Home পঠন-পাঠন শামীম আজাদ >> শব্দে-শব্দে জীবনানন্দে

শামীম আজাদ >> শব্দে-শব্দে জীবনানন্দে

প্রকাশঃ November 12, 2017

শামীম আজাদ >> শব্দে-শব্দে জীবনানন্দে
0
0

শামীম আজাদ >> শব্দে-শব্দে জীবনানন্দে

[সম্পাদকীয় নোট : জীবনানন্দকে ঘিরে এবার নিজের অনুভূতির কথা জানালেন কবি-কথাকার শামীম আজাদ। জীবনানন্দের জন্মদিনে শুরু হয়েছিল এই আয়োজন। আজ শামীম আজাদেরও জন্মদিন। এ উপলক্ষে তীরন্দাজের শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে প্রকাশিত হলো তার জীবনানন্দ বিষয়ক এই লেখাটি। পড়ুন তীরন্দাজে।]

তাকে পান করলে বুঝি আমাকে সে কেবল বিভ্রান্ত করে। আর আমি ঘোরগ্রস্ত হয়ে যাই। কী এক বিপন্ন বিস্ময় কাজ করে। আহত হয়েও চেয়ে থাকি তার পানে। আমার অতি নিজস্ব জীবনানন্দ আমাকে কিছুতেই শান্তি দেয় না। স্বস্তি দেয় না বরং পাগল করে আরো। আমাকে অস্বস্তিতে রাখাই জীবনানন্দ দাশের কাজ। না তাকে ধরতে পারি, না তাকে রেখে ছুটতে পারি। এ এক প্রবল আঠা। আর আমি তার কাঙ্ক্ষিত দইরল। আমি বার বার তাঁর ফাঁদে ধরা পড়ি। অনেকটা উন্মাদ ভালোবাসার মতো।
বহুদিন থেকে আমি আমার রোমে রোমে সেই টান টের পাই। কাছে গেলে গণ্ডুষ ভরে পান করলে কেমন বিভ্রান্ত হয়ে থ হয়ে বসে থাকি। নিশ্চিত জানি ঐ বিভ্রান্তিই আমার আশ্চর্য চুম্বক। তার প্রতিটি লাইনে ভিন্ন কিছু ঝুলে থাকে, টলতে থাকে, বসা থাকে ছায়ার মতো। অবয়ব দেখার আগে আগেই তাকে দেখা যায়। এমনই ধনাঢ্য কারুকার তিনি যে আমাকে বলেন, তুমি শুধু বসে থাকো শামীম। শুনতে চাইলে শুনতে পারো। ভাবতে চাইলে ভাবতে পারো। স্পর্শের স্বাদও তোমার জন্য তোলা আছে। দেখেছি পুরো লাইন এসে কি যেন কি বলে যায়- শব্দগুলো হাতের চেটোতে উল্টায় পাল্টায়। সেটুকুর স্বাদ নিলে তা আবার অন্য ব্যথার কথা বলে। এ এক আজব ব্যাপার!
যখন আমার অনেক লিখতে ইচ্ছে করে কিন্তু মন উড়ছে, তখন জীবননান্দই আমার মতি স্থির করা বুকের পেণ্ডুলাম। আমার ভেতরে যে ধাতব গুঁড়ো আছে। বিষন্ন বাতাস আছে। ঋতুর মতো। গুহার কালো ছায়ার মতো। তার সব কিছুকে দুম করে কলার ধরে থামিয়ে দিতে পারে আমার জীবননান্দ। আমি তাতে মত্ত হয়ে পড়ি। তাকে পড়লেই একটা কূল-কিনারা পেয়ে যাই।
জীবনানন্দ হয়তো আমার সুখের মতো ব্যথা। এই যে ব্যথা তার সঙ্গে প্রথম কবে দেখা আজ আর মনে করতে পারিনা। তবে এটুকু মনে আছে তাকে হাতে পেয়ে নতুন করে কচুর সবুজ, মুথা ঘাসের মায়া, হাঁসের হলুদ পা, ছাতার মতো বড় পাতাটির নিচে বসে থাকা পোকাটা, উপুত হয়ে জলে-ভাসা কাঠচাঁপা দেখলাম। ওদের পাশের মৃদু রূপ, রঙ ও ভাষা সবই দেখলাম। মনে হয়েছিলো এ কেমন কবিতা না বুঝলেও ঠোঁটে বসে আছে। প্রতিটি পঙক্তিতে আমার প্লাবন এসে যাচ্ছে!
আমার মাত্র কয়েকটি গয়না আছে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বোদলেয়ার, বেঞ্জামিন (জাফানায়া) ও জীবনানন্দ। নিজেকে সুন্দর দেখাবার জন্য তাই শব্দে-শব্দে জীবনানন্দে সাজতে পারি। সুন্দর হয়ে উঠতে পারি। এই আমার গরিমা, আমার অহংকার।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close