Home গদ্যসমগ্র ভ্রমণ সালমান রুশদি > দ্য জাগুয়ার স্মাইল >> আলম খোরশেদ অনূদিত ধারাবাহিক ভ্রমণগাথা [পর্ব ১৮]

সালমান রুশদি > দ্য জাগুয়ার স্মাইল >> আলম খোরশেদ অনূদিত ধারাবাহিক ভ্রমণগাথা [পর্ব ১৮]

প্রকাশঃ November 20, 2017

সালমান রুশদি > দ্য জাগুয়ার স্মাইল >> আলম খোরশেদ অনূদিত ধারাবাহিক ভ্রমণগাথা [পর্ব ১৮]
0
0

সালমান রুশদি > দ্য জাগুয়ার স্মাইল >> আলম খোরশেদ অনূদিত ধারাবাহিক ভ্রমণগাথা [পর্ব ১৮]

পর্ব ১৮
অলোচনা গড়িয়ে যায় নিকারাগুয়ার বাকি বিশপদের প্রসঙ্গে। তাঁদের সমস্যা হচ্ছে, ওর্তেগা বলেন, তাঁরা বড্ড বেশি প্রাদেশিক ও আঞ্চলিক। “এঁদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো এস্তেলি, আর ব্লুফিল্ডস-এর শ্মিট। বাকিরা… আপনি জানেন আমরা ওঁদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জানি আপনারা আমাদের এই বিপ্লব বিষয়ে আতঙ্কিত বোধ করছেন। আপনাদের শঙ্কাগুলো কী বলুন, দেখি আমরা এর কিছু একটা বিহিত করতে পারি কিনা। আমরা এও বলি, কিছু কিছু নীতিনির্ধারণী বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করার আগে আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। উদাহরণস্বরূপ, জাতীয় সেবাবিধি বিষয়ে আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমরা অন্যান্য বিষয়, যেমন সামরিক বাহিনী নিয়েও আলাপ করতে চাই।” কিন্তু, তিনি ইঙ্গিত দেন, বিশপদেরকে এই পর্যায়ে কথা বলতে বিশেষ ইচ্ছুক কিংবা সক্ষম বলেও মনে হয়নি।” একজন একটা কাগজের টুকরো বার করে তাতে লিপিবদ্ধ তাঁর নিজস্ব স্থানীয় অভিযোগগুলোর ফিরিস্তি দেখান এবং অপরজন আরেকটা কাগজ খুলে তাঁর সমস্যাগুলোর তালিকা দেখান এবং এই ভাবে চলতে থাকে। তাঁরা সবাই তাঁেদর ব্যক্তিগত কর্মসূচি নিয়ে হাজির হয়েছেন। আমরা তাঁদেরকে বলি, আঞ্চলিক পর্যায়ে এইসব সমস্যাগুলোর সমাধান করে ফেলতে। কিন্তু তাঁরা জাতীয় পর্যায়ে ভাবতে পারছিলেন না।” তাঁর অভিমত অনুযায়ী, বিশপেরা একবারেই ঐক্যবদ্ধ ছিলেন না।” প্রায়শই কোন একটা বিষয়ে তাঁেদর সুসংহত ধারণা ছিলনা। কিন্তু ওবান্দোর ঘোষণায় মনে হয়েছিল বুঝি তাঁদের সেটা রয়েছে।”
ওবান্দো ই ব্রাবোর ধর্মীয় পড়াশোনার খরচ যুগিয়েছিলেন, ওর্তেগা বলেন, সোমোসার এক দালাল, কোন এক গেরেরো, মাদকব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার দরুণ যাকে ডাকা হতো ’ড. কুইনাইন’ নামে। তারপর সোমোসা তাঁকে একটা বাড়ি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও একটি মার্সিডিস বেঞ্জ উপহার দেন। (সোমোসা ও ওবান্দো কোলাকুলি করছেন এমন একটি বিব্রতকর ছবির অস্তিত্বও রয়েছে।) “গাড়িটা নিয়ে তুমুল হৈচৈ হয়েছিল, কেননা এটা এমন একটা চোখে পড়ার মত জিনিস ছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁকে গাড়িটা ফিরিয়ে দিতে হয়েছিল, যদিও এতে তাঁর নয় মাস সময় লেগেছিল। তখন বাড়ি আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বিষয়ে কারও কিছু জানা ছিল না। ক্ষমতায় এসে দলিলপত্র যাচাই করার আগ পর্যন্ত আমাদেরও সেটা জানা ছিল না। আমরা সিদ্ধান্ত নিই, ওবান্দোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটা হিতে-বিপরীত হতে পারে। তাই সেগুলো এখন অব্দি ফেরত নেওয়া হয়নি।”
তিনি দাঁত বের করে হাসেন। “মজার ব্যাপার হলো আমি ও ওবান্দো একই গ্রামে থেকে এসেছি। ওবান্দোর পরিবার সম্পর্কে আমি আমার মার কাছ থেকে জেনেছি।”
১৯৭৪ সালে এফএসএলএন-এর ভাগ্য, তখন যা প্রায় তলানিতে ছিল, একটা নাটকীয় অভ্যুত্থানের ফলে বেশ চাঙা হয়ে ওঠে। সাতাশে ডিসেম্বর সান্দিনিস্তা কমান্ডোরা সোমোসার সহচর চেমা কাস্তিয়োর বাড়িতে একটা ’পোশাক পার্টিতে’ হাজির হয়ে বেশ ক’জন রাষ্ট্রদূত ও উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সোমোসা তাঁদের দাবিদাওয়া মানতে বাধ্য হন। সান্দিনিস্তাদের দাবি ও বিবৃতি রেডিয়ো টেলিভিশনে প্রচার করা হয়, তাঁদের বেশকিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্ত এবং দুই মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ দেওয়া হয়। (কমান্ডোরা আদিতে পাঁচ মিলিয়ন চেয়েছিল, তবে দুই মিলিয়নও একেবারে খারাপ নয়।) গেরিলা ও সোমোসার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী ছিলেন, আর কেউ নন, খোদ ওবান্দো ই ব্রাবো। আর মুক্ত বন্দিদের মধ্যে একজন ছিলেন দানিয়েল ওর্তেগা।
“ওবান্দো আমাদের সঙ্গে প্লেনে করে কুবা আসেন,” ওর্তেগা স্মৃতিচারণ করেন। “আমি তাঁর কাছে গিয়ে আমাদের পরিবার দুটো যে পূর্ব পরিচিত এসব কথা বলতে যাই। কিন্তু আমার ধারণা হয় যে, তিনি খুব ভীত বোধ করছেন। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, “আপনার কি মনে হয় সোমোসা প্লেনে বোমা পুঁতে রাখতে পারে?” এটা খুব দুঃখজনক; তাঁকে বলি দেওয়া হতে পারে ভেবে তিনি শঙ্কিত ছিলেন।’ ওর্তেগা, সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়া, তাঁকে আশ্বস্ত করেন। “আমি তাঁকে বলি যে আমাদের লোকেরা বিমান পরীক্ষা করে দেখেছে এবং আমাদের মনে হয় না ওতে কোনও বোমা রয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ বাদে তাঁকে আবারও সন্ত্রস্ত দেখায়। এবারে তিনি বলেন, “আপনার কি মনে হয় কুবায় নামলে তারা আমাকে প্রেফতার করবে?” এটা অবিশ্বাস্য। আমি বলি, “আপনি সত্যি সত্যি বিশ্বাস করেন ফিদেল আপনাকে জেলে পুরবে?” এতেই প্রমাণ হয় তাঁর চিন্তাভাবনা কী পরিমাণ সংকীর্ণ ছিল।”
আমি আলোচনাটাকে আবার সূচনাবিন্দুতে ফিরিয়ে নিয়ে আসি। “মার্কিন বিশপেরা আপনাদের কী প্রস্তাব দিতে পারে বলে আপনার মনে হয়?”
“তাঁদের নিজস্ব অভিপ্রায় থাকবে নিঃসন্দেহে; বেগা এবং এ-জাতীয়। তাঁরা হয়তো ভ্যাটিকান ও আমাদের মাঝে মধ্যস্থতাও করতে চাইতে পারে।”
“আপনি কি সত্যি বিশ্বাস করেন ভ্যাটিকান আপনাদের সঙ্গে একটা বোঝাপড়ায় আসতে প্রস্তুত?”
“এটা সম্ভব। এর কিছু লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। আমি যখন ওবান্দোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলাম, তখন রামিরেস রোম সফর করেছিলেন। উনি যাওয়ার আগে স্থানীয় পোপের প্রতিনিধি বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পোপের পক্ষে রামিরেসকে বরণ করা অসম্ভব। কিন্তু তা সত্ত্বেও পোপ তাঁকে দেখা দেন এবং তাঁদের মধ্যে গঠনমূলক কথাবার্তাও হয়।” এটা সত্যি খুব চিত্তাকর্ষক। হয়তবা পোপ বুঝেছিলেন, মধ্য আমেরিকায় তাঁর কর্তৃত্ব কতখানি হুমকির মুখে পড়েছে, এবং সিদ্ধান্ত নেন গরীবের ঈশ্বরকে শান্ত করতে হবে, তাঁর সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেহেতু তাকে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব নয়।
আমি তাঁর আসন্ন জাতিসঙ্ঘ সফর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। “ধরেই নেওয়া যায় যে, যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।”
“সেটা নিশ্চিত,” ওর্তেগা একমত হন। “তবে তারপর আমরা পূর্ণাঙ্গ সাধারণ সভায় গিয়ে সেটা নিয়ে তর্ক করতে পারি।”
“নিকারাগুয়া কি মার্কিন আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করবে, যেমনটি ধারণা দেওয়া হয়েছিল?” এই সময়ে, ওর্তেগা সাবধানতার সঙ্গে বলেন, “আমরা ধরে নিতে চাই না যে যুক্তরাষ্ট্র হেগ-এর রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদেরকে এটা মেনে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে আমাদের।”
সমবেত বিখ্যাত কবিদের ঝগড়ায় আমাদের আলোচনায় ছেদ পড়ে। কার্লোস মার্তিনেস রিবাস এর্নেস্তো কার্দেনালের দেশব্যাপী কবিতা কর্মশালা পরিকল্পনার, যার অধীনে সাধারণ মানুষ কবিতা লিখতে এবং আলোচনা করতে পারবেন, – কার্দেনাল বিশেষ করে বিরাটসংখ্যক পুলিশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে খুব প্রীত ছিলেন- বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে থাকেন। কার্দেনাল দৃশ্যত এই কর্মশালা নিয়ে খুব গর্বিত ছিলেন (তিন বছর আগে ফিনল্যান্ডে এক সাহিত্য সম্মেলনে তাঁকে এর গুণগান গাইতে শুনেছি আমি।), কিন্তু মার্তিনেস রিবাস কোন রাখঢাক করেন না, “নিকারাগুয়ার কবিতায় স্থবিরতা এসে গেছে”, তিনি গলা ফাটিয়ে বলেন। “কেউ আর পড়ালেখা করে না। তারা বেনতানা (বাররিকাদা পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকী)র পাতা খোলেন শুধু তাঁদের কোন লেখা ছাপা হলে। আর তাও তাঁরা কেবল নিজেদের লেখাটাই পড়েন। যাই হোক, এইসব কর্মশালার ফলে এখন সবার কণ্ঠই হবুহু একই রকম শোনায়। কেউই আর নতুন কিছু চেষ্টা করছে না, কেউই নতুন ভাষা সন্ধান করছে না।”
কর্মশালার কিছু ফলাফল দেখার পর মার্তিনের রিবাস-এর বক্তব্যের প্রতি আমার সহানুভূতি তৈরি হলেও আমি এই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকি। কার্দেনালের হাসি ঠিকই থাকে তবে তার উত্তাপ কমে আসে। এই দু’জনের মধ্যে পূর্বের বৈরিতা ছিল। তাঁরা বছরের পর বছর ধরে ঝগড়া করে আসছেন। তাঁদের ব্যবহার অবশ্য ভদ্রস্থ ছিল, রসিকতা করতেও ছাড়ছিলেন না তাঁরা, তবে এই সৌজন্যের আড়ালে তাঁদের যুদ্ধটা কিন্তু বাস্তব ছিল। পার্শ্বরেখা থেকে রামিরেস তাঁদের সঙ্গে ঠাট্টা মশকরা করছিলেন এবং করোনেলকে এই বিত-ায় টেনে আনতে চাইছিলেন, কিন্তু তিনি প্রলুব্ধ হননি। মার্তিনেস এত বিপুল পরিমাণ লেখার জন্য কার্দেনালকে খোঁচা দিচ্ছিলেন। “আমার মনে আছে, অনেক বছর আগে একবার আমাকে কোন এক উৎসবের জন্য মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি কবিতা লিখতে অনুরাধ করা হয়। বিজয়ী, উৎসবের রানি নির্বাচনের সুযোগ পাবেন। আমি বলি, দু’সপ্তাহের মধ্যে কী করে কবিতা লিখব আমি? যাও কার্দেনালকে গিয়ে বলো। তারা তাইই করে, কার্দেনালের আগেই একটা কবিতা লেখা ছিল, তিনি সেটাকেই একটু অদলবদল করে দিয়ে দিলেন, এবং জয়ী হলেন। আমি তাঁকে বলি, একটা ভিন্ন উদ্দেশ্যে লেখা কবিতার চেতনাকে আপনি অন্য একটি উদ্দেশ্যে কীভাবে ব্যবহার করতে পারলেন? সে যাক, তিনি জেতেন। আমি বলি, আমি যেহেতু তার জন্য এই পুরস্কারের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছি আমাকেই তবে উৎসবের রানি নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হোক। তিনি পুরস্কার পেলেন, আর আমি রানি নির্বাচন করলাম।
পুরনো মানাগুয়ার এইসব খোঁচানো গল্পের মাঝখানে আমার আরেকটি ঘটনার কথা মনে পড়ে যখন কার্দেনাল একটি পুরনো কবিতাকে নতুন, ভিন্নতর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি সান্দিনোর মৃত্যু এবং তাঁর অজ্ঞাত কবরের বিষয়ে একটি কবিতার খসড়া করেছিলেন। তারপর ১৯৫৪ সালে সেই সময়কার স্বৈরাচারী আনাস্তাসিয়ো সোমোসা গার্সিয়াকে বন্দি করার একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এই ঘটনার একজন পরিকল্পনাকারী পাবলো দে লেয়েলকে হত্যা করার পূর্বে জিব কেটে নেওয়া হয়। বলা হয়ে থাকে যে, আরেকজনকে, আদোলফো বায়েস বোনেকে খোজা করে দেওয়া হয়েছিল। প্রধান নির্যাতনকারী ছিলেন আনাস্তাসেয়ো সোমোসা দেব্য়ালে, যে এই বংশের শেষ স্বৈরাচারী হয়েছিল। কার্দেনাল এই খবর শোনার পর সান্দিনিস্তার বদলে বায়েস বোনেকে এই কবিতার উপজীব্য করার সিদ্ধান্ত নেন :
আদোলফো বায়েস বোনের সমাধির এপিটাফ
তারা তোমাকে হত্যা করেও বলেনি কোথায় তোমার কবর,
কিন্তু তারপর থেকে সারাদেশই হয়ে গেছে তোমার সমাধি,
আর যেখানে তোমাকে কবর দেওয়া হয়নি
নিকারাগুয়ার সে-মাটির প্রতিটি ইঞ্চিতে তোমার পুনর্জন্ম ঘটছে।
তারা ভেবেছিল গুলি করার আদেশের সঙ্গে সঙ্গেই তোমার মৃত্যু হয়েছে,
তারা ভেবেছিল তোমাকে কবর দেওয়া হয়ে গেছে,
কিন্তু তারা জানেনা তারা কেবল একটি বীজকেই বপন করতে পেরেছে।
অতিথিরা বিদায় নিলে এবং ধুলো থিতিয়ে এলে, আমি ওর্তেগাকে আরও কয়েকটি প্রশ্ন করি। প্রথমেই ওর্তেগা লা প্রেন্সা বিষয়ে তাঁর অভিমত জানাতে চেয়েছিলেন। “তারা যা খুশি করতে পারত, কিন্তু তারা কিছুতেই রেগন ও কন্ট্রাদের সমর্থনে প্রচারণা চালাতে পারে না। সেটাই ছিল সীমারেখা। তারা সেই সীমা অতিক্রম করেছিল। আমরা কী করতে পারতাম? তাদের বিচার করা? তাতে করে প্রচ- নেতিবাচক প্রচারণা হতো আমাদের বিরুদ্ধে। ফলে তাদের পত্রিকাটা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আমাদের কোনও উপায় ছিল না।”
আমি জিজ্ঞাসা করি: “আমি এটার সম্পর্কে পরিষ্কার হতে চাই। আমাকে বলা হয়েছিল লা প্রেন্সাকে নিয়ে বড় সমস্যা ছিল সিআইএর অর্থায়ন ও নিয়ন্ত্রণ। আর আপনি এখন বলছেন তাদের সম্পাদকীয় নীতিমালার কথা।”
ওর্তেগা জবাব দেন: “এখন একটা যুদ্ধ চলছে। শান্তিকালীন সময়ে লা প্রেন্সা যদি সিআইএর টাকা নিতে চায়, যা তারা নিয়েছে, এবং মার্কিন লাইন অনুসরণ করতে চায়, তাতে আমাদের কোনও অসুবিধা নেই। তারা যদি ফ্রন্টকে আক্রমণ করতে চায় সেটাও ঠিক আছে। কিন্তু এখন ব্যাপারটা ভিন্ন। আমাদের শত্রুরা পত্রিকাকে ব্যবহার করবে।” আবারও অভ্যন্তরীন ফ্রন্ট-এর দোহাই। চিলের পুনরাবৃত্তির ভয়। নিকারাগুয়ার তাবৎ প্রেতের মধ্যে দু’টি ছিল কৃষ্ণতর। এদেন পাস্তোরা, আলমারির কংকাল, আর সালবাদোর আয়েন্দে, যিনি সান্দিনোর পরে সম্ভবত নিকারাগুয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

[চলবে]

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close