রসূত। তিনি লেখেন, “এমনিতে আমার ভেতরের নারী সর্বদা আমার ভেতরের লেখক থেকে তফাতে থাকে, কয়েকবার এমনও হয়েছে আমি আমার ভেতরের নারীকেও মনে করিয়ে দিতে চেষ্টা করেছি। শুধু লেখকের চেহারা এত বেশি প্রখর হয়ে ওঠে যে আমার নিজের চোখেও নিজের পরিচয় তা থেকে পাই।”

নিজেকে অমৃতার কখনো নারী মনে হতো না। মনে হতো তিনি যেন পুরুষ। তিনটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান এসব ঘটনার পর তাঁর মনে হতে থাকে তিনি নারী। প্রথম, যখন তাঁর বয়স পঁচিশ। কোনো সন্তান হয়নি তখনও। হঠাৎ করে সন্তানের মা হবার ইচ্ছে তাঁর মধ্যে জাগ্রত হয় এবং তখন তিনি  অনুভব করতে থাকেন, তিনি একজন নারী।

সাহির লুধিয়ানভির একবার জ্বর হয়। গলার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ভিকস মাখতে তিনি অমৃতার কাছে আসতেন। অমৃতা সাহিরের গলায় আর বুকে ভিকস মাখতে মাখতে অনুভব করলেন, এভাবে যদি সারাজীবন সাহিরের গলায়, বুকে ভিকস মেখে জীবন কাটিয়ে দেয়া যেত! অমৃতা যে নারী, সেই অনুভূতি আবিষ্কারের দ্বিতীয় ঘটনা এটি। তৃতীয় ঘটনার দিন তাঁর আরেক প্রেমিক ইমরোজ নিজস্ব স্টুডিওতে বসে ছবি আঁকছিলেন। এক পর্যায়ে ইমরোজ তাঁর ছবি আঁকার সরু ব্রাশ দিয়ে অমৃতার কপালে একটি ছোট্ট টিপ এঁকে দেন। এইসময় অমৃতার মনে হতে থাকে, হ্যাঁ, আমি নারী! লেখকের রূপ ভেঙে নারী রূপে জাগ্রত হবার এসব অনুভব বিস্তারিতভাবে তিনি তাঁর জীবনীগ্রন্থে তুলে ধরেছেন। একবার ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা হবার পর অমৃতা তাঁর কাছে জানতে চান, “আচ্ছা ইন্দিরাজী! আপনি নারী, কখনও কি এ প্রসঙ্গ তুলে লোকেরা আপনার চলার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে?” তাঁর উত্তর ছিল, “কিছু অ্যাডভান্টেজ আছে। কিছু ডিস-অ্যাডভান্টেজও। কিন্তু আমি কখনও এ ব্যাপারে লক্ষ করিনি। নারী-পুরুষের পার্থক্য, না ভেবে আমি নিজেকে সর্বদা ‘মানুষ’ বলে ভাবি।”

সাহির আস্তে আস্তে তাঁর জীবন থেকে সরে যান। ইমরোজ রয়ে যান। ইমরোজ চল্লিশ বছর যাবৎ অমৃতার সঙ্গে ছিলেন।

এই অসামান্যা লেখক দীর্ঘ রোগভোগের পর ২০০৪ সালে ছিয়াশি বছর বয়সে পরলোকগত হন। কিন্তু ব্যতিক্রমী লেখক হিসেবে আজও সমাদৃত।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(2)

  1. পড়লাম। ছোট ছোট বাক্যে ভালো লিখেছেন। আমি প্রত্যাশা করেছিলাম ২/১টি কবিতার উদ্ধৃতি। তাতে তাঁর কাব্য নিদর্শনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারতাম।

  2. খুব ভালো লাগলো। উত্তর উপনিবেশিকতা নিয়ে তার কোনো দার্শনিক আলোচনা আছে কিনা। থাকলে তার অনুবাদটা করে জানাবেন।

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close