Home অনুবাদ সঞ্জীব পুরোহিত > দ্বিভাষিক কবিতাগুচ্ছ >> English Translation by Farida Majid

সঞ্জীব পুরোহিত > দ্বিভাষিক কবিতাগুচ্ছ >> English Translation by Farida Majid

প্রকাশঃ August 27, 2018

সঞ্জীব পুরোহিত > দ্বিভাষিক কবিতাগুচ্ছ >> English Translation by Farida Majid
0
0

সঞ্জীব পুরোহিত > দ্বিভাষিক কবিতাগুচ্ছ >> English Translation by Farida Majid

 

[সম্পাদকীয় নোট : আজ কবি সঞ্জীব পুরোহিতের ৪০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে প্রকাশিত হলো তাঁর একগুচ্ছ কবিতা। কবিতাগুলির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন কবি-অনুবাদক ফরিদা মজিদ। জন্মদিন উপলক্ষে সঞ্জীবকে তীরন্দাজের শুভেচ্ছা।]

 

এইসব শিল্প শিল্প খেলা

আহত পথশিশুকে পাশ কাটিয়ে যে লোকটি এইমাত্র চিত্রশালায় ঢুকলো
ঝোলানো ফ্রেমে বিবিসি মুদ্রিত একটি শিশুর লাশের দিকে অপলক তাকিয়ে
তার চোখে জল জমতে দেখেছি
বাছুরের গলায় চুমু খেয়ে যে ছুরি চালানোর মর্মকে হৃদয়ের মর্মর উঠানে
আছড়ে দিয়েছেন, গরুর গলার ঘুঙুরের শব্দ যিনি জুড়েছেন
গোঙানির সুরের সাথে
ব্রেকফাস্টের তন্দুরি আর কচি গরুর ঝোলে তাকে দেখেছি আপ্লুত হতে
শিল্পের চেয়ে চুমুতে যার আস্থা সেই জীবনবাদী মানুষকে
ভয়াবহ জীবাশ্মবাদী আচরণে পিষ্ট হতে দেখেছি
হে মহীয়ান শিল্পী হে মহীয়সী পোট্টেট
আমাকে লণ্ডভণ্ড করো নতুবা বাঁচাও
দূর কর অস্থিরতা, পথে পথে ছড়িয়ে থাকা
টাটকা খবরগুলো আমার নিয়েছে পিছু
তবুও বেড়ে যাচ্ছে খবরের কাগজের বিপণন!
এসব কথা যখন হচ্ছিলো, তখন তুমি আর আমি এক রিকশায়।
হঠাৎ কেনো কথা থামিয়ে ডান হাতে নাক চেপে ধরলাম, তা দেখতে ঘাড় ঘুরিয়ে
পথপাশে তাকালে; তারপর আমারি মতো নাক চেপে ধরে বললে,
: কী দুর্গন্ধ!
: তোমার সংবেদনশীলতায় সন্দেহ আছে
এবং নিজেরো, কারণ তা আমাকে অপরাধী করে
উপচানো ডাস্টবিনের ভেতর থেকে জীবনের রসদ কুড়ানো এক শিশুর নাক
বাঁ হাত দীর্ঘ করে মামদো ভূত হয়ে চেপে ধরছি।

 
Games Played for Art’s Sake

 
Side-stepping the wounded child on the street
the man who just stepped into the Art Gallery
is now looking at hung frames of pictures.
As he gazed at a child’s corpse printed by the courtesy of BBC
News Service his eyes welled up in tears, I noted.
One who kisses the calf on the neck splatters the significance
of the butcher’s knife on his marble courtyard.
He is the one who harmonizes the tinkling bells on the cow’s neck
with the sound of its dying groans.
On his breakfast table he dips his tandoori bread with great relish
in the gravy made of a young heifer’s meat, I noted.
I have seen the humanists, who put more faith on kisses
than on the Arts, get crushed under the weight of humanoid fossils,
O great Artist! O great Portrait of a fine lady!
Dismantle me, or save me,
Chase away my blues!
Scattered around the streets are breaking news
and they’re chasing after me,
even though sales of newspapers have increased lately.
A conversation on this topic was taking place while
you and I were on a rickshaw ride.
Suddenly in mid-sentence I stopped
and held my nose with my right hand.
You craned your neck to look at the roadside source,
then you held your nose too and said,
: What a stench!
: Your compassion is a suspect . . .

And so is mine, because it makes me guilty.
With my left hand stretched out like a story-book ghost
I am holding the nose of a child still gathering life’s sustenance
from inside an overstuffed garbage can.

 
এই হাসিকান্নারা

 
স্যানিটারি পাইপের ভেতর সংসার
বারো টাকার চাল আর চার টাকার ডিম
ভেজে ভাগ করে খাবে। এই হিসাব ছিলো সকালে
দুপুরে খালু এসে দেখে, ভাত আছে ডিমের বদলে
আলু নুন আর লঙ্কা!
গতপরশু পড়ে গিয়ে মে’টির চাঁদি ফেটেছে।
সরকারি হাসপাতালের আটটি সেলাই…
চালের দাম তেরো টাকা, এক টাকা বেড়েছে
চুলের মুঠো…কাটা ঘা…লঙ্কাকাণ্ড।
নর্দমার বাতাসে রক্তের ঘ্রাণ
শৈশবে খালা আমাকে পালতেন। খালা মারা গেছেন,
জানাযা চলছে।
বাসে তর্ক চলছে, লোকেরা বলাবলি করছে
মোবাইল ফোন বিল এক টাকা কমবে।
জানাযায় না গিয়ে ইন্টারভ্যু দিতে ঢুকে যাই।
বোর্ডে মুনকার নকির গলায় বাহারি টাই ঝুলিয়ে বসে আছে।
ফুলেল মুখে ডেফিনেশন দিচ্ছি সের্গেই আইজেনস্টাইনের
ইন্টেলেকচুয়াল মন্তাজ। না খোলা পকেট টিস্যু
একা একা ভিজে যাচ্ছে পকেটের প্যাকেটে।
হেসে হেসে কথা বলে যাচ্ছি।
এত এত হাসি। আমার মা’রা দু’বোন।
প্রতিদিন আমার মা একা হয়ে যাচ্ছে।

 
These Laughs and Tears

 
The household is inside a large sanitation pipe.
Twelve-taka rice, and a four-taka egg
to be shared after frying – that was
the arrangement in the morning.
But by afternoon, when Uncle came home for lunch
There was rice with potatoes, salt and chilly – no egg.
Day before yesterday the girl cracked open her skull.
Eight stitches were needed at the Govt. hospital.
The price of rice is thirteen, gone up a taka.
Clasps of hair, festering head wound, outbreak of violent squabbles
… in the air above the open sewer hovers the smell of blood.
My Aunt had brought me up in my childhood.
She has just died.
Her funeral is in progress.
In the bus people argue talking about
mobile phone bill coming down one taka.
Not attending the funeral I went in for a job interview.
Munkar Nakir is on the Board,
seated with a fancy tie on his neck.
I am voluble with flowery language offering
definition of Sergei Eisenstein’s ‘intellectual montage’.
The packet of pocket-tissue,
still unopened in my pocket,
is getting soggy all by itself.
I keep talking smilingly, laughing a lot in between.
My mothers were two sisters.
Everyday my mother is getting lonelier.

 
কবিকাক

 
লাল হাঁড়ির মুণ্ডু, চকে আঁকা চোখ। কাকতাড়ুয়ার কাঁধে চড়ে বসেছে কাক। ঠোঁট শানাচ্ছে মুখে। আকাশের চোখ এড়িয়ে বাতাসের নাক এড়িয়ে ওটি একটু হাসলো। ফিসফিসিয়ে বললো : সুড়সুড়ি লাগছে।

সাপে-নেউলে বন্ধুতা হলে খবর আছে! এক ফিনকি ছোটা জোছনা রাতে সবাই ঘুমে। ডাল ছেড়ে নেমে এলো কাক। বেড়াতে বের হলো দু’জন। হিসু করতে জাগা এক শিশু তা দেখে খিলখিল হাসতে হাসতে পিছু নিলো। ওকে দেখে ফ্রিজ ব’নে গেলো কাকতাড়ুয়া। কিন্তু শিশুটি নাছোড়। কাক বললো, যাই বলো ভাই, ও কিন্তু সাধারণ ছেলে নয়। নইলে ভয় পেতো। কেমন লেনিন লেনিন মুখ চোখ।

টেক্সাসের মেয়র কাকমুক্ত প্রদেশ গড়বে। পালক পোড়াতে আর পাড়া ছাড়াতে ব্যবহার হবে লেসার। বিবিসির এ খবর দু’বন্ধুকে শোনালো শিশুটি।

ইথিওপিয়া, নাইজার, বসনিয়া আর নানা দেশ থেকে কোটি কোটি প্রান্তিক মানুষ লংমার্চ করবে অ্যামেরিকা অভিমুখে। আজকের গিন্সবার্গরাও দানা বেঁধেছে। কাকতাড়ুয়া হবে সবার বর্ম।

 

The Poet Crow

 
A terracotta pot for his head, chalk-drawn eyes.
On the shoulder of this scarecrow
a crow perched himself.
He ground the sides of his beak on the terracotta
where the mouth ought to be.
Averting the gaze of the sky and the sniffing wind
the scarecrow smiled a wee bit.
“I feel tickled,” he whispered.
Beware when the snake and the weasel make friends!
On a night of gushing out moonlight all were fast asleep.
The crow flew down from a tree
and the two friends went for a walk.
A little boy, up from his bed to relieve himself,
caught their sight and giggling in amusement
he ran after them.
When the scarecrow saw the boy he became transfixed.
But the boy would not budge.
“You must admit,” the crow said,
“he is not an ordinary boy.
Otherwise he would have been scared.
See how Lenin-like his face is!”
A mayor of a town in Texas wanted his town rid of crows.
Laser beams would be used to burn crow-feathers
and chase them away.
The boy told this story to the two friends.
He had heard it in the BBC news.
From Ethiopia, Nigeria, Bosnia and various other countries
thousands upon thousands of marginal people
are marching towards America.
Today’s Ginsburgs are also gathering force.
They will all use the scarecrow as their mascot.

 

খুনি

 
ঝাউগাছের সঘন পাতার ফাঁক গলে দড়ি হয়ে ঢুকছিলো প্রথম রোদ্দুর। হাঁটার জন্য বেরুতাম। হাঁটা আর হতো না। এ গাছের নিচে কংক্রিটের বেঞ্চিতে শুধু কথার মেদ বাড়ছিলো। দড়ি বেয়ে বেয়ে নেমে এলো সোনার মাকড়শা, আকাশ থেকে তোমার সকাশে ওর তামাশা দেখছিলাম। তোমার ঠোঁটের, নাকের চারপাশ ঘিরে সে বুনে চলছিলো সোনালি জাল। ধীরে ধীরে জড়িয়ে যাচ্ছিলে। নার্সারি স্কুলে বর্ণচোরার খেলা দেখিয়েছিলো এক যাদুকর। তার চোখ বরাবর ওড়ানো পালকের—বারবার রঙ পাল্টানো ফিক ফিক হাসি শুনেছি। সে হাসির গুঁড়ো মেখে নিয়েছিলো এক ফ্রক পরা কিশোরীর মুখ। সে মুখ আবার হয়েছে জাগরুক—
ঘুম যদি ভাঙে দেরিতে তাই ট্র্যাকস্যুট পরে সারারাত করেছি পায়চারি। সারারাত দেয়ালে ঝুলে থাকা জীবনানন্দ ডান দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে দেখছিলেন। সুনিশ্চিত হতে ঘরের কোণায় কোণায় দাঁড়িয়েছি। রাতভর ওঁর মণির নড়াচড়া পেয়েছি টের। হলুদ তোয়ালে ফ্রেমে জড়াতেই ঘুম নেমেছিলো চোখে।
আজ যেদিকে তাকাই সেদিকেই সরে সরে যাচ্ছিলো মাকড়শাটি। এক সোনালি মাকড়শা। ভয়ে ভয়ে তোমার বুকে তাকাতেই গলা বেয়ে ওটি নেমে এলো তড়িঘড়ি। দু’টি মাংসপিণ্ড হয়ে উঠলো সোনার। সোনার আপেল ঘরে আনার ভরসা পেলাম না।
ঘরে বাস করে এক খুনি। তাকে দেখে ঘুমাতে পারেন না জীবনানন্দ দাশ। একদিন এ ঘরে সোনার ডিম দেয়া রাজহাঁস কাটা হয়েছিলো। একসাথে সব ডিমের আশায়। মাঝে মাঝে রেগুলেটরের বাড়াবাড়িতে শাদা হাওয়ায় হাজির হয় ইতস্তত লুকানো তার সোনালি পালক। বৈদ্যুতিক পাখার সাথে ঘুরে ঘুরে নাচে। নিউটনের পতনমুখি আপেল, সোনার আপেল হয়ে পড়ে থাকে ঘাসে। একটি মাকড়শা দেয় তারে পাহারা…

 

The Killer

 
Through the dense needles of the willowy pines
The first rays of the sun were threading their way down like a rope.
I used to go out for a walk. But walking was not what happened.
Under the pines upon a concrete bench
it was the chit-chats that gained weight.
A golden spider climbed down the rope from the sky
towards you – I was watching its antics.
Rounding your lips and your nose
it was weaving its golden web.
Slowly you were being enmeshed in its windings.
Once in the nursery school a magician showed us tricks
with changing colors. I remember following his quick eyes,
the flashings of colored feathers, and the peals of laughter.
A sprinkling of that laughter was held
by the face of a little girl in a frock
That face was reawakened.
Lest I’m late waking up, I paced the floor
in my room dressed in my track suit all night.
All night long Jibanananda, hanging from the wall,
kept staring from the right corner of his eyes.
To be sure, I moved myself from one corner of the room to the other.
All night long I felt his pupils’ movement.
Sleep came only after a yellow towel
was thrown over the frame.
And today, whichever direction I looked,
the spider moved that way.
A golden spider.
I looked at your breasts and it rushed there climbing down
your neck, just as I had feared it would.
The twin fleshpots turned golden.
I did not dare bring the golden apples home.
A killer lives in this room. Jibanananda Das
cannot go to sleep in his presence.
There was that time when a golden egg-laying goose
was slaughtered in this room.
The idea was to grab all the eggs at once.
From the hiding place a golden feather or two floats out
onto the white air at times
when the ceiling fan regulator is speeded up.
They dance twirling in the eddy of the electric fan.
Newton’s falling apple turns golden,
and is left lying on the grass.
A spider keeps a vigil by its side.

 
বুদ্ধ সিদ্ধার্থ ও অন্ধ উই-রানীর কথা

 
অ্যাপেনডিক্স তুমি আজ
শুধু শুধুই ব’য়ে বেড়াই
অবিশ্বাস রসের তরবারিতে
বিচ্ছিন্ন করবো তাকে

প্রত্যঙ্গটির প্রয়োজন নেই মানুষের
দরকার কেনো তবে বাঁদরের?
আমি বাঁদর হবো বলে
প্রশ্রয় দেই চাপকলে
গভীর বুক থেকে জল উঠে এলে
জলে গুলে থাকে
নিষিদ্ধ আর্সেনিক

আর্সেনিক পানের দগদগে ঘা
যেনো বুদ্ধের খোবলানো মাংসশাঁস
পিতলের চকচকে নিষ্প্রাণ মূর্তি
হাত তুলে আজো দেয়
নিরেট আশ্বাস

দলে দলে অজস্র উই মাংস খেতে ওঠে পড়ে
নির্বাণ ধ্যানে বসা বিমগ্ন সিদ্ধার্থ’র গায়ে

প্রশ্রয় দেই বলে প্রেমে পড়ি
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপেন্ডিক্সকেও
হৃদপিণ্ডজ্ঞান করি
হায়! যদি ফিরে পায়
তার আপন মহিমা

আধফুট রানী-উই
জানি না নিজেই কি এসেছিলো গর্ত থেকে
অশ্বত্থের গোড়ায় প্রিয় ডিম পাড়া থেকে
অন্ধ উইপোকার ষাট সত্তুর হাজার ডিম!

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রী শিরদাঁড়াকে প্রলম্বিত করি বানর হতে
নইলে একসময় হয়ে যেতে পারি রূপান্তর
অমেরুদণ্ডী প্রাণীতে
কশেরুকা হারাতে হারাতে।
বাড়ির চৌকোণা সদর হয়ে যাবে
ম্যানহোলের গোলাকার পথ
শিরদাঁড়াহীন শরীর প্রবেশ করবে অনায়াসে
ধারাবাহিক বিবর্তনে

কশেরুকা খসে যাবার পূর্বেই
আমি চাই আরো কশেরুকা
কশেরুকায় কশেরুকায় আবার গজাক
সংবেদনশীল লেজ
জাগুক লেজ দোলানো শিহরণ

স্বর্ণমুদ্রার এপিঠে ঈশ্বর ওপিঠে শয়তান
টস খেলে বাজিকর হেড-টেইল সবকিছুকে
একটি সুতায় গাঁথে
জুয়ারি জেতার আনন্দের চেয়ে
পরাজয়ে মুগ্ধ হয় বেশি
আজ পয়সার ঝন্ঝন্ শব্দে
কানে তালা লেগে গেলে
নৈঃশব্দ্যে চাবি খুঁজে বেড়াই

বেড়াই জঙ্গলে পাহাড়ে
সবুজে সর্পে জানোয়ারে
হাতির পিঠে বেড়াই
লেজসুদ্ধ গর্বিত শরীরে
জলে লেজ ডুবিয়ে চুষে নেই
টেকসই তিমিদের কোরাস
এক নিটোল বাঁদরিকে নিয়ে
পাকা আঙুরে মাতলামো করে
জল শুষে নেই যোনি থেকে

অথচ আজ
উন্মাদ বাদন ছন্দে
বিকিকিনি
বিকিনি বিকিনি গন্ধে
লেজ কাটা শৃগালের ধূর্ততায়
আন্ডারওয়্যরের ভেতর পুরে দেই হস্ত!
হস্তির শুঁড় ও লেজের এক পারশিয়ান গিঁট বেঁধে
অসভ্য দম্ভে কেনো যে
দ্রাবিড়া দ্রাবিড়া করে খুব গেয়ে উঠি!
ওর বুক থেকে
আঁচল খসে গেলে
টপলেস ওয়্যারের মুগ্ধতা নিয়ে
নেয়ে উঠি দিশাহারা ঘামে

একটি পাপ জরায়ুতে জড়িয়ে
কোটিযুগ আমাদের গ্রাস করে আছে
এ পাপ বিক্রি করে
একদিন নিশ্চিত কোনো নৃ-বিদ
তার অন্ন জোগাবে।

 

Story of Buddha Siddhartha and the Blind Queen Termite

 
You are an appendix today, the one I carry about needlessly.
I’d chop it off with distrust, a form of bad humor
acting as sword.
Man has no use for this appendage of his entrails.
Why do monkeys need it?
I want to be a monkey,
so I press on the arm of a water-pump.
As the water comes out from the deep core
there’s dreaded arsenic dissolved in it.
Drinking of arsenic-laced water causes festering ulcers
that look like gouged out flesh of Buddha.
Today the lifeless statue of polished brass
With a raised palm is bestowing blessings forever.
Swarms of termites streaming all over the body
of Siddhartha meditating Nirvana to consume his flesh.
Because I let go vigilance I fall in love.
I treat my useless appendix as my heart
in the hope of regaining its vanished importance.
I try to figure how the queen termite, almost six inches long,
came out of her hole under the bunyan tree,
out from her labor of love of laying
sixty to seventy thousand blind termite eggs.
I try extending the central nervous system through the spine
so I can become a monkey.
I could otherwise morph into a spineless creature.
While losing the vertebrae one by one
the threshold of the main door of the house
would turn into the public square
where through the circular manhole
the spineless body would slither unhindered
in a continuing downward evolution.
Before another vertebra drops off I want more of them.
With added vertebrae
let the sympathetic tail grow again.
Let the thrill of swinging the tail be awakened.
A gold coin has god on one side and the devil on the obverse.
The bettor who tosses it for head or tail strings them together.
The gambler seems more enticed by losses
than by the joy of a chance winning.
Today when the clang of coins upon coins
puts a deafening lock on the ears
I look around for a key of silence.
Wondering in the woods and hills,
in the green dales among serpents and beasts
I ride the backs of elephants with pride in my tailed body.
I plunge my tail in the water and
Suck up the chorus of Leviathans.
I’d find a luscious she-monkey to frolic with
drunkenly amid crushed grapes
and suckle the juice of her yoni.
Yet here today is the wild beat
of booming sales pitches
and the parading of bikinis.
Cunning as the tail-less fox of Aesop’s Fables,
I stick my hand inside the underwear.
I tie a Persian Knot with
the trunk of the elephant and my tail,
and break out in unrefined arrogance
in a song of homage to the Dravidians.
As your sari’s end slips off your breasts
I relish the topless sight even as I get
drenched in unsightly sweat.
A primal sin has clung on to the womb
And has been infecting us for a million aeon.
Someday for sure some anthropologist
Will sell this sin and make a good living.

 

সঞ্জীব পুরোহিত

 
সঞ্জীব পুরোহিতের জন্ম ঢাকায়, ২৭ অগাস্ট ১৯৭৮। বেতারে ছোটদের ছড়াপাঠের আসরে সুকুমার রায় আবৃত্তি করতে করতে হঠাৎ ভুলে গিয়ে বানিয়ে বানিয়ে ছড়া পাঠের মধ্য দিয়ে লেখালেখি শুরু। জারজ কবিতারা কাঁদে, আমার বই প্রথম ভাগ, হিপোক্রেটের আর্তনাদ; এগুলো কবিতার বই। স্কুল ঢাকার গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি। ‘কবি’ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রথম ছাত্র। পেটে অশ্বত্থের বীজ নিয়ে উড়ছে একটি লালকাক; দেয়াল ভাঙার দেয়ালিকাখ্যাত ‘দাঁড়কাক’ ছোট কাগজের সম্পাদক। এ শিল্প আন্দোলনের উদ্দেশ্য দেশি-বিদেশি শোষক শ্রেণীর দুর্বৃত্ত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে জনগণের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নির্মাণ। পেশাগত জীবনে তিনি ফ্যাশন ডিজাইন ও ডিজিটাল সেরিওগ্রাফার।

 
Sanjib Purohit

 
Sanjib Purohit was born in Dhaka on 27th August 1978. While reciting Shukumar’s poems live at a children’s program in Bangladesh Betar, Sanjib after delivering few lines from Shukumar,s poem he started making up his own lines – that was the start of his poetic journey. ‘Jaroj Kobitara Kande’, ‘Amar Boi Prothom Bhag’, ‘Hypocrit-er Artonad’ are a few of his published collected works. After passing from Government Lab School, Sanjib was the only person who had the honor of being admitted into Jahangir Nagar University as a ‘Poet’.’ A red raven is flying carrying in its belly seeds of banyan that will crack the wall’. He is editor of Little Mag, Darkak. He says: ‘Our movement is to pave the way for people’s representative culture, which goes naturally against the national and international gangs that suck the lifeblood’. He is a fashion designer and a digital serigrapher by profession.

 

 

ফরিদা মজিদ

 
কবি ফরিদা মজিদ কলম্বিয়া বিশ্বদ্যিালয়ে বাঙলা এবং সিটি ভার্সিটি অব নিউইয়র্কে ইংরেজিতে তুলনামূলক সাহিত্যের প্রফেসর ছিলেন। পাবলো নেরুদা, টেড হিউজ, ডেরিক ওয়ালকট, শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আজাদসহ অনেক খ্যতিমান কবির সাথে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল কাব্যসূত্রে। শামসুর রাহমানের কবিতা তিনি ইংরেজিতে এবং ডেরিক ওয়ালকটের কবিতা নোবেল পাবার আগেই তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন, যা মুদ্রিত হয় শিবনারায়ণ রায় সম্পাদিত ‘জিজ্ঞাসা’ পত্রিকায়। কবি ফরিদা মজিদ ইংল্যান্ডে বসবাসকালে ‘Salmander Imprint’ নামক একটি প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে অগ্রন্থিত ইংরেজ কবিদের গ্রন্থ প্রকাশ শুরু করেন। এটির অন্যতম আলোচিত গ্রন্থ হলো Evening Anthology। ফরিদা মজিদের নানা কবি গোলাম মোস্তফা এবং মামা শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার। তিনি মার্কিন স্থপতি Robert G. Boughey এঁর প্রাক্তন স্ত্রী, যিনি কমলাপুর রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন দেশের স্থাপত্যকলার একজন সফল শিল্পী। কবি ফরিদা মজিদের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ গাঁদাফুলের প্রয়াণ ও যারা বেঁচে থাকবে।

 

Farida Majid

 
Poet Farida Majid taught Bangla at Columbia University and English at the City University of New York as professor. Due to her travels and work in the fields of arts, literature and music, she had had the privilege of working and maintaining close contacts with personalities like Pablo Naruda, Ted Hughes, Derek Walcott, Seamus Heaney, artist Felix Topolski, Shamsur Rahman, Humayun Azad and many others over the years. Besides Rabindranath and Nazrul, she translated Bangladeshi poets’ work in English and Derek Walcott’s (before he was awarded the Nobel Prize in 1992) poems in Bangla which were published in the Jijnasha, edited by Shibnarayan Roy. Poet Majid established a publishing house ‘Salmander Imprint’ in London which produced several award-winning titles by British poets. Thursday Evening Anthology was one of her reputed publications featuring Topolski sketches of each poet in the collection. Her own poetry in English and also in her native Bangla has won accolades from poetry lovers of the world. She is the granddaughter of Poet Golam Mostafa, and a niece of artist Mustafa Monowar and ex-wife of Robert G. Boughey, an US born architect who designed many important buildings in Asia including Dhaka Kamlapur Railway Station.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close