Home অভিনন্দন সাইফ বরকতুল্লাহ >> সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কাজুও ইশিগুরো

সাইফ বরকতুল্লাহ >> সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কাজুও ইশিগুরো

প্রকাশঃ October 5, 2017

সাইফ বরকতুল্লাহ >> সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কাজুও ইশিগুরো
0
0

সাইফ বরকতুল্লাহ >> সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কাজুও ইশিগুরো

‘এটা অবশ্যই দারুণ সম্মানের বিষয়, এমন পুরস্কার জয় করা মানে বড় বড় লেখকদের পাশে আমাকে দাঁড় করানো। যাঁরা বিশ্বজুড়ে দামী লেখক, তাঁদের কাতারে আমাকে রাখা হচ্ছে- এটা অবশ্যই অনেক প্রশংসনীয় একটা ব্যাপার।’ নোবেল জয়ের খবর প্রকাশের পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে ৫ অক্টোবর এমন অনুভূতির কথাই জানিয়েছেন ২০১৭ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী কাজুও ইশিগুরো।

কাজুও ইশিগুরো। জাপানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার। উপন্যাস ছাড়াও লিখেছেন টেলিভিশন ও সিনেমার স্ক্রিপ্ট। জাপানে পরমাণু হামলার নয় বছর পর ১৯৫৪ সালের ৮ নভেম্বর নাগাসাকিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবার নাম সিজিও ইশিগুরো এবং মায়ের নাম সিজুকো। ১৯৬০ সালে তাঁর পরিবার ইংল্যান্ডে পাড়ি জমায়। তখন তার বয়স ছিল পাঁচ বছর। কাজুও ইশিগুরোর বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যের সারে ও কেন্ট শহরে। কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও দর্শন বিষয়ে পড়েছেন তিনি। ১৯৭০ সালে ইউনিভার্সিটি অব কেন্ট থেকে ইংরেজি ও দর্শনে স্নাতক শেষে ইউনিভার্সিটি অব এঙ্গেলিয়াতে পড়েন সৃজনশীল সাহিত্য নিয়ে৷ এরপর ইস্ট এঙ্গেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়েটিভ রাইটিং বিষয়ে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

সমসাময়িক ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ঔপন্যাসিক হিসেবে সমাদৃত তিনি। ২০০৮ সালে দি টাইমস-এর এক জরিপ মতে, ১৯৪৫ সালের পর ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবশালী ৫০ জনের মধ্যে তিনি অন্যতম। ১৯৮৯ সালে ‘দি রিমেইনস অব দি ডে’ বইয়ের জন্য ম্যান বুকার পুরস্কার লাভ করেন কাজুও ইশিগুরো। তার সপ্তম উপন্যাস ‘বারিড জায়ান্ট’ ২০১৫ সালের ৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে একযোগে প্রকাশিত হয়। চারবার ম্যান বুকার পুরস্কার অর্জন করেছিলেন চারটি উপন্যাসের জন্য।

৫ অক্টোবর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে নোবেল কর্তৃপক্ষ। নোবেল পুরস্কারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘তার উপন্যাসের শক্তিশালী আবেগী শক্তি বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্মোহিত সত্তার উন্মোচন করেছে। এই লেখক নিজের আদর্শ ঠিক রেখে, আবেগপ্রবণ শক্তি দিয়ে বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সংযোগ ঘটিয়েছেন’। সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সেক্রেটারি সারা ডেনিয়াস বলেন, তার কাছে ইশিগুরোর লেখা সবচেয়ে পছন্দের উপন্যাসটা হলো দ্য বেরিড জায়ান্ট। তবে, রিমেইন্স অব দ্য ডে-কে সত্যিকারের ‘মাস্টারপিস’ বলে আখ্যা দেন তিনি।

৬২ বছর বয়সী এই জাপানি সাহিত্যিকের বহু সৃষ্টিই সমাদার পেয়েছে বিশ্বসাহিত্যে। প্রথম উপন্যাসেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন ইশিগুরো৷ ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ‘এ পেল ভিউ অফ হিলস’৷ তিনি ৮টি বই লিখেছেন। বিশ্বের ৪০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর উপন্যাস। ‘দ্য বারিড জায়ান্ট’ উপন্যাসে তিনি খুব সুন্দরভাবে স্মৃতির সঙ্গে বিস্মৃতি, অতীতের সঙ্গে বর্তমান এবং কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের মেলবন্ধন ঘটান৷ ইশিগুরোর লেখার ধরন, চিন্তা-ভাবনা, এবং তাঁর গল্পের বিষয়আশয় সমসাময়িক অনেক লেখকের তুলনায় ব্যতিক্রমী। ২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘উদারনৈতিক গণতন্ত্রে সব মানুষ এক নৌকার যাত্রী। তাদের মধ্যে কোনো উঁচু-নীচু নেই। কিন্তু, আমরা এমন একটি সময়ের দিকে এগিয়ে চলেছি, যখন অন্যদের তুলনায় কিছুটা উচ্চতর মানুষ তৈরি হবে। সেদিন সাম্য বলে আর কিছু থাকবে না।’

তাঁর কল্পকাহিনি ও ছোটগল্পগুলোও পাঠকনন্দিত সাহিত্য। তাঁর গুল্পগুলো পড়লে দেখা যাবে, মানবজীবনের রহস্যময় দিকগুলো নিয়ে গল্পের এক শৈল্পিক সম্ভার তৈরি করেছেন।  ‘অ্যান আর্টিস্ট অব দ্য ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ড’, ‘দ্য আনকনসোলড’, ‘দ্য বেরিড জায়ান্ট’ এসব উপন্যাসে এমন ছবিই পাওয়া যায়। তাঁর লেখায় জীবনের নানান চরিত্রকে অন্যরকম করে রূপ দিয়েছেন তিনি। তাঁর বিখ্যাত দুটি বই ‘দ্য রিমেইনস অব দ্য ডে’ এবং ‘নেভার লেট মি গো’। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো- এন আর্টিস্ট অফ্‌ দ্য ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ড (১৯৮৬), দ্য রিমেইন্স অফ্‌ দ্য ডে (১৯৮৯),দ্য আন্‌কন্‌সোল্ড (১৯৯৫), ‌ওয়েন উই ওয়ের অর্‌ফ্যান্স্‌ (২০০০), নেভার লেট মি গো (২০০৫)।

তীরন্দাজের পক্ষ থেকে এই নোবেলজয়ী ঔপন্যাসিককে অভিনন্দন।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close