Home কবিতা শামীম রেজা >> স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা
0

শামীম রেজা >> স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশঃ January 8, 2018

শামীম রেজা >> স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা
0
0

শামীম রেজা >> স্বনির্বাচিত একগুচ্ছ কবিতা

 

[সম্পাদকীয় নোট : গত শতকের নব্বই দশকের একজন উল্লেখযোগ্য কবি শামীম রেজা। নিজস্ব স্বর ও শৈলীর সূত্রে ইতিমধ্যে তিনি কবিতা-পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এখানে সংকলিত কবিতাগুলিতে ঘটেছে সেই ভাষা ও স্বরায়ণের উজ্জ্বল উপস্থিতি।]

 

স্ক্যান্ডাল

কত কত গুজব তোমায় নিয়ে, কত শত স্ক্যান্ডাল
তোমার চাঁদ দুটো নিয়ে অনেক গল্প ছড়ালো
পাড়ায় পাড়ায়, মাঠে চাঁদ কেমন কেমন
জোছনা ছড়ালো একা একা; সবুজ মায়া…
তোমায় নিয়ে পুরাকালে মূর্তি বানানো ছিলো
সে সব মূর্তি দেখে কেউ কেউ বললো,
এ-তো রাধার, গোপন শৃঙ্গারমূর্তি
কেউ বললো অষ্টাদশী নয়, এ তো কিশোরীলো
পহেলা শ্রাবণী, কেউ বললো মা-কুমারেশ্বরী
এসো তোমায় প্রণাম করি, কেউ বললো
ওকে তো চন্দ্রিমা উদ্যানের মূল ফটকে
দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি…
আরে ওতো আমার সাধিকা
কেউ কেউ বললো, ওতো পদ্মাপাড়ের মেয়ে
জেলেদের ঘরেই বেড়েছে, দেখছো না? নাকছাবি
প্রবাস থেকে কে একজন চিনে ফেলেছে তোমাকে!
সে নাকি দেখেছে লেক অন্টারিয়র পাড়ে একা,
…বিষণ্ন একা।
একজন এসে দাবী করে বসলো, সে তোমার
আপন মানুষ; তোমাকে নিয়ে অনেক কথাই হলো
অনেক ভালোবাসাবাসী হলো; পাহেল গাঁও থেকে
অচেনা এক পাখি এসে জানিয়ে গেল
তুমি কে আমার।

তুমি একটুতে ভেঙে পড়, একটুতে জল
কলঙ্ক গাছের দিকে তাকাতে ভয়
চেয়ে দেখো কলঙ্ক গাছেতে ওই
ঝুলে আছে, বেহেস্তি-ফল।
তোমাকে নিয়ে অনেক কথাইতো হবে
অনেক কথাই হয়, অনেক অনেক কথা…
তাকিয়ে দেখো তোমার এক বুকে মধুমতি
অন্য বুকে জ্বলে সন্ধ্যাতারা।
আবার নালন্দা

অমরত্বেরও মৃত্যু হবে নালন্দা, জোছনার জলজ-অন্ধকারে।
সোমরস পান করে ঈশ্বর নামছেন সোমেশ্বরী জলে
আমি দশমাস আরাধনায় জাইগা থাকবো সোমপুরে,
সোমেশ্বরী থেকে দূরে;
তুমি আসবে তন্দ্রায়, চন্দ্রা নদীর ওপারে;
আমি ঘুম-মন্দিরায় সুর তুলবো বাকি কয়মাস
টেরাকোটার শিল্পিত খোদাইয়ের মাঝে।

পোষ না-মানা পড়শি-সকাল ঝুইলা থাকবে পাকুড়-শাখায়
আমারও ইচ্ছে হীরক-লকেট হয়া ঝুইলা থাকবো
তোমার স্তনের গলিপথে, আরো নিচে আলো-অন্ধকারে।
মধুকর মুখ রাখে গর্ভকেশরেÑঝিঙার কুসুমে;
আমার ঈর্ষা হয় নালন্দা
ঈর্ষায় পুইড়া যায় ভিতরের মৌতাত;
কুয়াশার ঘুম ভাইঙা গেলে, দেখি,
সূর্য ঝুইলা আছে উঠানের আঁড়ায়
ছুঁইতে গেলে হাত পুইড়া যায়
পোড়াগন্ধে নেশা চাপে আমার;
তখন ভিখারির করুণ চোখ দেখলে ক্ষেইপা যাই,
জানি না, আমি কি তোমার কাছে করুণা ভিক্ষা চাই?
ঝাউয়ের পর্দা সইরা গেলে বনটা উধাও;
তুমি পইড়া ফেলবে পাখিছানার মতো ছানাবড়া চোখ আমার।

বারবার ব্যবহৃত হওয়া নদীর কিনারে যাই,
মনে হয় বাদার-জালে আটকে যাওয়া নিশ্চিন্তে হারানো
একাকী মাছ।
হননচিন্তা মাথায় চাপে,
সমুদ্রশকুন ওড়ে ঘনিষ্ঠ ঘ্রাণে
কাগুজেপোকা খাইয়া চলে ফুসফুসের প্রিয় অক্ষর
বিষাক্ত ছোবল ছাড়াই ঘায়েল আমি এক জীবিত প্রবাল!
মৃত্যুর সাথে মুখোমুখি কত-কত বার,
এ শরীর শুয়োপোকা হবে
গুবরেপোকায় হবে রূপান্তর
ছাইজ্বলা ধুলা হয়ে উদ্ভিদে দেবে সার,

জাইনাও, নতুন-পুরানো সংরাগে,
জিহ্বায়-জিহ্বায় জড়াজড়ি…
শৃঙ্গার-নৃত্যে চন্দ্রায় ঢেউ উঠবে আমার আরাধনায়
তুমি আসবে তন্দ্রায়, চন্দ্রা নদীর ওপারে;
আমি ঘুম-মন্দিরায় সুর তুলবো বাকি কয়মাস
টেরাকোটার শিল্পিত খোদাইয়ের মাঝে।

২৬ ফাল্গুন ১৪১১
১১ মার্চ ২০০৫
যখন রাত্তির নাইমা আসে সুবর্ণনগরে

সাত

যখন রাত্তির নাইমা আসে শিলিগুড়ি পাহাড়ের ধারে, উৎসবহীন ঈদ নামে আমাদের নগরে, সেই একবার কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে হাঁটতে গিয়া মনে হইছিল খুব সুরত আমার পৃথিবীর, এমন সুন্দার বুঝি আমাগোরে ডাকে। আর একবার মঙ্গার বাড়ি গিয়া অনাহারী দুইশো একটা লাশ দাফনের কালে কাফনের মইধ্যে খুঁজে পায়াছিলাম বীভৎস সুন্দরেরে; ঠিক তার পরের বছর গাইয়া-গাইয়া চেহারা লইয়া জীবনবাবু আইসা দাঁড়ায়ে ছিলেন মৃতপ্রায় ধানসিড়ি নদীটার ধারে, যখন কি-না লাবণ্যরা হারাইতে থাকে দূর ক্যাসিনোর জিপসি আঁধারে। চে’র ছবি আঁকা খণ্ডিত মুখ বুকে আঁইকা তরুণী হাঁইটা যায় টিভির পর্দায় কিংবা আজিজ সুপারে, উরুসন্ধিতে চিচিঙ্গার ঘ্রাণ। ডাক দিয়া বলি জীবনবাবুরে, আহাজারি করো না, তোমার বনলতা সেন নাটোরের কোথাও থাকে না। দেখে যাও এই যে তোমার প্রিয়তমা রূপসীয়া গ্রাম! মাধুরী আর নাদিয়াদের এই বালাখানা, এখানে অঘ্রানে বালাম ধান ওঠে না, অর্ধেক লোক থাকে অনাহারে আর আমরা বেজোড় প্রতিবেশীÑকতক থাকি বাটাজোড়ে।
বিশ

আহারে! দোয়েলা; রাত্তির আমার, একলা পরান! কার ভিডায় কান্দো নরমকণ্ঠী পাখি, কার প্রশ্রয়ে ভিজাও মন, কার ঠোঁটে কাঁপে অনুভূতির প্রথম চুম্বন, কোথায় তোর বাউড়িয়া গাঁ, খাডালের ছিট ছিট জোছনা-রৌদ্রে কীরহম তোর চলাফেরা মনে পড়ে, মনে পড়ে না? কৈশোরের বেশ কিছু দিন পর, তোর সাথে বাইন্ধা ছিলাম ঘর, সাক্ষী ছিল হাওর-বাঁওড় আর দেবীঘাটার চর, আরো ছিল ম্যাগলাকাটা আকাশ; হেদিন কুলহারানো হাওয়া; এরপর, কতবার সুশীল পাটিনীর খেওয়া কত্ত কত্ত বার হয়েছি পাড়, তহন ঢেউয়ে ঢেউয়ে জাইগাছি তোর বুকের ভিতর, এহন তুই ক্যামন আছো, কোনহানে তোর বাস, রোদ-পোহানো পাখির নাহান নিভৃতে কি যাস? বেইন্নাবেলা এখনও কি দক্ষিণ দুয়ার খোলো, পারাভাঙা ধানের বীজে মন কি তোর করে এলোমেলো, দুপারকালে ঘুঘুর ডাহে কাঁপে যহন হোগলপাতার ঘর, ভাডারটানে দেখো কি তুই নারাকুডার খর, বাইচা নাওয়ের ভাঙাগুরা পইরা রইছে সব, ও দোয়েলা? তোর মতোই সব একেলা পদ্মাতেও জাইগা গেছে বিশাল বিশাল চর; সব নদীরই এমনই হাল বেপরোয়া দেশ, অদূরকালে পানির অভাব, বিষাক্ত শ্বাস! কী কমু মুই, চাইয়া দেহি নিমের গাছ কাইটা সবাই বাঁচায় পরিবেশ!
একুশ

শিকারী পাখির চোখ দেখলে তোর কথা মনে পড়ে, সেবার তোর আলজিভের আগায় লালসার বিবর্ণ পতাকা উড়তে দেইখা পালায়ে এসেছিলাম। এরপর আর দেখা হয়নি, হুনছি তোর শরীরের ভাঁজে নেকড়েরাও ক্লান্ত-হাঁসফাস করে। এখনও মনে পড়ে তোর কোলে অন্ধকারে গইলা যাওয়া তোরই রক্তে-গড়া শিশুর মুখ, জন্মের আগেই মৃত্যু হয়াছিল যার, পাঁজর-ভাঙা গান গাইছিল আমাদের একবন্ধু বন্ধুটিও দূরে চইলা গেছে সেই কবেÑকণ্ঠটি ভুইলা গেছি তার। এখন সবকিছু বদলে গেছে, ফাগুন ছায়ায় কাঁদে বৃষ্টিমাইসা দুপুর, আমার প্রেম মৃত দোয়েলের ছেঁড়াখোঁড়া পাখনায় ছড়ানো, মলিন প্রান্তর। হয়তো এখনও মেঘের চিবুকতলে উচ্ছল রোদ্দুর উঁকি দ্যায়, আর তখন নেকড়েরা তোর ঘনিষ্ঠ চিবুকে পান করে অমূর্ত আঙুর, জানি মৃত জলের কলকাকলি হয় না, আমার দীর্ঘশ্বাসের এখন আর কোন সহোদর নেই, এখন শ্রাবণ নামে চোখের গভীরে আমার, বলো, এমন প্রেমকে কোন নামে ডাকি যে এবার!

১৪ শ্রাবণ-১৪১১
২৯ জুলাই, ২০০৪

তোমার তখন পনের ছুঁই ছুঁই

ক.
তোমার তখন পনের ছুঁই ছুঁই
আমি কেবল সতের ডুব দেই
দোলপূর্ণি রাতের শেষে ঝড়
মনের গাঁয়ে উড়ছে কবুতর
পাছে দোলক দুলছে চারিবেলা
কে জানতো সেই দূরাগতের খেলা
সেইতো প্রথম নদীর প্রেমে পড়া
সেইতো প্রথম মায়ের হাত ধরা
সেইতো প্রথম জোয়ার ভাটায় নামা
সেইতো প্রথম উজানী গান শোনা
সেইতো প্রথম পাহাড় ছুঁয়ে দেখা
সেইতো প্রথম সঙ্গী থেকেও নিঃসঙ্গ একা
সেইতো প্রথম একলা-দোকলা চলা
সেইতো প্রথম নীরব অবহেলা
প্রেমের কোনো তীর থাকে না জানি
তীরের দিকে সাঁতরে যাওয়া ভুল
প্রেম নদীতে সাঁতরে দেখি, তীর নেই এক চুল
সাঁতরে গেছি অক্ষরেখা ছেড়ে
নিরাবরণ হৃদয় সমুদ্দুরে
আসলে কি এমন প্রেমের সাঁতার জানে কেউ
হৃদয়ে শুধু আছড়ে পড়ে অনন্তেরই ঢেউ।

৩০ আষাঢ় ১৪২০
১৪.০৭.২০১৩
খ.
দেখা হবে কাল, রোদেলা সকাল
তুমি আমি মিলে আকাশের নীলে
এঁকে দেবো গিরি, মিলনের ঘড়ি
দেখা হবে নদী, তুমি আমি যদি
ভালোবেসে থাকি, মনে বাঁধি রাখী
দেখা হবে মন, ছোট্ট জীবন
নীলগিরি মেঘ, স্পর্শে আবেগ
দেখা হবে পাখি, তোরে বুকে আঁকি
নীলাচল দেশ, বিরহ আবেশ।
দেখা হবে কবে? চলে গেলে তবে
কার হাত ধরে, দূরে সরোবরে।
দেখা হবে সুখ, একই গতে লেখা
একই অনুভূতি একই রঙে ঢাকা
দেখা হবে দুখ, যার যার তার
নিজস্ব ক্ষত, আলাদা বাহার।

১৪ আশ্বিন ১৪২০
২৯.০৯.২০১৩
হৃদয়লিপি

এক
আগুন নিয়েই খেলতে খেলতে কত পুড়ি মন
ঘুমের ভিতর কারা জেব্রারক্ত ঢুকায় শরীরে
তুমিও জানো না যে, দেশলাই জ্বালিয়েছো কখন;
ইচ্ছা করে দৌড়ে যাই তোমার ভূমি থেকে প্রান্তরে
তোমার কফিতে চুমু, এ বছর বৃষ্টি হবে খুব
তোর মনকে কখনও দুর্গম দুর্গ মনে হয়
আমাদের স্বর্গ এই দেখো সেনেটোরিয়ামে চুপ
দৌড়ে ঢুকতে গিয়েই গলিতে থেমে যায় সময়।
জোছনার পায়ে চুমু খেয়ে তোকে ভাবি যে বিস্ময়
পুরানো বুটজুতার মধ্যে জšে§ছে সাদা ইঁদুর
ভিখিরী মত রহস্যহীন কেন করি অভিনয়
মৃদু হাসি মাঝে ঈশ্বর হাঁটুমুড়ে চায় প্রণয়
অন্তর দিয়াই বলি প্রেমিক প্রেমিকাদের শোনো
ঠোঁট যে ঠোঁটকে বিশ্বাস করে না কখনো কখনো।
…………………………..
প্রেমিক প্রেমিকাদের বলি

১ পৌষ ১৪২০
১৫ ডিসেম্বর ২০১

দুই
দুখজাগানিয়া নারী তুমি আলোর দুয়ার খোলো
হৃদয়ের বীজ পুতেছি তোর জীবন প্রতিমায়
ভিতরে লুকানো অপমৃত্যুর দায়, কে নেবো বলো
মাটি জলে নয়, শিকড় লুকানো আছে যে হৃদয়।
কাদের নন্দনে খুঁজে পাবো নতুন যুগের মাপ
সাধারণ চোখে খুঁজো না তুমি নির্জনতার আলো
খোয়ানো প্রেমের রণে এঁকেছো হৃদয়ের সন্তাপ
পারদের মতো হৃদয়াবেগ ওঠানামা করা ভালো।
ভুলে গেছি অন্তহীন যুদ্ধে প্রিয়তমারই নাম
সূর্যের মত ডালিয়া হাসে বুকের উপর পাশে
রতির কালে কার দেহ ভাসে, কাকে করি প্রণাম
হারানো জলের প্রদাহ প্রবাহ হয়ে মনে ভাসে।
যে হৃদয় হারিয়েছে সেই পেয়েছে শাশ্বতের খোঁজ
পৃথিবীতে এই লোকসানে লাভ জোটে রোজ রোজ।
…………………….
যে হৃদয় হারিয়েছে

২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২০
৮ ডিসেম্বর ২০১৩

তিন.

নগ্নিকা ঈশ্বরী তুমি সিজদায় থাকো দেবতার?
দেবতারা নপুংসক কেন তাতে মাতো যে কুমারী
নাভির অতল বেয়ে শেষ রাত নামে যে তোমার
দেহে দেহ রেখে কে-না কেঁপেছে প্রথম ও হে নারী।
বৃক্ষের নিঃশ্বাস যেই মানব বুঝতে নাই পারে
নিথর পাথরে কী করে প্রাণ দিবে বলো সুন্দরী
শিল্পী ছাড়া কে-বা হৃদয়ের মূল্য এঁকে দিবে তোরে
নিষিক্ত ভূমিতে তোর রুয়ে দেবো স্বপ্নের মঞ্জরি।
পূর্ণতাভরা চোখের গভীরে যে কল্পনা ধরেছি
আমিতো পোড় খাওয়া লোক, ভালবেসে বেঁচে আছি
বেহেস্ত দোজখ মানুষের তৈরি জেনেছি মানসী
আফিম ঘুমেতে যারা তারা ভুলে আত্মাকে বেঁচেছে
কামকম্পিতা কুমারী নারী যে বুকে গঙ্গার ঢেউ
ধর্ম-ভয়ে ভালবাসা ছেড়ে অরণ্যে যেও না কেউ।
……………………..
কামকম্পিতা কুমারী

৮ অগ্রহায়ণ ১৪২০
২২ নভেম্বর ২০১৩

চার.
প্রেমের নদীতে সাকী কে কবে বুঝে দিয়াছে ঝাঁপ
শৃঙ্গারেও দর্শন জাগে এ যে নন্দনেরই পাঠ
আয়ুরেখা ধরে মন বাতিঘরে ঝরে যাবে পাপ
মনোনদী দীর্ঘশ্বাসে ঢেউ তুলে অসীমের ঘাট।
বেদনার কত পাখি অন্তরালে ঝরে পড়ে মরে
কবির গোপন বলে যা কিছু রমণের অক্ষর
আহত হৃদয়ের গোপন থাকে সিক্ত সরোবরে।
জিপসী পাতার গায়ে এঁকে রাখি প্রেমের স্বাক্ষর।
মানুষের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি যে আল্লাহ, সহজ কল্পনা
নয়নতারা ফোটে না দেখো আর কিশোরিয়া গাঁয়
যৈবতী তোমার গর্ভে বসে কে করছে আরাধনা?
মুক্তাফল ঝরে প্রেমও কি অমনই ঝরে যায়।
দিওয়ানা আমি প্রেমঘূর্ণিতে পেয়েছি ক্ষতের স্বাদ
ঘৃণা কর তাও ভাল, করুণায় ভিজিও না হাত
……………………..
ঘৃণা কর তাও ভাল

০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২০
২২ নভেম্বর ২০১৩

পাঁচ
নিজেকে গোপনে রাখো আজীবন পলাতক পাখি
গর্ভাশয়ে বীজেরই তোড় বয় লালবৃষ্টি শেষে
লোহার শিকল দিয়ে কী করে মন বাঁইধা রাখি
আমার ভ্রমর যদি দাঁড়ায় তোর দুয়ারে এসে।
শ্রাবণের নদী তুমি জোয়ারে ভাইসা যায় রাত
পারবে কি ফেরাতে এ দোলরাতে তোমার পরম
দেখেছি কামজ্বরে পানি পুড়ে জ্বলে, রাত্রি প্রপাত,
পূর্ণিমা জানালা বেয়ে পৌঁছে দেয় তোমার নরম।
ভাবি নেশাঘন বর্ষা রাতেই তুমি এলে শয্যায়
মুহূর্তেই মৃত জোনাকী বেঁচে ওঠে জ্বালে জোছনা
শৈলচূড়া গায়ে মেঘ ভেঙে ছুঁইয়াছি যে তোমায়
রেসের ঘোড়ার মত ধপধপে চোখে তাকিও না।
ও চোখে হরিণ ছোটে, ঢলে পড়ে যাত্রীপূর্ণ রথ
‘প্রেমে পড়িনি’ বলো তুমি, দৃষ্টিতে প্রেমের শপথ।
…………………….
দৃষ্টিতে প্রেমের শপথ

২০ অগ্রহায়ণ ১৪২০
৪ ডিসেম্বর ২০১৩
ছয়
রাত্রির কী নন্দন যদি জোছনা না ছড়াতো আলো
আমার শিখায় দীপ্ত না হলে কে চিনবে তোমায়
মিথ্যে রাজনীতির খেলায় মর্গে শুয়ে আছি ভালো
আর্ত ভিখিরির কান্নায় গলে না এখন হƒদয়।
অজানার বাদশা আমি, আমার একি অভিষেক!
হাফিজ রুমি দিবো ছাড়ি, যদি চুম্বনে ভাসে তরী
হেরা পাহাড়ে তুইলা রাখা আছে তোমার বিবেক
পরমসত্তাকে পাবো প্রেমে, তুমি যদি আসো নারী।
আপন বাসনামতে গড়ে তুলি হƒদয় জগৎ
পাপড়ি পেরিয়ে মধুকেই নিয়ে যায় মধুকর
নিশ্চল তারার কাছে গ্রহের থাকে না যে নগদ
যে তুমি শিকারি, সেই তুমিই যে নিহত শিকার।
তারারা জ্বলেছে বুকে, প্রেমে না পড়লে কি জ্বলতে?
এমন আলোর খোঁজ রাখোনি, জ্বালিয়েছো সলতে।
……………………..
তারারা জ্বলছে বুকে

২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২০
৮ ডিসেম্বর ২০১৩
সাত
অপেক্ষায় কেটে গেল জীবনের আধেক সময়
চোখে চোখ পড়লে তুমি লজ্জায় ডুবে যাও মেঘে
মনে হয় বিষের পেয়ালায় মৃত্যু খেলে আবেগে
স্বপ্ন বুনতে বুনতে শুনতে পাই ভাঙার ভয়।
জলপাই জীপ প্রেমের মাঠে, মুহূর্তে ঘোর কাটে
তুফানের উত্তাল ঢেউয়ের আশ্রয়ে বেঁচে আছি
জানি না কেন ডোবাতে চেয়েছিল জাহাজের মাঝি
অপ্রয়োজনীয় ফুল বেশি ফোটে দেখো মাঠে ঘাটে।
রাজবাড়ির বেহায়া বাতাসে ভাসছে যে প্রহর
দুটো বিপরীত বাতাসের যুদ্ধে জন্ম এই ঢেউ
অসম বয়সী এ প্রেমের সাক্ষী নেই আর কেউ
দুঃস্বপ্নের রাত্তির দীর্ঘ থেইকা হয় দীর্ঘতর।
মধুশালে আমি না থাকলেও বসবে মধুকর
শূন্য ছকে কে-হে পাশা খেলবে হৃদয় সহচর।
…………………
মধুশালে মধুকর

২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২০
১০ ডিসেম্বর ২০১৩
আট
যেই বয়সে তোমার ঠোঁটে সরাব খুঁজবে কবি
রূপের বর্ণনাকালে চুপ করে কেন থাকো নারী?
সেই বয়সে মনের জেলে আঁকো ধর্মযুদ্ধ ছবি;
মন-ও দেহের রূপের বর্ণনা না দিয়ে কি পারি?
তোমার নাভির নিচে ত্রিকোণ যে লবনের নদী
আমি যাকে ভালবাসি সে অন্য কেউ ভিতরে অধীর
মধুকর নামতে গিয়ে নন্দন ভুলে যায় যদি
তোমার ভিতরে তুমি থেকে জন্ম ক’জন তুমির?
ঈর্ষা হয় কে প্রথম তোমার ঠোঁটে দিয়াছে চুমু
ঘোড়ার উদভ্রান্ত ক্ষুরে লেগে আছে যুদ্ধের সুর
তাকে পেলে ডুয়েল লড়ে তোকে নিয়ে মাতাল হবো
আবাবিল পাখি নাই মুক্তিকামী মেধাবী দুপুর।
কেন তুমি ঢাকো লজ্জায় অমন কারুশিল্প দ্বীপ
চেয়ে দেখো সবার অলক্ষ্যে আমি জ্বেলেছি প্রদীপ।
…………………….……
কে প্রথম তোমার ঠোঁট

২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২০
১৩ ডিসেম্বর ২০১৩
ছিচল্লিশ

ডোমনীর সংসর্গে কে তুমি কামযোগী কাপালিক?
ইরাবতী-পিঙ্গলার সঙ্গম স্থলে লীলাকীর্তন
রমেনেশ্বরীর নিতম্ব দুলুনিতে দুলিতেছে মন
কুফুরী রোদ্দুরে কোন বাণ মেরে থাকো স্বাভাবিক
মধ্যরাতে বাঁশি বাজে শোনো প্রেমেশ্বরী নদী ধারে
উজ্জ্বল উর্ণনাভ সুরেন্দ্রিয় জালে কী বাধো তুমি
আমার দেয়ালে হেলে গেছে পদ্মরেখা ধরে ভূমি
সৃষ্টি অন্তরের সকল রহস্য কে জানে সংসারে।
রমেনেশ্বরী স্মৃতির মুদ্রায় কে আছে অন্তরে
ভোরের নক্ষত্র ভিজে যায় শিশিরে, স্বর্গীয় ঘ্রাণে
বাঘের অর্থহীন ঘোলা দৃষ্টিতে পুড়ি কার সনে
চন্দ্র-সূর্য মনের ভিতরে অক্ষরেখা ধরে ঘোরে।
মনের গভীরে ফেলি নোঙর জোয়ার-ভাটা ছলে
প্রেমের উদ্দেশে লেখা অক্ষরে আলোকরশ্মি জ্বলে।
………………
প্রেমেশ্বরী নদী
২১ পৌষ ১৪২০
৪ জানুয়ারি ২০১৪
সাতচল্লিশ

ফলের মধ্যে ঘুমন্ত বীজেরা আলোর খোঁজে মুখ
তুলতে চায়, কেউ কেউ চিরায়ত ঘুমায় ঘুমে।
বুকের ভিতর নাপাম বিস্ফোরণের শব্দে ভ্রুণ
ফোটে, পাশে বসে দেখি তোমার চুল বেয়ে নেমেছে
অদৃশ্য জাদুর এক নদী, সেই নদীরেখা ধরে
মনচরে একা হাঁটি, ভরা কটাল নয়, অজানা
ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে, মনের মধ্যে ধাবমান
ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরি, হ্রেষাধ্বনি বোবা-কালা
অনুভূতি ব্যক্ত করে; ঘোড়ার চোখের যে কর্ণিয়া
বেয়ে অতৃপ্ত যুবক গতিময় ছুটে চলা দেখে।
একি আমি? আমাকে আমি বুঝতে পারি না; হৃদয়ে
কোন সুরের সিঙ্গা বাজে; প্রলয়ের নাকি তোমার?
অজান্তার কোটি বছর আগে, অচেনা শিল্পী হাতে
এঁকেছো হৃদয়? ছুঁলে মাটি পরশপাথর হয়।
………….
ঘুমন্ত বীজ

২২ পৌষ ১৪২০
৫ জানুয়ারি ২০১৪
আটচল্লিশ

রক্তের ঝর্ণা প্রবাহিত হয় হৃদয়ের রোদ্দুরে
প্রতিটি হৃদয় মাঝে অদৃশ্য নক্ষত্র কথা বলে
নক্ষত্রেরা কী কথা যে বলে, সব কি হৃদয় জানে?
গামার ক্যাসেলে পূর্বপুরুষের বোবা চিৎকার
প্রজন্ম-প্রজন্মান্তরে মনেতে রেখেছে বুনোফল।
বুনোফলের পূর্বপুরুতের জীনেরা সব স্মৃতি
মনে রেখে জানিয়েছে আমায়, কত কত চোখের
কর্ণিয়া, কয়লায়ালা তুলে রেখেছে জলে। তোমার
চাহনিতে তাই চার্চ সাধকের মনে ক্যারাভান
ধ্বসে পড়ে। শুনেছি হাসনুহেনার ঘ্রাণে সাপেরা
চোখ মেলে; তোমারও কি হে সাপেদের মত চোখ?
জিহ্বাকে ঘ্রাণেন্দ্রিয় করে দেখ বুঝতে হৃদয়?
যব-গম-ধান সব ম্লান হয় ধ্বংস চিন্তাবীজে
চোখের মনি তারা হয়ে ঝুলছে তোমার কামিজে।

গামার ক্যাসেলে

২২ পৌষ ১৪২০
৫ জানুয়ারি ২০১৪
ঊনপঞ্চাশ

মনের গভীর ডালে বসেছে দুরন্ত এক পাখি,
শীতের চাবুক বহিরঙ্গে বাজে, তবু প্রতীক্ষায়-
এমন লেকের ধারে অনন্ত সময় বসে থাকি;
পাখি আমার একলা পাখি, নীল পাহাড়ে যায়।
প্রার্থনাগৃহে পাশাপাশি শুয়ে আছি শূন্য খাঁচায়
চোখের মনি তারা হয়ে ঝরে পড়ে অন্তর প্রান্তরে
ফুলরেণু উদ্ভাসিত কিশোরীয়া মুখ দেখা যায়
শিশুর হাতের তাজা ফলে যেন ধরে আছি তোরে।
সুরাপাখির কন্ঠে মধ্যরাতে অন্তর ধরে ডাকো
তুমি কি আমার না দেখা সিবাশীয় বাঁশিওয়ালী
সতেজ কলি চোখ খুলে ফুল হয়ে ফোটে দেখো
সাদা-কালো ফুলের মাঝে আলাদা ফুটেছো খেয়ালী
ভুল বাগানেই ফুটে আছো অনন্ত স্বর্গীয়ফুল
তোকে চিনেনি প্রকৃত মালি, বাগিচার নারীকুল।
……………
অনন্ত সময়

২৪ পৌষ ১৪২০
৭ জানুয়ারি ২০১৪

মা

জ্যাঁ জেনেকে কে যেন বেশ্যার ছেলে বলে
ডেকেছিল বালক বেলায়
সেই থেকৈ প্রতিটি বেশ্যাবাগির গেটে
মায়ের মূর্তির পাশে জ্যাঁ জেনের
অদৃশ্য একটি হাত ঘোরাফেরা করে-

কেউ হয়তো দেখেছে তাকে
পরিপূর্ণ রূপান্তরিত হতে কামরাঙা গাছে
কেউ কেউ বেশ্যাবাড়িতে যেকোন বৃক্ষ বা
জামরুল গাছ দেখতে পেয়ে মনে করে
এই তো জ্যাঁ জেনে।

যিনি অসুন্দরের বিরুদ্ধে নিয়ত সোচ্চার যোদ্ধা
যিনি নিজেকে লে ফুনঁবুলের নাচিয়ে
ভাবতে ভাবতে এক নুলো বেশ্যার দালালের সাথে
কাটাইছে বেশ কিছু সমকামী রাত
যার নায়কেরা দাগী-খুনী ফাঁসীর আসামী
তারাও অদৃশ্য আর দৃশ্যের ঠিক মাঝে খোঁজেন সুন্দর

কঁকতো আর সার্ত্রে একবার তার মার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন
সার্ত্রে পরে বলছেন, বিষণ্ন চোখ দুটো যেন
প্রশান্ত আর আরব সমুদ্রের উড়াল ঢেউ
পর মুহূর্তেই চোখ দুটো থেকে বেরুচ্ছে অদ্ভুত মরুঝড়
যে মা জেনেকে গুড়্ধ পান করিয়েছে একটি বছর
তার প্রতি দুধের ফোঁটা যেন জ্যাঁ জেনেরে
রক্তসরোবর।

এই সেই অস্তরেখা যেখান, থেকে তোমাকে তুলে নেয়া হয়েছে

সাত.

এই সেই অস্তরেখা যেখান, থেকে তোমাকে তুলে নেয়া হয়েছে… মাদী উটেদের মতো ছোট ছোট বিস্তীর্ণ পাহাড় চারদিকে, সমাধিস্তম্ভের ভিত ফেটে যে মহীরুহ জন্মেছে কী নাম দেব তার? বঙ্গবন্ধু, নাকি মানচিত্র বাংলার। বর্শার ফলকে গাঁথা এই ঘোড়ার খুলি কোন যতিচিহ্নের নির্দেশনা দেয় আমাদের? একটা বাঘের ছানা জন্মানোর আগে পরিত্যক্ত সুন্দরবনের খোঁজ রাখেনি কেউ, যারা দীর্ঘ ঘুমে নিমজ্জিত কালাধিকাল তাদের অভিসম্পাত দিয়ে কী লাভ বলো, নদীর ঢেউয়ের করুণ সুরের মধ্যে বেজে চলে প্রিয়তমা তোমার বিদায়ী কান্নার সুর আর আমার চোখ গলে পানি ঝরছে পিতা। এই দেখো আমি এক জীবিত প্রবাল, রূপ রস গন্ধ নাই- আবার সেই অদৃশ্য বাণী উচ্চারণে জেগে উঠতে চাই, ঐ কণ্ঠস্বর পূর্বে বা পরে কেউ কখনো শোনে নাই- যা ছিল গোলকধাঁধার মধ্য দিয়া প্রবাহিত, আগুনের মতো স্পর্শহীন- এখনো নিম্ন উপকূল থেইকা গভীর খাদ থেইকা কে যেন ডাকনাম ধইরা ডাকে আমায়।
যে দেশে কোনো খুনির কবর কিংবা চিতা নাই, চলে যেতে চাই বন্যপাখির পাখার বাতাসে, যেসব মহীরুহকে জেলে হত্যা করা হয়েছে, সেই সকল শহীদের আত্মার প্রতি শপথ নিয়া বলছি- এই উন্মাদ জগত কখনো শান্তি পাবে না, সীমান্ত নিয়া চুক্তির দিন শেষ, পাখিদের আবার সীমান্ত কিসের? কে যেন বইলা গেল দৃষ্টিবৃত্তের বাইরে গুপ্ত অশ্বারোহীদল- এখনো সবল।
মানুষের চর্বিতে তৈরি সাবানের মতো নির্লিপ্ত কারখানা দেখে কীভাবে বেঁচে আছো মৃত্তিকা আমার! আকাশের জলঘড়ি সাক্ষী, পিঁপড়ে লেজ খেয়ে ফেলা একটা ইঁদুর টেনে নিয়া যাচ্ছে অচেনা কোথায়! আর কোথায় নিয়া যাবে?
চারদিকে মৃত শান্তির কবুতর টাঙায়ে রাখা ঊষর প্রান্তর। আমার গৌরবের গ্রীবায় এখনো জোনাকির অফুরান আলো, গোলকধাঁধার মধ্য দিয়া প্রবাহিত সেই স্বর, ডাক নাম ধইরা এখনো ডাকেÑ মুক্ত, করিÑ মুক্তি, আয় আয়…

১২ আষাঢ় ১৪১৩
২৬ জুন ২০০৬
এমন পাগলা বয়স

এমন পাগলা বয়স, ঘুমরাত্তিরে মাটির বাঁশিবুকে ঘুমাইতে পারি
না, পাপ স্পর্শ করে না চোখের পাতা- পানশালায় সাতাইশ
বছর পইড়া আছি, বেহায়া বাতাস পিছন ছাড়ে
না- অনুভূতির রহস্য আছড়ে পড়ে বুকে, দুঃখের দেয়ালে
ধাক্কা মারে-; পৃথিবীর বুকে ঘুট-ঘুটে আন্ধার নিয়া অনিচ্ছায়
শুইয়া থাকি কত কত বছর; চোখের লাই ভাঙে না- পুঁথির
গয়না পরি সাঁঝবেলায়, শামুকের ভিতর দীঘির ঢেউ গুণি-;
ইন্দ্রপাশা গ্রামের মেলায় পাশা শিকারীদের সঙ্গে পাশা-পাশা
খেলি, ঘুম আসে না; ধূলামাখা চাকতির মতো শবরীর স্তন,
সবই কলকব্জা মনে হয়, ছেউরিয়ার ঘাটে সিকিচাঁদ পইড়া
থাকে দীঘল দৃষ্টির আড়ালেÑ এসব আমার চোক্ষে ধরে না।
ময়নামতির বৃক্ষ-ডালেমধুরাত্তিরে, জলপ্রণয়ী পাখিসাঁতারও
ভালো লাগে না; লাঙলের ঘষা খাওয়া রেখাহীন হাত দেইখা-
দেইখা মানুষ-জন্ম ভুইলা যাই, আদি-আদিম- একই ঘৃণা
কামশ্বাস- কোথাও ভালোবাসা নাই। পদ্মা-সুরমা-কুশিয়ারা-
আগুনমুহা কত কত নদী নাম বুকে বাজে না, ঘুম আসে না;
একবার কমলদহে প্রিয়তমার শরীর দাহ হলে কমলারঙের
আগুন ছড়ায়েছিল পূর্ণতোয়ার জলে; আর আমি সেইদিন
থেইকা সাঁতার কাটছি আগুন-জলের ভিতর, তাতেও মৃত্যু
আসে না।
এমন পৃথিবীতে ঘুম আসে না- মৃত্যু আসে না।

৭ মাঘ ১৪১০
২০ জানুয়ারি ২০০৪

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close