Home অনুবাদ শহীদ কাদরী > দুটি অগ্রন্থিত অনূদিত জাপানি কবিতা >> সংগ্রহ ও ভূমিকা : মাসুদুজ্জামান

শহীদ কাদরী > দুটি অগ্রন্থিত অনূদিত জাপানি কবিতা >> সংগ্রহ ও ভূমিকা : মাসুদুজ্জামান

প্রকাশঃ August 28, 2017

শহীদ কাদরী > দুটি অগ্রন্থিত অনূদিত জাপানি কবিতা >> সংগ্রহ ও ভূমিকা : মাসুদুজ্জামান
0
0

শহীদ কাদরী > দুটি অগ্রন্থিত অনূদিত জাপানি কবিতা

ভূমিকা

মৌলিক কবিতা লেখার পাশাপাশি শহীদ কাদরী অন্য ভাষার কবিদের বেশকিছু কবিতা অনুবাদ করেছিলেন। এই অনুবাদগুলি তিনি করেছেন ইংরেজি থেকে বাংলায়। এখানে প্রকাশিত দুটি কবিতাও তিনি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছিলেন। অনূদিত এই কবিতা দুটি প্রকাশিত হয়েছিল মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘পূবালী’তে। প্রকাশকাল : নভেম্বর ১৯৬৮।এই অনুবাদ ছাড়া তাতে কোনো কবি-পরিচিতি বা অন্য কোনো তথ্য ছিল না।

এখানে সংক্ষেপে যে দুই কবির কবিতা তিনি অনুবাদ করেছিলেন তাঁদের পরিচয় তুলে ধরা হলো :

ইশিকাওয়া তাকু বোকু > জাপানের কবি। জন্ম : ১৮৮৬ সালে, মৃত্যু : ১৯১২। কবিতার ‘আধুনিক শৈলী’ আর ‘মুক্ত-শৈলী’র জন্য তিনি খ্যাতিমান ছিলেন। প্রথমে প্রকৃতিবাদী মেইওজো গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বোকু। পরে, ‘সমাজবাদী’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১০ সালে On Knowing Oneself Too Well শিরোনামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাঁর নির্বাচিত অনূদিত কবিতার একটি সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।

নাকাহারা চুইয়া > জাপানের ইয়াগুচি শহরে ১৯০৭ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন আর মৃত্যু ১৯৩৭ সালে, কানাগাওয়া শহরে। ‘শোয়া’-কালের প্রখ্যাত কবি ছিলেন তিনি। খুব অল্পবয়সী এক ভাইয়ের মৃত্যুশোক কাটিয়ে ওঠার জন্যে তিনি কবিতা রচনা শুরু করেছিলেন বলে মনে করা হয়। ১৯২০ সালের দিকে তাঁর কবিতা নারী-বিষয়ক কিছু পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। প্রাথমিক পর্বে তিনি জাপানি তঙ্কা রীতিতে কবিতা লিখেছেন। পরে দাদাবাদীদের আধুনিক ফ্রি-ভার্সের প্রতি আকৃষ্ট হন। প্রতীকবাদী কবি আর্তুর র‌্যাঁবো এবং পল ভেরলেইনের কবিতা তিনি জাপানি ভাষায় অনুবাদ করেন। র‌্যাঁবোর মতোই তিনি বেছে নিয়েছিলেন এক উড়নচণ্ডী জীবন। আধুনিকতাবাদী ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকায় প্রথম দিকে জাপানের অনেক পত্রিকা তাঁর কবিতা প্রকাশ করেনি। কিন্তু আমাদের জীবনানন্দের মতো মৃত্যুর পর এখন তিনি জাপানের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে সমাদৃত।

শহীদ কাদরী ইশিকাওয়া এবং নাকাহারা চুইয়ার যে দুটি কবিতা অনুবাদ করেছিলেন, সেই কবিতা দুটির ইংরেজি অনুবাদ বা মূল জাপানি কবিতার সন্ধান পাইনি। এখানে বাংলায় অনূদিত তাঁর দুটি কবিতা পুনঃপ্রকাশিত হলো।

 

যৌবনের গাথা > মূল রচয়িতা : ইশিকাওয়া তাকু বোকু

পাহাড়ের ওপর থেকে পাথর খণ্ড

যেমন গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে

আমিও তেমনি এলাম এই দিনের প্রান্তে।

 

ফেরার উপায় নেই আর

চতুর্দশ বয়সের সেই বাসন্তী সাঁঝে

যখন নিজেই নিজের নাম ধরে ডেকে

ডুকরে উঠেছি কান্নায়।

 

এমনকি নিদ্রার ঘোরেও ওষ্ঠ বাজিয়েছে শীস

বস্তুত সুতীক্ষ্ণ শীস ছিলো

আমার পনেরো বছর বয়সের একমাত্র গান।

 

যৌবনের বিহ্বল চোখে

ঈর্ষান্বিত আমি তাকিয়ে দেখেছি

ডানা-অলা পাখিদের

যারা ওড়ে এবং গানও গায়।

 

একদা এক হানাবাড়ীতে একা

সিগারেটে নিঃশব্দ সুখটান দিয়েছি

সে কেবল একলা থাকার বাসনায়

নিজেকে নিজের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী জেনে।

 

ভীত, সন্ত্রস্ত চিত্ত, প্রেমেও পড়েছি

এবং করুণার পাত্র আমি

হয়েছি বোনের, যে অনবরত তাকিয়ে

থাকতো আমার চোখের পরে চোখ পাকিয়ে।

 

ইস্কুল থেকে দূরে,

জানালা টপকে পালিয়ে

একটি প্রাচীন দুর্গের ধ্বংসস্তূপে

আমি শুয়ে থেকেছি একা-একা।

 

কী মধুর

জলের ধ্বনি, উচ্ছ্বসিত জলধারা!

যৌবনের উজ্জ্বল আত্মা ধারণ ক’রে আমি

দেখেছি এ-সব।

 

যেন পুরনো বন্ধুকে আবার

দৃষ্টির তারায় ফিরে পাওয়ার

আনন্দের মত শ্রুতি ভরে নিলাম

এই শান্ত জলের ধ্বনি।

 

স্বপ্নের স্বচ্ছলতা থেকে জেগে ওঠার পর

দুঃখ আবার আমাকে দখল করে নিলো

আমার ঘুম এখন আর শান্তিতে-ভরা নয়

সেই আগের মতো।

 

আমার যৌবনের নির্ভার আত্মা

ভেসে গেছে সুদূরে, কোন অচেনা সুদুরে

ভোঁ-কাটা ঘুড়ির মতো

বাতাসের খামখেয়ালী স্রোতে।

 

মৃত্যুর মুহূর্তে > মূল রচয়িতা : নাকাহারা চুইয়া

হেমন্তের বিবর্ণ আকাশের নীচে

একটা কালো ঘোড়ার চোখে

আলো জ্বলজ্বল করছে।

জল শুকিয়ে যায়, পুষ্প ঝরে পড়ে,

হৃদয় শূন্য, ফাঁকা।

 

ঈশ্বরহীন, সহায়হীন, এক মহিলা

তার ঘরের জানালার পাশে পড়ে আছ, মৃত।

কেউ দ্যাখেনি

আকাশ দৃষ্টিহীন

বাতাস, ঠাণ্ডা, শাদা।

 

যখন সে জানলার ধারে দাঁড়িয়ে

ধোয়া-মোছা করতো তার খুলে ধরা চুল,

কচি চারার ডাঁটার মতো নরম তার হাত

ভোরের সূর্য যেন গড়িয়ে পড়তো ফোঁটায়-ফোঁটায়

জলের আওয়াজ ছড়িয়ে যেতো মেঝেয়।

সমস্ত রাস্তা ভরে ছিলো কলধ্বনি :

ছেলেমেয়েদের কণ্ঠের ঝংকার,

কিন্তু, বলো, পরিণামে এ আত্মার কি হবে?

সে-কি নিঃশব্দে মিলিয়ে যাবে শূন্যতায়?

কভারে ব্যবহৃত স্কেচ : মাশুক হেলাল, সৌজন্যে প্রথম আলো।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close