Home কবিতা সম্বুদ্ধ ঘোষ >> চারটি কবিতা >> কবিতাগুচ্ছ

সম্বুদ্ধ ঘোষ >> চারটি কবিতা >> কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশঃ June 23, 2018

সম্বুদ্ধ ঘোষ >> চারটি কবিতা >> কবিতাগুচ্ছ
0
0

সম্বুদ্ধ ঘোষ >> চারটি কবিতা

 
গ্লাইডিং ওয়াকার


আমি গিয়েছিলাম নামক এক ট্যাক্সি;
কোথা যাও; কোথায় যাও সব- আমি উত্তরে
হেঁটে গেছি অতীতের বাড়িমুখে নিয়ে
এশিয়া-আফ্রিকা মোড়ে
তবে দৃশ্যের প্রকল্পগুলো নিরালম্ব হলেই
কাঠের বাড়ি, জ্ঞানেন্দ্র ধাতব জানালারা জেগে ওঠে :
ঋজু জ্যামিতক্ষেত্র উঠোন জুড়ে আপনার
পদক্ষেপ, গিরিমাটি হাঁসেদের ডাক, ভোরের উচাটন,
সহবৎ শিক্ষার ভিড় এসে
আমাকে জাগিয়ে দেয়।


ঈশ্বর এবং চাইকভস্কির পাশে আমার সুমেরু ঘুম
রয়ে যাবে একদিন। ঈশান থেকে মাইলখানেক দৌড়
এসে আমার ঘরের ছাদ হয়ে যাবে আলম্ব করাত;
হেঁটে যাব; লেন বাই লেন, সচর অনুখেদ সুর্কির কাছে
তাহাদের কাঁধ; চলমান ট্যানারির মতো অদ্ভুত, সখেদ
চটুল হাইওয়ে, অথবা তাহাতে রিতোমেলো লুপেদের মত
সক্লান্ত শেয়ালের মিছিল জমে আছে।

যে গল্প আমার পাশ কেটে

চলে গেলো আপনার পরপারে—

এখন এগুলি সম্পর্কে বলুন।


হে উপবন অশান্ত,
শ্রুতিকটু রঙিন ইঁট
হে মদির পরমানন্দ…

চোখেতে গুলজার সন্ত্রাস ঝুলিয়ে রেখে
ঐ দেখ বসে থাকে

কমবখৎ জালিম ঘড়িয়াল


সূর্যের দণ্ড নানী সূঁচ এবং অনুসারী বাবলা ছায়া
একটি স্কার্ফ কদাপি পরিহিত, তোমার স্নান যুথবদ্ধ কায়া
বেদেনীর আবেশ, বুলেট তার অনুরূপ কোকো আঙুলে, আমার
জলপাই নির্জনতার মালভূমি থেকে হান্টার শহরতলি জুড়ে,
কফি প্রেমিকা, নিপাট বাদামী পা, নৃত্য সুতনু
অ্যালুমিন কেশর দিয়ে
আপনার জীপ চালু করার আগে
ছিঁড়ে দেবে চ্যাপ্টা পোট্রেট।


যেকোনো কস্তুরীবৃন্তে
আমার মৃগনাভ শৈশব আছে চেয়ে চেয়ে

ঘুম ভেঙে গেছে, ভেঙে যাবে

আমাতে জমে আছে সমস্ত জাগতিক মধুভাষ-

মসৃণ মহাসড়ক

একটি অন্ধকার বসন্তের আংরাখায়,
তাদের
গরম খমির ডিম জমিয়েছে
একঝাঁক চিল।

 
আলফা রোমিও

এখানেতে থেমে যাও, মকরক্রান্ত রাহী-
ন্যাড়া মাঠে ফুটে আছে বাদামী গোলাপ
ধোঁয়া ধোঁয়া পান্থশালা, জানালা নিপাট
অরুণ পর্দাগামী উডবাইন ঘিরে রাখে
খেয়ালী ওকেদের বিহান আলয়।

ওইখানে পড়ে আছে বেহালা আলোক
মৃতশিশু মুখ নিয়ে হরিণীর সারি;
ঝরে পড়া রোসারিরা, পাইনের ফল
অবশ্য শব্দেরা রয়ে গেছে জেগে।

ব্রাইনের কণা লাগে পাথরের গায়ে
অধীর অহিফেন লেগে থাকে ঘাসে
ভাইন-স্যুপের মতো সুচেত আলোয়
সম্ভ্রমী পানশালা রয়ে রয়ে মরে।

গ্রামীণ ঘুমের লোভে এইখানে এসো
পাটলের পাহাড়েতে ইঁট শস্যাগারে
আইভির আহেলি শাখাদের পাবে
বিভাজিকা রাত্রির আকুল স্তন ঘিরে,

এইসব দেখে শুনে একদিন রাতে
মুখেতে ঝুলিয়ে রেখে বাষ্পিত পাইপ
মরেছিল গাড়ল নভোচারী এক
জ্যাকেটের বুকে নিয়ে পেচক চাঁদ তার,

নিভে গেছে বন-কাঠ আয়ত রাত্রে
ধূপ-শ্বাস বাতাসের প্রথম স্বর;
হলরেখা ছুঁয়ে গেলে তুমিও তো পাবে
ঊষসী সাইরেন-আখ্যান-গান।

চাবড়ার ঘাসে শুয়ে খেয়ে প্রজাপতি;
আলফা রোমিওরা জেগে আছে বেশ।

 
সংস্থান দেবেন প্রফেসার

সংস্থান দেবেন প্রফেসার,
তুমি বর্তিত পৃথিবীকে এক আঙুলে নাচিয়ে
নিয়ে বলবে ‘ব্রুনোর তরমুজ’,
গাঁয়ের ভৈরবী ধানক্ষেত থেকে বাতানুকূল অরণ্যানী
জঙ্গল, বৃষ্টির বিন্দুতে ঋণাত্বক কণা
পেরিস্কোপ প্রোটোজোয়া অনাদি বাইনোমিয়াল

এই সংকুল হিরণ্যক্রম- এক দুই তিন চার
মেগ বব পল রাউলফিয়া সার্পেন্তিনা,
অনুসিদ্ধান্তের মতো উদ্বৃত্ত শ্রম আর
সুচেতনা দুর্বার নিখাদ নিঃশর্ত
লৌহ আকর তামার হাপর,
জননীগ্রন্থি সুনিবিড় নীড়

আলোবলাকার ফেটে পড়া ঝাঁক-
সকলেরই মনুষ্যত্ব আছে,
দোকানের কল্যাণী মরিচ আছে,
এলাপাতা গুঁড়া আচে সিদ্ধির স্তরে,
হেবিয়্যস কর্পাস আছে স্যুইট টেমস

এইসব সংস্থান দিও প্রফেসার তুমি
নিরবিচ্ছিন্নের অব্যয়ক্রীড়ায়,
একঘর ওমভর্তি বিশ্বাসী হাপুস খরগোশ
খুঁজে পাচ্ছে শুধু আছোলা ভবিষ্যের
আট-দশ ঘর, দুপুরের পোনামাছ, চিবানোর পান,
জাজিম-লাটাই এই নির্বাপিত পথে।

 
অতএব চলো ক্রুসো

জ্বর এসেছিল রাতে,
ফেলে গেল তিনটের ক্ষণচরে
আমাকে দিয়ে দিল অব্যাহত যতি এক।

এই তো বেশ হল

রাস্তার পাশে নেই বর্তিত খেউড়
ওইপাশ থেকে
পোর্টিকো থেকে
মজলিশি স্টাডিঘর নেই
বাতিও তো না জ্বলছে
স্টাডিঘর নিভে গেছে তবে।

মায়ানাদ মোটরের গান

জেগে উঠব কি?
জ্বর গায়ে এখন বামনবীর হয়ে হেঁটে যাব
কতদূর হেঁটে যাব
একটা খঞ্জ হয়ে চলে যাব
কিন্তু আমার ঘর থেকে বারান্দার
এই তিন ফুট আছে শুধু
উত্তরাস্যে অরব মাস্তুল হয়ে
অনুভূম বিষুবমুখে।

কাল ফের ভোর হবে

সমপ্লাব জোয়ার
ভরাকোটাল উঠে ইরণ সাগর
ভেসে যাবে, চিকন রেত জেগে থেকে
লোলার্ক টেমিবাতি হয়ে দেবে আলো
অতএব সময় চলে যাবে
পাকিয়ে পাকিয়ে
আমার একাকী দ্বীপজুড়ে।

অনওয়ার্ড

প্রেশার কুকার ডাকে
রোজ বেলা হলে
থালা আছে বাটি আছে
অবহেলি ঝাঁটা আছে
চা আছে পাতা আছে
আর আছে চিরুনি।

তাহারা আসে নাই কেহ

এই দেখ হয়ে গেল
আমার বিবর্ণ পোত ডুবে গেল
আরও একবার—
চরেতে নিলীন সাগর খেলে
কোথায় ডাইভার তুমি? কোথা ফ্রগম্যান?

অতএব এইখানে থাক

তোমার তাবৎ পাপ দেখ ধ্বংসপোত যেন
উপর নিরিবিলি ঠেকা
কাজ হার্ড সব দিন
জমি নম্র,
কুকারের ডাক ভেসে এল
দক্ষিণ থেকে; এল ফলন্ত বিকেল,
তবু
কৌপিন মেলে ধরে আঠেরো বছর
ঘাসের ‘পরে শুয়ে থেকে থেকে
রয়ে গেলে
আর তারপরে-

তারপর দেখ! তুমি আছ নিমগ্ন দ্বীপে
আর একটি পদাঙ্ক আছে
বীতনিদ্র খোয়াব হয়ে পড়ে।

শোয়েথ দাউ দাই ফেভার ও লর্ড

কোনো এক আপনার মুখ
মনে পড়ে। আত্মার নিরঙ্কুশ ছল,
কঠিন কাজ, উৎপাদন-
তোমার অঙ্ক পরিপূর্ণ;

অবশেষে
শুক্রবার আসে।

 
সম্বুদ্ধ ঘোষ

জন্ম ১৬ জুন, ১৯৮৮, হাওড়ায়। ছোটবেলা কেটেছে নরেন্দ্রপুরে একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর এবং এম.ফিল. উত্তীর্ণ। লেখালেখি করেছেন ভাষানগর, প্রতিষেধক, বহুভাষ, দশদিশি এবং অন্যান্য লিটল ম্যাগাজিনে। কলকাতা বইমেলা ২০১৭-এ প্রথম একক কবিতার বই সামার ল্যাসি প্রকাশিত হয় তৃতীয় পরিসর থেকে। পেশা অধ্যাপনা। অন্যান্য শখ : অনুবাদ, ভ্রমণ।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close