Home অনুবাদ সালমান রুশদি / দ্য জাগুয়ার স্মাইল [পর্ব ১৩] > আলম খোরশেদ অনূদিত

সালমান রুশদি / দ্য জাগুয়ার স্মাইল [পর্ব ১৩] > আলম খোরশেদ অনূদিত

প্রকাশঃ May 13, 2017

সালমান রুশদি / দ্য জাগুয়ার স্মাইল [পর্ব ১৩] > আলম খোরশেদ অনূদিত
0
0

পর্ব ১৩

পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি সামবায়িক বসতিতে একটি করে শিশুযত্ন-কেন্দ্র খোলা হবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা পঞ্চান্নটি বসতিতে মোট এগারোটি কেন্দ্র খুলতে পেরেছে। তারা অবশ্য কিছু স্কুল, কিছু স্বাস্থ্যকেন্দ্রও তৈরি করেছে, কিন্তু তারপরেও বাতাসে বেশ খানিকটা ক্ষোভের আঁচ রয়েছে টের পাওয়া যায়।

উপকরণের অভাব (এবং অবশ্যই এমন তাড়াহুড়ো করে কাজ করার কারণেও) এত প্রকট ছিল যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ পুনর্বাসিত পরিবারগুলোকে একটি সম্পূর্ণ বাড়ি বানিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য ‘শুধু ছাদ’ নীতিতে, নামেই প্রকাশ, উদ্বাস্তু পরিবারগুলোকে স্রেফ একটি ছাদেরই আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তাদের নিজেদেরকেই দেয়ালগুলো করে নিতে হয়েছে, তা যেরকম উপকরণ দিয়েই হোক না কেন। এটা এমন কোন নীতি ছিল না যার দ্বারা তারা জনগণের হৃদয়-মন জয় করে নিতে পারবে। কিন্তু, পালাদিনো জোর করেন, রাষ্ট্র তার সর্বোচ্চটুকুই করছে, এবং আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী এবং ত্রাণ সংস্থাসমূহও সাহায্য করছে। এমনকি সেখানে কিছু অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিগত উদ্যোগও ছিল। ‘মাইন বিস্ফোরণে বত্রিশজন মানুষ নিহত হবার কয়েকদিন পর’, তিনি আমাকে বলেন, ‘একজন লম্বা, সোনালি চুলের পুরুষ, বিদেশী, উপস্থিত হন পনেরো শো ডলার নিয়ে, দান করবেন বলে। তিনি টাকাগুলো পকেটে নিয়ে, সেই বত্রিশ জন নিহতের পরিবারকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন টাকা দেওয়ার জন্য। এটা তাঁর সঞ্চয়ের টাকা ছিল।’

অগ্রগতি খুব ধীরে ঘটছিল। ‘এটা সহজ নয়।’ কার্লোস বলেন। ‘আটটা নতুন জনবসতি ধ্বংস হয়ে গেছে কন্ট্রাদের হাতে গত ছয় মাসে। শত শত চাষী মারা যায় তাদের আক্রমণে প্রতি বছর। আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিরক্ষা হচ্ছে সশস্ত্র জনগণ। জনগণ এখন ক্রমশই আত্মরক্ষা করার সক্ষমতা অর্জন করছে। ১৯৮৫ সালের নভেম্বরে সান্তা রোসায় শত শত কন্ট্রা নিহত হয়েছে। তারপর, নতুন জনবসতির ওপর আক্রমণের সময় আরও কয়েক শত।’

তবে কন্ট্রারা ক্ষতি করছে একথা সত্য, নিকারাগুয়ার মতো একটি দেশের জন্য তার চল্লিশ ভাগ ফসলের ক্ষতি তাকে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো একটি আঘাত।

কার্লোস পালাদিনো যখন মাতাগালপায় কাজ করতে আসেন তখন তিনি, বিপ্লবীরা যেভাবে এই পুনর্বাসন সমস্যাটার মোকাবিলা করছিল, সে-ব্যাপারে সমালোচনামুখর ছিলেন, ফলত এ-বিষয়ে তার নতুনতর দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তিনি আঞ্চলিক দূত কার্লোস সামোরার অনুমোদন জয় করেন। পুনর্বাসন বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তিনি জঙ্গলে চলে যান, তার সহচরদের নিয়ে, এবং চাষীদের সঙ্গে মাসের পর মাস বসবাস করেন তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি এবং চাহিদা সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের জন্য। এটা নতুন পুনর্বাসনের বিন্যাস পাল্টে দেয় এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বিষয়ে কর্মকর্তাদের সংবেদন বাড়িয়ে দেয়। পালাদিনো মিসকিতো আদিবাসী সংস্কৃতির একজন বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন, এবং এই বিষয়ে লেখালেখি শুরু করেন। তার অবসর (!) সময়ে তিনি ইতিহাসের ওপর উচ্চশিক্ষা নিচ্ছিলেন। আমি নিকারাগুয়ার মানুষের ইচ্ছাশক্তির প্রাবল্যের দ্বারা বিস্মিত না হয়ে পারি না, এবং তা এই-ই প্রথম নয়।

আমি তাঁর সঙ্গে ঘন্টাধিককাল কথা বলার পর আবিষ্কার করি যে পালাদিনো মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা আগে হাসপাতালে ছিলেন তাঁর ফুসফুস থেকে একটি .২২ বুলেট অপসারণের জন্য। এটি ‘বিজয়ে’র পূর্ব থেকেই সেখানে আটকে ছিল, দুর্ঘটনার ফলাফল স্বরূপ : তিনি অনুশীলন চলাকালীন সময়ে এক শিক্ষানবিশের অসাবধানে ছোঁড়া বুলেটের দ্বারা বিদ্ধ হন। আমি জবরদস্তি করার পর, তিনি তাঁর শার্ট খোলেন এবং আমাকে আঘাতের চিহ্ন দেখান। আঘাতটা তাঁর হৃৎপিণ্ড থেকে মাত্র এক ইঞ্চি দূরে ছিল।

মাতাগালপার অনেক উঁচুতে একটি পার্বত্য কুটিরে ছিলাম আমি, এবং সেই রাতে দূত কার্লোস সামোরা এবং তাঁর সহকারী মানুয়েল সালবাতিয়েরা, উপস্থিত হন এই ‘হিন্দু’ লেখককে দেখবেন বলে। সামোরা ছিলেন ছোটখাটো, শীর্ণকায় ও গুম্ফবিশিষ্ট আর সালবাতিয়েরা তাঁর চেয়ে অনেক বড়সড় শরীরের। তাঁরা পুরনো কলেজবন্ধু ছিলেন। আমরা কলাভাজা, কুমড়োর সঙ্গে গলিত পনির এবং ঝালমরিচের সসে মেশানো গরুর মাংস নিয়ে নৈশভোজে বসি।

উনিশ তারিখে সামোরা জানান যে কন্ট্রারা হাজার খানেক লোক নিয়ে হিনোতেগা প্রদেশে ঢুকেছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল দুটো জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটিকে আক্রমণ করে বিদ্যুৎ সরবরাহের তার কেটে দেওয়া। তাদের আরও ইচ্ছে ছিল চাষীরা এসতেলি ফিরে যাওয়ার পথে তাদের আক্রমণ করার। ‘তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়’, তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন। ‘আমাদের গোয়েন্দা-তথ্য বেশ ভালো ছিল। তবে তাদের ৭০০-র মত সেনা এখনও এই অঞ্চলে, নিকারাগুয়ায় রয়েছে। বাকিরা হন্ডুরাসে ফিরে গেছে।’

সালবাতিয়েরা কন্ট্রাদের নৈতিক সমস্যার ওপর জোর দেন। ‘তারা আমাদের ভয়ে ভীত।’ তিনি বলেন, ‘ডলার তাদের সাহায্য করবে না।’

আমি প্রসঙ্গ পাল্টাই। এটা কি সত্যি যে একটা গাড়ি সাফসুতরো করার জন্য ছ’টা গরুর মাথা লাগে? তাঁরা হাসেন। ‘অথবা দশ হেক্টর যব?’ কার্লোস সামোরা যোগ করেন। তাহলে, আমি বলি, দ্রব্যমূল্য যদি এতটাই বেশি হয় তাহলে দুর্নীতির কী অবস্থা। তাঁদেরকে বিব্রত দেখায়, অপ্রত্যাশিতভাবে নয় অবশ্য, তবে তাঁরা উত্তর দিতে অস্বীকার করেন না। সামোরা বলেন, ‘হ্যাঁ, সেটা আছে অল্পবিস্তর। গাড়িসারাইয়ের বিষয়ে বলি’, তিনি বলেন, ‘আপনি দেখবেন একজন মিস্ত্রি বলছে একটা নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে না, অথবা বিশাল টাকার বিনিময়ে যোগাড় করে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু তার বাসাতেই হয়তো নির্দিষ্ট দামে একটা রয়েছে।’

আমাদের দেশের মোট তারল্যের চল্লিশ শতাংশ হয়তো কালোবাজারেই রয়েছে। ‘কেনা যায় এমন যে-কোন জিনিসই রাস্তার ধারে অনেক বেশি টাকায় বিক্রি করা যায়।’ সালবাতিয়েরা বলেন, ‘এক বুড়ি আছে যে প্রতিদিন গাড়ি থামিয়ে মাতাগালপা থেকে লিয়ন যায়, এক সুটকেস সিম, আম, চাল ইত্যাদি নিয়ে। সে দিনে ৫০০০ কর্দোবা আয় করে। আমার আয় ৩০০০।’

সামোরা ও সালবাতিয়েরা দুইজনই মানাগুয়ার ‘খারাপ ছাত্র’ ছিলেন, যখন এফএসএলএন তাদের দলে নিয়োগ করে। সামোরার বাবা ছিলেন একটি গ্যারাজের মেকানিক। (আমি তাহলে নেহাত আপতিকভাবে সঠিক বিষয়ের ওপরই আঘাত করি, যখন গাড়ি সারাইয়ের প্রসঙ্গ তুলেছিলাম।) ‘তিনি বিপ্লবের বিপক্ষে ছিলেন না, আবার ঠিক পক্ষেও ছিলেন না।’ আমি বলি যে, মাঝেমাঝে এটা মনে হয় বিপ্লবটা আসলে দুই প্রজন্মের মধ্যেকার লড়াই- ফ্রেন্তের বালকেরা বনাম সমোসাবাদী বুড়োরা এবং সাবধানী, রক্ষণশীল চাষারা। না, না, তাঁরা দুজনেই তড়িঘড়ি আমার কথার প্রতিবাদ করেন। যদিও এই ধারণাটা আমার মধ্যে রয়েই যায়।

‘আপনাদের বয়স কতো’, আমি তাঁদের জিজ্ঞেস করি। তাঁরা খুব মিষ্টি করে হাসেন।

‘ত্রিশ’, কার্লোস সামোরা বলেন। তিনি একটা বিপ্লবের জন্য লড়েছেন এবং একটি প্রদেশের প্রশাসক, তবুও আমার চেয়ে নয় বছরের ছোট।

পরে, যখন ফ্লর দে কানিয়া এক্সট্রা সেকোর একটি ছোট বোতল পরিবেশকে হালকা করে তোলে, তখন পুরনো গল্পেরা বেরিয়ে আসে আবার : ১৯৭৪ সালের পানকাসিয়ানের যুদ্ধের কথা যেখানে সান্দিনিস্তরা বিশাল ও রক্তাক্ত পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছিল, যার পরপরই প্রথমবারের মতো কৃষকেরা এসে অস্ত্র চাইল, সেটা কার্যত বিজয়ই ছিল, কেননা শত হলেও সেটা ছিল বালক ও চাষীদের মধ্যে ঐক্যের মুহূর্ত; হুলিয়ো বুইত্রাগোর গল্প; স্থানীয় ছেলে কার্লোস ফনসেকার কথা, যার জন্ম হয়েছিল মাতাগালপায়। সান্দিনো ও ফনসেকা দুজনেই ছিলেন জারজ, তাঁরা আমায় বলেন। ‘তো, বিপ্লবের সঙ্গে জারজের সম্পর্কটা কোথায়?’, আমি জিজ্ঞেস করি, কিন্তু তাঁরা কেবল ভয়ে ভয়ে হাসেন। এটা অবশ্যই দেবতাদের নিয়ে মশকরা ছিল না।

আমি তাঁদেরকে সত্তরের পর্বটা অলোচনায় তোলার জন্য প্ররোচিত করি, যখন ‘ফ্রেন্তে’ তিনটি ’প্রবণতায়’ ভেঙে যায়, বিপ্লবের সঠিক পন্থা নিয়ে তিক্ত বিবাদের পর। (সর্বহারা শ্রেণি, হাইমে হুইলকের নেতৃত্বে, বিশ্বাস করত যে রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত ও উদ্বুদ্ধ করার জন্য চাষীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করাটাই ছিল সামনে এগোবার সঠিক পথ, যদিও তাতে অনেক বছর লেগে যেতে পারে। আর যে উপদলটি দীর্ঘায়ত গেরিলা যুদ্ধের কৌশল সমর্থন করত তারা আশ্রয় নিয়েছিল পর্বতে, সে-দলে কার্লোস ফনসেকাও ছিলেন; তৃতীয় গোত্র ’তেরসেরিস্তাস’, বিশ্বাস করতো মধ্যবিত্ত শ্রেণির সমর্থন আদায় এবং বড়সড় শহুরে গণঅভ্যুত্থানের ওপর, এর নেতৃত্বে ছিলেন দানিয়েল ওর্তেগা এবং তাঁর ভাই। এই দুই উপদল একত্রিত হয় ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে, বিজয়ের জন্য চূড়ান্ত ধাক্কা দেয়ার আগে, এবং এই তেরসেরিস্তার কৌশলই বিজয়ী হয় শেষ পর্যন্ত।)

সামোরা এবং সালবাতিয়েরা অস্বীকার করেন যে তাদের মধ্যে কোনও আভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিল; বিরোধটা ছিল কৌশলগত এবং সেটা বাস্তব কোন বিভেদও নয়। ‘আমি ক্ষমতার দ্বন্দ্ববিহীন কোনও বিপ্লবের কথা শুনিনি’, আমি বলি। ‘এটা কি সত্যি নয় যে হাইমে হুইলককে এই বিভেদের জন্য দায়ী করা হয়েছিল? এটাও কি সত্যি নয় যে দানিয়েল ওর্তেগা প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, তাঁর ‘তেরসেরিস্তা’ গোষ্ঠীটি এই অন্তর্দ্বন্দে জয়ী হতে পেরেছে বলেই?’ না, তাঁরা চিন্তিতস্বরে বলেন। ‘পরিচালনা পরিষদ সব সময়েই ভীষণ ঐক্যবদ্ধ ছিল।’

এটা একেবারেই সত্য ছিল না। বিদ্রোহের দিনগুলো তাঁরা কোথায় কাটিয়েছেন, আমি জানতে চাই; সামোরা বলেন, ‘শহরে’; সালবতিয়েরাও একইভাবে মাথা নাড়েন। এখন আমি বুঝি : তাঁরা শহুরে অভ্যুত্থানপন্থীদের দল ’তেরসেরিস্তা’, অর্থাৎ বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। তাঁরা বিজয় নিয়ে তাই তেমন অহংকার করতে চাচ্ছিলেন না।

আমি জল আরেকটু ঘোলা করার জন্য বলি, এদেন পাস্তোরার মামলাটিই বলে যে তারা যতটা না স্বীকার করতে চাইছেন, ফাটল তার চেয়ে আরও অনেক গভীর ছিল। শত হলেও, পাস্তোরা নিজেই একজন তৃতীয়ধারাপন্থী ছিলেন, তিনি ছিলেন সেই বিখ্যাত ‘কমান্ডার জিরো’, আকর্ষণীয় এবং ডাকাবুকো, যিনি ন্যাশনাল প্যালেসের শিহরণ জাগানো আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সমোসার গোটা সংসদীয় পরিষদকে জিম্মি করার বিনিময়ে পঞ্চাশজন বন্দি সান্দিনিস্তার মুক্তি ও আধা মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ অর্জন করেছিলেন; আর আজ তিনি কোস্টারিকায় নির্বাসিত, তাঁর নিজস্ব এক প্রতিবিপ্লবী বাহিনী গড়ে তোলার জন্য…তিনি সান্দিনিস্তাদের দ্বারা পরাজিত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নিজেই যে-বিপ্লবের বড় সৈনিক ছিলেন তাঁর সঙ্গে এই বিরোধ নিশ্চয়ই যথেষ্ট গুরুত্ব দাবি করে? নেতা ও তাঁর সহকারীর মুখ থেকে মুচকি ও বিব্রত হাসির শব্দ শোনা যায়। ‘এদেন পাস্তোরা ব্যক্তিগত গৌরব চেয়েছিলেন’, সালবাতিয়েরা বলেন, ‘তিনি গোড়াতেই ভুল সেনাদলে যোগ দিয়েছিলেন।’

[চলবে]

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close