Home ঈদ সংখ্যা ২০১৭ সালভাদর দালি ও গালা সৃজনে ও জীবনে > শিল্পীর প্রেম >> রোখসানা চৌধুরী

সালভাদর দালি ও গালা সৃজনে ও জীবনে > শিল্পীর প্রেম >> রোখসানা চৌধুরী

প্রকাশঃ June 26, 2017

সালভাদর দালি ও গালা সৃজনে ও জীবনে > শিল্পীর প্রেম >> রোখসানা চৌধুরী
0
0

সালভাদর দালি ও গালা সৃজনে ও জীবনে

দালি-গালার প্রমত্ত প্যাশনেট প্রেমের পরিণতিও দুর্নিবার এক ক্ষোভ প্রতিহিংসা পরশ্রীকাতরতার ঊর্ণজালে ছেয়ে যায়। প্রেমিকা গালার মৃত্যু ঘটে ১৯৮২ সালের ১০ জুন, অনেক অনেক দুর্মর কামনা বাসনা আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করে। কিন্তু মৃত্যুর ঠিক আগের দিনগুলিতে গালা ২২ বছর বয়সী এক তরুণের বাহুলগ্না। জেসাস ক্রাইস্ট সুপারস্টার চলচ্চিত্রের অভিনেতা জেফ ফেনহল্ট ছিলেন সেই তরুণ, যার জন্য গালা দালিকে ছেড়ে গিয়েছিলেন। অথচ গালার সমাধি হয় দালির উপহার দেয়া সেই প্রাসাদেরই আঙিনায়। প্রাসাদটি বা দুর্গটি এখন গালা-দালি মিউজিয়াম নামে পরিচিত।

বিশ শতকে পরাবাস্তব শিল্প-আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র তিনি- সালভাদর দালি (১৯০৪-১৯৮৯)। পুরো নাম Salvador Domingo Felipe Jacinto Dalli Domenech। জন্মসূত্রে হিস্পানি দালি উত্তর কাতালোনিয়ার ফিগুয়েরেতে জন্মগ্রহণ করেন। মাদ্রিদে চারুকলায় পড়বার সময় ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা, লুই বুনুয়েল প্রমুখ কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। ১৯২৬ সালে প্যারি গিয়ে প্রথমেই দেখা করেন কিউবিজমের ঈশ্বর পিকাসোর সঙ্গে। কিন্তু সপ্রতিভতায় সমুজ্জল দালি তার সঙ্গ বা আবহ থেকে দূরে সরে আসেন। বন্ধুত্ব হয় ব্রেঁতো, এলুয়ার, মাগ্রিত প্রমুখের সঙ্গে। দালি একাধারে চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, গ্রাফিক ডিজাইনার। কিউবিজম, ফিউচারিজম ও মেটাফিজিক্যাল চিত্রকলার ইতিহাসে তিনি পরাবাস্তব স্বপ্নাচ্ছন্নতার জগৎ সৃষ্টি করেন, যা তাঁকে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় শিল্পীতে পরিণত করেছিল। দুর্বোধ্য চিত্রকর ও শিল্পকলার সাধক হিসেবে তার জনপ্রিয়তা ছিল বিস্ময়কর ও ঈর্ষণীয়। অতিরিক্ত প্রতিভা ও জনপ্রিয়তা তাকে দাম্ভিক অহমিকাও প্রদান করেছিলো। তাই জনসমক্ষে তার আচরণ ছিলো অদ্ভুত ও নাটকীয়। নিজের জীবনী তিনি নিজেই লিখে গেছেন। The Secret Life of Salvador Dali গ্রন্থটির নাম।

সুররিয়ালিস্ট শিল্পী হিসেবে অবধারিতভাবে তাঁর সৃজনের মন্ত্রণাদাতা ছিলেন মনোবিজ্ঞানীদের কিংবদন্তি সিগমুণ্ড ফ্রয়েড। ‘স্বপ্ন শুধু সত্য, আর কিছু সত্য নয়।’- ফ্রয়েডের স্বপ্নময় বাস্তবতার দোলাচলের জগৎ অথবা এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডের এলিসের সমান্তরাল কল্পজগৎ ছিলো তার আরাধ্য, যতদিন না হিরোশিমা নাগাসাকির রূঢ় বাস্তবতা তার সম্মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল। The Face of War (১৯৪০), অথবা Geopolitics Child Watching The Birth of the New Man (১৯৪৩) এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিরই চিত্রভাষ্য বলা যায়। অন্যদিকে The Persistence of Memory-তে তিনি মগ্নচেতনারীতির ধারায় উপস্থাপিত ‘সময়’ নামক চূড়ান্ত জটিল বিষয়টিকে উপস্থাপন করেছেন। The Great Masterbator চিত্রকর্মে আবারো ফ্রয়েডের যৌন অবদমনের বিষয়টি প্রাধান্য পায়, Face of May Waste-এ নগ্ন নারীর দেহের ভেতর দিয়ে পুঁজিপতির সুবিশাল ড্রইংরুম অবলোকিত হয়।

তবে দালির অনন্য স্বাতন্ত্র্য দেখা দেয় যখন ফ্রয়েডীয় মনস্তাত্ত্বিক জগৎকে ছাপিয়ে তিনি কোয়ান্টাম বিজ্ঞানের পথে ধাবিত হয়ে ‘এ্যান্টি-ম্যাটার মেনিফেস্টো’ (১৯৫৮) লিখে ফেলেন। ধ্রুপদীবাদ, পরাতত্ত্ব এবং অতীন্দ্রিয়বাদের সম্মিলনে তিনি যখন নতুন চিত্রভাষার সন্ধান করছেন ঠিক তখনই ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা-নাগাসাকির দৃশ্যমান বাস্তবতা তাকে আমূল নাড়িয়ে দেয়। পৃথিবীর অন্যসব সংবেদনশীল শিল্পীদের মতোই তিনিও এই ঘটনায় আলোড়িত হন। তবে তিনি একদিকে ‘এ্যান্টি-ম্যাটার মেনিফেস্টো’ লিখলেও অন্যদিকে পদার্থবিদ্যা-অধিবিদ্যার বিচ্ছেদের জন্য আমাদের সভ্যতাকে নিকৃষ্ট বলে বিবেচনা করেছেন। এই কারণে এতদিন তিনি আধুনিক শিল্পবেত্তাদের কাছে তেমন একটা গুরুত্ব পাননি। অথচ আজ বিজ্ঞান ও সভ্যতার সকল প্রকার নিরীক্ষা শেষে ঈশ্বর ও বিজ্ঞানের পারস্পরিক সম্পর্ক যাচাইয়ে উন্মুখ সকলেই। তাই তাঁর ‘মিস্টিক্যাল মেনিফেস্টো (১৯৫২) সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমান গদ্যটি মূলত তাঁর চিত্রকর্মকে ঘিরে নয়, বরং তাঁর জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উপর আলোকপাত করা। যে-সর্ম্পকটি দালির সম্পূর্ণ সময়কাল ও কর্মপ্রতিভাকে বিস্ময়করভাবে প্রভাবিত করে রেখেছিলো। শিল্পীরাই জীবন ও সৃষ্টির পরম্পরাকে গ্রথিত করতে পারেন সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের জীবনের সংগ্রথিত দিনলিপি অবলোকন করা তাদের সৃষ্ট শিল্পের ভুবনে প্রবেশেরই সমার্থক।

কথিত আছে, প্রতিটি পুরুষের সাফল্যের পেছনে কোনো-না-কোনো নারীর অবদান থাকে। ঠিক এরকমই এক অসাধারণ সফল পুরুষ সালভাদর দালি, স্ত্রী গালা না থাকলে যাকে আমরা বিশ্বের আধুনিক চিত্রকলার ‘আইকন’ আদর্শ শিল্পী হিসেবে আমরা পেতাম কি না সন্দেহ।

দালির চাইতে দশ বছরের বড় গালার পুরো নাম হেলেনা ইভানোভনা দিয়াকোনোভা। দালির সাথে তার যখন দেখা হয় তখন গালা কবি পল এলুয়ারের পত্নী এবং একটি কন্যা সন্তানের জননী। তদুপরি, ম্যাক্স আরনেস্টও গালার প্রণয়প্রার্থী ছিলেন, যিনি গালাকে নিয়ে অসংখ্য ছবি নির্মাণ করেছেন। অথচ দালির জীবনীকাররা বলছেন, প্রথম দেখাতেই গালা ও দালির প্রেম হয়েছিলো। ‘সিক্রেট লাইফ’ গ্রন্থে দালি লেখেন, “সে আমার গন্তব্য ছিলো, গ্রাদিভা, আমার প্রেমিকা আমার স্ত্রী।”

উল্লেখ্য, ‘গ্রাদিভা’ নামটি ছিল ডব্লিউ জেনসেনের উপন্যাস থেকে নেয়া। সিগমুন্ড ফ্রয়েডকে কেন্দ্র করে রচিত সেই উপন্যাসের নায়িকা চরিত্রের নাম ছিলো গ্রাদিভা, যে-কিনা নায়ককে মানসিকভাবে সুস্থ করে তুলতে সহায়তা করে। বাস্তব জীবনেও দালিকে গালা সেভাবেই সমর্থন ও অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন। গালা খুব দ্রুতই দালির জীবনের ধ্যান-জ্ঞান হয়ে ওঠেন। গালা ছিলেন দালির চিত্রকর্মের নিয়মিত এবং স্বতঃস্ফূর্ত মডেল- যাকে যে-কোন ধরনের চরিত্রে মানিয়ে যেত। এমনকি তা পবিত্র মাতা মেরীকে নিয়ে অঙ্কিত হলেও। এছাড়া, তাকে নিয়ে অসংখ্য ‘ন্যুড’ চিত্রকর্মগুলো তো এঁকেছেনই দালি। দালির কাজের ধারায় পরিস্ফূট হয় যে তিনি ক্যান্ডিওলিজম (Candaulism)  চর্চা করতেন, অর্থাৎ নিজের স্ত্রীকে অন্যের সামনে এক্সপোজ করতে দিতে পছন্দ করতেন। গালা নিজেও শিল্পভুবনের এক সপ্রতিভ সমঝদার ছিলেন। আগেই বলেছি, দালির আগে গালা ছিলেন কবি পল এলুয়ারের স্ত্রী, যিনি ফরাসি কাব্যজগতের আরেক নক্ষত্র।

১৯২৯ সাল থেকে দালি ও গালা একত্রে বসবাস করা শুরু করেন। ১৯৩৪ সালে সিভিল আইনে বিয়ে, সবশেষে ১৯৫৮ সালে ক্যাথলিক রীতিতে আবারো বিয়ে করেন তারা। অর্থাৎ এই জুটি সম্পর্ক নির্মাণে তাড়াহুড়ো করেননি। পরস্পরকে গভীরভাবে জানা, আস্থা ও বিশ্বাসের সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে সমাজ-রাষ্ট্রের প্রথানুগত্যকে স্বীকার করে তা থেকে উত্তীর্ণ হবার প্রয়াস পেয়েছেন। ত্রিশের দশকের শুরু দিকে দালি তার চিত্রকর্মে স্বাক্ষর দিতেন প্রেমিকার নাম স্মরণ করে এভাবে- ‘আমার এই চিত্রকর্মের অধিকাংশই তোমার রক্তে সৃজিত, গালা।’

গালা কেবল তার যথার্থ জীবনসঙ্গীই ছিলেন না, দালির মানসিক পরিচর্যাও করতেন। গ্যালারির মালিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে দক্ষ কুশলতার সঙ্গে দরকষাকষিতেও নেমে পড়তেন। জানা যায়, গালা দালির ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক সময় প্যারট কার্ডের সাহায্য নিয়েছেন। অর্থাৎ গালা দালির অর্থনৈতিক সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে তাদের সম্পর্কের সব চাইতে অদ্ভুত দিকটি যা-কিনা দালিভক্তদের বিস্ময়ের চরম সীমায় পৌঁছে দেয় তা হলো, দালি ও গালার যৌনজীবনের বিচিত্র রূপায়ন। অধিকাংশ সূত্রমতে, গালার ব্যক্তিগত যৌনজীবন ছিলো বহু পুরুষ-সংসর্গিত এবং বৈচিত্র্যে ভরা। গালার ব্যক্তিত্বের আকর্ষণে, বহুমুখী কুশলী দক্ষতার আবাহনে, অসংখ্য অভিজাত পুরুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হতেন। গালাও নিঃসঙ্কোচে, নির্দ্বিধায় সেই সব সম্পর্কে আবদ্ধ হতেন। যখন তিনি কবি পল এলুয়ারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ, কিংবা দালির সঙ্গে প্রণয় সম্পর্কে সম্পর্কিত, তখনকার ঘটনা এগুলো। ঘোর ও স্বপ্নের কৃতি রূপকার দালির প্রতিক্রিয়াও ছিলো অদ্ভুত। দালি অনেকটা অবুঝ বালকের মতো নির্লিপ্ত, নিরীহ মনোভাব নিয়ে গালার একাধিক সম্পর্ককে উপভোগ করতেন, অনেকটা জীবনের উপর ফ্যান্টাসি আরোপ করবার মতো। অথচ, সবকিছুর উর্ধ্বে তাদের সম্পর্ক ছিলো ছন্দোময়, উভয়ের দিক থেকেই মোহ জাগানিয়া, প্রেমকলায় পূর্ণ। দালির ভাষ্যমতে, ‘আমি গালাকে যতটা সম্ভব সুখী করার চেষ্টা করেছি, আর সেজন্য নিজের চাইতেও তার প্রতি মনোযোগ প্রদান করেছি সব সময়, কারণ তাকে ছাড়া সবকিছুই নস্যাৎ হয়ে যেতো।’

কিন্তু সবকিছুরই হয়তো শেষ থাকে। ষাটের দশকের শেষার্ধে এসে তাদের সম্পর্ক মলিন হতে শুরু করে। অবশিষ্ট জীবন তারা তাদের নিভু নিভু আবেগের অবদমিত আঁচটুকু নিয়েই দিনযাপন করে গেছেন।

১৯৬৮ সালে দালি গালার জন্য একটি প্রাসাদ ক্রয় করেন। সেখানে গালা অধিকাংশ সময় ব্যয় করতেন যুবা-বয়সী প্রণয়ী চিত্রকরদের সঙ্গে। স্বয়ং দালিরও সেখানে গালার বিনা অনুমতিতে প্রবেশাধিকার ছিলো না। অথচ দালি নিজেকে অসংখ্য আকর্ষণীয় তরুণীর সান্নিধ্য থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতেন কেবল গালার জন্যই। এ যেন প্রশ্নহীন দুর্মর মোহগ্রস্ত শিল্পীর জীবন ও তাঁর শিল্পের ভূবন জুড়ে আরেক পরাবাস্তব আঁধির খোঁয়ারি।

এরপর ১৯৮০ সালে ৭৬ বছর বয়সে অসুস্থতাজনিত কারণে দালি বাধ্যতামূলক অবসরে যান। মস্তিষ্কের মোটর নিউরন ডিজঅর্ডারের কারণে তিনি হাত দিয়ে ব্রাশ করার ক্ষমতাও হারান। অবস্থার যত অবনতি ঘটে, ততোই তার ধৈর্য্যচ্যূতি ঘটতে থাকে। বিশেষত গালার যে বহুগামিতা এক সময় তার কাছে উপভোগ্য ছিলো, সেই পুরুষ-সংসর্গই তাকে ক্ষিপ্ত করে তুলতে থাকে। গালা তখনো, সত্তরোর্ধ্ব বছর বয়সেও প্রমত্ত উন্মাদনায় দালির চিত্রকর্ম বিক্রির পয়সায় অতি তরুণ যুবাদের জন্য উপহার কিনছেন আর বিলাসবহুল যৌনজীবন যাপন করে যাচ্ছেন।

দালি এতকাল নীরবে সব সহ্য করে গেলেও এক পর্যায়ে ধৈর্যের তার বাঁধ ভাঙে। একদিন দালি, তাঁর প্রাণপ্রিয় প্রেমিকা, ভালোবাসার স্ত্রীকে পেটাতে পেটাতে বুকের পাঁজরের দুটো হাড় ভেঙে ফেলেন। এরপর দালি শান্ত হন। কিন্তু প্রতিশোধপরায়ণ গালা দালিকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করে অবসন্ন করে ফেলেন। শুধু তাই নয়, এরপর ক্রমাগত বিভিন্ন পরিমাণে মাদক জাতীয ওষুধ প্রয়োগ করে গালা দালির মস্তিষ্কের নিউরনগুলোকে প্রায় নষ্ট করে ফেলেন।

দালি-গালার প্রমত্ত প্যাশনেট প্রেমের পরিণতিও দুর্নিবার এক ক্ষোভ প্রতিহিংসা পরশ্রীকাতরতার ঊর্ণজালে ছেয়ে যায়। প্রেমিকা গালার মৃত্যু ঘটে ১৯৮২ সালের ১০ জুন, অনেক অনেক দুর্মর কামনা বাসনা আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করে। কিন্তু মৃত্যুর ঠিক আগের দিনগুলিতে গালা ২২ বছর বয়সী এক তরুণের বাহুলগ্না। জেসাস ক্রাইস্ট সুপারস্টার চলচ্চিত্রের অভিনেতা জেফ ফেনহল্ট ছিলেন সেই তরুণ, যার জন্য গালা দালিকে ছেড়ে গিয়েছিলেন। অথচ গালার সমাধি হয় দালির উপহার দেয়া সেই প্রাসাদেরই আঙিনায়। প্রাসাদটি বা দুর্গটি এখন গালা-দালি মিউজিয়াম নামে পরিচিত। গালার মৃত্যুতে দালির প্রতিক্রিয়া হয়েছিল নির্মম আর করুণ। অবিরাম আর্তনাদ, ক্রন্দন আর অনশন তার জীবনের সুনিশ্চিত এক শূন্যতাকেই যেন দৃশ্যমান করে তুললো।

এই জুটি একসঙ্গে ৫৩ বছর কাটিয়েছেন। গালার মৃত্যুর পর মাত্র সাত বছর বেঁচে ছিলেন দালি, এক অপূর্ণ হাহাকারকে সঙ্গী করে। গভীরভাবে দেখতে গেলে এই সম্পর্কটিকে একপাক্ষিক বলেই ভাবতে হয়। সেদিক থেকে সালভাদর দালি তার বিস্ময়কর শিল্প-প্রতিভার সঙ্গে অনন্য এক ইতিহাসের প্রেমিক রাজপুত্র হিসেবে গণ্য হতে পারেন।

‘ব্যক্তির চূড়ান্ত আনন্দ এখন অতীন্দ্রিয় অনুভূতিতে আর মরমীয়া বোধে’- দালির এই ভাষ্যই যথেষ্ট তার এই অদ্ভুত সম্পর্ক বা প্রেমকে যথার্থতা প্রদানের জন্য। দালির শিল্পসৃজনে ও জীবনে গালা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য অংশ, কর্ম ও মর্ম সহচারিনী।

 

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close