Home ঈদ সংখ্যা ২০১৭ শত ফুল ফুটতে দাও > ছোটগল্প >> মনিরুল ইসলাম

শত ফুল ফুটতে দাও > ছোটগল্প >> মনিরুল ইসলাম

প্রকাশঃ June 27, 2017

শত ফুল ফুটতে দাও > ছোটগল্প >> মনিরুল ইসলাম
0
0

শত ফুল ফুটতে দাও

সব ফুল তো আর টবে ফোটে না; কিছু ফুল ফুটপাতেও ফোটে। শুধু ফোটেই না, বেড়েও ওঠে বড়ো অযত্নে। আর বস্তির বালিকাটির মতো একসময় পাপড়িও মেলে। গন্ধ ছড়ায়; সুমিষ্ট গন্ধ! সে গন্ধময় বাতাসে শ্বাস নেয় পথচারীরা। অথচ অনেকে ভ্রুক্ষেপই করে না। বরং নাক কুঁচকায়। তবুও সে-ফুলগুলো ফোটে। টবে জায়গা না-জুটলেও ফুটপাতে ফোটে। বেঁচে থাকে যুগ-যুগ ধরে।

আচ্ছা, ফুটপাতের ফুল দিয়ে কি দেবপূজা হয়?- কি জানি, জানি না তো। সম্ভবত বকুলও জানে না। আর জানার আবশ্যিকতা আছে বলেও মনে হয় না। ফুল তো ফুলই- তাই না? ফুলের কোনো জাতপাত নেই বলেই তো সে ফুল, সে সুন্দর, সে পবিত্র। হোক-না তা শ্রাবণের কিংবা চৈত্রের; টবের কিংবা ফুটপাতের। তো, দেবপূজা হোক-না-হোক; ফুল তো আর অপবিত্র হচ্ছে না। অবশ্য কোনো পূজার্চনার জন্য ফুলটি তুলে আনে নি বকুল। এনেছে শহিদবেদীতে দেয়ার জন্য। কিন্তু এখনও দেয়া হয় নি। কী করে হবে? শহিদবেদী তো এখনও রাজনীতিকদের দখলে। তারাই হুড়োহুড়ি করছে, ফুল দিচ্ছে, ফটাফট ফটো তুলছে। অথচ এদিকে যে একজন তরুণ সেই তখন থেকে একটি ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছে, সেদিকে কি কোনো খেয়াল আছে?- হয়েছে! আর খেয়াল! বকুলকে খেয়াল করতে তাদের বয়েই গেছে।

আমি হলে হয়তো এতক্ষণে নেতাগোতাদের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করতাম। গলা ঝেড়ে বলতাম, ‘নাম ব্যাটা ভুঁড়িঅলা! খালি ফটাফট ফটো তুলিস!’ কিন্তু বকুল তা করল না। বরং সে মোলায়েম কণ্ঠে বলল,

-আমার হাতে একটি ফুল আছে; মুক্তিযুদ্ধের রক্তে-ফোটা ফুল। তোমাদের ফুলগুলোর পাশে এ-ফুলটিকেও রাখতে দাও।

এ কী! মুক্তিযুদ্ধের রক্তে-ফোটা ফুল! এ আবার কেমন কথা? রক্তে ফের ফুল ফোটে নাকি? ফুল তো ফোটে পৃথিবীর মাটির রসে। তাছাড়া এ-ফুলটি তো ফুটপাতে ফুটে ছিল। সেখানে তো রক্তের কোনো দাগচিহ্ন ছিল না। তাহলে?- কি জানি! যতটুকু জানি: এখানে আসার সময় এ-ফুলটির স্বর শুনেছিল সে। পুষ্পস্বর। শোনামাত্র থমকে দাঁড়িয়েছিল। কান পেতেছিল খুব কাছাকাছি। একবার নয়, দু-বার নয়; বেশ কয়েকবার শুনেছিল সেই স্বর। কিন্তু পুষ্পস্বর! সেটা আবার কী? অলৌকিক কিছু নয় তো?- না, না, অলৌকিক হবে কেন? অলৌকিক কিছু হলে তো আকাশের চাঁদে হতো। পৃথিবীর পুষ্পে ওসব হতে যাবে কেন! চাঁদের ব্যাপারটা না-হয় আলাদা। বিলেতি পোশাক পোড়াতে গিয়ে যে-চাঁদে চরকা দেখা গেছে, ধর্ষককে বাঁচাতে গিয়ে সে-চাঁদেই আবার দাঁড়ি-টুপির দেখা মিলেছে। পাশের পাড়ায় গরুখাদককে হত্যা করার সময় ঐ চাঁদটাতেই যে শিবলিঙ্গ দেখা যায় না, সেটাই-বা বলছে কে? তাই চাঁদের কথা থাক! কিন্তু ফুলের কথা শোনা, এটাই-বা হয় কী করে?

আচ্ছা, পুষ্পস্বর শোনার ভান করে বকুল আবার আকাশমানুষ হতে চাইছে না তো?- না, না, তা কী করে হয়? বকুল তো আর সিজোফ্রেনিক রোগী নয়। সে ভালো করেই জানে- সময় এখন বেশ সেয়ানা। আজ যদি সে অযৌক্তিক-অবাস্তবতায় অলৌকিকতার দোহাই দেয়; তবে কালকেই সময় তার নিন্দা করবে। এখন কথা হচ্ছে- এসব সে জানেই যখন, তখন সে-পুষ্পস্বরই-বা সে শুনল কী করে! তাও একবার নয়, দু-বার নয়; বারবার। কোথাও কি কোনো ভুল হচ্ছে, নাকি পুষ্পপ্রাণের সঙ্গে তার প্রাণস্পন্দন মিলে গেছে? একই স্বর শ্রুত হচ্ছে শরীরের স্নায়ুতন্ত্রীতে? আমার মাথায় কিচ্ছু ঢুকছে না। অবশ্য আমার মতো আবালের মাথায় এসব ঢোকার কথাও নয়।

আচ্ছা, এখন এসব থাক! আসল কথাটা হচ্ছে- বকুল যখন সেই পুষ্পস্বর শুনল, তখন কী জানি মনে করে হাতের ফুলগুলো ছুঁড়ে ফেলল দূরে। অনেক দূরে। যে-ফুলগুলো সে টাকা দিয়ে কিনেছিল; আর বিক্রির জন্যই চাষ করা হয়েছিল যে-ফুলগুলো। তারপর এই ফুলটি তুলল সে। প্রাণভরে শ্বাস নিল। গন্ধ শুঁকল, এখনও শুঁকছে। আর এখনও শুনে যাচ্ছে সেই পুষ্পস্বর, যে-স্বর বেরিয়ে আসছে অস্ফুট স্বরে। যেন তারা কেউ না শোনে!
আমার নাম নীলু। নামটা কে দিয়েছিল, জানি না। তবে রবি আমাকে  ‘ষোড়শী’ বলে ডাকত। তখন ষোল বছরের সর্বনাশী হয়ে উঠেছিনু কি না, তাই। কিন্তু সর্বনাশীর কপালে কি আর সোহাগ জোটে?- জোটে না যে! লোকে বলত : আঁতুড়ঘরে মাকে আর বড়ো হয়ে বাপকে খেয়েছি। তারপর যে-বুড়োর ঘাড়ে চাপলাম, যুদ্ধকালে সে-বুড়োকেও খেলাম! সত্যিই কি খেলাম, নাকি খেলার পুতুল হলাম? সে-রাতে তারা আমাকে তুলে নিয়ে এল। আর পেছনে গড়াগড়ি করতে থাকল আমার বুড়ো দাদু। একটা বুলেটের এত জোর!

দাদুর সঙ্গে সেদিনই শেষ দেখা। রবির সঙ্গেও। সেদিন সন্ধ্যার আড়ালে ও চুপিচুপি দেখা করতে এসেছিল। খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে ঢাকা পড়েছিল ওর ভাঙা মুখটা। ওর অমন শুকনো মুখ আগে কখনও দেখি নি। মুখটা দেখে আমার বেশ কান্না পাচ্ছিল। বড্ড মায়া হচ্ছিল আমার। কিন্তু গর্বও হচ্ছিল খুব।- হবে না? আমার রবি যে মুক্তিযোদ্ধা। এমন সৌভাগ্য ক’জন হয়? তবে সেদিন সৌভাগ্য নিয়ে অতোটা ভাবি নি। সেদিন বরং বেশ ভয়ই পাচ্ছিলাম। লোকমুখে শুনতাম- যুদ্ধে নাকি অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই তখন ভয়ে আমার শরীরটা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল। ভগবান না-করুক, আমার রবির যদি কিছু হয়ে যায়!

গত দু’দিন ধরে আমার মন কেন জানি বলছিল, রবি আসবে। তাই কী যেন মনে করে সেদিনই সকালে কিছু মুড়ি ভাজতে বসেছিলাম। না, কৌটার কড়াইয়ে চেতনার চড়চড়ি না। মাটির খোলায় চালের মুড়ি। কিন্তু শেষ করার আগেই সেই খবরটা শুনে আঁতকে উঠেছিলাম। চুলোর মুড়ি চুলোতেই পড়ে ছিল, আমি ছুটে গিয়েছিলাম মন্দিরে। ফিরে এসে আর বসা হয় নি। তবু সে-পর্যন্ত যেটুকু ভেজেছিলাম, সেখান থেকেই এক থালা মুড়ি ওকে খেতে দিলাম। সঙ্গে নিপেন কাকার বাড়ির খেঁজুর গুড়। ওখানে দাঁড়িয়েই ও একমুঠো মুখে পুরে দিল। ছলছল করে উঠল আমার চোখ দুটো। কিছুই বলতে পারলাম না। শুধু দেখলাম। ও চোখ মুছিয়ে বলল, তোমায় ভালবাসি নীলু।

এ-কথা শুনে ভেতরটা নড়া দিয়ে উঠল। ভেঙে পড়লাম আমি। শত চেষ্টা করেও আর চোখের জল আটকাতে পারলাম না। ওর হাত দুটো চেপে ধরে বললাম, যেও না। চল, ইন্ডিয়া চলে যাই!

ও অনেকক্ষণ ধরে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল। অনেকক্ষণ। ততক্ষণে আমি জিভ কামড়ে ধরেছি। তারপর খুব শান্ত কণ্ঠে বলল, ভেগে যাওয়ার কথা বলছ ষোড়শী!

ভেগে-যাওয়া! হ্যাঁ, ভেগে যাবার কথাই বলেছিলাম তাকে।

-কেন, বলব না কেন? শুধু কি ওকে ভালবেসেছি; ঘর বাঁধার স্বপ্ন কি আমি দেখি নি? স্বদেশে যদি সে-সাধ না মেটে; তবে বিদেশেই না-হয় বাসা বাঁধব। ভেগেই যদি যেতে হয়; তবে ভাগতে দোষ কী?

এত কিছু হয়তো এখন ভাবছি; কিন্তু তখন এতটা ভাবতে পারি নি। কাঁদো-কাঁদো কণ্ঠে শুধু বলেছিলাম, তোমাকে ভালবাসি রবি।

এর বেশি আর কিছু বলতে পারি নি। রবিও আর বেশিক্ষণ থাকে নি। থালার মুড়িগুলো গামছায় বেঁধে ও আবার চলে গিয়েছিল। আমি দাঁড়িয়েই ছিলাম। আমার অশ্রুর বাঁধ ওকে আটকাতে পারে নি। সে-বাঁধ ভেঙেই ও চলে গিয়েছিল; ওকে যেতে হয়েছিল। আমি আর বাধা দিতে পারি নি। শুধু সে-স্বপ্নটা বুকে বেঁধে বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তা আর হল কই!

আমার স্পষ্ট মনে পড়ে: ও যখন দাদুকে প্রণাম করল, দাদু তখন ওকে বুকে জাপটে বলেছিল, তুমি যাও দাদু। আমি আছি।

কিন্তু দাদুরও আর থাকা হল না। একে তো সকালবেলার ভাঙা মূর্তির মতো করে ভেঙে পড়েছিল; তারপর আবার সেই অঘটনটা ঘটল। ভেঙে-পড়া বুড়োটাকেও আর বাঁচতে দিল না তারা! বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে মেরে ফেলল! তখন রবির কথা খুব খুউব মনে পড়ছিল। সে-সন্ধ্যাতেই ও যদি না যেত; তবে হয়তো…কী আর হতো! হয়তো কিছু হতো, নয়তো না-হতো। কিন্তু ও কাছে থাকলে একটু সাহস পেতাম। বাঁচতে হয়তো পারতাম না; দু’জনেই একসঙ্গে মারা পড়তাম। কিন্তু যুদ্ধের সময় সেটাই-বা কম কিসে!

নারী হয়ে জন্মেছি যে, নরের বলি না হয়ে পারি! কিন্তু যারা বলি দিল, তারা কিন্তু মিলিটারি ছিল না। নিজ গাঁয়েরই লোক ছিল তারা। তারাই আমাকে তুলে নিয়ে এসেছিল মিলিটারি ক্যাম্পে। তাদেরকে দেখামাত্র দাদু চিনে ফেলেছিল। চিৎকার করে তাদের নাম বলছিল দাদু। আমি হেঁসেলের খড়িগাদার আড়ালে লুকিয়ে সব শুনছিলাম। রবি যে এখানে এসেছিল, সেটা তারা জেনে গেছে। তাই সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে তাকে খুঁজছিল তারা। কিন্তু রবি তো ছিল না, তাই তাকে পায় নি। কিন্তু তাকে খুঁজতে গিয়ে আমাকে পেয়ে গেল লোকগুলো। টেনে হিঁচড়ে বের করে আনল বাইরে। আমাদের হাতজোড়, পায়ে ধরা, কাকুতি-মিনতি সব বৃথা গেল। আমি দু-চোখ বুঁজে ‘দাদু, দাদু’ বলে গলা ফাটাচ্ছিলাম। আর দাদুর রক্তাক্ত দেহটা গড়াগড়ি করছিল এ-মাটিতে, যে-মাটিতে তারা আজও সদম্ভে হেঁটে বেড়ায়। আজও! আজও আমার বুকে কাটা দিয়ে ওঠে।

সেদিন সকালে দাদুর পূজার্চনা সারা হয় নি। ঐ একটা দিন, মনে পড়ার মতো ঐ একটাই দিন, যেদিন ভোরে তাঁর পুজোর ফুল পায়ের তলায় চাপা পড়েছিল; কৃষ্ণের কাছে পৌঁছে নি। রোজকার মতো সে-সকালেও দাদু মন্দিরে গিয়েছিল। কিন্তু আমাদের কৃষ্ণমন্দিরটি আর আগের মতো ছিল না। গত রাতে কারা যেন ওলোটপালোট করে গিয়েছিল সবকিছু। চালার খড়গুলো ছড়িয়ে ছিল পায়ের তলায়। তুলসীগাছগুলো মেড়েমুচড়ে-উপড়িয়ে ফেলেছিল। এখানে-সেখানে পড়ে ছিল রাধাকৃষ্ণের হাত-পা-বাঁশি।

দাদুর হাউমাউ শুনে অনেকেই জড়ো হয়েছিল সেখানে। না, শুধু হিন্দুই না; ক’ঘর মুসলমান ছিল, তারাও গিয়েছিল। মুড়িভাজা ফেলে আমিও ছুটে গিয়েছিলাম এর-ওর পিছু-পিছু। বেশকিছু লোক জড়ো হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু কেউ কোনো কথা বলছিল না। শুধু হা করে তাকিয়ে দেখছিল। তাছাড়া, হা করে তাকিয়ে-থাকা ছাড়া, তখন তারা বলতই-বা কী; শুনতই-বা কে? আর এখনই-বা কে শোনে?

আমি কিছুতেই বুঝতে পারলাম না–এরা কারা, যারা ভগবানের মূর্তি ভাঙে? এরা কি মুসলমান, নাকি রাজাকার? কারা এরা? কেউ কোনো উত্তর দিল না। আসলে প্রশ্নই করতে পারলাম না তো উত্তর পাব কিভাবে? কিছু জানতে গেলে যে কিছুটা সাহসও লাগে। সে-সাহসটুকুই-বা পাব কোথায়? অতোসব ভাবতে গিয়ে আমার মাথাটা ঘুরতে লাগল। মনে হল: পড়ে যাব। পাথুরে মূর্তিতে মাথা থেঁতলে মরে যাব। কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত আমি পড়লামও না, মরলামও না। আরও কিছু দেখার জন্যই হয়তো আরও কয়েক প্রহর বেঁচে থাকলাম আমি।

বেঁচে থাকলাম হয়তো রবির মুখটা শেষবারের মতো দেখব বলে। ওর মুখ থেকে সে-স্বপ্নের কথাটি আরেকটি বার শুনব বলে। আচ্ছা, আমি যদি ক্যাম্প থেকে পালাতে পারতাম; তবে রবি কি আমাকে মেনে নিতে পারত না?

ধুর! কেন পারত না? মন তো বলে : ও পারত। মেনে নেয়ার মতো পুরুষোচিত সাহস ছিল ওর। আর সাহস ছিল বলেই তো সে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, এ দেশ একদিন স্বাধীন হবেই ষোড়শী। সেদিন সে স্বাধীন দেশে আমরা সংসার গড়ব। ভালবাসার সংসার।

সংসার, ভালবাসার সংসার! সে-সংসার গড়ার সৌভাগ্য তো আমাদের হল না! অন্য কারও হয়েছে কি?
বকুল এখনও শুনে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের রক্তে-ফোটা ফুলটির কণ্ঠস্বর। সেই পুষ্পস্বর, যে-স্বর এখনও বেরিয়ে আসছে অস্ফুট স্বরে। যেন তারা কেউ না শোনে! কিন্তু কারা না শোনে?

-আমি জানি না। বকুল জানে কি না, তাও জানি না। যতটুকু জানি : এখানে আসার সময় সে এ-পুষ্পস্বর শুনে থমকে দাঁড়িয়েছিল। আবার শুনেছিল; শুনেছিল বেশ কয়েক বার। ফুলটি তখন বারবার করে বলছিল, দেখ, এই ফুটপাতে আজ আমি ফুল হয়ে ফুটেছি। শহিদবেদীর সবুজতলে আমার রবি হয়তো শুয়ে আছে। ওর কাছে আমাকে কি একটু পৌঁছে দেবে!

হ্যাঁ, পৌঁছে দেয়ার জন্যই তাকে নিয়ে এসেছে বকুল। কিন্তু এতক্ষণ ধরে সেই এক জায়গাতেই সে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ সে খেয়াল করল : তার আশেপাশে কেউ নেই। আছে শুধু সবুজ ঘাস, শহিদবেদী, আর বহমান সময়। হ্যাঁ, চলে গেছে; ফটাফট ফটো-তোলা ফটোম্যান নেতাগোতারা চলে গেছে। বাতাসে উড়ে গেছে তাদের কিনে-আনা ফুলগুলো। কিন্তু সবার অলক্ষ্যে সময় যে ফুলবীজগুলো বুনে দিয়েছে সবুজ ঘাসের মাটিতে, সেই আসল বীজগুলো থেকে অঙ্কুরিত হচ্ছে একেকটা ফুলগাছ। একেক শাখায় ফুটছে কত শত ফুল।

সহসা বকুলের কানে ভেসে এল আরেকটি কণ্ঠস্বর। কোনো এক নৈশপ্রহরীর কণ্ঠস্বর এটি। মধুর, কিন্তু দৃঢ়; মোলায়েম কিন্তু তীক্ষ্ণ। শান্ত অথচ শাণিত কণ্ঠে তিনি বললেন, তুমি এখনও দাঁড়িয়ে আছ কেন? যাও, এক্ষুনি যাও; শহিদবেদীতে এই ফুলটিকে রেখে এস। কেউ না জানুক, আমরা তো জানি- সময়ই ফুটিয়েছে এই ফুলটিকে। এই ফুলের বীজ থেকেও অঙ্কুরিত হবে একেকটা ফুলগাছ। একেক শাখায় ধরবে কত-শত ফুল। শোনো, ফুলের কোনো জাতপাত নেই। শত ফুল ফুটতে দাও, তাহলেই তুমি খুঁজে পাবে সেই মানুষটিকে।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close