Home কবিতা শামশাম তাজিল >> ৫টি নতুন কবিতা
0

শামশাম তাজিল >> ৫টি নতুন কবিতা

প্রকাশঃ January 22, 2018

শামশাম তাজিল >> ৫টি নতুন কবিতা
0
0

শামশাম তাজিল >> ৫টি নতুন কবিতা

 

বিশোধক

 

তোমাকেই পাঠ করে জেনে নিই কামের সুবাস;
বন্দরে লোকের আনাগোনা বাড়ে- নিমন্ত্রণহীন
যারা এসে পড়ে রাতে আবশ্যিক তাদের নিবাস,
জানি, তোমাকেই দিতে হবে গড়ে, তাই চিরদিন
ভরসা করেছি ইন্দ্রাতীতে। কামনার কারাগৃহ
থেকে ছুটে গিয়েছি বৃত্তাকৃতির উদগ্র খোলস
ভেঙে। তবু ঘূর্ণনশীল থেকেছি নিয়ত নিরীহ
প্রাণ। কেন্দ্রাতিগ বল অতিক্রম্য জেনে মদালস-

রাত্রিতে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি পাঠ করেছি মধুর
সুরে,- বিব্রত হয়নি পাশে বসা নারী ও যুবক;
ছড়িয়েছে সু্গন্ধী অনাঘ্রাতা রমণী ও ময়ুর।
শয়তান সেও ছিল উপবিষ্ট, ছিল লোভী বক।
তর্কে মিলে নাই কিছু, উত্তেজক রাত্রি শেষ হয়
ঘুমতীর্থে রমণীর শাড়ি অগ্নিতে পোড়ে সংশয়।

 

ব্যবহারিক অভিধান
মাঝে মইধ্যে বৃষ্টির কারণে যাওয়া হয় না। তখন
ঘরেই বইসা থাকি।
ঘরে বইসা থাকলে আব্বা রাগ করেন। তার চোখে আতঙ্ক দেখি-
তিনি আমার ভবিষ্যত নিয়া চিন্তিত আছেন।

কলেজ থাইকা ফিরা দুপুরে একটু ঘুমাই। এতে বউ রাগ করে।
আবার সন্ধ্যায় পড়াইতে যাই বইলা সে আমারে ডাকে প্যাঁচা!
আম্মায় প্যাঁচার জন্ম দিয়া লজ্জায় কুঁকড়াই থাকেন
তার দ্বিধান্বিত চোখের দিকে তাকাইলে মনে হয়
তার নড়ার সক্ষমতা নাই- তারে তাড়া করছে দ্রুতগামী ট্রেন

সন্ধ্যা নামলে আমি পড়াইতে যাই
ত্রোটী

 

ধীবরের চোখে দৃষ্টি ফেলে মাছরাঙা খুঁজে নেয় নিশানা।
মানুষ জলের ব্যাকরণ শিখে হাওয়ায় কসরত করে শিকার। হাওয়া বদলে গেলে যারা স্থান পাল্টায় তাদের বলেছ যাযাবর। অথচ তাদের পদচিহ্ন ধরে সভ্যতা এগিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকা হয়ে সুদূর বরফের দেশে তারাই গড়েছে উদ্যান।
স্থানের নীতি মানে মাছরাঙা- সেই বর্ণবাদী, তাতে সত্যের স্খলন ঘটে না, বরং তা প্রতিষ্ঠা পায় সহজাতরূপে।
মূলত শিকারে সমস্যা না থাকলেও মগজ স্বীকার অনীহ – এই সত্য পুনঃপুন প্রতিষ্ঠা পায় পথে। পাখির পথ ভুল হয় না, শুধু ওড়ার ইচ্ছা নিয়ে বেঁচেও আমরা উপলব্ধি করি না হাওয়ার ব্যাকরণ।
ব্যাকরণ
নারীর শরীর ভর্তি নদী।

– এই কথা বলা মাত্র পাশের সিটে বসা ম্যাডাম চোখ বড়ো তাকালেন
আমি চোখে সামান্য লজ্জার পর্দা নামিয়ে দিলাম
পর মুহূর্তেই তিনি খিলখিলিয়ে হেসে উঠলেন
আমি দেখলাম, উত্তাল নদীটি সাগরে মিশে যাচ্ছে
তিনি বললেন, আমাদের বাড়ির ছাদ থেকে ভালো নদী দেখা যায়, দিগন্তপ্রসারী।
তলিয়ে যাবো না তো ?
এই বলে উঠেই যাচ্ছিলাম
শুনতে পেলাম, পরিহাসপ্রবণ কণ্ঠে বলছেন :
ভয় নেই ডুবে যেতে যেতে না হয় ধরে নেবেন শাড়ি!

 

সন্ধি

 

অবাধ বাণিজ্যের দাবি নিয়ে এসেছ,
বৈধতার চিহ্ন কই?
প্রবেশ নিষেধ।- এই বাক্যে থমকে গিয়ে খুঁজে ফেরো চাবি!
ঘরনির সঙ্গ তুমি পাবে
কিন্তু চৌকাঠ পেরুতে মাঝে মাঝে দরজাকেও বিয়ে করতে হয়।

 

কভার ডিজাইন >> পাপিয়া জেরীন

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close