Home অনুবাদ সালমান রুশদি > দ্য জাগুয়ার স্মাইল >> আলম খোরশেদ অনূদিত ধারাবাহিক [পর্ব ১৫]

সালমান রুশদি > দ্য জাগুয়ার স্মাইল >> আলম খোরশেদ অনূদিত ধারাবাহিক [পর্ব ১৫]

প্রকাশঃ August 3, 2017

সালমান রুশদি > দ্য জাগুয়ার স্মাইল >> আলম খোরশেদ অনূদিত ধারাবাহিক [পর্ব ১৫]
0
0

ধারাবাহিক পর্ব ১৫

বিপ্লবপরবর্তী কালে নিকারাগুয়া ভ্রমণ নিয়ে সালমান রুশদির ভ্রমণগাথা

সমবায় খামারের দিন শুরু হয় ভোর পাঁচটায়, যখন শ্রমিকেরা বিভিন্ন কমিটির প্রতিনিধির (বাৎসরিকভাবে নির্বাচিত) কাছ থেকে দিনের কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য জমায়েত হয়। তারপর তারা বাড়ি ফিরে যায়, সিমের বিচি আর রুটি দিয়ে নাস্তা সারে এবং ছয়টার মধ্যে জমিতে (কফি, ধান) নেমে পড়ে, তারপর টানা আট ঘণ্টা ধরে কাজ করে। কাজের শেষে থাকে বয়স্ক শিক্ষার ক্লাস। আমি যে-পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলি তাদের মধ্যে তিনজনই এখানে আসার পর লিখতে শেখে- উমবের্তো স্বীকার করে, ‘তেমন ভালো নয়।’ চতুর্থ শ্রেণি অব্দি ক্লাস করানো হয় সেখানে।

ফুর্তির জন্য তারা কী করে? মোরগের খেলা, তাস খেলা, গিটার বাজানো, মাঝে-মধ্যে প্রতিবেশী সমবায়কেন্দ্রে বেড়াতে যাওয়া, হিনোতেগা কিংবা মাতাগালপায় আলটপকা ভ্রমণ এবং অবশ্যই নানাবিধ উৎসব উদযাপন। কিন্তু তাদেরকে ফুর্তিফার্তার কথা বলতে যেন একটু অপ্রস্তুত মনে হলো। ‘যুদ্ধে লোকক্ষয় সত্ত্বেও’, আর্তুরো আলোচনাটাকে তার গাম্ভীর্য ফিরিয়ে দিতে তৎপর হয়, ‘আমরা আমাদের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখতে সক্ষম হই।’

দারিদ্র্যের দাক্ষিণ্যে তারা আমাকে মধ্যাহ্ণ ভোজনে ভালোরকম আপ্যায়ন করে। আমাকে একটা ডিম ও সিমের বিচির স্যুপ দেওয়া হয়, এই ডিমগুলো ছিল সবচেয়ে সুস্বাদু, কেননা সেগুলো ছিল ছানা হওয়ার উপযোগী। এই ডিমগুলোকে বলা হতো, ‘ভালোবাসার ডিম’। যখন লোকজনের হাত প্রায় খালি, তখন এরকম নিষিক্ত মুর্গির ডিম খাওয়ানো ছিল রীতিমত ভোজের শামিল।

আমি যখন ভালোবাসার ডিম খাচ্ছিলাম, যেগুলো ছিল সত্যিই খুব সুস্বাদু, তখন বাচ্চারা পাশেই রান্নাঘরের লাগোয়া কুঁড়েঘরে খেলছিল। তাদের খেলার কার্ডগুলো ছিল একটা পুরনো আঙ্কল স্ক্রুজ কমিক বই থেকে আয়তকার কাগজ কেটে বানানো। ওয়াক! আমার টাকা! কী বিচ্ছিরি…হিউই, ডিউই আর লুয়ি নামক হাঁসের বাচ্চার টুকরোরা মার্কিন কোটিপতি হাঁসের ক্রোধ থেকে পালিয়ে আসে এখানে।  আর তখনই, আমি দিব্যি কেটে বলছি, রেডিওতে ব্রুস স্প্রিংসটিন গাইছিলেন, ‘বর্ন ইন দ্য ইউএসএ’।

হিনোতেগা যাওয়ার পথে অবস্থিত, হেরমান পোমারেস অস্থায়ী হাসপাতালটির নামকরণ করা হয়েছিল বিজয়ের ঠিক দুই মাস পূর্বে, ১৯৭৯ সালের মে মাসে নিহত এফএসএলএন নেতার নামে। অত্যন্ত জনপ্রিয় সান্দিনিস্তা নেতা পোমারেসের বিপুল প্রভাব ছিল দানিয়েল ওর্তেগার ওপর। ‘তাঁকে সবাই এত ভালোবাসত’, আমার ভাষাসহচর আমাকে বলে, ‘তাঁর মৃত্যুর খবরটা ছয় মাসেও প্রচার করা হয়নি’। গণমাধ্যম স্বাধীনতার ‘প্রসাধনী’ চরিত্রের পাশাপাশি আমি এই উচ্চারণটিকেও আমার সংগৃহীত বিষাদসঞ্চারী বাক্যগুলোর তালিকায় যুক্ত করি।

হাসপাতালের প্রবেশপথের পাহারাচৌকিতে সবার অস্ত্র জমা দেবার কথা, কিন্তু আমাদের গাড়িচালক দানিলো, তার পিস্তলটি, দিন ক্রমে উষ্ণতর হয়ে উঠতে থাকায় এক পর্যায়ে আমার খুলে-ফেলা জামার নিচে লুকিয়ে রাখে। গরমে উদোম হওয়া এক কথা, কিন্তু পিস্তল ছাড়া সে নিজেকে প্রায় উলঙ্গ বোধ করে; আমার চোখে তার চৌর্যবৃত্তি ধরা পড়ে যাওয়ার পর, এই বলে সে আমাকে স্বীকারোক্তি প্রদান করে।

হাসপাতালটা মাত্র দুই বছরের পুরনো। ”আমাদেরকে এটা খুব তাড়াতাড়ি তৈরি করতে হয়েছিল।”, বলেন আদিবাসী চেহারার পরিচালক কালদেরা, যাঁর দপ্তরের দেয়ালে ছোট ছোট ঝিনুক দিয়ে বানানো একটা চে’র ছবি ঝোলানো ছিল। “আমাদের দেশের ইতিহাসে আমরা এত আহত রোগী পাইনি।” বিশেষজ্ঞ কর্মচারীরা সবাই ছিলেন কিউবার। নিকারাগুয়ার ডাক্তারদেরকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ধীরে ধীরে তৈরি করা হচ্ছিল, কিন্তু এই মুহূর্তে তাদের এ-ধরনের শৈল্যচিকিৎসা করার দক্ষতা ছিল না।

রোগীদের গড় বয়স ছিল একুশ। এদর দশ ভাগ সাধারণ সৈন্য, ত্রিশ ভাগ এসেছে কৃষক মিলিশিয়াদের মধ্য থেকে, আর বাকি কমপক্ষে ষাট শতাংশ সামরিক শিক্ষানবিশ বাচ্চা ছেলেরা।

”এটা তো বিস্ময়কর,” আমি বলি। “সামরিক শিক্ষানবিশদের মধ্যে এত আহতের কারণ কী?” কারণ হচ্ছে, কালদেরা বলেন যে, এই ছেলেরাই হচ্ছে গেরিলা দলের কমান্ডো বাহিনীর সদস্য, যারা কন্ট্রাদের খোঁজে গভীর অরণ্য এবং পর্বতাঞ্চলে অভিযান চালায়। নিকারাগুয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ কোন ফুর্তির জিনিস নয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে হাসপাতালের অনেক রোগীই ছিল মাইন বিস্ফোরণের শিকার, যাদের অধিকাংশই মারা যায়। আর তা না হলে, বেশির ভাগই গুলিতে আহত। “তিরাশি শতাংশ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়,”, বলেন পরিচালক কালদেরা, পরিসংখ্যান যাঁর নখদর্পণে ছিল। ”ছয় থেকে সাত শতাংশ পঙ্গু হিসাবে বেঁচে থাকে।” আরও বাকি থাকে দশ শতাংশের মত। তাদের বেলায় কী ঘটে আমি জানতে চাই না।

সৌভাগ্যক্রমে আমি যখন পোমারেস হাসপাতাল দর্শনে যাই তখন সেখানে বেশ ক’টা বিছানা খালি ছিল এবং হাত-পা কাটা রোগীর সংখ্যা ছিল খুব কম। সাধারণত, কালদেরা বলেন, চিত্রটা অন্যরকম হয়। “ব্যাপারটা যদি সবসময় এরকমই হতো তাহলে আমি কবিতা লিখতে পারতাম।” আরও একজন কবি। কবিদের হাত থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় ছিল না।

আমি জানতে চাই তাদেরকে রক্ত আমদানি করতে হয় কি না। না, তিনি বলেন, জাতীয় রক্তদান কর্মসূচি থেকেই যথেষ্ট রক্ত পাওয়া যায়। এটাকে আমার কাছে বেশ উল্লেখযোগ্য মনে হয়। এটা ছোট একটা দেশ যার নিজেরই প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

ওয়ার্ডের তরুণ ছেলেগুলো ছিল সব রীতিমত যুদ্ধংদেহী, বিপ্লব বিষয়ে বাচাল ও স্বপ্নালু চোখের- “আমার আঘাতের পর”, এক টিনএজ বয়সী আমাকে বলে, “আমি বিপ্লব ব্যাপারটাকে আরও বেশি ভালোবাসি”- রণাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার জন্য সে সদা উদগ্রীব। এক উনিশ বছর বয়সীর সঙ্গে দেখা হয় আমার, যে ছয় বছর ধরে লড়াই করে আসছে। আমি এক লজ্জিত সতেরো বছর বয়সের যুবককে দেখি যে দুর্ঘটনাবশত নিজের পায়ে গুলি করে বসেছে। আঠারো বছর বয়সী এক যুবার সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয় আমার, যার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। ”প্রথমে আমার পায়ে আঘাত লাগে,” সে বলে, “কিন্তু আমি তখনও গুলি করতে পারছিলাম। তারপর বোমার টুকরো এখানে,” এই বলে সে তার ব্যান্ডেজবাঁধা কপালটাকে দেখায়, “আমার চোখ তখন ঝাপসা হয়ে আসে, আমি জ্ঞান হারাই, তবে মাত্র এক মুহূর্তের জন্য।”  আমি তার হাঁটুর ওপরের বিপজ্জনক ক্ষতটার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করি। “আমি জানি না,” সে বলে। ক্ষতটা এত বিশাল যে সে-ব্যাপারে সচেতন না হয়ে এখানে এসে পৌঁছানোটা অসম্ভব ছিল, কিন্তু সে মাথা নাড়ে। “এটা খুবই অদ্ভুত, তবে আমি সত্যি জানি না এটা কীভাবে ঘটল।”

তারা সবাই খুবই তরুণ, অথচ মৃত্যুর সঙ্গে এতটা পরিচিত যে, তার ব্যাপারে শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলেছে তারা। এটা আমাকে চিন্তিত করে। তারপর, আমি বেরিয়ে যাবার মুখে হুইল চেয়ারে বসা এক তরুণীর সঙ্গে দেখা হয়। তার কোমরে গুলি লেগেছিল এবং তার মুখ কাচের মত ফ্যাকাসে, কোনপ্রকার অভিব্যক্তিহীন। বালক সৈন্যদের বিপরীতে এই মেয়েটি ছিল এমন একজন, যে জানত তার গায়ে গুলি লেগেছে এবং সে এ-ব্যাপারে খুব ক্ষুব্ধ ছিল।

“ আর তুমি কী ভাব এই বিপ্লব বিষয়ে?” আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি।

“ আমার অই ফালতু ব্যাপারের জন্য কোন সময় নেই,” সে জবাব দেয়।

“তুমি কি তার বিরুদ্ধে?”

“ কী আসে যায়?” সে কাঁধ ঝাঁকায়। “হতে পারে হ্যাঁ।”

তার মানে সেখানে এমন মানুষও ছিল যাদের জন্য এই রক্তারক্তিটা সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং যার কোনও মূল্য ছিল না তাদের কাছে। তবে এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে, তার মনে কোনপ্রকার ভীতি কাজ করছিল না। সে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার মাঝখানেই ছিল এবং সেটা তাকে একদমই বিচলিত করেনি।

আমার কুটিরে ফিরে আসার পর, সন্ধ্যার আলোতে দূরের পর্বতগুলোকে এমনই প্রশান্ত লাগছিল যে, তার মাঝখানে লুকিয়ে থাকা সমূহ বিপদের অস্তিত্ব বিষয়ে বিশ্বাস করাটা কষ্টকরই ছিল। সৌন্দযের্র মধ্যে, নিকারাগুয়াতে, প্রায়শই লুকিয়ে থাকে পাশবিকতাও।

গর্ভপাত, প্রাপ্তবয়স্কতা এবং ঈশ্বর

জাতীয় সংসদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল নিকারাগুয়ার নতুন সংবিধান রচনা করা। আমিও সংবিধান রচনা পরিষদের চারজন সদস্যের সঙ্গে দেখা করার জন্য সংসদ ভবনে যাই, যেটাকে তখনও একটি ব্যাংকের মত লাগছিল, যাদের দু’জন, অপরিহার্যভাবেই দেখা গেল কবি : লুইস রোচা এবং আলেহান্দ্রো ব্রাবো। তৃতীয়জন, মানুয়েল ইউর্গারিয়স ছিলেন একজন সাংবাদিক এবং চতুর্থজন, সেরাফিন সোরিয়া ছিলেন এফএসএলএন-এর চিফ হুইপ।

সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ছিয়ানব্বইটি আসনের মধ্যে একষট্টিটি পায় এফএসএলএন। বাকিগুলো ভাগ করে নেয় ছয়টি বিরোধী দল, চারটি ফ্রন্ট-এর চেয়ে ডানপন্থী এবং ছোট্ট দুটো দল চঝ ও মার্কসবাদী-লেনিনবাদী গঅচ ছিল তাদের বাঁয়ে। (বামপন্থী  দলগুলো নিয়মিতভাবে সান্দিনিস্তাদের আক্রমণ করত ভণ্ড এবং কোনও বিপ্লবী না বলে, ফ্রন্টের নেতৃত্ব যা উপভোগই করতেন।) প্রথমদিকে সবক’টা দলই সংবিধান পরিষদের সঙ্গে সহযোগিতা করছিল, কিন্তু তারপর লিবারেল পার্টি, যেটি আসলে রক্ষণশীলদের চেয়েও ডানপন্থী ছিল, এবং যেটি রক্ষণশীলদের চোদ্দটি আসনের বিপরীতে মোট নয়টি আসন পেয়েছিল, তার নেতা ড. বিরহিলিয়ো গদয়, আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে অস্বীকার করে। “তিনি আলাদা থাকতে চান,” রোচা বলেন, “যাতে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্যতা পান।”

(বিরোধীদেরকে চটজলদি এভাবে নস্যাত করে দেওয়ার প্রবণতা সান্দিনিস্তাদেরকে সমস্যায় ফেলতে পারে। আমি ফিরে আসার পর জানতে পারি যে, গদয় অন্যান্য বিরোধী দলকেও, সান্দিনিস্তারা সবার আগে দেশের ‘বড় সমস্যাগুলো’ বিষয়ে আলোচনা করতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে তারই মত অস্বীকৃতি জানাতে প্ররোচিত করেছিলেন। যদিও এই ক্ষেত্রে তারা কন্ট্রাদের এই আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য জোরাজুরি করেনি, তবু আমার মনে হয়েছিল যে এই সংবিধান ব্যাপারটি একটি রাজনৈতিক ফুটবল খেলা হয়ে উঠতে পারে।)

আমার সফরের সময় তার প্রথম খসড়া লেখা হয়ে গিয়েছিল, যেটা নিয়ে পরে দেশের আনাচে কানাচে মোট চুয়াত্তরটি জায়গায় জনসমক্ষে আলোচনা হয়। আলেহান্দ্রো ব্রাবো বলেন : “লাতিন আমেরিকায় এই প্রথমবারের মত সংবিধান নিয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়।” খসড়া সংবিধানে “সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণমূলক সমাজনির্মাণ, ভোট দেওয়ার ও নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, সংগঠিত ও সমবেত হওয়ার এবং কথা বলার স্বাধীনতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের অধিকার” ইত্যাদির উল্লেখ ছিল। “রাজনীতিতে সোমোসাধর্মী সরকারে প্রত্যাবর্তনের প্রচারণাকারীরা ছাড়া, মতাদর্শ-নির্বিশেষে যেকোনও রাজনৈতিক সংগঠনের অংশগ্রহণকেই” রাজনৈতিক বহুত্ববাদ বলে সংজ্ঞায়িত করে তা। এটি নিশ্চয়তা দেয় “এমন এক ধরনের মিশ্র অর্থনীতির যেখানে বহু ধরণের সম্পত্তির ধারণা, যেমন ব্যক্তিগত, রাষ্ট্রীয়, মিশ্রিত, সামবায়িক- অস্তিত্বশীল এবং যেখানে যৌক্তিক পরিমাণ লাভের ক্ষেত্রে কোনও বাধা না থাকলেও, মূলত জনগণের কুশলসাধনই হবে প্রধান লক্ষ্য।”

একটি ধারা উল্লেখ করে যে, “প্রতিটি ব্যক্তির চিন্তা, চেতনা ও ধর্মের অধিকার থাকবে, এবং এই অধিকারকে হরণ করে এমন কোনও নিবর্তনমূলক আচরণ করা যাবে না কারও ওপর।” রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা থাকবে জনগণকে সামাজিক নিরাপত্তা, কল্যাণব্যবস্থা এবং ‘ক্ষুধা থেকে সুরক্ষার’ নিশ্চয়তা দেওয়ার। রাষ্ট্র এমনকি ‘পরিবেশ রক্ষার’ জন্যও দায়ী থাকবে।

গণআলোচনার সভাগুলোতে এর বিরুদ্ধে সমালোচনার কোনও কমতি ছিল না। সাংবাদিক, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সভায় এক বক্তা দাবি করেন যে, সংবিধানে “নাগরিক স্বাধীনতা, অবাধ মতপ্রকাশ ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারের” বিষয়গুলোকে আরও ব্যাখ্যা করে বলা উচিত। আরেকজন ‘যোগাযোগ বিষয়ে নীতমালাকে সংজ্ঞায়িত করার’ ওপর জোর দেন; তৃতীয় আরেকজন, একটু দ্বিধান্বিতভাবে বলেন, “বিশেষ করে শ্রমিকশ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করা দলগুলোর মত-প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা চলবে না।”

পরিষদ এইসব মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে খসড়াটিকে পরিমার্জনা করছিলেন। প্রতিটি ধারার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, কিন্ত, ইউর্গারিয়স বলেন, “আমরা সবার সম্মতির ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। আমরা এমন একটি বাস্তববাদী সংবিধান চাই যেটি স্থায়ী হবে।”

এটা কি সত্য নয় যে, এমন কিছু বিষয় থাকবে যেখানে এই সর্বসম্মতির বিষয়টা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে? ”আমি আপনাকে গর্ভপাত, প্রাপ্তবয়স্কতার সংজ্ঞা এবং ঈশ্বর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে চাই।”, আমি বলি।

[চলবে]

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close