Home অনুবাদ সালমান রুশদি > দ্য জাগুয়ার স্মাইল >> আলম খোরশেদ অনূদিত ধারাবাহিক ভ্রমণগাথা [পর্ব ১৭]

সালমান রুশদি > দ্য জাগুয়ার স্মাইল >> আলম খোরশেদ অনূদিত ধারাবাহিক ভ্রমণগাথা [পর্ব ১৭]

প্রকাশঃ October 31, 2017

সালমান রুশদি > দ্য জাগুয়ার স্মাইল >> আলম খোরশেদ অনূদিত ধারাবাহিক ভ্রমণগাথা [পর্ব ১৭]
0
0

পর্ব ১৭

বাজারের দিন

আর্হেন্তিনীয় লেখক হুলিও কোর্তাসার নিকারাগুয়াকে খুব ভালোবাসতেন এবং প্রায়ই আসতেন সেখানে। মানাগুয়ায় তাঁর প্রিয় জায়গা ছিল বাজারগুলো। তিনি তমাস বোর্হের সঙ্গে শহরকেন্দ্রে ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে গড়ে ওঠা পুরনো ‘প্রাচ্যবাজারে’ ঘুরে বেড়াতেন। বিশালাকার হুলিও এবং ক্ষুদে তমাস, এই দু্ইয়ে মিলে এক অদ্ভুত জুটি গড়ে উঠত। নিকারাগুয়া কোর্তাসারের প্রশংসার প্রতিদান দিয়েছিল এবং ভালোও বাসতো খুব তাঁকে। ভৌতিকরকম নিরীক্ষা ও দুরূহ উপন্যাস রায়ুয়েলা (হপস্কচ)-র লেখককে তাঁরা প্রথম নামেই ডাকতো। আজ তিনিও মৃত।

যখন নতুন, বিশাল ও আচ্ছাদিত বাজারসমূহ, যেমন মেরকাদো রবের্তো উয়েম্বেস তৈরি হলো, তখন ব্যবসায়ীরা তাদের প্রাচ্যমার্কেটের দোকানগুলো ছেড়ে যেতে চাইছিল না। তারা এই ভেবে ভীত ছিল যে, তাদের খদ্দেররা হয়ত নতুন গুহাসদৃশ জায়গাতে তাদের খুঁজে পাবে না। দানিয়েল ওর্তেগা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে এক নারী তাঁর সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাঁচামেচি করে বলতে থাকে, আমরা যাব না, তুমি আমাদেরকে সেখানে নিয়ে যেতে পারবে না। তবে কেউ কেউ গেল, তাদের দেখাদেখি অন্যেরাও, আর এখন খুব অল্প ব্যবসায়ীই প্রাচ্যবাজারে অবশিষ্ট আছে।

রবের্তো উয়েম্বেস বাজারে আমার মাথার ওপর থেকে বিশালাকার গোলাপি খরগোশের পুতুল ঝুলছিল। এগুলো ছিল বাচ্চাদের পার্টির খেলনা, পিনিয়াতাস। সেগুলোতে মিষ্টিজাতীয় খাদ্য ভরে ছাদ থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। বাচ্চারা সেগুলোকে লাঠি দিয়ে পেটাতো যতক্ষণ না সেগুলো ফেটে গিয়ে মিষ্টিগুলো সব ঝরে পড়তো। বাচ্চা মেস্তিসো মেয়েগুলো পিনিয়াতাস সমূহের দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল।

সেখানে মনোযোগ সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। ঢোলের তালে তালে হিগান্তোনা নামের দৈত্যসদৃশ, প্রায় দশ ফুট লম্বা নাচিয়ে মেয়ে, মাথায় বিরাট-চক্ষু মুখোশ পরে নিতম্ব দুলিয়ে পাশ দিয়ে নাচতে নাচতে বেরিয়ে যাচ্ছিল। বাচ্চারা তাদের পেছন পেছন দৌঁড়ে যায়, দেখাদেখি আমিও। ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন-আঁকা একটি দেয়ালের পাশ দিয়ে মেয়েটি চলে যাওয়ার সময় আমি দেখি তাতে কার্দিনাল ওবান্দো ই ব্রাবো, আঙ্কল স্যাম-এর কাছে হাঁটু গেড়ে বলছেন, ‘আমাকে আশীর্বাদ করুন’, জবাবে আঙ্কল স্যাম বলছেন, ‘ঠিক আছে বাছা, তুমিও কন্ট্রা, আমিও কন্ট্রা, ঈশ্বর তোমার সঙ্গেই থাকবেন।’ কেউই (আমি ছাড়া) এই কার্টুনগুলোর দিকে তাকাচ্ছিল না। সবাই সেই দৈত্যাকৃতি নাচনেওয়ালির পেছন নিয়েছিল, যা ছিল অনেক বেশি মজাদার।

বাজারের বিভিন্ন অংশে আসবাবপত্র, হস্তশিল্প, জুতো, গেরস্থালি জিনিস, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাকার বস্তু কিনতে পাওয়া যেত, যতটা এই অভাব ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে সম্ভব ছিল। কোন কোন জুতার দাম ছিল একজন অফিস কর্মচারীর পুরো এক মাসের বেতনের সমান। মাংস, ভুট্টা, তেল, আলু, সিমের বিচি সবই ছিল দুষ্প্রাপ্য। ফলত, আমি যখন বাজার ঘুরছিলাম, নানারকম অভিযোগের শব্দ কানে আসাটা কঠিন ছিল না। আশ্চর্য নয় যে, সরকার…। ক্রেতারা জানত যে পণ্যঘাটতির সবটুকুর জন্যই যুদ্ধ দায়ী ছিল না। সম্প্রতি সরকারের মাংস প্রক্রিয়াজাত করার কারখানায় ২০০০০ পাউন্ড মাংস নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ফ্রিজে না রাখার দরুণ। দুই লাখ মুর্গিছানার মৃত্যুর কারণও অজানা ছিল। জিনিসপত্রের চড়া দামের জন্য লোকজন ক্রুদ্ধ ছিল। এক বোতল শ্যাম্পু কেনাটাও তখন খুব কঠিন ছিল।

নিকারাগুয়া উর্বর দেশ হওয়ায় মানুষ না খেয়ে ছিল না। প্রচুর ফলের ফলনের কারণে… আর আমার ভারত-প্রশিক্ষিত চোখে রবের্তো উয়েম্বেস বাজারের দৃশ্যগুলো ঠিক সত্যিকারের কঠোর দারিদ্র্যের প্রতিচ্ছবি ছিল না। তবে এই সবসময় কিছু-না-কিছু গরিব তো থাকবেই জাতীয় তর্কগুলো তেমন ভালো কিংবা উপকারী নয়। মানাগুয়ায় সত্যিকারের অনটন ছিল, এবং সত্যিকারের গালাগালিও।

রবের্তো উয়েম্বেস ও অন্যান্য বাজারে ঘুরতে আসা অনেক বিদেশি এইসব আহাজারি শুনে ভেবে নিয়েছিল, জনগণ সান্দিনিস্তাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে। আমার অভিজ্ঞতা অবশ্য ভিন্ন। এফএসএলএন আক্রান্ত হচ্ছে এটা সত্য, কিন্তু আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করুন : সরকারের কী করা উচিত? তার কি কন্ট্রাদের সঙ্গে কথা বলা উচিত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অপোসরফা নাকি শান্তির জন্য মামলা করা উচিত? এই প্রশ্নের উত্তরগুলোর সুর কিন্তু আবার একেবারেই ভিন্ন : না, না সেটা তারা করতে পারে না। যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবেই।

হিগান্তনা নাচতে নাচতে মুচিদের আল ধরে বেরিয়ে গেল। আমি পরে বাড়ি ফিরে গিয়ে আরেকটি পৌরাণিক বস্তু সম্পর্কে পড়ি। ওমার কাবেসাস তাঁর এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, শিশুদের বানানো কাল্পনিক বন্ধুদের পরিবর্তে আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত তিনি একটি কাল্পনিক কুকুর পুষেছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁর বন্ধুরাও সেই কুকুরের ভক্ত হয়ে ওঠে। তারা এমনকি মাঝেমধ্যে সেটিকে দু’য়েক দিনের জন্য ধারও নিয়ে যেত। “এটা একধরনের সম্মিলিত উন্মাদনা যা আমি আবিষ্কার করেছিলাম।” তিনি বলেন। কবি লেওনেল রুগামাও সেই কুকুর ধার নেওয়াদের একজন ছিলেন। কাবেসাস একবার তাঁকে একটি বই ধার দিয়ে আর ফেরত পাননি। এর বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে রুগামা জবাব দিয়েছিলেন, “ওই বজ্জাত কুকুরের বাচ্চাটা ওটা নষ্ট করে ফেলেছে।”

তরুণ বিপ্লবী রবের্তো উয়েম্বেস ছিলেন কুকুর-ধারনেওয়ালাদের আরেকজন। রুগামার মতো উয়েম্বেসও বিদ্রোহের কালে মৃত্যুবরণ করেন। এমনকি সেই কুকুরটিও মারা যায়। “একদিন,” কাবেসাস ব্যাখ্যা করে বলেন, “একটা গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলে।”

প্রেসিডেন্ট সাহেব

চব্বিশে জুলাই সন্ধ্যায় আমি যখন দানিয়েল ওর্তেগার বাড়িতে আসি, তখনই মিগেল দেসকতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর পিঠের ব্যথাটা আমার সঙ্গে দেখা হওয়া আগের দিনের চাইতে কম ছিল। খবর এসেছিল যে, হন্ডুরাসের রাজধানী তেগুসিগালপার প্রাণকেন্দ্রে কন্ট্রাদের কী এক ‘সম্মেলনে’র ওপর নাকি অনামা আক্রমণকারীরা আঘাত করেছে। কয়েকজন এফডিএন নেতা নাকি তাতে আহত হয়েছেন। “এই আক্রমণ এটাই দেখায় যে কন্ট্রারা কতখানি অবাধে হন্ডুরাসের ভেতর চলাফেরা করতে পারছে,” দেসকতো বলেন। “তারা হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের খুব কাছের একটা দালানে সভা করছিল। এটা সরকারের অনুমোদন ছাড়া কিছুতেই ঘটতে পারে না।” এই আক্রমণের জন্য কারা দায়ী? ফাদার মিগেলের মুখের ভাষা পড়া যাচ্ছিল না, অবশ্যই এর জন্য আমাদেরকেই দোষী করা হচ্ছে।”

আরও অতিথির আগমন ঘটে, এক পর্যায়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব কবি ও বুদ্ধিজীবীই সেখানে জমায়েত হন। রোচা, যাঁর সঙ্গে আমার জাতীয় সংসদে দেখা হয়েছিল, সিলভা যিনি একটি বাচ্চাদের হাসপাতাল চালাতেন; ক্লাউদিয়া চার্মোরো, কোস্তারিকায় নিকারাগুয়ার রাষ্ট্রদূত। এর্নেস্তো কার্দেনালের হাসিমুখ, টুপি, আচকান, জিন্স-এর পাৎলুনও হাজির হয়। ঠিক তেমনি আসেন কার্লোস মার্তিনেস রিবাস- যাকে নিয়ে লোকেরা বেশ কিছুদিন ধরে উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন। মার্তিনেস রিবাস, দীর্ঘস্থায়ী পানাসক্তির জন্য কুখ্যাত, যে-কারণে তাকে প্রায়শই হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হতো, সম্প্রতি আবার বোতলমুখী হয়েছেন; তিনি যখন সের্হিয়ো রামিরেসের সঙ্গে স্বাভাবিক অবস্থায় এসে উপস্থিত হন তখন সবার মধ্যে একধরনের পরিত্রাণের ভাব পরিলক্ষিত হয়। মার্তিনেস রিবাসকে অনেকেই নিকারাগুয়ার সবচেয়ে মৌলিক, সৃজনশীল কবি বলে মনে করেন।” অনূদিত হতে তিনি ঘৃণা করেন,” কার্দেনাল আমাকে বলেন।” তিনি মনে করেন অনুবাদ এক ধরনের আততায়ীর আক্রমণ।” মার্তিনেস রিবাসের উচ্চৈস্বরের রসিকতা,  খানিকটা চোয়াড়ে মুখ এবং বোতামগুলোর কাছটায় টানটান বুশশার্ট আমাকে এক প্রিয় (অধুনা মৃত) চাচার কথা মনে করিয়ে দেয়।

“এই স্যুপটাতে মদ মেশানো রয়েছে,” তিনি রোসারিয়ো মুরিয়োকে কঠিন বকুনি দেন। “তোমরা কী করতে চেষ্টা করছো? আমাকে একটা মদ্যপ বানাতে?”

আরও উপস্থিত ছিলেন দীর্ঘদেহী তাতিসদৃশ ভদ্র চেহারার মানুষ হোসে করোনেল উরতেচো, যিনি মার্তিনেস রিবাস ও কার্দেনাল যখন তর্কাতর্কি শুরু করেন, যা সারা সন্ধ্যা ধরে চলবে, তখন আমার কানে কানে বলেন, “এই দুজন হচ্ছেন লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠতম কবি।” করোনেলের বিনয়ও সাংঘাতিক, কেননা তাঁর খ্যাতিও এঁদের চেয়ে কোন অংশে কম ছিল না।

রোসারিয়ো মুরিয়ো দানিয়েলের সাথে তাঁর ন্যুয়র্ক ভ্রমণের গল্প করছিলেন আমার সঙ্গে। তাঁরা মার্কিন জনগণের কাছে একটা সরাসরি আবেদন জানানোর কথা ভাবছিলেন, যাদের অধিকাংশই, একটা জরিপে দেখা যায়, রেগনের মধ্য-আমেরিকা বিষয়ক নীতিমালার বিরোধী ছিল। সেজন্য মুরিয়ো ফিল ডনাহিউ শোতে যান এবং দানিয়েল সেন্ট্রাল পার্কে জগিং করার সময় টিভি ক্যামেরায় ধরা দেন। “সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছুই বেশ ভালো গিয়েছিল,” মুরিয়ো বলেন। “ডনাহিউ শোয়ের পর রাস্তায় লোকেরা আমার দিকে হাত নেড়ে বলতো ভিভা নিকারাগুয়া।” তিনি এমনকি একবার একটা উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে ন্যান্সি রেগনের সামনে গিয়ে তাঁকে দু’জনে মিলে একটা আলোচনায় বসে বিবাদ মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিয়ে বসেন। ন্যান্সি তাঁর প্রস্তাবের জবাবে অবোধ্য ভাষায় বিড়বিড় করতে থাকলে তাঁর সহচরেরা দ্রুতগতিতে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।

“তারপর দানিয়েল জানান তাঁর নতুন চশমা লাগবে।” রোসারিয়ো তাঁর কিছু আমেরিকান বন্ধুদেরকে গোপনে একজন চক্ষু চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের বন্দোবস্ত করতে বলেন, আর তার মার্কিন বন্ধুরা (অত্যন্ত বিত্তশালী) প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগাকে এই নতুন চশমাজোড়া উপহার হিসাবে দেওয়ার জন্য জোর করতে থাকেন। দানিয়েল ও রোসারিয়ো ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরুনোর পর হতাশার সঙ্গে লক্ষ করেন, এত সাবধানতার পরও সেখানে পত্রিকার লোকেরা হাজির। এর পরদিন নিউইয়র্কের পত্রিকাগুলো ফলাও করে এমন গল্প ছাপে যে, দরিদ্র দেশ নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ৩২০০ ডলার দিয়ে নতুন চশমা কিনেছেন। “এত টাকা!” রোসারিযো বলেন। “আমি স্বপ্নেও ভাবিনি চশমার দাম এত হতে পারে। অবশ্য আমরা কয়েকজোড়া কিনেছিলাম, বাচ্চাদের জন্য রোদচশমাও, কেননা সেসব আমরা সেখানে পাই না, কিন্তু তাই বলে এত টাকা! এবং আমরা এক সেন্টও খরচ করিনি। কিন্তু তারা সেসব ছাপেনি।” প্রেসিডেন্টের এই চশমা কেলেঙ্কারি তার দাগ রেখে যায়। “আপনি জনেন না আমাদেরকে এখানে কীরকম সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়েছিল। সকালের নাস্তার আগ থেকে গভীর রাত অব্দি আমাদের মিটিং থাকে এবং আমরা এবারও বাইরে খাইনি। চীনা দোকান থেকে নিয়ে আসা খাওয়া খেয়ে কাটিয়েছি দিনের পর দিন। আর তারপর চশমা নিয়ে এই কাণ্ড, সত্যি খুব বিচ্ছিরি ব্যাপার হয়ে গেল।”

দানিয়েল ওর্তেগা তাঁর সেই আস্থা ও সংকোচের অদ্বুত মিশ্রণ মুখে নিয়ে ঘরে ঢোকেন। তিনি আমার পাশে বসেন- কোন একটি বারান্দার মাঝখানে নিচু টেবিলের চাবপাশে কাঠের দোলনা চেয়ারে আমাদের বসতে দেওয়া হয়েছিল- এবং কোন ভূমিকা ছাড়াই রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি দিন দুয়েকের মধ্যেই নিরাপত্তা পরিষদে যাবেন আমেরিকাকে হেগের রায় মেনে চলার অনুরাধ জানাতে। কিন্তু একটা মজার ঘটনা ঘটে। তাঁকে একদল মার্কিন ক্যাথলিক পাদ্রি প্রস্তাব করে আমেরিকায় থাকাকালে তাঁর সঙ্গে একটি অলোচনাসভায় মিলিত হওয়ার জন্য। “এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সভা হতে পারে। তারা হয়তো একটা মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিতে পারে।”

“বিশপ বেগার বহিষ্কার বিষয়ে?” আমি জিজ্ঞাসা করি।

“আরে না,” ওর্তেগা নাকচ করে দিয়ে বলেন। “বেগা, সেতো সিআইএ। সে পুরোপরি প্রতিবিপ্লবীদের সঙ্গে। তিনি কুৎসিত সব কথা বলছিলেন, যা স্পষ্ট দেশদ্রোহিতার নামান্তর : খোলাখুলিভাবে কন্ট্রা আগ্রাসনের সমর্থন।”

“আর কার্বায়োর বিষয়টা কী?” আমি জিজ্ঞস করি। কার্বায়ো ছিলেন অপর বহিষ্কৃত পাদ্রি। ওর্তেগা এটিকেও সমানভাবে নাকচ করে দেন। “কার্বায়ো ছিলেন ওবান্দো ই ব্রাবোর অপর কণ্ঠ। শুধু তিনি আরও কম সাবধানতার সঙ্গে কথা বলতেন। ওবান্দো অনেক বেশি সাবধানী।”

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close