Home অনুবাদ সমকালীন মার্কিন গদ্যকবিতা [পর্ব ১] > চার্লস সিমিকের ২৫টি নির্বাচিত গদ্যকবিতা / ভাষান্তর রনক জামান

সমকালীন মার্কিন গদ্যকবিতা [পর্ব ১] > চার্লস সিমিকের ২৫টি নির্বাচিত গদ্যকবিতা / ভাষান্তর রনক জামান

প্রকাশঃ April 18, 2017

সমকালীন মার্কিন গদ্যকবিতা [পর্ব ১] > চার্লস সিমিকের ২৫টি নির্বাচিত গদ্যকবিতা / ভাষান্তর রনক জামান
0
0

অসাধারণ সব বিস্ময়কর কবিতা লিখেছেন তিনি। লিখেছেন গদ্যকবিতা। স্বপ্নকল্পনা-পরাবাস্তবতা-আধুনিকতা-্উত্তর-আধুুনিকতায় মেশানে তার প্রতিটি কবিতা ভীষণ ‍উজ্জ্বল। পড়ুন মার্কিন কবি

চার্লস সিমিকের ২৫টি নির্বাচিত গদ্যকবিতা

ভাষান্তর > রনক জামান

 

কসাইখানা

মাঝে মাঝে গভীর রাতে হাঁটতে বেরুলে, এক বন্ধ কসাইখানার সামনে দাঁড়াই। বাইরের বাতিটি একা একা জ্বলজ্বল করে। যেন মৃদু সে আলোয় কয়েদিরা পালাবার সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে। বাইরে ঝুলন্ত অ্যাপ্রন : তাতে রক্ত লেগে আছে মানচিত্রের মতো। রক্তের মহাদেশ, রক্তের নদী, সমুদ্র। পাশেই ধারালো ছুরি, ঝিলিক দিচ্ছে কোনো অন্ধ মন্দিরের চকচকে বেদির মতো। পঙ্গু, জড়বুদ্ধি প্রাণীদের চিকিৎসা করতে ওখানে ধরে আনা হয়।

পাশে একটা কাঠের টেবিল। ভাঙা হাড়গোড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে। টেবিলের কাপড়েও রক্তের শুকনো নদী। সেই গভীর রাতে, তাতে ডুবে যেতে থাকা কারো চিৎকার শুনি।

 

দুটো কুকুর

চার্লস এবং হোলি’র জন্য

দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনো শহরে ছিল এক বৃদ্ধ কুকুর, যে কিনা নিজের ছায়া দেখে নিজেই চমকে যেত।

আমাকে এই গল্প যে শুনিয়েছিল, সেই মহিলা অন্ধ হয়ে গেছে। গ্রীষ্মের সুন্দর সন্ধ্যাবেলায় ছায়াগুলো প্রশস্ত হতে হতে হ্যাম্পশায়ারের বনে ঢুকে যায়। সুদীর্ঘ গলিতে এক ভাবুক কুকুর আর কতিপয় হাঁসমুরগী, যাদেরকে এভাবে রেখেই প্রতিদিন সূর্য ডোবে, আঁধার নেমে আসে দক্ষিণাঞ্চলীয় নামহীন শহরটিতেও।

এটাই মনে করিয়ে দেয় ১৯৪৪ এর কথা।

জার্মান সৈন্যরা মার্চ করে এগোচ্ছিল। পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমরা। যেন পৃথিবীটা কাঁপছে, মৃত্যু হেঁটে যাচ্ছে আমাদের সামনে দিয়ে। ঠিক তখনই সাদারঙ একটা ছোট্ট কুকুর, দৌঁড়ে এসে কামড় দিলো এক সৈন্যের পায়ে। তারপর, বুটের লাথি খেয়ে এমন ভঙ্গিতে উড়ে গেল, যেন তার ছিল একজোড়া ডানা। আমি ফ্যালফ্যাল করে তা-ই দেখতে থাকি! রাত্রি নেমে আসে বর্তমানে। আমার দৃশ্যজুড়ে ডানাওয়ালা একটি কুকুর উড়ছে।

 

হোটেল ইনসোমনিয়া

এই ঘরের জানালাটা ভালো লাগত। দেখা যেত না কিছুই, ওপাশে পাথুরে দেয়াল। পাশের ঘরে একটা পিয়ানো ছিল। মাঝে মাঝে সন্ধ্যাবেলা, বাজাতে আসতো এক পঙ্গু বুড়ো। বাকিটা সময়জুড়ে নৈঃশব্দ্য। প্রতিটি ঘরেই কালো কোট পরা মাকড়শা ছিল। জাল পেতে শিকার করত ওরা জেলেদের মতো। পুরো রাত, মাতাল সময়, সিগারেটের ধোঁয়া ওড়ে অন্ধকারে। এতটা অন্ধকার, নিজের মুখটাই আয়নাতে দেখা যেত না। ভোর হলে, পায়ের আওয়াজ শুনি উপরতলায়। জিপসি জ্যোতিষীর পায়ের আওয়াজ। সারারাত কাম শেষে পেশাব করতে উঠেছে। কাছেই কোথাও এক শিশুর কান্না শুনি। খুব কাছে। এত কাছে, মাঝে মাঝে মনে হতো, আমারই বুঝি।

 

ছবিভর্তি বই

বাবা ধর্মতত্ত্ব বোঝাচ্ছিলেন মেইল পাঠিয়ে। সামনে পরীক্ষা। মা আমার পাশে বসে জামা বুনছিল। আমি নিঃশব্দে বসে থাকি পড়ার টেবিলে, খোলা বই; বইভর্তি অসংখ্য ছবি। বাইরে রাত্রি তখন। মৃত সব রাজা আর রানীদের চিবুক স্পর্শমাত্র ঠাণ্ডায় আমার হাত জমে যাচ্ছিল।

উপরে শোবার ঘরে কালো এক রেইনকোট সিলিংয়ের তারে ঝুলছে। কী করছে ওখানে ওটা? মায়ের দীর্ঘ সুঁই এফোঁড়-ওফোঁড়, দ্রুত বুনছে কালোরঙা জামা। আমার মাথার গভীরে থাকা অন্ধকারটির মতো কালো।

বইয়ের পাতা ওল্টাই। পাতাগুলো পাখির ডানার মতো শব্দ তোলে। “মানুষের আত্মা, স্বভাবে পাখির মতো,” বাবা বলেছিলেন। তখনই, আমার ছবিভর্তি বইয়ের মাঝে বেঁধে গেল তুমুল যুদ্ধ : বর্শা, তরবারি, ঝনঝন- শীতের বনভূমি কেঁপে ওঠে আমার ভেতর, আহত ও রক্তাক্ত- হৃদয় আমার।

 

স্বপ্নগুলোর প্রতি

পুরনো ঠিকানাগুলোতে আমি এখনো থাকি। ঘরের ভেতরও কালো চশমা চোখে। বিছানা শেয়ার করি ভূতের সাথে। প্রতি মধ্যরাতে ওরা বেড়াতে আসে। সারারাত কথা হয়। স্কুলে যেতে তাই দেরি হয়ে যায়। যখন পৌঁছাই, কেউ চিনতে পারে না। আনমনে বসে থাকি, অপাঙক্তেয়, বহিষ্কৃত এক ছাত্রের মতো।

সারারাত খোলা থাকে বাইরের দোকানগুলো। খুব হিসাব করে আমি সদাই করি। জীর্ণ ঘরদোর প্রতিবেশীদের, পেরুলেই সিনেমা হল, আমার জীবনী নিয়ে আজো সিনেমা দেখায় সেখানে। বেপরোয়া আশাবাদী নায়ক আমি। হতাশাই যার প্রাপ্য। এসবে এখন আর আসে যায় না। বাইরে তুমুল শীত। বিশ্বস্ত আঁধার। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আমি পালাবার ট্র্যাপডোর খুঁজি এই মঞ্চ থেকে।

 

তরমুজ

সবুজ বুদ্ধ ওরা

ফলদানিতে।

রক্তাভ হাসিটুকু খেয়ে

দাঁতগুলো ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলি।

 

একটি হারানো জিনিসের বিবরণ

কোনদিন এর কোনো নাম ছিল না। কোথায় কীভাবে এটা খুঁজে পেয়েছি, তাও মনে পড়ে না। পকেটে নিয়ে ঘুরতাম ছিঁড়ে যাওয়া বোতামের মতো। তবে বোতাম ছিল না।

সিনেমায়, ক্যাফেটেরিয়ায়, অন্ধ সরাইখানায় বা সুইমিং পুলে বা বৃষ্টিস্নাত গলিতে বা যখন যেখানেই…নিভৃতে সাথে থাকত। যেন অস্তিত্বহীন। যেন স্বপ্নের ভেতরের ছায়ার মতো বা সূচাগ্রে বসে থাকা দেবতার মতো স্থির। তারপর, একদিন হারিয়ে গেল। বছরের পর বছর কেটে গেল নামহীন স্টেশনে, যতক্ষণ না কেউ বলে দিচ্ছে এটা অমুক জায়গা, জানা হয় না। আমি কেমন বোকা! নেমে গেছি শূন্য এক প্লাটফর্মে, যেখান থেকে শহরে যাবার কোনো রাস্তাও নেই।

 

চেয়ার

ওই চেয়ারটি একদিন ইউক্লিডের ছাত্র ছিল।

এখন তাঁর উপপাদ্যের বইটি পড়ে আছে সেই চেয়ারে। ক্লাসরুম। জানালা খোলা। আচমকা বাতাস এসে বইটির পাতা ওল্টায়। আর ফিসফিস পাঠ করে বইয়ের প্রতিপাদ্যগুলো।

রোদমাখা বিস্তৃত ছাদ, পেরিয়ে যাচ্ছে ওই লাল সূর্য; আর সবকিছুর ছায়া, দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্যার ইউক্লিড, কিছুই বলছেন না- আশ্চর্য!

 

সূচবিদ্ধ চোখ

কেউ জানে না, মৃত্যুর কর্মপদ্ধতি কেমন। কেউ জানে না, কত দীর্ঘ অপেক্ষা তার একটি কাজে। ঘরে স্ত্রী একা, মৃত্যুর কাপড় ধুয়ে তার দিন কেটে যায়। সুন্দরী মেয়েগুলো তৈরি করে দেয় তাকে রাতের খাবার। প্রতিবেশী তাস খেলে বাগানে বসে। অথবা কিছুই করে না সে, সিঁড়িতে বসে বসে বিয়ার গেলে।

পথিমধ্যে মৃত্যু তখন, অচেনা শহরের রাস্তায় একা ঘুরছে। কাশিতে ভুগছে- এমন এক প্রাণের খোঁজে সতর্ক স্নায়ু। কিন্তু, ঠিকানাটা ভুল হয়ে গেছে। এত এত দরজার এপাশ থেকে আর কিছুতেই খুঁজে নিতে পারছে না সে…হঠাৎ বৃষ্টি নামে! সম্মুখে দীর্ঘ রাত, খবরের কাগজও নেই যে ভিজে যাওয়া থেকে তার মাথাটি বাঁচাবে। পকেটেও পয়সা নেই যে কাউকে সে ফোন করবে।

অন্য কোথাও কেউ পোশাক খুলছে ধীরে। তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখ, নগ্ন শুয়ে আছে মৃত্যুর বিছানার অন্যপাশে।

 

হারানো শিশুটি

তুমি, ময়লা ও রোদে পোড়া ছবি। দেখেছিলাম প্রায় বছর বিশেক আগে। এক পরিচ্ছন্ন দোকানের জানালা থেকে। জানালার পাশে বসে- গলিখানা দেখতে দেখতে- আজরাতে তোমাকেই মনে পড়ল আবার। প্রতিরাতে ওই পথে চেয়ে থাকে তোমার জননী, এখনো হয়ত।

মেঘ মেঘ আকাশ। যখন তখন বৃষ্টি নামে এই পুরনো শহরে, সেই পুরনো গলিতে। একই দোকান- তালাবন্ধ, তার সম্মুখে বিদ্যুতের মাতাল আলো। মেঘ কেটে সূর্যকিরণের মতো আলো ফেলছে তোমার ওই ক্লান্ত মুখে, দেয়ালে, চকচকে সিনেমার বিজ্ঞাপনের পাশে পুরনো পোস্টারটিতে।

 

সূর্যাস্ত রাঙানো গ্রন্থ

নীলরঙা বৃক্ষগুলো আজ তর্ক জুড়েছে লাল হাওয়ার সাথে।

সফেদ ঘোটকীর এক ময়ূরী রয়েছে- ক্রীতদাসী হিসেবে।

বাজপাখি উড়ে যায় রাত্রিকে শিকার করে তার থাবার নখরে।

একথা সত্যি যে, সুবর্ণ পাহাড় বলে কিছু নেই আদতে।

 

অথচ এইমাত্র অন্ধকার আকাশটিকে ছুঁয়ে দিল সুবর্ণ পাহাড়।

 

ফোনকল

তোর জন্য মেসেজ রয়েছে, বোকাচোদা : আমাদের সাথে তুই পল্টি মেরেছিস। খোদার দোহাই, ক্রুশবিদ্ধ করে তোকে ঝোলানো উচিত…

আমাকে?

রুটির গুড়োগুলো পড়ে আছে টেবিলের নিচে, ভয়ে জড়োসড়ো, কৃতজ্ঞ চোখ তুলে তাকিয়ে রয়েছে সোজা আমার দিকে। কাপুরুষ কোথাকার! আক্ষরিক অর্থেই কেউ না যেন। আর এই যে এখন, দূর-ছাই! আমার ভ্যাবাচ্যাকা খোলামুখ ঝুলে থাকে জানালার কাঁচে। আগস্ট, আমার জল্লাদ যেন বাইরের অন্ধকারে, কালো টুপি পরে আছে সব।

আপনি মজা করছেন সম্ভবত। নয়ত বিশাল এক ভুল বোঝাবুঝি। রং নাম্বার, তাই না?

নাম্বার ঠিক আছে, অন্যের মগজ থেকে বলছি কেবল।

 

রাস্তায়

ছেলেটি তার জুতোর ফিতে বাঁধতে ঝুঁকেছিল। সেই ভঙ্গিটিকে বিবাহ প্রস্তাব ভেবে সম্মুখের মেয়েটি রাজি হয়ে গেল :

– ওঠো। উঠে দাঁড়াও সুশ্রী যুবক, জ্বলজ্বলে চোখ মেলে মেয়েটি বলে। পথের অন্য সবাই তাদেরকে পাশ কেটে হনহন চলে গেল গন্তব্যে। যেন মৌমাছি তাড়া করেছিল।

– সারাটা দিন বেলুনে চড়ে উড়ব আমরা, মেয়েটি সোৎসাহে ঘোষণা করে।

– ওতে উঠলে কানে তালা লেগে যায়, ছেলেটি জানায়।

– অনেক উঁচুতে উঠতে উঠতে আমরা ছুঁড়ে ফেলব আমাদের যাবতীয় পোশাকসমূহ।

– আর আমার সিগারেটের আগুন খসে এদিক সেদিক পড়ে অগ্নিকাণ্ড হবে।

– ও নিয়ে ভেবো না তুমি। কালো মেঘের স্পর্শে নিভে যাবে সমস্ত আগুন। আর মেঘের শরীর গলে আমরা চলে যাবো অন্য কোথাও। আমার গোপন সেই দরজা খুলে। 

 

উনিশশো আটত্রিশ

সে বছর নাৎসি বাহিনী ভিয়েনায় এলো। সেবারই অ্যাকশন কমিকে সুপারম্যান প্রকাশিত হয়। সহকর্মী যারা বিপ্লবী ছিল, সবাইকে স্টালিন খতম করে দেয়। সেবারই প্রথম চালু হলো ডেইরি কুইন। তখন আমি দোলনায় শুয়ে থাকা শিশু, হিসু করে তোয়ালে ভেজাই।

“আপনি খুব আদুরে বাচ্চা ছিলেন মনে হয়,” বিং ক্রসবি গেয়ে উঠলেন। সে বছর খবরের কাগজে এলো, এক পাইলট নিউ ইউর্ক থেকে উড়োজাহাজ নিয়ে ভুল করে আয়ারল্যান্ডে না নেমে কোরিগান চলে গিয়েছে। আমি তখন মায়ের কোলে, শালদুধ খাই।

সে বছর সেপ্টেম্বরে ঘূর্ণিঝড় হলো। ওয়েস্টহ্যাম্পটনের এক সিনেমা হল ভেসে গেলো সমুদ্রের বুকে। সে বছর মানুষ ভাবলো, পৃথিবী তাড়াতাড়ি ধ্বংস হবে। সমুদ্রের গভীরে, একটা মাছ সেই সিনেমা হলে বসে ভাবছিল, সাত কোটি বছর তার আয়ু। পরদিন দক্ষিণ আফ্রিকার এক উপকূলে জেলেদের জালে সে ধরা পড়েছিল।

আমি তখন দোলনায় শুয়ে ছিলাম, দিনগুলো ক্রমশ ছোট আর শীতলতর হচ্ছিল। বাড়িটাকে ঘিরে খুব তুষার ঝরছিল। আর আমাকে ঘিরে ছিল স্তব্ধতা। সে বছর আমি শুধু কান্নার স্বর শুনেছিলাম, নিজেরই কান্নাসমগ্র।

 

বইয়ের দোকানে

অখ্যাত এক উপন্যাসে, প্রেমিক-প্রেমিকা পরস্পর হাত ধরে আছে। রান্নার বই থেকে, শসা-সালাদের পাতাটি ছেঁড়া। মৃত এক লোক তার শৈশব লিখে রাখছে : খামারের স্মৃতি, ইরি লেকে বেলুনে ওড়ার সেই দৃশ্যসমূহ। আমার হাত দিয়ে তার খসড়া পাণ্ডুলিপি বন্ধ করেন। একজন দার্শনিক প্রশ্ন করে ধর্মতত্ত্ব নিয়ে; গোঁড়া মতবাদে কী সত্যিই সম্ভব শাশ্বত বিচার দিবস? বেশ, অপেক্ষা করেই দেখা যাক। মিশর ভ্রমণের বইটিতে লেগে আছে অনেক বালি। সেই মৃত মৌমাছি, যে একদিন কামড়েছিল রহস্যময়ী রাণী এবিগেলের নরম নিতম্বটিতে। চোখের কাজল দিয়ে নাম লিখে গেছেন তিনিও- সেই ইতিহাস এই বইয়ে।

 

চঞ্চল মন

আমার প্রতিবেশিনী, আমাকে তার অন্ধ বিড়ালের গল্প শোনায়। বিড়ালটি প্রতিরাতে বাইরে কাটায়। কোথায় সে যায়? আমি জিজ্ঞেস করি। আমার স্বর্গত মা তখন আমাকে ডাকে, টেবিলে প্রস্তুত রাতের খাবার। আমি উঠে চলে আসি। গাঢ় অন্ধকার মাথার ভেতর। সেখানে এক অন্ধ বিড়াল, ইঁদুর শিকার করে নিঃশব্দে।

 

আমার স্বীকারোক্তির পালা 

একটি কুকুর, কবিতা লিখছে। বিষয় : সে কেন ঘেউ ঘেউ করে। প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, সেই কুকুরটি আমিই। লাইব্রেরি থেকে ওরা অর্ধচন্দ্র দিয়ে বের করে দিচ্ছে আমাকে। আমি বললাম, আমার প্রভু সর্বশক্তিমান, যদিও অদৃশ্য বহুদিন ধরে। কিন্তু ওরা কোনো প্রভুকে দোচে না। আমার লেজ ধরে টেনে-হিঁচড়ে ঠিকই বের করে দিলো।

পার্কের পাখিগুলো সভা ডেকেছিল : নিজেদের কিচিরমিচিরে কেন অতিষ্ঠ ওরা! বেঞ্চে বসা এক বৃদ্ধা, সম্মুখে আয়না ধরে নিজেরই সাদা চুল কেটে ফেলছিল এক অদৃশ্য কাঁচিতে। আমি কিছু বলিনি তখন। সে রাতে, মেঝেতে শুয়ে থাকি কাঁচুমাচু হয়ে; কবিতার পেন্সিল কামড়ে ধরে, থেকে থেকে দীর্ঘশ্বাস। ঐ দূর আকাশে- নাগালের বাইরের কারো প্রতি রাগ হচ্ছিল খুব। কোনদিন যার কোনো নাম দিইনি।

  

তাসের ঘর

তোমাকে মনে পড়ে, শীতের সন্ধ্যা। তোমার ওই মৃদু আলোটিকে।

মায়ের রুদ্ধস্বর, খাবার টেবিলে বসে সেইরাতে আমরাও শ্বাসরুদ্ধ।

মায়ের হাতে বানানো এই তাসের ঘরটির পতনের অপেক্ষা করি।

রাস্তায় বুটের শব্দ হেঁটে যায়। সতর্ক ভঙ্গিতে কান খাড়া করি।

তারপর, আর কিছু নয়। শুধু বন্ধ দরজা, শুধু জানালায় বিবর্ণ কাঁচ।

বাইরের উঠোনে একা বৃক্ষ দাঁড়িয়ে। পাতাহীন- কদাকার- নগ্ন পায়ে।

 

বিভীষিকার এনসাইক্লোপিডিয়া

ইনসোমনিয়া ছাড়া আর কেউ পড়ে না এই বই। বাচ্চাটিকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে, এই ভিড়ে। সকালেই ওর মা মেরেছিল খুব। তারপর গৃহহীন উন্মাদ মহিলাটি, পথে উবু হয়ে পেশাব করতে বসেছিল।

কারো অনুপস্থিতি অনুভূত হচ্ছে নাকি? ধোঁয়ায় ঢাকা ঐ বোমাক্রান্ত শহরে- মৃতদেহগুলো যেন ছাইদানি উপচে-পড়া সিগারেট ফিল্টার মতো। অথচ তাও নয় ঠিক। সবাই তো এখানেই আছে, যদিও মৃত।

দেখুন! আপনার হাশরের মাঠে আজ হাজির সবাই। অসংখ্য মানুষ এসেছে নিজ নিজ গল্প শোনাতে। একটি গল্পে, এইমাত্র দুজন সৈন্য, কয়েদীকে বেধড়ক পেটানো শেষে, অজু করে জুয়া খেলতে বসেছে।

 

ন্যান্সি জেন

মৃত্যুশয্যায় শুয়ে দাদী হেসেই চলেছে। মহাকাল ভ্যাবাচ্যাকা ভঙ্গিতে তাই শুনছে। দাদীর চারপাশে আমরা, দৃশ্যত মোমের চারপাশে উড়ন্ত পোকার মতো। চিলেকোঠায় ঢুকে যাচ্ছে আরেকটি খেলনা পুতুল।  বিড়ালটা হেঁটে যাচ্ছে, ওর মুখভর্তি কিসের পালক?

অচেনা অন্ধকার দেশে, গোরখোদকের ছেলেমেয়ে লজেন্স কিনছে ঐ দোকান থেকে। (সে রাতে আমাদের যেমন দেখাচ্ছিল।) তেলের পাম্পে এক তরুণ যুবক তার বন্ধুর গল্প শোনাতে গিয়ে, মেঘেদের কথা বলল। কী হৃদয়বিদারক! আমরাও হেসে ফেললাম।

মগডালে একটা পাখি ডেকে উঠল। কেউ সারা দিলো না তার ডাকে। মৃত্যুর অন্তিম মুহূর্তটি, সমুদ্রে সূর্যাস্তে- লালরঙা পালের মতো। অথবা নিয়ন্ত্রণহীন একটা ট্রাক, ছুটছে এলোমেলো, পৃথিবী জুড়ে, নিজস্ব খাদের খোঁজে।

 

ভাঙারি দোকানে

ছোট্ট বেতের ঝুড়ি

মেডেল বোঝাই,

পুরনো যুদ্ধগুলোর,

ক্রমশ ম্রিয়মাণ।

 

একটা মেডেলে টোকা দিয়ে

মনে হচ্ছিল-

একদা বীরের বুকে

ঝুলছিল সেও।

 

মৃত্যুভয়ে ভীত ইঁদুরের নাচ

প্রেসিডেন্টের মুখে মুচকি হাসি, তিনি যুদ্ধ ভালোবাসেন, খুব শীঘ্রই শুরু হবে আরেকটি যুদ্ধ। আমাদের বোমাগুলো দূরদেশে পড়ামাত্রই উল্লাস ভেসে আসে সরকারি ভবন থেকে, টিভি থেকে। মর্গ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে। সারি সারি যুবকের লাশে ভরে উঠবে দ্রুতই। জনতা তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে। গাছে গাছে পাখিদের মিথ্যে কুহুতান। যুদ্ধজয়ের যত বানোয়াট খবর ছড়াচ্ছে মিডিয়াগুলো।

ছাদে, ধ্যানমগ্ন স্নাইপার। সম্মুখের ভূগোলটি স্ক্যান করে দেখছে। তখন দৃশ্যজুড়ে এক অন্ধ জাগলার, শূন্যে বল ছুঁড়ে খেলা দেখাচ্ছিল। ছোট জামা পরিহিত যুবতীটি, ভ্যানিটি ব্যাগের খুব গভীরে ডুবে, দিয়াশলাইয়ের খোঁজ করছে। মুখে সিগারেট, অপেক্ষারত।

 

ভাগ্যের প্রতি

চিরায়ত, তুমি ঈশ্বরের চেয়েও বাস্তব। ঘটনা সাজাতে তুমি সিদ্ধহস্ত। পরিহাস দেখাতে, আমার বন্ধুদেরও আমন্ত্রণ করে রেখেছো। আহ, বন্ধুপ্রতিম। সুন্দরী মেয়েদের দূরে ঠেলে দাও, আর মোটরসাইকেল চাপা দাও পথের শিশুকে। অবাক লাগে, আমরা দুজন পরস্পর মিলেছি কিভাবে?

সুদূর চীনদেশে জ্যোতিষীর তোতাপাখি হয়ত পারবে বলতে। রাত হলে টের পাই আশ্লেষ-স্বর, আমার মুখের ’পরে তোমার নিঃশ্বাস; তোমার ঐ আঙুলসমূহ খেলা করে, আমি এক পুরনো পিয়ানো যেন। ঝুলে আছি বরাবর জানালা থেকে, নিচে নরম দড়িটির শেষপ্রান্তে।

 

পাকাচুল স্কুলবালক

বৃদ্ধরা, রাতে প্রায়ই দুঃস্বপ্ন দেখে। তাই ঘুম কম হয়। মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে, বাতি না জ্বালিয়েই তারা খালি পায়ে হাঁটে। পুরনো আসবাব (তারই মতো) ধরে থমকে দাঁড়ায়, নিজেরই হৃৎস্পন্দন শোনে। আয়ত জানালা খোলা, বাইরে অন্ধকার, তাকে ব্ল্যাকবোর্ড বলে মনে হয়। একেকজন বুড়ো, একমাত্র ছাত্র সেই ক্লাসের, তাকিয়ে থাকে সোজা চকের সরল দাগে, শূন্যতা বিভাজিত হয় ক্রমশ। ব্যাপার না। এক গ্লাস পানিই কেবল এরা চায়। তবে, এখনই না। দেয়ালে কান পেতে ইঁদুরের ছোটাছুটি শোনে। একটা গাড়ি সশব্দে চলে যায় রাস্তা দিয়ে। কোনদিন তারও গতি অমন ছিল কিনা, সেসব আজ না ভাবাই ভালো।

 

আলো, সবখানে

সম্রাটকে কোনভাবেই বলা যাবে না যে রাত্রি নামছে। সৈন্যরা যত্রতত্র ছায়ার মোকাবিলা করতে ব্যস্ত। রাতের নৈঃশব্দ্যকে গ্রেপ্তার করে জ্বালিয়ে দিচ্ছে গ্রাম আর শহরগুলো। রাজধানীতে বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সব ঘড়ি ও সময়। বিপ্লব পুড়িয়ে এঁকে দিচ্ছে এক নতুন সূর্যোদয় প্রতিটি ছাদে, পরস্পর ‘সুপ্রভাত’ জানাবে বলে। মোরগের কণ্ঠে কা কা। জোর করে ফোটাচ্ছে ফুল। তবুও আঁধার রয়ে যায়, রাজদরবারের মেঝে বরাবর, বাতিটির বিলকুল নিচে। যা দূর করা দুরূহ ব্যাপার।

 

চার্লস সিমিক ও তার কবিতা প্রসঙ্গে / মেহরাব ইফতি

 

“আমার বিবেচনায়, আটপৌরে জীবনের আনন্দ থেকে বিচ্যুত ‘সত্য’ মূল্যহীন। প্রত্যেকটি মহা থিরি ও সেন্টিমেন্টকে প্রথমে রান্নাঘরে এবং পরে বিছানায় পরীক্ষা করে দেখতে হবে

– চার্লস সিমিক

 

এইসব কথা হুড়মুড় করে কেবল চার্লস সিমিকের মুখ থেকেই শুনতে পাওয়া যায়; যিনি অবলীলায় বলতে পারেন, ‘বাবার জ্ঞাতিরা ছিলেন আরও এককাঠি সরেস। তাঁরা আকণ্ঠ মদ পান করতেন, হই-হুল্লোড়ের মাস্টার ছিলেন একেক জন। আমার সাযুজ্য তাঁদের সঙ্গেই বেশি।’
জন্ম ১৯৩৮ সালের ৯ মে, যুগোশ্লাভিয়ার বেলগ্রেডে। ১৯৫৪ সালে যখন দেশ ছাড়েন সারাজীবনের জন্য নাম লেখান উদ্বাস্তুশ্রেণিতে। বাস্তুচ্যুতি, নির্বাসন তাঁর জীবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। সমালোচকগণ মন্তব্য করেন, ‘সিমিকের কবিতার সুর কেমন বিদেশি।’ জবাবে সিমিক বলেন, ‘টের পাই, আমার কেইসটা জটিল, আমার শ্রেণিকরণে বেশ সমস্যা, আমি না-নির্বাসিত, না-অভিবাসী, কিন্তু এ ব্যাপারে আমার সত্যি কোনো মাথাব্যথা নেই।’ বস্তুত, একাধিক ভাষার উপর দখলদারি, ইউরোপের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, সাম্প্রতিক ইতিহাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কারণে সিমিকের কণ্ঠস্বরে ইউরোপ ও অ্যামেরিকার একধরনের মিশেল তৈরি হয়েছে।

উদ্বাস্তু হয়ে তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আসেননি; প্রথমে ফ্রান্সে উদ্বাস্তু ছিলেন। সেখানেই সিমিকের প্রথমবারের মতো কবিতার প্রতি অনুরাগ প্রকাশ পায়। ইংরেজি শেখার জন্য মায়ের কিনে আনা ‘লাইফ’, ‘লুক’ ম্যাগাজিনের পাতা উল্টে স্নানের পোশাক পরা নারী মডেল দেখা, আর স্কুলে বোদলেয়ার-ভার্লেনের কবিতাপাঠ ছাড়াও তাঁর কবিতার প্রতি আকর্ষণের আরও কিছু অকাব্যিক কারণের মধ্যে একটি ছিল মার্কিন চলচ্চিত্র দেখা। দশ কী বারো বছর বয়সেই সেসব সিনেমা দেখে বেলগ্রেডের ভয়াল রাত্রিগুলো তাঁকে ‘পোয়েটিক’ এক আচ্ছন্নতায় জানালার পর্দা তোলার সাহস জোগাত। তাঁর কবিতায় অকাব্যিক বিষয়ের প্রভাব তাই লক্ষণীয়, যেমন জ্যাজ ও ব্লুজের গীতিময় প্রভাব।

প্রথম-জীবনে চিত্রশিল্পী হওয়ার গোপন বাসনা তিনি মনে মনে লালন করতেন। পোস্ট-ইম্প্রেসনিস্ট শিল্পীদের অনুকরণ করে যাত্রা শুরু করলেও পরে জার্মান এক্সপ্রেশনিস্টদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বয়স ৩০ পেরুনোর আগেই সেই ভূত মাথা থেকে সরে যায়। এর আগে একুশ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ বের হয়। ১৯৬৬ সালে বের হয় পূর্ণাঙ্গ কাব্যগ্রন্থ ‘হোয়াট দ্য গ্রাস সেজ’ এবং ১৯৬৯ সালে বের হয় ‘সামহোয়ার অ্যামাং আস অ্যা স্টোন ইজ টেইকিং নোটস’। মূলত এই দু’টি বই সিমিককে পাঠকসমাজে নিন্দিত ও নন্দিত করে তোলে।

আঠারো বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে লিঙ্কন পার্কের এপার্টমেন্টে প্রতিবেশি হিসেবে যখন সান-টাইমসের এক সহকর্মীকে পান, তখন থেকেই সিমিকের কাব্যবোধ জেগে ওঠে। অধিবিদ্যায় নয়, জোর দিতে হবে যুক্তিতে; কল্পনাকে সন্দেহ, কবিতা সম্পর্কে সিরিয়াস গভীর ভাবনা- সবকিছুই তখন সিমিকের কবিতার বিদ্রোহী ভূমিকে ওলট-পালট করে দেয়। সিমিকের এই সহকর্মীই হয়ে ওঠেন তাঁর কবিতার প্রথম পাঠক। প্রথম দিকে হার্ট ক্রেনকে অনুকরণ করে সিমিক বহু কবিতা লেখেন। হার্ট ক্রেনের শব্দবন্ধ হুবহু উঠিয়ে এনে কবিতায় ব্যবহার করতেন। পরবর্তী জীবনে স্টিভেনস এবং কার্লোস উইলিয়াম কার্লোসের কাব্য-প্রভাবের কথাও তিনি স্বীকার করেন।
সিমিকের প্রথম দিককার কবিতাগুলোয় লক্ষ্য করা যায় অকর্মা, নৈঃসঙ্গপীড়িত লোক, বেপরোয়া দুর্বৃত্ত, পথে ঘুরে বেড়ানো মরমিসাধক কিংবা সস্তা ও নোংরা হোটেলের স্থায়ী বাসিন্দাদের জীবনচিত্র। বলা হয় ‘কসাইখানা’ কবিতাতে সিমিকের নিজের কণ্ঠস্বর প্রথম শোনা যায়। সৃজনশীলতা ও সহিংসতার মেলবন্ধনে সেই কবিতার মূল উৎসে সিমিক ‘সময় সচেতন’ কবিতা হিসেবে উল্লেখ করে নিজের ছোটবেলাকে টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘আমি যে একটা কসাইখানাতে বেড়ে উঠি, ব্যাপারটা বুঝে উঠতে অনেক বছর পার হয়ে যায়…।’

প্রথমদিকের কবিতার আরেকটি অকাব্যিক লক্ষণীয় দিক হচ্ছে, সিমিকের কবিতায় নানান পোকামাকড়ের বসবাস। তেলাপোকা ছাড়াও পিঁপড়ার প্রতি অনুরাগ দেখা যায়। তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু এতটাই ভিন্ন ছিল যে, কয়েকজন সম্পাদক তাকে পরামর্শ দেন টুথ পিক কিংবা ট্যাপকল বিষয়ে মহাকাব্য লিখতে।
এত কিছু সত্ত্বেও তাঁর কবিতায় পরাবাস্তববাদ, ঐতিহ্য, নিরীক্ষা, অধিবিদ্যা, ভাষাজ্ঞান (যদিও প্রথমে তিনি এই বিষয়ে হাসি-ঠাট্টা করতেন), ইতিহাস চেতনা ধরা পড়ে। কিন্তু তবুও, চার্লস সিমিকের কবিতা বিষয়গত দিক দিয়ে জীবনের সাদামাটা আনন্দ উপভোগ করতে আমন্ত্রণ জানায়। বিষয়গুলো যেন চিংড়ি ভাজা, টমেটো, রোস্ট, রেড ওয়াইন , সস্ আর আলু-পেঁয়াজের মতোই সাদামাটা এবং জীবন কেন্দ্রিক।

‘ওয়ার্ল্ড ডাজন্ট এন্ড’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৯০ সালে পান পুলিৎজার পুরস্কার। নির্বাচিত কবিতা : ১৯৬৩-২০০৩ কাব্যগ্রন্থের জন্য ২০০৫ সালে লাভ করেন আন্তর্জাতিক গ্রিফিন পোয়েট্রি পুরস্কার। তাঁর দ্য বুক অব গডস অ্যান্ড ডেভিলস (২০০০) নিউইয়র্ক টাইমসের বছরের (২০০০) উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। প্রায় ৩৪ বছর যাবত তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃজনশীল সাহিত্য ও ক্রিয়েটিভ রাইটিং বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে বিখ্যাত ফরাসি ম্যাগাজিন ‘প্যারিস রিভিউ’য়ের কবিতা বিষয়ক কো-এডিটর।

চার্লস সিমিকের ২৫টি কবিতার তর্জমা করেছেন কবি, অনুবাদক রনক জামান। অনুবাদ করা হলো কোনো কবিতার সবচেয়ে নিবিড়তম পাঠের উপায়। মূল টেক্সটের দাস হয়ে নয়, অনুবাদক অনুবাদ করেছেন প্রেমিক হয়ে। সিমিকের কবিতায় এরকম অনেক লাইন পাওয়া যাবে যেগুলো অনুবাদ করা রীতিমতো অসাধ্য কাজ। মূল ইংরেজিতে সিমিক-পাঠের যে মজা, সেই একই সিমিককে আক্ষরিক বাংলায় খুব সহজে ধরা যায় না। অনুবাদক তাই বলছেন, “অনুবাদে মূলকবি ও তর্জমার মধ্যে তর্জমাকারীর অস্তিত্ব না রাখারই চেষ্টা ছিল।” সীমাবদ্ধতা অনুবাদের নাকি অনুবাদকের সেটা পাঠক বিচার করবেন। অদৃশ্য বিচারকের মতো অনুবাদক ও সিমিকের মধ্যে রয়েছেন পাঠক। পাঠকদের উদ্দেশেই সিমিকের অনূদিত কবিতাগুলি প্রকাশিত হলো।                                                

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close