Home ছোটগল্প শিল্পী নাজনীন / দহন > পাণ্ডুলিপির ছোটগল্প

শিল্পী নাজনীন / দহন > পাণ্ডুলিপির ছোটগল্প

প্রকাশঃ February 28, 2017

শিল্পী নাজনীন / দহন > পাণ্ডুলিপির ছোটগল্প
0
3

দহন

সম্ভবত এ এক বিভ্রান্তি। অনন্ত মোহঘোর। তবু এই-ই জীবন। এরই নাম বেঁচে থাকা। অহর্নিশি দুঃখের চোরাবালিতে হাবুডুবু খেতে খেতে হাঁসফাঁস করা আর আশার জীয়নকাঠি আঁকড়ে তা থেকে উত্তরণের প্রায়ান্তকর প্রয়াস। এভাবেই গড়িয়ে যায় বেলা, ফুরিয়ে যায় সময়। অতঃপর শূন্যহাতে বিদায়। মাঝখানের সময়টুকু! সে কি সত্যি! নাকি স্বপ্ন কোনো! যে স্বপ্নে মায়া থাকে, প্রেম থাকে, থাকে অপার দুঃখ আর অনন্ত বেদনা! থাকে ঈশ্বর নামক এক অলীক নিয়ন্তার কুটিল, কঠোর চক্রান্ত! ঘরের সিলিং এর দিকে তাকিয়ে কড়িকাঠে বোনা মাকড়সার চক্রাকার জালের দিকে মুগ্ধচোখ রেখে আনমনে ভেবে চলে অনি। অনির্বাণ আকাশ। ভাবে, এই যে জীবন, যাকে জীবন বলে ভাবছে সে, অথবা স্বপ্ন বলেও মনে হচ্ছে মাঝে মাঝে, কি আছে এর অন্যপিঠে? এমন কি হতে পারে যে ঘুম ভেঙে গেলো হুট করে, কেটে গেলো বিভ্রান্তির বেড়াজাল, মায়া! আর সে, অনির্বাণ আকাশ, একজন দুঁদে উকিল, চোখ খুলে দেখল অন্য এক জীবন, অন্য অচেনা এক জগৎ, যেখানে এ জীবনের ক্লেদ নেই, গ্লানি নেই, নেই কোনো অশোভন অন্যায্যতা! মাকড়সার জালের দিকে তাকিয়ে এমনি উদ্ভট চিন্তায় মগ্ন হয়ে যায় অনি। চক্রাকার ঐ বুহ্যটিকে সে হঠাৎ কল্পনা করে বিভ্রান্তিময় এই জীবনের সাথে অথবা স্বপ্নের সাথে। যেন অমনি কোনো জালে আটকে আছে সে। সহসা নিষ্কৃতি নেই এ ব্যুহ থেকে। ব্যুহভেদের ইচ্ছে যদি বা থাকে তার, স্বাধীনতা নেই। কেউ একজন এই জালে আটকে দিয়েছে তাকে এবং মজা দেখছে, দেখছে রঙ্গ! তার খায়েশ মিটলেই ছিঁড়ে যাবে এই ব্যুহ, কেটে যাবে ঘোর, ঘুচে যাবে স্বপ্ন! তবে কি অনি কারও ইচ্ছের পুতুল? কার? মাকড়সার জালের দিকে চোখ রেখে তার মনে পড়ে কাফকা, মনে পড়ে মেটামোরফসিস। তালগোল পাকিয়ে যায় চিন্তা। মনে হয়, যদি এমন হয়, স্বপ্ন টুটে সেও ঐ গ্রেগর সামসা’র মতো দেখল মাকড়সা জীবন পেয়েছে সে, কেমন হবে? নীলা কি আর চিনতে পারবে তাকে? কিংবা তার বন্ধু, প্রতিবেশি, মক্কেলসহ অন্যান্যরা? ভারি ভাবনায় পেয়ে বসে তাকে। হঠাৎই ভাবনার সুতো ছিঁড়ে যায় এবং সে লাফিয়ে ওঠে বিছানা থেকে। যেখানে এতক্ষণ চিৎ হয়ে শুয়ে এতসব জটিল ধাঁধার উত্তর খুঁজছিল সে। সে হঠাৎ করে টের পায় তার বুকের উপর বেশ ভারি, নরম কোনো বস্তু অধিষ্ঠান নিতে চাইছে এবং যেহেতু ভারী অন্যমনস্ক হয়ে সে অনেক জটিলতর চিন্তায় ব্যাপৃত ছিল সে কারণে আচমকা এই উৎপাতে ভীষণ রকম চমকে সে লাফিয়ে ওঠে, পরক্ষণে নিজের বোকামিতে নিজেই হেসে ওঠে হো হো। তার পোষা বিড়ালটা ততক্ষণে তার চেয়ে দ্বিগুণ চমকে, একলাফে ঘরের কোণায় গিয়ে মনিবের এই অদ্ভুত আচরণের জন্য লেজ ফুলিয়ে, মুখে অভিমান নিয়ে যেন বা কৈফিয়ত তলব করতেই ভারী গলায় বলে ওঠে- ম্যাঁও!

অনি বিড়ালটার এই আচরণে অতিরিক্ত স্নেহানুভব করে তার প্রতি, মুখে চুকচুক শব্দ করে হাত বাড়িয়ে ডাকে। অভিমান ভুলে পায়ে পায়ে এগিয়ে আসে বিড়ালটা। অনি কোলে তুলে নেয় তাকে, চুমু খায়। বিড়ালটা আদর পেয়ে শব্দ করে গরগর, চোখ বুঁজে অনির গলার সাথে নাক ঘষে আনন্দে।

বিড়ালটার শাদা কালো ছোপলাগা শরীরের দিকে তাকিয়ে আবার অন্যমনস্ক হয়ে যায় অনি। আজ সকালে নীলার সাথে কথোপকথনটা মনে করার চেষ্টা করে। কি যেন বলছিল নীলা? হ্যাঁ, মনে পড়েছে! নীলা রাতে যে স্বপ্ন দেখেছে তাই সবিস্তারে বয়ান করছিল অনির কাছে। নীলার এই এক স্বভাব। নিজের খুঁটিনাটি সব বলা চাই অনিকে। নীলার সেই স্বপ্নই মূলত আনমনা করে দেয় তাকে।

জানো, স্বপ্ন দেখছিলাম, আমি শপিং এ গেছি! কেনাকাটা করতে করতে হঠাৎ একটা চুন্দ্রি থ্রিপিসের দিকে চোখ পড়ল! কলাপাতা, হলুদ আর লাল রং এর! দাম কত জিগ্যেস করতেই দোকানী বলল সাড়ে পাঁচশ! আমিও সাথে সাথে কিনে ফেললাম! কিনেই মনে হলো ঠকেছি! আরও কম দাম বলতে পারতাম! স্বপ্নের মধ্যেই খুব আফসোস হচ্ছিল, জানো! আমি কিন্তু স্বপ্নের মধ্যেও ড্রেসটার রংটা ঠিকঠাক দেখেছি! সবাই যে বলে স্বপ্নে রং থাকে না, সব শাদা-কালো, তা কিন্তু একদম সত্যি নয়!-বলে একটু দম নেয় নীলা, একটু জিরোয়। বড্ড বেশি কথা বলে মেয়েটা, বড্ড বকে! অনির মত দুঁদে উকিলও ভেতরে ভেতরে ভারী হাঁপিয়ে ওঠে, বিরক্তি জমে। তবু কিছু বলে না সে। মেয়েটা বেশ। ভারী সরল। মনে এক মুখে আরেক নয়। এ কারণেই ভাল লাগে। তার অর্থহীন বকবকানি তাই বেশিরভাগ সময়ই উপভোগ করে সে। শেষে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে নীলা। বলে, আচ্ছা অনি, নতুন কাপড় কেনার স্বপ্ন দেখা শুনেছি খারাপ, মানুষ নাকি মরে যায়, আমি কি মরে যাব?

শুনে ঘর কাঁপিয়ে হাসে অনি। নীলা তাতে কান দেয় না। সে  বকবক করে অনবরত। নীলা ফোন রাখতেই অনিকে ভাবনায় পায়। সে ভেবে চলে কোনটা স্বপ্ন! নীলা যা দেখে প্রায়ই সেসব স্বপ্ন, নাকি এই যে জীবন, যার ঘেরাটোপে আটকে আছে সে, নীলা, আর আর সবাই তাই স্বপ্ন? তাহলে নীলার স্বপ্নটা দাঁড়াচ্ছে স্বপ্নের মধ্যে দেখা আরেক স্বপ্ন!

বিড়ালটা কখন নেমে যায় কোল থেকে, বিছানায় গিয়ে গোল হয়ে শুয়ে ঘুমোয় সেদিকে তেমন নজর করে না অনি। সে বুঁদ হয়ে ভাবে। তলিয়ে যায় নতুনতর স্বপ্নে।

নতুন কেসটার কথা ভাবে। মক্কেল অনেক মালদার আদমি। অনেক দু নম্বরি ব্যবসায় মোটা টাকা কামিয়ে নাম তুলেছেন রাজনীতির খাতায়। আসছে নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে তার। সম্প্রতি খুনের মামলায় ফেঁসেছেন। এবং মামলা স্টাডি করতে গিয়ে অনি পেয়েছে অনেক চমকপ্রদ তথ্য। থলে থেকে একে একে বেরিয়ে আসছে একেকটা বিশাল সাইজের হুলো বিড়াল। যেগুলো সামলাতে অনির মত উকিলকেও হিমসিম খেতে হচ্ছে রীতিমত। এবং হিমসিম খাওয়ার পারিশ্রমিক দিতেও মোটেই কার্পণ্য করছেন না বিশাল ভূঁড়ি আর টাকওলা ভদ্রলোক। মদ আর মেয়ের ব্যবসাটা এবার তবু গুটিয়েই নিতে হবে হয়তো। পাবলিক ইমেজ বলে কথা। ফেঁসে যাওয়া মামলাটিকে সুন্দর মতো সাজিয়ে নিয়েছে অনি। এবারের মত সামলে নিতে পারবেন ভদ্রলোক। তবু কোথায় যেন একটা সুক্ষ্ণ ‍কিন্তু থেকে যাচ্ছে। এসব কেস অনির কাছে নতুন নয়। বাঘা বাঘা লোকের অনেক যাচ্ছেতাই রকমের মামলা অনি তার কূটতর্ক, ঘোড়েল উকিলি প্যাঁচ আর আইনের ফাঁক দিয়ে বের করে এনে কেলেংকারীগুলোকে নেহাত ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রমাণ করেছে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে এমন নয়। তবু কোথায় যেন একটা কাঁটা খোঁচা দিচ্ছে থেকে থেকেই। তবে কি বয়স হচ্ছে অনির? অগোচরে কি মনের মধ্যে পাপ আর পূণ্যের ভুত বাসা বাঁধছে আজকাল! কে জানে! অনি কোনোদিন ধর্মকর্ম নিয়ে মাথা ঘামায়নি। এখনও ঘামায় এমন নয়। তবে এবারের কেসটা কেন অমন কাঁটা হয়ে ফুটছে মনের মধ্যে? মামুলি একটি কেস। বাড়ির এগারো বছরের কাজের মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে, খুন করা হয়েছে তাকে। মাঝবয়সী দারোয়ানকে এজন্য ঝুলিয়ে দেয়ার নিখুঁত পরিকল্পনা করা হয়েছে অনিরই পরামর্শক্রমে। দারোয়ানের সাথে চুক্তিও হয়ে গেছে সে মোতাবেক। সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেই তার জন্য লড়বে অনি, শাস্তির মেয়াদ যতদূর কম করা যায় সে ব্যবস্থা হবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে তাকে। কিন্তু আদতে তাকে ঝুলিয়ে দেয়া হবে। এসব কাজের কোনো স্বাক্ষী রাখতে চান না চতুর মক্কেল। অনিও আপত্তি করেনি তাতে। আপত্তি টিকবে এমনও নয়। কেসের যা অবস্থা তাতে দারোয়ান যদি না ঝোলে তবে মক্কেল ভদ্রলোক অথবা তার বিশ্ববিদ্যালয়গামী মাতাল ছেলের যে কোনো একজনকে ঝুলতেই হবে। অতএব, দারোয়ান মোখলেসউদ্দিনই এক্ষেত্রে বলির পাঁঠা সাব্যস্ত হয়েছে। তাকে বেশ কিছু টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি সেই সাথে কিছু নগদ ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে। বিপত্তিটা তাহলে কোথায়? অনি কাল থেকেই ভাবার চেষ্টা করছে বিষয়টা। তার মন এমন কু গায় না সচরাচর। তবে? নীলার মৃত্যু চিন্তা কি তার মধ্যেও সঞ্চারিত হলো তবে? ভেবেই হেসে ওঠে অনি। মাথা নাড়ে। পঞ্চাশ পেরিয়েছে সে। বিয়ে করেনি। অহেতুক ঝামেলায় জড়াতে চায়নি কোনোদিন। অনেক নারী এসেছে তার জীবনে, চলেও গেছে। তাদের ধরে রাখার চেষ্টা বা ইচ্ছে কোনোটিই ছিলো না তার। ফলে সন্তান বাৎসল্যের মত নিতান্তই অযৌক্তিক বোধ তাকে তাড়া করার সুযোগ পায়নি কোনোদিন। আত্মীয়স্বজন থেকে নিরাপদ দূরত্ব সে রেখে এসেছে বরাবর। ভাইবোন ছিল না তার। মা-বাবা মারা গেছে ঢের আগে। সংসারে মুক্তপুরুষ বলতে যা বুঝায় অনি তাই। নিরোগ, নির্মেদ শরীরে এত শিগগির মৃত্যু হানা দেবে এমন আশঙ্কা তার নেই। সে বিশ্বাস করে আরও অনেকদিন সে বেঁচেবর্তে থাকবে, আরও অনেক লোকের কেলেংকারী নিপুন মুন্সিয়ানায় মুছে দিয়ে বিপুল অর্থোপার্জনও করবে। আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে মোখলেসউদ্দিনের মত আরও অনেক নিরীহ লোককে টাকার বিনিময়ে ঝুলানোর পথ নির্মার্ণের। সেখানে হঠাৎ মনের মধ্যে অহেতুক এ কাঁটার উপস্থিতি বড্ড ভাবিয়ে তোলে তাকে। তবে কি এতদিনের ঘুমিয়ে থাকা বিবেক বাবাজি জেগে উঠতে চাইছে? আড়মোড়া ভেঙে জানাতে চাইছে নিজের অস্তিত্ব?

ভারী ভাবনায় পড়ে অনি। পাশে রাখা মোটা একটি বই তুলে নেয়। পাতা উল্টোয়। অন্যহাতে পুড়তে থাকে সিগারেট।

মোবাইলে সে এফ.এম শোনে আজকাল। নীলার অনুরোধে অবশ্যই। নীলা আর.জে। বেশ জনপ্রিয়তা আছে তার। নীলা! একটা ধাঁধা! একটা প্রশ্ন! নীলার কণ্ঠ ভেসে আসছে- বন্ধুড়া! এখন শুড়ু হতে যাচ্ছে আমাদেড় জনপ্রিয় সংগীতানুষ্ঠান…

বাংলা শব্দ কি নতুন দিকে বাঁক নিচ্ছে আজকাল? চেনা শব্দগুলোকেও কেমন অচেনা শোনায় যেন! যেন চিরচেনা পল্লীবালাটিকে হঠাৎ বিদেশী মেম-এর পোশাকে ঢেকে দেয়ার চেষ্টা! কি উৎকট যে শুনতে লাগে! নীলাকে বলতে হবে একদিন।

নীলার বয়স সম্ভবত পঁচিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকবে চুকবে অবস্থা। পার্টটাইম আর.জে হিসেবে কাজ করছে একটি এফ.এম রেডিওতে। অনির সাথে পরিচয়টা নিতান্তই আকস্মিক। কোনো এক মামলার সূত্রে মক্কেলের সাথে এসেছিল সে। সেখান থেকেই ঘনিষ্ঠতা ধীরে ধীরে।

নীলার অ্যাফেয়ার আছে। ছেলেটি ভাল। উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। বিয়ে করবে শিগগিরই। অনির সাথে তাহলে নীলার ব্যাপারটা ঠিক কি? নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে অনি। পরিচয়ের পর থেকে অনেকদূর গড়িয়েছে তাদের সম্পর্ক। এবং নীলা কোনো কিছুই গোপন করেনি তাকে। একটু ক্ষ্যাপাটে টাইপ মেয়ে নীলা। বেশ ক’বার শরীরি ভালবাসায় ডুবেছে তারা, নীলার সম্মতিতে অবশ্যই। এ ব্যাপারে নীলার মধ্যে কোনো পাপবোধ নেই, খেয়াল করেছে সে। নীলা বলে- শোনো, বেশ্যাটাইপ কিছু পুরুষ আছে, নারী স্বাধীনতার মুলো ঝুলিয়ে যারা নারীকে বোকা বানাতে চায়, আদতে মজা লুটতে চায়। চায় বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষা মেটানোর জন্য কিছু শরীর, যারা স্বাধীনতার অলীক স্বপ্ন দেখে এসব লম্পটদের কাছে সঁপে দেয় নিজেদের, সেই সাথে নারীর স্বাধীনতাকেও গলা টিপে মারে। আমার স্বাধীনতা আমার। আমিই ঠিক করবো কিভাবে তা উপভোগ করবো। আর স্বাধীনতা মানেই যে স্বেচ্ছাচারিতা বা অবাধ যৌনাচার নয় সে ব্যাপারেও টনটনে জ্ঞান আছে আমার। আমি আমার স্বাধীনতাটুকু ভোগ করতে চাই, আমার মতো করে, নিজের হাতে, নেড়েচেড়ে!

খুব কৌতুকানুভব করেছিল অনি নীলার এ অভিনব স্বাধীনতার বয়ানে। নিতান্তই ভালমানুষের মতো মুখ করে বলেছিল- তা আমাকে তোমার কোন টাইপ মনে হচ্ছে? বেশ্যাটাইপ না কি একেবারেই গোবেচারা টাইপ?

শুনে হাতের সিগারেটে লম্বা একটা টান দিয়ে, একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে কিছুক্ষণ চোখমুখ কুঁচকে অনির দিকে তাকিয়ে ছিল নীলা। তারপর হেসে উঠেছিল গলা ছেড়ে। হাসি থামিয়ে গম্ভীর গলায় বলেছিল- ভাল প্রশ্ন করেছ তো! তুমি কোন টাইপ! তাই তো!

বলে চুপ থেকেছিল কিছুক্ষণ। তারপর বলেছিল- শোন, তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে! বেশ পছন্দ! তুমি চাইলে বেশ ভাল বন্ধু হতে পারি আমরা!

কেমন বন্ধু?-দাঁও বুঝে টুপ করে প্রশ্নটা ফেলেছিল অনি।

ভাল বন্ধু! বেশ ভাল বন্ধু! আমরা নিজেদের সব কথা শেয়ার করব! দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ ভাগ করে নিব! রাজি?

রাজি!- ঝটপট বলেছিল অনি।

বিছানাও ভাগাভাগি হয়েছিল শেষমেষ, বেশ ক’বার। অনির খুব বলতে ইচ্ছে করে আজকাল- আচ্ছা, স্বাধীনতা মানে যদি যথেচ্ছাচার না হয়ে থাকে তাহলে তুমি যা করছ সেটাকে কি বলা যায়? বিয়ে করবে একজনকে, তার সাথে ভালবাসার সম্পর্কও রেখেছ, আবার আমার সাথে বন্ধুত্ব, শরীরি সম্পর্কও রাখছ, এটা কি? স্বাধীনতা?

প্রশ্নটা কেন যেন মুখে এসেও আটকে যায়। সব কথা বলা যায় না! আর নারী শরীরে খুব যে অরুচি তার এমনও নয়। তবে নীলাকে শুধুই একটা নারী শরীর ভাবতে তারও রুচিতে বাঁধে। মেয়েটার মধ্যে কিছু একটা আছে। কিছু একটা অন্যরকম! তার বয়স যদি পঞ্চাশ না পেরোত সে হয়তো নীলাকে বলে বসত, চল, বিয়ে করে ফেলি! নীলা যখন তার হবু বরের গল্প করে আজকাল, কেমন একটা ঈর্ষা খোঁচা মারে বুকে! নীলাকে বলতে ইচ্ছে করে- আহ্! চুপ কর!

সে যখন ঘুরতে যায় ঐ ছেলেটির সাথে, চিনচিনে এক ব্যথা টের পায় বুকে! আর তাছাড়া এই যে সম্পর্ক তার আর নীলার, এ তো নীলার একার দায় নয়! তার নিজের মধ্যে তো কোনো পাপবোধ নেই, তবে নীলারই বা থাকবে কেন? সে নারী বলে? না! আনমনে মাথা নাড়ে অনি। তা নয়! নীলা এনগেজড! সে একজনের সাথে চুক্তিবদ্ধ! তাই অনির সাথে তার এ সম্পর্ক প্রশ্নবিদ্ধ হতেই পারে। অনির দিক থেকে তো তেমন নয়! প্রশ্নটা একদিন সে ঠিক করে ফেলবে নীলাকে, জানে। তবে নীলা যেমন মেয়ে, সে তার এ আচরণের স্বপক্ষে ঠিক শক্ত কোনো যুক্তি দাঁড় করিয়ে প্রমাণ করে দেবে সে মোটেই যথেচ্ছাচার করছে না! মেয়েটাকে এ কারণেই ভাল লাগে! ওকালতি পেশায় তার ভাল সম্ভাবনা আছে! বলবে নাকি একবার? ভেবে আবার ঘর কাঁপিয়ে হাসে অনি।

বারান্দায় বসে আনমনে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে অনি। ভরদুপুরেও রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ জ্যাম লেগে আছে। গাড়ির শব্দ, হর্নের গর্জন মাথার মধ্যে ভীষণ বেগে আঘাত করে। অনির কেমন বেসামাল লাগে হঠাৎ। তার একটা অদ্ভুত রোগ আছে। হঠাৎ হঠাৎ কোনো একটি শব্দ মাথার মধ্যে ঢুকে যায় সাঁ করে! অনবরত প্রতিধ্বনি তোলে মগজের অলিতে গলিতে। মাথায় ভোঁতা একটা যন্ত্রণা হয় তখন। ভারী পাগল পাগল লাগে। অবশ্য দীর্ঘক্ষণ থাকে না যন্ত্রণাটা। তবু সে সময়টুকুতে ভারী অস্থিরবোধ করে সে। মাঝে মাঝে সিদ্ধান্ত নেয় কোনো ভালো সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যাবে। ঐ পর্যন্তই। যাওয়া আর হয়ে ওঠে না।

বিড়ালটা পায়ের কাছে এসে আদুরে গলায় ডাকে। পায়ের সাথে নিজের লোমশ শরীরটা ঘষে, অনির মুখের দিকে মিটমিট তাকিয়ে তার মনোভাব আঁচ করতে চেষ্টা করে। মনিবের মনোযোগ অন্যদিকে টের পেয়ে পায়ের কাছেই গোল হয়ে শুয়ে পড়ে সে। ঘুমোয়। শহুরে বাড়িতে ইঁদুর বড় একটা নেই। ভারী অলস সময় কাটে তার। মাঝে মাঝে অবশ্য শিকার জুটে যায়। এই সেদিন খাটের তলা থেকে ধেড়ে একটা ইঁদুর ধরেছিল সে। মহা আহ্লাদে ইঁদুরটার ঘাড় কামড়ে মনিবের বিছানার এককোণে বসে কচরমচর শব্দ তুলে সবে সে শুরু করেছে বাদশাহী ভোজ, অমনি বাধল গোল। অনি বিছানায় শুয়ে মোটা একখানা আইনের বইয়ে ডুবেছিল। হঠাৎ অমনধারা শব্দে সে মুখ তুলে তাকিয়ে দেখল তার পোষা বিড়ালটার সারামুখে রক্ত! আর বিড়ালটা মহাসুখে ধেড়ে ইঁদুরটার আধখানা সাবাড় করে নিয়েছে ইতিমধ্যে!

বিড়ালটাকে মেরে তাড়িয়ে বেসিনে গিয়ে পেটের সব উগড়ে দিয়েছিল অতঃপর অনি। বিছানা বালিশ পাল্টেও সারাদিনে আর মুখে কিছু রোচেনি সেদিন। বিড়ালটাকেও কাছে ঘেঁষতে দেয়নি বেশ কদিন আর।

মাথার মধ্যে গাড়ির পিপপিপ হর্নের শব্দ বাজছে। যন্ত্রণায় মাথা চেপে স্থির বসে থাকে অনি। হজম করার চেষ্টা করে নীরবে। আবার সেই চোখদুটো! আহ্! সে কি পাগল হয়ে যাবে! গতকাল দুপুর থেকে মাঝে মাঝেই দুটো চোখ অদ্ভুত মায়া নিয়ে সাঁতরাতে চাইছে তার মনের দূষিত নোংরা জলে। থেকে থেকেই তার চোখের উপর ভেসে উঠছে অমলিন একজোড়া পদ্মের মতো! ভারী অসহায় বোধ করে অনি। কেন হচ্ছে এমন? অত কোমল হৃদয়ের মানুষ তো সে নয়! তবে?

মোখলেসউদ্দিনের স্ত্রী এসেছিল তার সাথে চেম্বারে দেখা করতে। সে তখন অন্য মক্কেল নিয়ে ব্যস্ত। একপাশে রাখা দামী সোফাটায় ইঙ্গিতে বসতে বলে আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়েছিল সে। পিয়ন ছেলেটা ছিল না। সে গেছিল সাঁশালো মক্কেলের জন্য নাস্তা আনতে। সহকারী তখনও কোর্ট থেকে ফেরেনি। বউটা খুব জড়সড়ভাবে বসেছিল সোফার এককোণে। পুরুষের স্বাভাবিক কৌতূহলেই সে আড়চোখে বেশ ক বার দেখে নিয়েছিল তাকে, মেপে নিয়েছিল তার জহুরী চোখে। বয়স কম। বেশ দেখতে। বউটার সাথে তার চার পাঁচ বছরের মেয়েটাও ছিল। ময়লা, ছেঁড়া ফ্রক, মাথায় কোঁকড়া কালো চুল। দু পাশে ঝুঁটি করে বাঁধা। সে একা একা কথা বলছিল, হাসছিল। শেলফে সাজিয়ে রাখা মোটামোটা বইগুলোর দিকে অবাক হয়ে তাকাচ্ছিল। জড়তা বা সংকোচ ছাড়া।

মক্কেলকে বিদায় করে সে ঘুরে বসল বউটার দিকে। কি বলতে চায় শুনতে চাইল। বউটা কেঁদে ভাসাল। তার স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে অনুরোধ করল। ঐ একজন উপার্জনক্ষম মানুষ ছিল তার সংসারে। বড় বিপদ এখন। অন্যের বাসায় কাজ করে বড় কষ্টে দিন চলছে তার। অনি শুনল। মনে মনে হাসল। আর বেশিদিন বাকী নেই। মোখলেসউদ্দিনের ঝুলার সময় হয়ে এল। সে মুখে সান্ত্বনার হাসি ঝুলিয়ে বউটিকে আশ্বাস দিল তার স্বামীকে ছাড়িয়ে আনার। হাসিমুখে তার হাতে কিছু নগদ টাকাও দিল কি মনে করে। বউটা চলেও যাচ্ছিল। দরজা পর্যন্ত গিয়ে মোখলেসউদ্দিনের মেয়েটা হঠাৎ ঝট করে ফিরে তাকাল। তারপর পায়ে পায়ে এগিয়ে এসে ঘাড় তুলে তাকাল অনির দিকে। এই প্রথম মেয়েটার চোখের দিকে তাকাল অনি। চমকে উঠল! টলটলে, স্বচ্ছ দুটি চোখ। যেন ঝকঝকে দুটি আয়না! কোনো পাপ নেই, গ্লানি নেই, অস্পষ্টতা নেই। অনির মনে হল চোখদুটি যেন তার ভেতরটা স্পষ্ট দেখে নিচ্ছে, পড়ে নিচ্ছে তার নষ্ট মনের সকল নষ্টামি আর পাপ! সোজা অনির চোখে চোখ রেখে মেয়েটি যেন কৈফিয়ত চাইল, কিংবা অনিরই শুনতে ভুল হল, সে হয়তো শিশুসুলভ কৌতূহলেই রিনরিনে কণ্ঠে বলে উঠল- আমরার বাজানের ফাঁসি অইবো, না?

অনির্বাণ আকাশ! তার মত দুঁদে উকিল হঠাৎ শিশুটির সে দৃষ্টি সহ্য করতে পারল না! তার মনে হল তার ভেতরে লক্ষ ভোল্টেজের আলো ফেলেছে কেউ! দেখে নিচ্ছে ভেতরের সকল অন্ধকার, চোরা অলিগলি! সে চোখ নামিয়ে নিল। আমুল কেঁপে উঠল হঠাৎ। বউটা ততক্ষণে এসে মেয়েটির হাত ধরে টেনে নিয়েছে দরজার দিকে। যেতে যেতে সে মেয়েকে বলছে- অমন কতা কইতে নাই মা, তোমরার বাজান কয়দিন পরই ছাড়া পাইব, দেইহ…

যন্ত্রণাটা কমে আসে একটু পরই। মাথা এখন পরিষ্কার অনেকটাই। তবু অনির মনে হয় কোনো এক অনিত্যতার ঘোরে আটকে আছে সে। সেখানে তার জাগতিক সকল বোধ ও চেতনা, পরিবেশ ও ঘটনা সবই যেন অনন্ত মোহ ও মায়ার ঘোর। তার মনে হয় মুহূর্তেই ঘুম ভেঙে যাবে তার, সে দেখবে এক নতুন জীবন ও জগৎ। এই জীবন, যেখানে সে এখন আটকে আছে অনির্বাণ আকাশ নামে, একজন লোভি, অসৎ উকিল হিসেবে, নব্য প্রাপ্ত সে জগতে এসবই এক অদ্ভুত স্বপ্ন বলে ভ্রম হবে তার। ঘুম থেকে জেগে আড়মোড়া ভেঙে সে ভুলে যাবে সে স্বপ্ন। রেশটুকু হয়তো থেকে যাবে তার মনে। কিংবা তাও হয়তো থাকবে না আর। নতুন সে জীবনে, নতুন সে মায়ায় সে দিব্যি মানিয়ে যাবে, খাপ খাইয়ে নেবে। গ্রেগর সামসা’র মত নিত্যকার জীবনে হঠাৎ নামা ছন্দপতনের যন্ত্রণায় পুড়তে হবে না তাকে। দুটো চোখ, ঝকঝকে কাঁচের মত স্বচ্ছ দুটো চোখ যে জীবনে তার দিকে কৌতূহল, বিস্ময়, বেদনা আর অপার ঘৃণা নিয়ে তাকাবে না। যে দৃষ্টির সামনে নিজেকে সত্যিই কিলবিলে কোনো এক মাকড়সা ভেবে কুঁকড়ে যেতে হয় তাকে! যে চোখ তার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করবে না- আমরার বাজানের ফাঁসি অইবো, না?

বিড়ালটা পায়ের কাছে নড়ে ওঠে। হঠাৎ তেলাপোকা দেখে চঞ্চলতা ছড়িয়ে পড়ে তার মধ্যে। লাফিয়ে সে তেলাপোকার পিছনে ছোটে। গরগর শব্দ করে রাগে। অনির ফোনটাও ভুমমমম শব্দে কেঁপে কেঁপে ওঠে। পকেট থেকে বের করে দেখে অনি। না, নীলা নয়। বিপাশা। আরেকটা ধাঁধা! আরেক জটিল অংক। অনি যে অংক মিলাতে হিমশিম খেয়ে শেষে হাল ছেড়ে দিয়েছে। তবু অংক তাকে ছাড়ে না, ধাঁধা তাকে জড়িয়ে রাখে আষ্টেপৃষ্টে। মূলত এই সব ধাঁধা ও অংক, জীবন ও যাপন তার মধ্যে তৈরি করে এক অদ্ভুত বিভ্রান্তি, ঘোর। সে ঘোরে ডুবে যেতে গিয়েও আবার চমকে ওঠে অনি, কেঁপে ওঠে আমূল! চোখের সামনে ভেসে ওঠে অপাপবিদ্ধ একটি মুখ, দুটি ঝকঝকে উজ্জল চোখ! কানের কাছে বাজে রিনরিনে একটি মিষ্টি কণ্ঠ- আমরার বাজানের ফাঁসি অইবো, না?

স্তব্ধ, নির্বাক বসে থাকে অনি। স্বপ্ন ও মায়া, মোহ ও ঘোর, জীবন ও জগত ইত্যাকার শব্দগুলি তার মাথার মধ্যে অবিরাম সাঁতার কাটে, হাবুডুবু খায়। চারপাশের পরিবেশ, এই ঘর, বারান্দা, পোষা বিড়াল, নীলা, বিপাশা, তার সকল মক্কেল, দারোয়ান মোখলেসউদ্দিন, তার বউ, আর আর সবাই মুহূর্তেই অনির চোখের সামনে থেকে উধাও হয়ে যায়। শুধু একটা বোধ জেগে থাকে তার অস্তিত্ব জুড়ে। তার মনে হয় অবিরাম তার ভেতরটায় আলো ফেলছে কেউ! যার তীব্রতায় পুড়ে যাচ্ছে সে, কেটে যাচ্ছে তার সকল বিভ্রান্তির ঘোর…

প্রাসঙ্গিক তথ্য

আদম গন্ধম ও অন্যান্য (ছোটগল্পের সংকলন)

প্রকাশক : ছিন্নপত্র

মূল্য : ১৮০ টাকা

পাওয়া যাচ্ছে বইমেলায় লিটিল ম্যাগের বহেরা তলায় ৬৪ নম্বর দাগ এবং ৪৪ নম্বর মানুষ-এর স্টলে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(3)

  1. শিল্পী নাজনীনের গল্প দহন পড়ছিলাম । ভাবছিলাম এটা কি গল্প না কবিতা? এর শব্দচয়ন এবং চমৎকার উপস্থাপনার জন্য কবিতা বলে ভ্রম হচ্ছিল । প্রথমদিকে একে কবিতা মনে হলেও পরে ভ্রম ভেঙেছে। উকিল অনির্বাণ আকাশের ভাষ্যে লেখা গল্পটি একটা মনোজাগতিক টানাপোড়েনকেন্দ্রিক গল্প । এর মধ্যে বহুমুখী বিষয় রয়েছে । এত স্বল্প পরিসরে বহু কিছু পরিবেশনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গল্পের শুরু । যেমন পৌরাণিক ব্যুহভেদের মিথ ব্যবহার, সাহিত্যের আধুনিক কিছু টার্মও এর মধ্যে আছে ।যদিও ছোটগল্পে সুনির্দিষ্ট একটি বিষয় নিয়ে গল্প এগিয়ে যায় । মানুষের কল্পনার জগতের সাথে বাস্তবতার সম্মিলন নিয়ে লেখা গল্পটি ভাল লেগেছে । অনেকগুলো টুকরো টুকরো ভাবনা নিয়ে গল্পটি একটি আধুনিক জীবনচেতনার স্বাক্ষর ।
    গল্পের নায়িকা অন্য একজনের বাগদত্তা নীলার সাথে নায়ক অনির্বাণের একটি সম্পর্ক হয় । এই সম্পর্ক শারীরিক হলেও নীলা একে পাপ মনে করে না । শারীরিক সম্পর্ক সম্বন্ধে এই যে চিন্তা এই চিন্তাটাই গল্পটিকে একটি মানবিক এবং নান্দনিক সৌন্দর্য দান করেছে ।
    এছাড়া পুরুষ বেশ্যাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে গল্পটিকে একটি আধুনিক মাত্রা দেয়ার জন্য গল্পটি ভাল লেগেছে ।
    শিল্পী নাজনীনকে অভিনন্দন এবং তীরন্দাজের সবাইকে শুভেচ্ছা

  2. শিল্পীর লেখা পাঠকের বোধে ঘা দিয়েছে ! ভাবাচ্ছে পাঠককে !

  3. গল্পকারের শব্দচয়ন, বাক্যবিন্যাস অসাধারণ! নীলা চরিত্রটিতে যে-ভাষ্য ফুটে উঠেছে, তা মূলত কতটা মানবিক-নান্দনিক, এ-নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও গল্পটি পড়ে বেশ ভালো লেগেছে! শুভ কামনা গল্পকারের জন্য! তীরন্দাজের এমন অগ্রযাত্রায় অভিনন্দন!

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close